মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি : সংগৃহীত
সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে এক বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, আমরা না থাকলে, এখন তোমরা সবাই জার্মান ভাষায় কথা বলতে।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জার্মান ভাষাই সুইজারল্যান্ডের চারটি সরকারি ভাষার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়। তবে ব্রাসেলস থেকে বার্লিন ও প্যারিসসহ ইউরোপের বহু রাজধানীতে তার এই বক্তব্যকে অপমানজনক, আধিপত্যবাদী ও তথ্যগতভাবে ভুল বলে মনে করা হচ্ছে।
ভাষণে ট্রাম্প আবারও দাবি করেন, ইউরোপ ভুল পথে এগোচ্ছে। এই বক্তব্য তিনি আগেও বহুবার দিয়েছেন। তবে ইউরোপের মাটিতে দাঁড়িয়ে মিত্র ও বন্ধুদেশগুলোর সামনে এমন মন্তব্যের ফলে ভিন্ন ও আরও তীব্র প্রভাব পড়তে পারে।
ফোরাম শেষে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, তিনি ইউরোপের আটটি দেশের ওপর আরোপের হুমকি দেওয়া নতুন শুল্ক প্রত্যাহার করছেন। তিনি বলেন, ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটের সঙ্গে বৈঠকের পর গ্রিনল্যান্ড ও পুরো আর্কটিক অঞ্চল নিয়ে একটি ‘চুক্তির কাঠামো’ তৈরি হয়েছে।
বিবিসি জানিয়েছে, ট্রাম্পের এই পরিকল্পনা কীভাবে গ্রিনল্যান্ডের ওপর সরাসরি মালিকানার ট্রাম্পের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করবে, তা স্পষ্ট নয়। তার প্রস্তাবিত ১০ শতাংশ শুল্ক আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়ার কথা ছিল।
ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লক্কে রাসমুসেন কোপেনহেগেনে সাংবাদিকদের বলেন, এই ভাষণের পর পরিষ্কার যে প্রেসিডেন্টের উচ্চাকাঙ্ক্ষা এখনও অটুট। তিনি সামরিক শক্তি ব্যবহার না করার বক্তব্যকে আলাদাভাবে ‘ইতিবাচক’ বললেও সামগ্রিকভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
ন্যাটোর এক মুখপাত্র জানান, ডেনমার্ক, গ্রিনল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনা চলবে। এর লক্ষ্য হবে গ্রিনল্যান্ডে রাশিয়া ও চীনের কোনো ধরনের অর্থনৈতিক বা সামরিক উপস্থিতি ঠেকানো। তবে আলোচনার সময়সূচি বা স্থান এখনও নির্ধারিত হয়নি। ট্রাম্প জানিয়েছেন, এই আলোচনায় অংশ নিতে তিনি ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং দূত স্টিভ উইটকফকে দায়িত্ব দিয়েছেন।
এর আগে দাভোসে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেন, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র কোনোভাবেই সামরিক শক্তি ব্যবহার করবে না। অনেকে মনে করেছিল আমি শক্তি প্রয়োগ করব, কিন্তু আমি তা করব না। আমি বলপ্রয়োগ চাই না।
ট্রাম্পের এই অবস্থান পরিবর্তনের পর যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে। ওয়াল স্ট্রিটে এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক দুই মাসের মধ্যে সবচেয়ে বড় একদিনের উত্থান ঘটেছে। তবে ইউরোপীয় কূটনীতিকরা বলছেন, ট্রাম্পের সুর নরম হওয়ায় উত্তেজনা কিছুটা কমলেও গ্রিনল্যান্ডের মালিকানা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে মূল বিরোধ এখনো মীমাংসিত হয়নি। গ্রিনল্যান্ডের সরকার এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।
গতকাল বুধবার বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি আবারও গ্রিনল্যান্ড দখলের উচ্চাকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেছেন।
বক্তব্যে গ্রিনল্যান্ডের ইতিহাস বিকৃত করে কথা বলেছেন ট্রাম্প। তিনি পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোকে আক্রমণ করেছেন এবং অর্থনীতি ও নিজের রেকর্ড নিয়ে পুরোনো কিছু মিথ্যা তথ্যের পুনরাবৃত্তি করেছেন।
এখানে ট্রাম্পের বক্তব্যের তথ্য-যাচাই তুলে ধরা হলো।
ট্রাম্প যা বলেছেন
‘যুদ্ধের পর আমরা ডেনমার্কের কাছে গ্রিনল্যান্ড দ্বীপটি ফিরিয়ে দিয়েছিলাম। এটি অত্যন্ত বোকামি ছিল; কিন্তু আমরা তা করেছি। আমরা এটি ফিরিয়ে দিয়েছি।’
ট্রাম্পের এ বক্তব্য বিভ্রান্তিকর। এখানে তিনি সম্ভবত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্কের মধ্যে একটি প্রতিরক্ষা চুক্তির কথা বোঝাচ্ছিলেন; কিন্তু সেই চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রকে গ্রিনল্যান্ডের ওপর সার্বভৌমত্ব বা নিয়ন্ত্রণ দেয়নি।
১৯৪১ সালে নাৎসিরা ডেনমার্ক আক্রমণের পর যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ডেনিশ রাষ্ট্রদূত এ চুক্তি করেন। চুক্তিতে গ্রিনল্যান্ডকে রক্ষার বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রকে সেখানে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের অধিকার দেওয়া হয়।
স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির ইতিহাসের অধ্যাপক স্টিভেন প্রেস বলেন, ‘চুক্তিটি আইনিভাবে নড়বড়ে ছিল। কারণ, এতে যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ডেনিশ রাষ্ট্রদূত ছাড়া ডেনমার্ক রাষ্ট্রের কোনো অংশগ্রহণ ছিল না। ওই রাষ্ট্রদূত মূলত একটি নির্বাসিত সরকার হিসেবে কাজ করছিলেন।’
কোপেনহেগেনের ডেনিশ ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের গবেষক মিকেল রুঞ্জ ওলেসেন বলেছেন, ওই রাষ্ট্রদূত একতরফাভাবে চুক্তিটি করলেও তিনি নিশ্চিতভাবেই দ্বীপটি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করেননি। তিনি শুধু সেখানে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের অধিকার দিয়েছিলেন।
চুক্তিতে গ্রিনল্যান্ডের ওপর ডেনমার্কের সার্বভৌমত্বের কথা একাধিকবার উল্লেখ আছে। সেখানে ডেনমার্ককে দ্বীপটির মাতৃভূমি বলা হয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র সরকার গ্রিনল্যান্ডের ওপর ডেনমার্কের সার্বভৌমত্বের প্রতি স্বীকৃতি ও সম্মানের কথা পুনর্ব্যক্ত করছে।
ওলেসেন আরও বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষে যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ড দখল করার সিদ্ধান্ত নিলে ডেনমার্কের কিছুই করার থাকত না; কিন্তু এর কোনো আইনি ভিত্তি থাকত না।
অধ্যাপক স্টিভেন প্রেস বলেন, ‘ট্রাম্পের বক্তব্য তখনই সঠিক বলে গণ্য হতো, ‘যদি আমরা আন্তর্জাতিক চুক্তি বা জনমতের চেয়ে নিছক পেশিশক্তিকেই সার্বভৌমত্বের প্রধান মাপকাঠি হিসেবে বিশ্বাস করতাম।’
কিন্তু অধ্যাপক প্রেস বলেন, ‘জোর যার মুল্লুক তার—এমন পেশিশক্তির রাজনীতির বাইরে গ্রিনল্যান্ড দখল করা কিংবা এর ওপর সার্বভৌমত্ব দাবি করার কোনো আইনি অধিকার যুক্তরাষ্ট্রের ছিল না।’
১৯৫১ সালেও তৎকালীন ট্রুম্যান প্রশাসন গ্রিনল্যান্ড কেনার চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে একটি সামরিক চুক্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র আবার দ্বীপটির ওপর ডেনমার্কের সার্বভৌমত্ব মেনে নিতে বাধ্য হয়, যার বিনিময়ে তারা সেখানে কেবল সামরিক ঘাঁটি তৈরির সুযোগ পায়।
অধ্যাপক প্রেস বলেন, গ্রিনল্যান্ডের ওপর ডেনমার্কের সার্বভৌমত্বই সেখানে অতীত ও বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতির আইনি ভিত্তি দিয়েছে।
ট্রাম্প যা বলেছেন
‘আমি (ক্ষমতায়) আসার আগ পর্যন্ত ন্যাটোর সদস্যদেশগুলোর (প্রতিরক্ষা খাতে জিডিপির) ২ শতাংশ ব্যয় করার কথা ছিল; কিন্তু তারা তা করত না। এমনকি বেশির ভাগ দেশ কোনো অর্থ ব্যয় করত না। বলতে গেলে ন্যাটোর শতভাগ ব্যয় যুক্তরাষ্ট্রকেই বহন করতে হতো। আমি সেটি বন্ধ করেছি। আমি বলেছি, এটা অন্যায্য। তবে সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, আমি ন্যাটোর দেশগুলোকে ৫ শতাংশ ব্যয় করতে রাজি করিয়েছি এবং এখন তারা তা দিচ্ছে।’
ট্রাম্পের এই দাবিও বিভ্রান্তিকর। কয়েক বছর ধরেই তিনি ন্যাটোর সদস্যদেশগুলোর সামরিক ব্যয়ের বিষয়টি ভুলভাবে উপস্থাপন করে আসছেন। মূলত সদস্যদেশগুলো তাদের জাতীয় আয়ের ভিত্তিতে সরাসরি এই জোটে অর্থ দিয়ে থাকে। এ ছাড়া দেশগুলো তাদের জিডিপির একটি নির্দিষ্ট অংশ নিজেদের সামরিক খাতে ব্যয় করতেও রাজি আছে।
প্রথম মেয়াদে ট্রাম্পের চাপের কারণে ন্যাটোর সাধারণ তহবিলে যুক্তরাষ্ট্রের অবদান কিছুটা কমেছে। আগে এই জোটের কেন্দ্রীয় বাজেটের প্রায় ২২ শতাংশ দিত যুক্তরাষ্ট্র, যা ২০১৯ সালে ১৬ শতাংশে এবং এই মাসে ১৫ শতাংশে নেমে এসেছে।
২০১৪ সালে ন্যাটোর সদস্যদেশগুলো পরবর্তী ১০ বছরের মধ্যে তাদের সামরিক ব্যয় জিডিপির ২ শতাংশে উন্নীত করার অঙ্গীকার করেছিল। ২০১৬ সালে ৩০টির বেশি দেশের মধ্যে মাত্র চারটি দেশ এই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করেছিল। ২০২০ সালে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় আটটিতে।
তবে ২০২৪ সালে ১৮টি এবং ২০২৫ সালের মধ্যে ৩১টি দেশ এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করেছে। ন্যাটো কর্মকর্তারা সামরিক ব্যয় বৃদ্ধির জন্য ট্রাম্পকে কিছুটা কৃতিত্ব দিলেও বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণই দেশগুলোকে ব্যয় বাড়াতে বেশি বাধ্য করেছে।
এ ছাড়া গত বছর ট্রাম্পের জোরাজুরিতে ২০৩৫ সালের মধ্যে সামরিক ব্যয় ৫ শতাংশে উন্নীত করতে সদস্যদেশগুলো সম্মত হলেও ২০২৫ সালের শেষ পর্যন্ত কোনো দেশই সেই লক্ষ্যমাত্রা স্পর্শ করতে পারেনি।
ট্রাম্প যা বলেছেন
‘ইউরোপকে সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং এখন রাশিয়ার কবল থেকে রক্ষা করা ছাড়া ন্যাটোর কাছ থেকে আমরা কিছুই পাইনি।’
এটি মিথ্যা। ন্যাটো তাদের ইতিহাসে মাত্র একবারই ‘পারস্পরিক প্রতিরক্ষা ধারা’ (আর্টিকেল ৫) কার্যকর করেছিল, আর তা ছিল যুক্তরাষ্ট্রে নাইন ইলেভেন হামলার পর।
ন্যাটোর আর্টিকেল ৫ অনুযায়ী, কোনো একটি সদস্যদেশের ওপর আক্রমণের অর্থ তা জোটের সব দেশের ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য হয়। এই ধারার অধীন ন্যাটোর মিত্রদেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের ‘সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধে’ সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের আকাশসীমায় রাডার বিমান মোতায়েন থেকে শুরু করে ভূমধ্যসাগরে নৌবাহিনীর টহল—সবখানেই মিত্ররা পাশে ছিল।
আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে যুদ্ধ করতে মিত্র দেশগুলো হাজার হাজার সেনা পাঠিয়েছিল। শুধু ডেনমার্কই ১৮ হাজার সেনা পাঠিয়েছিল, যাদের মধ্যে ২০০২ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে ৪৩ জন নিহত হন।
ট্রাম্পের অন্যান্য মিথ্যা দাবি
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আরও কিছু ভুল ও ভিত্তিহীন দাবি করেছেন, যা ইতিপূর্বে নিউইয়র্ক টাইমস যাচাই করেছে—
১. ট্রাম্প দাবি করেছেন, তিনি ১৮ ট্রিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ নিয়ে এসেছেন, যা সত্য নয়। প্রকৃতপক্ষে এই অঙ্ক তাঁর নিজের হোয়াইট হাউসের হিসাবের চেয়েও দ্বিগুণ এবং এর বড় অংশই কেবল বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সাধারণ ‘প্রতিশ্রুতি’, যা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি।
২. ট্রাম্প দাবি করেছেন, গত গ্রীষ্মে তাঁর স্বাক্ষরিত রিপাবলিকান কর ও অভ্যন্তরীণ নীতি বিলে ‘সামাজিক নিরাপত্তার ওপর কোনো কর রাখা হয়নি’। এটি বিভ্রান্তিকর। কারণ, ওই আইনের মাধ্যমে সামাজিক নিরাপত্তা আয়ের ওপর কর কিছুটা কমানো হলেও তা পুরোপুরি বিলুপ্ত করা হয়নি।
৩. ট্রাম্পের দাবি, চীনে কোনো বায়ুকল নেই। অথচ বাস্তবতা হলো, বর্তমানে বিশ্বের অন্য যেকোনো দেশের চেয়ে চীনের সবচেয়ে বেশি বায়ুবিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা রয়েছে।
৪. জো বাইডেনের প্রশাসন ইউক্রেনকে ৩৫০ বিলিয়ন ডলার দিয়েছেন বলে দাবি করেছেন ট্রাম্প। তবে সরকারি ও স্বতন্ত্র বিভিন্ন সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, প্রকৃত অঙ্কটি ট্রাম্পের দাবি করা অর্থের প্রায় অর্ধেক।
৫. ট্রাম্প বিশ্বজুড়ে আটটি যুদ্ধ থামিয়েছেন বলে দাবি করেন। তবে কিছু ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে এবং অন্যগুলোতে এখনো যুদ্ধ থামেনি।
৬. ট্রাম্প দাবি করেন, বাজারে মুদিপণ্যের দাম ‘কমে আসছে’। অথচ বাস্তবে এখনো নিত্যপণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী।
৭. ট্রাম্প বলেছেন, ওষুধের দাম ৫০০ থেকে ৮০০ শতাংশ এমনকি ২০০০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। সরকারি ও স্বতন্ত্র পরিসংখ্যান বলছে, ওষুধের দাম উল্টো বেড়েছে।
৮. বাইডেন প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রে ১১ হাজার ৮৮৮ জন খুনিকে প্রবেশের অনুমতি দিয়েছে বলে ট্রাম্প দাবি করেছেন। তাঁর এ দাবি ভুল ও বিভ্রান্তিকর। এই সংখ্যার মধ্যে এমন অভিবাসীও রয়েছেন, যাঁরা ৪০ বছর ধরে বিভিন্ন সময়ে দেশটিতে ঢুকেছেন।
৯. কোনো প্রমাণ ছাড়াই ট্রাম্প দাবি করেছেন, জাহাজে তাঁর সামরিক হামলার ফলে সমুদ্রপথে মাদক পাচার ৯৭ দশমিক ২ শতাংশ কমেছে। তথ্য ও বিশেষজ্ঞদের মতে, এমনটি ঘটার কোনো আশঙ্কা নেই।
কোস্টারিকার রেবেকা গ্রিনস্প্যান
জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে আছেন কোস্টারিকার রেবেকা গ্রিনস্প্যান। জাতিসংঘের মহাসচিব নির্বাচনের চতুর্থ দফার অনানুষ্ঠানিক ভোটে তিনি সবচেয়ে বেশি সমর্থন পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন এক কূটনীতিক। খবর টিআরটি ওয়ার্ল্ডের।
জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থা ইউএনসিটিএডির প্রধান গ্রিনস্প্যান চার দফা গোপন ভোটের মধ্যে তিনবারই শীর্ষে ছিলেন। তবে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্যের যে কোনো একটির ভেটো তার এগিয়ে থাকার অবস্থানকে থামিয়ে দিতে পারে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কূটনীতিকের বরাতে জাতিসংঘবিষয়ক বিশেষায়িত সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, মঙ্গলবারের (২৯ সেপ্টেম্বর) ভোটে গ্রিনস্প্যানের পক্ষে ১০টি ভোট পড়ে। বিপক্ষে ‘নিরুৎসাহিত’ বা ডিসকারেজ ভোট পড়ে তিনটি এবং দুটি ভোটে কোনো মতামত জানানো হয়নি।
পর্তুগালের বর্তমান মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের দ্বিতীয় পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হবে ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর। তার উত্তরসূরি হতে সাত প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাদের মধ্যে চার নারী ও তিন পুরুষ। চতুর্থ দফার ভোটে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন গায়ানার সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্যারোলিন রড্রিগেস-বিরকেট। তিনি আটটি সমর্থন পেয়েছেন। দ্বিতীয় দফার গোপন ভোটে অল্প ব্যবধানে তিনিই শীর্ষে ছিলেন।
তৃতীয় অবস্থানে রয়েছেন আর্জেন্টিনার রাফায়েল গ্রসি। তিনি বর্তমানে জাতিসংঘের পারমাণবিক পর্যবেক্ষণ সংস্থা আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) প্রধান।
এছাড়া প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন সেনেগালের সাবেক প্রেসিডেন্ট ম্যাকি সাল, ইকুয়েডরের ইভোনে এ-বাকি, ইকুয়েডরের মারিয়া ফের্নান্দা এস্পিনোসা এবং উগান্ডার ওলারা ওতুননু।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের গত সপ্তাহের অধিবেশনকে কেন্দ্র করে নিউইয়র্কে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে কয়েকজন প্রার্থী বৈঠক করেছেন বলে জানা গেছে।
তবে দীর্ঘদিন ধরে গুঞ্জন রয়েছে, নিরাপত্তা পরিষদের ভেটো ক্ষমতাসম্পন্ন পাঁচ স্থায়ী সদস্য যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন, ফ্রান্স ও রাশিয়া সমঝোতার ভিত্তিতে নতুন কোনো প্রার্থীকে শেষ মুহূর্তে মহাসচিব পদে নিয়ে আসতে পারে।
নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্যের মধ্যে কোনো প্রার্থীকে কমপক্ষে নয়টি ভোট পেতে হবে। একই সঙ্গে পাঁচ স্থায়ী সদস্যের কোনো একটি দেশের ভেটোও এড়াতে হবে। এই পাঁচ দেশের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে গভীর মতপার্থক্য রয়েছে।
এই দুটি ধাপ পার হলে প্রার্থীর নাম জাতিসংঘের সব সদস্য দেশের প্রতিনিধিত্বকারী সাধারণ পরিষদে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে।
১৯৮০-এর দশকের গোড়ার দিকে দুই প্রার্থীকে ভেটো দিয়ে নির্বাচন প্রক্রিয়া আটকে যাওয়ার পর অচলাবস্থা কাটাতে নিরাপত্তা পরিষদের এই অনানুষ্ঠানিক ভোটের পদ্ধতি চালু করা হয়। গোপন ও অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ার সমালোচনা থাকলেও বিভিন্ন রূপে এটি এখনো চালু রয়েছে।
ভোটে নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্য প্রতিটি প্রার্থীর ক্ষেত্রে গোপনে তিন ধরনের মতামত দেন, ‘সমর্থন’, ‘নিরুৎসাহিত’ অথবা ‘কোনো মতামত নেই’।
তবে নির্দিষ্টসংখ্যক ভোটের পর নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্যের ব্যালট আলাদা রঙের হয়ে যায়। এর মাধ্যমে কোনো প্রার্থী সম্ভাব্য ভেটোর মুখে পড়তে পারেন কি না, তা বোঝা যায়। তবে কোন দেশ ওই প্রার্থীকে ভেটো দিতে পারে, তা জানা যায় না।
মঙ্গলবারের ভোটে অবশ্য ব্যালটে কোনো রঙের পার্থক্য রাখা হয়নি। ভোট শেষে নিরাপত্তা পরিষদের পর্যায়ক্রমিক সভাপতি ও জাতিসংঘে ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জেরোম বনাফোঁ এ তথ্য নিশ্চিত করেন। পরবর্তী দফার ভোট কবে হবে, তা জানাননি তিনি।
জাতিসংঘের মহাসচিবের পদটি ঐতিহ্যগতভাবে বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে ঘুরিয়ে দেওয়ার রীতি রয়েছে। সেই বিবেচনায় এবার লাতিন আমেরিকার কোনো প্রার্থী মহাসচিব হওয়ার কথা। বর্তমান দৌড়ে ওই অঞ্চল থেকে একাধিক প্রার্থী রয়েছেন। তবে ম্যাকি সাল ও ওলারা ওতুননু আফ্রিকার প্রার্থী।
সূত্র : টিআরটি ওয়ার্ল্ডের
ফাতিমা জাহরা এল মানসুরি
মরক্কোর প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ফাতিমা জাহরা এল মানসুরিকে মনোনীত করেছেন দেশটির বাদশাহ ষষ্ঠ মোহাম্মদ। এর মধ্য দিয়ে তিউনিশিয়ার নাজলা বুদেনের পর আরব বিশ্বের দ্বিতীয় নারী হিসেবে সরকারপ্রধানের দায়িত্বে আসছেন তিনি।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত সংসদীয় নির্বাচনে মানসুরির দল অথেন্টিসিটি অ্যান্ড মডার্নিটি পার্টি (পাম) ৯৭টি আসন পেয়ে সবচেয়ে বেশি আসন অর্জন করে। এরপর দলটির শীর্ষ নেতা ফৌজি লেকজাকে পেছনে ফেলে ৫০ বছর বয়সী মানসুরিকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বেছে নেন বাদশাহ।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পেশায় আইনজীবী মানসুরি মরক্কোর মোহাম্মদ ভি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। পরে ফ্রান্স ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে করপোরেট আইনে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি।
রাজনীতিতে তার উত্থানও দীর্ঘদিনের। ২০০৯ সালে মারাকেশের প্রথম নারী মেয়র নির্বাচিত হন মানসুরি। পরে বিদায়ী জোট সরকারের নগর পরিকল্পনা ও আবাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মনোনয়নের আগে দেওয়া এক বক্তব্যে মানসুরি বাদশাহ ষষ্ঠ মোহাম্মদকে নারীদের সবচেয়ে বড় সমর্থক হিসেবে উল্লেখ করেন। সরকার পরিচালনার দায়িত্ব পাওয়া তার জন্য বড় সম্মানের বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তবে নারীর অধিকার ও উত্তরাধিকার আইনসহ মরক্কোর কিছু বিতর্কিত রাজনৈতিক ও সামাজিক ইস্যুতে মানসুরি বরাবরই সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। একই সঙ্গে নিজেকে ‘লৌহ নারী’ হিসেবে দেখতেও তিনি অনাগ্রহী।
মরক্কোর সংবিধান অনুযায়ী, সংসদ নির্বাচনে জয়ী দলের মধ্য থেকেই প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন করার বিধান রয়েছে। তবে ৩৯৫ আসনের সংসদে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ১৯৮টি আসন। ফলে সরকার গঠনে জোটের প্রয়োজন হতে পারে।
ছবি : সংগৃহীত
দীর্ঘ দুই দশকের সামরিক উপস্থিতির পর ইরাক থেকে পুরোপুরি বিদায় নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। ২০০৩ সালে মার্কিন সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে দেশটিতে থাকা মার্কিন বাহিনীর উপস্থিতির আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটেছে। এ উপলক্ষে ইরাকজুড়ে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। সরকার এ উপলক্ষে চার দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে।
মঙ্গলবার মধ্যপ্রাচ্যের দেশটি ছেড়েছেন সেখানে থাকা শেষ মার্কিন সেনারা। এর মধ্য দিয়ে ইরাকে নতুন দিনের সূচনা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছে দেশটির সরকার। যদিও সেনা প্রত্যাহার–পরবর্তী নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অনেক ইরাকি।
মার্কিন সেনা প্রত্যাহারে ইরাকিদের মধ্যে আনন্দ–উদ্বেগ উভয়ই আছে। এটি প্রতিবেশী দেশ ইরানের জন্য বড় সুযোগের দরজা খুলে দেবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকদের অনেকে। কারণ, ইরাকে ইরানপন্থি বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী রয়েছে। মার্কিন বাহিনীর অনুপস্থিতিতে এই গোষ্ঠীগুলো আরও সক্রিয় ও শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে সুবিধা পেতে পারে তেহরান।
ইরাক থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের সময়সীমা শেষ হওয়ার কথা ছিল আজ। এর এক দিন আগেই প্রত্যাহার শেষ হয়েছে বলে আলজাজিরাকে জানিয়েছেন ইরাকের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র। তিনি বলেন, ইরাকে এখন আর মার্কিন নেতৃত্বাধীন বাহিনীর কোনো সেনা নেই। তাদের অনুপস্থিতিতে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে সক্ষম ইরাকি বাহিনী।
ইরাক থেকে সেনা পুরোপুরি সরিয়ে নিতে ২০২৪ সালে একটি সমঝোতা করেছিলেন তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। তখন দেশটিতে আড়াই হাজার মার্কিন সেনা ছিলেন। গত বছরই তাদের বেশির ভাগকে সরিয়ে নেওয়া হয়। শুধু আধা স্বায়ত্তশাসিত কুর্দি এলাকাগুলোয় কিছু সেনা ছিলেন। যদিও তাদের সংখ্যা কত, তা সুনির্দিষ্টভাবে জানায়নি মার্কিন বাহিনী।
যুক্তরাষ্ট্র ইরাকে হামলা চালায় ২০০৩ সালে। দেশটির প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনকে ক্ষমতাচ্যুত করে তারা। ২০০৬ সালের ডিসেম্বরে সাদ্দামের ফাঁসি দেওয়া হয়। ২০০৭ সালে ইরাকে মার্কিন সেনার সংখ্যা ১ লাখ ৭০ হাজার ছাড়িয়ে যায়। এই সেনাদের একটি অংশ ২০১১ সালে ইরাক ছাড়ে। পরে ২০১৪ সালে ইসলামিক স্টেট (আইএস) বিরোধী অভিযানের জন্য ইরাকে আরও সেনা পাঠানো হয়।
ইরাক থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার শেষ হওয়ার মধ্য দিয়ে বাগদাদের জন্য নতুন একটি যুগ শুরু হলো। ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি বলেছেন, এর মধ্য দিয়ে ইরাকের জন্য নতুন একটি দিনের সূচনা হলো। দেশটি বিদেশি সব ধরনের সামরিক উপস্থিতি থেকে মুক্ত হবে। একই সঙ্গে ইরাকের পুরো ভূখণ্ডের ওপর জাতীয় সার্বভৌমত্ব পুরোপুরি প্রতিষ্ঠিত হবে।
ইরাকে সক্রিয় ইরানপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠী ইসলামিক রেজিস্ট্যান্সের কমান্ডার আবু মোজতাবা আল-ইয়াসিরি মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের ঘটনাকে ‘ঐতিহাসিক জয়’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ইয়াসিরি বলেন, ৩০ সেপ্টেম্বর ইরাকের ইতিহাসের একটি কালো অধ্যায়ের অবসান হবে। ইরাকে দখলদারদের ব্যর্থতা উদ্যাপন করবে দেশটির মানুষ।
তবে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ফালুজা
অঞ্চলের একটি আদিবাসী গোষ্ঠীর নেতা আবদুল রহমান আল-জোবাইর। তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করি, এই মুহূর্তে নিরাপত্তার দায়িত্ব পুরোপুরি নিজেদের হাতে নেওয়ার জন্য ইরাক প্রস্তুত নয়। ইরাকের জনগণ পূর্ণ সার্বভৌমত্ব চায়। কিন্তু আমার মনে হয়, মার্কিন বাহিনী এভাবে চলে গিয়ে যে শূন্যতা তৈরি করছে, সেটি সব ইরাকির জন্য সবচেয়ে বড় শঙ্কা।’
তেহরানের সুযোগ
ইরাকে ইসলামিক রেজিস্ট্যান্সের মতো তেহরান–সমর্থিত বেশ কয়েকটি সশস্ত্র গোষ্ঠী রয়েছে। চলমান ইরান যুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে হামলা চালাতে ভূমিকা রাখছে এই গোষ্ঠীগুলো। চলতি মাসেই ইরাক থেকে সৌদি আরবের একটি গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পাইপলাইনে হামলা চালানো হয়েছে। এ ছাড়া ইরান যুদ্ধের সময় যে ১৮ মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন, তাদের মধ্যে সাতজন ইরাকে ছিলেন।
ইরাকি নিরাপত্তা বিশ্লেষক জাসিম আল-বাহাদলি রয়টার্সকে বলেন, মার্কিন নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ইরাক থেকে চলে যাওয়ায় কৌশলগতভাবে ইরানেরই লাভবান হওয়ার সুযোগ রয়েছে। কারণ, এর ফলে ইরাক থেকে এমন একটি সামরিক উপস্থিতি সরে যাচ্ছে, যারা বহু বছর ধরে দেশটিতে তেহরানের প্রভাবের বিরুদ্ধে ভারসাম্য রক্ষা করে এসেছে।
সূত্র: রয়টার্স, আলজাজিরা
ছবি : সংগৃহীত
নেপালে গত কয়েক দিনের টানা ভারী বৃষ্টি ও এর জেরে সৃষ্ট বিভিন্ন ঘটনায় অন্তত ২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যেই দুর্যোগের ভয়াবহ নানা ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। খবর হিন্দুস্তান টাইমস।
সংবাদ সংস্থা পিটিআই নেপালের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ২৪ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে এসব ঘটনায় আরও চারজন নিখোঁজ এবং আটজন আহত হয়েছেন। দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১ হাজার ৮২টি পরিবার। পাশাপাশি ১১৪টি গবাদিপশুরও মৃত্যু হয়েছে।
কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এ সময়ে ৩০৪টি ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন চারজন এবং আহত হয়েছেন সাতজন।
এ ছাড়া ৮৭টি বন্যার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এতে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে, ভারী বৃষ্টির সঙ্গে সম্পর্কিত ১৫১টি ঘটনায় আরও তিনজনের মৃত্যু এবং একজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে নেপালের ন্যাশনাল ডিজাস্টার রিস্ক রিডাকশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অথরিটি (এনডিআরআরএমএ)।
টানা বৃষ্টিতে ২২৭টি বাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে এবং আরও ১৪২টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৩১টি সেতুও।
এনডিআরআরএমএ জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগরের ওপর সৃষ্ট একটি নিম্নচাপের প্রভাবে নেপালে এই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া রবিবার মানাং জেলায় বড় ধরনের একটি ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। এতে বিপুল পরিমাণ মাটি ও ধ্বংসাবশেষ মার্সিয়াংদি নদীতে গিয়ে পড়ে। কিছু সময়ের জন্য নদীটির প্রবাহও বন্ধ হয়ে যায়। ভারী বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় আরও ভূমিধস ও দুর্যোগের আশঙ্কা রয়েছে।
ছবি : সংগৃহীত
প্রশিক্ষণ উড্ডয়নে গিয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে রাশিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম কৌশলগত বোমারু বিমান। দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় আমুর অঞ্চলে ‘তুপোলেভ টিইউ-৯৫’ বিমানটি বিধ্বস্ত হয়ে অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও একজন।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) চীন সীমান্তবর্তী আমুর অঞ্চলের একটি জনবসতিহীন এলাকায় প্রশিক্ষণ উড্ডয়নের সময় বিমানটি বিধ্বস্ত হয়।
রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ইউক্রেনকা বিমানঘাঁটি থেকে উড্ডয়নের কয়েক মিনিট পর ক্রাসনোইয়ারোভো শহরের কাছে বিমানটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।
মাটিতে আছড়ে পড়ার পর বিমানের জ্বালানি ট্যাংকে বিস্ফোরণ ঘটে এবং আগুন ধরে যায়। দুর্ঘটনার সময় বিমানটিতে কোনো গোলাবারুদ ছিল না বলে জানিয়েছে রাশিয়া।
রুশ সামরিক বাহিনীর বরাতে বার্তা সংস্থা ইন্টারফ্যাক্স জানিয়েছে, দুর্ঘটনার কারণ ও পুরো পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে ‘অ্যারোস্পেস ফোর্সেস’-এর একটি কমিশনকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু ভিডিওতে জ্বলন্ত বিমান থেকে বিপুল পরিমাণ ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে। তবে এসব ভিডিওর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি বলে আল জাজিরা জানিয়েছে।
রাশিয়ার ‘তুপোলেভ টিইউ-৯৫’ সোভিয়েত আমলে তৈরি বিশাল আকারের একটি কৌশলগত বোমারু বিমান। এটি পারমাণবিক অস্ত্র বহন, নিক্ষেপ ও সরবরাহে সক্ষম। বিমানটি প্রথম আকাশে ওড়ে ১৯৫২ সালে এবং ১৯৫৬ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে সামরিক বাহিনীতে যুক্ত হয়। কয়েক দশক পেরিয়ে গেলেও বিমানটি এখনো রুশ সামরিক বাহিনীর ব্যবহারে রয়েছে এবং নিয়মিত সামরিক মহড়ায় এটি ব্যবহার করা হয়।
রাশিয়ার সুদূর পূর্বাঞ্চলে এ ধরনের বিমান দুর্ঘটনা অবশ্য নতুন নয়। গত বছরের জুলাইয়ে খারাপ আবহাওয়ার মধ্যে তিন্দা শহরের দিকে যাওয়ার সময় একটি ‘আন্তোনভ এএন-২৪’ বিমান বিধ্বস্ত হয়। ওই ঘটনায় বিমানে থাকা ৪৮ জনের সবাই নিহত হন।
এর আগে ২০২১ সালের আগস্টে রাশিয়ার কামচাটকা উপদ্বীপে ১৬ আরোহী নিয়ে একটি ‘মিল এমআই-৮’ হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়েছিল। ওই হেলিকপ্টারের অধিকাংশ আরোহী ছিলেন পর্যটক।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল
ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি নিয়ে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আজ মঙ্গলবার মন্ত্রণালয়ের দ্বিসাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল।
বাংলাদেশের এক মন্ত্রী সম্প্রতি গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি নবায়নের পরিবর্তে নতুন করে পর্যালোচনার কথা বলেছেন। এ বিষয়ে ভারতের অবস্থান এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার (এনএসএ) ঢাকা সফরের খবর নিয়ে প্রশ্ন করা হলে রণধীর জয়সোয়াল বলেন, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে গঙ্গাসহ সব অভিন্ন নদীর বিষয় নিয়ে আলোচনার জন্য যৌথ নদী কমিশন রয়েছে। কারিগরি পর্যায়ের বৈঠকও অব্যাহত রয়েছে।
জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার ঢাকা সফরের খবরের বিষয়ে জানতে চাইলে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, এ বিষয়ে তার কাছে কোনো তথ্য বা হালনাগাদ খবর নেই।
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের আবারও জাতিসংঘে কাশ্মীর ইস্যু তোলার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে রণধীর জয়সোয়াল বলেন, ভারত সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এ মন্তব্য প্রত্যাখ্যান করছে।
তিনি বলেন, জম্মু ও কাশ্মীর ভারতের কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল এবং এটি ভারতের ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্বের অভ্যন্তরীণ বিষয়। এ বিষয়ে কোনো বহিঃস্থ পক্ষের কোনো অধিকার বা এখতিয়ার নেই।
ফিলিস্তিন ইস্যুতে ‘দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের’ পক্ষে ভারত
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে ভারত, ব্রাজিল ও দক্ষিণ আফ্রিকার পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকের পর প্রকাশিত আইবিএসএ যৌথ বিবৃতিতে গাজা ও অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে জনসংখ্যাগত পরিবর্তন না করার কথা বলা হয়েছে।
ভারত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের বসতি স্থাপন নিয়ে দেশটির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয়ভাবে কোনো আলোচনা করেছে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে রণধীর জয়সওয়াল বলেন, বৈঠকে উন্নয়ন, অর্থনীতি ও রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা শেষে যৌথ বিবৃতি দেওয়া হয়েছে।
ফিলিস্তিন ইস্যুতে ভারতের অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, ভারত ‘দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের’ পক্ষে তার সুনির্দিষ্ট অবস্থানে অটল রয়েছে।
পারস্য উপসাগরে ভারতীয় পতাকাবাহী ও ভারতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট জাহাজ এবং সেখানে কর্মরত ভারতীয় নাবিকের সংখ্যা সম্পর্কেও তথ্য দিয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
রণধীর জয়সোয়াল বলেন, পারস্য উপসাগরে হরমুজ প্রণালীর পশ্চিমে ভারতের ছয়টি পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজ রয়েছে। এ ছাড়া ভারতের দিকে আসা ছয়টি বিদেশি পতাকাবাহী জাহাজ রয়েছে। সব মিলিয়ে সেখানে ১২টি জাহাজ রয়েছে। এসব জাহাজে ১৬৩ জন ভারতীয় নাবিক কর্মরত রয়েছেন। এ ছাড়া পুরো অঞ্চলের অন্যান্য বাণিজ্যিক জাহাজে ৪ হাজার ৫০০ জনের বেশি ভারতীয় নাবিক কর্মরত আছেন।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, দেশটির নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দূতাবাসগুলো নিয়মিত এসব নাবিকের নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।
সম্প্রতি হাঙ্গেরির সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে ভারত সাংহাই সহযোগিতা সংস্থায় (এসসিও) তুরস্কের সদস্যপদের বিরোধিতা করেছে বলে দাবি করা হয়।
এ বিষয়ে ভারতের অবস্থান জানতে চাইলে রণধীর জয়সোয়াল বলেন, এসসিওতে নতুন কোনো সদস্য নেওয়ার বিষয়টি সংগঠনটির সব সদস্যরাষ্ট্রের সর্বসম্মত ও যৌথ সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে।