ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি

  • প্রকাশ : সোমবার ০২ মার্চ, ২০২৬, সময় : ৮:৩৫ এএম

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির হত্যাকাণ্ডের খবরে ব্যথিত হওয়ার কথা জানিয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেই এ হামলা চালানো হয়েছে। 


ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় আলী খামেনি নিহত হওয়ার খবর প্রকাশের এক দিন পর আজ সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা বলা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে লক্ষ্যবস্তু করে হামলা চালিয়ে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে। এটা আন্তর্জাতিক আইন ও রীতির লঙ্ঘন।


এ ঘটনায় শোকসন্তপ্ত ইরানিদের প্রতি গভীর সমবেদনাও জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।


গত শনিবার ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ইরানে বিমান হামলা চালায়। গতকাল রোববার ইরানের পক্ষ থেকে স্বীকার করা হয় যে হামলায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ প্রতিরক্ষা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের কয়েকজন নিহত হয়েছেন।


পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে হামলাকারী হিসেবে কোনো দেশের নাম উল্লেখ না করে বলা হয়, কোনো সংকটের সমাধান সংঘাতে আসবে বলে বাংলাদেশ মনে করে না। বরং পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধা এবং আইন সমুন্নত রেখে আলোচনাই সমাধানের একমাত্র পথ।


ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর ইরান মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়।


পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই হামলার নিন্দা জানিয়ে গতকাল সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছিল। সেখানেও হামলাকারী হিসেবে কোনো দেশের নাম উল্লেখ না করে বাহরাইন, ইরাক, জর্ডান, কুয়েত, কাতার, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোয় সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের নিন্দা জানানো হয়।



সর্বশেষ সব খবর

প্রতীকী ছবি

  • প্রকাশ : রবিবার ০৪ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৫:০৮ পিএম

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে এ সময়ে নিশ্চিত হামে কারও মৃত্যু হয়নি। আজ রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়। এই হিসাব শনিবার সকাল ৮টা থেকে আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত।


স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ নিয়ে চলতি বছর হাম ও উপসর্গে এক হাজার ১২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে ১০২ জন ও হামের উপসর্গ নিয়ে এক হাজার ২৩ জন মারা গেছে।


গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ঢাকা বিভাগে দুইজন ও রংপুর বিভাগে একজন মারা গেছে।


একই সময়ে নতুন করে এক হাজার ২১৮ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে মোট সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৭৪ হাজার ১৪৯ জন।


সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ০৪ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৪:৫৫ পিএম

দেশের বাজারে ফের বাড়ল তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম। নতুন মূল্য অনুযায়ী অক্টোবর মাসের জন্য ১২ কেজি সিলিন্ডার গ্যাসের দাম ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা করা হয়েছে। রোববার বিকেলে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) এ দাম ঘোষণা করে। নতুন দাম আজ সন্ধ্যা থেকেই কার্যকর হবে।


একই হারে সাড়ে ৫ কেজি থেকে ৪৫ কেজি পর্যন্ত বিভিন্ন ওজনের এলপিজি সিলিন্ডারের দামও বাড়ানো হয়েছে। গাড়িতে ব্যবহৃত এলপিজি বা অটোগ্যাসের দাম প্রতি লিটার ৭৩ টাকা ৯ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৮৪ টাকা ৬২ পয়সা করা হয়েছে।


তবে সরকারি কোম্পানির সরবরাহ করা সাড়ে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৮২৫ টাকা অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। যদিও এই এলপিজির সরবরাহ খুবই সীমিত হওয়ায় সাধারণ ভোক্তাদের বেশিরভাগই তা কিনতে পারেন না।


রোববার নতুন দর ঘোষণা করে বিইআরসি জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির দাম বাড়ায় দেশের বাজারেও দাম সমন্বয় করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারের দামের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রতি মাসে এলপিজির দাম নির্ধারণ করে কমিশন।


নতুন দর এমন সময়ে ঘোষণা করা হলো, যখন দেশের বিভিন্ন এলাকায় এলপিজির সংকট চলছে। বাড়তি দাম দিয়েও কোথাও কোথাও গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। আবার যেখানে পাওয়া যাচ্ছে, সেখানে ১২ কেজির সিলিন্ডার ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। ফলে নতুন দর ঘোষণার পর বাজারে ভোক্তার ওপর চাপ আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।


এর মধ্যেই সরবরাহ কমিয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগে ১২ আমদানিকারকের সেপ্টেম্বর মাসের আমদানি ও বিক্রির তথ্য চেয়েছে বিইআরসি। শনিবার চিঠি দিয়ে আজ রোববারের মধ্যে এসব তথ্য জমা দিতে বলা হয়েছে। চিঠিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাছ থেকে পাওয়া আমদানির তথ্যও উল্লেখ করা হয়েছে।


বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ জানিয়েছেন, আমদানি ও বিক্রির তথ্য পাওয়ার পর পরিস্থিতি বুঝে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।


এলপিজি ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির অভিযোগ, গত ২০ সেপ্টেম্বর থেকে আমদানিকারকরা সরবরাহ প্রায় ৮০ শতাংশ কমিয়ে দেন। ২৫ সেপ্টেম্বরের পর কয়েকটি ডিপো থেকে সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। তবে আমদানিকারকরা এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলছেন, তারা বিইআরসির নির্ধারিত দামেই ডিস্ট্রিবিউটরদের কাছে এলপিজি সরবরাহ করছেন। তাদের দাবি, আমদানিকারক পর্যায়ে কোনো কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হয়নি।


এর আগে গত শনিবার জ্বালানি মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকেও আমদানিকারকরা একই দাবি করেন। তারা বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজি ও জাহাজভাড়া বাড়লেও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করছেন তারা। বাজারে কারসাজি হয়ে থাকলে তা ডিস্ট্রিবিউটর ও খুচরা বিক্রেতা পর্যায়ে হতে পারে বলে তাদের দাবি।


বিইআরসির হিসাবে, ২০২১ সালের ১২ এপ্রিল দেশে প্রথমবার এলপিজির মাসভিত্তিক মূল্য নির্ধারণের সময় ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ছিল ৯৭৫ টাকা। এরপর কখনও দাম বেড়েছে, কখনও কমেছে। তবে কমার তুলনায় বাড়ার প্রবণতাই বেশি।


চলতি বছরের জানুয়ারিতে ১২ কেজি এলপিজির দাম ছিল ১ হাজার ২৫৩ টাকা। ফেব্রুয়ারিতে তা বেড়ে হয় ১ হাজার ৩৫৬ টাকা। পরে ভ্যাট কমায় ১৫ টাকা কমে দাম দাঁড়ায় ১ হাজার ৩৪১ টাকা। মার্চে অপরিবর্তিত থাকার পর এপ্রিলে দুই দফায় মোট ৫৯৯ টাকা বেড়ে দাম ১ হাজার ৯৪০ টাকায় ওঠে।


এরপর জুনে ৫৫ টাকা এবং জুলাইয়ে ৩৫৭ টাকা কমানো হয়। আগস্টে আবার ৭০ টাকা বেড়ে দাম হয় ১ হাজার ৫৯৮ টাকা। সেপ্টেম্বরে ১৩ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ৫৮৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এক মাসের ব্যবধানেই এবার সেই দাম আবার ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা করা হলো।


মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির দাম বাড়লেও যুদ্ধবিরতির পর কিছুটা কমে আসে। এরপর কয়েক মাস ধরে বাজারে দামের ওঠানামা চলছে। আন্তর্জাতিক বাজারের এই পরিবর্তনের সঙ্গে সমন্বয় করেই দেশের বাজারে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিইআরসি।


সর্বশেষ সব খবর

বিআরটিএ

  • প্রকাশ : রবিবার ০৪ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৪:২৭ পিএম

জরিমানা ছাড়াই গ্রাহকদের জন্য মোটরযানের যাবতীয় কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স হালনাগাদ করার সময়সীমা আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়িয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। সম্প্রতি এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।


এতে বলা হয়, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে জরিমানা ছাড়া মূল কর ও ফি জমা দিয়ে সব ধরনের মোটরযানের কাগজপত্র (যেমন, ফিটনেস, ট্যাক্স-টোকেন ও রুট পারমিট) এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স হালনাগাদ করা যাবে।


গ্রাহকদের শেষবারের মতো সুযোগ দিয়ে আগামী ২৯ অক্টোবরের মধ্যে সব কাগজপত্র হালনাগাদ করে নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে বিআরটিএ কর্তৃপক্ষ।


এর আগে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে মোটরযান বিক্রির পর মালিকানা পরিবর্তন না করলে এখন থেকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানায় বিআরটিএ।


বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ২১ ধারা অনুযায়ী, কোনো মোটরযান বিক্রি করার পর তার মালিকানা পরিবর্তন করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু ইদানীং দেখা যাচ্ছে, অনেক ক্রেতা মালিকানা পরিবর্তন না করেই গাড়ি সড়ক বা মহাসড়কে ব্যবহার করছেন। এতে বিক্রেতাকে বড় ধরনের আইনি ও আর্থিক জটিলতায় পড়তে হচ্ছে।


মালিকানা পরিবর্তন না করার কারণে পুরোনো মালিককেই ওই মোটরযানের জন্য নির্ধারিত অগ্রিম আয়কর, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ১৫০ শতাংশ অগ্রিম আয়কর এবং পরিবেশ সারচার্জ পরিশোধ করতে হচ্ছে। যা বিক্রেতার জন্য অনাকাঙ্ক্ষিত আর্থিক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।


বিআরটিএ জানিয়েছে, বর্তমানে মালিকানা পরিবর্তনের প্রক্রিয়া অনেক দ্রুত করা হয়েছে। এখন অনলাইনে (bsp.brta.gov.bd) আবেদন করার পর বিক্রেতার উপস্থিতিতে হ্যান্ড-হেল্ড ডিভাইসের মাধ্যমে বায়োমেট্রিক (আঙুলের ছাপ) যাচাই করে একই দিনেই মালিকানা পরিবর্তনের কার্যক্রম সম্পন্ন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ক্রেতা বা নতুন মালিকও ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেটের জন্য বায়োমেট্রিক প্রদান করতে পারছেন।


এ অবস্থায় সংশ্লিষ্ট সব মোটরযান মালিক ও ক্রেতাকে দ্রুত মালিকানা পরিবর্তন কার্যক্রম সম্পন্ন করার অনুরোধ জানিয়েছে বিআরটিএ। অন্যথায় নিয়ম অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ কঠোরভাবে কার্যকর করার লক্ষ্যে মোটরযান চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পয়েন্ট কাটা শুরু করেছে সংস্থাটি।


বিআরটিএ জানায়, সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ধারা-১১ (১) অনুযায়ী প্রতিটি ড্রাইভিং লাইসেন্সের বিপরীতে ১২টি পয়েন্ট বরাদ্দ থাকে। আইন অমান্য বা বিভিন্ন ধারা লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে অর্থদণ্ড বা কারাদণ্ডের পাশাপাশি চালকের লাইসেন্স থেকে অতিরিক্ত হিসেবে দোষসূচক পয়েন্ট কাটা হচ্ছে।

সর্বশেষ সব খবর

ভারতের সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এম জে আকবর

  • প্রকাশ : রবিবার ০৪ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৪:১৩ পিএম

ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে সাময়িক মেঘ বা ঝড় এলেও দুই দেশের দীর্ঘস্থায়ী বন্ধন মুছে যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এম জে আকবর। তিনি বলেন, দুই দেশের সম্পর্কে উত্থান-পতন থাকবেই। তবে সমস্যা সমাধানে সবসময় শুধু কী সম্ভব, তা নয়; কেন অসম্ভব নয়, সেই প্রশ্নও করতে হবে। তাহলেই নতুন সম্ভাবনার পথ খুলে যেতে পারে। 


আজ রোববার রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে বে অব বেঙ্গল কনফারেন্সের বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 


এম জে আকবর বলেন, বাংলাদেশ ও ভারত-দুই দেশই নিজেদের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা রাষ্ট্র। বাংলাদেশের রাষ্ট্রপরিচয়ের মূল ভিত্তি হলো ভাষা। বাংলা ভাষার শক্তি ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ই বাংলাদেশকে অন্যদের থেকে আলাদা বৈশিষ্ট্য দিয়েছে।


দুই দেশের সম্পর্কের উত্থান-পতনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বিভিন্ন প্রশ্ন ও সমস্যা রয়েছে। এসবের সমাধানে শুধু কী করা সম্ভব, তা নিয়ে ভাবলে হবে না। কেন কোনো কিছু সম্ভব নয়, সেই প্রশ্নও করতে হবে। এতে নতুন সম্ভাবনার পথ তৈরি হতে পারে। সার্বভৌমত্বের গুরুত্ব তুলে ধরে এম জে আকবর বলেন, কোনো দেশের সার্বভৌমত্বকে সম্মান করা না হলে বিশ্ব আরও বিশৃঙ্খলার দিকে যেতে পারে।


বর্তমান বিশ্বের যুদ্ধ ও সংঘাত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কোনো যুদ্ধকে অবৈধ বলার আগে এর উৎস ও পটভূমি খুঁজে দেখা জরুরি। তার মতে, বিংশ শতাব্দী ছিল তিনটি বিশ্বযুদ্ধের শতাব্দী। ঠান্ডা যুদ্ধকেও এক ধরনের বিশ্বযুদ্ধ হিসেবে দেখা যায়। 


তিনি আরও বলেন, ইউরোপে ঠান্ডা যুদ্ধ থাকলেও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া বা দক্ষিণ আফ্রিকায় এর প্রভাব মোটেও ঠান্ডা ছিল না। এসব সংঘাতকে বিশ্বযুদ্ধ বলা হয়েছিল এ কারণে নয় যে পুরো পৃথিবী সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছিল। বরং বিশ্বের নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে পরাশক্তি ও সাম্রাজ্যগুলোর মধ্যে সংঘাত ছড়িয়ে পড়েছিল।


একবিংশ শতাব্দীর যুদ্ধের ধরন আগের চেয়ে ভিন্ন বলেও মন্তব্য করেন এম জে আকবর। তিনি বলেন, এখনকার সংঘাতকে একটি একক বিশ্বযুদ্ধ হিসেবে দেখা যায় না। বরং বিশ্বজুড়ে একের পর এক সংঘাত চলছে। এসব যুদ্ধ একটানা চলে না; বিভিন্ন সময়ে শুরু হয়, আবার থেমে যায়। তবে পুরোপুরি শেষ হয় না।

সর্বশেষ সব খবর

ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার

  • প্রকাশ : রবিবার ০৪ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৩:৪০ পিএম

স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের পরও পাশে থাকতে চায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) করার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখছে তারা। 


ঢাকায় নিযুক্ত ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার বলেছেন, বাংলাদেশকে এখন আর শুধু সহায়তা নেওয়া একটি দেশ হিসেবে দেখে না ইইউ। দুই পক্ষের মধ্যে আরও বড় পরিসরে পারস্পরিক লাভের অংশীদারত্ব গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হয়েছে। রোববার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে পঞ্চম বে অব বেঙ্গল কনভারসেশনের একটি অধিবেশনে তিনি এসব কথা বলেন।


বাংলাদেশের সঙ্গে এফটিএ নিয়ে আলোচনার আগে দুই দেশের স্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য আছে কি না, তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন মাইকেল মিলার। তিনি বলেন, এ ধরনের চুক্তিতে ব্যবসার জন্য সমান সুযোগ বা ‘সমতল ক্ষেত্র’ নিশ্চিত করা জরুরি। ইইউ রাষ্ট্রদূত বলেন, ভূরাজনৈতিক টানাপোড়েন, অর্থনৈতিক বিভাজন, জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনে বিশ্ব এখন অনেক বেশি অনিশ্চিত। এমন সময়ে আন্তর্জাতিক আইন, জাতিসংঘ সনদ, মানবাধিকার ও নিয়মভিত্তিক বাণিজ্যের পক্ষে ইইউর অবস্থান আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।


বাংলাদেশের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, দক্ষিণ এশিয়া, বঙ্গোপসাগর ও ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে বাংলাদেশের কৌশলগত গুরুত্ব বাড়ছে। অর্থনীতিতেও দেশটি দ্রুত এগোচ্ছে। একই সঙ্গে এলডিসি থেকে উত্তরণের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে বাংলাদেশ। এফটিএর সাফল্যের জন্য দেশের প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও শক্তিশালী করার ওপর জোর দেন মাইকেল মিলার। 


তাঁর মতে, আইনের শাসন, শ্রমিকের অধিকার, মানবাধিকার, পরিবেশ সুরক্ষা ও সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি স্বাধীন তদারকি এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য পূর্বানুমানযোগ্য সিদ্ধান্ত গ্রহণের পরিবেশ প্রয়োজন।


তিনি বলেন, দক্ষ জনশক্তি তৈরি, সবুজ অর্থনীতি, রপ্তানির নতুন বাজার খোঁজা এবং নির্ভরযোগ্য অবকাঠামো বাংলাদেশের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ। এসব ক্ষেত্রে অগ্রগতি হলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়বে এবং তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। বাংলাদেশে ইউরোপীয় বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি প্রযুক্তি, উন্নত মানদণ্ড, দীর্ঘমেয়াদি মূলধন ও উদ্ভাবন নিয়ে আসতে চায় ইইউ। জনশাসন সংস্কারেও ইউরোপের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে বলে জানান তিনি।


মাইকেল মিলার বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়নযাত্রায় ইইউর ‘এভরিথিং বাট আর্মস’ (ইবিএ) বাণিজ্য সুবিধা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এখন দুই পক্ষের সম্পর্ককে আরও উচ্চতর ও কৌশলগত অংশীদারত্বে নেওয়ার সময় এসেছে। ‘নতুন করে গড়ে ওঠা এক বিশ্বে ক্ষমতা, প্রযুক্তি ও আস্থার পথচলা’ স্লোগানে প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে এ সম্মেলনের আয়োজন করেছে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস)। গতকাল শনিবার সম্মেলনের উদ্বোধনী বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।


এ সম্মেলনে শতাধিক দেশের প্রায় ২০০ বক্তা, ৩০০ প্রতিনিধি এবং এক হাজারের বেশি অংশগ্রহণকারী যোগ দিয়েছেন। এতে সাবেক রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান, মন্ত্রী, কূটনীতিক, গবেষক, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী, নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, উদ্ভাবক ও তরুণ নেতৃত্ব অংশ নিয়েছেন। সম্মেলন শেষ হবে সোমবার।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ০৪ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ২:৪৭ পিএম

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যানজট নিরসনে বৃত্তাকার সড়ক নির্মাণকাজের গতি বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন। ঢাকা মহানগরের যানজট নিরসনে অভ্যন্তরীণ বৃত্তাকার সড়ক (ইনার সার্কুলার রিং রোড) নির্মাণকাজের অগ্রগতি পর্যালোচনায় এক সভায় তিনি এ নির্দেশ দেন।


আজ সোমবার বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু এ কথা জানান।


সভায় প্রধানমন্ত্রী সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় সরকার বিভাগকে সমন্বিতভাবে প্রকল্পের বিদ্যমান পরিকল্পনা পর্যালোচনা করে নির্মাণকাজের গতি বাড়ানোর নির্দেশ দেন।


প্রধানমন্ত্রী প্রকল্প বাস্তবায়নে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা চিহ্নিত করে দ্রুত তা দূর ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করা এবং কাজ শেষ করতে একটি বাস্তবসম্মত সময়সীমা নির্ধারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে তিনি প্রকল্পের কাজে দ্রুত দৃশ্যমান অগ্রগতি নিশ্চিত করারও নির্দেশ দেন।


সভায় সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টনসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ সব খবর