ছবি: রয়টার্স
ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসের ব্যস্ত প্লাজাগুলো দৈনন্দিন জীবনের চেনা ছন্দেই চলছে। হাতে চকোলেট কিংবা বরফজমানো ফল বিক্রি করছেন ফেরিওয়ালারা।
দোকানিরা বিকেলের ভিড়ের মধ্যে তাক সাজাতে ব্যস্ত। তবুও এই চিরচেনা দৈনন্দিন জীবন-যাপনের মধ্যেও বিরাজ করছে নতুন এক উদ্বেগ, উত্তেজনার আবহ।
ভেনেজুয়েলা উপকূলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি, আর দুই দেশের উত্তপ্ত বাকযুদ্ধ দুশ্চিন্তা বাড়াচ্ছে। শঙ্কা, সংশয় আর আশার মিশ্রণে ভেনেজুয়েলাবাসী এখন বিভক্ত।
কেউ বিদেশি শক্তির আগমনকে সম্ভাব্য মুক্তি হিসেবে দেখছেন, কেউ দেখছেন সার্বভৌম একটি রাষ্ট্রের ওপর আঘাত হিসেবে। মাতৃভূমিকে রক্ষায় কেউ আবার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
৫২ বছর বয়সী কৃষক ও ব্যবসায়ী ডেভিড ওরোপেজা বলেন, “মাতৃভূমি তো মাতৃভূমিই, আর আমাদের সেনাবাহিনী আমাদেরই বাহিনী।”
ওরোপেজা নিজেই ফল সংগ্রহ করে ফ্রোজেন স্ট্রবেরি ও ব্ল্যাকবেরি বিক্রি করেন। স্বাস্থ্য সমস্যার কারণে তাকে সপ্তাহে তিনবার চিকিৎসা নিতে হয়। তবুও যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলায় হামলা করলে তিনি লড়াইয়ে যেতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন।
“ওদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যুদ্ধ ময়দানে নামতে আমি প্রস্তুত। আগ্রাসনকারীদের মুখোমুখি হব ভেনেজুয়েলার সেনাদের সঙ্গে দাঁড়িয়েই,” আল-জাজিরাকে বলেন ওরোপেজা।
ডাউনটাউন কারাকাসে বাসের অপেক্ষায় আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকা ৫২ বছর বয়সী এই কৃষক-ব্যবসায়ী বলেন, “যেভাবে পারি দেশের জন্য সাহায্য করব।”
‘ইতিবাচক পরিবর্তন’
সেপ্টেম্বর থেকে ক্যারিবিয়ান ও প্রশান্ত মহাসাগর এলাকায় যুক্তরাষ্ট্র প্রায় দুই ডজন হামলা চালিয়েছে, যাতে ৮০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার সর্বশেষ হামলায় চারজন নিহত হন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন দাবি করেছে, লক্ষ্যবস্তু নৌকাগুলোতে মাদক বা চোরাচালানকারী ছিল। কিন্তু এই দাবির সপক্ষে তারা কোনও প্রমাণ তুলে ধরেনি। নৌযানগুলো যুক্তরাষ্ট্রের দিকে যাচ্ছিল এমন কোনও প্রমাণও ট্রাম্প প্রশাসন দেয়নি।
যুক্তরাষ্ট্র নৌযানগুলোতে হামলা চালানোর কোনও আইনি যৌক্তিকতাও তুলে ধরেনি। যদিও অনেক বিশেষজ্ঞই বলছেন, এইসব হামলা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন।
এর মধ্যেই ট্রাম্প আবার একথাও বলেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র স্থলভাগে মাদক চোরাচালানকারীদের ওপর হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর মানে ভেনেজুয়েলার মাটিতে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি সামরিক অভিযান খুব শিগগিরই চলতে পারে এমন আভাসই মেলে।
ট্রাম্প সম্প্রতি কয়েক সপ্তাহে ভেনেজুয়েলার কাছে ক্যারিবীয় অঞ্চলে বিশ্বে র সবচেয়ে বগ বিমানবাহী রণতরী ইউএএস গেরাল্ড আর ফোর্ড মোতায়েন করেছে। সঙ্গে মোতায়েন হয়ে হাজার হাজার সেনা এবং এফ-৩৫ জঙ্গিবিমানও।
কয়েক দশকের মধ্যে ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের এমন শক্তি প্রদর্শন আর দেখা যায়নি। ভেনেজুয়েলাবাসীদের কেউ কেউ মনে করেন, প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের এই চাপ দেশের জন্য ভাল।
এক ভেনেজুয়েলাবাসীর কথায়, যুক্তরাষ্ট্রের এই চাপের কারণে “ভেনেজুয়েলা মুক্ত হবে। আমাদের মুক্তির দিন আসবে।” মাদুরো এখনই অনেক চাপ অনুভব করছেন- এমনটিই মনে করেন বলে জানান তিনি।
তার কথায় মাদুরোর শাসন ঘিরে ভেনেজুয়েলাবাসীর মধ্যে ব্যাপক হতাশারই প্রতিফলন ঘটেছে। জানুয়ারিতে তৃতীয় মেয়াদে ভেনেজুয়েলার ক্ষমতা নেওয়া মাদুরোর শাসনামলে অর্থনৈতিক এবং সামাজিক সংকটই কেবল আরও গভীর হয়েছে।
‘মাতৃভূমি মাতৃভূমিই’
ভেনেজুয়েলা এবং এর অভিজাতদের নিয়ে এমনকি ট্রাম্পের অভিপ্রায় নিয়ে কঠোর মনোভাব পোষণ করেন কৃষক ও ব্যবসায়ী ডেভিড ওরোপেজা।
তারপরও তিনি মনে করেন, দেশে যত সমস্যাই থাকুক, যুদ্ধ এর কোনও জবাব হতে পারে না। তার কথায়, “কেউ যুদ্ধ চায় না। সবাই শান্তি চায়।”
তার মতে, “মার্কিন রাজনীতি অস্ত্রের ওপরই অনেকটা চলে, আর সেটা ক্ষমতায় থাকা মানুষকে আরও ধনী করে। ভেনেজুয়েলার পক্ষেও সেনা মোতায়েনে স্থানীয় অভিজাতরাই হয়ত লাভবান হবে।” তিনি বলেন, “কারা ধনী হচ্ছে? তারা, আর আমরা যাদেরকে চিনি না তারা।”
ওরোপেজা নিজেকে প্রয়াত প্রেসিডেন্ট হুগো শ্যাভেজের সমর্থক হিসেবে পরিচয় দেন। বর্তমান প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর সমর্থক তিনি নন। তবু দেশের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে তার অবস্থান কঠোর। সরকারে অনাস্থা থাকলেও বিদেশি হামলাকে সমর্থন করেন না তিনি।
সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট মাদুরোও পাল্টা শক্তি প্রদর্শন করেছেন। সেনা ও মিলিশিয়াদের সমাবেশ ঘটেছে, ক্যারিবিয়ান উপকূল জুড়ে অ্যান্টি–এয়ার সিস্টেম পরীক্ষা করেছে সেনাবাহিনী।
নভেম্বর নাগাদ সরকার জানায়, সম্ভাব্য যে কোনও মার্কিন পদক্ষেপের মোকাবেলায় সেনা ও নাগরিকদের ব্যাপকমাত্রায় সমাবেশ করা হবে।
সন্দেহ ও সম্পদ:
তরুণ প্রজন্মের অনেকেই মনে করে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহের কারণ মূলত ভেনেজুয়েলার বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদ। “আমার মনে হয় আমরা বিপদে আছি,” বলেন ২৪ বছর বয়সী সুপারশপ কর্মী দিয়েগো মেহিয়া।
‘যুক্তরাষ্ট্রের হামলা আসন্ন’ এটা নিয়ে সন্দেহ আছে দিয়েগোর। তার কথায়, “যুক্তরাষ্ট্র চাইলে আগেই হামলা করতে পারত।” কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র কি চায় সে বিষয়ে তার ধারণা পরিষ্কার। তিনি বলেন,
“ভেনেজুয়েলা অনেক বেশি সম্পদশালী। ভেনেজুয়েলার তেল এবং ইউরেনিয়াম আছে উল্লেখ করে দিয়েগো বলেন, “তারা (যুক্তরাষ্ট্র) ভেনেজুয়েলা নিয়ে আগ্রহী। কারণ তাদের এই দেশটির সম্পদ প্রয়োজন।”
বিশ্বের বৃহত্তম প্রমাণিত তেল মজুত রয়েছে ভেনেজুয়েলায়। যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় পাঁচ গুণেরও বেশি। এছাড়া আছে বৃহৎ প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুত।
তেল–গ্যাস ছাড়াও দেশটিতে গ্যাস, স্বর্ণ, হীরা, বক্সাইট, লোহার আকরিক, এবং ইলেকট্রনিকস–অ্যারোস্পেস শিল্পের জন্য জরুরি কোলটানের মতো বিরল খনিজ আছে।
তবুও যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলার উদ্বেগ সামলাতে মেহিয়া ভরসা করেন বিশ্বাসে; তার কথায়, “ঈশ্বর এখানে কিছু হতে দেবেন না।”
ভেনেজুয়েলার রাস্তায় এখনও মানুষের স্বাভাবিক আনাগোনা দেখে এবং খাদ্য মজুতে ব্যস্ত হতে না দেখে অনেকেই ধরে নিচ্ছেন, যুক্তরাষ্ট্রের হামলা আসন্ন নয়।
অজানার ভয়ে ভেনেজুয়েলা:
অন্যান্য ভেনেজুয়েলাবাসী আবার এতটা নিশ্চিত নন।
সন্তানকে নিয়ে পার্কে এসে ৩৪ বছর বয়সী গৃহিণী দালিবেথ ব্রেয়া বললেন, এই পরিস্থিতি তার মনে আশা ও শঙ্কা- দু’য়েরই উদ্রেক করে। এই উদ্বেগ, উত্তেজনা তার পারিপার্শ্বিক সামাজিক পরিমন্ডলেও বাস্তব।
তার এক বন্ধু সরকারি চাকরিতে আছেন। চাকরি বিরূপ প্রভাব পড়ার ভয়ে তিনি এ বিষয়ে সাক্ষাৎকার দিতে রাজি হননি।
ব্রেয়া মনে করেন, ভেনেজুয়েলা যে চাপের মুখে পড়েছে তা দেশের জন্য ভাল কিছুও বয়ে আনতে পারে। তার কথায়, “বাইরের দেশগুলোতে যে উন্নয়ন দেখি, সেটা এখানে হলে ভালো লাগবে।”
তবে সহিংসতার সম্ভাবনা ব্রেয়াকে আতঙ্কিতও করেছে। কৃষক ও ব্যবসায়ী ওরোপেজার মতো শত্রুবাহিনীকে রুখে দাঁড়ানোর মনোভাব তার নেই; বরং লুকিয়ে থাকারই প্রবণতা।
“ভয়ে আমি আশ্রয় নিতাম,” স্বীকার করেন তিনি। তার প্রস্তুতি খুব সাধারণ: “বাড়িতে খাবার জমা রাখা, আর সবাইকে এক জায়গায় রাখা।”
ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কেন্দ্রে দাঁড়িয়ে থাকা শহরটিতে সূর্য ডবিতে থাকার সঙ্গে সঙ্গে ব্রেয়ার মুখে শোনা যায় অন্য লাখো মানুষের মতোই অনিশ্চয়তার সুর।
“আমি জানি না কিছু ঘটবে কি না,” বলেন তিনি। “কিছু কিছু ক্ষেত্রে মনে হয় হবে—আবার কিছু ক্ষেত্রে মনে হয় হবে না।”
ইরানের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তেহরানের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য, বাণিজ্যিক লেনদেন ও আর্থিক কার্যক্রম বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত।
আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আঞ্চলিক উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাদের মতে, চলমান উত্তেজনা আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করছে।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের সঙ্গে আমিরাতের বাণিজ্যিক ও আর্থিক সম্পর্কের গুরুত্ব বিবেচনায় এ সিদ্ধান্ত তেহরানের অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
অবসরপ্রাপ্ত মার্কিন জেনারেল ও সাবেক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্ক কিমিট বলেছেন, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা নিষেধাজ্ঞার চেয়েও আমিরাতের এই সিদ্ধান্ত বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। কারণ, ইরানের অর্থনীতি ও বৈদেশিক বাণিজ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিশেষ করে দুবাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
কিমিট আল জাজিরাকে বলেন, ইরানের সঙ্গে দুবাইয়ের পণ্য ও আর্থিক লেনদেনের গুরুত্ব কোনোভাবেই কম করে দেখার সুযোগ নেই। ইরানে আমদানি করা পণ্যের অন্যতম প্রধান সরবরাহকারী হলো দুবাই ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। এ ক্ষেত্রে চীন ও তুরস্কও গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার।
তার ভাষ্য, ইরানের মোট আমদানির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ দীর্ঘদিন ধরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের মাধ্যমে আসে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক আর্থিক কেন্দ্র হিসেবে দুবাইয়ের ভূমিকা ইরানকে বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে বাণিজ্য ও আর্থিক লেনদেন চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দিয়েছে।
কিমিট বলেন, ‘অনেক দিক থেকেই আমিরাতের এই নিষেধাজ্ঞা যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’
ইরানের হামলা অব্যাহত থাকলে অন্যান্য উপসাগরীয় দেশও আমিরাতের সিদ্ধান্ত অনুসরণ করতে পারে কি না—এ বিষয়ে কিমিট বলেন, তারা আপাতত পরিস্থিতি সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করবে বলে তিনি মনে করছেন।
তিনি বলেন, ‘আমিরাত ও ইরানের মধ্যে কী ঘটে, সেটিই এখন সবাই দেখবে এবং অপেক্ষা করবে।’
কিমিটের মতে, আমিরাতের এ সিদ্ধান্ত ইরানের কাছে অত্যন্ত গুরুতর বার্তা বহন করছে। এমনকি তেহরান এটিকে যুদ্ধ ঘোষণার কাছাকাছি কোনো পদক্ষেপ হিসেবেও বিবেচনা করতে পারে। এ প্রসঙ্গে তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জাপানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নেওয়া কঠোর অর্থনৈতিক পদক্ষেপের সঙ্গে তুলনা করেন।
সূত্র: এনডিটিভি, আল জাজিরা
কলকাতা নিউমার্কেটের কাছে মির্জা গালিব স্ট্রিটের হোটেল শিখা ইনে আগুন
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বীরভূমের একটি আবাসিক হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের পরদিন মঙ্গলবার গভীর রাতে কলকাতার আরেকটি হোটেলে আগুন লেগেছে। এতে আবাসিক হোটেলে থাকা ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে ৬ জন পুরুষ, ২ জন নারী ও একজন শিশু রয়েছে। মৃতদের পরিচয় এখনও জানা যায়নি। মৃতররা সকলে বাংলাদেশি বলে জানিয়েছে এনডিটিভি।
দমকলকর্মীরা হোটেলের ভেতর থেকে অজ্ঞান অবস্থায় ৯ জনকে উদ্ধার করে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। হাসপাতাল সূত্রে খবর, তাদের সকলকেই মৃত অবস্থায় আনা হয়েছিল।
এর আগে বীরভূম জেলার তীর্থস্থান তারাপীঠ মন্দির সংলগ্ন একটি হোটেলে সোমবার সকালে অগ্নিকাণ্ডে ৮ জন নিহত এবং ১৩ জন আহত হয়। সেই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ওই দিন রাতেই হোটেলের মালিক ও তার ছেলেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সেই রেশ কাটতে না কাটতে আবার আরেকটি অগ্নিকাণ্ড ঘটলো।
কলকাতার আবাসিক হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের বিষয়ে পুলিশ জানিয়েছে, মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি হোটেলের তিন তলায় আগুন লাগে। আগুন ছড়িয়ে পড়ে অন্তত চারটি ঘরে। চিৎকার চেঁচামেচি শুনে ঘুম ভেঙে যায় হোটেলের বাসিন্দাদের। তবে ধোঁয়ার কারণে হোটেল থেকে বের হওয়ার সুযোগ পাচ্ছিলেন না তারা।
ভোর তিনটার দিকে আগুন লাগার খবর পায় পুলিশ ও দমকল কর্মী। আগুনের ঘটনাস্থলের একেবারে কাছেই দমকল অফিস। দমকলের ৪টি ইঞ্জিন ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুনে হোটেলের একাংশ পুড়ে যায়।
অগ্নিকাণ্ডের সময় আহত কয়েকজনকে কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। হোটেলের এসি থেকে আগুন লাগতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে। আগুনের পর ঘটনাস্থলে যান দমকল মন্ত্রী ও কলকাতা পুলিশের কমিশনার।
দমকলকর্মীরা হোটেলের ভেতর থেকে অজ্ঞান অবস্থায় ৯ জনকে উদ্ধার করে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। হাসপাতাল সূত্রে খবর, তাদের সকলকেই মৃত অবস্থায় আনা হয়েছিল।
পুলিশ এলাকাটি ঘিরে রেখে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। গুরুতর আহত ৬ জনের চিকিৎসা চলছে কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে।
অভিযোগ রয়েছে, হোটেলের ঢোকা-বেরোনোর পথ খুবই সঙ্কীর্ণ। হোটেলটি থেকে ৬০ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে অনেকেই অজ্ঞান হয়ে পড়েন।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল
বাংলাদেশের সঙ্গে গঠনমূলক ও ইতিবাচক সম্পর্ক চায় ভারত। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) নিয়মিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এ কথা জানিয়েছেন। এছাড়া বাংলাদেশের অতিরিক্ত জ্বালানির চাহিদা পূরণের আবেদনও ভারত খতিয়ে দেখছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য সফর সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে মুখপাত্র জানান, এ বিষয়ে নতুন কোনো তথ্য নেই এবং নতুন কোনো আপডেট পেলে তা জানানো হবে। পাশাপাশি তিনি জানান, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ভারত সফরের জন্য আন্তরিকভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
শেখ হাসিনাকে ফেরতের বিষয়ে বাংলাদেশের আহ্বান ভারত খতিয়ে দেখছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের অতিরিক্ত জ্বালানির চাহিদা পূরণের আবেদনটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এর আগে এক ব্রিফিংয়ে রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে একটি দ্বিপক্ষীয় সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছি। এর পাশাপাশি ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আউটরিচ সেশনে অংশ নেওয়ার জন্যও ভারতের তরফ থেকে তাকে সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এই আমন্ত্রণগুলো ইতিমধ্যে পৌঁছে দেয়া হয়েছে এবং এ বিষয়ে নতুন কোনো অগ্রগতি হলে তা পরবর্তী সময়ে জানিয়ে দেয়া হবে।’
একই ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশে জ্বালানি সরবরাহের বিষয়ে ভারতের মনোভাব তুলে ধরা হয়। বাংলাদেশে বিদ্যমান জ্বালানিসংকট এবং নতুন করে জ্বালানি সহায়তার অনুরোধ-সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই মুখপাত্র জানান, বাংলাদেশে জ্বালানি সরবরাহের বিষয়টিকেও ভারত ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করছে।
রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ‘আপনারা জানেন, ডিজেল সরবরাহের জন্য বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের একটি চলমান চুক্তি রয়েছে, যা এখনো অব্যাহত আছে। আর আপনারা যে অতিরিক্ত সরবরাহের অনুরোধের কথা বললেন, সেটি ভারতের অভ্যন্তরীণ চাহিদা, নিজেদের শোধন ক্ষমতা এবং দেশে ডিজেলের সার্বিক প্রাপ্যতার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে পর্যালোচনা করা হবে।’
অপরদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান স্পষ্ট করেছে সরকার। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি হওয়া প্রয়োজন। এ বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে।
সরকার বলছে, গত ৫ আগস্ট নয়াদিল্লিতে শেখ হাসিনার প্রকাশ্য সংবাদমাধ্যমে বক্তব্য দেয়ার ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য ভারত সফরকে ঘিরে বিদ্যমান পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে সফরের বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়ার আগে পারস্পরিক আস্থা ও অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করাকে গুরুত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, প্রতিবেশী দেশসহ অন্যান্য রাষ্ট্রের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ তার ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতি অব্যাহত রাখবে। সার্বভৌম সমতা, জাতীয় মর্যাদা, একে অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতেই এসব সম্পর্ক জোরদার করা হবে।
বাংলাদেশের অবস্থান অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় পরিবেশ ও পারস্পরিক আস্থা নিশ্চিত হওয়ার পরই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ এগিয়ে নেয়া হবে।
মক্কা চুক্তির মাধ্যমে গঠিত প্রতিরক্ষা জোট থেকে পরোক্ষভাবে লাভবান হতে পারে রাশিয়া। ছবি: এএফপি
ঐতিহাসিকভাবে রাশিয়া নিজেদের সুরক্ষিত রাখতে বিভিন্ন কৌশল নিয়েছে। এর একটি হলো সীমান্তবর্তী ‘বাফার স্টেট’ বা নিরপেক্ষ অঞ্চলের প্রতি সমর্থন বজায় রাখা। এই অঞ্চলগুলো সাধারণত রাশিয়া ও তাদের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষের মাঝখানে ছিল। ফলে সেগুলো প্রায়ই মস্কোর চেয়ে বরং তাদের প্রতিপক্ষের জন্য বেশি সমস্যা তৈরি করতো। ইউরোপে দীর্ঘদিন এমন বাফার স্টেটের ভূমিকায় ছিল ক্রিমিয়ান খানাত (বর্তমান ক্রিমিয়া)। সতোরো থেকে ১৮ শতকে চীন সীমান্তে এমন ভূমিকায় ছিল জুঙ্গার খানাত (বর্তমানে জিনজিয়াং প্রদেশ)। এ ধরনের বাফার স্টেট বজায় রাখাটা মস্কোর কৌশলগত নীতির একটি কার্যকর দিক হিসেবে আজও বহাল।
এই কৌশলের মূল লক্ষ্য হলো- আত্মরক্ষা ও বিবাদমান অঞ্চল দিয়ে প্রতিপক্ষকে বিপাকে ফেলা। অর্থাৎ, মস্কো যখন নিজের সীমান্তের কোনো অংশে পদক্ষেপ নেওয়ার সক্ষমতা হারিয়ে ফেলবে, তখন বাফার স্টেটগুলো প্রতিপক্ষের জন্য সমস্যা তৈরি করতে পারবে। এ থেকে রাশিয়া পরোক্ষভাবে লাভবান হবে।
বিশ্বে চলমান সংঘাতের প্রথম ফ্রন্ট বা যুদ্ধক্ষেত্রটি তৈরি হয়েছিল প্রায় ১২ বছর আগে। তখন ক্রিমিয়াকে ঘিরে রাশিয়া ও ইউক্রেন সংঘাতে জড়ায়। এটি পরে ২০২২ সালে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে রূপ নেয়। প্রথম ফ্রন্ট তৈরির পর পশ্চিমারা তাদের বিশ্বব্যাপী আধিপত্য টিকিয়ে রাখতে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইরানে আক্রমণ শুরু করে। এর মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় ফ্রন্ট তৈরি হয়েছে। প্রায় কাছাকাছি সময়ে পূর্ব এশিয়ায় তৃতীয় ফ্রন্ট তৈরির নমুনা দেখা যাচ্ছে। সেখানে মূল লক্ষ্য হতে পারে চীন।
একপক্ষে যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রবাহিনী এবং অন্যপক্ষে ইরান ও পরোক্ষ সমর্থকদের মধ্যকার শত্রুতা এখন এক দীর্ঘমেয়াদী সংঘাতে প্রবেশ করেছে। রাশিয়া এই ঘটনাপ্রবাহ খুব সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে। কারণ, ইউক্রেনীয় ফ্রন্টে তাদের বিপুল সামরিক বাহিনী মোতায়েন থাকায় মধ্যপ্রাচ্যে সরাসরি হস্তক্ষেপ করার ক্ষমতা আপাতত সীমিত।
এই অঞ্চলে মস্কোর অবস্থান দীর্ঘমেয়াদে কেমন হবে তা যখন অনিশ্চিত, তখনই বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো নিজেদের স্বার্থে একটি জোট গড়ে তুলেছে। সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের এই প্রতিরক্ষা জোট এরই মধ্যে ‘মুসলিম ন্যাটো’ নামে পরিচিতি পেয়েছে।
এই জোট মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক শৃঙ্খলা পুরোপুরি উল্টে দেবে না। কিন্তু তারপরও উদ্যোগটিকে খাটো করে দেখার সুযোগ নেই। এর সদস্যরা রাশিয়ার বন্ধুরাষ্ট্র ইরানের জন্য যেমন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে, তেমনি মস্কোর পশ্চিমা প্রতিপক্ষের জন্য আরও বেশি জটিলতা সৃষ্টিতে সক্ষম।
অঞ্চলটিতে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য ওয়াশিংটন ১৯৯১ সাল থেকে যে রাজনৈতিক শৃঙ্খলা তৈরি করেছে, তা ‘মুসলিম ন্যাটোর’ কারণে দুর্বল হয়ে যেতে পারে। কারণ, আঞ্চলিক পরাশক্তিগুলো এখন যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ভরসা না করে নিজেরাই নিরাপত্তা নিয়ে ভাবতে শুরু করেছে।
এখানকার আঞ্চলিক অস্থিরতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে একটি ধারণা প্রচলিত আছে। বলা হয়, ইউরোপ ও চীনে জ্বালানি সরবরাহকারী অঞ্চলে অস্থিরতা বজায় থাকলে তা পরোক্ষভাবে ওয়াশিংটনের পক্ষে কাজ করে। কিন্তু ওয়াশিংটন এখন নিজেই তাদের তৈরি ‘উন্মুক্ত বিশ্ব ব্যবস্থা’র কিছু অংশ পরিকল্পিতভাবে ভেঙে ফেলছে। এর কারণ হলো, অবাধ বৈশ্বিক বাণিজ্য ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা থেকে চীন ওয়াশিংটনের চেয়ে বেশি অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সুবিধা তুলে নিচ্ছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্র এখন মুক্ত বাণিজ্যের বৈশ্বিক কাঠামো বজায় রাখার চেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বি শক্তিগুলোকে (বিশেষ করে চীনকে) নিয়ন্ত্রণে রাখার ওপর বেশি অগ্রাধিকার দিতে শুরু করেছে।
এ অবস্থায় মার্কিন বলয় থেকে বেরিয়ে মক্কা চুক্তির মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদী সামরিক জোট গঠনের সম্ভাবনা বেশ কম। কারণ এই জোটের সদস্যদের অভিন্ন স্বার্থ মূলত রাজনৈতিক। তারা একে অপরের প্রভাব ও আঞ্চলিক কর্তৃত্বকে কাজে লাগিয়ে নিজ অবস্থান শক্ত করতে রাজি হলেও কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যুদ্ধ করার সম্ভাবনা কম।
ইরান যুদ্ধ থেকেই এর প্রমাণ পাওয়া যায়। সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে একটি দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা চুক্তি আছে। কিন্তু গত মার্চ মাসে ইরান যখন সৌদির ভূখণ্ডে হামলা চালায় তখন পাকিস্তানের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর প্রতিক্রিয়া আসেনি। অন্যদিকে তুরস্ক প্রতিনিয়ত ফিলিস্তিনিদের অধিকার নিয়ে কথা বললেও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া থেকে দূরে থাকছে।
কেবল সংহতি প্রকাশ বা ঘোষণা দিয়ে একটি টেকসই সামরিক জোট গড়ে তোলা যায় না। ইতিহাস বলছে, যৌথ প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা পরিচালনার জন্য জোটে অন্তত একটি প্রধান বা প্রভাবশালী পরাশক্তির উপস্থিতি আবশ্যক। বর্তমানে কেবল একটি জোট এখানে সফল। সেটি হলো- ন্যাটো। এই জোট গঠনের চুক্তি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র লন্ডন কিংবা প্যারিসের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় কোনো হস্তক্ষেপ করে না। এর বিনিময়ে তারা ইউরোপীয়দের কাছে থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নেতৃত্ব দেওয়ার মর্যাদা পেয়েছে।
পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে এ ধরনের কোনো ঐক্য নেই। দুই দেশের সরকারের অগ্রাধিকার ভিন্ন। ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার উদ্দেশ্য এবং ইরানের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গিতেও সুস্পষ্ট পার্থক্য আছে। সবচেয়ে বড় কথা এই দেশগুলোর কোনোটিই নিজেদের পররাষ্ট্রনীতিকে অন্য দেশের নেতৃত্বের অধীনে সঁপে দিতে রাজি নয়।
রাশিয়ার জন্য এই বিষয়টি স্বস্তিদায়ক। নতুন জোটের সদস্যরা চাইলে এককভাবে দক্ষিণ ককেশাস, মধ্য এশিয়া ও সামগ্রিক মুসলিম বিশ্বে মস্কোর জন্য সমস্যা তৈরি করতে পারত। কিন্তু মস্কোর স্বার্থের বিরুদ্ধে তাদের সমন্বিত হামলা চালানোর সম্ভাবনা খুবই কম।
এছাড়া, ইরানের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ ফ্রন্ট গঠনের সম্ভাবনাও কম। নিজেদের মধ্যকার মতবিরোধ, উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং একে অপরের সঙ্গে থাকা প্রতিযোগিতামূলক অংশীদারত্বও এখানে বাধা হয়ে দাঁড়াবে। ফলে মক্কা চুক্তিটি রাশিয়া ও ইরানের স্বার্থের জন্য হুমকি তৈরি করার চেয়ে বরং আমেরিকার কৌশলগত হিসাব-নিকাশকে আরও জটিল করে তুলবে।
জোটটি যখন আঞ্চলিক স্বাধীন নীতি গ্রহণ করতে শুরু করবে, তখন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে মধ্যপ্রাচ্যে একক রাজনৈতিক ব্যবস্থা চাপিয়ে দেওয়ার সক্ষমতা সীমিত হয়ে যাবে। তাই জোটের সদস্যদের বন্ধু বানানোর প্রয়োজন নেই রাশিয়ার। মস্কো ইউক্রেন ফ্রন্টে মনোযোগ দেওয়ার সময় নতুন জোটের সদস্যরা পশ্চিমাদের ব্যস্ত রাখতে পারলেই রাশিয়ার উদ্দেশ্য সফল হবে।
লেখক: তিমোফেই বোরদাচেভ, রাশিয়াভিত্তিক থিঙ্কট্যাঙ্ক ভালদাই ক্লাবের কর্মসূচি পরিচালক
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা তার বর্তমান মেয়াদে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গেছে। নতুন এক রয়টার্স/ইপসোস জরিপে দেখা গেছে, মাত্র ৩৩ শতাংশ মার্কিন নাগরিক ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনে সন্তুষ্ট। বিপরীতে ৬৪ শতাংশ তার কর্মকাণ্ডে অসন্তোষ জানিয়েছেন। সোমবার শেষ হওয়া চার দিনের এই জরিপের ফল প্রকাশ করেছে রয়টার্স।
এর আগে চলতি মাসের শুরুতে রয়টার্স/ইপসোসের জরিপে ট্রাম্পের অনুমোদনের হার ছিল ৩৫ শতাংশ। অর্থাৎ অল্প সময়ের ব্যবধানেই তার জনপ্রিয়তা আরও ২ শতাংশীয় পয়েন্ট কমেছে। বর্তমান মেয়াদে এটিই ট্রাম্পের সর্বনিম্ন অনুমোদনের হার। একই সঙ্গে এটি তার প্রথম মেয়াদে ২০১৭ সালের ডিসেম্বরের সর্বনিম্ন ৩৩ শতাংশের সঙ্গে মিলে গেছে।
জরিপের ফল বলছে, ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমার পেছনে অন্যতম বড় কারণ হয়ে উঠেছে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধ। অধিকাংশ মার্কিন নাগরিক মনে করছেন, এই সংঘাত দ্রুত শেষ হওয়ার সম্ভাবনা কম। জরিপে অংশ নেওয়া ৮০ শতাংশ মানুষ বলেছেন, ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সম্পৃক্ততা দীর্ঘ সময় ধরে চলতে পারে। মাত্র ১৬ শতাংশ মনে করেন, কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সংঘাত শেষ হয়ে যেতে পারে।
ইরান যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা শুধু ডেমোক্র্যাটদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। জরিপে ৮৭ শতাংশ ডেমোক্র্যাট এবং ৭১ শতাংশ রিপাবলিকান বলেছেন, ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততা দীর্ঘায়িত হবে বলে তারা মনে করেন। একই সঙ্গে মাত্র প্রতি পাঁচজনের একজন মনে করেন, এই যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সার্থক হয়েছে।
যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতেও। ইরান সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যে বড় ধরনের ব্যাঘাত তৈরি হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রলের দাম বেড়েছে। এতে মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে মার্কিন নাগরিকদের উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচনী প্রচারের সময় মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে না জড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। ইরানের সঙ্গে সংঘাত শুরুর পর তিনি শুরুতে যুদ্ধ কয়েক সপ্তাহের মধ্যে শেষ হবে বলে আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু সংঘাত প্রায় ছয় মাস ধরে চলায় সেই প্রতিশ্রুতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
অর্থনীতি নিয়েও ট্রাম্পের দলের জন্য নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। রয়টার্স/ইপসোসের সর্বশেষ জরিপে ৩৮ শতাংশ ভোটার বলেছেন, অর্থনীতি পরিচালনায় ডেমোক্র্যাটদের তারা বেশি বিশ্বাস করেন। বিপরীতে রিপাবলিকানদের পক্ষে মত দিয়েছেন ৩৫ শতাংশ। প্রায় এক দশকের মধ্যে এই প্রথম অর্থনীতি পরিচালনায় ডেমোক্র্যাটরা রিপাবলিকানদের ছাড়িয়ে গেলেন বলে রয়টার্স জানিয়েছে।
অভিবাসন ইস্যুতে অবশ্য রিপাবলিকানদের সামান্য এগিয়ে থাকা এখনো রয়েছে। জরিপে ৪০ শতাংশ নিবন্ধিত ভোটার বলেছেন, অভিবাসন নীতিতে রিপাবলিকানদের অবস্থান ভালো। ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে মত দিয়েছেন ৩৮ শতাংশ। তবে এই ব্যবধান মাত্র ২ শতাংশীয় পয়েন্ট, যেখানে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে রিপাবলিকানরা এ ইস্যুতে ২৬ শতাংশীয় পয়েন্টে এগিয়ে ছিল।
এই জনমত জরিপের ফল সামনে এসেছে নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে। প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ইতিমধ্যেই খুবই কম। যুদ্ধ, জ্বালানির দাম ও অর্থনীতি নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষ আগামী নির্বাচনে ট্রাম্পের দলকে চাপে ফেলতে পারে। রয়টার্স/ইপসোসের এই জরিপ অনলাইনে পরিচালিত হয়েছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকার ১ হাজার ১৬৬ জন প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক অংশ নেন। জরিপটির ভুলের সীমা প্রায় ৩ শতাংশীয় পয়েন্ট।
পাকিস্তানে আফগান শিক্ষার্থীদের মেডিকেল শিক্ষা স্থগিত
পাকিস্তানে আফগান শিক্ষার্থীদের মেডিকেল ও ডেন্টাল পড়ালেখা স্থগিতের নির্দেশ দিয়েছে দেশটির শিক্ষা নিয়ন্ত্রক সংস্থা ‘পাকিস্তান মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল’ (পিএমডিসি) । পাশাপাশি বর্তমানে অধ্যয়নরত আফগান শিক্ষার্থীদের নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পিএমডিসির প্রকাশিত এক দাপ্তরিক চিঠির বরাতে আফগান বার্তা সংস্থা খামা প্রেস জানিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত পাকিস্তানের সব সরকারি ও বেসরকারি চিকিৎসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ আদেশ কার্যকর থাকবে।
সংস্থাটির পক্ষ থেকে বলা হয়, সরকারের উচ্চপর্যায়ের জাতীয় নীতিগত নির্দেশনা এবং গত ৩০ জুলাই অনুষ্ঠিত পিএমডিসির বৈঠকের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নতুন এই নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আফগান শিক্ষার্থীদের জন্য চিকিৎসাবিদ্যা ও দন্ত চিকিৎসায় নতুন ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে।
পাশাপাশি ইতোমধ্যে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা স্থগিত রেখে আফগানিস্তানে ফিরে যেতে বলা হয়েছে। পড়াশোনা চলাকালে পাকিস্তানের এক মেডিকেল বা ডেন্টাল প্রতিষ্ঠান থেকে অন্য প্রতিষ্ঠানে বদলি বা স্থানান্তরের সুবিধাও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
অন্যদিকে যেসব আফগান শিক্ষার্থী ইতিমধ্যে কোর্স শেষ করেছেন, তাদের ডিগ্রি অর্জন এবং পাকিস্তান ছাড়ার বিষয়টি প্রামাণিকভাবে নথিবদ্ধ ও নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল এবং ডেন্টাল বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজকে তাদের প্রতিষ্ঠানে পড়া আফগান শিক্ষার্থীদের যাবতীয় তথ্য আগামী তিন দিনের মধ্যে পিএমডিসির কাছে জমা দিতে বলা হয়েছে।
নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তথ্য জমা দিতে ব্যর্থ হলে, বিলম্ব করলে বা তথ্য গোপন রাখা হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে পিএমডিসি।
পাকিস্তানের মেডিকেল ও ডেন্টাল শিক্ষার মান ও পেশাগত নিবন্ধন নিয়ন্ত্রণ করে থাকে সংবিধিবদ্ধ সংস্থা পিএমডিসি। সংস্থাটির এই আকস্মিক পদক্ষেপে দেশটিতে অবস্থানরত আফগান শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা শিক্ষা অর্জনের পথ বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।