ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১০ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১১:৫১ এএম

চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে নতুন ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’ উড়োজাহাজে চড়ে তুরস্ক সফরে গিয়েছিলেন, সেটিতে আগের মডেলের মতো প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেই। উড়োজাহাজটি কীভাবে নতুন করে প্রস্তুত করা হয়েছে, সে বিষয়ে অবহিত একাধিক কর্মকর্তার সূত্রে জানা গেছে, এ বিমানে উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ক্ষমতা যুক্ত করা হয়নি।


বিশেষজ্ঞদের মতে, কাতার থেকে উপহার হিসেবে পাওয়া বোয়িং ৭৪৭-৮ উড়োজাহাজে এ ক্ষমতাগুলো না থাকায় এটি নিয়ে বিদেশে ভ্রমণ করা ঝুঁকিপূর্ণ। এ ঝুঁকির বিষয় গত বুধবার আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিক্রেট সার্ভিসের অনুরোধে ট্রাম্প হঠাৎ করেই নতুন উড়োজাহাজটি রেখে পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানে চড়ে তুরস্ক ছাড়ার আকস্মিক সিদ্ধান্ত নেন।


এ ঘটনার পর থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্টের একটি দাবির ওপর সবার নজর পড়েছে। সরকারি উড়োজাহাজ হিসেবে ব্যবহৃত আগের বিমানবহরটি বেশ পুরোনো হয়ে গেছে অভিযোগ তুলে কাতার থেকে পাওয়া ৭৪৭ বিমানটিকে দ্রুত রাষ্ট্রীয় ব্যবহারের উপযোগী করার জন্য তিনি অনড় ছিলেন। 


গত এক বছর ধরে মার্কিন বিমানবাহিনীর তত্ত্বাবধানে কাতারের দেওয়া এ উড়োজাহাজের সংস্কারকাজ চলেছে। এটিতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট করার জন্য এখন ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে দাবি তুলেছেন মার্কিন আইনপ্রণেতারা।


এ উড়োজাহাজের নিরাপত্তা শুধু প্রেসিডেন্টের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ নয়; বরং তাঁর সঙ্গে থাকা হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তা, সিক্রেট সার্ভিসের সদস্য, সাংবাদিক ও আমন্ত্রিত অতিথিদের জন্যও সমান জরুরি।


প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অবশ্য এ নতুন উড়োজাহাজ যত দ্রুত সম্ভব চালু করার জন্য শুরু থেকেই জোর দিচ্ছিলেন। আন্তর্জাতিক সফরের জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্টের পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ান যথেষ্ট আকর্ষণীয় বা জমকালো নয় বলে তিনি প্রায়ই অসন্তোষ প্রকাশ করতেন।


নতুন এয়ার ফোর্স ওয়ানের নিরাপত্তা নিয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য


গতকাল বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউস নতুন উড়োজাহাজটির সক্ষমতা নিয়ে নির্দিষ্ট কোনো প্রশ্নের জবাব না দিলেও এর নিরাপত্তাব্যবস্থার পক্ষে সাফাই গেয়েছে। হোয়াইট হাউসের যোগাযোগ পরিচালক স্টিভেন চ্যং এক বিবৃতিতে বলেন, ‘নতুন এয়ার ফোর্স ওয়ান একটি অত্যাধুনিক আকাশযান। প্রেসিডেন্ট ও তাঁর কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এতে উচ্চস্তরের নিরাপত্তা প্রোটোকল যুক্ত করা হয়েছে। 


প্রেসিডেন্ট সম্প্রতি যেমনটি বলেছেন, “যুক্তরাষ্ট্রের অনেক শত্রু তাঁর ওপর নজর রাখছে।” আমরা সেসব হুমকি মোকাবিলায় আমাদের হাতে থাকা প্রতিটি হাতিয়ার ব্যবহার করছি।’


কাতার থেকে পাওয়া এ উড়োজাহাজের নিরাপত্তাব্যবস্থার সুনির্দিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে মার্কিন বিমানবাহিনী। বলেছে, প্রেসিডেন্টের বহরের অংশ হিসেবে স্থায়ীভাবে তৈরি হতে থাকা দুটি বোয়িং জেটের কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত এটি একটি ‘সেতু’ বা সাময়িক উড়োজাহাজ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।


তবে উপহার হিসেবে পাওয়া উড়োজাহাজটি প্রেসিডেন্টকে বহনের জন্য প্রস্তুত, এমন ঘোষণা দেওয়ার সময় বিমানবাহিনী স্বীকার করেছিল, সাময়িক ব্যবহারের জন্য এই উড়োজাহাজে সাধারণত একটি এয়ার ফোর্স ওয়ানে থাকা সব সরঞ্জাম নেই।


গত ১৯ জুন এক বিবৃতিতে বিমানবাহিনী বলেছিল, ‘নিরাপত্তা, সুরক্ষা বা মিশনের যোগাযোগব্যবস্থার ক্ষেত্রে কোনো ঝুঁকি নেওয়া হয়নি। তবে উড়োজাহাজটি যেন আগামী ৪০ বছর ভালোভাবে সেবা দিতে পারে, সেই ব্যবস্থা করতে গিয়ে কম ব্যবহৃত মিশন সেটের ক্ষেত্রে (কম প্রয়োজনীয় কিছু সুযোগ-সুবিধা) ছাড় দিতে হয়েছে।’


‘কম ব্যবহৃত মিশন সেট’ বলতে প্রকৃতপক্ষে কী বোঝানো হয়েছে, তা স্পষ্ট করেনি বিমানবাহিনী। তবে উড়োজাহাজটির নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে অবহিত এবং নাম প্রকাশ না করার শর্তে কথা বলা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কাতার থেকে পাওয়া এ উড়োজাহাজে আগের মডেলের মতো প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেই।


ঝুঁকিপূর্ণ বিদেশ সফরে ট্রাম্পের নতুন উড়োজাহাজ ব্যবহারে বিস্ময়


পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ান পরিবর্তনের প্রক্রিয়ায় যুক্ত ছিলেন, বিমানবাহিনীর এমন দুজন সাবেক কর্মকর্তা এ ঘটনায় গভীর বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তাঁরা বলেন, যেখানে নিরাপত্তাঝুঁকি অনেক বেশি, সেখানে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই নতুন উড়োজাহাজে চড়ে বিদেশ সফরে গেছেন।


উল্লেখ্য, ট্রাম্প ন্যাটো সম্মেলনে যোগ দিতে যে দেশটিতে গিয়েছিলেন, সেই তুরস্কের সঙ্গে রয়েছে ইরানের সীমান্ত। আর এ সপ্তাহেই ইরানজুড়ে নতুন করে একাধিক হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।


সাবেক এ কর্মকর্তারা কাতার থেকে পাওয়া উড়োজাহাজটির সংস্কারকাজের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন না। তবে তাঁরা বলেন, সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের গতি দেখেই বোঝা যায়, একটি পূর্ণাঙ্গ প্রেসিডেনশিয়াল উড়োজাহাজের জন্য ঐতিহ্যগতভাবে যেসব নিরাপত্তাব্যবস্থার পরিবর্তন দরকার, তার সব কটি করার মতো পর্যাপ্ত সময় এখানে পাওয়া যায়নি।


বিমানবাহিনীর সাবেক সেক্রেটারি ফ্রাঙ্ক কেন্ডাল বলেন, ‘সময়স্বল্পতার কারণে একটি সাধারণ এয়ার ফোর্স ওয়ানের সব ধরনের পরিবর্তন এখানে করা সম্ভব হয়নি। তাই এর নিরাপত্তা, যোগাযোগ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার ঘাটতি রয়ে গেছে।’ 


কেন্ডাল যখন দায়িত্বে ছিলেন, তখন বোয়িং যাতে দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা দুটি নতুন এয়ার ফোর্স ওয়ান উড়োজাহাজ সরবরাহের কাজ দ্রুত শেষ করে, সেই চেষ্টা তিনি করেছেন।


চলমান পরিস্থিতির দিকে ইঙ্গিত করে কেন্ডাল আরও বলেন, ‘বর্তমান ইরান পরিস্থিতির কারণে এটি উদ্বেগের কারণ হতে পারে। সত্যি বলতে, যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে নতুন এ উড়োজাহাজের ব্যবহার দেখে আমি বেশ অবাক হয়েছি।’


বাইডেন প্রশাসনের সময় এয়ার ফোর্স ওয়ান কর্মসূচির দায়িত্বে থাকা বিমানবাহিনীর সাবেক অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি অ্যান্ড্রু পি হান্টারও একই কথা বলেছেন। তাঁর মতে, ‘একটি বোয়িং ৭৪৭ উড়োজাহাজকে প্রকৃত অর্থেই এয়ার ফোর্স ওয়ান হিসেবে গড়ে তুলতে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে কাজ করার প্রয়োজন হয়।’


ট্রাম্প তুরস্কের উদ্দেশে রওনা হওয়ার ঠিক আগের দিন, সিনেটের ডেমোক্র্যাট সদস্যরা বিমানবাহিনীর কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছিলেন। চিঠিতে তাঁরা কাতার থেকে পাওয়া উড়োজাহাজটির সংস্কারকাজ নিয়ে নানা প্রশ্ন তোলেন এবং এতে প্রয়োজনীয় সব নিরাপত্তাব্যবস্থা যুক্ত করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন।


কানেটিকাটের ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস্টোফার এস মারফি এবং অন্য ১২ সিনেটরের পাঠানো চিঠিতে বলা হয়, ‘ট্রাম্প নিজেই এ উড়োজাহাজের নজিরবিহীন বিলাসিতা নিয়ে আনন্দ প্রকাশ করেছেন। তাঁর এ বক্তব্য থেকেই স্পষ্ট যে এ সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তার চেয়ে ট্রাম্পের ব্যক্তিগত আরাম ও পছন্দই বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।’


আঙ্কারায় উড়োজাহাজ বদলের নেপথ্যে


পেন্টাগনের তিনজন সাবেক কর্মকর্তার মতে, এয়ার ফোর্স ওয়ান হিসেবে ব্যবহৃত পুরোনো বিমানগুলোতে এমন একটি প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ছিল, যা তাপ অনুসরণকারী ক্ষেপণাস্ত্রকে (হিট-সিকিং মিসাইল) ধ্বংস করতে পারত। মার্কিন প্রেসিডেন্টের ব্যবহারের জন্য নির্মাণাধীন বোয়িংয়ের নতুন উড়োজাহাজগুলোতেও এ ব্যবস্থা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।


নিরাপত্তা প্রোটোকলের বর্ণনা দিতে গিয়ে মার্কিন বিমানবাহিনীর একজন সাবেক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানের ডানার নিচে ও লেজে এ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার বিভিন্ন অংশ বাইরে থেকে দেখা যায়। তবে কাতার থেকে পাওয়া উড়োজাহাজের ছবিতে এমন কোনো ব্যবস্থা দেখা যায়নি।


এয়ার ফোর্স ওয়ানের ইতিহাসে এ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ব্যবহার খুব একটা না হলেও, উড়োজাহাজটির নিরাপত্তার জন্য এটিকে সব সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।


মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগন বর্তমানে নির্মাণাধীন বোয়িং বিমানগুলোর যে বিবরণ প্রকাশ করেছে, তাতে দেখা গেছে নতুন জেটগুলোতে একটি ‘আত্মরক্ষামূলক ব্যবস্থা’ ও ‘মিশন যোগাযোগব্যবস্থা’ থাকবে। একজন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ‘রাষ্ট্রপ্রধান, প্রধান নির্বাহী ও সশস্ত্র বাহিনীর প্রধানের’ দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করার জন্য এ নিরাপত্তাব্যবস্থাগুলো থাকা জরুরি।


মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, ২০২০ সালের জানুয়ারিতে ড্রোন হামলা চালিয়ে ইরানি জেনারেল কাসেম সোলাইমানিকে হত্যার নির্দেশ দেওয়ার পর থেকেই ট্রাম্পকে নিশানা বানিয়েছে ইরান। ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারণার সময় পেনসিলভানিয়ার বাটলারে ট্রাম্পের ওপর প্রাণঘাতী হামলার আগেও তাঁর নিরাপত্তা বাড়িয়েছিল সিক্রেট সার্ভিস। ইরানের গুপ্তচরবৃত্তির গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।


ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র হামলা আবার শুরু হওয়া সত্ত্বেও, বর্তমান গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ব্রিফিং পাওয়া মার্কিন নীতিনির্ধারকেরা বিশ্বাস করেন না যে এই মুহূর্তে ট্রাম্পকে হত্যা করার কোনো তাত্ক্ষণিক পরিকল্পনা ইরানের রয়েছে।


গোয়েন্দা মূল্যায়নের বর্ণনা দিতে গিয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, ট্রাম্পের জীবন কেড়ে নেওয়ার যেকোনো চেষ্টা কতটা বড় উসকানি হবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা জবাব কতটা ভয়াবহ হতে পারে, সে সম্পর্কে ইরানের পরিষ্কার ধারণা রয়েছে।


তা সত্ত্বেও আঙ্কারায় থাকাকালীন ইরানের এত কাছাকাছি অবস্থানে ট্রাম্পের নিরাপত্তা নিয়ে সিক্রেট সার্ভিস এতটাই চিন্তিত ছিল যে দেশ ছাড়ার সময় তারা প্রেসিডেন্টকে উড়োজাহাজ পরিবর্তন করতে বাধ্য করে। গত বুধবার নিউইয়র্ক টাইমস প্রথম এই খবর প্রকাশ করে।


অবশ্য উড়োজাহাজ পরিবর্তনের এ ঘোষণা দেওয়ার সময় ট্রাম্প ভিন্ন একটি গল্প শুনিয়েছিলেন। তিনি দাবি করেছিলেন, তিনি পুরোনো উড়োজাহাজে ফিরছেন যাতে নতুন জেটটি আগেভাগে রওনা হতে পারে এবং মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে যাত্রাবিরতি দিয়ে সেনাদের কাছে এর ‘চমৎকার’ রূপ প্রদর্শন করতে পারে।


প্রেসিডেন্টের ভ্রমণের জন্য ব্যবহৃত সামরিক বিমানসংক্রান্ত আলোচনায় যুক্ত থাকা হোয়াইট হাউসের সাবেক একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, ভ্রমণের সময় যখনই নিরাপত্তার প্রশ্ন ওঠে, তখনই হোয়াইট হাউসের কর্মী, সামরিক উপদেষ্টা ও সিক্রেট সার্ভিসের মধ্যে প্রায়ই একধরনের উত্তেজনা তৈরি হয়।


তবে সামরিক বিশেষজ্ঞরা যখনই কোনো পরিবর্তনের দাবি জানান, হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা সাধারণত তাঁদের সিদ্ধান্ত মেনে নেন, যা সম্ভাব্য হুমকি প্রশমিত করতে সহায়তা করে।




ব্যবসায়ী উইকনেল চিভায়ো। ছবি: বিবিসি

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১:৫৫ এএম

হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় জিম্বাবুয়ের আলোচিত ব্যবসায়ী উইকনেল চিভায়ো ও তার স্ত্রী লুসি মুতেকে নিহত হয়েছেন। এ দুর্ঘটনায় হেলিকপ্টারে থাকা ছয়জনই মারা গেছেন বলে জানিয়েছে দেশটির পুলিশ।


বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানী হারারে থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার পূর্বে মারোনদেরা এলাকায় হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়। স্থানীয় সময় বিকেল ৫টার দিকে দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহত ছয়জনের মধ্যে দুজন পাইলট ছিলেন।


পরিবারের পক্ষ থেকে হারবার্ট চিভায়ো রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম জেডবিসিকে ব্যবসায়ী ও তার স্ত্রীর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, এই ঘটনায় পরিবার গভীরভাবে শোকাহত।



সরকারি মুখপাত্র নিক মাংগোয়ানা জানান, হেলিকপ্টারটিতে একজন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, তিনজন যাত্রী ও দুজন পাইলট ছিলেন। দুর্ঘটনার পর কেউ বেঁচে নেই বলেও জানান তিনি।


বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, চিভায়ো ও তার স্ত্রী চিকোম্বার গান্দামি এলাকায় নির্মাণাধীন তাদের গ্রামীণ বাড়ি থেকে ফিরছিলেন। উড্ডয়নের প্রায় ৪০ মিনিট পর কুডেঙ্গা ফার্ম এলাকায় হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়।


বৃহস্পতিবার (০১ অক্টোবর) পরিবহনমন্ত্রী ফেলিক্স মোহোনার নেতৃত্বে বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে যান। তদন্তকারীরা হেলিকপ্টারটির ব্ল্যাক বক্স উদ্ধার করেছেন।


প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, দুর্ঘটনার পর জ্বালানি ছড়িয়ে পড়ে এবং আগুন ধরে যায়। তবে দুর্ঘটনার কারণ এখনও নিশ্চিত হয়নি।


৪৩ বছর বয়সী চিভায়ো ‘স্যার উইকনেল’ নামে পরিচিত ছিলেন। সরকারি বিভিন্ন বড় চুক্তির মাধ্যমে তিনি ব্যবসায়িক পরিচিতি গড়ে তোলেন। বিলাসবহুল জীবনযাপন ও দাতব্য কর্মকাণ্ডের জন্যও তিনি পরিচিত ছিলেন।


সরকারি চুক্তি নিয়ে অতীতে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ ও তদন্ত হয়েছিল। তবে তিনি বরাবরই অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছিলেন।


চিভায়োর মৃত্যুতে জিম্বাবুয়ের প্রেসিডেন্ট এমারসন নানগাগওয়া শোক প্রকাশ করেছেন। কেনিয়ার প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম রুটোও তাকে ‘প্রিয় বন্ধু’ উল্লেখ করে নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।


মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও সৌদি প্রিন্স সালমান। ছবি : গেটি ইমেজেস

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১:৪৫ এএম

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি না থাকলে সৌদি আরব এখন আর অস্তিত্বশীল থাকত না। একই সঙ্গে ইসরায়েলও তার নেতৃত্ব ছাড়া টিকে থাকত না বলে দাবি করেছেন তিনি।


বৃহস্পতিবার (০১ অক্টোবর) প্রকাশিত টাইম ম্যাগাজিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সৌদি আরবের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প এসব মন্তব্য করেন। এর আগে সিবিএস নিউজসহ কয়েকটি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছিল, ইরান-সমর্থিত হুথিদের বিরুদ্ধে ইয়েমেনে সৌদি বাহিনীর সঙ্গে যৌথভাবে হামলায় অংশ নেওয়ার সৌদি অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছেন তিনি।


সৌদি নেতৃত্বের সঙ্গে সম্পর্ক কেমন; এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘ভালো। সৌদি আরবের জন্য আমি অনেক কিছু করেছি। আমি সৌদি আরবকে সুরক্ষা দিই। আমি প্রেসিডেন্ট না হলে সৌদি আরব এখন আর থাকত না। ইসরায়েলও থাকত না। তাদের পৃথিবীর মানচিত্র থেকে মুছে ফেলা হতো।’


সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি ক্রাউন প্রিন্সকে পছন্দ করি। তার সঙ্গে আমার সম্পর্ক খুব ভালো।’


এরপর ট্রাম্প আবারও নিজের ভূমিকার কথা তুলে ধরে বলেন, ‘তবে মনে রাখবেন, আমি না থাকলে সৌদি আরব থাকত না। ইসরায়েলও থাকত না। আরও বিভিন্ন দেশও থাকত না।’


সৌদি আরবের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। তবে সৌদি নেতৃত্ব ইরান-সমর্থিত হুথিদের বিরুদ্ধে ইয়েমেনে সামরিক পদক্ষেপের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে সরাসরি সহায়তা চেয়েছিল কি না এবং ট্রাম্প তা কেন প্রত্যাখ্যান করেছেন, সে বিষয়ে সাক্ষাৎকারে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।


২৭ অক্টোবরের নির্বাচনে নেতানিয়াহুকে আরেক মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প সরাসরি সমর্থন জানাননি। তিনি বলেন, ইসরায়েলকে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে সহায়তা করাই তার প্রধান লক্ষ্য।


ট্রাম্প বলেন, গত কয়েক বছরে ইসরায়েল নিয়ে তার নেওয়া বিভিন্ন নীতির কারণে দেশটির জনগণের মধ্যে তার জনপ্রিয়তা প্রায় ৯৯ শতাংশ।


নেতানিয়াহুর প্রতিদ্বন্দ্বী ও সাবেক সামরিক প্রধান গাদি আইজেনকটের বিষয়ে জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, তার সম্পর্কে তিনি খারাপ কিছু শোনেননি। তবে নেতানিয়াহুকে অবমূল্যায়ন না করার পরামর্শ দেন তিনি।


ট্রাম্প বলেন, এর আগেও বহুবার নেতানিয়াহুকে রাজনৈতিকভাবে শেষ হয়ে গেছেন বলে মনে করা হয়েছিল। একইভাবে তাকেও অনেকবার অবমূল্যায়ন করা হয়েছে। তাই নেতানিয়াহুকে ছোট করে দেখার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।


সূত্র : সিবিএস নিউজ


মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি : রয়টার্স

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১:৪২ এএম

ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক ধরনের গোলাবারুদের মজুত সীমিত হয়ে পড়েছে বলে স্বীকার করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অস্ত্রের ঘাটতি তৈরি হয়েছে; সম্প্রতি পেন্টাগনের এমন একটি প্রতিবেদনকে ‘বেশিরভাগই ভুয়া খবর’ বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।


বৃহস্পতিবার (০১ অক্টোবর) প্রকাশিত টাইম ম্যাগাজিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘কয়েক ধরনের গোলাবারুদের মজুত অন্যগুলোর তুলনায় কিছুটা কম।’ তবে একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র আগের চেয়েও বেশি মাত্রায় অস্ত্রের মজুত বাড়াচ্ছে।


ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা এমন মাত্রায় মজুত করছি, যা এর আগে কখনো করিনি।’


ট্রাম্পের এই মন্তব্যের প্রায় দুই সপ্তাহ আগে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের মহাপরিদর্শকের কার্যালয় এক প্রতিবেদনে জানিয়েছিল, ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ পরিচালনার সময় ব্যাপক গোলাবারুদ ব্যবহারের ফলে কৌশলগত মজুতে ঘাটতি তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি গোলাবারুদের মজুত পুনরায় পূরণে মার্কিন প্রতিরক্ষা শিল্পের সক্ষমতায় বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতাও প্রকাশ পেয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।


তবে ওই প্রতিবেদনকে ‘বেশিরভাগই ভুয়া খবর’ বলে মন্তব্য করেন ট্রাম্প।


যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের মজুত পুনরায় পূরণ করতে কত অর্থ ব্যয় হবে এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, এর খরচ ভেনেজুয়েলায় এক মাসে যুক্তরাষ্ট্র যত অর্থ আয় করে, তার চেয়েও কম হবে।


ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানকে ওয়াশিংটন ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে অভিহিত করেছে। ওই অভিযানে গোলাবারুদের ব্যবহার মার্কিন অস্ত্রভাণ্ডারের ওপর কী ধরনের চাপ তৈরি করেছে, তা নিয়ে পেন্টাগনের মহাপরিদর্শকের প্রতিবেদনে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।


সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি না থাকলে সৌদি আরব এখন আর অস্তিত্বশীল থাকত না। একই সঙ্গে ইসরায়েলও তার নেতৃত্ব ছাড়া টিকে থাকত না বলে দাবি করেছেন তিনি।


সৌদি আরবের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প এসব মন্তব্য করেন। এর আগে সিবিএস নিউজসহ কয়েকটি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছিল, ইরান-সমর্থিত হুথিদের বিরুদ্ধে ইয়েমেনে সৌদি বাহিনীর সঙ্গে যৌথভাবে হামলায় অংশ নেওয়ার সৌদি অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছেন তিনি।


সৌদি নেতৃত্বের সঙ্গে সম্পর্ক কেমন; এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘ভালো। সৌদি আরবের জন্য আমি অনেক কিছু করেছি। আমি সৌদি আরবকে সুরক্ষা দিই। আমি প্রেসিডেন্ট না হলে সৌদি আরব এখন আর থাকত না। ইসরায়েলও থাকত না। তাদের পৃথিবীর মানচিত্র থেকে মুছে ফেলা হতো।’


সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি ক্রাউন প্রিন্সকে পছন্দ করি। তার সঙ্গে আমার সম্পর্ক খুব ভালো।’


এরপর ট্রাম্প আবারও নিজের ভূমিকার কথা তুলে ধরে বলেন, ‘তবে মনে রাখবেন, আমি না থাকলে সৌদি আরব থাকত না। ইসরায়েলও থাকত না। আরও বিভিন্ন দেশও থাকত না।’


সূত্র : টাইম ম্যাগাজিন


ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১:৩৬ এএম

ইরানকে নতজানু করার চিন্তা যুক্তরাষ্ট্রকে মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংলাপের জন্য ইরান উন্মুক্ত রয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।


বৃহস্পতিবার (০১ অক্টোবর) উদ্যোক্তা ও অর্থনৈতিক খাতের ব্যক্তিদের সঙ্গে এক বৈঠকে পেজেশকিয়ান এসব কথা বলেন বলে জানিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ।


পেজেশকিয়ান বলেন, ‘আমরা মর্যাদা ও গর্বের সঙ্গে আমাদের সমাজের অধিকার রক্ষা করি। আমরা কখনো সংলাপ থেকে পালিয়ে যাইনি এবং ভবিষ্যতেও যাব না। যদিও যুক্তরাষ্ট্র একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করার পরও তিনবার আমাদের দেশে হামলা চালিয়েছে।’


‘চুক্তি’ বলতে পেজেশকিয়ান সম্ভবত জুনের মাঝামাঝি সময়ে তার ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের কথা উল্লেখ করেছেন।


ওই সমঝোতার মাধ্যমে যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল, তিন সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে তা ভেঙে পড়ে। ইরানের অভিযোগ ছিল, যুক্তরাষ্ট্র নৌ অবরোধ অব্যাহত রেখে সমঝোতার শর্ত লঙ্ঘন করেছে।


পেজেশকিয়ান আরও বলেন, ‘শত্রুরা ভেবেছিল, ইসলামি বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতার শাহাদাতের পর জনগণ, কমান্ডার ও বিজ্ঞানীরা ভেঙে পড়বে। কিন্তু আমাদের জাতীয় ও অভ্যন্তরীণ ঐক্য এবং সংহতি আরও বেড়েছে।’


তিনি বলেন, ‘সন্ত্রাস ও শাহাদাতের মাধ্যমে আমাদের নতজানু করার চিন্তা যুক্তরাষ্ট্রকে মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলতে হবে।’


সূত্র : সিবিএস নিউজ


ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সাথে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পুরোনো ছবি: রয়টার্স

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:০৮ পিএম

ইসরায়েলের আসন্ন নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে সরাসরি সমর্থন দিতে অনীহা প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার (০১ অক্টোবর) আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।


২৭ অক্টোবরের নির্বাচনে নেতানিয়াহুকে আরেক মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প সরাসরি সমর্থন জানাননি। বৃহস্পতিবার (০১ অক্টোবর) প্রকাশিত ‘টাইম’ ম্যাগাজিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ইসরায়েলকে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে সহায়তা করাই তার প্রধান লক্ষ্য।


ট্রাম্প বলেন, গত কয়েক বছরে ইসরায়েল নিয়ে তার নেওয়া বিভিন্ন নীতির কারণে দেশটির জনগণের মধ্যে তার জনপ্রিয়তা প্রায় ৯৯ শতাংশ।


নেতানিয়াহুর প্রতিদ্বন্দ্বী ও সাবেক সামরিক প্রধান গাদি আইজেনকটের বিষয়ে জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, তার সম্পর্কে তিনি খারাপ কিছু শোনেননি। তবে নেতানিয়াহুকে অবমূল্যায়ন না করার পরামর্শ দেন তিনি।


ট্রাম্প বলেন, এর আগেও বহুবার নেতানিয়াহুকে রাজনৈতিকভাবে শেষ হয়ে গেছেন বলে মনে করা হয়েছিল। একইভাবে তাকেও অনেকবার অবমূল্যায়ন করা হয়েছে। তাই নেতানিয়াহুকে ছোট করে দেখার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।


ট্রাম্পের এই মন্তব্যের একদিন আগে নেতানিয়াহু তাকে ইসরায়েলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে ব্রিফিং দিয়েছিলেন। ২৭ অক্টোবরের নির্বাচন সামনে রেখে ইসরায়েলে সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন নেতানিয়াহু।


সম্প্রতি ইরান যুদ্ধ এবং লেবানন ও গাজায় ইসরায়েলের হামলা নিয়ে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর সম্পর্ক কিছুটা টানাপোড়েনের মধ্যে রয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।


সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি


ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: আলজাজিরা

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৮:৩৩ পিএম

ইরানকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে খুব শিগগির সিদ্ধান্ত নিতে হবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানো অথবা দেশটির বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার মধ্যে একটি পথ বেছে নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। এ সময় তিনি ইরানকে ‘উড়িয়ে দেওয়ার’ হুমকিও দেন।


বৃহস্পতিবার আলজাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।


প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থানীয় সময় বুধবার ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প ইরান প্রসঙ্গে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ইরান ইস্যুতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় ঘনিয়ে এসেছে। তার ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্র হয় ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছাবে, নয়তো সামরিক পদক্ষেপ নেবে।


ট্রাম্প বলেন, ‘হয়তো তাদের উড়িয়ে দিতে হবে। আমাদের এই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আমরা তাদের উড়িয়ে দেব, অথবা একটি চুক্তি করব।’


তিনি আরও বলেন, ‘সময় এসে যাচ্ছে। যে কোনোভাবেই হোক, বিষয়টি খুব শিগগির শেষ হবে।’


ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই ট্রাম্পের এই মন্তব্য এলো। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আলোচনার সম্ভাবনা এবং সামরিক পদক্ষেপের আশঙ্কা নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।


সূত্র: আলজাজিরা