জনগণের সঙ্গে ‘গভীর বিশ্বাসঘাতকতা’ করছে ইরান

  • প্রকাশ : রবিবার ১১ জানুয়ারি, ২০২৬, সময় : ২:৫৫ এএম

ইরান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে লেবাননের হিজবুল্লাহ ও ইরাকের সশস্ত্র গোষ্ঠীর যোদ্ধাদের ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ ইরানি জনগণের সঙ্গে ‘গভীর বিশ্বাসঘাতকতা’। খবর শাফাক নিউজের।

শনিবার (১০ জানুয়ারি) ফার্সি ভাষায় দেওয়া এক বিবৃতিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, তেহরান বিক্ষোভকারীদের দমাতে সন্ত্রাসী প্রক্সি বাহিনী মোতায়েন করেছে বলে প্রতিবেদন পাওয়া যাচ্ছে। এতে বলা হয়, ইরানের জনগণের অর্থ থেকে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ব্যয় করে এসব গোষ্ঠীকে ব্যবহার করা হচ্ছে।

পৃথক এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মন্তব্য প্রত্যাখ্যান করে। খামেনি বলেছিলেন, বিক্ষোভকারীরা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে খুশি করতেই রাষ্ট্রীয় স্থাপনা ধ্বংস করছে। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র জানায়, প্রকৃত উদ্বেগের বিষয় হলো, ইরানের জনগণ ৪৭ বছরের মিথ্যা ও সরকারের ব্যর্থতা বুঝে ফেলেছে।

এ অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত ইরান, হিজবুল্লাহ বা ইরাকের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

গত ২৮ ডিসেম্বর তেহরানের গ্র্যান্ড বাজার থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ দ্রুত দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। রিয়ালের বড় দরপতন, উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক সংকট এর মূল কারণ। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত অন্তত ৫১ জন নিহত এবং ২ হাজার ২০০ জনের বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে।

এদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান নিরাপত্তা বাহিনীকে সংযম দেখানোর আহ্বান জানিয়েছেন। একইসঙ্গে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের অধিকার স্বীকার করে আলোচনার পথ খোলা রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।



সর্বশেষ সব খবর

ফ্লাইদুবাইয়ের সেই পাইলট

আমি কোনো যাত্রীকে মরতে দিতে চাইনি


স্মিত মাচ্ছারের সঙ্গে শুক্রবার ভিডিও কলে কথা বলেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি

  • প্রকাশ : শনিবার ০৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:৫৭ এএম

ককপিটে সহপাইলটের প্রাণঘাতী আক্রমণের শিকার হয়েও শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে গিয়েছিলেন ফ্লাইদুবাই ফ্লাইটের সেই সাহসী ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছার। আকাশে ঘটে যাওয়া সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে তিনি জানান, কেবল নিজের জন্য নয়, উড়োজাহাজে থাকা অন্য সব যাত্রীকে তিনি কিছুতেই মরতে দিতে পারেন না। গতকাল শুক্রবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে এক ভিডিও কলে কথা বলার সময় স্মিত মচ্ছার এভাবেই নিজের প্রথম প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেন।


মোদিকে সেই ভয়াবহ মুহূর্তের বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ওই সময়ে আমি নিজের জীবনের জন্য লড়াই করছিলাম। আমি এতটাই জখম হয়েছিলাম যে, মেঝেতে পড়ে গিয়েছিলাম। তখন এক মুহূর্তের জন্য আমার মনে হয়েছিল যে, আমি যদি কিছু না করি তবে অন্য সবাই মারা যাবে। আমি ১৭ বছর ধরে বিমান চালাচ্ছি এবং গত ১১ বছর ধরে ক্যাপ্টেন হিসেবে কাজ করছি। যখন আমি নিচে পড়ে গিয়েছিলাম, তখনও আমি অনুভব করতে পারছিলাম যে উড়োজাহাজটি খাড়াভাবে নিচের দিকে নামছে। তিনি বলেন, আমি আহত অবস্থায় মেঝেতে পড়ে ছিলাম, কিন্তু ভেতর থেকে ককপিটের দরজা খোলার জন্য শেষবারের মতো একবার চেষ্টা করার কথা নিজেকে বললাম।  


ফ্লাইদুবাই ফ্লাইটের ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছার


‘আক্রমণ’ নিয়ে সৌদির প্রাথমিক তদন্ত 


সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহে ফ্লাইদুবাইয়ের ফ্লাইটের জরুরি অবতরণের প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, ক্যাপ্টেনের ওপর সহকারী পাইলট (কো-পাইলট) শারীরিকভাবে আক্রমণ করেছেন। এতে দুজনেই আহত হয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার মন্ত্রণালয় জানায়, দুবাই থেকে তেল আবিবগামী এই ফ্লাইটের প্রাথমিক তদন্ত চালিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। ওই তদন্তে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) একটি নিরাপত্তা দলও অংশ নেয়।


‘হামলাকারী ইসলামপন্থি উগ্র মতাদর্শে দীক্ষিত’


উড়োজাহাজের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করা ব্যক্তি ‘ইসলামপন্থি চরমপন্থায় দীক্ষিত’ ছিলেন বলে দাবি করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি বলেছেন, তদন্তের প্রাথমিক তথ্য প্রমাণ থেকে এমনটাই ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। একই সঙ্গে হামলাকারী উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত করার চেষ্টা করেছিলেন বলেও ধারণা করা হচ্ছে। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু বলেন, হামলাকারী ‘খুব সম্ভবত’ উড়োজাহাজটি ভূপাতিত করতে চেয়েছিলেন। সন্দেহভাজন ব্যক্তি ওমানের।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ০৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:১৫ এএম

ভারতের কেরালার ত্রিসুরে স্বামীর সঙ্গে ঘুরতে যাওয়ায় এক তরুণীকে অপহরণ করে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে এক নারীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ওই নারীর স্বামীকে মারধর এবং তরুণীকে ধর্ষণের ঘটনায় জড়িত পাঁচজনসহ মোট ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।


প্রতিবেদনে বলা হয়, গত মাসে ওই তরুণী তার বিবাহিত পুরুষ বন্ধুর সঙ্গে ঘুরতে যান। তারা একটি হোটেলে অবস্থান করছিলেন। সেখানে পাঁচ ব্যক্তি নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে তাদের কাছে যান। পরে দুজনকে বেঁধে একটি গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।


গাড়িতে ওই ব্যক্তিকে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তাকে তামিলনাড়ুর একটি হাসপাতালের বাইরে ফেলে যায় অভিযুক্তরা। মারধরের কারণে তার হাত ও পা ভেঙে গেছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। অন্যদিকে, তরুণীকে একটি পৃথক গাড়িতে করে নিয়ে যায় অভিযুক্তদের দুজন। পরে তাকে গণধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ।


পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, ওই ব্যক্তির স্ত্রী তার স্বামীর ফোনের অবস্থান শনাক্ত করে তার গতিবিধি জানতে পারেন। পরে সেই তথ্য ব্যবহার করে অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করতে বলেন। স্বামীর সঙ্গে ওই তরুণীর ঘোরাফেরাকে কেন্দ্র করে ক্ষোভ থেকেই তিনি এ ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে তদন্তে জানা গেছে।


ঘটনার সঙ্গে জড়িত পাঁচজনকে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি ওই ব্যক্তির স্ত্রীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুরো ঘটনায় আরও তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।


সূত্র: এনডিটিভি

সর্বশেষ সব খবর

ইউএন উইমেনের প্রতিবেদন তথ্যমতে বিশ্বে ২০ কোটি ৮০ লাখ নারী ও কন্যাশিশু খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে

  • প্রকাশ : শনিবার ০৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:৪৭ এএম

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ থাকায় বিশ্বজুড়ে খাদ্য সংকটের আভাস দিয়েছে জাতিসংঘ। জাতিসংঘের লিঙ্গসমতা ও নারী ক্ষমতায়নবিষয়ক সংস্থার (ইউএন উইমেন) প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, তাদের সমীক্ষা চালানো ২৮টি দেশে ইতোমধ্যে প্রায় ২০ কোটি ৮০ লাখ নারী ও কন্যাশিশু খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে।


বছরের শেষ নাগাদ নতুন করে আরও দুই কোটি ২০ লাখ মানুষ খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার মুখোমুখি হতে পারে। নতুন যুক্ত হতে যাওয়া এই জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি, অর্থাৎ ৫৩ শতাংশই (এক কোটি ১৭ লাখ) নারী ও কন্যাশিশু।


ইউএন উইমেন জানায়, হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় জ্বালানি, সার ও পরিবহন খরচ বাড়ছে, যা বিশ্বজুড়ে খাদ্যের মূল্য বাড়িয়ে দিচ্ছে। সংকটে জর্জরিত দক্ষিণ সুদান, সুদান, হাইতি, ইয়েমেন ও ফিলিস্তিনের মতো দেশগুলোতে এই ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। 


দক্ষিণ সুদানের মোট নারী জনসংখ্যার প্রায় ১৪ শতাংশ, অর্থাৎ প্রতি সাতজনে একজন নতুন করে খাদ্য সংকটে পড়তে পারেন। লেবাননে এই হার প্রায় ৪ শতাংশ। এ ছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর মধ্যে নারীর অনুপাত আফগানিস্তানে ৬০, ইয়েমেনে ৫৭ শতাংশের বেশি ও সুদানে ৫৬ শতাংশ।

সর্বশেষ সব খবর

যুক্তরাষ্ট্রে বেশ কিছু আসনে একঝাঁক প্রভাবশালী ডেমোক্র্যাট প্রার্থী এখন রিপাবলিকানদের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে

  • প্রকাশ : শনিবার ০৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:১৬ এএম

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্রমহ্রাসমান জনপ্রিয়তাই রিপাবলিকানদের একমাত্র দুশ্চিন্তা নয়। বেশ কিছু আসনে একঝাঁক প্রভাবশালী ডেমোক্র্যাট প্রার্থী এখন তাদের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে যে রাজ্যগুলোকে রিপাবলিকানদের ঘাঁটি মনে করা হতো, সেখানেও তৈরি হয়েছে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা।


সিএনএনের বিশ্লেষণে বলা হচ্ছে, একঝাঁক নতুন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী দলের গতানুগতিক ধারার বাইরে গিয়ে নির্বাচনী ময়দানে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন। ডেমোক্র্যাটদের যেসব দুর্বলতার কারণে এতদিন ট্রাম্প সুবিধা পাচ্ছিলেন, নতুন প্রার্থীরা সেগুলো দক্ষতার সঙ্গে কাটিয়ে উঠেছেন। ফলে প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার পাশাপাশি ডেমোক্র্যাটদের সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার সম্ভাবনাও উজ্জ্বল হচ্ছে।


নতুন ধাঁচের প্রার্থী বাছাই


সাম্প্রতিক জরিপ বলছে, নর্থ ক্যারোলাইনার সাবেক গভর্নর রয় কুপার স্বতন্ত্র ভোটারদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয়। এমনকি গ্রামীণ এলাকাগুলোতেও তিনি রিপাবলিকানদের ভোটব্যাংকে ভাগ বসাচ্ছেন। সবচেয়ে চমকপ্রদ ঘটনা ঘটছে আইওয়ায়। রাজ্যটিতে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলেছেন আইনপ্রণেতা জশ টুরেক। অথচ মাত্র দুই বছর আগেই এই রাজ্যে ট্রাম্প ১৩ পয়েন্টের বড় ব্যবধানে জিতেছিলেন। জর্জিয়ায় জন অসফ ট্রাম্পের সমালোচনা করে নিজস্ব পরিচিতি তৈরি করেছেন। তাঁর সাফল্য ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী হিসেবে তাঁর নাম আলোচনায় নিয়ে এসেছে। 


টেক্সাসে জেমস তালারিকো অর্থনৈতিক জনতুষ্টিবাদ ও ধর্মীয় বিশ্বাসের মিশ্রণ ঘটিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন, যা ৩০ বছর পর সেখানে ডেমোক্র্যাটদের জয়ের স্বপ্ন দেখাচ্ছে। ২০২৪ সালের নির্বাচনে ওহাইওতে সহজেই জিতেছিলেন ট্রাম্প। তবে এবার সাবেক সিনেটর শেরড এই রাজ্যে এগিয়ে আছেন। 


এই প্রার্থীরা ট্রাম্পের অজনপ্রিয়তা এবং জাতীয় অর্থনৈতিক অস্থিরতার সুযোগ নেওয়ার পাশাপাশি দলের ভাবমূর্তি উন্নত করায় জোর দিচ্ছেন। তবে জরিপ বলছে, দেশে এখনও দল হিসেবে ডেমোক্র্যাট বা রিপাবলিকান কারও জনপ্রিয়তাই খুব বেশি নয়।


রিপাবলিকানদের ভুল প্রার্থী নির্বাচনও ডেমোক্র্যাটদের বাড়তি সুযোগ দিচ্ছে। জর্জিয়ায় মাইক কলিন্স এবং টেক্সাসে বিতর্কিত অ্যাটর্নি জেনারেল কেন প্যাক্সটনকে ট্রাম্প সমর্থন দিলেও তারা ভালো করতে পারছেন না। নর্থ ক্যারোলাইনায় মাইকেল হোয়াটলি পরিচিত মুখ হলেও, কুপারের সমকক্ষ হয়ে উঠতে পারছেন না তিনি। মেইনের বহুদিনের রিপাবলিকান সিনেটর সুসান কলিন্সও এখন কঠিন লড়াইয়ের মুখে। কারণ, ট্রাম্পের বিতর্কিত সিদ্ধান্তে সমর্থন দেওয়ায় তাঁর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে।


জরিপ অনুযায়ী টেক্সাস ও আইওয়ায় তীব্র লড়াই চলছে। আর জর্জিয়া, নর্থ ক্যারোলাইনা ও ওহাইওতে ডেমোক্র্যাটরা কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে। তবে শেষ মুহূর্তে ব্যবধান কমে আসারও ইতিহাস রয়েছে। তা সত্ত্বেও ডেমোক্র্যাটদের আত্মবিশ্বাসের বড় কারণ ট্রাম্পের কমতে থাকা জনপ্রিয়তা এবং জীবনযাত্রার উচ্চ ব্যয় নিয়ে মানুষের ক্ষোভ। রাজনীতি বিশেষজ্ঞ মাইকেল বিটজারের মতে, ক্ষমতাসীন দলের প্রতি জনগণের অসন্তোষের প্রভাব সরাসরি প্রার্থীদের ওপর পড়ে।

সর্বশেষ সব খবর

ডিজেল রপ্তানি বন্ধ করার পরিকল্পনার কথা জানান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

  • প্রকাশ : শনিবার ০৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:০৪ এএম

বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ডিজেল রপ্তানি বন্ধ করার কথা ভাবছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ অবস্থায় ইউরোপীয় দেশগুলোকে নিজেদের কিছু মজুত ডিজেল ছেড়ে দেওয়ার জন্য বলতে পারেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টও ইউরোপকে অবিলম্বে মজুত থেকে ডিজেল ছাড়ার আহ্বান জানিয়েছেন।


বেসেন্ট বলেছেন, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে ‘আমেরিকান কৃষক, ট্রাকচালক ও ব্যবসায়ীদের’-এর বোঝা বহন করতে দেওয়া উচিত নয়। ইরান যুদ্ধের কারণে ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি পাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র রপ্তানি সীমিত করার হুমকি দিয়েছে। নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে মার্কিন ভোটারদের কাছেও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। গত বৃহস্পতিবার ইউরোপীয় অংশীদারদের সঙ্গে সম্ভাব্য ডিজেল রপ্তানি নিষেধাজ্ঞার প্রতিক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করেছে যুক্তরাজ্য।


যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ডিজেল সরবরাহকারী দেশ। তারা প্রতিদিন ১২ থেকে ১৫ লাখ ব্যারেল ডিজেল রপ্তানি করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র রপ্তানি বন্ধ করলে বিশ্বের অন্যান্য দেশেও ডিজেলের দামে আরও চাপ তৈরি হতে পারে। 


বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম কমাতে জরুরি মজুত থেকে ডিজেল ছাড়ার জন্য ফ্রান্স ও জার্মানিকে চাপ দিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। মজুত না ছাড়লে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ডিজেল রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে। আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তিন ব্যক্তির বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স।


ইরান যুদ্ধ এবং ইউক্রেনের হামলার কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে। এতে দামও বেড়েছে। রয়টার্স বলছে, ইউরোপের ওপর চাপ বাড়াতে ওয়াশিংটনের এই উদ্যোগকে নতুন পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া পোস্টে বেসেন্ট বলেন, ইউরোপীয় অংশীদারদের প্রতিশ্রুতি পূরণের কাজ দ্রুততর করা এবং চলমান সরবরাহ ব্যবস্থার বিঘ্ন মোকাবিলায় অতিরিক্ত সরবরাহ অবিলম্বে উন্মুক্ত করা উচিত।


নভেম্বরের নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, তা নির্ধারিত হবে। প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট– দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার প্রত্যাশায় রিপাবলিকানদের হয়ে ট্রাম্পের যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রচারে যাওয়ার কথা আছে। যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ডিজেল সরবরাহকারী। দেশটি প্রতিদিন ১২ থেকে ১৫ লাখ ব্যারেল ডিজেল রপ্তানি করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র রপ্তানি বন্ধ করলে বিশ্বের অন্যান্য দেশেও ডিজেলের দামে আরও চাপ তৈরি হতে পারে। 


ফেব্রুয়ারিতে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল আগ্রাসন শুরুর পর বিশ্বজুড়ে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বেড়েছে। গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তেলজাত পণ্যের দাম আরও বেড়েছে।


পেট্রোলের তুলনায় ডিজেল পরিশোধন করা কঠিন। আবার পরিবহন ও কৃষি খাতে ব্যাপক ব্যবহারের কারণে ডিজেলের চাহিদা কমানোও কঠিন। ডিজেলের জন্য যুক্তরাজ্য অনেকটাই আমদানিনির্ভর। দেশটির চারটি শোধনাগার অভ্যন্তরীণ চাহিদার তুলনায় বেশি পেট্রোল উৎপাদন করতে পারে। 

সর্বশেষ সব খবর

আটককৃতদের বাসে করে সরিয়ে নেওয়া হয়

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৮:০৭ পিএম

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভকে ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে দিল্লি পুলিশ। বিক্ষোভের অনুমতি না দিলেও শুক্রবারের (২ অক্টোবর) কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে প্রায় ৪ হাজার পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।


দিল্লি পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, জেলা পুলিশ, রিজার্ভ ফোর্স, র‍্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (আরএএফ) এবং অন্যান্য আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। নিরাপত্তার জন্য কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর (সিএপিএফ) ২০ কোম্পানিকেও দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। দ্য ওয়্যারের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে এ তথ্য।


শুক্রবার দিল্লি মেট্রো রেল করপোরেশন (ডিএমআরসি) জানিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত ১১টি মেট্রো স্টেশনের প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ বন্ধ থাকবে। এগুলো হলো- জনপথ, প্যাটেল চক, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট, রাজীব চক, সেবা তীর্থ, মাণ্ডি হাউস, লোক কল্যাণ মার্গ, আইএনএ, চাওরি বাজার, রামকৃষ্ণ আশ্রম মার্গ ও নিউ দিল্লি। তবে রাজীব চক, মাণ্ডি হাউস, আইএনএ, নিউ দিল্লি ও সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট স্টেশনে আন্তঃলাইন পরিবর্তনের সুযোগ রাখা হয়েছে।


পরে বরখাম্বা রোড মেট্রো স্টেশনের প্রবেশ ও বের হওয়ার পথও বন্ধ করা হয়। ফলে বিক্ষোভস্থলের আশপাশে মোট ১২টি মেট্রো স্টেশনে প্রবেশ-প্রস্থান বন্ধ হয়েছে।


এদিকে দিল্লি পুলিশ বৃহস্পতিবার জানিয়েছিল, চলতি সপ্তাহে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে যন্তর মন্তরে কোনো সংগঠনকে বিক্ষোভের অনুমতি দেয়া হয়নি। তবে অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (এআইএসএ) শুক্রবার সকাল ১১টায় সেখানে বিক্ষোভের কর্মসূচি ঘোষণা করে। ২৮ সেপ্টেম্বর এআইএসএর সভাপতি নেহা বোরার নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় কর্মসূচির বিষয়ে চিঠিও জমা দিয়েছিল।


ইন্ডিয়ান ইয়ুথ কংগ্রেসও যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের অনুমতি চেয়েছিল। তবে তাদেরও অনুমতি দেয়া হয়নি। পুলিশ আশঙ্কা করছে, যন্তর মন্তরে বড় সংখ্যায় বিক্ষোভকারী জড়ো হতে পারেন। এ কারণে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে অতিরিক্ত বাহিনী চাওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

নয়াদিল্লিতে আটকের পর নরেন্দ্র মোদির ছবি হাতে স্লোগান দেন বিক্ষোভকারীরা

যন্তর মন্তর ও আশপাশের এলাকায় একাধিক স্তরের ব্যারিকেড বসানো হয়েছে। টলস্টয় মার্গ, জনপথ রোড, সংসদ মার্গ হয়ে যন্তর মন্তর পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় ব্যারিকেড দেয়া হয়েছে। বিক্ষোভস্থলের দুই দিক- টলস্টয় মার্গ ও কেরালা ভবন দিয়েও প্রবেশ বন্ধ করা হয়েছে। অশোকা রোডের কাছেও বসানো হয়েছে ব্যারিকেড।


এ বিক্ষোভে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি তোলা হয়েছে। আয়োজকদের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের বিশেষ নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া এবং নির্বাচন পরিচালনায় অনিয়ম হয়েছে।


চলতি বছর দিল্লিতে বিক্ষোভের কারণে চতুর্থবারের মতো গণপরিবহন ও সড়ক ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করা হলো। গত মাসে রাজধানীতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের সময় ১৭টি মেট্রো স্টেশন বন্ধের ঘটনায় সুপ্রিম কোর্ট কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে নোটিশ পাঠায়।



সর্বশেষ সব খবর