ছবি : সংগৃহীত
সংসদ অধিবেশন চলাকালে অধিবেশন কক্ষের মাইক বিভ্রাটের কারণে অধিবেশন ৪০ মিনিটের জন্য মুলতবি করা হয়েছে।
রোববার (৫ এপ্রিল) ৫টা বেজে ৫৫ মিনিটে অধিবেশন মুলতবি ঘোষণা দেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ।
এর আগে, সংসদের মাইকের বিভ্রাট দেখা দিলে চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি সংসদে দাঁড়িয়ে জানান, মাননীয় স্পিকার, আমাদের মাইকে সমস্যা দেখা দিচ্ছে। আপনার মাইকেও সমস্যা হচ্ছে।
এ সময় স্পিকার দৃষ্টি আকর্ষণ করে ৪০ মিনিটের জন্য মুলতবি ঘোষণা করেন।
স্পিকার বলেন, মাননীয় সদস্যবৃন্দ স্পিকারের মাইক কাজ করছে না। আপনাদেরও মাইক কাজ করছে না। এ কারণে ৪০ মিনিট বিরতি দেওয়া হলো।
এর আগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয় গত ১২ মার্চ। অধিবেশনের প্রথম দিনই মাইক বিভ্রাট দেখা দেয়। ওইদিনও সংসদের অধিবেশন কিছু সময়ের জন্য মুলতবি করা হয়েছিল।
বঙ্গভবন
নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠানের জন্য প্রস্তুত বঙ্গভবনের দরবার হল।
রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম বলেন, রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠানের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। সব আয়োজন শেষ হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এই শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করছে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, এই শপথ অনুষ্ঠানে ১২ শতাধিক অতিথিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনের দরবার হলে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শপথ নেবেন।
ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে শপথ বাক্য পাঠ করাবেন। মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি এই শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করবেন।
রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠানের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে পাঠানো আমন্ত্রণ কার্ডে বলা হয়েছে, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় রাষ্ট্রপতি দরবার হলে আগমন করবেন। জাতীয় সংগীত ও কোরআন তেলাওয়াতের পর স্পিকার রাষ্ট্রপতির শপথ পরিচালনা করবেন।
উল্লেখ্য, গত ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন আওয়ামী লীগ আমলে নির্বাচিত মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন। পদত্যাগের কারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হয়।
বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা থেকে ৫ পর্যন্ত জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট গ্রহণ হয়। এই নির্বাচনে বিএনপি দলীয় প্রার্থী ছিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল অলি আহমদ।
রাষ্ট্রপতির এই ভোটে ৩৪৯ সংসদ সদস্যের মধ্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫ ভোট পেয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। এই নির্বাচনের মধ্যদিয়ে ২২তম রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনের উত্তরসূরি হিসেবে বঙ্গভবনের বাসিন্দা হচ্ছেন বিএনপির দুর্দিনের কান্ডারি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
ভোট গণনা শেষে গতকাল বিকেলে সংসদ কক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটের ফলাফল ঘোষণা করেন নির্বাচনি কর্তা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দীন। রাতে এই সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
সংসদীয় পদ্ধতি পুনঃপ্রবর্তনের পর ১৯৯১ সালে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের প্রার্থী থাকায় সেবারই ভোটাভুটি হয়েছিল। এর ৩৫ বছর পর একাধিক প্রার্থী থাকায় রাষ্ট্রপতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
দীর্ঘ ৩৫ বছর পর সংসদ সদস্যদের (এমপি) প্রত্যক্ষ ভোটে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনে ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করাবেন।
শপথ অনুষ্ঠানে বিদায়ী রাষ্ট্রপতি, নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, প্রধান বিচারপতি, সাবেক রাষ্ট্রপতি, মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত থাকবেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে আয়োজিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মোট ৩৪৯ ভোটের মধ্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম পেয়েছেন ২৫৫ ভোট। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী অলি আহমদ পান ৮৮ ভোট। এ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের উত্তরসূরি হিসেবে বঙ্গভবনের বাসিন্দা হচ্ছেন বিএনপির দুর্দিনের কান্ডারি মির্জা ফখরুল।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার সংসদ ভবনে দিনভর উৎসবমুখর পরিবেশ ছিল। সংসদের অধিবেশন কক্ষে দুপুর ২টা থেকে ৫টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে ছয়জন ভোটার অনুপস্থিত ছিলেন। বিকেল ৫টা ২৫ মিনিটে নির্বাচনী কর্তা এ এম এম নাসির উদ্দিন বিজয়ী হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলামের নাম ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে সরকারি দলের এমপিরা মুহুর্মুহু করতালি ও টেবিল চাপড়ে তাঁকে অভিনন্দন জানান।
ফল ঘোষণার পর মির্জা ফখরুল ইসলামকে একটি গোলাপ ফুল উপহার দিয়ে অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান। বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে বিরোধী দলের সিনিয়র নেতারা এগিয়ে এলে মির্জা ফখরুল ইসলাম নিজের আসন ছেড়ে সামনে এগিয়ে যান। প্রথমে তিনি বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে কোলাকুলি করে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। পরে বিরোধী দলের উপনেতাসহ অন্যান্য সিনিয়র নেতারাও নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির সঙ্গে কোলাকুলি করে শুভেচ্ছা জানান।
দুপুর ২টায় কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে ভোটের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। শুরুতে নির্বাচনী কর্তা এ এম এম নাসির উদ্দিন ভোটের নির্দেশিকা তুলে ধরেন। এর পরপরই ভোট শুরু হয়। প্রথমে ২টা ৮ মিনিটে ভোট দেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ। এরপর ভোট দেন ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল। পরে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে নিয়ে ভোট দেন সংসদ নেতা তারেক রহমান। এরপরে ভোট দেন মির্জা ফখরুল ইসলাম। বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান ভোট দেন ২টা ১৯ মিনিটে। সংসদ সদস্যরা জাতীয় সংসদে তাদের নির্ধারিত আসনে বসে ছিলেন এবং নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ২০ জন কর্মকর্তা তাদের সহায়তা করেছেন এবং ব্যালট পেপার সরবরাহ করেন।
সরকারি দলের এমপিরা লাইন দিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। বাক্সে ব্যালট রাখার সময় অনেকে হাসিমুখে ছবি তোলেন। প্রথম দেড় ঘণ্টায় উপস্থিত সবাই ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। নিয়ম রক্ষার জন্য বিকেল ৫টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট শুরু থেকে সোয়া ঘণ্টার বেশি সময় অধিবেশন কক্ষে নিজের আসনে অবস্থান করেন সংসদ নেতা তারেক রহমান। পাশের আসনে ছিলেন দলের প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম। এরপর ছিলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ ও প্রবীণ এমপি খন্দকার মোশাররফ হোসেন।
প্রধানমন্ত্রী যখন নিজের আসনে বসেছিলেন তখন এমপিরা সামনে ভিড় করে দাঁড়িয়ে ছিলেন। সংসদ নেতা এমপিদের সঙ্গে কথা বলে তাদের খোঁজখবর নেন। প্রধানমন্ত্রী বিকেল ৩টা ১৩ মিনিটে সংসদ কক্ষ ছেড়ে সংসদ ভবনের নিজ কার্যালয়ে যান। সঙ্গে নেন দলের প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলামকে।
বিকেল ৫টায় ভোট গ্রহণ সমাপ্ত ঘোষণা করে গণনা শুরু হয়। বিকেল ৫টা ২০ মিনিটে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করেন সিইসি। রাতেই গেজেট প্রকাশ করে ইসি।
সংসদীয় পদ্ধতি পুনঃপ্রবর্তনের পর ১৯৯১ সালে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের প্রার্থী থাকায় কেবল সেবারই ভোটাভুটি হয়। এরপর গত সাতটি নির্বাচনে একজন করে প্রার্থী থাকায় তারা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।
বর্তমান বিয়েসহ সন্তানের তথ্য অন্তর্ভুক্ত করতে সংশ্লিষ্টদের আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে
কাবিননামায় বর ও কনের আগের ও বর্তমান বিয়েসহ সন্তানের তথ্য অন্তর্ভুক্ত করতে সংশ্লিষ্টদের আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান এই নোটিশ পাঠান। আইন ও বিচার বিভাগের সচিব ছাড়াও লেজিসলেটিভ ও সংসদ-বিষয়ক বিভাগের সচিব এবং নিবন্ধন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শককে এই নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
নোটিশে বলা হয়, মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) বিধিমালা, ২০০৯ এর অধীনে ব্যবহৃত বাংলাদেশ ফরম নম্বর ১৬০১ বা ‘ঘ’ ফরমের বর্তমান কাবিননামাটি অসম্পূর্ণ ও অসমতাপূর্ণ। এতে বর ও কনের পূর্ববর্তী সব বিয়ে, সাবেক স্বামী বা স্ত্রীর পরিচয়, বিয়ে ও তালাক নিবন্ধনের তথ্য, বিবাহবিচ্ছেদ কার্যকর হওয়ার তারিখ, চলমান বৈবাহিক মামলা এবং বিদ্যমান সন্তানের তথ্য যথাযথভাবে উল্লেখ ও যাচাই করার ব্যবস্থা নেই।
এই অবস্থায় আইনি নোটিশে কাবিননামা সংশোধন করে বর ও কনের জন্য সমানভাবে প্রত্যেকের পূর্ববর্তী ও বিদ্যমান বিয়ের তথ্য, সংশ্লিষ্ট স্বামী বা স্ত্রীর পরিচয়, বিবাহ ও তালাকের তারিখ-স্থান ও নিবন্ধন নম্বর, বিবাহবিচ্ছেদের পদ্ধতি ও কার্যকর হওয়ার তারিখ এবং প্রয়োজনীয় দলিল বা মামলার তথ্য প্রকাশ বাধ্যতামূলক করার দাবি জানানো হয়েছে। সেই সঙ্গে বিদ্যমান সন্তান ও তাদের বিষয়ে চলমান ভরণপোষণ, অভিভাবকত্ব বা অন্যান্য আইনি দায় সম্পর্কে প্রয়োজনীয় ঘোষণা রাখার দাবিও জানানো হয়েছে।
এ ছাড়াও নোটিশে বিদ্যমান বিয়ে থাকা অবস্থায় নতুন বিয়ের ক্ষেত্রে মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ এর ৬ ধারা অনুযায়ী সালিশ পরিষদের লিখিত অনুমতির নম্বর ও তারিখ কাবিননামায় অন্তর্ভুক্ত করার দাবিও জানানো হয়েছে। পাশাপাশি জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট, জন্মনিবন্ধন, বিবাহ ও তালাকের নথি, মৃত্যু সনদসহ সংশ্লিষ্ট তথ্য যাচাই বাধ্যতামূলক করার কথাও বলা হয়েছে।
নোটিশে ২০২৫ সালের ১১ ডিসেম্বর হাইকোর্টের দেয়া একটি রায়ের কথা উল্লেখ করে বলা হয়, ওই রায়ে বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন বাধ্যতামূলকভাবে ডিজিটাল করার এবং সংশ্লিষ্ট রেকর্ড নিরাপদে সংরক্ষণ ও যাচাইয়ের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
তবে মূল কাবিননামায় প্রয়োজনীয় তথ্যের ঘর না থাকলে ডিজিটাল ব্যবস্থাও শুধু অসম্পূর্ণ তথ্যই সংরক্ষণ করবে। এজন্য ডিজিটালাইজেশনের পাশাপাশি মূল ফরম সংশোধন এবং নিবন্ধকদের ওপর সুস্পষ্ট যাচাইয়ের দায়িত্ব আরোপ করা প্রয়োজন।
নোটিশে আইনজীবী ইশরাত হাসান বলেন, অসম্পূর্ণ ও অসমতাপূর্ণ কাবিননামার ব্যবহার পারিবারিক জীবনে ক্ষতি সৃষ্টি করছে। এটি আইনের আশ্রয়, মর্যাদা ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তার অধিকারের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ।
ফলে কোনো ব্যক্তি আগের একাধিক বিয়ে, বিদ্যমান বৈবাহিক সম্পর্ক, বিতর্কিত বা অনিবন্ধিত তালাক, সন্তান কিংবা আগের পরিবারের প্রতি চলমান ভরণপোষণ ও অভিভাবকত্বসংক্রান্ত দায় গোপন করে নতুন বিয়েতে আবদ্ধ হতে পারেন। এতে প্রতারণার সুযোগ সৃষ্টি হয় এবং নতুন জীবনসঙ্গীর জ্ঞাতসারে সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকার ক্ষুণ্ন হয়।
লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ জনজীবন
গ্যাস সংকটে কমেছে বিদ্যুৎ উৎপাদন। এর মধ্যে বেড়েছে গরম। ফলে দেশজুড়ে লোডশেডিং বেড়েছে। রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় দফায় দফায় বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। কোথাও কোথাও ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় ক্ষোভ বাড়ছে মানুষের মধ্যে। এরই মধ্যে এক সপ্তাহ ধরে বিদ্যুৎ না পেয়ে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে পিডিবির কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর করেছেন কয়েকশ বাসিন্দা। এ সময় এক প্রকৌশলী আহত হয়েছেন।
টুয়াখালীতে দিনে-রাতে ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় ব্যাহত হচ্ছে ব্যবসা-বাণিজ্য ও চিকিৎসাসেবা। চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে দিনে ১০ থেকে ১২ বার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। মৌলভীবাজারে লোডশেডিংয়ের কারণে ব্যাহত হচ্ছে চা উৎপাদন।
পিজিসিবির হিসাবে, বুধবার রাত ৯টায় দেশে বিদ্যুতের ঘাটতি ছিল ২ হাজার ২৬৬ মেগাওয়াট। রাতে আর সকালের দিকে ঘাটতি কিছুটা কমলেও গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরের পর আবার বাড়ে। বিকেল ৩টায় লোডশেডিং ছিল ১ হাজার ৭৭৪ মেগাওয়াট। রাত ৮টায় তা হয় ১ হাজার ৫৯৮ মেগাওয়াট। তবে বিতরণ কোম্পানি সূত্রে জানা গেছে বাস্তবে লোডশেডিং আরও বেশি।
রাজধানীর সেগুনবাগিচার বাসিন্দা নাসরিন সুলতানা বলেন, গরমের মধ্যে একাধিকবার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। গতকাল দুপুর ১২টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ ছিল না। বাসায় শিশু ও বয়স্ক মানুষ থাকায় দুর্ভোগ বেড়েছে। কখন বিদ্যুৎ যায়, কখন আসে তার ঠিক নেই।
মগবাজারের বাসিন্দা নাসিমা বেগম বলেন, বিশেষ করে রাতে বিদ্যুৎ গেলে গরমে কষ্ট হচ্ছে। কয়েক দিন ধরে পরিস্থিতি খারাপ যাচ্ছে।
পটুয়াখালীতে পরিস্থিতি বেশ খারাপ। জেলা শহরসহ বিভিন্ন এলাকায় দিন-রাত মিলিয়ে ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে ব্যবসা-বাণিজ্য থেকে শুরু করে হাসপাতাল, হোটেল-রেস্তোরাঁর কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।
পটুয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির হিসাবে, জেলার দুটি গ্রিডে বিদ্যুতের চাহিদা ১০৬ মেগাওয়াট। সরবরাহ হচ্ছে ৫৭ মেগাওয়াট। পায়রা গ্রিডে ৪৪ মেগাওয়াটের বিপরীতে সরবরাহ ২৩ মেগাওয়াট। আর পটুয়াখালী গ্রিডে ৬২ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে পাওয়া যাচ্ছে ৩৪ মেগাওয়াট।
ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মোহাম্মদ খোকন মিয়া বলেন, বিশেষ করে সন্ধ্যায় বিদ্যুৎ গেলে বেচাকেনা কমে যায়। এক থেকে দেড় ঘণ্টা পর বিদ্যুৎ এলেও কিছুক্ষণ পর আবার চলে যায়। আরেক ব্যবসায়ী জায়নাল আবেদীন জানান, বিদ্যুৎ না থাকলে দোকানে মোমবাতি জ্বালিয়ে বসতে হয়। এতে প্রতিদিন বাড়তি খরচ হচ্ছে।
হাসপাতালগুলোতেও তৈরি হচ্ছে বাড়তি চাপ। শহরের একটি হাসপাতালের ব্যবস্থাপক অলিউর রহমান বলেন, অস্ত্রোপচারের সময় বিদ্যুৎ চলে গেলে জেনারেটর চালাতে হয়। এতে খরচ বাড়ার পাশাপাশি রোগীদেরও ভোগান্তি হয়।
চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে দিনে ১০-১২ বার বিদ্যুৎ যায়
গ্যাস সংকটে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ার প্রভাব পড়েছে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও। বিমানবন্দর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দিনে ১০ থেকে ১২ বার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে।
বিমানবন্দরে পিডিবির দুটি জরুরি সংযোগ রয়েছে। এর পরও জাতীয় গ্রিডে ঘাটতির কারণে লোডশেডিং ঠেকানো যাচ্ছে না। বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর জেনারেটর চালু হতে ৩০ থেকে ৪০ সেকেন্ড সময় লাগে। ফলে ওই সময় বিমানবন্দরের বিভিন্ন অংশ অন্ধকার হয়ে যায়। তবে গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতিতে আলাদা ব্যাকআপ থাকায় বিমান ওঠানামায় বড় ধরনের সমস্যা হচ্ছে না।
চা উৎপাদনেও ধাক্কা
মৌলভীবাজারে লোডশেডিংয়ের সরাসরি প্রভাব পড়েছে চা উৎপাদনে। জেলার ৯৩টি চা বাগানে এখন উৎপাদনের ভরা মৌসুম। কিন্তু দিনে প্রায় ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় কারখানা সচল রাখতে জেনারেটর চালাতে হচ্ছে।
বাগান-সংশ্লিষ্টদের হিসাবে, বিদ্যুৎ সংকটে প্রতিটি বাগানে প্রতিদিন ২ থেকে ৩ লাখ টাকা বাড়তি ক্ষতি হচ্ছে। বিদ্যুৎ না থাকায় ট্রাফ হাউসে থাকা কাঁচা চা পাতা সময়মতো প্রক্রিয়াজাত করা যাচ্ছে না। এতে বিপুল পরিমাণ পাতা নষ্ট হচ্ছে। কমলগঞ্জের পাত্রখোলা চা বাগানের শ্রমিক রামগোপাল গৌড় বলেন, প্রতিদিন ৮ থেকে ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না। কারখানা চালু রাখতে ১০০ থেকে ২০০ লিটার ডিজেল প্রয়োজন হয়।
পিডিবি অফিসে হামলা
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে ট্রান্সফরমার বিকল হয়ে এক সপ্তাহ ধরে বিদ্যুৎ না থাকায় ক্ষুব্ধ হয়ে পিডিবির কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর করেছেন শতাধিক বাসিন্দা। গতকাল সকালে শিমরাইল গ্রামের প্রায় ২৫০ বাসিন্দা স্থানীয় বিদ্যুৎ অফিসের সামনে বিক্ষোভ করেন। একপর্যায়ে অফিসের কাচ ও সরঞ্জাম ভাঙচুর করা হয়। এ সময় উপসহকারী প্রকৌশলী রেজাউল করিম আহত হন।
স্থানীয়রা জানান, ১৩ আগস্ট রাতে ট্রান্সফরমার নষ্ট হওয়ার পর থেকেই বিদ্যুৎ নেই। এতে পানির সংকট, খাবার সংরক্ষণে সমস্যা এবং প্রচণ্ড গরমে শিশু-বয়স্কদের দুর্ভোগ বেড়েছে। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনাও ব্যাহত হচ্ছে।
বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ ঘাটতির পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে যান্ত্রিক ত্রুটি ও ট্রান্সফরমার সংকটে কোথাও কোথাও পরিস্থিতি আরও খারাপ করছে। তবে মূল চাপ তৈরি হয়েছে গ্যাসের অভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ায়। গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সংকট দ্রুত কাটবে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ফলে লোডশেডিংয়ের ভোগান্তি আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সরকারি দামে মিলছে না সার
চলতি আমন মৌসুমে জয়পুরহাট ও মেহেরপুরে সারের বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। জয়পুরহাটে পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকলেও সারের দাম নেওয়া হচ্ছে আকাশচুম্বী।
সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বস্তাপ্রতি ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা বেশি নিচ্ছেন অসাধু ব্যবসায়ীরা। অন্যদিকে মেহেরপুরে দেখা দিয়েছে টিএসপি সারের ব্যাপক সংকট। রসিদ ছাড়াই ইচ্ছেমতো চড়া দামে সার বেচাকেনা করছে স্থানীয় সিন্ডিকেট। এভাবে বাড়তি দামে সার কিনে আবাদের উৎপাদন খরচ তোলা নিয়ে শঙ্কায় পড়েছেন কৃষকরা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জয়পুরহাটে ৭০ হাজার ৯৫ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এরই মধ্যে ৯৭ ভাগ জমিতে রোপণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তবে ধানক্ষেতের পরিচর্যায় নেমে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন কৃষকরা। ডিলার ও খুচরা বিক্রেতারা নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি হাঁকাচ্ছেন।
চাষিরা জানান, ৫০ কেজির এক বস্তা ইউরিয়া সারের সরকার নির্ধারিত দাম এক হাজার ৩৫০ টাকা। অথচ খুচরা ডিলারদের কাছ থেকে কৃষকদের কিনতে হচ্ছে এক হাজার ৯০০ টাকা থেকে এক হাজার ৯৫০ টাকা পর্যন্ত। একইভাবে এক হাজার ৩৫০ টাকার টিএসপি সার বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ৯০০ থেকে দুই হাজার টাকায়। এক হাজার ৫০ টাকার ডিএপি সার এক হাজার ৫০০ থেকে এক হাজার ৬০০ টাকা এবং এক হাজার ৫০ টাকার এমওপি সার বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ৪০০ টাকায়।
জেলার কালাই পৌরশহরের আঁওড়া মহল্লার কৃষক আমিনুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘দোকানে তালিকামূল্য ঝোলানো থাকলে কী হবে, দাম তো বেশিই নিচ্ছে। মেমো চাইলে সারই দিতে চায় না। আবাদে লোকসানের শঙ্কা প্রকাশ করে ক্ষেতলালের হাটশহর গ্রামের কৃষক নজরুল ইসলাম বলেন, ‘সারের পাশাপাশি অন্যান্য খরচও বেড়ে গেছে। কিন্তু ধানের দাম তো বাড়ে না।’
চাষিদের অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও। ক্ষেতলালের সার ব্যবসায়ী শাহজামান তালুকদার বলেন, ‘কৃষকদের অভিযোগ সত্য। নজরদারি করলে কৃষকরা উপকৃত হবেন।’
তবে জেলা সার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি রওনকুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘চাহিদার তুলনায় সারের প্রাপ্যতা অনেক কম। তবে প্রত্যন্ত এলাকায় যদি কোনো সমস্যা থাকে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ বিসিআইসির কোনো ডিলার সারের দাম বেশি নিচ্ছেন না বলেও দাবি করেন তিনি।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক একেএম সাদিকুল ইসলাম বলেন, জেলাজুড়ে ডিলার পয়েন্টে কর্মকর্তাদের ফোন নম্বর দেওয়া আছে। সারের দাম বেশি নেওয়ার প্রমাণসহ অভিযোগ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মেহেরপুরে তীব্র সার সংকট
এদিকে মেহেরপুরের পরিস্থিতি আরও আশঙ্কাজনক। জেলায় চলতি মৌসুমে ২৬ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। কিন্তু প্রয়োজনের তুলনায় সার বরাদ্দ কম মেলায় তৈরি হয়েছে কৃত্রিম সংকট।
আমন মৌসুমে ইউরিয়া, এমওপি, টিএসপি ও ডিএপি সারের ব্যাপক প্রয়োজন থাকলেও চাহিদার তুলনায় মাত্র ৫০ থেকে ৬০ ভাগ বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে টিএসপি সারের সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। সরকারি ডিলারের কাছে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়েও ৫-১০ কেজির বেশি টিএসপি মিলছে না।
সদর উপজেলার উজুলপুর গ্রামের কৃষক আসাদুল ইসলাম বলেন, ‘এক হাজার ৩৫০ টাকা বস্তার সার এক হাজার ৮০০ থেকে দুই হাজার টাকা দাম হাঁকাচ্ছে। বাকিতে নিলে এ দাম আরও বাড়িয়ে বলছে। বাধ্য হয়ে উচ্চমূল্যেই সার কিনতে হচ্ছে।’
কলাচাষি আবেদ আলী তাঁর কষ্টের কথা জানিয়ে বলেন, ‘আমার ৮ বিঘা কলার জমিতে ৮ বস্তা টিএসপি দরকার। ডিলারের কাছে সারাদিন ধরনা দিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে একটি আইডি কার্ডে ১০ কেজি টিএসপি পেয়েছি।’
বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশন মেহেরপুর জেলা শাখার সভাপতি হাফিজুর রহমান হাফি বলেন, ‘বর্তমানে বেশি সংকট হচ্ছে টিএসপি সারের। বরাদ্দ অনুযায়ী চার ভাগের এক ভাগ সারও পাওয়া যাচ্ছে না।’ তবে বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন।
মেহেরপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ সনজীব মৃধা বলেন, ‘মেহেরপুরে একই জমিতে বছরে তিন-চারবার ফসল চাষ করা হয়। এতে অতিরিক্ত সারের দরকার হয়। তাই ঘাটতি তৈরি হয়েছে।’
মেহেরপুরের জেলা প্রশাসক শিল্পী রানী রায় বলেন, ‘সার সংকট নিরসনে কৃষি বিভাগকে উদ্যোগ নিতে বলেছি। আশা করছি দ্রুত সংকট নিরসন হবে।’
এদিকে, মেহেরপুরের গাংনীতে ২০ বস্তা সারসহ একটি অটোভ্যান আটক করে স্থানীয়রা। গতকাল বৃহস্পতিবার উপজেলার ধানখোলা ইউনিয়নের যুগিন্দা বাজারে এ ঘটনা ঘটে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে অটোভ্যানচালক শাহাবুল ইসলামকে এক হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
গাংনী উপজেলা অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা আরাফাত মিয়া বলেন, আটক করা ২০ বস্তা সার সরকারি মূল্যে কৃষকদের মাঝে বিক্রি করা হয়েছে।
ইটনায় নতুন নীতিমালায় লোকসান, তিন ডিলারের লাইসেন্স সমর্পণ
কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলায় ব্যবসায়ে লোকসানের কারণ দেখিয়ে তিন বিসিআইসি ডিলার উপজেলা কৃষি অফিসে লাইসেন্স জমা দিয়েছেন।
প্রদীপ কুমার পাল, সাজ্জাদ মিয়া ও সঞ্জয় সাহা নামের এই তিন ডিলার জানান, নতুন নীতিমালায় জামানত দুই লাখ থেকে বাড়িয়ে তিন লাখ টাকা করা হয়েছে। এ ছাড়া ইউনিয়নে ডিলারের সংখ্যা বাড়লেও মোট বরাদ্দের পরিমাণ একই থাকছে। এভাবে লস দিয়ে ব্যবসা চালানো সম্ভব নয়।
কিশোরগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. সাদিকুর রহমান বলেন, শূন্য হওয়া তিনটি ডিলার পদের জন্য বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে; আগামী ৩১ আগস্ট আবেদনের শেষ তারিখ।
রুমিন ফারহানা, মির্জা আব্বাস ও ওসমান ফারুক (ওপরে বাঁ থেকে) মোস্তফা কামাল পাশা, আবুল হাসান ও গাজী নজরুল ইসলাম (নিচে)
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে নির্বাচিত স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানাসহ ছয়জন ভোট দেননি। এর মধ্যে বিএনপির মির্জা আব্বাস ও মোস্তফা কামাল পাশা বিদেশে চিকিৎসাধীন।
বিএনপির সংসদ সদস্য ওসমান ফারুক ও খেলাফত মজলিসের আবুল হাসানও ভোট দিতে আসেননি। আবুল হাসান বিদেশে অবস্থান করছেন বলে তাঁর দলের মহাসচিব আহমদ আব্দুল কাদের জানিয়েছেন। জামায়াত থেকে বহিষ্কৃত সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকেও ভোট দিতে দেখা যায়নি।
আদালতের আদেশের কারণে চট্টগ্রাম–৬ আসনের ফল প্রকাশ স্থগিত রয়েছে। একই সঙ্গে ওই আসনের বিএনপির আসলাম চৌধুরীর প্রার্থীতা বাতিল হয়েছে। ফলে বর্তমান সংসদে সংরক্ষিত নারীসহ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটার ছিলেন ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য। এর মধ্যে বিএনপির মনোনীত মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫ ভোট পেয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন। অন্যদিকে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের প্রার্থী অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট। ছয়জন সংসদ সদস্য ভোটদানে বিরত ছিলেন।
ভোটদানে বিরত থাকার বিষয়ে রুমিন ফারহানা বলেন, এই নির্বাচন অর্থহীন এবং প্রহসনের। ভোট না দেওয়ার পক্ষে তিনি তিনটি কারণ তুলে ধরেছেন।
তিনি বলেন, ‘আমার কাছে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে অর্থহীন মনে হয়েছে। কারণ, ভোটে অনিশ্চয়তা না থাকলে সেটা কোনো নির্বাচন নয়। এই ভোটের ফলাফল কী, তা সবার জানা। তাহলে এটাকে ভোট কেন বলব। সুতরাং এটা মনোনয়ন, নির্বাচন নয়।’
বৃহস্পতিবার রুমিন ফারহানা বলেন, ‘আমার কাছে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে অর্থহীন মনে হয়েছে। কারণ, ভোটে অনিশ্চয়তা না থাকলে সেটা কোনো নির্বাচন নয়। এই ভোটের ফলাফল কী, তা সবার জানা। তাহলে এটাকে ভোট কেন বলব। সুতরাং এটা মনোনয়ন, নির্বাচন নয়।’
ভোট না দেওয়ার দ্বিতীয় কারণ ব্যাখ্যা করে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘এত বড় একটি গণ-অভ্যুত্থান গেল, যার সঙ্গে জাতি হিসেবে আমাদের আত্মত্যাগ, অনেক স্বপ্ন জড়িত। তাহলে আমরা সবাই মিলে কেন একজন অরাজনৈতিক এবং গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনীত করতে পারলাম না।’
তৃতীয় কারণকে নিজের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি পদে ভোটের আগে বিএনপি সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের ভয় দেখাল। অথচ ২০১৬ সাল থেকে বিএনপি ভিশন ২০৩০-এ গলার রগ ফুলিয়ে কথা বলছে। এখন তারা বলছে, দলের বাইরে ভোট দিলে তাঁর সদস্যপদ বাতিল হবে। এ রকম প্রহসনের ভোট আমি কেন দেব?’
সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে বলা আছে, কোনো নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক দলের প্রার্থী মনোনীত হয়ে কোনো ব্যক্তি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে ওই দল থেকে পদত্যাগ করলে তাঁর সংসদ সদস্য পদ শূন্য হবে। এ ছাড়া নিজ দলের বিপক্ষে ভোট দিলেও সংসদ সদস্য পদ থাকবে না। তবে একবার শূন্য হওয়ার পর পরবর্তী সময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে সেই নির্বাচনে আবার অংশ নিতে কোনো বাধা নেই।
ভোট চলাকালে ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব গাজী আতাউর রহমানের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়, দলটির একমাত্র সংসদ সদস্য মাওলানা মাহমুদুল হোসাইন অলিউল্লাহ ভোটদানে বিরত থাকবেন। কারণ হিসেবে দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বিষয়ে জুলাই সনদে ঐকমত্য হওয়া সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসায় এই নির্বাচনে ভোট দেবে না ইসলামী আন্দোলন। তবে পরে ইসলামী আন্দোলনের সংসদ সদস্য ভোট দিয়েছেন বলে জানা গেছে।