মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিতে যুদ্ধবিমান। ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বুধবার ১৪ জানুয়ারি, ২০২৬, সময় : ১২:৩৭ পিএম

ওয়াশিংটন হামলা চালালে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে আঘাত হানা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। ইরানের বিক্ষোভকারীদের পক্ষে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হস্তক্ষেপের হুমকির পরই এ হুঁশিয়ারি দিয়েছে তারা।


বুধবার (১৪ জানুয়ারি) এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছেন।


মানবাধিকার সংস্থা জানিয়েছে, ইরানে চলমান অস্থিরতায় নিহতের সংখ্যা প্রায় ২ হাজার ৬০০ জনে পৌঁছেছে। ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর দেশটির ধর্মীয় নেতৃত্বের জন্য এটি অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইরানি কর্মকর্তা বলেন, তেহরান সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ও তুরস্কসহ অঞ্চলের যুক্তরাষ্ট্র-মিত্র দেশগুলোকে অনুরোধ করেছে যেন তারা ওয়াশিংটনকে ইরানে হামলা চালানো থেকে বিরত রাখে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানকে লক্ষ্য করে, তাহলে এসব দেশে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে আঘাত হানা হবে—এই বার্তা আমরা পরিষ্কারভাবে দিয়েছি।


ওই কর্মকর্তা জানান, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ও যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের মধ্যে চলমান প্রত্যক্ষ যোগাযোগ আপাতত স্থগিত রয়েছে, যা ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।


অন্যদিকে, ইসরায়েলের আরেকটি সরকারি সূত্র জানিয়েছে, দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নিরাপত্তা মন্ত্রিসভাকে মঙ্গলবার রাতে ইরানে সরকার পতন বা যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা নিয়ে ব্রিফ করা হয়েছে। গত বছর ইরানের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধে জড়িয়েছিল ইসরায়েল।


মঙ্গলবার সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরান যদি বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র ‘খুব কঠোর পদক্ষেপ’ নেবে। তিনি বলেন, যদি তারা ফাঁসি দেয়, তাহলে আপনারা কিছু ঘটতে দেখবেন। একই দিনে ট্রাম্প ইরানিদের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান দখলের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সহায়তা আসছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনোকিছু তিনি জানাননি।


রয়টার্স জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। এর মধ্যে বাহরাইনে মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর এবং কাতারের আল উদেইদ বিমানঘাঁটি উল্লেখযোগ্য, যা ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের অগ্রবর্তী সদর দপ্তর। গত বছর ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন হামলার জবাবে তেহরান কাতারের আল উদেইদ ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছিল।


ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, দেশটির সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সংস্থার প্রধান আলী লারিজানি কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন। একই সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি ইউএই ও তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। এই দেশগুলো সবাই যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র।


ইরানি গণমাধ্যমের তথ্যমতে, আরাকচি ইউএইর পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহ বিন জায়েদকে বলেছেন, পরিস্থিতি বর্তমানে ‘নিয়ন্ত্রণে’ রয়েছে এবং ইরান যেকোনো বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে নিজেদের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।


ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় ইরান থেকে তথ্যপ্রবাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন এইচআরএএনএ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত তারা ২ হাজার ৪০৩ জন বিক্ষোভকারী ও ১৪৭ জন সরকারপন্থীর মৃত্যুর তথ্য যাচাই করতে পেরেছে। অন্যদিকে এক ইরানি কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, নিহতের সংখ্যা প্রায় ২ হাজার। ইরান সরকার এই অস্থিরতার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করছে। তাদের দাবি, নিরাপত্তা বাহিনী, মসজিদ ও সরকারি সম্পত্তিতে হামলাকারী ‘সন্ত্রাসীরাই’ এই সহিংসতার জন্য দায়ী।



সর্বশেষ সব খবর

যুক্তরাষ্ট্রে বেশ কিছু আসনে একঝাঁক প্রভাবশালী ডেমোক্র্যাট প্রার্থী এখন রিপাবলিকানদের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে

  • প্রকাশ : শনিবার ০৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:১৬ এএম

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্রমহ্রাসমান জনপ্রিয়তাই রিপাবলিকানদের একমাত্র দুশ্চিন্তা নয়। বেশ কিছু আসনে একঝাঁক প্রভাবশালী ডেমোক্র্যাট প্রার্থী এখন তাদের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে যে রাজ্যগুলোকে রিপাবলিকানদের ঘাঁটি মনে করা হতো, সেখানেও তৈরি হয়েছে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা।


সিএনএনের বিশ্লেষণে বলা হচ্ছে, একঝাঁক নতুন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী দলের গতানুগতিক ধারার বাইরে গিয়ে নির্বাচনী ময়দানে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন। ডেমোক্র্যাটদের যেসব দুর্বলতার কারণে এতদিন ট্রাম্প সুবিধা পাচ্ছিলেন, নতুন প্রার্থীরা সেগুলো দক্ষতার সঙ্গে কাটিয়ে উঠেছেন। ফলে প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার পাশাপাশি ডেমোক্র্যাটদের সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার সম্ভাবনাও উজ্জ্বল হচ্ছে।


নতুন ধাঁচের প্রার্থী বাছাই


সাম্প্রতিক জরিপ বলছে, নর্থ ক্যারোলাইনার সাবেক গভর্নর রয় কুপার স্বতন্ত্র ভোটারদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয়। এমনকি গ্রামীণ এলাকাগুলোতেও তিনি রিপাবলিকানদের ভোটব্যাংকে ভাগ বসাচ্ছেন। সবচেয়ে চমকপ্রদ ঘটনা ঘটছে আইওয়ায়। রাজ্যটিতে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলেছেন আইনপ্রণেতা জশ টুরেক। অথচ মাত্র দুই বছর আগেই এই রাজ্যে ট্রাম্প ১৩ পয়েন্টের বড় ব্যবধানে জিতেছিলেন। জর্জিয়ায় জন অসফ ট্রাম্পের সমালোচনা করে নিজস্ব পরিচিতি তৈরি করেছেন। তাঁর সাফল্য ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী হিসেবে তাঁর নাম আলোচনায় নিয়ে এসেছে। 


টেক্সাসে জেমস তালারিকো অর্থনৈতিক জনতুষ্টিবাদ ও ধর্মীয় বিশ্বাসের মিশ্রণ ঘটিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন, যা ৩০ বছর পর সেখানে ডেমোক্র্যাটদের জয়ের স্বপ্ন দেখাচ্ছে। ২০২৪ সালের নির্বাচনে ওহাইওতে সহজেই জিতেছিলেন ট্রাম্প। তবে এবার সাবেক সিনেটর শেরড এই রাজ্যে এগিয়ে আছেন। 


এই প্রার্থীরা ট্রাম্পের অজনপ্রিয়তা এবং জাতীয় অর্থনৈতিক অস্থিরতার সুযোগ নেওয়ার পাশাপাশি দলের ভাবমূর্তি উন্নত করায় জোর দিচ্ছেন। তবে জরিপ বলছে, দেশে এখনও দল হিসেবে ডেমোক্র্যাট বা রিপাবলিকান কারও জনপ্রিয়তাই খুব বেশি নয়।


রিপাবলিকানদের ভুল প্রার্থী নির্বাচনও ডেমোক্র্যাটদের বাড়তি সুযোগ দিচ্ছে। জর্জিয়ায় মাইক কলিন্স এবং টেক্সাসে বিতর্কিত অ্যাটর্নি জেনারেল কেন প্যাক্সটনকে ট্রাম্প সমর্থন দিলেও তারা ভালো করতে পারছেন না। নর্থ ক্যারোলাইনায় মাইকেল হোয়াটলি পরিচিত মুখ হলেও, কুপারের সমকক্ষ হয়ে উঠতে পারছেন না তিনি। মেইনের বহুদিনের রিপাবলিকান সিনেটর সুসান কলিন্সও এখন কঠিন লড়াইয়ের মুখে। কারণ, ট্রাম্পের বিতর্কিত সিদ্ধান্তে সমর্থন দেওয়ায় তাঁর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে।


জরিপ অনুযায়ী টেক্সাস ও আইওয়ায় তীব্র লড়াই চলছে। আর জর্জিয়া, নর্থ ক্যারোলাইনা ও ওহাইওতে ডেমোক্র্যাটরা কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে। তবে শেষ মুহূর্তে ব্যবধান কমে আসারও ইতিহাস রয়েছে। তা সত্ত্বেও ডেমোক্র্যাটদের আত্মবিশ্বাসের বড় কারণ ট্রাম্পের কমতে থাকা জনপ্রিয়তা এবং জীবনযাত্রার উচ্চ ব্যয় নিয়ে মানুষের ক্ষোভ। রাজনীতি বিশেষজ্ঞ মাইকেল বিটজারের মতে, ক্ষমতাসীন দলের প্রতি জনগণের অসন্তোষের প্রভাব সরাসরি প্রার্থীদের ওপর পড়ে।

সর্বশেষ সব খবর

ডিজেল রপ্তানি বন্ধ করার পরিকল্পনার কথা জানান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

  • প্রকাশ : শনিবার ০৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:০৪ এএম

বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ডিজেল রপ্তানি বন্ধ করার কথা ভাবছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ অবস্থায় ইউরোপীয় দেশগুলোকে নিজেদের কিছু মজুত ডিজেল ছেড়ে দেওয়ার জন্য বলতে পারেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টও ইউরোপকে অবিলম্বে মজুত থেকে ডিজেল ছাড়ার আহ্বান জানিয়েছেন।


বেসেন্ট বলেছেন, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে ‘আমেরিকান কৃষক, ট্রাকচালক ও ব্যবসায়ীদের’-এর বোঝা বহন করতে দেওয়া উচিত নয়। ইরান যুদ্ধের কারণে ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি পাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র রপ্তানি সীমিত করার হুমকি দিয়েছে। নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে মার্কিন ভোটারদের কাছেও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। গত বৃহস্পতিবার ইউরোপীয় অংশীদারদের সঙ্গে সম্ভাব্য ডিজেল রপ্তানি নিষেধাজ্ঞার প্রতিক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করেছে যুক্তরাজ্য।


যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ডিজেল সরবরাহকারী দেশ। তারা প্রতিদিন ১২ থেকে ১৫ লাখ ব্যারেল ডিজেল রপ্তানি করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র রপ্তানি বন্ধ করলে বিশ্বের অন্যান্য দেশেও ডিজেলের দামে আরও চাপ তৈরি হতে পারে। 


বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম কমাতে জরুরি মজুত থেকে ডিজেল ছাড়ার জন্য ফ্রান্স ও জার্মানিকে চাপ দিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। মজুত না ছাড়লে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ডিজেল রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে। আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তিন ব্যক্তির বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স।


ইরান যুদ্ধ এবং ইউক্রেনের হামলার কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে। এতে দামও বেড়েছে। রয়টার্স বলছে, ইউরোপের ওপর চাপ বাড়াতে ওয়াশিংটনের এই উদ্যোগকে নতুন পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া পোস্টে বেসেন্ট বলেন, ইউরোপীয় অংশীদারদের প্রতিশ্রুতি পূরণের কাজ দ্রুততর করা এবং চলমান সরবরাহ ব্যবস্থার বিঘ্ন মোকাবিলায় অতিরিক্ত সরবরাহ অবিলম্বে উন্মুক্ত করা উচিত।


নভেম্বরের নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, তা নির্ধারিত হবে। প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট– দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার প্রত্যাশায় রিপাবলিকানদের হয়ে ট্রাম্পের যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রচারে যাওয়ার কথা আছে। যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ডিজেল সরবরাহকারী। দেশটি প্রতিদিন ১২ থেকে ১৫ লাখ ব্যারেল ডিজেল রপ্তানি করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র রপ্তানি বন্ধ করলে বিশ্বের অন্যান্য দেশেও ডিজেলের দামে আরও চাপ তৈরি হতে পারে। 


ফেব্রুয়ারিতে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল আগ্রাসন শুরুর পর বিশ্বজুড়ে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বেড়েছে। গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তেলজাত পণ্যের দাম আরও বেড়েছে।


পেট্রোলের তুলনায় ডিজেল পরিশোধন করা কঠিন। আবার পরিবহন ও কৃষি খাতে ব্যাপক ব্যবহারের কারণে ডিজেলের চাহিদা কমানোও কঠিন। ডিজেলের জন্য যুক্তরাজ্য অনেকটাই আমদানিনির্ভর। দেশটির চারটি শোধনাগার অভ্যন্তরীণ চাহিদার তুলনায় বেশি পেট্রোল উৎপাদন করতে পারে। 

সর্বশেষ সব খবর

আটককৃতদের বাসে করে সরিয়ে নেওয়া হয়

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৮:০৭ পিএম

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভকে ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে দিল্লি পুলিশ। বিক্ষোভের অনুমতি না দিলেও শুক্রবারের (২ অক্টোবর) কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে প্রায় ৪ হাজার পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।


দিল্লি পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, জেলা পুলিশ, রিজার্ভ ফোর্স, র‍্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (আরএএফ) এবং অন্যান্য আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। নিরাপত্তার জন্য কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর (সিএপিএফ) ২০ কোম্পানিকেও দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। দ্য ওয়্যারের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে এ তথ্য।


শুক্রবার দিল্লি মেট্রো রেল করপোরেশন (ডিএমআরসি) জানিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত ১১টি মেট্রো স্টেশনের প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ বন্ধ থাকবে। এগুলো হলো- জনপথ, প্যাটেল চক, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট, রাজীব চক, সেবা তীর্থ, মাণ্ডি হাউস, লোক কল্যাণ মার্গ, আইএনএ, চাওরি বাজার, রামকৃষ্ণ আশ্রম মার্গ ও নিউ দিল্লি। তবে রাজীব চক, মাণ্ডি হাউস, আইএনএ, নিউ দিল্লি ও সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট স্টেশনে আন্তঃলাইন পরিবর্তনের সুযোগ রাখা হয়েছে।


পরে বরখাম্বা রোড মেট্রো স্টেশনের প্রবেশ ও বের হওয়ার পথও বন্ধ করা হয়। ফলে বিক্ষোভস্থলের আশপাশে মোট ১২টি মেট্রো স্টেশনে প্রবেশ-প্রস্থান বন্ধ হয়েছে।


এদিকে দিল্লি পুলিশ বৃহস্পতিবার জানিয়েছিল, চলতি সপ্তাহে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে যন্তর মন্তরে কোনো সংগঠনকে বিক্ষোভের অনুমতি দেয়া হয়নি। তবে অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (এআইএসএ) শুক্রবার সকাল ১১টায় সেখানে বিক্ষোভের কর্মসূচি ঘোষণা করে। ২৮ সেপ্টেম্বর এআইএসএর সভাপতি নেহা বোরার নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় কর্মসূচির বিষয়ে চিঠিও জমা দিয়েছিল।


ইন্ডিয়ান ইয়ুথ কংগ্রেসও যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের অনুমতি চেয়েছিল। তবে তাদেরও অনুমতি দেয়া হয়নি। পুলিশ আশঙ্কা করছে, যন্তর মন্তরে বড় সংখ্যায় বিক্ষোভকারী জড়ো হতে পারেন। এ কারণে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে অতিরিক্ত বাহিনী চাওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

নয়াদিল্লিতে আটকের পর নরেন্দ্র মোদির ছবি হাতে স্লোগান দেন বিক্ষোভকারীরা

যন্তর মন্তর ও আশপাশের এলাকায় একাধিক স্তরের ব্যারিকেড বসানো হয়েছে। টলস্টয় মার্গ, জনপথ রোড, সংসদ মার্গ হয়ে যন্তর মন্তর পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় ব্যারিকেড দেয়া হয়েছে। বিক্ষোভস্থলের দুই দিক- টলস্টয় মার্গ ও কেরালা ভবন দিয়েও প্রবেশ বন্ধ করা হয়েছে। অশোকা রোডের কাছেও বসানো হয়েছে ব্যারিকেড।


এ বিক্ষোভে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি তোলা হয়েছে। আয়োজকদের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের বিশেষ নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া এবং নির্বাচন পরিচালনায় অনিয়ম হয়েছে।


চলতি বছর দিল্লিতে বিক্ষোভের কারণে চতুর্থবারের মতো গণপরিবহন ও সড়ক ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করা হলো। গত মাসে রাজধানীতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের সময় ১৭টি মেট্রো স্টেশন বন্ধের ঘটনায় সুপ্রিম কোর্ট কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে নোটিশ পাঠায়।



সর্বশেষ সব খবর

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত নারী ক্রিস্টা পাইক

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৬:০৯ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে দুই দফা প্রাণঘাতী ইনজেকশন দেয়ার পরও বেঁচে গেছেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত নারী ক্রিস্টা পাইক। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে ‘সংকটজনক অবস্থায়’ জীবন রক্ষাকারী চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।


বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় তাকে দুই ডোজ পেন্টোবারবিটাল দেয়া হয়। কিন্তু এরপরও তিনি জীবিত ছিলেন। পরে অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে নেয়া হয় হাসপাতালে। বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের আইনজীবী র‍্যান্ডি স্পাইভি বলেন, ‘এই মুহূর্তে তার অবস্থা সম্পর্কে আমাদের কাছে খুব বেশি তথ্য নেই। তার ভবিষ্যৎ অবস্থা কী হবে, সেটিও আমরা জানি না। তবে আমরা জানি, তিনি এখন জীবিত আছেন।’


পাইকের বর্তমান বয়স ৫০ বছর, ১৯৯৬ সালে ১৯ বছর বয়সী কলিন স্লেমারকে হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হন তিনি। হত্যার সময় তার বয়স ছিল ১৮ বছর। সে সময় তার তৎকালীন প্রেমিক ট্যাডারিল শিপের সঙ্গে মিলে তারা স্লেমারকে মারধর, নির্যাতন ও হত্যা করেছিলেন।


বুধবার তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আইনি লড়াই চলে। পরে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট প্রাণঘাতী ইনজেকশন দেয়ার অনুমতি দিলে কার্যক্রম এগিয়ে যায়। স্লেমারের মা মে মার্টিনেজ মৃত্যুদণ্ড কার্যকর দেখতে টেনেসিতে গিয়েছিলেন। তিনি মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পক্ষে ছিলেন। তবে ব্যর্থ ওই কার্যক্রমের পর এনবিসি নিউজকে তিনি বলেন, ‘এটা একটা বিশৃঙ্খল অবস্থায় পরিণত হয়েছিল।’


এক ঘণ্টা ধরে শিরায় প্রবেশের চেষ্টা


বৃহস্পতিবার বিকেলে পাইকের আইনজীবীরা মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় কী ঘটেছিল, সে বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানান। তারা ঘটনাটিকে গোপনীয়তার মধ্যে ঘটে যাওয়া একটি ভয়াবহ পরিস্থিতি হিসেবে বর্ণনা করেন।


র‍্যান্ডি স্পাইভি বলেন, ‘গত রাতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরকারী দল এক ঘণ্টা ধরে একটি আইভি লাইন (শিরায় ওষুধ দেয়ার প্রক্রিয়া) স্থাপনের চেষ্টা করে। আমি শুধু তার বাঁ হাতে অন্তত সাতটি সূঁচ ব্যবহার করতে দেখেছি। এর একটি তার হাত থেকে বের করার সময় বাঁকা হয়ে গিয়েছিল বলে মনে হয়েছে।’


তিনি আরও বলেন, ‘দ্বিতীয় প্রাণঘাতী ডোজ দেয়ার পর কয়েক মিনিটের মধ্যেই পরিষ্কার হয়ে যায় যে পাইক তখনও শ্বাস নিচ্ছেন। কিন্তু পর্যবেক্ষকদের একটি অন্ধকার কক্ষে বন্ধ পর্দার আড়ালে রাখা হয়েছিল। ওই পর্দার আড়ালে কী ঘটছিল, কেউ জানত না। কখন এবং আদৌ চিকিৎসকরা তাকে সহায়তা করতে শুরু করেছিলেন কি না, সেটিও আমার জানা ছিল না।’


এখন রাজ্যটির গভর্নরকে তার সাজা কমিয়ে দেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি। এর আগে তাদের এ ধরনের আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়। পাইকের আরেক আইনজীবী স্টিফেন ফেরেল জানান, তারা আরও কিছু আইনি পথ নিয়েও ভাবছেন।


টেনেসিতে সব মৃত্যুদণ্ড স্থগিত


টেনেসির গভর্নর বিল লি ঘটনার বিষয়ে একটি স্বাধীন তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, পাইকের ব্যর্থ মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের তদন্ত পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে হবে। তবে এজন্য সময় লাগবে বলেও জানান তিনি। লি বলেন, ‘অনেক প্রশ্ন রয়েছে। আমাদের অঙ্গরাজ্যের মানুষ এসব প্রশ্নের উত্তর পাওয়ার অধিকার রাখে এবং এ কারণেই এই তদন্ত।’ তবে স্বাধীন তদন্ত কে পরিচালনা করবে, তা গভর্নর এখনো স্পষ্ট করেননি।


লি চলতি বছরের বাকি সময় টেনেসিতে সব মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। এই সিদ্ধান্তের মধ্যে ৩ ডিসেম্বর দণ্ডিত খুনি গ্যারি সাটনের পরিকল্পিত মৃত্যুদণ্ড কার্যকরও পড়ছে। তবে টেনেসি ডিপার্টমেন্ট অব কারেকশন, যারা মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দায়িত্বে ছিল, তারা নিজেদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।


এক বিবৃতিতে সংস্থাটি বলেছে, তারা অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় অনুমোদিত এবং রাজ্যের আইনসম্মত, নির্ধারিত মৃত্যুদণ্ড কার্যকর প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপ অনুসরণ করেছে। প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত প্রাণঘাতী ইনজেকশনের ওষুধটি ধারাবাহিকভাবে কার্যকর হয়েছে এবং নির্ধারিত নিয়মে ওই সন্ধ্যায় যা করা হয়েছে, তার বাইরে অতিরিক্ত কোনো পদ্ধতির অনুমতি নেই বলেও উল্লেখ করেছে সংস্থাটি।


আদালতে দেয়া পাইকের আইনজীবীদের নথি অনুযায়ী, প্রথম চেষ্টা ব্যর্থ হলে রাজ্যের নিয়ম অনুযায়ী তাকে পেন্টোবারবিটালের দ্বিতীয় ডোজ দেয়া হয়। কিন্তু এরপরও তিনি জীবিত ছিলেন। আইনজীবীরা বলছেন, ‘এই মৃত্যুদণ্ড কার্যক্রমে মিস পাইক অপ্রয়োজনীয় যন্ত্রণা ভোগ করছেন এবং নিষ্ঠুর ও অস্বাভাবিক শাস্তি থেকে মুক্তভাবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের অধিকার লঙ্ঘন করা হচ্ছে।’


‘ইলেকট্রিক চেয়ার ফিরিয়ে আনতে হবে’


টেনেসির গভর্নর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা রিপাবলিকান সিনেটর মার্শা ব্ল্যাকবার্ন ঘটনাটিকে ‘মর্মান্তিক’ বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, ‘কী ঘটেছে এবং কেন এই প্রক্রিয়া ব্যর্থ হয়েছে, তা নিয়ে অবশ্যই পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনা হওয়া উচিত। তবে উত্তর সহজ- ইলেকট্রিক চেয়ার ফিরিয়ে আনতে হবে।’


২০২৬ সালে টেনেসিতে এটি দ্বিতীয় ঘটনা, যেখানে কোনো বন্দির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার চেষ্টা ব্যর্থ হলো। এর আগে মে মাসে টনি কারুথার্সের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত করা হয়। কারণ, প্রাণঘাতী ওষুধ দেয়ার জন্য তার শিরা খুঁজে পাওয়া সম্ভব হয়নি। পরে তাকে এক বছরের জন্য সাজা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়।



সর্বশেষ সব খবর

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৪:৫৮ পিএম

ইউক্রেনের সঙ্গে দূরপাল্লার হামলা বন্ধের কোনো চুক্তিতে যেতে রাজি নন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। বরং ইউক্রেনের জ্বালানি স্থাপনায় হামলার জবাব দিতে রাশিয়া পাল্টা হামলা চালিয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন তিনি। একই সময়ে কিয়েভসহ ইউক্রেনের বিভিন্ন এলাকায় রুশ আকাশ হামলা আরও জোরালো হয়েছে। এর মধ্যেই কালিনিনগ্রাদ নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোকে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট।


বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) মস্কোয় আয়োজিত ভলদাই আলোচনা ক্লাবের রাজনৈতিক ফোরামে এসব কথা বলেন পুতিন।


ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোতে রুশ হামলা বন্ধের বিনিময়ে রাশিয়ার তেল শোধনাগার ও জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধ করার প্রস্তাবের বিষয়ে পুতিন বলেন, ‘তারা যদি তোমাদের তেল শোধনাগারে হামলা বন্ধ করে, তাহলে তোমরাও তাদের জাহাজে হামলা বন্ধ করবে-এমন কথা বলা হচ্ছে। এটা নিছক হাস্যকর।’


গত ২২ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছিলেন, রাশিয়া ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা বন্ধ করলে কিয়েভও রাশিয়ার তেল শোধনাগার ও অন্যান্য জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধ করতে প্রস্তুত।


পুতিন বলেন, ইউক্রেনের রুশ তেল শোধনাগারগুলোতে চালানো হামলা কিছু ক্ষেত্রে তাদের লক্ষ্য অর্জন করেছে। এসব হামলার কারণে রাশিয়ার মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপিতে প্রায় ১ শতাংশ ক্ষতি হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তবে তার ভাষ্য, রাশিয়া এরই মধ্যে এসব হামলার জবাব দিতে শুরু করেছে।


সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেনের বিভিন্ন স্থাপনায় দূরপাল্লার হামলা বাড়িয়েছে রাশিয়া। এসব হামলায় ইস্পাত উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন সরবরাহব্যবস্থার পাশাপাশি বিশেষ করে রেল যোগাযোগকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। ইউক্রেনের অভিযোগ, মস্কো ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক স্থাপনায় হামলা চালাচ্ছে এবং প্রায় সারাক্ষণ কিয়েভকে সতর্ক অবস্থায় রাখছে।


এর মধ্যেই ইউক্রেন আরেকটি কঠিন শীত মোকাবিলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। বৃহস্পতিবার কিয়েভে রুশ ড্রোন হামলার সময় একটি ড্রোন একটি স্কুলে আঘাত হানে বলে শহরটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। ওই সময় শিক্ষার্থী ও স্কুলের কর্মীরা আশ্রয়কেন্দ্রে থাকায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। একই সময়ে রাজধানীতে একের পর এক আকাশ হামলা চলছিল।


তবে পুতিন বলেন, রাশিয়া সামরিক উপায়ে নয়, আলোচনার মাধ্যমে ইউক্রেন সংঘাতের অবসান ঘটাতেই বেশি আগ্রহী। যুদ্ধ শেষ হলে ইউক্রেনকে একটি নিরপেক্ষ দেশ হিসেবে দেখতে চায় মস্কো বলেও জানান তিনি।


কালিনিনগ্রাদ নিয়ে পারমাণবিক হুঁশিয়ারি


ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে পশ্চিমা দেশগুলোকে উত্তেজনা আরও না বাড়ানোরও সতর্কবার্তা দিয়েছেন পুতিন। বিশেষ করে রাশিয়ার কালিনিনগ্রাদ অঞ্চল নিয়ে কোনো ধরনের হুমকি তৈরি হলে তার পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।


কালিনিনগ্রাদ রাশিয়ার মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন একটি অঞ্চল। বাল্টিক সাগরের তীরে অবস্থিত এই ভূখণ্ডটি পোল্যান্ড ও লিথুয়ানিয়ার মাঝখানে অবস্থিত। পুতিন বলেন, প্রয়োজন হলে কালিনিনগ্রাদ রক্ষায় রাশিয়া পারমাণবিক অস্ত্রসহ সব ধরনের অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনা করবে।


তিনি বলেন, ‘যদি রুশ ফেডারেশনের ওপর সরাসরি হামলার পরিস্থিতি তৈরি হয়, এখানে আমরা কালিনিনগ্রাদের কথা বলছি এবং সম্ভবত আরও কিছু ভূখণ্ডের কথাও বলা যেতে পারে, তাহলে রাশিয়ার হাতে থাকা সব ধরনের অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়টি অবশ্যই এবং তাৎক্ষণিকভাবে আলোচনায় চলে আসবে।’


পুতিনের এই বক্তব্যের আগে রাশিয়া ন্যাটোর কাছে একটি কূটনৈতিক নোট পাঠায়। ন্যাটো জানিয়েছে, তারা ওই নোট পেয়েছে। এতে মস্কো সতর্ক করে বলেছে, ন্যাটো যদি বাল্টিক অঞ্চলে রাশিয়ার বিচ্ছিন্ন ভূখণ্ড কালিনিনগ্রাদকে বিচ্ছিন্ন বা অবরুদ্ধ করার চেষ্টা করে, তাহলে রাশিয়া পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের প্রস্তুতি রাখবে।


তবে ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটে রাশিয়ার এই হুঁশিয়ারিকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বলেছেন, ন্যাটো একটি প্রতিরক্ষামূলক জোট এবং রাশিয়ার এ ধরনের পারমাণবিক হুমকি বন্ধ করা উচিত।


পুতিন আরও বলেন, আন্তর্জাতিক সংঘাতে উত্তেজনা বাড়তে থাকলে পরিস্থিতি খুব দ্রুত বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছে যেতে পারে। তার ভাষায়, এমন একটি মুহূর্ত হঠাৎ চলে আসতে পারে, যখন পরিস্থিতি বদলানোর আর কোনো সুযোগ থাকবে না। ক্রমাগত উত্তেজনা ও পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার প্রবণতা একসময় এমন এক ভয়াবহ পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারে, যেখান থেকে আর ফিরে আসার সুযোগ থাকবে না।


পশ্চিমা কোম্পানির সম্পদ ফেরতের ইঙ্গিত


এদিকে পরিস্থিতি অনুকূলে এলে রাশিয়ায় জব্দ করা পশ্চিমা কোম্পানির ব্যবসা ও সম্পদ ভবিষ্যতে ফেরত দেওয়ার সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছেন পুতিন। ভলদাই ফোরামে তিনি বলেন, সম্পর্কের উন্নতি হলে এবং পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে পশ্চিমা কোম্পানিগুলো তাদের রাশিয়ায় থাকা সম্পদ ফিরে পেতে পারে।


গত মাসে রাশিয়া সুইজারল্যান্ডের খাদ্যপণ্য প্রস্তুতকারক নেসলে, ফ্রান্সের খুচরা বিক্রেতা ওশাঁ, সাবেক ফরাসি ডিআইওয়াই চেইন লেরয় মার্লিন এবং জার্মান পাইকারি ও খাদ্যপণ্য বিক্রেতা মেট্রোর ব্যবসা ও সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।


রাশিয়ার দাবি, পশ্চিমা দেশগুলো রুশ সম্পদ জব্দ করার পর পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে বিদেশি কোম্পানিগুলোর ব্যবসা ও সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ নেওয়া হয়েছে। তবে পুতিনের বক্তব্য অনুযায়ী, ভবিষ্যতে পরিস্থিতি অনুকূলে এলে এসব সম্পদ ফেরত দেওয়ার পথ খোলা থাকতে পারে।


তথ্যসূত্র: আল জাজিরা, রয়টার্স

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১:২৪ পিএম

সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট গতকাল বৃহস্পতিবার অভিযোগ করেছে, ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের মদিনায় পবিত্র মসজিদে নববির একটি বিদ্যুৎ সরবরাহকেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে। গত মঙ্গলবার এ হামলা চালানো হয়। অবশ্য হুতিদের সামরিক বাহিনীর একটি সূত্র জোটের এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।


হামলায় বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ট্রান্সফরমার অচল হয়ে গেছে বলে জানিয়েছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। তবে এতে বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি।


হুতিদের সঙ্গে লড়াইরত সৌদি জোটের দাবি, ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পরীক্ষা ও তদন্ত করে তারা নিশ্চিত হয়েছে, হুতিরাই পবিত্র মদিনার ওই বিদ্যুৎকেন্দ্রে এ হামলার পরিকল্পনা এবং সেটি বাস্তবায়নে জড়িত ছিল।


তবে হুতি সামরিক বাহিনীর সূত্র সাবা নিউজ এজেন্সিকে বলেছে, সৌদি জোটের এ দাবি মিথ্যা। তারা হুতিদের বিরুদ্ধে পবিত্র মক্কা নগরীতে হামলাচেষ্টার অভিযোগও এনেছিল। কিন্তু অভিযোগ প্রমাণ করতে পারেনি। আর এ ব্যর্থতা আড়াল করতেই নতুন করে মদিনায় হামলার অভিযোগ তুলেছে।


প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সৌদি আরব বলেছিল, তারা মক্কা নগরীর দক্ষিণে একটি হুতি ড্রোন ধ্বংস করেছে। ড্রোনটি মক্কার আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই ধ্বংস করা হয় বলে জানিয়েছিল সৌদি কর্তৃপক্ষ।


সৌদি জোট তখন দাবি করেছিল, ২০১৭ সালের পর মক্কা নগরী লক্ষ্য করে এটি ছিল হুতিদের দ্বিতীয় হামলার চেষ্টা। তবে হুতিরা মক্কা বা ইসলামের অন্য কোনো পবিত্র স্থানে হামলাচেষ্টা করার কথা অস্বীকার করেছে।


মদিনার ঘটনা নিয়ে সৌদি জোট বলেছে, মসজিদে নববি ও মক্কার পবিত্র মসজিদুল হারামে বারবার হামলার চেষ্টা চালিয়ে আসছে হুতিরা। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবারের হামলার ঘটনা ঘটেছে। মুসলিমদের উসকে দিতেই এসব হামলা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে জোটটি। মুসলিমদের পবিত্র স্থান এবং মুসল্লিদের জন্য তারা নিরাপত্তাব্যবস্থা অটুট রাখবে বলেও জানিয়েছে।


এদিকে হুতিরা বলেছে, ইয়েমেনের রাজধানী সানা ও দেশটির অন্যান্য এলাকায় সৌদি জোট হামলা চালিয়েছে। তবে সৌদি আরব তাৎক্ষণিকভাবে এসব হামলার তথ্য নিশ্চিত করেনি।


ইয়েমেন সরকারের সশস্ত্র বাহিনীর এক মুখপাত্র বলেছেন, সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট সানায় ‘গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে’ হামলা চালিয়েছে। তবে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি।


সৌদি জোট আরও বলেছে, তারা হুতিদের ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর খামিস মুশাইতের দিকে যাওয়ার সময় শনাক্ত করে ধ্বংস করেছে। এতে কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না, তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয়নি।


স্থানীয় কর্মকর্তারা আজ শুক্রবার ভোরে জানান, হুতিরা এডেনে সৌদি বাহিনীর কমান্ড সদর দপ্তর লক্ষ্য করেও কয়েকটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়েছে। তবে এ বিষয়ে সৌদি জোট বা হুতিদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

সর্বশেষ সব খবর