তীব্র শৈত্যপ্রবাহ ।

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০২ জানুয়ারি, ২০২৬, সময় : ১১:১৫ পিএম

দেশজুড়ে চলছে শীতের দাপট। এরই মধ্যে দেশের কয়েক জেলায় বইছে শৈত্যপ্রবাহ। 


এ অবস্থায় জানুয়ারিজুড়ে দেশে একাধিক তীব্র শৈত্যপ্রবাহ ধেয়ে আসার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়া অধিদপ্তর। ফলে দেশের কোনো কোনো এলাকায় পারদ ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসতে পারে।


আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষজ্ঞ কমিটির বৈঠকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসের এই দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস দেওয়া হয়।


অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসে দেশে দুই থেকে তিনটি মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ এবং এক থেকে দুটি মাঝারি থেকে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ নামতে পারে। এ সময় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৪ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে নেমে আসার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে।


বার্তায় বলা হয়, মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারা দেশে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা অনেক সময় দুপুর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়ার কারণে দিন ও রাতের তাপমাত্রার ব্যবধান কমে আসবে, যার ফলে দেশজুড়ে শীতের তীব্র অনুভূতি আরও বাড়বে। 


আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, জানুয়ারিতে সামগ্রিকভাবে দেশে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা থাকলেও বঙ্গোপ। সাগরে কোনো ঘূর্ণিঝড় বা নিম্নচাপের আশঙ্কা নেই ।


এর আগে গত ডিসেম্বরে পর্যালোচনায় দেখা গেছে, সারা দেশে বৃষ্টিপাত ছিল স্বাভাবিকের চেয়ে ৯৯.৩ শতাংশ কম। গত ৩১ ডিসেম্বর গোপালগঞ্জে মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছিল। জানুয়ারিতে দিন ও রাতের গড় তাপমাত্রা স্বাভাবিক থাকলেও শৈত্যপ্রবাহের দিনগুলোতে জনজীবনে স্থবিরতা নেমে আসার আশঙ্কা রয়েছে।




আবদুল মঈন খান, আন্দালিব রহমান পার্থ, সাচিং প্রু জেরী ও মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৫:৩৩ পিএম

তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভায় আরও চারজন যুক্ত হচ্ছেন বলে জানা গেছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেবেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এরপরই মন্ত্রিসভার নতুন সদস্যরা শপথ নেবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়। মন্ত্রিসভায় যুক্ত হতে যাওয়া চারজনের মধ্যে দুইজনের ব্যাপারে নিশ্চিত হয়েছে। 


সূত্র জানায়, আবদুল মঈন খান, আন্দালিব রহমান পার্থ ও সাচিং প্রু জেরী মন্ত্রী হিসেবে আজ শপথ নিতে যাচ্ছেন। আর প্রতিমন্ত্রী হিসেবে মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকনের নাম শোনা যাচ্ছে।


সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রাষ্ট্রপতি নতুন তিন মন্ত্রী ও একজন প্রতিমন্ত্রীকে শপথবাক্য পড়াবেন। এর মধ্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে সম্ভাব্য মন্ত্রী–প্রতিমন্ত্রীদের কয়েকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তাঁদের সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।


নতুন মন্ত্রীর তালিকায় নাম থাকা- আবদুল মঈন খান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য। তিনি নরসিংদী-২ আসনের সংসদ সদস্য। গত ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বিএনপির প্রার্থী হিসেবে এই আসন থেকে নির্বাচিত হন। 


আন্দালিব রহমান পার্থ বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান। বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে তাঁর দল নির্বাচনে অংশ নেয়। তিনি ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য। 


সাচিং প্রু জেরী বান্দরবান আসনের সংসদ সদস্য। গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে বান্দরবান আসন থেকে নির্বাচিত হন তিনি। 


প্রতিমন্ত্রী হিসেবে আলোচনায় থাকা মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য। 


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে গত ফেব্রুয়ারিতে সরকার গঠনের সময় প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলেন ৫০ জন। তাদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী ছাড়া ২৫ জন মন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। এর বাইরে প্রধানমন্ত্রীর ১০ জন উপদেষ্টা রয়েছেন। তাদের পাঁচজন মন্ত্রী এবং পাঁচজন প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় দায়িত্ব পালন করছেন। 


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৫:০৯ পিএম

বঙ্গভবনে যাওয়ার আগে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করলেন নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার জুম্মার নামাজ পড়েন বেইলি রোডের স্টাফ কোয়ার্টার জামে মসজিদে। সেখান থেকে ১টা ৪৬ মিনিটে সরাসরি যান শেরে বাংলা নগরে জিয়া উদ্যানে জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিস্থলে। সেখানে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে ফাতেহা পাঠ করেন এবং মোনাজাত করেন। 


রাজনীতির দীর্ঘ পথ চলায় বিএনপি মহাসচিব হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই কবরে বহুবার দলীয় নেতা-কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেছেন।


এই সময়ে বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান রতন ও নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্টের সহকারী একান্ত সচিব ইউনুস আলী উপস্থিত ছিলেন। এসময় কবর প্রাঙ্গণের চারপাশে নিরাপত্তা বেষ্টনীর বাইরে দলের নেতাকর্মী-সমর্থক মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান।


বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ভোটের মাধ্যমে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।


বঙ্গভবন

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৪:১৪ পিএম

নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠানের জন্য প্রস্তুত বঙ্গভবনের দরবার হল। 


রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম বলেন, রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠানের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। সব আয়োজন শেষ হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এই শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করছে।


মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, এই শপথ অনুষ্ঠানে ১২ শতাধিক অতিথিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনের দরবার হলে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শপথ নেবেন।


ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে শপথ বাক্য পাঠ করাবেন। মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি এই শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করবেন।


রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠানের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে পাঠানো আমন্ত্রণ কার্ডে বলা হয়েছে, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় রাষ্ট্রপতি দরবার হলে আগমন করবেন। জাতীয় সংগীত ও কোরআন তেলাওয়াতের পর স্পিকার রাষ্ট্রপতির শপথ পরিচালনা করবেন।


উল্লেখ্য, গত ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন আওয়ামী লীগ আমলে নির্বাচিত মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন। পদত্যাগের কারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হয়।


বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা থেকে ৫ পর্যন্ত জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট গ্রহণ হয়। এই নির্বাচনে বিএনপি দলীয় প্রার্থী ছিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল অলি আহমদ।


রাষ্ট্রপতির এই ভোটে ৩৪৯ সংসদ সদস্যের মধ্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫ ভোট পেয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। এই নির্বাচনের মধ্যদিয়ে ২২তম রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনের উত্তরসূরি হিসেবে বঙ্গভবনের বাসিন্দা হচ্ছেন বিএনপির দুর্দিনের কান্ডারি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।


ভোট গণনা শেষে গতকাল বিকেলে সংসদ কক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটের ফলাফল ঘোষণা করেন নির্বাচনি কর্তা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দীন। রাতে এই সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।


সংসদীয় পদ্ধতি পুনঃপ্রবর্তনের পর ১৯৯১ সালে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের প্রার্থী থাকায় সেবারই ভোটাভুটি হয়েছিল। এর ৩৫ বছর পর একাধিক প্রার্থী থাকায় রাষ্ট্রপতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো।


মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ২:০৬ পিএম

দীর্ঘ ৩৫ বছর পর সংসদ সদস্যদের (এমপি) প্রত্যক্ষ ভোটে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনে ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করাবেন। 


শপথ অনুষ্ঠানে বিদায়ী রাষ্ট্রপতি, নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, প্রধান বিচারপতি, সাবেক রাষ্ট্রপতি, মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত থাকবেন।


গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে আয়োজিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মোট ৩৪৯ ভোটের মধ্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম পেয়েছেন ২৫৫ ভোট। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী অলি আহমদ পান ৮৮ ভোট। এ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের উত্তরসূরি হিসেবে বঙ্গভবনের বাসিন্দা হচ্ছেন বিএনপির দুর্দিনের কান্ডারি মির্জা ফখরুল। 


রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার সংসদ ভবনে দিনভর উৎসবমুখর পরিবেশ ছিল। সংসদের অধিবেশন কক্ষে দুপুর ২টা থেকে ৫টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে ছয়জন ভোটার অনুপস্থিত ছিলেন। বিকেল ৫টা ২৫ মিনিটে নির্বাচনী কর্তা এ এম এম নাসির উদ্দিন বিজয়ী হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলামের নাম ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে সরকারি দলের এমপিরা মুহুর্মুহু করতালি ও টেবিল চাপড়ে তাঁকে অভিনন্দন জানান।


ফল ঘোষণার পর মির্জা ফখরুল ইসলামকে একটি গোলাপ ফুল উপহার দিয়ে অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান। বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে বিরোধী দলের সিনিয়র নেতারা এগিয়ে এলে মির্জা ফখরুল ইসলাম নিজের আসন ছেড়ে সামনে এগিয়ে যান। প্রথমে তিনি বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে কোলাকুলি করে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। পরে বিরোধী দলের উপনেতাসহ অন্যান্য সিনিয়র নেতারাও নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির সঙ্গে কোলাকুলি করে শুভেচ্ছা জানান।


দুপুর ২টায় কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে ভোটের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। শুরুতে নির্বাচনী কর্তা এ এম এম নাসির উদ্দিন ভোটের নির্দেশিকা তুলে ধরেন। এর পরপরই ভোট শুরু হয়। প্রথমে ২টা ৮ মিনিটে ভোট দেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ। এরপর ভোট দেন ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল। পরে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে নিয়ে ভোট দেন সংসদ নেতা তারেক রহমান। এরপরে ভোট দেন মির্জা ফখরুল ইসলাম। বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান ভোট দেন ২টা ১৯ মিনিটে। সংসদ সদস্যরা জাতীয় সংসদে তাদের নির্ধারিত আসনে বসে ছিলেন এবং নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ২০ জন কর্মকর্তা তাদের সহায়তা করেছেন এবং ব্যালট পেপার সরবরাহ করেন। 


সরকারি দলের এমপিরা লাইন দিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। বাক্সে ব্যালট রাখার সময় অনেকে হাসিমুখে ছবি তোলেন। প্রথম দেড় ঘণ্টায় উপস্থিত সবাই ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। নিয়ম রক্ষার জন্য বিকেল ৫টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট শুরু থেকে সোয়া ঘণ্টার বেশি সময় অধিবেশন কক্ষে নিজের আসনে অবস্থান করেন সংসদ নেতা তারেক রহমান। পাশের আসনে ছিলেন দলের প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম। এরপর ছিলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ ও প্রবীণ এমপি খন্দকার মোশাররফ হোসেন। 


প্রধানমন্ত্রী যখন নিজের আসনে বসেছিলেন তখন এমপিরা সামনে ভিড় করে দাঁড়িয়ে ছিলেন। সংসদ নেতা এমপিদের সঙ্গে কথা বলে তাদের খোঁজখবর নেন। প্রধানমন্ত্রী বিকেল ৩টা ১৩ মিনিটে সংসদ কক্ষ ছেড়ে সংসদ ভবনের নিজ কার্যালয়ে যান। সঙ্গে নেন দলের প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলামকে। 


বিকেল ৫টায় ভোট গ্রহণ সমাপ্ত ঘোষণা করে গণনা শুরু হয়। বিকেল ৫টা ২০ মিনিটে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করেন সিইসি। রাতেই গেজেট প্রকাশ করে ইসি।


সংসদীয় পদ্ধতি পুনঃপ্রবর্তনের পর ১৯৯১ সালে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের প্রার্থী থাকায় কেবল সেবারই ভোটাভুটি হয়। এরপর গত সাতটি নির্বাচনে একজন করে প্রার্থী থাকায় তারা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।


বর্তমান বিয়েসহ সন্তানের তথ্য অন্তর্ভুক্ত করতে সংশ্লিষ্টদের আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১:৫৫ পিএম

কাবিননামায় বর ও কনের আগের ও বর্তমান বিয়েসহ সন্তানের তথ্য অন্তর্ভুক্ত করতে সংশ্লিষ্টদের আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। 


গতকাল বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান এই নোটিশ পাঠান। আইন ও বিচার বিভাগের সচিব ছাড়াও লেজিসলেটিভ ও সংসদ-বিষয়ক বিভাগের সচিব এবং নিবন্ধন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শককে এই নোটিশ পাঠানো হয়েছে।


নোটিশে বলা হয়, মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) বিধিমালা, ২০০৯ এর অধীনে ব্যবহৃত বাংলাদেশ ফরম নম্বর ১৬০১ বা ‘ঘ’ ফরমের বর্তমান কাবিননামাটি অসম্পূর্ণ ও অসমতাপূর্ণ। এতে বর ও কনের পূর্ববর্তী সব বিয়ে, সাবেক স্বামী বা স্ত্রীর পরিচয়, বিয়ে ও তালাক নিবন্ধনের তথ্য, বিবাহবিচ্ছেদ কার্যকর হওয়ার তারিখ, চলমান বৈবাহিক মামলা এবং বিদ্যমান সন্তানের তথ্য যথাযথভাবে উল্লেখ ও যাচাই করার ব্যবস্থা নেই।


এই অবস্থায় আইনি নোটিশে কাবিননামা সংশোধন করে বর ও কনের জন্য সমানভাবে প্রত্যেকের পূর্ববর্তী ও বিদ্যমান বিয়ের তথ্য, সংশ্লিষ্ট স্বামী বা স্ত্রীর পরিচয়, বিবাহ ও তালাকের তারিখ-স্থান ও নিবন্ধন নম্বর, বিবাহবিচ্ছেদের পদ্ধতি ও কার্যকর হওয়ার তারিখ এবং প্রয়োজনীয় দলিল বা মামলার তথ্য প্রকাশ বাধ্যতামূলক করার দাবি জানানো হয়েছে। সেই সঙ্গে বিদ্যমান সন্তান ও তাদের বিষয়ে চলমান ভরণপোষণ, অভিভাবকত্ব বা অন্যান্য আইনি দায় সম্পর্কে প্রয়োজনীয় ঘোষণা রাখার দাবিও জানানো হয়েছে।


এ ছাড়াও নোটিশে বিদ্যমান বিয়ে থাকা অবস্থায় নতুন বিয়ের ক্ষেত্রে মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ এর ৬ ধারা অনুযায়ী সালিশ পরিষদের লিখিত অনুমতির নম্বর ও তারিখ কাবিননামায় অন্তর্ভুক্ত করার দাবিও জানানো হয়েছে। পাশাপাশি জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট, জন্মনিবন্ধন, বিবাহ ও তালাকের নথি, মৃত্যু সনদসহ সংশ্লিষ্ট তথ্য যাচাই বাধ্যতামূলক করার কথাও বলা হয়েছে।


নোটিশে ২০২৫ সালের ১১ ডিসেম্বর হাইকোর্টের দেয়া একটি রায়ের কথা উল্লেখ করে বলা হয়, ওই রায়ে বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন বাধ্যতামূলকভাবে ডিজিটাল করার এবং সংশ্লিষ্ট রেকর্ড নিরাপদে সংরক্ষণ ও যাচাইয়ের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। 


তবে মূল কাবিননামায় প্রয়োজনীয় তথ্যের ঘর না থাকলে ডিজিটাল ব্যবস্থাও শুধু অসম্পূর্ণ তথ্যই সংরক্ষণ করবে। এজন্য ডিজিটালাইজেশনের পাশাপাশি মূল ফরম সংশোধন এবং নিবন্ধকদের ওপর সুস্পষ্ট যাচাইয়ের দায়িত্ব আরোপ করা প্রয়োজন।


নোটিশে আইনজীবী ইশরাত হাসান বলেন, অসম্পূর্ণ ও অসমতাপূর্ণ কাবিননামার ব্যবহার পারিবারিক জীবনে ক্ষতি সৃষ্টি করছে। এটি আইনের আশ্রয়, মর্যাদা ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তার অধিকারের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ।


ফলে কোনো ব্যক্তি আগের একাধিক বিয়ে, বিদ্যমান বৈবাহিক সম্পর্ক, বিতর্কিত বা অনিবন্ধিত তালাক, সন্তান কিংবা আগের পরিবারের প্রতি চলমান ভরণপোষণ ও অভিভাবকত্বসংক্রান্ত দায় গোপন করে নতুন বিয়েতে আবদ্ধ হতে পারেন। এতে প্রতারণার সুযোগ সৃষ্টি হয় এবং নতুন জীবনসঙ্গীর জ্ঞাতসারে সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকার ক্ষুণ্ন হয়।


লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ জনজীবন

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১১:৩৬ এএম

গ্যাস সংকটে কমেছে বিদ্যুৎ উৎপাদন। এর মধ্যে বেড়েছে গরম। ফলে দেশজুড়ে লোডশেডিং বেড়েছে। রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় দফায় দফায় বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। কোথাও কোথাও ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় ক্ষোভ বাড়ছে মানুষের মধ্যে। এরই মধ্যে এক সপ্তাহ ধরে বিদ্যুৎ না পেয়ে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে পিডিবির কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর করেছেন কয়েকশ বাসিন্দা। এ সময় এক প্রকৌশলী আহত হয়েছেন। 


টুয়াখালীতে দিনে-রাতে ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় ব্যাহত হচ্ছে ব্যবসা-বাণিজ্য ও চিকিৎসাসেবা। চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে দিনে ১০ থেকে ১২ বার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। মৌলভীবাজারে লোডশেডিংয়ের কারণে ব্যাহত হচ্ছে চা উৎপাদন।


পিজিসিবির হিসাবে, বুধবার রাত ৯টায় দেশে বিদ্যুতের ঘাটতি ছিল ২ হাজার ২৬৬ মেগাওয়াট। রাতে আর সকালের দিকে ঘাটতি কিছুটা কমলেও গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরের পর আবার বাড়ে। বিকেল ৩টায় লোডশেডিং ছিল ১ হাজার ৭৭৪ মেগাওয়াট। রাত ৮টায় তা হয় ১ হাজার ৫৯৮ মেগাওয়াট। তবে বিতরণ কোম্পানি সূত্রে জানা গেছে বাস্তবে লোডশেডিং আরও বেশি। 


রাজধানীর সেগুনবাগিচার বাসিন্দা নাসরিন সুলতানা বলেন, গরমের মধ্যে একাধিকবার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। গতকাল দুপুর ১২টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ ছিল না। বাসায় শিশু ও বয়স্ক মানুষ থাকায় দুর্ভোগ বেড়েছে। কখন বিদ্যুৎ যায়, কখন আসে তার ঠিক নেই।


মগবাজারের বাসিন্দা নাসিমা বেগম বলেন, বিশেষ করে রাতে বিদ্যুৎ গেলে গরমে কষ্ট হচ্ছে। কয়েক দিন ধরে পরিস্থিতি খারাপ যাচ্ছে। 


পটুয়াখালীতে পরিস্থিতি বেশ খারাপ। জেলা শহরসহ বিভিন্ন এলাকায় দিন-রাত মিলিয়ে ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে ব্যবসা-বাণিজ্য থেকে শুরু করে হাসপাতাল, হোটেল-রেস্তোরাঁর কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।


পটুয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির হিসাবে, জেলার দুটি গ্রিডে বিদ্যুতের চাহিদা ১০৬ মেগাওয়াট। সরবরাহ হচ্ছে ৫৭ মেগাওয়াট। পায়রা গ্রিডে ৪৪ মেগাওয়াটের বিপরীতে সরবরাহ ২৩ মেগাওয়াট। আর পটুয়াখালী গ্রিডে ৬২ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে পাওয়া যাচ্ছে ৩৪ মেগাওয়াট।


ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মোহাম্মদ খোকন মিয়া বলেন, বিশেষ করে সন্ধ্যায় বিদ্যুৎ গেলে বেচাকেনা কমে যায়। এক থেকে দেড় ঘণ্টা পর বিদ্যুৎ এলেও কিছুক্ষণ পর আবার চলে যায়। আরেক ব্যবসায়ী জায়নাল আবেদীন জানান, বিদ্যুৎ না থাকলে দোকানে মোমবাতি জ্বালিয়ে বসতে হয়। এতে প্রতিদিন বাড়তি খরচ হচ্ছে।


হাসপাতালগুলোতেও তৈরি হচ্ছে বাড়তি চাপ। শহরের একটি হাসপাতালের ব্যবস্থাপক অলিউর রহমান বলেন, অস্ত্রোপচারের সময় বিদ্যুৎ চলে গেলে জেনারেটর চালাতে হয়। এতে খরচ বাড়ার পাশাপাশি রোগীদেরও ভোগান্তি হয়।


চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে দিনে ১০-১২ বার বিদ্যুৎ যায়


গ্যাস সংকটে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ার প্রভাব পড়েছে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও। বিমানবন্দর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দিনে ১০ থেকে ১২ বার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে।


বিমানবন্দরে পিডিবির দুটি জরুরি সংযোগ রয়েছে। এর পরও জাতীয় গ্রিডে ঘাটতির কারণে লোডশেডিং ঠেকানো যাচ্ছে না। বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর জেনারেটর চালু হতে ৩০ থেকে ৪০ সেকেন্ড সময় লাগে। ফলে ওই সময় বিমানবন্দরের বিভিন্ন অংশ অন্ধকার হয়ে যায়। তবে গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতিতে আলাদা ব্যাকআপ থাকায় বিমান ওঠানামায় বড় ধরনের সমস্যা হচ্ছে না।


চা উৎপাদনেও ধাক্কা


মৌলভীবাজারে লোডশেডিংয়ের সরাসরি প্রভাব পড়েছে চা উৎপাদনে। জেলার ৯৩টি চা বাগানে এখন উৎপাদনের ভরা মৌসুম। কিন্তু দিনে প্রায় ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় কারখানা সচল রাখতে জেনারেটর চালাতে হচ্ছে।


বাগান-সংশ্লিষ্টদের হিসাবে, বিদ্যুৎ সংকটে প্রতিটি বাগানে প্রতিদিন ২ থেকে ৩ লাখ টাকা বাড়তি ক্ষতি হচ্ছে। বিদ্যুৎ না থাকায় ট্রাফ হাউসে থাকা কাঁচা চা পাতা সময়মতো প্রক্রিয়াজাত করা যাচ্ছে না। এতে বিপুল পরিমাণ পাতা নষ্ট হচ্ছে। কমলগঞ্জের পাত্রখোলা চা বাগানের শ্রমিক রামগোপাল গৌড় বলেন, প্রতিদিন ৮ থেকে ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না। কারখানা চালু রাখতে ১০০ থেকে ২০০ লিটার ডিজেল প্রয়োজন হয়।


পিডিবি অফিসে হামলা


ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে ট্রান্সফরমার বিকল হয়ে এক সপ্তাহ ধরে বিদ্যুৎ না থাকায় ক্ষুব্ধ হয়ে পিডিবির কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর করেছেন শতাধিক বাসিন্দা। গতকাল সকালে শিমরাইল গ্রামের প্রায় ২৫০ বাসিন্দা স্থানীয় বিদ্যুৎ অফিসের সামনে বিক্ষোভ করেন। একপর্যায়ে অফিসের কাচ ও সরঞ্জাম ভাঙচুর করা হয়। এ সময় উপসহকারী প্রকৌশলী রেজাউল করিম আহত হন।


স্থানীয়রা জানান, ১৩ আগস্ট রাতে ট্রান্সফরমার নষ্ট হওয়ার পর থেকেই বিদ্যুৎ নেই। এতে পানির সংকট, খাবার সংরক্ষণে সমস্যা এবং প্রচণ্ড গরমে শিশু-বয়স্কদের দুর্ভোগ বেড়েছে। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনাও ব্যাহত হচ্ছে।


বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ ঘাটতির পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে যান্ত্রিক ত্রুটি ও ট্রান্সফরমার সংকটে কোথাও কোথাও পরিস্থিতি আরও খারাপ করছে। তবে মূল চাপ তৈরি হয়েছে গ্যাসের অভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ায়। গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সংকট দ্রুত কাটবে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ফলে লোডশেডিংয়ের ভোগান্তি আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।