ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ২৩ মে, ২০২৬, সময় : ১০:১০ এএম

হেলেন ইয়াফে ৩০ বছর ধরে নিয়মিত কিউবায় আসা-যাওয়া করছেন। একবার এক প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় (ক্যাটাগরি ফোর হারিকেন) যখন দ্বীপরাষ্ট্রটির দিকে ধেয়ে আসছিল, সেই সময়ের স্মৃতি আজও গেঁথে আছে তাঁর মনে। এই শিক্ষাবিদ ও পডকাস্টার তখন একটি বাড়িতে আরও ১৩ জনের সঙ্গে অবস্থান করছিলেন। 


প্রবল ঝড় আঘাত হানলেও সেখানে থাকা মানুষের মধ্যে কোনো আতঙ্ক ছিল না। কারণ, দুর্যোগের সময় কার কী ভূমিকা হবে, তা প্রত্যেকে আগে থেকেই জানতেন। ওই বাড়িতে থাকা কেউ কেউ বয়স্ক ও অসহায় প্রতিবেশীদের আশ্রয়কেন্দ্রে পৌঁছে দিচ্ছিলেন। অন্যরা ঝড়ের বেগ কমার সঙ্গে সঙ্গে ধ্বংসস্তূপ পরিষ্কার করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।


প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় কিউবার জাতীয় প্রতিরক্ষাব্যবস্থা প্রশংসা পেয়েছে জাতিসংঘ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) কাছ থেকে। চরম আবহাওয়ার কবলে ঘনঘন পড়লেও কিউবায় প্রাণহানির সংখ্যা খুব কম। দেশটির এই সক্ষমতা সমাদৃত বিশ্বজুড়ে।


দুর্যোগ মোকাবিলার সেই একই মডেলকে এখন অন্য একটি হুমকির ক্ষেত্রে প্রয়োগ করতে চাইছে হাভানা। তা হলো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য সামরিক সংঘাত।


কিউবার প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাগাড়ম্বরপূর্ণ বক্তব্য সম্প্রতি আরও তীব্রতর হয়েছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় কৌঁসুলিরা ৩০ বছর আগের এক ঘটনায় কিউবার সাবেক প্রেসিডেন্ট রাউল কাস্ত্রোকে অভিযুক্ত করেছেন। এতে দুই দেশের সম্পর্ক গত কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ পর্যায়ে পৌঁছেছে।


১৯৯৬ সালে কিউবার কয়েকটি বিমান দেশটির নির্বাসিতদের দ্বারা পরিচালিত দুটি উড়োজাহাজ ভূপাতিত করেছিল। এতে তিনজন মার্কিন নাগরিকসহ চারজন নিহত হয়েছিলেন। এই ঘটনায় রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে মার্কিন নাগরিকদের হত্যার ষড়যন্ত্র, হত্যাকাণ্ড-সংশ্লিষ্ট চারটি ও বিমান ধ্বংস-সংক্রান্ত দুটি অভিযোগ আনা হয়েছে।


উত্তেজনার এই আবহে ১৬ মে কিউবার বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগ ‘সামরিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সুরক্ষায় পারিবারিক নির্দেশিকা’ শিরোনামে একটি দীর্ঘ নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে। এতে সম্ভাব্য মার্কিন হামলা মোকাবিলায় পরিবারের দায়িত্ব ও সুনির্দিষ্ট নিরাপত্তা নিয়মাবলি কী হবে, তা বলা হয়েছে।


যুক্তরাজ্যের গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয়ের লাতিন আমেরিকান রাজনৈতিক অর্থনীতির অধ্যাপক ও ‘কিউবা অ্যানালাইসিস’ পডকাস্টের উপস্থাপক ইয়াফে আল-জাজিরাকে বলেন, এই নির্দেশিকা কিউবার প্রতিরক্ষা তত্ত্ব ‘ওয়ার অব অল পিপল’ বা জনযুদ্ধের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে।


সোভিয়েত ইউনিয়নের বিলুপ্তির পর কিউবা এ নীতি গ্রহণ করে। এর মূল লক্ষ্য হলো গেরিলা যুদ্ধ, স্থানীয় মিলিশিয়া এবং বেসামরিক প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্কের মাধ্যমে দেশের সাধারণ জনগণকে সংগঠিত করে বিদেশি হামলা প্রতিহত করা।


ইয়াফে বলেন, ‘কিউবার প্রত্যেক নাগরিক সামরিকভাবে প্রশিক্ষিত। তাঁরা এই জাতীয় প্রতিরক্ষাব্যবস্থার আওতাভুক্ত।’


রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন কিউবার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান চাপের একটি অংশ। অন্যান্য চাপের মধ্যে রয়েছে গত কয়েক মাস ধরে কিউবার উপকূলে মার্কিন নজরদারি বিমানের টহল বৃদ্ধি, মার্কিন সিনেটে কিউবার বিরুদ্ধে ট্রাম্পের সামরিক শক্তি ব্যবহারের ক্ষমতা সীমিত করার ব্যর্থ চেষ্টা এবং কিউবাকে মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ‘উল্লেখযোগ্য হুমকি’ ঘোষণা করে নির্বাহী আদেশ জারি।


যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও কিউবার বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দিয়েছেন। ট্রাম্প গতকাল বৃহস্পতিবার ইঙ্গিত দিয়েছেন, কিউবার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিলে সেটি তাঁর আমলেই হবে।


একই দিন রুবিও সাংবাদিকদের বলেন, রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে অনেক বছর ধরে কিউবা যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি। তাঁর দাবি, কিউবার বর্তমান অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে এবং বর্তমান শাসনব্যবস্থা রেখে সেটি আর ঠিক করা সম্ভব নয়।


কিউবাকে অন্যায়ভাবে ‘হুমকি’ হিসেবে চিহ্নিত করায় রুবিওর তীব্র সমালোচনা করেছেন কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রদ্রিগেজ। 


তিনি বলেন, ‘মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবারও মিথ্যার আশ্রয় নিচ্ছেন, যাতে একটি সামরিক আগ্রাসন উসকে দেওয়া যায়। এমন পদক্ষেপ কিউবা ও যুক্তরাষ্ট্র-উভয় দেশের নাগরিকদের রক্তপাতের কারণ হয়ে দাঁড়াবে।’


এই পরিস্থিতিতে বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্র সম্ভবত শিগগিরই কিউবায় সামরিক অভিযান চালাতে যাচ্ছে। কিউবা বর্তমানে কতটা সুরক্ষিত, তা নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। তা সত্ত্বেও কিছু বিশ্লেষক মনে করেন, দীর্ঘ বিদ্যুৎ-বিভ্রাট, মার্কিন অবরোধের কারণে জ্বালানিসংকট এবং ভেনেজুয়েলায় প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর জ্বালানি সরবরাহে ঘাটতি থাকলেও কিউবা মোটেও অরক্ষিত নয়।


ভেনেজুয়েলা মডেল ‘কাজ করবে না’ কিউবায়


যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনী গত ৩ জানুয়ারি মাদুরোকে তাঁর দেশ থেকে তুলে নিয়ে যায়। সেই অভিযানের ক্ষিপ্রতা বিশ্বকে স্তম্ভিত করেছিল।ইয়াফে জানান, সেই লড়াইয়ে নিহতদের মধ্যে ৩২ জন ছিলেন কিউবার নাগরিক, যাঁরা ‘সত্যিই প্রচণ্ড প্রতিরোধ’ গড়ে তুলেছিলেন। খোদ ট্রাম্প এই প্রতিরোধের কথা স্বীকার করেন।


এদিকে কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগেল দিয়াজ-ক্যানেল ১৮ মে বলেন, কিউবার বিরুদ্ধে যেকোনো মার্কিন সামরিক পদক্ষেপ একটি ‘রক্তবন্যা’ ডেকে আনবে। অথচ এই দ্বীপরাষ্ট্র কারও জন্য হুমকি নয়।


ইয়াফে বলেন, ‘তাঁরা (যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা) ভেনেজুয়েলা মডেলের কথা বলছেন। প্রশ্ন হলো, তাঁরা কি কিউবাতেও একই মডেল প্রয়োগ করবেন? কিন্তু এটি কিউবায় কাজ করবে না।’


বিষয়টি ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘কিউবার নেতা ও জনগণের কথা হলো তাঁরা (মার্কিন কর্মকর্তারা) কী মনে করেন, ওটাই প্রচণ্ড প্রতিরোধ ছিল? সেখানে তো কিউবার নিরাপত্তাকর্মী ছিলেন মাত্র ৩২ জন। ভাবুন- তাঁরা যদি এখানে আসে, তাহলে এক কোটি মানুষ তাঁদের প্রতিরোধ করবে।’


স্পেনের মাদ্রিদে অবস্থিত এলকানো রয়্যাল ইনস্টিটিউটের আর্জেন্টাইন লাতিন আমেরিকা বিশ্লেষক কার্লোস মালামুদও একমত পোষণ করেন ইয়াফের সঙ্গে। কিউবার চ্যালেঞ্জ ভেনেজুয়েলার চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন বলে মনে করেন তিনি।


মালামুদ বলেন, ভেনেজুয়েলার তুলনায় কিউবার সেনাবাহিনী অনেক বেশি প্রশিক্ষিত। তাঁদের সরঞ্জামও তুলনামূলকভাবে উন্নত।


তবে ফ্লোরিডা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ইনস্টিটিউট ফর কিউবান স্টাডিজের কিউবান-আমেরিকান পরিচালক সেবাস্তিয়ান আরকোস সম্পূর্ণ ভিন্ন মত পোষণ করেছেন। 


তিনি আল–জাজিরাকে বলেন, ‘কিউবার সামরিক বাহিনী সেকেলে। তাদের মার্কিন বাহিনীকে প্রতিরোধ করার তেমন একটা সামর্থ্য নেই।’


তবে তিনি এটাও মানেন, ভেনেজুয়েলার তুলনায় কিউবা বেশি চ্যালেঞ্জিং। এটা যতটা না সামরিক শক্তির কারণে, তার চেয়ে বেশি হলো তারা এই ধরনের অভিযান মোকাবিলায় প্রস্তুতির জন্য দীর্ঘ সময় পেয়েছে।


কিউবার সামরিক সক্ষমতা যা-ই হোক, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দেশটির দূরত্বকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বলে মনে করেন বিশ্লেষকেরা। মালামুদ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের খুব কাছে হওয়ার কারণে কিউবার পাল্টা জবাব দেওয়ার ক্ষমতা অনেক বেশি। ভেনেজুয়েলা বা ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের এমন কোনো পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়নি।


কিউবায় হামলা হলে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে যে পাল্টা হামলা হবে, তা কোনো কল্পনা নয়, বরং তা বাস্তব হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে মনে করেন বিশ্লেষক কার্লোস মালামুদ। 


তাঁর ভাষায়, ‘যুক্তরাষ্ট্রের বেসামরিক জনগণ, মিয়ামিসহ বিভিন্ন শহরে ক্ষয়ক্ষতি করার ক্ষমতা তাদের অনেক বেশি।’


অন্যদিকে সেবাস্তিয়ান আরকোস বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মার্কিন জনমতকে খেপিয়ে তুলতে কিউবা যুক্তরাষ্ট্রের বেসামরিক কেন্দ্রগুলোতে হামলা চালাতে পারে।


১৭ মে যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যের বরাতে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সেখানে দাবি করা হয়েছে, কিউবা ৩০০টি সামরিক ড্রোন সংগ্রহ করেছে। তারা গুয়ান্তানামো বে-র মার্কিন নৌঘাঁটি, নৌযান ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বীপ শহর কী ওয়েস্টে হামলার পরিকল্পনা করছে।


তবে ইয়াফে ও মালামুদ এই গোয়েন্দা তথ্যের সত্যতা নিয়ে সন্দিহান। তাঁদের মতে, কিউবা কোনো ধরনের সামরিক সংঘাতের পক্ষে নয়। অন্যদিকে আরকোস মনে করেন, অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনটি ‘যৌক্তিক’। কারণ, কিউবা সব সময় রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছে। সম্পদের অভাব থাকা সত্ত্বেও দেশটি নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়েছে।


তবে কিউবা এরই মধ্যে প্রতিবেদনটিকে মার্কিন হামলার অজুহাত তৈরির প্রচেষ্টা হিসেবে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তারা বলেছে, যেকোনো ধরনের মার্কিন আগ্রাসনের বিরুদ্ধে তাদের আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে।


ভিন্নধর্মী অভ্যন্তরীণ সীমাবদ্ধতা


সামরিক হিসাব-নিকাশের বাইরে এমন কিছু রাজনৈতিক বিষয় আছে, যা কিউবায় মার্কিন হামলাকে অনেক বেশি জটিল করে তুলতে পারে।


ইয়াফে বলেন, দ্বীপটিতে হামলা চালানো হলে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে অভিবাসনের জোয়ার সৃষ্টি হতে পারে। আগামী নভেম্বরে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এটা ট্রাম্প ও তাঁর দলকে বড় ধরনের চাপে ফেলতে পারে। কারণ, অভিবাসনবিরোধিতা করেই ট্রাম্প তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় গড়ে তুলেছেন।


মালামুদ বলেন, কিউবা বংশোদ্ভূত আমেরিকানরা যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে ভেনেজুয়েলার প্রবাসীদের তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছেন। মূলত এই দুই পক্ষের মধ্যে কোনো তুলনা চলে না। মার্কিন কংগ্রেসে কিউবা বংশোদ্ভূত রাজনীতিবিদের উল্লেখযোগ্য প্রতিনিধিত্ব রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও কিউবা বংশোদ্ভূত। এসব কারণে কিউবার প্রবাসী জনগণ ভেনেজুয়েলা ধরনের সমাধান মেনে নেবে না।


মালামুদ এ জটিলতা ব্যাখ্যা করে বলেন, ভেনেজুয়েলায় নেতার পরিবর্তন হয়েছে। কিন্তু পুরোনো ক্ষমতা কাঠামো রয়ে গেছে। কিউবার নির্বাসিতরা কাস্ত্রো পরিবারের নিয়ন্ত্রণাধীন ব্যবস্থার পরিবর্তন ছাড়া কোনো কিছু মেনে নেবে না।


অন্যদিকে ‘মাতৃভূমি অথবা মৃত্যু, আমাদের জয় হবেই’-এটা হলো কিউবার বর্তমান শাসক গোষ্ঠীর জাতীয়তাবাদী চেতনার মূল কথা। তাই যুক্তরাষ্ট্রে অভিযুক্ত রাউল কাস্ত্রোকে অপহরণ করে সমস্যার সমাধান হবে না। কারণ, এতে একদিকে কিউবান-আমেরিকান সমর্থকেরা সন্তুষ্ট হবেন না। অন্যদিকে রাউল কাস্ত্রোর অপহরণ কিউবার সরকারকে নমনীয় করার বদলে জেদ বাড়িয়ে দেবে।


চরম অর্থনৈতিক সংকটে প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি


উরুগুয়ের ওআরটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির সহকারী অধ্যাপক মাতিয়াস ব্রাম সতর্ক করে বলেন, ভেনেজুয়েলার তেল সরবরাহ কমে যাওয়ার পর কিউবায় ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দেশটিতে হামলার মতো কোনো ঘটনা পুরো অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে।


ব্রাম আল-জাজিরাকে বলেন, তাঁর ধারণা ছিল যুক্তরাষ্ট্র কখনো ভেনেজুয়েলায় সরাসরি হামলা চালাবে না। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা হামলা চালিয়েছে এবং মাদুরোকে অপহরণ করেছে। তাই তিনি আগে ট্রাম্পকে গুরুত্ব না দিলেও এখন তাঁকে ভয় পাচ্ছেন।


তাঁর মতে, কিউবার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র কী পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে, লাতিন আমেরিকার বামপন্থী সরকারগুলো সেদিকে নিবিড় নজর রাখবে। বিশেষ করে কলম্বিয়া ও মেক্সিকো। কারণ, ট্রাম্প এসব দেশকেও হুমকি দিয়ে রেখেছেন।


এদিকে কিউবার গভীর সংকটের মধ্যেই বুধবার দেশটির সঙ্গে নতুন সম্পর্ক গড়ার প্রস্তাব দিয়েছেন রুবিও। তিনি হাভানাকে ১০ কোটি ডলারের খাদ্য ও ওষুধ সহায়তা দেওয়ার কথা বলেছেন। এটি মূলত ট্রাম্প প্রশাসনের আগের প্রস্তাবেরই অংশ। কিউবার প্রেসিডেন্ট দিয়াজ-ক্যানেল তাতে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছিলেন বলে জানা যায়।


তবে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক দশকের নিষেধাজ্ঞা ও অবরোধই যে কিউবার বর্তমান সংকটের মূল কারণ, তা রুবিও স্বীকার করেননি। বরং বিদ্যুৎ, খাদ্য ও জ্বালানি ঘাটতির জন্য তিনি কিউবার নেতৃত্বকেই দায়ী করেছেন।


বিশ্লেষক মালামুদ মনে করেন, ভেনেজুয়েলার তুলনায় কিউবা এখনো কিছু কৌশলগত সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তাই যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলা ঠেকানোর সক্ষমতা দেশটির রয়েছে। কিন্তু গভীর মানবিক সংকট শেষ পর্যন্ত সেই সক্ষমতাকে দুর্বল করে দিতে পারে।


মালামুদ বলেন, কিউবার পরিস্থিতির জটিলতা এখানেই। সংকট এখন এক চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে।


এই অবস্থায় প্রশ্ন উঠছে, যুক্তরাষ্ট্র ও কিউবার দীর্ঘদিনের উত্তেজনার মধ্যে কিউবার ওয়ার অব অল পিপল বা জনগণের যুদ্ধ নীতি কি শুধু তাত্ত্বিক ধারণা হয়েই থাকবে, নাকি বাস্তবে রূপ নেবে।


হেলেন ইয়াফে মনে করেন, কিউবা লড়বে। তাঁর ভাষায়, হাভানাজুড়ে এখনো একটি স্লোগানই বেশি শোনা যাচ্ছে-‘নো সে রিন্দে নাদিয়ে’, অর্থাৎ এখানে কেউ আত্মসমর্পণ করে না।




ইলন মাস্ক

  • প্রকাশ : শনিবার ০৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৫:৩৮ পিএম

বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্কের সম্পদ আবারও ১ ট্রিলিয়ন বা ১ লাখ কোটি ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে। 


গতকাল শুক্রবার এক দিনেই তার সম্পদের পরিমাণ বেড়েছে ৬১ বিলিয়ন ডলার। স্পেসএক্স ও টেসলার শেয়ারের দাম বাড়ার কারণে তার সম্পদে এই বড় উল্লম্ফন হয়েছে।


ফোর্বসের রিয়েলটাইম বিলিয়নিয়ার্স তালিকা অনুযায়ী, শুক্রবার বেলা ২টা ১৫ মিনিটে ইলন মাস্কের মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ৯৭৯ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার। আগের দিনের তুলনায় তার সম্পদ বেড়েছে ৬ দশমিক ৬৪ শতাংশ।


এদিন মহাকাশ ও স্যাটেলাইট কোম্পানি স্পেসএক্সের শেয়ারের দাম ৭ শতাংশের বেশি বেড়ে ১৫৮ দশমিক ৮৪ ডলারে ওঠে। 


এর আগে ২৪ ঘণ্টায় কোম্পানিটি কয়েকটি সফল উৎক্ষেপণ সম্পন্ন করে। এতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে স্পেসএক্সের বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব তৈরি হয়।


অন্যদিকে বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা টেসলার শেয়ারের দামও প্রায় ৫ শতাংশ বেড়ে ৩৭১ দশমিক ৩২ ডলারে ওঠে। চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে টেসলা ৪ লাখ ৮৬ হাজার ৫৩২টি গাড়ি সরবরাহ করেছে। এই সংখ্যা বিশ্লেষকদের প্রত্যাশার চেয়ে বেশি। 


ফলে টানা তৃতীয় বছর গাড়ি সরবরাহ কমার আশঙ্কা এড়ানো সম্ভব হবে বলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আশাবাদ তৈরি হয়েছে।


ফোর্বসের রিয়েলটাইম বিলিয়নিয়ার্স তালিকায় ইলন মাস্ক এখনো প্রথম অবস্থানে রয়েছেন। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোসের সম্পদের পরিমাণ আনুমানিক ৩৭০ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ দুজনের সম্পদের ব্যবধান প্রায় ৬০০ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার।


ইলন মাস্ক এর আগে গত ১২ জুন বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হয়েছিলেন। ওই দিন তার সম্পদের পরিমাণ সর্বোচ্চ ১ দশমিক ৪৫ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। জুনে স্পেসএক্সের শেয়ার ১৫০ ডলারে লেনদেন শুরু হলে কোম্পানিটির বাজারমূল্য প্রায় ২ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছে যায়। এতে মাস্কের সম্পদের পরিমাণও দ্রুত বেড়ে যায়।


তবে জুনের শেষ দিকে স্পেসএক্সের শেয়ারের দাম ৩১ শতাংশ কমে গেলে তিনি ট্রিলিয়নিয়ারের মর্যাদা হারান। একই সময়ে টেসলার সঙ্গে করা একটি চুক্তির কারণে মাস্কের ১১৬ বিলিয়ন ডলারের শেয়ার তার সম্পদের হিসাব থেকে বাদ দেয় ফোর্বস।


এরপর ২৯ জুন তিনি আবার সাময়িকভাবে ট্রিলিয়নিয়ারের মর্যাদা ফিরে পান। তবে ১ জুলাই স্পেসএক্সের শেয়ারের দর কমে যাওয়ায় আবার তা হারান। জুলাইয়ে স্পেসএক্সের শেয়ারের দাম সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে প্রায় ৫০ শতাংশ কমে গেলে মাস্কের সম্পদ ৭০০ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে যায়।


এখন স্পেসএক্স ও টেসলার শেয়ারের মূল্যবৃদ্ধির ফলে মাস্কের সম্পদ আবার দ্রুত বাড়ছে। শুক্রবারের হিসাবে তার সম্পদ ৯৭৯ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা ১ ট্রিলিয়ন ডলারের সীমা থেকে প্রায় ২০ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার কম। 

সূত্র: ইয়াহু ফাইনান্স


পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের স্পিকার আয়াজ সাদিকের কার্যালয়ে সরকার ও বিরোধী দলীয় নেতাদের মধ্যে প্রথম দফার বৈঠক। (ছবি- দ্য ডন)

  • প্রকাশ : শনিবার ০৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৪:২৭ পিএম

তীব্র রাজনৈতিক সংকট নিরসনে পাকিস্তানের ক্ষমতাসীন জোট সরকার এবং প্রধান বিরোধী দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট সরাসরি আলোচনায় বসেছে অবশেষে। এর ধারাবাহিকতায় আগামীকাল রোববার পিটিআইয়ের লংমার্চের আগে আজ শনিবার বিকেলে শেষ মুহূর্তে আরেকটি বৈঠক হওয়ার কথা। লংমার্চটি বন্ধ করতে মরিয়া সরকার। অন্যদিকে যেকোনো উপায়ে লংমার্চ আয়োজনে অনড় বিরোধী দল। দেশটিতে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক দমন-পীড়নের মধ্যে চলমান এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে উভয়পক্ষের এই সংলাপ- সংঘাতের ‘মেঘ কেটে দেওয়ার’ একটি ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন অনেকে। তবে শেষ পর্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা নিয়ে সংশয়ও দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।


আলোচনায় সমঝোতা চেষ্টার মধ্যেও দুই পক্ষের কথাবার্তায় উত্তপ্ত বারুদের গন্ধ রয়ে গেছে। যেকোনো মূল্যে পিটিআইয়ের ৪ অক্টোবরের লংমার্চ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের রাজনৈতিক উপদেষ্টা রানা সানাউল্লাহ সতর্ক করে বলেছেন, ‘দেখা যাক কী হয়, তারা যদি লংমার্চ স্থগিত নাও করে, আমাদের কাছে তাদের থামানোর জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রয়েছে। ’ফেডারেল মন্ত্রীরা সতর্ক করে আরও বলেছেন, খাইবার পাখতুনখাওয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং পিটিআইয়ের প্রতিবাদের ডাক বিবেচনা করে কেন্দ্রের কাছে সেখানে গভর্নর শাসন বা জরুরি অবস্থা জারি করা ছাড়া অন্য কোনো উপায় থাকবে না। অন্যদিকে এমন সিদ্ধান্তে সরকারকে কঠিন পরিণতির হুঁশিয়ারি দিয়েছে পিটিআই।


সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের কারামুক্তি দাবি ও রাজপথে আন্দোলন দমনের বিরুদ্ধে পিটিআই দেশজুড়ে বিক্ষোভের ডাক দেয়। আগামীকাল বড় আকারের লংমার্চের ঘোষণা দেয় পিটিআই। এমন আন্দোলনের মুখে তৈরি হওয়া চরম উত্তেজনা প্রশমিত করতে উভয় পক্ষ একপর্যায়ে সংলাপে বসতে সম্মত হয়। শুক্রবার সরকার ও বিরোধী দল একে অপরের মুখোমুখি বসে এক ঘণ্টা আলোচনা করেছে। পিপিপি’র প্রতিনিধিসহ সরকার নেতৃত্বাধীন একটি জোট এবং পিটিআই নেতৃত্বাধীন বিরোধী দলীয় জোট শুক্রবার ইসলামাবাদে জাতীয় পরিষদের স্পিকার আয়াজ সাদিকের চেম্বারে এক দফা আলোচনা শেষ করেছে। দেশের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের পর এই সভাটি ডাকা হয়েছিল।  


শেষ মুহূর্তে আরেকটি সমঝোতা চেষ্টা আজ


পিটিআই ঘোষিত রোববারের লংমার্চের আগে চলমান রাজনৈতিক সংকট নিরসনে আজ দুপুরে দ্বিতীয় দফার আলোচনায় স্পিকারের কার্যালয়ে সরকারের মুখপাত্রদের কাছে তাদের দাবি উপস্থাপন করবে পিটিআই। সরকার তাতে কী সাড়া দেয় সেটিই আসল বিষয়। তবে প্রথম দফায় কী অর্জিত হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো পক্ষই তেমন কিছু বলেনি।



বিশ্লেষকরা বলছেন, আলোচনার জন্য সংসদই সঠিক মঞ্চ-আয়াজ সাদিকের এই দাবিটি যেমন সঠিক, তেমনি সরকারের আন্তরিকতার প্রমাণ দাবি করার ক্ষেত্রে বিরোধী দলের যুক্তিও সমান ন্যায়সঙ্গত। এখানে বিশ্বাসের একটি ঘাটতি রয়েছে, যা দ্রুত দূর করা সবচেয়ে চ্যালেঞ্জের। একটি রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে খাইবার পাখতুনখাওয়ার নির্বাচিত সরকারকে বরখাস্ত করার জন্য সরকারের ক্রমাগত হুমকি সরকার-বিরোধী দলের বৈরিতা অনেকটাই বাড়িয়ে দিয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে, উভয় পক্ষই যে আলোচনা শুরু করেছে-তা বেশ ভালো একটি পদক্ষেপ। 


লংমার্চের সিদ্ধান্তে অটল পিটিআই, চূড়ান্ত গন্তব্য ইসলামাবাদ


এদিকে এরই মধ্যে লংমার্চের সিদ্ধান্তে অটল থাকার কথা জানিয়েছে পিটিআই। তাদের এই অনড় অবস্থানের প্রেক্ষিতে দেশটির কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা সতর্ক করে বলেছেন, ‘এ ক্ষেত্রে খাইবার পাখতুনখোয়ায় জরুরি অবস্থা জারি করা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না।’ দেশটির প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিকবিষয়ক উপদেষ্টা জানিয়েছেন, লংমার্চ নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার ও পিটিআইয়ের মধ্যে অব-দ্য-রেকর্ড আলোচনা চলছে। 


যেকোনো মূল্যে ৪ অক্টোবরের লংমার্চ অনুষ্ঠিত হবে জানিয়ে পিটিআইয়ের খাইবার পখতুনখাওয়ার তথ্য সম্পাদক শওকত ইউসুফজাই বলেছেন, দলের এই প্রতিবাদ কর্মসূচি দক্ষিণ অঞ্চলের জেলাগুলো থেকে শুরু হবে। এর নেতৃত্বে থাকবেন মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি। আর মালাকান্দ বিভাগের মিছিলটির নেতৃত্বে থাকবেন পিটিআই-এর প্রাদেশিক সভাপতি ও এমএনএ জুনায়েদ আকবর খান। তিনি বলেন, দক্ষিণাঞ্চলীয় জেলা, পেশোয়ার, মালাকান্দ এবং হাজারা থেকে আসা মিছিলগুলো সোয়াবিতে এসে একত্রিত হবে। লংমার্চের সব প্রস্তুতি এরইমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। কোনোকিছুই এতে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারবে না।


তিনি বলেন, এই প্রতিবাদ মিছিলের চূড়ান্ত গন্তব্য ইসলামাবাদ। গভর্নর শাসন কোনো সমস্যার সমাধান নয়; এটি পরিস্থিতিকে আরও জটিল ও গুরুতর করে তুলবে। খাইবার পখতুনখাওয়ায় গভর্নর শাসন বা জরুরি অবস্থা জারির পরামর্শগুলো অরাজনৈতিক ব্যক্তিরাই দিচ্ছেন। সরকার যদি সত্যিই পরিস্থিতির উন্নতি করতে চায়, তবে তাদের অবিলম্বে ইমরান খানের সাথে সাক্ষাতের অনুমতি দেওয়া উচিত।


অস্থায়ী স্বস্তি না স্থায়ী সমাধান


প্রথম দফার বৈঠকে উভয় পক্ষের মধ্যে যেসব বিষয়ে কথা হয়েছে তার মধ্যে পিটিআই-এর দাবিগুলো হলো- ইমরান খানকে কারাগার থেকে অবিলম্বে হাসপাতালে স্থানান্তর, দলীয় নেতাকর্মীদের ওপর দমন-পীড়ন বন্ধ এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য একটি সমান সুযোগ বা 'লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড' তৈরি করা। অন্যদিকে সরকারের দাবি হলো- ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির (জাতীয় সংসদ) স্পিকারের মধ্যস্থতায় চলমান এই আলোচনার স্বার্থে পিটিআইকে তাদের ৪ অক্টোবরের ঘোষিত লংমার্চ ও বড় ধরনের প্রতিবাদ কর্মসূচি প্রত্যাহার বা স্থগিত করতে হবে।


যদিও প্রথম দফার বৈঠক শেষে দুই পক্ষই আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে একমত প্রকাশ করেছে। তবুও এই উদ্যোগ কতটা স্থায়ী হবে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, অতীতেও পাকিস্তানে এ ধরনের রাজনৈতিক সংলাপ কেবল সাময়িক উত্তেজনা কমানোর কৌশল বা ‘কৌশলগত বিরতি’ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। স্থায়ী সমাধানের জন্য বিচার বিভাগের আদেশের প্রতি শ্রদ্ধা এবং রাজনৈতিক দলগুলোর আইনি অধিকার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।


এছাড়া পাকিস্তানে রয়েছে বহুমুখী সংকট। বর্তমানে তীব্র অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা, ডলারের সংকট, ঋণ পরিশোধের চাপ এবং নতুন করে বাড়তে থাকা অভ্যন্তরীণ জঙ্গিবাদের মতো বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। রাজপথ বনাম সেনাবাহিনীর এই দীর্ঘ সংঘাত কোনো পক্ষকেই বিজয়ী করবে না, বরং দেশের অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জীবনকে আরও বিপর্যস্ত করছে। উভয় পক্ষ যদি ব্যক্তিগত অহমিকা ও মুখোমুখি সংঘাতের পথ পরিহার করে রাজনৈতিক দূরদর্শিতা দেখাতে পারে, তবেই পাকিস্তানের আকাশ থেকে দীর্ঘস্থায়ী এই সংকটের মেঘ পুরোপুরি কেটে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে।


সমঝোতা নিয়ে কী বলছে পিটিআই


সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যকার আলোচনার সফলতা সম্পূর্ণভাবে সরকারের মনোভাবের ওপর নির্ভর করবে বলে জানিয়েছেন পিটিআই নেতা শওকত ইউসুফজাই। তিনি বলেন, পিটিআই দীর্ঘদিন ধরে কারাবন্দি দলীয় প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানের সাথে দেখা করার অনুমতি, তাকে হাসপাতালে স্থানান্তর এবং তার মামলাগুলোর দ্রুত শুনানির দাবি জানিয়ে আসছে। তিনি বৈঠকে তাদের পক্ষের নেতা ব্যারিস্টার গওহর আলী খানকে একজন পরিপক্ক এবং সমঝোতাকামী ব্যক্তি হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, তিনি সামনে এগিয়ে যাওয়ার একটি পথ খুঁজে বের করতে পারবেন। এখন পর্যন্ত, আমি সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যকার এই আলোচনাকে আশাব্যঞ্জক বলতে পারি। তিনি জানান, শুক্রবারের আলোচনায় উভয় পক্ষই যার যার অবস্থান তুলে ধরেছে। দেখা যাক সামনে কী হয়।


এছাড়া পিটিআই নেতা গওহর আলী খান এক ঘণ্টার এই বৈঠকটিকে ‘আন্তরিক’ বলে অভিহিত করেছেন, যা আশার আলো দেখাচ্ছে। তবে তিনি এটিও ইঙ্গিত করে বলেছেন যে, কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি এবং স্পষ্ট কোনো অগ্রগতিও হয়নি।


কী চায় পিটিআই


বিরোধী দলীয় নেতারা বলেছেন, তাদের এজেন্ডা চূড়ান্ত করতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সঙ্গে পরামর্শ করা প্রয়োজন। আদিয়ালা জেলে তাঁর সঙ্গে এই বৈঠকের অনুমতি দেওয়া সরকারের জন্য একটি সহজ সদ্বিচ্ছা প্রকাশ হতে পারে, যা দ্রুত একটি বড় অগ্রগতিও তৈরি করতে পারে। পিটিআইয়ের অন্য দাবিগুলো হলো- কারাবন্দি নেতা ইমরান খানকে হাসপাতালে স্থানান্তরের অনুমতি দেওয়া এবং ঘোষিত লংমার্চের আগে গ্রেপ্তার হওয়া ইমরানের বোনদের মুক্তি দেওয়া। এই পদক্ষেপগুলো নেওয়া হলে উত্তেজনা প্রশমিত করতে সাহায্য করবে। বিরোধী এ দলটি সরকারকে সতর্ক করে আরও বলেছে যে, কোনো সিদ্ধান্ত তাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হলে তার পরিণতি হবে ভয়াবহ।


সরকারকে সততার সাথে আলোচনার আহ্বান জানিয়ে পাকিস্তান সিনেটের বিরোধীদলীয় নেতা আব্বাস জাফরি বলেছেন, যদি সরকার রাজনৈতিক সংকট নিয়ে সত্যি চিন্তিত হয় তাহলে উচিত হবে সততার সাথে আলোচনা করা এবং সমস্যা সমাধানের দিকে পদক্ষেপ নেওয়া। কোনো সমাধান না পাওয়া পর্যন্ত তাদের প্রতিবাদের ডাক ‘বহাল’ থাকবে। তিনি বলেন, আলোচনা করা রাজনৈতিক নেতাদের পথ; আলোচনা বড় বড় সমস্যা ও যুদ্ধের সমাধানও করতে পারে। এটি অবশ্য সরকারের সদিচ্ছার ওপর নির্ভর করছে।


তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, আলোচনার অপর পক্ষ হিসেবে সরকার আসলেই কি সমস্যাগুলোর সমাধান করতে চায় কি না। তারা সরকারে আছে এবং শান্তি বজায় রাখা, সংকট সমাধান করা এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা তাদেরই দায়িত্ব।


সরকার কী চায়


বৈঠক শেষে গণমাধ্যমের সাথে আলাপে পিপিপি নেতা শেরি রহমান বলেছেন, তাদের দল আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানে বিশ্বাসী। পিপিপি চেয়ারম্যান বিলাওয়াল ভুট্টো-জারদারি লংমার্চের বিষয়ে দলের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। পিটিআইকে এটি ‘নিঃশর্তভাবে’ বাতিলের আহ্বান জানিয়েছেন। বিলাওয়াল ভুট্টো বলেছেন, পিটিআইকে এটি স্থগিত বা পিছিয়ে দেওয়ার পরিবর্তে পুরোপুরি বাতিল করতে হবে। তিনি আরও বলেন, উভয় পক্ষের হাতেই সময় আছে। আমরা শনিবার আবার বসব। এর মধ্যেই এটি শেষ করার চেষ্টা করব।


কারাবন্দী পিটিআই প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানের সাথে বৈঠকের সুযোগ করে দেওয়ার বিষয়ে বিরোধী দলের দাবির প্রসঙ্গে শেরি রহমান বলেন, তিনি এই প্রশ্নের উত্তর দিতে পারছেন না। তবে বিরোধী দল কিছুটা সময় চেয়েছে এবং ‘আমাদের তা সম্মান করা উচিত।’ তিনি মন্তব্য করেন, একটি রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক মনোভাবের জন্য আলোচনার টেবিলে বসা এবং সংলাপের মাধ্যমে সমস্যা সমাধান করা প্রয়োজন।


পরে বিলাওয়াল ভুট্টো-জারদারি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স -এ লিখেছেন, ‘সন্ত্রাসবাদের চ্যালেঞ্জ পাকিস্তানের জন্য একটি অস্তিত্বের সংকট হয়ে দাঁড়িয়েছে, বিশেষ করে প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে এই গোষ্ঠীগুলো যে সক্রিয় সমর্থন পাচ্ছে তা বিবেচনা করলে। পিপিপি প্রধান আশা প্রকাশ করেন যে, বিরোধী দল নিঃশর্তভাবে লং মার্চ বাতিল করার মাধ্যমে এই আলোচনার সমাপ্তি ঘটবে। এতে করে দেশ একত্রিত হয়ে সন্ত্রাসবাদের হুমকি এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর থেকে আসা চ্যালেঞ্জগুলোর মোকাবিলা করতে পারবে। 


জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের পক্ষ থেকে দেওয়া একটি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অংশগ্রহণকারীরা ‘বিদ্যমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন এবং জাতীয় গুরুত্বের বিভিন্ন বিষয়ে মতামত বিনিময় করেছেন।’ সরকার, পিপিপি এবং বিরোধী দলের প্রতিনিধিরা একে অপরকে নিজেদের অবস্থান সম্পর্কে অবহিত করেছেন এবং একটি গঠনমূলক ও আন্তরিক পরিবেশে বিস্তারিত মতবিনিময় করেছেন। অংশগ্রহণকারীরা সংলাপ ও আলোচনার মাধ্যমে জাতীয় সমস্যা সমাধানের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন। দ্বিতীয় দফার আলোচনা শনিবার দুপুর ২টায় জাতীয় সংসদের স্পিকারের চেম্বারে অনুষ্ঠিত হবে। সরকার, পিপিপি এবং বিরোধী দলের মধ্যে সংলাপ সহজতর করতে স্পিকার সাদিক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। সাদিক বলেন, আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের জন্য তাঁর অফিস সব সময় উন্মুক্ত এবং তিনি ধারাবাহিকভাবে বিরোধী দলকে সংলাপে বসার আহ্বান জানিয়ে এসেছেন। মতপার্থক্য ও সমস্যা সমাধানের একমাত্র উপায় হলো আলোচনা, এবং পদ বা অফিস স্থায়ী কোনো বিষয় নয়। সংসদই একমাত্র মঞ্চ যেখানে সব সমস্যার সমাধান খুঁজে পাওয়া সম্ভব।


সরকারের কী করণীয়


পিটিআই আলোচনার সময়ও তাদের প্রতিবাদের ডাক বহাল রাখতে বদ্ধপরিকর- এমন অবস্থানের কথা স্পষ্ট করেছে। অন্যদিকে সরকার বলেছে, লংমার্চ কর্মসূচি নিঃশর্তভাবে বাতিল করতে হবে। বিরোধী দল ইতিমধ্যেই তাদের লংমার্চ ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে পিছিয়ে ৪ অক্টোবর করে কিছুটা নমনীয়তা দেখিয়েছে। আলোচনাকে একটি সঠিক সুযোগ দেওয়ার জন্য সরকারের এ প্রস্তাবে কতটুকু সাড়া দেবে বিরোধী দল তাই সে ব্যাপারেও সংশয় রয়েছে।  


প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য দ্য ডন আজ এক সম্পাদকীয়তে লিখেছে, সন্ত্রাসবাদ এবং প্রতিবেশীদের শত্রুতার বিরুদ্ধে বিরোধী দলের সঙ্গে ঐক্যের বিষয়ে পিপিপি চেয়ারম্যান বিলাওয়াল ভুট্টো-জারদারির উত্থাপিত পয়েন্টটি যৌক্তিক। তবে কেবল জাতীয় ঐক্যের দোহাই দিয়ে বৈধ রাজনৈতিক ভিন্নমতকে দমন করা যেতে পারে না। উভয় পক্ষকেই আলটিমেটাম বা চরম হুঁশিয়ারি থেকে পিছিয়ে আসতে হবে। গভর্নর শাসন জারির হুমকি আলোচনার টেবিল থেকে সরিয়ে নিতে হবে। একইভাবে পিটিআইয়েরও ‘যাই ঘটুক না কেন আমরা মার্চ করবই’-এমন অবস্থান পরিহার করা উচিত।


বৈঠকে কারা ছিলেন


বৈঠকে কাশ্মীর বিষয়ক এবং গিলগিট-বালতিস্তান মন্ত্রী আমির মুকাম, রাজনৈতিক বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রানা সানাউল্লাহ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তালাল চৌধুরী এবং সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী তারিক ফজল চৌধুরী এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও পিপিপির পক্ষে সিনেটর শেরি রহমান এবং জাতীয় সংসদের সদস্য সৈয়দ নাভিদ কামার ও এজাজ হুসাইন জাখরানি এতে অংশ নেন।


বিরোধী দলের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করেন পিটিআই চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার গোহর খান, আল্লামা রাজা নাসির আব্বাস, আমির ডোগার, সাবেক জাতীয় সংসদের স্পিকার আসাদ কায়সার এবং পিটিআই-এর সাধারণ সম্পাদক সালমান আকরাম রাজা।


এফ-১৬ভি যুদ্ধবিমান (ছবি-রয়টার্স)

  • প্রকাশ : শনিবার ০৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১২:৪৫ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে এফ-১৬ভি যুদ্ধবিমানের প্রথম চালান বুঝে পেয়েছে তাইওয়ান। ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে আট বিলিয়ন ডলারের চুক্তির আওতায় ৬৬টি এফ-১৬ভি যুদ্ধবিমান কেনার এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। 


তবে, চীনের আপত্তির কারণে ট্রাম্প প্রশাসন ১৪ বিলিয়ন ডলারের আলাদা একটি অস্ত্র সহায়তার প্রস্তাব স্থগিত করে রেখেছে, যা অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে তাইওয়ান। 


যুক্তরাষ্ট্রের লকহিড মার্টিন কোম্পানির তৈরি দুটি এফ-১৬ভি যুদ্ধবিমান শুক্রবার তাইওয়ানের দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলের তাইতুং বিমানঘাঁটিতে পৌঁছায়। যুদ্ধবিমানগুলোর বহুল প্রতীক্ষিত আগমন দেখতে বহু স্থানীয় মানুষ দুরবিন ও বড় লেন্সের ক্যামেরা নিয়ে বিমানঘাঁটির সীমানাপ্রাচীরের কাছে ভিড় জমান। 


চীনের ক্রমাগত সামরিক হুমকি ও নিত্যদিনের আকাশসীমা লঙ্ঘনের কঠোর জবাব দিতে নিজেদের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করে তুলছে তাইওয়ান। 

খবর- এএফপি

ফ্লাইদুবাইয়ের সেই পাইলট

আমি কোনো যাত্রীকে মরতে দিতে চাইনি


স্মিত মাচ্ছারের সঙ্গে শুক্রবার ভিডিও কলে কথা বলেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি

  • প্রকাশ : শনিবার ০৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:৫৭ এএম

ককপিটে সহপাইলটের প্রাণঘাতী আক্রমণের শিকার হয়েও শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে গিয়েছিলেন ফ্লাইদুবাই ফ্লাইটের সেই সাহসী ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছার। আকাশে ঘটে যাওয়া সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে তিনি জানান, কেবল নিজের জন্য নয়, উড়োজাহাজে থাকা অন্য সব যাত্রীকে তিনি কিছুতেই মরতে দিতে পারেন না। গতকাল শুক্রবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে এক ভিডিও কলে কথা বলার সময় স্মিত মচ্ছার এভাবেই নিজের প্রথম প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেন।


মোদিকে সেই ভয়াবহ মুহূর্তের বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ওই সময়ে আমি নিজের জীবনের জন্য লড়াই করছিলাম। আমি এতটাই জখম হয়েছিলাম যে, মেঝেতে পড়ে গিয়েছিলাম। তখন এক মুহূর্তের জন্য আমার মনে হয়েছিল যে, আমি যদি কিছু না করি তবে অন্য সবাই মারা যাবে। আমি ১৭ বছর ধরে বিমান চালাচ্ছি এবং গত ১১ বছর ধরে ক্যাপ্টেন হিসেবে কাজ করছি। যখন আমি নিচে পড়ে গিয়েছিলাম, তখনও আমি অনুভব করতে পারছিলাম যে উড়োজাহাজটি খাড়াভাবে নিচের দিকে নামছে। তিনি বলেন, আমি আহত অবস্থায় মেঝেতে পড়ে ছিলাম, কিন্তু ভেতর থেকে ককপিটের দরজা খোলার জন্য শেষবারের মতো একবার চেষ্টা করার কথা নিজেকে বললাম।  


ফ্লাইদুবাই ফ্লাইটের ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছার


‘আক্রমণ’ নিয়ে সৌদির প্রাথমিক তদন্ত 


সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহে ফ্লাইদুবাইয়ের ফ্লাইটের জরুরি অবতরণের প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, ক্যাপ্টেনের ওপর সহকারী পাইলট (কো-পাইলট) শারীরিকভাবে আক্রমণ করেছেন। এতে দুজনেই আহত হয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার মন্ত্রণালয় জানায়, দুবাই থেকে তেল আবিবগামী এই ফ্লাইটের প্রাথমিক তদন্ত চালিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। ওই তদন্তে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) একটি নিরাপত্তা দলও অংশ নেয়।


‘হামলাকারী ইসলামপন্থি উগ্র মতাদর্শে দীক্ষিত’


উড়োজাহাজের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করা ব্যক্তি ‘ইসলামপন্থি চরমপন্থায় দীক্ষিত’ ছিলেন বলে দাবি করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি বলেছেন, তদন্তের প্রাথমিক তথ্য প্রমাণ থেকে এমনটাই ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। একই সঙ্গে হামলাকারী উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত করার চেষ্টা করেছিলেন বলেও ধারণা করা হচ্ছে। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু বলেন, হামলাকারী ‘খুব সম্ভবত’ উড়োজাহাজটি ভূপাতিত করতে চেয়েছিলেন। সন্দেহভাজন ব্যক্তি ওমানের।


  ফ্লাইদুবাইয়ের সেই ক্যাপ্টেনের ভূয়সী প্রশংসা করলেন শাহরুখ-সালমান


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ০৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:১৫ এএম

ভারতের কেরালার ত্রিসুরে স্বামীর সঙ্গে ঘুরতে যাওয়ায় এক তরুণীকে অপহরণ করে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে এক নারীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ওই নারীর স্বামীকে মারধর এবং তরুণীকে ধর্ষণের ঘটনায় জড়িত পাঁচজনসহ মোট ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।


প্রতিবেদনে বলা হয়, গত মাসে ওই তরুণী তার বিবাহিত পুরুষ বন্ধুর সঙ্গে ঘুরতে যান। তারা একটি হোটেলে অবস্থান করছিলেন। সেখানে পাঁচ ব্যক্তি নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে তাদের কাছে যান। পরে দুজনকে বেঁধে একটি গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।


গাড়িতে ওই ব্যক্তিকে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তাকে তামিলনাড়ুর একটি হাসপাতালের বাইরে ফেলে যায় অভিযুক্তরা। মারধরের কারণে তার হাত ও পা ভেঙে গেছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। অন্যদিকে, তরুণীকে একটি পৃথক গাড়িতে করে নিয়ে যায় অভিযুক্তদের দুজন। পরে তাকে গণধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ।


পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, ওই ব্যক্তির স্ত্রী তার স্বামীর ফোনের অবস্থান শনাক্ত করে তার গতিবিধি জানতে পারেন। পরে সেই তথ্য ব্যবহার করে অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করতে বলেন। স্বামীর সঙ্গে ওই তরুণীর ঘোরাফেরাকে কেন্দ্র করে ক্ষোভ থেকেই তিনি এ ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে তদন্তে জানা গেছে।


ঘটনার সঙ্গে জড়িত পাঁচজনকে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি ওই ব্যক্তির স্ত্রীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুরো ঘটনায় আরও তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।


সূত্র: এনডিটিভি


ইউএন উইমেনের প্রতিবেদন তথ্যমতে বিশ্বে ২০ কোটি ৮০ লাখ নারী ও কন্যাশিশু খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে

  • প্রকাশ : শনিবার ০৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:৪৭ এএম

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ থাকায় বিশ্বজুড়ে খাদ্য সংকটের আভাস দিয়েছে জাতিসংঘ। জাতিসংঘের লিঙ্গসমতা ও নারী ক্ষমতায়নবিষয়ক সংস্থার (ইউএন উইমেন) প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, তাদের সমীক্ষা চালানো ২৮টি দেশে ইতোমধ্যে প্রায় ২০ কোটি ৮০ লাখ নারী ও কন্যাশিশু খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে।


বছরের শেষ নাগাদ নতুন করে আরও দুই কোটি ২০ লাখ মানুষ খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার মুখোমুখি হতে পারে। নতুন যুক্ত হতে যাওয়া এই জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি, অর্থাৎ ৫৩ শতাংশই (এক কোটি ১৭ লাখ) নারী ও কন্যাশিশু।


ইউএন উইমেন জানায়, হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় জ্বালানি, সার ও পরিবহন খরচ বাড়ছে, যা বিশ্বজুড়ে খাদ্যের মূল্য বাড়িয়ে দিচ্ছে। সংকটে জর্জরিত দক্ষিণ সুদান, সুদান, হাইতি, ইয়েমেন ও ফিলিস্তিনের মতো দেশগুলোতে এই ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। 


দক্ষিণ সুদানের মোট নারী জনসংখ্যার প্রায় ১৪ শতাংশ, অর্থাৎ প্রতি সাতজনে একজন নতুন করে খাদ্য সংকটে পড়তে পারেন। লেবাননে এই হার প্রায় ৪ শতাংশ। এ ছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর মধ্যে নারীর অনুপাত আফগানিস্তানে ৬০, ইয়েমেনে ৫৭ শতাংশের বেশি ও সুদানে ৫৬ শতাংশ।