প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

  • প্রকাশ : শনিবার ১৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১:৩৭ পিএম

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সরকার এমন একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গড়তে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যেখানে চিকিৎসা পাওয়ার জন্য কোনো নাগরিককে দেশের বাইরে হয়তো যেতে হবে না। কেউ অর্থাভাবে স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিতও হবে না। শনিবার সকালে ৫০০ শয্যা বিশিষ্ট ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হাসপাতালের ভবন-২ এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের সবারই কম-বেশি জানা আছে, স্নায়ুবিক জটিলতা যেমন স্ট্রোক, খিঁচুনি, পারকিনসন ডিজিজ, ডিমেনশিয়া কিংবা মেরুদণ্ডের জটিল রোগ বর্তমানে বিশ্বজুড়ে এক বিশাল চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। আমাদের দেশে এ ধরনের আধুনিক ও বিশেষিত চিকিৎসার চাহিদা প্রতিনিয়ত বেড়েই চলেছে।’


আজ হাসপাতাল সম্প্রসারণের মধ্য দিয়ে এ ধরনের রোগের চিকিৎসার সক্ষমতা বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আধুনিক আইসিইউ, অপারেশন থিয়েটার, আধুনিক ডায়াগনোসিস সুবিধা এবং বিশেষায়িত ওয়ার্ডের সমন্বয় গঠিত এই নতুন ভবন কেবল রোগীভর্তির ধারণ ক্ষমতাকেই বাড়াবে না। একইসঙ্গে চিকিৎসা, গবেষণা ও উচ্চতর শিক্ষার ক্ষেত্রে এক বিরাট মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।’


‘শুধু প্রযুক্তি থাকলে একটি স্বাস্থ্য ব্যবস্থা উন্নত হয় না। এর সঙ্গে মানসিকতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ প্রযুক্তি রোগ শনাক্ত করতে পারে, কিন্তু রোগীর ভয়, উদ্বেগ ও মানসিক কষ্ট বুঝে তাকে আশ্বস্ত করার ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের মানবিক আচরণের বিকল্প নেই। এ কথা আমরা সকলেই উপলব্ধি করি। রোগীর প্রতি একজন চিকিৎসক বা স্বাস্থ্যকর্মীর সহানুভূতিপূর্ণ আচরণ, মনোযোগ দিয়ে রোগীর কথা শোনা, রোগীর মানসিক অবস্থা বোঝা এবং রোগীর সঙ্গে সম্মানজনক আচরণ চিকিৎসার মান অনেক বাড়িয়ে দেয়। একইসঙ্গে আমাদের এটি অবশ্যই মনে রাখতে হবে, চিকিৎসা সেবা এবং চিকিৎসা পরিবেশ নির্ভীক করতে সকল দায় দায়িত্ব চিকিৎসকের একক নয়। বরং আমি মনে করি চিকিৎসক, রোগী ও রোগীর উদ্বিগ্ন স্বজন—এই তিনটি পক্ষের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা, সম্মান ও সহানুভূতি সম্পর্ক বজায় থাকা অত্যন্ত জরুরি,’ যোগ করেন তিনি।


তারেক রহমান বলেন, ‘বর্তমান সরকার স্বাস্থ্যের অধিকার কেবল মৌলিক অধিকারী নয়, এটি একটি জাতির অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নতির চাবিকাঠি বলে মনে করে। আমি মনে করি, স্বাস্থ্য সেবা সহজলভ্য এবং সবার জন্য সমানভাবে প্রাপ্য হওয়া অত্যন্ত জরুরি। উন্নত চিকিৎসা যদি শুধু শহরের বৃত্তবান মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে সেটিকে পূর্ণাঙ্গ আধুনিক স্বাস্থ্য সেবা বলা যাবে না।’


‘সুতরাং প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ, দরিদ্র জনগোষ্ঠী এবং প্রান্তিক মানুষের কাছে সাশ্রয়ী ও মানসম্মত চিকিৎসা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে বর্তমান সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। প্রত্যন্ত অঞ্চলের একজন রোগীকে যাতে যেকোনো চিকিৎসার জন্য প্রচুর অর্থ ব্যয় করে রাজধানীতে আসতে না হয়। এ জন্য সরকার ই-হেলথ কার্ডের মাধ্যমে একটি আধুনিক ও কার্যকর রেফারেন্স সিস্টেম গড়ে তোলার পাশাপাশি, চিকিৎসা সুবিধা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার জন্য কাজ করছে,’ বলেন তিনি। বর্তমান সরকারের মেয়াদকালে পর্যায়ক্রমে প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালকে ১৫১ শয্যার হাসপাতালে উন্নীত করা হবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।


আজকে শিশুরাই আগামীর ভবিষ্যৎ উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের প্রতি বিশেষ নজর দেওয়া আমাদের সবার দায়িত্ব ও কর্তব্য বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি। সেদিকে লক্ষ্য রেখে বর্তমান সরকার শিশুদের জন্য নতুন শিক্ষা কারিকুলাম প্রণয়ন করছে। একইভাবে শিশু স্বাস্থ্যের প্রতিও সরকার বিশেষভাবে নজর দিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে খুলনা, বরিশাল, রংপুর ও রাজশাহী বিভাগ এবং কুমিল্লা জেলায় একটি করে ২০০ শয্যা বিশিষ্ট বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল চালু করার কাজ শুরু করেছে।’ আগামী অক্টোবরে একযোগে এই পাঁচটি বিশেষিত শিশু হাসপাতাল চালু করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।


‘জাতীয় বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে এ যাবতকালে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দিয়ে বর্তমান সরকার প্রমাণ করেছে, সরকার সুস্বাস্থ্যের বাংলাদেশ গড়তে চায়। এটি কেবল একটি স্লোগান নয়, বরং সরকার দেশে একটি কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়। যাতে করে মানুষ দেশের ভেতরে সকল রকমের স্বাস্থ্য সেবা পায়। তবে স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা সেবার মান উন্নয়নে সরকার যতই উদ্যোগ গ্রহণ করুক, চিকিৎসক, স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, গবেষক সর্বোপরি স্বাস্থ্য খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার ভূমিকার ওপর স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা সেবার সাফল্য নির্ভর করছে,’ যোগ করেন তিনি।



সর্বশেষ সব খবর

প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১১:০৫ পিএম

শিক্ষকদের স্বতন্ত্র পে-স্কেল বা আলাদা বেতন কাঠামো তৈরির বিষয়টি সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, জাতি গঠনে শিক্ষকদের অনন্য ভূমিকা বিবেচনায় নিয়ে তাদের বেতন অন্য কোনো পেশার সঙ্গে তুলনা করা উচিত নয়।


মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাজধানীর একটি হোটেলে তথ্যপুস্তক পর্যালোচনা বিষয়ক ‘খেলায় খেলায় শিখি’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী এই গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন।


স্বতন্ত্র পে-স্কেল ও শিক্ষকদের মর্যাদা


শিক্ষকদের জীবনমান উন্নয়ন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ে ইতিবাচক চিন্তা রয়েছে। তবে বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠনের নানা ধরনের প্রস্তাব আসায় বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করতে হচ্ছে। শিক্ষকদের পে স্কেল অন্যদের সঙ্গে তুলনীয় না হওয়ার পক্ষে মত দিয়ে তিনি বলেন, বেতন কম হোক কিংবা বেশি হোক—শিক্ষকদের সঙ্গে অন্য কারও পেশার তুলনা চলে না।


জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের এক সংসদ সদস্যের করা বেতনের তুলনামূলক সমালোচনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এমন তুলনা শিক্ষকদের মর্যাদার সঙ্গে পুরোপুরি অসমাঞ্জস্যপূর্ণ। শিক্ষকদের শুধু আর্থিক সুযোগ-সুবিধা নয়, বরং তাঁদের পেশাগত মর্যাদা ও জীবনমানের সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করার ওপরও বিশেষ জোর দেন তিনি।


শিক্ষক সংকট নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপে জোর


প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে বিদ্যমান শিক্ষক-সংকটের বিষয়টি তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী জানান, দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষকসহ বিভিন্ন শূন্য পদ পূরণে ২০১৭ সাল থেকে মামলা ও নানা প্রশাসনিক জটিলতা বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতি দ্রুত কাটিয়ে উঠতে সরকার সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।


কারিগরি শিক্ষার বিস্তার


অনুষ্ঠানে দেশের বিশাল জনগোষ্ঠীকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার কারিগরি শিক্ষা ও জীবনব্যাপী শিক্ষার সুযোগ বাড়ানোর লক্ষ্যে বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।


জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমির (নেপ) মহাপরিচালক ফরিদ আহমদের সভাপতিত্বে কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক, সেভ দ্য চিলড্রেনের কান্ট্রি ডিরেক্টর সুমন সেনগুপ্ত এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী।

সর্বশেষ সব খবর

শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৯:২৩ পিএম

শিক্ষার্থীদের আনন্দময় শিক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। আজ মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হোটেলে ‘খেলায় খেলায় শিখি তথ্যপুস্তক পর্যালোচনা’ বিষয়ক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।


মন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের স্কুলমুখী করতে স্কুল ড্রেস ও মিডডে মিল কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে সরকার। আগামীতে দেশের সব উপজেলাকে মিডডে মিল কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত করা হবে।


তিনি বলেন, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে বাংলাদেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীতে ‘খেলাধুলা’ ও ‘বাংলাদেশের সংস্কৃতি’ নামক দু’টি নতুন পাঠ্যবই যুক্ত করা হচ্ছে। এছাড়া ষষ্ঠ শ্রেণিতে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ শীর্ষক পাঠ্যপুস্তক প্রণয়নের কাজ চলছে। পাশাপাশি, ২০২৮ সাল থেকে প্রথম শ্রেণির কারিকুলামে খেলাধুলা বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হবে।


এ সময় মন্ত্রী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে দেশীয় খেলাগুলো প্রসারের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।


মন্ত্রী আরো বলেন, দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষকের অভাব রয়েছে। এ সমস্যা নিরসনে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের নিয়ে ‘রিটায়ার্ড টিচার্স পুল’ গঠন করা যেতে পারে।


তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে আগামীর বাংলাদেশ গড়তে সকলকে একযোগে কাজ করতে হবে।


বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, শিশুদের আনন্দময় শিক্ষা দিতে হবে, যাতে তাদের শেখার আগ্রহ আসে। প্রাথমিক শিক্ষার ক্ষেত্রে সকলকে একত্রে কাজ করতে হবে।


যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক দেশের সব জায়গায় খেলার মাঠ বৃদ্ধি করা এবং প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের বিকাশে সরকার গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগের কথা বলেন।


জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমির মহাপরিচালক ফরিদ আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী এবং সেভ দ্য চিলড্রেনের কান্ট্রি ডিরেক্টর সুমন সেনগুপ্ত উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৯:১৭ পিএম

লিবিয়ার বেনগাজির গানফুদা ডিটেনশন সেন্টারে বন্দি ১৭৪ জন বাংলাদেশি নাগরিককে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। আজ ভোর ৬টায় বুরাক এয়ারের একটি বিশেষ ফ্লাইটে তাদের বাংলাদেশে আনা হয় বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।


এতে আরও বলা হয়েছে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, লিবিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে লিবিয়া সরকার ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার সহযোগিতায় এই প্রত্যাবাসন কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে।


প্রত্যাবাসিত বাংলাদেশিদের বেশিরভাগই সমুদ্র পথে অবৈধভাবে ইউরোপ গমনের উদ্দেশ্যে মানবপাচারকারীদের প্ররোচনায় ও সহযোগিতায় লিবিয়ায় অনুপ্রবেশ করে বলে জানা যায়। তাদের অনেকে লিবিয়াতে বিভিন্ন সময়ে অপহরণ ও নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।


পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার কর্মকর্তাগণ প্রত্যাবাসিত বাংলাদেশি নাগরিকদের বিমানবন্দরে অভ্যর্থনা জানান।


জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে তাদের এই দুর্বিষহ অভিজ্ঞতা সবার সঙ্গে বিনিময় করার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তাদের অনুরোধ জানানো হয়।


আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার পক্ষ থেকে প্রত্যাবাসনকৃত প্রত্যেককে পথখরচা, খাদ্যসামগ্রী, প্রাথমিক চিকিৎসা এবং প্রয়োজনে অস্থায়ী বাসস্থানের ব্যবস্থা করা হয়।


সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৮:৫০ পিএম

বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাউবি) বিএ এবং বিএসএস পরীক্ষা-২০২৫ সুষ্ঠুভাবে ও নকলমুক্ত পরিবেশে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতিমূলক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।


আজ মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকাল ১০:০০ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা বিভাগের আয়োজনে ভার্চুয়ালি (অনলাইন প্ল্যাটফর্মে) এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।


পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) জনাব মোঃ হাবিবুল্যাহ মাহামুদ-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য প্রদান করেন বাউবির মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান।


প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাননীয় উপাচার্য বলেন, "বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা সম্পর্কে প্রচলিত নেতিবাচক ধারণা পরিবর্তনে সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও দায়িত্বশীলভাবে পরীক্ষা গ্রহণের কোনো বিকল্প নেই। এ জন্য পরীক্ষা বিভাগ, আঞ্চলিক ও উপ-আঞ্চলিক কেন্দ্র, পরীক্ষা কমিটি, শিক্ষক-কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সমন্বিত ও দায়িত্বশীল ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পরীক্ষার্থীদের প্রতি মানবিক আচরণ করতে হবে, তবে তা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি-বিধানের মধ্য থেকেই করতে হবে। তিনি আরও বলেন, পরীক্ষা কার্যক্রমকে অটোমেশনের আওতায় আনার উদ্যোগ এগিয়ে চলছে এবং আইসিটি প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা হচ্ছে। বিশেষ টিম ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন এবং পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোতে দায়িত্ব পালনের বিষয়টি কঠোরভাবে মনিটর করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ভর্তি ও অনুমোদন সংক্রান্ত পেন্ডিং কার্যক্রম দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি নির্দেশনা প্রদান করেন।


মাননীয় উপাচার্য বিএ এবং বিএসএস পরীক্ষা-২০২৫ নকলমুক্ত, সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশে আয়োজনের পাশাপাশি উত্তরপত্র দ্রুত মূল্যায়ন এবং স্বল্পতম সময়ে ফলাফল প্রকাশের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন। এ লক্ষ্যে পরীক্ষা শুরুর পর থেকেই মনিটরিং জোরদারের কথা জানান। তিনি আসন্ন পরীক্ষা নিয়ে জনসচেতনতা তৈরিতে গণমাধ্যম ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ইতিবাচক প্রচারণার ওপর গুরুত্ব দেন এবং পরীক্ষার সার্বিক সাফল্যের জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিকভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।


সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বিশেষ অতিথি হিসেবে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন মাননীয় প্রো-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আনিসুর রহমান, মাননীয় প্রো-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোঃ সিরাজুল ইসলাম এবং মাননীয় ট্রেজারার অধ্যাপক ড. শেখ রফিকুল ইসলাম।


সভাপতির বক্তব্যে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) জনাব মোঃ হাবিবুল্যাহ মাহামুদ বলেন, "বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় দীর্ঘদিনের জটিলতা থেকে বের হয়ে আসছে। এবারও পরীক্ষা কার্যক্রম নির্ধারিত সময়ের তুলনায় এক থেকে দেড় মাসেরও বেশি সময় এগিয়ে আনা হয়েছে এবং ফলাফল প্রকাশের সময়ও কমিয়ে আনা হয়েছে। কোনো অবস্থাতেই এ পরীক্ষায় পুরাতন খাতা ব্যবহার করা যাবে না এবং একজন পরীক্ষার্থী ১০টি কোর্সের বেশি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন না বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এ বিষয়ে তিনি আঞ্চলিক ও উপ-আঞ্চলিক কেন্দ্রের প্রধান এবং সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সতর্কতার সাথে পরীক্ষা গ্রহণের আহ্বান জানান। পরীক্ষা কার্যক্রম সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট সবার সমন্বিত সহযোগিতা কামনা করেন। দীর্ঘ সময় ধরে পরীক্ষার প্রস্তুতি ও কার্যক্রমে সময় দেওয়ার জন্য তিনি সকলকে পরীক্ষা বিভাগের পক্ষ থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান এবং সবার সহযোগিতায় সফলভাবে পরীক্ষা সম্পন্ন হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।


উক্ত সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের এসএসএইচএল-এর ডিন অধ্যাপক তানভীর আহসান, এসএসএস বিভাগের পরিচালক অধ্যাপক ড. মোঃ আবু তালেব, বিএ/বিএসএস পরীক্ষা-২০২৫-এর ১ম ও ২য় সেমিস্টার (পার্ট-১) পরীক্ষা কমিটির সভাপতি ড. মোঃ জাকির হোসেন তালুকদারসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক কেন্দ্রের পরিচালকবৃন্দ পরীক্ষার প্রস্তুতি ও সার্বিক ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে তাঁদের মতামত ও বক্তব্য উপস্থাপন করেন।


আইসিটি উপদেষ্টা, পরীক্ষা-সংক্রান্ত কমিটির সদস্যবৃন্দ, তথ্য ও গণসংযোগ বিভাগের যুগ্ম-পরিচালক এবং পরীক্ষা বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ এ সময়ে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া, বিভিন্ন উপ-আঞ্চলিক কেন্দ্রের প্রধানগণ সভায় ভার্চুয়ালি সংযুক্ত ছিলেন।


আসন্ন পরীক্ষায় সারা দেশের ২ শত ৮৮ টি কেন্দ্রে মোট ২ লাখ ৪৭ হাজার ১৩ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করবেন। বিস্তারিত তথ্য ও আপডেটের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট (www.bou.ac.bd) ভিজিট করার অনুরোধ করা হলো।

সর্বশেষ সব খবর

প্রতীকী ছবি

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৮:০৭ পিএম

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে তিন পুরুষের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত ৭৫৩ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।


মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।


এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন, ময়মনসিংহ ও খুলনায় তিনজন মারা গেছেন। এ নিয়ে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে সারা দেশে ৭৪ জন মারা গেছেন। তাদের মধ্যে ৪৩ জন নারী ও ৩১ জন পুরুষ।


গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৪১৭ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৮২, ময়মনসিংহ বিভাগে ৬৫, রংপুর বিভাগে ৭, খুলনা বিভাগে ৯৭, রাজশাহী বিভাগে ৫৫, বরিশাল বিভাগে ৮০ ও সিলেট বিভাগে দুজন রয়েছেন।




সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৭:৩০ পিএম

চালক ও মালিকের পাশাপাশি সড়ক আইন ভাঙলে এবার শাস্তির মুখে পড়তে পারেন যাত্রী ও পথচারীরাও। প্রস্তাবিত ‘সড়ক নিরাপত্তা আইন, ২০২৬’-এ সড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নতুন করে যাত্রী, পথচারী, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায় নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।


প্রস্তাবিত আইনে চালককে দ্রুত গাড়ি চালাতে উৎসাহ দেওয়া, ঝুঁকিপূর্ণভাবে গাড়িতে ওঠা, গাড়ির জানালা দিয়ে হাত বা মাথা বের করা এবং নির্ধারিত আসনের বাইরে বসার মতো অপরাধে যাত্রীকে সর্বোচ্চ এক হাজার টাকা জরিমানার বিধান রাখা হচ্ছে।


ফুটপাত ব্যবহার না করে চলাচল করলেও পথচারীকে একই অঙ্কের জরিমানা করা হতে পারে। পথচারীদের ফুটপাত, নির্ধারিত পারাপার স্থান ও নিরাপদ সড়কদ্বীপ ব্যবহার বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।


তবে দেশের অনেক সড়কে ফুটপাত দখল, অনুপস্থিতি কিংবা চলাচলের অনুপযোগী হওয়ার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। যদিও খসড়ায় নিরাপদ ফুটপাত, পর্যাপ্ত ক্রসিং ও সড়কদ্বীপ তৈরির দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ওপর দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।


নতুন আইনে মোটরসাইকেলে ছয় বছরের কম বয়সী শিশুকে সহযাত্রী হিসেবে নেওয়া নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এর বেশি বয়সী শিশুকে কীভাবে বহন করা যাবে, তা বিধির মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে।


লাইসেন্স ছাড়া অপ্রাপ্তবয়স্ককে মোটরসাইকেল চালানোর সুযোগ দিলে মালিক বা অভিভাবককেও দায়ী করার প্রস্তাব রয়েছে। একই সঙ্গে চালক ও সহযাত্রী দুজনের জন্যই মানসম্মত হেলমেট ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে।


এ ছাড়া ১৩৫ সেন্টিমিটারের কম উচ্চতার অথবা ১৪ বছরের কম বয়সী শিশুকে মোটরযানের সামনের আসনে বসানো যাবে না। শিশুদের বয়স, উচ্চতা ও ওজন অনুযায়ী বিশেষ নিরাপত্তা আসন বা ‘চাইল্ড রিস্ট্রেইন্ট সিস্টেম’ ব্যবহারের বিধানও প্রস্তাব করা হয়েছে।


গতি নিয়ন্ত্রণেও কঠোর হওয়ার কথা বলা হয়েছে নতুন আইনে। জাতীয় পর্যায়ে মোটরযানের সর্বোচ্চ গতিসীমা ঘণ্টায় ৮০ কিলোমিটার এবং শহর এলাকায় ৪০ কিলোমিটার নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে। এ জন্য স্পিড ক্যামেরা ও স্বয়ংক্রিয় স্পিড ম্যানেজমেন্ট ব্যবস্থা চালুর কথাও বলা হয়েছে।


পথচারী পারাপারের স্থান, মোড় ও রেলক্রসিংয়ের ৫০ মিটারের মধ্যে ওভারটেকিং নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি কুয়াশা, বৃষ্টি বা ধুলায় দৃষ্টিসীমা কমে গেলে এবং জনবহুল এলাকায়ও ওভারটেকিং করা যাবে না।


ক্লান্ত বা ঝিমুনি অবস্থায় গাড়ি চালানো এবং একান্ত প্রয়োজন ছাড়া এক হাতে স্টিয়ারিং নিয়ন্ত্রণও নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব রয়েছে। এসব বিধান প্রথমবার ভাঙলে সর্বোচ্চ এক মাস কারাদণ্ড বা পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ড হতে পারে। পাশাপাশি চালকের এক পয়েন্ট কাটার বিধানও রাখা হয়েছে।


মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো শনাক্তে চালকের নিঃশ্বাস, রক্ত বা অন্য নমুনা পরীক্ষার সুযোগ রাখা হয়েছে। দুর্ঘটনার পর দ্রুত নমুনা সংগ্রহের ব্যবস্থাও থাকবে। নমুনা দিতে অস্বীকার করলে সর্বোচ্চ তিন মাস কারাদণ্ড বা ১০ হাজার টাকা জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ড হতে পারে।


নিরাপদ যানবাহন নিশ্চিত করতে এয়ারব্যাগ, সিটবেল্ট, স্পিড গভর্নর, ইলেকট্রনিক স্ট্যাবিলিটি কন্ট্রোল, অ্যান্টিলক ব্রেকিং সিস্টেম, আধুনিক স্পিড লিমিটার, জিপিএস ট্র্যাকার, ড্যাশ ক্যামেরা ও ড্রাইভিং মনিটরিং সিস্টেম ব্যবহারের প্রস্তাবও রাখা হয়েছে।


পাশাপাশি অটোনোমাস ইমার্জেন্সি ব্রেকিং ও বুদ্ধিমান গতি অভিযোজন ব্যবস্থার কথাও বলা হয়েছে। নতুন গাড়ির নিরাপত্তা যাচাইয়ে ‘নিউ কার অ্যাসেসমেন্ট প্রোগ্রাম’ এবং সড়কের নিরাপত্তা মান নির্ধারণে ‘স্টার রেটিং’ চালুর প্রস্তাব রয়েছে।


পরিকল্পনা থেকে নির্মাণ পর্যন্ত স্বাধীন প্রতিষ্ঠান বা বিশেষজ্ঞ দিয়ে সড়ক নিরাপত্তা অডিট বাধ্যতামূলক করার কথাও বলা হয়েছে।


যানবাহনের ফিটনেস, চালকের যোগ্যতা, রুট পারমিট, অতিরিক্ত কর্মঘণ্টা, অতিরিক্ত যাত্রী ও মালামাল পরিবহন এবং চালক-কর্মীদের স্বাস্থ্যসুরক্ষার ক্ষেত্রে মালিককে দায়ী করার প্রস্তাব রয়েছে। চালক, কন্ডাক্টর ও পরিবহনকর্মীদের নিয়োগপত্র দেওয়ার বিধানও রাখা হয়েছে। দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে প্রথমবার সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার এবং পরবর্তী প্রতিবার ১০ হাজার টাকা জরিমানার প্রস্তাব করা হয়েছে।


সড়কের নকশা, নির্মাণ ও ব্যবস্থাপনায় বিধান লঙ্ঘন করলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি একক বা যৌথভাবে দায়ী হতে পারেন। এ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ড বা ন্যূনতম এক লাখ টাকা জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ডের বিধান প্রস্তাব করা হয়েছে।


প্রস্তাবিত ‘সড়ক নিরাপত্তা আইন, ২০২৬’ বর্তমানে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে রয়েছে। মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর মতামত ও পর্যালোচনার জন্য এটি আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। যাচাই-বাছাই শেষে আইনটি সংসদে উপস্থাপনের প্রক্রিয়া শুরু হবে।


তবে নতুন আইনটি ২০১৮ সালের সড়ক পরিবহন আইন বাতিল করছে না। বরং ওই আইন, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ আইন-২০১৭ এবং মহাসড়ক আইন-২০২১সহ সংশ্লিষ্ট আইনের পরিপূরক হিসেবে কাজ করবে।


আইনটির মূল লক্ষ্য চালক, যাত্রী ও পথচারীর আচরণের পাশাপাশি নিরাপদ যানবাহন, সড়ক অবকাঠামো, গতি নিয়ন্ত্রণ, দুর্ঘটনা তদন্ত এবং দুর্ঘটনার পর চিকিৎসা ও সেবাকে একই কাঠামোর মধ্যে আনা।


তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু নতুন আইন প্রণয়ন করলেই সড়ক নিরাপদ হবে না। নিরাপদ ফুটপাত, আধুনিক যানবাহন, প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি, দক্ষ জনবল, পর্যাপ্ত অর্থায়ন এবং কার্যকর জবাবদিহি নিশ্চিত না হলে নতুন এই আইন বাস্তবে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনতে পারবে না।


সর্বশেষ সব খবর