মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১০ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৫:১৮ এএম

যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীন ফেডারেল সংস্থা ইলেকশন অ্যাসিস্ট্যান্স কমিশনের (ইএসি) বাকি তিনজন সদস্যকেও পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।


নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাত্র কয়েক মাস আগে তিনি এই নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিলেন। রয়টার্স প্রথম এই খবরটি প্রকাশের পর বরখাস্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে হোয়াইট হাউজ।


মূলত, দেশজুড়ে নির্বাচন কর্মকর্তাদের প্রশাসনিক সহায়তা দিয়ে থাকে এই স্বাধীন কমিশন।


চার সদস্যের এই দ্বিদলীয় (বাইপার্টিজান) কমিশনের একজন সদস্য গত এপ্রিলেই বিদায় নিয়েছিলেন।


বাকি থাকা তিন কমিশনারকে বৃহস্পতিবার ভিন্ন উপায়ে সরিয়ে দেওয়া হয়। এদের মধ্যে রিপাবলিকান পার্টির মনোনীত সদস্য পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।


ডেমোক্রেটিক পার্টির মনোনীত বাকি দুই সদস্যকে হোয়াইট হাউজের পার্সোনেল অফিস থেকে ইমেইল পাঠিয়ে বরখাস্ত করা হয়।


সেই ইমেইলে লেখা ছিল, “প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড জে. ট্রাম্পের পক্ষ থেকে জানানো যাচ্ছে যে, নির্বাচন সহায়তা কমিশনের কমিশনার পদ থেকে আপনাকে অবিলম্বে বরখাস্ত করা হল। আপনার সেবার জন্য ধন্যবাদ।”


সম্প্রতি মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের একটি রায়ে স্বাধীন সংস্থাগুলোর কর্মকর্তাদের বরখাস্ত করার ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্টকে বাড়তি ক্ষমতাকে বৈধতা দেওয়া হয়েছে। আর ওই রায়ের পরই ট্রাম্প প্রশাসন এমন পদক্ষেপ নিল।


পাশাপাশি, আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে ভোট প্রক্রিয়ায় কেন্দ্রীয় সরকারের হস্তক্ষেপ বাড়ানোর জন্য চাপ দিচ্ছেন ট্রাম্প, যা প্রথাগতভাবে অঙ্গরাজ্যগুলোর নিজস্ব এখতিয়ার।


হোয়াইট হাউজের এক কর্মকর্তা সুপ্রিম কোর্টের রায়ের সূত্র ধরে বলেন, “আমেরিকার নির্বাচন সুরক্ষিত করা এবং প্রতিটি বৈধ ভোট গণনা নিশ্চিত করার গুরুত্বপূর্ণ কাজের সঙ্গে যারা পুরোপুরি একমত নন, তাদের সরিয়ে দেওয়ার অধিকার প্রেসিডেন্টের রয়েছে।”


তিনি বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন নির্বাচনকে ‘জালিয়াতি’ থেকে মুক্ত রাখতে এবং একটি ‘শক্তিশালী অবকাঠামো’ তৈরি করতে সব সংস্থা ও স্থানীয় অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে।


২০০২ সালে মার্কিন কংগ্রেসের ‘হেল্প আমেরিকা ভোট অ্যাক্ট’-এর মাধ্যমে এই নির্বাচন কমিশন গঠিত হয়েছিল।


এর চারজন কমিশনারকে প্রেসিডেন্ট নিয়োগ দেন এবং নিয়ম অনুযায়ী এখানে সমানসংখ্যক (দুজন ডেমোক্র্যাট ও দুজন রিপাবলিকান) সদস্য থাকতে হয়, যাদের চূড়ান্ত অনুমোদন দেয় মার্কিন সেনেট।


বরখাস্ত হওয়া তিন কমিশনার, টমাস হিকস, বেনিয়ামিন হভল্যান্ড ও ক্রিস্টি ম্যাককরমিক সেনেটের সর্বসম্মত অনুমোদনে নিয়োগ পেয়েছিলেন।



এই কমিশন মূলত নির্বাচন পরিচালনার তথ্যকেন্দ্র হিসেবে কাজ করে, ভোটদান পদ্ধতি পরীক্ষা ও প্রত্যয়ন করে এবং ডাকযোগে ভোটার নিবন্ধনের জাতীয় ফর্ম রক্ষণাবেক্ষণ করে।


ডাকযোগে ভোটের (ভোট-বাই-মেইল) নিয়মকানুন পরিবর্তন এবং ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের তদন্তের মধ্যেই তাদের বরখাস্তের ঘটনা ঘটল।


ট্রাম্প তার দ্বিতীয় মেয়াদেও কোনো প্রমাণ ছাড়াই দাবি করে আসছেন, ২০২০ সালের নির্বাচনে কারচুপি হয়েছিল এবং সেবার তিনি ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেনের কাছে হেরেছিলেন।


কমিশনের আইন অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট নতুন সদস্য নিয়োগ দিতে পারলেও ট্রাম্প এই কমিশনকে কীভাবে এগিয়ে নেবেন তা এখনও স্পষ্ট নয়। হঠাৎ করে সব সদস্যকে সরিয়ে দেওয়ায় কমিশনের ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।


ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন ভার্জিনিয়ার ডেমোক্র্যাট সেনেটর মার্ক ওয়ার্নার। এক সোশাল মিডিয়া পোস্টে তিনি লিখেছেন, “২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাত্র কয়েক মাস আগে সব কমিশনারকে সরিয়ে দেওয়া একটি নজিরবিহীন পদক্ষেপ।”


তিনি বলেন, “এ বিষয়ে প্রশাসনের কাছ থেকে অবিলম্বে ব্যাখ্যা চাই। এই ঘটনা নির্বাচনি প্রতিষ্ঠানগুলোতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের গভীর উদ্বেগ তৈরি করছে, যা দলমত নির্বিশেষে প্রতিটি মার্কিন নাগরিককে শঙ্কিত করবে।”





ব্যবসায়ী উইকনেল চিভায়ো। ছবি: বিবিসি

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১:৫৫ এএম

হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় জিম্বাবুয়ের আলোচিত ব্যবসায়ী উইকনেল চিভায়ো ও তার স্ত্রী লুসি মুতেকে নিহত হয়েছেন। এ দুর্ঘটনায় হেলিকপ্টারে থাকা ছয়জনই মারা গেছেন বলে জানিয়েছে দেশটির পুলিশ।


বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানী হারারে থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার পূর্বে মারোনদেরা এলাকায় হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়। স্থানীয় সময় বিকেল ৫টার দিকে দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহত ছয়জনের মধ্যে দুজন পাইলট ছিলেন।


পরিবারের পক্ষ থেকে হারবার্ট চিভায়ো রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম জেডবিসিকে ব্যবসায়ী ও তার স্ত্রীর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, এই ঘটনায় পরিবার গভীরভাবে শোকাহত।



সরকারি মুখপাত্র নিক মাংগোয়ানা জানান, হেলিকপ্টারটিতে একজন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, তিনজন যাত্রী ও দুজন পাইলট ছিলেন। দুর্ঘটনার পর কেউ বেঁচে নেই বলেও জানান তিনি।


বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, চিভায়ো ও তার স্ত্রী চিকোম্বার গান্দামি এলাকায় নির্মাণাধীন তাদের গ্রামীণ বাড়ি থেকে ফিরছিলেন। উড্ডয়নের প্রায় ৪০ মিনিট পর কুডেঙ্গা ফার্ম এলাকায় হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়।


বৃহস্পতিবার (০১ অক্টোবর) পরিবহনমন্ত্রী ফেলিক্স মোহোনার নেতৃত্বে বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে যান। তদন্তকারীরা হেলিকপ্টারটির ব্ল্যাক বক্স উদ্ধার করেছেন।


প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, দুর্ঘটনার পর জ্বালানি ছড়িয়ে পড়ে এবং আগুন ধরে যায়। তবে দুর্ঘটনার কারণ এখনও নিশ্চিত হয়নি।


৪৩ বছর বয়সী চিভায়ো ‘স্যার উইকনেল’ নামে পরিচিত ছিলেন। সরকারি বিভিন্ন বড় চুক্তির মাধ্যমে তিনি ব্যবসায়িক পরিচিতি গড়ে তোলেন। বিলাসবহুল জীবনযাপন ও দাতব্য কর্মকাণ্ডের জন্যও তিনি পরিচিত ছিলেন।


সরকারি চুক্তি নিয়ে অতীতে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ ও তদন্ত হয়েছিল। তবে তিনি বরাবরই অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছিলেন।


চিভায়োর মৃত্যুতে জিম্বাবুয়ের প্রেসিডেন্ট এমারসন নানগাগওয়া শোক প্রকাশ করেছেন। কেনিয়ার প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম রুটোও তাকে ‘প্রিয় বন্ধু’ উল্লেখ করে নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।


মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও সৌদি প্রিন্স সালমান। ছবি : গেটি ইমেজেস

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১:৪৫ এএম

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি না থাকলে সৌদি আরব এখন আর অস্তিত্বশীল থাকত না। একই সঙ্গে ইসরায়েলও তার নেতৃত্ব ছাড়া টিকে থাকত না বলে দাবি করেছেন তিনি।


বৃহস্পতিবার (০১ অক্টোবর) প্রকাশিত টাইম ম্যাগাজিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সৌদি আরবের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প এসব মন্তব্য করেন। এর আগে সিবিএস নিউজসহ কয়েকটি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছিল, ইরান-সমর্থিত হুথিদের বিরুদ্ধে ইয়েমেনে সৌদি বাহিনীর সঙ্গে যৌথভাবে হামলায় অংশ নেওয়ার সৌদি অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছেন তিনি।


সৌদি নেতৃত্বের সঙ্গে সম্পর্ক কেমন; এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘ভালো। সৌদি আরবের জন্য আমি অনেক কিছু করেছি। আমি সৌদি আরবকে সুরক্ষা দিই। আমি প্রেসিডেন্ট না হলে সৌদি আরব এখন আর থাকত না। ইসরায়েলও থাকত না। তাদের পৃথিবীর মানচিত্র থেকে মুছে ফেলা হতো।’


সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি ক্রাউন প্রিন্সকে পছন্দ করি। তার সঙ্গে আমার সম্পর্ক খুব ভালো।’


এরপর ট্রাম্প আবারও নিজের ভূমিকার কথা তুলে ধরে বলেন, ‘তবে মনে রাখবেন, আমি না থাকলে সৌদি আরব থাকত না। ইসরায়েলও থাকত না। আরও বিভিন্ন দেশও থাকত না।’


সৌদি আরবের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। তবে সৌদি নেতৃত্ব ইরান-সমর্থিত হুথিদের বিরুদ্ধে ইয়েমেনে সামরিক পদক্ষেপের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে সরাসরি সহায়তা চেয়েছিল কি না এবং ট্রাম্প তা কেন প্রত্যাখ্যান করেছেন, সে বিষয়ে সাক্ষাৎকারে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।


২৭ অক্টোবরের নির্বাচনে নেতানিয়াহুকে আরেক মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প সরাসরি সমর্থন জানাননি। তিনি বলেন, ইসরায়েলকে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে সহায়তা করাই তার প্রধান লক্ষ্য।


ট্রাম্প বলেন, গত কয়েক বছরে ইসরায়েল নিয়ে তার নেওয়া বিভিন্ন নীতির কারণে দেশটির জনগণের মধ্যে তার জনপ্রিয়তা প্রায় ৯৯ শতাংশ।


নেতানিয়াহুর প্রতিদ্বন্দ্বী ও সাবেক সামরিক প্রধান গাদি আইজেনকটের বিষয়ে জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, তার সম্পর্কে তিনি খারাপ কিছু শোনেননি। তবে নেতানিয়াহুকে অবমূল্যায়ন না করার পরামর্শ দেন তিনি।


ট্রাম্প বলেন, এর আগেও বহুবার নেতানিয়াহুকে রাজনৈতিকভাবে শেষ হয়ে গেছেন বলে মনে করা হয়েছিল। একইভাবে তাকেও অনেকবার অবমূল্যায়ন করা হয়েছে। তাই নেতানিয়াহুকে ছোট করে দেখার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।


সূত্র : সিবিএস নিউজ


মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি : রয়টার্স

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১:৪২ এএম

ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক ধরনের গোলাবারুদের মজুত সীমিত হয়ে পড়েছে বলে স্বীকার করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অস্ত্রের ঘাটতি তৈরি হয়েছে; সম্প্রতি পেন্টাগনের এমন একটি প্রতিবেদনকে ‘বেশিরভাগই ভুয়া খবর’ বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।


বৃহস্পতিবার (০১ অক্টোবর) প্রকাশিত টাইম ম্যাগাজিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘কয়েক ধরনের গোলাবারুদের মজুত অন্যগুলোর তুলনায় কিছুটা কম।’ তবে একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র আগের চেয়েও বেশি মাত্রায় অস্ত্রের মজুত বাড়াচ্ছে।


ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা এমন মাত্রায় মজুত করছি, যা এর আগে কখনো করিনি।’


ট্রাম্পের এই মন্তব্যের প্রায় দুই সপ্তাহ আগে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের মহাপরিদর্শকের কার্যালয় এক প্রতিবেদনে জানিয়েছিল, ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ পরিচালনার সময় ব্যাপক গোলাবারুদ ব্যবহারের ফলে কৌশলগত মজুতে ঘাটতি তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি গোলাবারুদের মজুত পুনরায় পূরণে মার্কিন প্রতিরক্ষা শিল্পের সক্ষমতায় বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতাও প্রকাশ পেয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।


তবে ওই প্রতিবেদনকে ‘বেশিরভাগই ভুয়া খবর’ বলে মন্তব্য করেন ট্রাম্প।


যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের মজুত পুনরায় পূরণ করতে কত অর্থ ব্যয় হবে এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, এর খরচ ভেনেজুয়েলায় এক মাসে যুক্তরাষ্ট্র যত অর্থ আয় করে, তার চেয়েও কম হবে।


ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানকে ওয়াশিংটন ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে অভিহিত করেছে। ওই অভিযানে গোলাবারুদের ব্যবহার মার্কিন অস্ত্রভাণ্ডারের ওপর কী ধরনের চাপ তৈরি করেছে, তা নিয়ে পেন্টাগনের মহাপরিদর্শকের প্রতিবেদনে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।


সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি না থাকলে সৌদি আরব এখন আর অস্তিত্বশীল থাকত না। একই সঙ্গে ইসরায়েলও তার নেতৃত্ব ছাড়া টিকে থাকত না বলে দাবি করেছেন তিনি।


সৌদি আরবের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প এসব মন্তব্য করেন। এর আগে সিবিএস নিউজসহ কয়েকটি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছিল, ইরান-সমর্থিত হুথিদের বিরুদ্ধে ইয়েমেনে সৌদি বাহিনীর সঙ্গে যৌথভাবে হামলায় অংশ নেওয়ার সৌদি অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছেন তিনি।


সৌদি নেতৃত্বের সঙ্গে সম্পর্ক কেমন; এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘ভালো। সৌদি আরবের জন্য আমি অনেক কিছু করেছি। আমি সৌদি আরবকে সুরক্ষা দিই। আমি প্রেসিডেন্ট না হলে সৌদি আরব এখন আর থাকত না। ইসরায়েলও থাকত না। তাদের পৃথিবীর মানচিত্র থেকে মুছে ফেলা হতো।’


সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি ক্রাউন প্রিন্সকে পছন্দ করি। তার সঙ্গে আমার সম্পর্ক খুব ভালো।’


এরপর ট্রাম্প আবারও নিজের ভূমিকার কথা তুলে ধরে বলেন, ‘তবে মনে রাখবেন, আমি না থাকলে সৌদি আরব থাকত না। ইসরায়েলও থাকত না। আরও বিভিন্ন দেশও থাকত না।’


সূত্র : টাইম ম্যাগাজিন


ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১:৩৬ এএম

ইরানকে নতজানু করার চিন্তা যুক্তরাষ্ট্রকে মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংলাপের জন্য ইরান উন্মুক্ত রয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।


বৃহস্পতিবার (০১ অক্টোবর) উদ্যোক্তা ও অর্থনৈতিক খাতের ব্যক্তিদের সঙ্গে এক বৈঠকে পেজেশকিয়ান এসব কথা বলেন বলে জানিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ।


পেজেশকিয়ান বলেন, ‘আমরা মর্যাদা ও গর্বের সঙ্গে আমাদের সমাজের অধিকার রক্ষা করি। আমরা কখনো সংলাপ থেকে পালিয়ে যাইনি এবং ভবিষ্যতেও যাব না। যদিও যুক্তরাষ্ট্র একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করার পরও তিনবার আমাদের দেশে হামলা চালিয়েছে।’


‘চুক্তি’ বলতে পেজেশকিয়ান সম্ভবত জুনের মাঝামাঝি সময়ে তার ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের কথা উল্লেখ করেছেন।


ওই সমঝোতার মাধ্যমে যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল, তিন সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে তা ভেঙে পড়ে। ইরানের অভিযোগ ছিল, যুক্তরাষ্ট্র নৌ অবরোধ অব্যাহত রেখে সমঝোতার শর্ত লঙ্ঘন করেছে।


পেজেশকিয়ান আরও বলেন, ‘শত্রুরা ভেবেছিল, ইসলামি বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতার শাহাদাতের পর জনগণ, কমান্ডার ও বিজ্ঞানীরা ভেঙে পড়বে। কিন্তু আমাদের জাতীয় ও অভ্যন্তরীণ ঐক্য এবং সংহতি আরও বেড়েছে।’


তিনি বলেন, ‘সন্ত্রাস ও শাহাদাতের মাধ্যমে আমাদের নতজানু করার চিন্তা যুক্তরাষ্ট্রকে মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলতে হবে।’


সূত্র : সিবিএস নিউজ


ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সাথে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পুরোনো ছবি: রয়টার্স

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:০৮ পিএম

ইসরায়েলের আসন্ন নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে সরাসরি সমর্থন দিতে অনীহা প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার (০১ অক্টোবর) আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।


২৭ অক্টোবরের নির্বাচনে নেতানিয়াহুকে আরেক মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প সরাসরি সমর্থন জানাননি। বৃহস্পতিবার (০১ অক্টোবর) প্রকাশিত ‘টাইম’ ম্যাগাজিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ইসরায়েলকে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে সহায়তা করাই তার প্রধান লক্ষ্য।


ট্রাম্প বলেন, গত কয়েক বছরে ইসরায়েল নিয়ে তার নেওয়া বিভিন্ন নীতির কারণে দেশটির জনগণের মধ্যে তার জনপ্রিয়তা প্রায় ৯৯ শতাংশ।


নেতানিয়াহুর প্রতিদ্বন্দ্বী ও সাবেক সামরিক প্রধান গাদি আইজেনকটের বিষয়ে জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, তার সম্পর্কে তিনি খারাপ কিছু শোনেননি। তবে নেতানিয়াহুকে অবমূল্যায়ন না করার পরামর্শ দেন তিনি।


ট্রাম্প বলেন, এর আগেও বহুবার নেতানিয়াহুকে রাজনৈতিকভাবে শেষ হয়ে গেছেন বলে মনে করা হয়েছিল। একইভাবে তাকেও অনেকবার অবমূল্যায়ন করা হয়েছে। তাই নেতানিয়াহুকে ছোট করে দেখার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।


ট্রাম্পের এই মন্তব্যের একদিন আগে নেতানিয়াহু তাকে ইসরায়েলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে ব্রিফিং দিয়েছিলেন। ২৭ অক্টোবরের নির্বাচন সামনে রেখে ইসরায়েলে সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন নেতানিয়াহু।


সম্প্রতি ইরান যুদ্ধ এবং লেবানন ও গাজায় ইসরায়েলের হামলা নিয়ে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর সম্পর্ক কিছুটা টানাপোড়েনের মধ্যে রয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।


সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি


ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: আলজাজিরা

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৮:৩৩ পিএম

ইরানকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে খুব শিগগির সিদ্ধান্ত নিতে হবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানো অথবা দেশটির বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার মধ্যে একটি পথ বেছে নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। এ সময় তিনি ইরানকে ‘উড়িয়ে দেওয়ার’ হুমকিও দেন।


বৃহস্পতিবার আলজাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।


প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থানীয় সময় বুধবার ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প ইরান প্রসঙ্গে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ইরান ইস্যুতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় ঘনিয়ে এসেছে। তার ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্র হয় ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছাবে, নয়তো সামরিক পদক্ষেপ নেবে।


ট্রাম্প বলেন, ‘হয়তো তাদের উড়িয়ে দিতে হবে। আমাদের এই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আমরা তাদের উড়িয়ে দেব, অথবা একটি চুক্তি করব।’


তিনি আরও বলেন, ‘সময় এসে যাচ্ছে। যে কোনোভাবেই হোক, বিষয়টি খুব শিগগির শেষ হবে।’


ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই ট্রাম্পের এই মন্তব্য এলো। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আলোচনার সম্ভাবনা এবং সামরিক পদক্ষেপের আশঙ্কা নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।


সূত্র: আলজাজিরা