ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ভাষণ দিলেন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে জামায়াত জোটের এমপিদের প্রতিবাদ ও ওয়াকআউটের মধ্যে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন যে ভাষণ দিলেন, তাতে মিশে থাকল ভাগ্যের পরিহাস। আজ বৃহস্পতিবার বিকালে ভাষণের শুরুতে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করতে গিয়ে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে তিনি বললেন ‘স্বাধীনতার ঘোষক’। তাকে বারবার বলতে হলো, আওয়ামী লীগ সরকার ছিল ‘ফ্যাসিস্ট’। আওয়ামী লীগ সরকার বাংলাদেশকে ‘দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন’ বানিয়েছিল। পরে বিএনপি সরকারের ‘কঠোর পদক্ষেপে’ বিশ্বে দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার কলঙ্ক থেকে বাংলাদেশ ‘মুক্তি পেয়েছিল’।
বিএনপি সরকার তার নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি পূরণে দেশের জন্য কী কী করবেন, তার বিস্তারিত ফিরিস্তি রাষ্ট্রপতি তার ভাষণে দিলেন। তিনি ভাষণ শেষ করলেন ‘বাংলাদেশ জিন্দাবাদ’ বলে। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্ব পাওয়া মো. সাহাবুদ্দিন অতীতে বক্তব্য শেষ করতেন ‘জয় বাংলা’ বলে। বিএনপি জিয়াকে স্বাধীনতার ঘোষক বলে দাবি করে এলেও আওয়ামী লীগ তা সব সময় প্রত্যাখ্যান করেছে।
২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দিন জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণ রাষ্ট্রপতি ‘জয় বাংলা’ ছাড়াই শেষ করেন। এরপর অন্তর্বর্তী সরকারের আঠারো মাসে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করে গেলেও রাষ্ট্রীয় কোনো আয়োজনে তার বক্তব্য দিতে দেওয়ার সুযোগ হয়নি। নির্বাচনে জিতে বিএনপির নতুন সরকার শপথ নেওয়ার পর গত ৬ মার্চ প্রথম কোনো সরকারি অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন মো. সাহাবুদ্দিন।
বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি চত্বরে জাতীয় পাট দিবসের ওই অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতির বক্তব্য শেষ হয় বিএনপির ‘বাংলাদেশ জিন্দাবাদ’ দিয়ে, যা নিয়ে সেদিনও আলোচনা হয়। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল পাঁচ বছরের জন্য রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নিয়েছিলেন ৭৫ বছর বয়সী সাহাবুদ্দিন। এক সময় তিনি ছিলেন দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার, তখন দেশের মানুষ তাকে সাহাবুদ্দিন চুপপু নামে চিনত।
রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে মো. সাহাবুদ্দিন বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক। এর বাইরে পদটি মূলত আনুষ্ঠানিক। দেশের কার্যনির্বাহী ক্ষমতা থাকে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার হাতে। এমনকি সংসদে যে ভাষণ রাষ্ট্রপতি দেন, তাও মন্ত্রিসভায় অনুমোদন হতে হয়। সংসদীয় রীতি অনুযায়ী, সরকারের নীতি ও কর্মপরিকল্পনার কথাই তিনি ওই ভাষণে তুলে ধরেন। ফলে নিজের দর্শন ও অবস্থান তুলে ধরার খুব বেশি স্বাধীনতা কার্যত তার থাকে না।
আজ বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে যখন ভাষণ দেওয়ার জন্য রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সংসদের অধিবেশন কক্ষে প্রবেশের ঘোষণা দেওয়া হল, বিরোধী দলের আসনে থাকা জামায়াত জোটের এমপিরা আসন ছেড়ে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানাতে শুরু করেন। এ সময় তারা ‘জুলাইয়ের সাথে গাদ্দারি চলবে না’ লেখা লাল রঙের প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন। সংসদ কক্ষে রাষ্ট্রপতি প্রবেশ করলে প্রচলিত রীতিতে সংসদ নেতা ও সরকারি দলের সদস্যরা দাঁড়িয়ে তাকে অভিবাদন জানান। তবে বিরোধী দলের সদস্যদের একটি অংশ প্রতিবাদের অংশ হিসেবে নিজেদের আসনে বসে থাকেন।
বিউগলে জাতীয় সংগীত বাজতে শুরু করলে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ সংসদের কর্মকর্তারা জাতীয় সংগীতের প্রতি সম্মান জানিয়ে সদস্যদের দাঁড়ানোর অনুরোধ করেন। তখন কেউ কেউ দাঁড়ালেও কয়েকজন সদস্য বসে ছিলেন। তবে এসময় জামায়াত জোটের সদস্যদের প্রতিবাদ বন্ধ রেখে নীরবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। এর মধ্যে রাষ্ট্রপতি সংসদে তার ভাষণ শুরু করলে বিরোধী দলের সদস্যরা হট্টগোল করতে থাকেন। একপর্যায়ে তারা স্লোগান দিতে দিতে অধিবেশন কক্ষ ত্যাগ করেন।
রাষ্ট্রপতি তার ভাষণের শুরুতেই বলেন, “ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের এই উদ্বোধনী অধিবেশন বাংলাদেশের ইতিহাসে এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। হাজারো শহিদের রক্তের সিঁড়ি বেয়ে দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসানের পর একটি শান্তিপূর্ণ, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে এই মহান জাতীয় সংসদের যাত্রা শুরু হয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সকল রাজনৈতিক দল এবং এই নির্বাচন আয়োজনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আন্তরিক অভিনন্দন।
“অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের জন্য নির্বাচন কমিশন, মাঠ প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের নিরলস পরিশ্রম এবং নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সকল রাজনৈতিক দল ও ব্যক্তির আন্তরিক উদ্যোগ এবং সাধারণ জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ গণতন্ত্রের ইতিহাসে একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। বিএনপির চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান জাতীয় সংসদে বিএনপি ও সমমনা দলগুলো দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেছে। জাতীয় সংসদে একটি শক্তিশালী বিরোধী দলের পাশাপাশি কয়েকজন স্বতন্ত্র সদস্যও রয়েছেন।”
রাষ্ট্রপতি বলেন, “আমি এই সংসদে আপনার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং তার নেতৃত্বে গঠিত নতুন সরকারকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাচ্ছি। জাতীয় সংসদের সকল সদস্যের প্রতিও রইল প্রাণঢালা অভিনন্দন।” এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ সরকারদলীয় এমপিরা টেবিল চাপড়ে রাষ্ট্রপতির বক্তব্যকে স্বাগত জানান।
মুক্তিযুদ্ধের লাখো শহীদ এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন বলেন, “যাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আজকের এই স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ। স্বাধীনতার ঘোষক শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তম, স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সকল নেতার অবদানকেও আমি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি। বাংলাদেশে তিনবারের নির্বাচিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির সাবেক চেয়ারপার্সন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদানকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি, যিনি দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছেন। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে প্রতিবার সামনের কাতারে থেকে আপসহীন নেতৃত্ব দিয়েছেন।”
সেই সঙ্গে জুলাই অভ্যুত্থানে হতাহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে রাষ্ট্রপ্রধান বলেন, “আমি ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের এবং দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসনামলে গুম, খুন, বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক দলের সদস্যবৃন্দকে কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করছি, যাদের অসামান্য ত্যাগের মাধ্যমে বাংলাদেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হয়ে গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করেছে।”
আওয়ামী লীগের মনোনয়নে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পাওয়া সাহাবুদ্দিন বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের উদ্দেশ্য ছিল ‘ফ্যাসিবাদের পতন ঘটিয়ে’ জনগণের সরাসরি ভোটে জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক সরকার গঠনের মাধ্যমে একটি বৈষম্যহীন ন্যায়ভিত্তিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র এবং সমাজ বিনির্মাণ। সেই লক্ষ্য অর্জনে ফ্যাসিবাদ পতন পরবর্তী সরকার কর্তৃক রাষ্ট্র মেরামতের অংশ হিসেবে জনগুরুত্বপূর্ণ খাত সংস্কারের লক্ষ্যে ১১টি সংস্কার কমিশন গঠন করা হয়েছিল। বর্তমান সরকারও 'করবো কাজ, গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ'-এই স্লোগানকে উপজীব্য করে দলীয় নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করেছিল। “ইশতেহারে রাষ্ট্র ব্যবস্থার সংস্কারে গণতন্ত্র, জবাবদিহিতা ও সুশাসন-এই তিনটি বিষয়কে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে। তবে সরকারের সকল পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন কঠোর হস্তে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন। এই দুইটি বিষয় নিয়ন্ত্রণে বর্তমান সরকার দৃঢ়তার সঙ্গে কাজ করছে।”
২০০১-২০০৬ মেয়াদে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়ে বাংলাদেশ যে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের করা দুর্নীতির ধারণা সূচকে কয়েকবার ‘দুর্নীতির শীর্ষে’ ছিল, সে বিষয়ে বিএনপির ব্যাখ্যা শোনা যায় রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের কণ্ঠে। তিনি বলেন, “দেশে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে বিএনপি সরকারের ট্র্যাক রেকর্ড রয়েছে। তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার বাংলাদেশকে দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন বানিয়ে ২০০১ সালের জুন মাসে ক্ষমতা থেকে বিদায় নিয়েছিল। ২০০১ সালের অক্টোবর মাসে পূর্ববর্তী সরকারের রেখে যাওয়া দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশের দায়িত্ব নিয়ে, বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন সরকার দুর্নীতি দমনে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করে। এ ছাড়া দুর্নীতি প্রতিরোধের লক্ষ্যে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ প্রণয়ন করে। এর ফলে বিশ্বে দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার কলঙ্ক থেকে বাংলাদেশ মুক্তি পায়।
“২০০৬ সালের অক্টোবর মাসে বিএনপি যখন রাষ্ট্রক্ষমতা থেকে বিদায় নেয়, তার অনেক আগেই বিশ্বে দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়নের কলঙ্ক থেকে মুক্ত হয়ে বাংলাদেশ এশিয়ার ইমার্জিং টাইগার হিসেবে স্বীকৃতি পায়। এবারও দুর্নীতি দমন এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণই হবে বর্তমান সরকারের প্রথম এবং প্রধান অগ্রাধিকার।”
ছবি : সংগৃহীত
দুপুরের মধ্যে দেশের ৬ অঞ্চলে ঝড়-বৃষ্টির আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এসব এলাকার নধীবন্দরকে ১ নম্বর সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
রোববার (১৬ আগস্ট) ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
অঞ্চলগুলো হলো- খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার।
পূর্বাভাসে বলা হয়, এসব অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ/দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়াসহ অস্থায়ীভাবে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬-এর উদ্বোধনসহ বেশ কয়েকটি কর্মসূচিতে অংশ নিতে রোববার (১৬ আগস্ট) কিশোরগঞ্জ যাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানিয়েছেন, সকালে সড়কপথে কিশোরগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হবেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান সকালে কিশোরগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন। তিনি সড়কপথে যাবেন। সেখানে কটিয়াদি উপজেলার আচমিতা ইউনিয়নে জর্জ ইনস্টিটিউট মিনি স্টেডিয়ামে জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬-এর উদ্বোধনসহ বেশ কয়েকটি কর্মসূচিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অংশ নেবেন।’
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর কিশোরগঞ্জে এটি তার প্রথম সফর।
মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাহ উদ্দিন টুকু জানান, প্রধানমন্ত্রী রোববার কিশোরগঞ্জ থেকে জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। এবারে এই দিবসটির প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে, ‘রুপালি মৎসে স্বনির্ভর দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’।
প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচি অনুযায়ী, বেলা সাড়ে ১১টায় পাকুন্দিয়ার মির্জাপুর চেয়ারম্যান বাড়ি ঘাট এলাকায় ব্রক্ষপুত্র নদে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ, বিতরণ ও শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন তিনি। এরপর সাড়ে ১২টায় কটিয়াদি কার্ড হ্যাচারি কমপ্লেক্স পরিদর্শন করবেন।
দুপুর ১টায় আচমিতা জর্জ ইন্সটিটিউশন মাঠে জাতীয় মৎস্য পক্ষ দিবসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও জাতীয় মৎস্য পদক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। আড়াইটায় শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন।
দুপুর ৩টা ১৫ মিনিটে সার্কিট হাউজে মধ্যাহ্নভোজ শেষে বিকেল ৪টায় পুরাতন কিশোরগঞ্জ স্টেডিয়ামে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ এবং ইমাম-মুয়াজ্জিন-পুরোহিত-ভিক্ষু-পার্দীসহ বিভিন্ন ধর্মীয় ব্যক্তিদের সম্মানি প্রদানের অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন তিনি।
অতিরিক্ত প্রেস সচিব বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী দিনব্যাপী কর্মসূচি শেষে সড়কপথে ঢাকায় ফিরবেন।’
সূত্র: বাসস
রাখাইনে ২০১৬ এবং ২০১৭ সালে মিয়ানমারের সামরিক অভিযানের পর বাংলাদেশে আশ্রয় নেয় আট লাখের বেশি রোহিঙ্গা
মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে আবারও 'বাঙালি' দাবি করে নতুন একটি বিবৃতি দিয়েছে মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। রাখাইনের বাসিন্দা হিসেবে পরিচয় নিশ্চিত হওয়া ব্যক্তিদেরই ফেরত নেওয়া হবে বলে এতে বলা হয়েছে।
মিয়ানমারের দেওয়া ওই বিবৃতিতে রাখাইন রাজ্যের "নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি হলে" বাংলাদেশের আশ্রয়শিবিরে থাকা তিন লাখের কিছু বেশি 'বাস্তুচ্যুত' মানুষকে ফিরিয়ে নিতে ইচ্ছুক হওয়ার কথা যেমন বলা হয়েছে, তেমনি বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দেওয়া তালিকায় যে সংখ্যা উল্লেখ করা হয়েছে- তা নিয়ে আপত্তিও জানিয়েছে দেশটি। এছাড়া রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে 'বাঙালি' হিসেবে উল্লেখ করে মিয়ানমার দাবি করেছে, যে জাতিগত নামে (রোহিঙ্গা) তাদেরকে পরিচয় করানো হচ্ছে সেই নামে কোনো গোষ্ঠী দেশটিতে নেই।
মিয়ানমারের এই বিবৃতি নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি বাংলাদেশ। তবে বিবৃতিটিকে পুরোনো কৌশলের পুনরাবৃত্তি হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, বিবৃতিতে যে-সব ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে, তার মাধ্যমে কেবল নিজস্ব ন্যারেটিভ প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করেছে মিয়ানমার। একইসঙ্গে, এই বিবৃতির মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিন পর রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ইস্যুতে আবারও আলোচনার ক্ষেত্র তৈরি হলো বলেও মনে করছেন বিশ্লেষকদের কেউ কেউ।
বিবৃতিতে যা বলা হয়েছে
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে বাস্তুচ্যুত ব্যক্তিদের প্রত্যাবাসনের বিষয়ে শনিবার একটি বিবৃতি দিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। যেখানে দাবি করা হয়েছে যে, এই ইস্যুতে গণমাধ্যমে "একপেশে, ভুল তথ্য ও অপতথ্য" প্রচার করা হচ্ছে। তাদের জাতিগত পরিচয় নিয়েও বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে বলে দাবি দেশটির।
তারা বলছে, অন্যান্য দেশে যাওয়া ব্যক্তিদের "মিয়ানমারে কখনো না থাকা একটি জাতিগত পরিচয়" দিয়ে পরিচিত করা হচ্ছে। "বাংলাদেশের ক্যাম্পে থাকা সবাইকে মিয়ানমারের বলে প্রচার করা হচ্ছে। অন্যান্য দেশে যাওয়া ব্যক্তিদের- মিয়ানমারে কখনো না থাকা একটি জাতিগত পরিচয় দেওয়া হচ্ছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে," বিবৃতিতে উদ্বেগ জানিয়েছে মিয়ানমার। এছাড়া বাংলাদেশের প্রসঙ্গ টেনে বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে, দুই দেশের মধ্যে সমাধানের বিষয় হলেও এটিকে আন্তর্জাতিক ইস্যু হিসেবে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
মিয়ানমারের দাবি, ২০১৬ সালের অক্টোবর-নভেম্বর এবং ২০১৭ সালের অগাস্টে রাখাইনের উত্তরাঞ্চলে আরসা "সন্ত্রাসী গোষ্ঠী" পুলিশ ফাঁড়ি ও ব্যাটালিয়নে সমন্বিত হামলা চালায়। যার "প্রতিরক্ষামূলক জবাব" হিসেবে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান চালায় দেশটির রাষ্ট্রীয় বাহিনী। আরসার হুমকির কারণে স্থানীয় জাতিগোষ্ঠীর মানুষ অন্য শহর ও গ্রামে চলে যায়, আর "বিপুল সংখ্যক বাঙালি" বাংলাদেশে পালিয়ে যায়।
মিয়ানমারের দাবি, আরসার হামলার আগে বুথিদং, মংডু ও রাথিডং টাউনশিপে সাত লাখ ৪০ হাজারের বেশি "বাঙালি" বসবাস করত। ঘটনার পর সেখানে দুই লাখের বেশি থেকে যায় এবং ৫ লাখ ৪০ হাজার বাংলাদেশে চলে যায়। এই হিসাবের ভিত্তিতে মিয়ানমারের দাবি, "রাখাইন থেকে ১০ লাখের বেশি বাস্তুচ্যুত" — এই তথ্যটি সঠিক নয়।
বিবৃতি অনুযায়ী, বাস্তুচ্যুতদের ফেরত পাঠাতে বাংলাদেশের সঙ্গে ২০১৮ ও ২০১৯ সালে তিনটি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি করেছে মিয়ানমার। চুক্তি অনুযায়ী তিন দফায় তাদেরকে ফেরত নেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হলেও "একজনও" ফেরত যায়নি বলে দাবি করেছে নেপিদো। বাংলাদেশের দেওয়া আট লাখ ২৮ হাজার ৮২৪ জনের তালিকার মধ্যে ২০২৬ সালের ৩১শে জুলাই পর্যন্ত মিয়ানমার চার লাখ ২৬ হাজার ৫৪৫ জনকে যাচাই করেছে। যার মধ্যে তিন লাখ আট হাজার ৭৯৭ জন রাখাইন রাজ্যের সাবেক বাসিন্দা বলে প্রমাণিত, চার হাজার ২৪১ জন "সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত" বলে চিহ্নিত এবং এক লাখ ১৩ হাজার ৫০৭ জনের তথ্য যাচাই করা সম্ভব হয়নি বলে দাবি করা হয়েছে। যাচাই হওয়া বাস্তুচ্যুতদের দ্রুত ফেরত নিতে "আন্তরিক সদিচ্ছা" নিয়ে কাজ চলছে বলেও জানিয়েছে মিয়ানমার।
তারা বলছে, রাখাইন রাজ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও স্থিতিশীল হলে যাচাই হওয়া রাখাইন রাজ্যের সাবেক বাসিন্দাদের গ্রহণ করা হবে। মিয়ানমার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই বিবৃতির প্রেক্ষিতে শনিবার রাত পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করেনি বাংলাদেশ। এ নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি।
পুরোনো কৌশল
২০১৭ সালে মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে সেনাবাহিনীর নির্যাতনে মুখে প্রায় সাড়ে সাত লাখের মতো রোহিঙ্গা সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নেয়। এর আগে ও পরে বিভিন্ন সময় আরও প্রায় চার থেকে পাঁচ লাখের মতো রোহিঙ্গা মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে এসেছে। গত ২৮শে এপ্রিল জাতীয় সংসদে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জানিয়েছেন, মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের সংখ্যা বর্তমানে প্রায় ১১ লাখ ৮৯ হাজার।
রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে ২০১৭ সালের নভেম্বর মাসে অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন মিয়ানমারের তৎকালিন বেসামরিক সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশ একটি চুক্তি করেছিল, যার মধ্যস্থতা করেছিল চীন। এর অংশ হিসেবে ২০১৮ সালের ১৫ই নভেম্বরের মধ্যে রোহিঙ্গাদের প্রথম দলটিকে মিয়ানমারে নিয়ে যাওয়ার কথা থাকলেও সেটি আর বাস্তবে আলোর মুখ দেখেনি। এরপর ২০১৯ সালে অগাস্টে চীনের তরফ থেকে রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর আরেকটি উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু নাগরিকত্বের বিষয়টি সুরাহা না হওয়ায় রোহিঙ্গারা স্বেচ্ছায় যেতে চায়নি।
২০১৮ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে আট লাখ রোহিঙ্গার একটি তালিকা মিয়ানমারকে দিয়েছিল বাংলাদেশ। রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে দ্বি-পাক্ষিক, বহুপাক্ষিক আলোচনা এবং সমঝোতার চেষ্টা হয়েছে একাধিকবার। কিন্তু তাদের নিজ দেশে ফেরত যাওয়ার প্রসঙ্গ আলোচনায় এলেও বাস্তব রূপ পায়নি। এবার যে বিবৃতি মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দিয়েছে, সেটিকে সময়ক্ষেপণের পুরোনো কৌশল হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
এছাড়া রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে বাংলাদেশ যে অবস্থান তৈরি করেছে, তার বিপরীতে নিজেদের একটি পাল্টা অবস্থান এই বিবৃতির মাধ্যমে তৈরির চেষ্টা মিয়ানমার করেছে বলেও মত অনেকের। মিয়ানমারে নিযুক্ত বাংলাদেশের সাবেক কূটনীতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক অবসরপ্রাপ্ত মেজর এমদাদুল ইসলাম বলছেন, অতীতে নানাভাবে সময়ক্ষেপণের যে চেষ্টা মিয়ানমারের ছিল, এবারও সেই পথেই হেটেছে তারা।
তিনি বলছেন, অতীতেও বাংলাদেশ যখন আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের তালিকা পাঠিয়েছিল, তখনও সেটি নিয়ে যাচাইবাছাইয়ের নামে সময়ক্ষেপণের কৌশল নিয়েছিল মিয়ানমার। "অতীতে যখন তারা প্রত্যাবাসনে রাজি হলো তখনও এমন একটি সংখ্যা তারা উল্লেখ করেছিল। যেখানে একই পরিবারের দুইজনকে হয়ত বৈধ বলেছে, আর একজনকে বলেছে অবৈধ। অর্থাৎ বাবাকে নিচ্ছে, মা বাদ; আবার মা-বাবা বৈধ, কিন্তু সন্তান বাদ। এরকম একটা দুষ্টু বুদ্ধির কারণে পরে আর রিপাট্রিয়েশন হয়নি," বলেন তিনি।
এবারও মিয়ানমার সেই কৌশল নিয়েছে বলেই মনে করেন বিশ্লেষকদের অনেকে। এছাড়া, আন্তর্জাতিক পরিসরে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী নিয়ে নিজেদের অবস্থানও মিয়ানমার প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছে বলে মনে করেন শরণার্থী বিষয়ে বিশেষজ্ঞ আসিফ মুনীর। তিনি বলছেন, "আন্তর্জাতিক পরিসরে রোহিঙ্গা ক্রাইসিস সমাধান নিয়ে যে আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে, তার কাউন্টার হিসেবে মূলত এই ন্যারেটিভটা তারা সামনে এনেছে।"
রোহিঙ্গা নামে কোনো জাতিগোষ্ঠী মিয়ানমারে নেই, এই বিষয়টিও আন্তর্জাতিক পরিসরে প্রতিষ্ঠিত করারও একটি চেষ্টা এই বিবৃতিতে রয়েছে বলে মনে করেন মুনীর। ১৩৫টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মধ্যে রোহিঙ্গাদের স্বীকৃতি দেয় না মিয়ানমার। তারা রোহিঙ্গাদের বারবরই 'বাঙালি' হিসেবে আখ্যায়িত করে। "এটা তাদের এক ধরনের ছক, যেটা আমরা আগেও দেখেছি। এটা বিশ্বাস করার আসলে তেমন কারণ নেই যে তারা সত্যিকার অর্থেই ফেরত নেবে," বলেন তিনি।
এছাড়া এই জনগোষ্ঠীর সংখ্যা, তারা বাঙালি না রোহিঙ্গা এসব নিয়ে এই বিবৃতিতে নানা বক্তব্য থাকলেও তাদের ফিরিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে যে প্রস্তুতি বা নিরাপত্তার বিষয়গুলো রয়েছে তা নিয়ে কোনো আলোচনা নেই। মুনীর বলছেন, মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বর্তমানে যে সমীকরণ তৈরি হয়েছে, তার প্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক মহলে নিজেদের ইতিবাচক অবস্থান দেখানোর একটি চেষ্টা হতে পারে।
"মিয়ানমারে কদিন আগেই নির্বাচনের মাধ্যমে একটি সরকার গঠন হয়েছে। যদিও অভিযোগ রয়েছে যে, এটি তাদের যে মিলিটারি গভর্নমেন্ট তাদেরই স্বীকৃতি দেওয়ার একটা প্রক্রিয়া। এই গণতান্ত্রিক রূপটিকেও তারা এই বিবৃতির মাধ্যমে জায়েজ করার চেষ্টা করেছে," বলেন তিনি। অবশ্য মিয়ানমারের এই বিবৃতি দেওয়ায় দীর্ঘদিন পরে হলেও এই ইস্যুতে আলোচনার একটি সুযোগ আবারও তৈরি হলো বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এসএসসি পরীক্ষার সূচি প্রকাশ
২০২৭ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার সময়সূচি প্রকাশ করা হয়েছে। আগামী বছরের ৭ জানুয়ারি থেকে এ পরীক্ষা শুরু হবে। শিক্ষার্থীদের মূল্যবান সময় সাশ্রয় এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষা ক্যালেন্ডারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নির্ধারিত সময়েই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। সময়সূচি পেছানোর কোনো সুযোগ নেই। আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, সরকার ঘোষিত নির্ধারিত সময়েই ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষা শুরু হবে। এর আগে নির্ধারিত সিলেবাস শেষ করে টেস্ট পরীক্ষা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সরকারের ২০২৬ সালের শিক্ষাপঞ্জি অনুযায়ী, এসএসসির টেস্ট বা নির্বাচনী পরীক্ষা আগামী ২৮ অক্টোবর থেকে ১০ নভেম্বর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। পরীক্ষার ফলাফল ১৮ নভেম্বরের মধ্যে প্রকাশ করতে হবে। ফলে টেস্ট পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর এসএসসির প্রস্তুতির জন্য শিক্ষার্থীরা প্রায় দুই মাস সময় পাবে।
তবে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার প্রস্তুতির সময় কিছুটা কমে আসছে। সাধারণত নির্বাচনী পরীক্ষা শেষে এসএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য শিক্ষার্থীরা আড়াই থেকে তিন মাস সময় পেয়ে থাকে। এরই মধ্যে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রি-টেস্ট পরীক্ষা শেষ হয়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সময়ের আগেই পাঠ্যসূচি শেষ করে অক্টোবরের মাঝামাঝি টেস্ট পরীক্ষা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
রাজধানী ঢাকা ছাড়াও বিভিন্ন বিভাগীয় ও জেলা শহরের কয়েকটি প্রতিষ্ঠান এমন পরিকল্পনা করছে। তবে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান সরকারি শিক্ষাপঞ্জি অনুযায়ী টেস্ট পরীক্ষা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
ফলে এসব প্রতিষ্ঠানে অক্টোবরের শেষ দিকে বা নভেম্বরের শুরুতে নির্বাচনী পরীক্ষা হতে পারে। এতে এসএসসি পরীক্ষার আগে শিক্ষার্থীরা দুই মাসেরও কম সময় পেতে পারে।
এ নিয়ে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাদের আশঙ্কা, নির্বাচনী পরীক্ষার পর প্রস্তুতির সময় কমে গেলে শিক্ষার্থীদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে, যার প্রভাব পরীক্ষার ফলাফলেও পড়তে পারে।
আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেন, নির্ধারিত সময়ে পাঠ্যসূচি শেষ করে টেস্ট পরীক্ষা নেওয়া হলে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতিতে বড় ধরনের সমস্যা হবে না। প্রতিষ্ঠানগুলোকে সময়মতো সিলেবাস শেষ করে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা বলছেন, সব প্রতিষ্ঠানের পক্ষে অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে পাঠ্যসূচি শেষ করা সম্ভব না-ও হতে পারে। বিশেষ করে শহরের বাইরের প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রস্তুতির সময় কমে গেলে শিক্ষার্থীদের ঘাটতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এসএসসি
দীর্ঘদিন ধরে এসএসসি পরীক্ষা ফেব্রুয়ারির শুরুতে এবং এইচএসসি পরীক্ষা এপ্রিলের শুরুতে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছিল। তবে করোনা মহামারির পর থেকে সেই সূচি আর ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষা শুরু হয়েছিল ২১ এপ্রিল এবং এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হয় ২ জুলাই।
অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেন, নানা কারণে প্রতিবছর শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন থেকে কয়েক মাস করে সময় হারিয়ে যাচ্ছে। এতে বিদেশে উচ্চশিক্ষায় যেতে আগ্রহী শিক্ষার্থীরাও সেশনজটের কারণে সমস্যায় পড়ছে।
তিনি বলেন, শিক্ষাবর্ষের কার্যক্রম নির্ধারিত সময়ে ফিরিয়ে আনতে পরীক্ষার সময়সূচিও ধীরে ধীরে স্বাভাবিক করতে হবে। ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষা জানুয়ারির শুরুতে নেওয়ার উদ্যোগ সেই প্রক্রিয়ারই অংশ।
তিনি বলেন, নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষা আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন থেকে হারিয়ে যাওয়া মূল্যবান সময় কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
জনগণকে বিভ্রান্ত না করে দেশের উন্নয়নে বিরোধীদলকে সঠিক পরিকল্পনা উপস্থাপনের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তিনি বলেন, দেশের বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট সমাধানে অন্য রাজনৈতিক দল সরকারের চেয়ে ভালো পরিকল্পনা দিলে, তাদের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে এবং বাস্তবায়নও করা হবে। কিন্তু কেবল জনগণকে বিভ্রান্ত করতে অপপ্রচার ছড়ালে, জনগণের কাছেই তাদের ক্ষমা চাইতে হবে।
দেশনেত্রী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দুস্থ, অসহায় ও অসুস্থ মানুষের মাঝে চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
আজ শনিবার রাজধানীর মহাখালীর টিঅ্যান্ডটি মাঠে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এ সময় বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়াও করা হয়।
তারেক রহমান বলেছেন, বাংলাদেশের মানুষ তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন দেখতে চায়। তারা দেখতে চায় প্রিয় মাতৃভূমিকে পৃথিবীর বুকে ধীরে ধীরে এগিয়ে যেতে। কিন্তু সামনে এগিয়ে যেতে এবং মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে দেশের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে কর্মীর হাতে রূপান্তর করতে হবে। শ্রমিকের হাতে রূপান্তরিত করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণকে বিভ্রান্ত করা একজন রাজনীতিবিদের কাজ বা দায়িত্ব না। বরং জনগণকে ধৈর্য শেখানো এবং সঠিক পথ দেখানো তার দায়িত্ব।
দেশে বিশৃঙ্খলার রাজনীতির দিন শেষে মন্তব্য করে তারেক রহমান বলেন, মিথ্যাচার ও বিশৃঙ্খলার রাজনীতি স্বৈরাচার সরকার করে গেছে। কিন্তু বর্তমান রাজনীতিবিদরা জনগণের কাছে উন্নয়নের প্রতিজ্ঞা করেছেন। তাই, হঠকারিতা ও বিভ্রান্তির রাজনীতি বাদ দিয়ে জনমানুষের কল্যাণে পরিকল্পনা উপস্থাপন করুন।
তিনি বলেন, রাস্তায় দাঁড়িয়ে ভাঙচুর করার রাজনীতির দিন এখন নেই। জনগণ আর সেই রাজনীতি সমর্থনও করে না।
তারেক রহমান বলেন, ঢাকা-১৭ আসনে আমাদের প্রতিনিধিরা জনগণের সেবায় কাজ করছেন। পাশের লেকটি পরিষ্কার করতে ছয় মাস সময় লাগে। এসব সহজ কাজ না; কিন্তু সমালোচনা করা সহজ। তাই যারা সমালোচনায় ব্যস্ত আছেন, তারা এখনই মাঠে নামুন। মানুষ এবং দেশের জন্য কাজ করুন; সঠিক কথা বলুন। দেশে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয় এমন কথা থেকে বিরত থাকুন।
তিনি আরও বলেন, স্বৈরাচারের সঙ্গে যুদ্ধ করে বিএনপির নেতা-কর্মীরা রাজপথে টিকে আছেন। যারা আজ বড় গলায় কথা বলছে এবং মিথ্যাচার করছে, গত ১৭ বছর মানুষ তাদের রাজপথে দেখতে পায়নি। দেশের বড় পত্রিকাগুলোর পাতায় চোখ বুলালেই দেখা যাবে, কিভাবে আমাদের নেতা-কর্মীদের ওপর নির্যাতন, গুম, হত্যাসহ পিটিয়ে রক্তাক্ত করা হয়েছিল।
তারেক রহমান বলেন, একটি রাজনৈতিক দলের নেতারা ৭১ সালে ভুল করেছে, ৮৬ সালে ভুল করেছে, ৯৬ সালে ভুল করেছে, আবার ২০২৬ সালেও মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। তাদের বলবো, এসব উস্কানির রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসুন। মানুষের উপকারের পরিকল্পনা থাকলে সংসদে উপস্থাপন করুন। জনগণের সামনে তুলে ধরুন। আমরা সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করবো।
প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব-২ এবং ঢাকা-১৭ আসনের প্রতিনিধি আবদুর রহমান সানী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।
প্রতীকী ছবি
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আট শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে ৭৯৮ শিশু। শনিবার (১৫ আগস্ট) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে তথ্যটি নিশ্চিত করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও আট শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে মোট ৮০৩ শিশুর।
আর হামে আক্রান্ত হয়ে আরও ৯৯ শিশু প্রাণ হারিয়েছে। অর্থাৎ হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে এই সময়ে মোট ৯০২ শিশু মারা গেছে।
এছাড়া ২৪ ঘণ্টায় ৭০ শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে, আর হামের উপসর্গজনিত রোগীর সংখ্যা ৭২৮। এই সময়ে ৭০০ শিশু নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, আর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ৫৪৯ শিশু।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা এক লাখ ৪১ হাজার ৭৭৬, আর নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১৭ হাজার ৮০০।
এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট এক লাখ ২৩ হাজার ৪৯৪ রোগী, যাদের মধ্যে এক লাখ ১৯ হাজার ৮৯ জন ছাড়পত্র পেয়ে ইতোমধ্যে বাড়ি ফিরেছে।