প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বাংলাদেশকে স্বনির্ভর করে গড়ে তোলার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের প্রত্যেক গণতান্ত্রিক মানুষের কাছে আমি একটি কথা তুলে ধরতে চাই- আমাদের এই মহান স্বাধীনতা দিবসে আমাদের আকাঙ্ক্ষা সীমাহীন হলেও সম্পদের সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
আমাদের সাধ এবং সাধ্যের মধ্যে ফারাক থাকলেও দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আমরা যদি ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যাই, একসঙ্গে দেশের জন্য কাজ করি তাহলে অবশ্যই আমরা আমাদের কাঙ্ক্ষিত স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব। শুক্রবার বিকালে রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে মহান স্বাধীনতা দিবসের আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান এই অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষ্যে বিএনপির উদ্যোগে এই আলোচনা সভা হয়। আলোচনা সভার শুরুতে দলের প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াসহ স্বাধীনতা যুদ্ধে বীর শহীদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে মোনাজাত করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আসুন এবারের স্বাধীনতা দিবসের অঙ্গীকার হোক- সমাজের একটি অংশ নয় বরং আমরা সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে নিয়ে আমরা ভালো থাকব। আসুন, আমরা প্রত্যেকে একসঙ্গে সহাবস্থানের মাধ্যমে খারাপকে দূরে ঠেলে দিয়ে ভালো থাকার চেষ্টা করব। এই হোক আমাদের আজকের স্বাধীনতা দিবসের অঙ্গীকার প্রত্যাশা, প্রতিজ্ঞা।
প্রধানমন্ত্রী তার সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি তুলে ধরে বলেন, বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার আপনাদেরই সরকার, বর্তমানের গণতান্ত্রিক সরকার এদেশের মানুষের নির্বাচিত সরকার, বর্তমানের গণতান্ত্রিক সরকার এদেশের মানুষের প্রতিষ্ঠিত সরকার। এই সরকার রাষ্ট্রের বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষকে লক্ষ্য করে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, খাল খনন, বৃক্ষরোপণ, কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে কাজ শুরু করেছে। জনগণের জীবনমান উন্নয়নের বিভিন্ন পদক্ষেপ আমরা গ্রহণ করছি। প্রতিনিয়ত এই সরকার অক্লান্ত পরিশ্রম করছে, চেষ্টা করে যাচ্ছে।
অতীত নিয়ে পড়ে থাকলে এক চোখ অন্ধ, ভুলে গেলে দুচোখ অন্ধ
জিয়াউর রহমানসহ স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী বীরদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধের গৌরব গাঁথা নিয়ে আলোচনা হবে, গবেষণা চলবে এবং এটাই স্বাভাবিক ব্যাপার। তবে আলোচনা-সমালোচনা কিংবা গবেষণার নামে এমন কিছু করা বা বলা অবশ্যই আমাদের জন্য ঠিক হবে না- যেটি আমাদের স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধের গৌরব ইতিহাসকে খাটো করতে পারে। সবাইকে এটা বুঝে চলতে হবে যে- অতীত নিয়ে সবসময় পড়ে থাকলে এক চোখ অন্ধ। আর অতীতকে যদি আমরা ভুলে যাই তাহলে আমাদের দুচোখ অন্ধ। সুতরাং আমরা যেমন অতীতকে একদম ভুলে যাবো না, ভুলে যাওয়া চলবে না; ঠিক একইভাবে নিকট অতীতেও অতীত নিয়ে এত বেশি চর্চা হয়েছে যেটা আমাদের সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎকে বাধাগ্রস্ত করেছে।
জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধের একজন অনিবার্য চরিত্র
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম অনিবার্য চরিত্র শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। আমরা দেখেছি অতীতে যেভাবে শহীদ জিয়াউর রহমানকে তার অবদানকে তার কাজকে খাটো করার চেষ্টা করা হয়েছে এর থেকেই প্রমাণিত হয়েছে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান অবশ্যই বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের একজন অনিবার্য চরিত্র। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হঠাৎ করেই কিন্তু স্বাধীনতার ঘোষণাটি দেননি।
তিনি বলেন, শহীদ জিয়া প্রথম জীবনে অবশ্যই একজন রাজনৈতিক কর্মী ছিলেন না। তিনি একজন সামরিক সৈনিক ছিলেন। তবে তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার যে স্বপ্ন সেটি যে তার মনের মধ্যে সেই বোধশক্তির পথ থেকে লালন করতেন এটি কিন্তু তার একটি লেখায় ফুটে উঠেছে। স্বাধীনতার চিন্তা চেতনা যে তিনি ধারণ করতেন, একটি স্বাধীন বাংলাদেশের জন্য যে তার একটা দীর্ঘ মানসিক প্রস্তুতি ছিল সেটি আমরা তার একটি লেখা থেকেই পরিষ্কারভাবে বুঝতে পারি। কথাগুলো আমার নয়, কথাগুলো কারো মনগাড়াও নয়। এই কথাগুলো আমরা তার নিজের লেখনী থেকে আমরা জানতে পারছি।
১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ রাত ২টা বেজে ১৫ মিনিট বাঙালির হৃদয়ের লেখা একটি দিন
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে শহীদ জিয়ার নিজের লেখা একটি প্রবন্ধ আছে যার শিরোনাম ‘একটি জাতির জন্ম'। প্রবন্ধটি যথেষ্ট বড়। আমি খুব সংক্ষেপে সেই প্রবন্ধের দুই একটি লাইন আপনাদের সামনে বলব। যেখান থেকে পরিষ্কার হয়ে যাবে পুরো বিষয়টি। এই প্রবন্ধের মাধ্যমেই আমরা জানতে পারি যে স্বাধীন বাংলাদেশ, সার্বভৌম একটি বাংলাদেশের স্বপ্ন। বহু দিন যাবত শহীদ জিয়ার মনে লালন করছিলেন। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের লেখা নিবন্ধটি দৈনিক বাংলা পত্রিকার প্রথম ১৯৭২ সালের ২৬ মার্চ প্রকাশিত হয়েছিল। এই প্রবন্ধটি বাংলাদেশের প্রথম স্বাধীনতা দিবসের প্রকাশিত ক্রোড়পত্রে ছাপা হয়েছিল। এই প্রবন্ধটি বা নিবন্ধটির শেষ প্যারায় শহীদ জিয়াউর রহমান লিখেছিলেন, তখন রাত ২টা বেজে ১৫ মিনিট, ২৬ মার্চ ১৯৭১ সাল। রক্তের আখরে বাঙালির হৃদয়ের লেখা একটি দিন। বাংলাদেশের জনগণ চিরদিন স্মরণ রাখবে, এ দিনটিকে ভালোবাসবে। এই দিনটি তারা কোনদিন ভুলবে না, কোন দিন না- এভাবেই উনি লিখেছিলেন। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ রাত ২টা বেজে ১৫ মিনিটে কি হয়েছিল- আমি মনে করি স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে যারা গবেষণা করেন এই তথ্যটি অবশ্যই তাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল হতে পারে।
তিনি বলেন, শহীদ জিয়ার লেখা এই প্রবন্ধটি যখন প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল তখন মাত্র মুক্তিযুদ্ধ শেষ হয়েছে। যারা মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন, যারা মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত ছিলেন তারা কিন্তু প্রত্যেকেই তখন বেঁচে ছিলেন। এই প্রবন্ধটি প্রকাশিত হওয়ার পরে কারো পক্ষ থেকেই আমরা কোনোরকম এমন কিছু আপত্তি বা এমন কিছু কথা পাইনি যা এই প্রবন্ধ বা লেখাটিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
শহীদ জিয়ার এই প্রবন্ধটি যে শুধু ৭২ সালে ২৬ মার্চই প্রকাশিত ছিল তাও নয়। আবারও প্রকাশিত হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে আমরা দেখেছি, শহীদ জিয়াকে খাটো করার জন্য বহু অপচেষ্টা হয়েছে। এখন আপনাদেরকে যে তথ্যটি আমি দেব- তার মাধ্যমে একদম সঠিক যুক্তিতর্কের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়ে যাবে যে, শহীদ জিয়াকে খাটো করার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু আগেই আমি বলেছি যা সত্য তা সত্যই। শহীদ জিয়া যে মুক্তিযুদ্ধের একজন অন্যতম চরিত্র এটিকে লুকানোর কোনও উপায় নেই।
তারেক রহমান বলেন, শহীদ জিয়ার নিবন্ধনটি ১৯৭৪ সালে আবারও প্রকাশিত হয়েছিল সাপ্তাহিক বিচিত্রায়। তার লেখাটি একটি জাতির প্রবন্ধ, লেখাটি আমাদের মুক্তিযুদ্ধের একটি অনন্য দলিল। ৭৪ সালেও আবার যখন প্রকাশিত হয়েছিল কারোরই কোনও আপত্তি ছিল না এবং শহীদ জিয়া তার লেখায় যা যা বলেছিলেন অবিকল ছিল।
সেই সময় সরকারে কারা ছিল রাজনৈতিকভাবে কারা কোথায় অবস্থান করছিল আমাদের কমবেশি প্রত্যেকেরই ধারণা আছে। কিন্তু সেই সময় তৎকালীন সরকার অথবা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব কেউ শহীদ জিয়ার কোনও লেখার প্রবন্ধটির কোনও বক্তব্যকে কেউ কোনোভাবেই খণ্ডন করেননি, চেষ্টাও তারা করেননি। কারণ সেই সময় যারা ছিলেন তারা জানতেন শহীদ জিয়ার প্রতিটি বাক্য, প্রতিটি শব্দ প্রবন্ধে উল্লিখিত সত্য সেগুলো।
২০২৪ সালে দেশ এবং স্বাধীনতা রক্ষা করেছি
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বছরের পর বছর, এমনকি যুগের পর যুগ ধরেও বিশ্বের যেখানে যারা স্বাধীনতার লড়াই করেছেন সংগ্রাম করেছেন একমাত্র তাদের পক্ষেই উপলব্ধি করা সম্ভব স্বাধীনতার মূল্য কতখানি। আমরা যদি একটু পাশে তাকাই তাহলেই দেখতে পারবো স্বাধীনতার গুরুত্ব এবং তাৎপর্য উপলব্ধি করতে পারছে স্বাধীনতাকামী ফিলিস্তিনের মানুষ। লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে আমরা ১৯৭১ সালে আমাদের স্বাধীনতা অর্জন করেছি, হাজারো প্রাণের বিনিময়ে আমরা ২০২৪ সালে দেশ এবং স্বাধীনতা রক্ষা করেছি।
শহীদদের আকাঙ্ক্ষা ছিল স্বাধীন সার্বভৌম নিরাপদ গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা
তারেক রহমান বলেন, ২০২৪ সালের যারা বিভিন্ন প্রতিকূল পরিস্থিতির ভিতরে থেকেও, বিভিন্ন অত্যাচার নির্যাতন সহ্য করেও কীভাবে প্রতিরোধ গড়েছিলেন, কীভাবে স্বৈরাচারকে দেশ থেকে বিতাড়িত করেছিলেন। আমরা আমাদের বহু সহকর্মীকে সেদিন হারিয়েছি। প্রতিটি প্রাণের স্বপ্ন আছে, আকাঙ্ক্ষা আছে, স্বপ্ন ছিল, আকাঙ্ক্ষাও ছিল। সেই আকাঙ্ক্ষা পূরণেই তারা সাহসের সঙ্গে সেদিন লড়াই করেছিল ৭১, ৯০, ২৪ এ। ১৯৭১ থেকে আজ পর্যন্ত সকল প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামের শহীদদের আকাঙ্ক্ষা ছিল সাম্য, মানবিক মর্যাদা এবং সামাজিক ন্যায়বিচারভিত্তিক তাঁবেদার মুক্ত একটি স্বাধীন সার্বভৌম নিরাপদ গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে ও প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহ উদ্দিন আহমদ বক্তব্য রাখেন।
আলোচনা সভায় আরও অংশ নেন শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ওয়াকিল আহমেদ, অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মাহবুবউল্লাহ, বিশ্ববিদ্যালয়ের মঞ্জুরী কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মামুন আহমেদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এবিএম ওবায়দুল ইসলাম।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন
শিক্ষকদের স্বতন্ত্র পে-স্কেল বা আলাদা বেতন কাঠামো তৈরির বিষয়টি সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, জাতি গঠনে শিক্ষকদের অনন্য ভূমিকা বিবেচনায় নিয়ে তাদের বেতন অন্য কোনো পেশার সঙ্গে তুলনা করা উচিত নয়।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাজধানীর একটি হোটেলে তথ্যপুস্তক পর্যালোচনা বিষয়ক ‘খেলায় খেলায় শিখি’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী এই গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন।
স্বতন্ত্র পে-স্কেল ও শিক্ষকদের মর্যাদা
শিক্ষকদের জীবনমান উন্নয়ন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ে ইতিবাচক চিন্তা রয়েছে। তবে বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠনের নানা ধরনের প্রস্তাব আসায় বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করতে হচ্ছে। শিক্ষকদের পে স্কেল অন্যদের সঙ্গে তুলনীয় না হওয়ার পক্ষে মত দিয়ে তিনি বলেন, বেতন কম হোক কিংবা বেশি হোক—শিক্ষকদের সঙ্গে অন্য কারও পেশার তুলনা চলে না।
জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের এক সংসদ সদস্যের করা বেতনের তুলনামূলক সমালোচনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এমন তুলনা শিক্ষকদের মর্যাদার সঙ্গে পুরোপুরি অসমাঞ্জস্যপূর্ণ। শিক্ষকদের শুধু আর্থিক সুযোগ-সুবিধা নয়, বরং তাঁদের পেশাগত মর্যাদা ও জীবনমানের সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করার ওপরও বিশেষ জোর দেন তিনি।
শিক্ষক সংকট নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপে জোর
প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে বিদ্যমান শিক্ষক-সংকটের বিষয়টি তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী জানান, দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষকসহ বিভিন্ন শূন্য পদ পূরণে ২০১৭ সাল থেকে মামলা ও নানা প্রশাসনিক জটিলতা বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতি দ্রুত কাটিয়ে উঠতে সরকার সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
কারিগরি শিক্ষার বিস্তার
অনুষ্ঠানে দেশের বিশাল জনগোষ্ঠীকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার কারিগরি শিক্ষা ও জীবনব্যাপী শিক্ষার সুযোগ বাড়ানোর লক্ষ্যে বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমির (নেপ) মহাপরিচালক ফরিদ আহমদের সভাপতিত্বে কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক, সেভ দ্য চিলড্রেনের কান্ট্রি ডিরেক্টর সুমন সেনগুপ্ত এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী।
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন
শিক্ষার্থীদের আনন্দময় শিক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। আজ মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হোটেলে ‘খেলায় খেলায় শিখি তথ্যপুস্তক পর্যালোচনা’ বিষয়ক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের স্কুলমুখী করতে স্কুল ড্রেস ও মিডডে মিল কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে সরকার। আগামীতে দেশের সব উপজেলাকে মিডডে মিল কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
তিনি বলেন, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে বাংলাদেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীতে ‘খেলাধুলা’ ও ‘বাংলাদেশের সংস্কৃতি’ নামক দু’টি নতুন পাঠ্যবই যুক্ত করা হচ্ছে। এছাড়া ষষ্ঠ শ্রেণিতে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ শীর্ষক পাঠ্যপুস্তক প্রণয়নের কাজ চলছে। পাশাপাশি, ২০২৮ সাল থেকে প্রথম শ্রেণির কারিকুলামে খেলাধুলা বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
এ সময় মন্ত্রী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে দেশীয় খেলাগুলো প্রসারের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।
মন্ত্রী আরো বলেন, দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষকের অভাব রয়েছে। এ সমস্যা নিরসনে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের নিয়ে ‘রিটায়ার্ড টিচার্স পুল’ গঠন করা যেতে পারে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে আগামীর বাংলাদেশ গড়তে সকলকে একযোগে কাজ করতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, শিশুদের আনন্দময় শিক্ষা দিতে হবে, যাতে তাদের শেখার আগ্রহ আসে। প্রাথমিক শিক্ষার ক্ষেত্রে সকলকে একত্রে কাজ করতে হবে।
যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক দেশের সব জায়গায় খেলার মাঠ বৃদ্ধি করা এবং প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের বিকাশে সরকার গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগের কথা বলেন।
জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমির মহাপরিচালক ফরিদ আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী এবং সেভ দ্য চিলড্রেনের কান্ট্রি ডিরেক্টর সুমন সেনগুপ্ত উপস্থিত ছিলেন।
ছবি : সংগৃহীত
লিবিয়ার বেনগাজির গানফুদা ডিটেনশন সেন্টারে বন্দি ১৭৪ জন বাংলাদেশি নাগরিককে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। আজ ভোর ৬টায় বুরাক এয়ারের একটি বিশেষ ফ্লাইটে তাদের বাংলাদেশে আনা হয় বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়েছে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, লিবিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে লিবিয়া সরকার ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার সহযোগিতায় এই প্রত্যাবাসন কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে।
প্রত্যাবাসিত বাংলাদেশিদের বেশিরভাগই সমুদ্র পথে অবৈধভাবে ইউরোপ গমনের উদ্দেশ্যে মানবপাচারকারীদের প্ররোচনায় ও সহযোগিতায় লিবিয়ায় অনুপ্রবেশ করে বলে জানা যায়। তাদের অনেকে লিবিয়াতে বিভিন্ন সময়ে অপহরণ ও নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার কর্মকর্তাগণ প্রত্যাবাসিত বাংলাদেশি নাগরিকদের বিমানবন্দরে অভ্যর্থনা জানান।
জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে তাদের এই দুর্বিষহ অভিজ্ঞতা সবার সঙ্গে বিনিময় করার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তাদের অনুরোধ জানানো হয়।
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার পক্ষ থেকে প্রত্যাবাসনকৃত প্রত্যেককে পথখরচা, খাদ্যসামগ্রী, প্রাথমিক চিকিৎসা এবং প্রয়োজনে অস্থায়ী বাসস্থানের ব্যবস্থা করা হয়।
বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাউবি) বিএ এবং বিএসএস পরীক্ষা-২০২৫ সুষ্ঠুভাবে ও নকলমুক্ত পরিবেশে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতিমূলক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকাল ১০:০০ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা বিভাগের আয়োজনে ভার্চুয়ালি (অনলাইন প্ল্যাটফর্মে) এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) জনাব মোঃ হাবিবুল্যাহ মাহামুদ-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য প্রদান করেন বাউবির মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাননীয় উপাচার্য বলেন, "বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা সম্পর্কে প্রচলিত নেতিবাচক ধারণা পরিবর্তনে সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও দায়িত্বশীলভাবে পরীক্ষা গ্রহণের কোনো বিকল্প নেই। এ জন্য পরীক্ষা বিভাগ, আঞ্চলিক ও উপ-আঞ্চলিক কেন্দ্র, পরীক্ষা কমিটি, শিক্ষক-কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সমন্বিত ও দায়িত্বশীল ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পরীক্ষার্থীদের প্রতি মানবিক আচরণ করতে হবে, তবে তা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি-বিধানের মধ্য থেকেই করতে হবে। তিনি আরও বলেন, পরীক্ষা কার্যক্রমকে অটোমেশনের আওতায় আনার উদ্যোগ এগিয়ে চলছে এবং আইসিটি প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা হচ্ছে। বিশেষ টিম ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন এবং পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোতে দায়িত্ব পালনের বিষয়টি কঠোরভাবে মনিটর করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ভর্তি ও অনুমোদন সংক্রান্ত পেন্ডিং কার্যক্রম দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি নির্দেশনা প্রদান করেন।
মাননীয় উপাচার্য বিএ এবং বিএসএস পরীক্ষা-২০২৫ নকলমুক্ত, সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশে আয়োজনের পাশাপাশি উত্তরপত্র দ্রুত মূল্যায়ন এবং স্বল্পতম সময়ে ফলাফল প্রকাশের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন। এ লক্ষ্যে পরীক্ষা শুরুর পর থেকেই মনিটরিং জোরদারের কথা জানান। তিনি আসন্ন পরীক্ষা নিয়ে জনসচেতনতা তৈরিতে গণমাধ্যম ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ইতিবাচক প্রচারণার ওপর গুরুত্ব দেন এবং পরীক্ষার সার্বিক সাফল্যের জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিকভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বিশেষ অতিথি হিসেবে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন মাননীয় প্রো-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আনিসুর রহমান, মাননীয় প্রো-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোঃ সিরাজুল ইসলাম এবং মাননীয় ট্রেজারার অধ্যাপক ড. শেখ রফিকুল ইসলাম।
সভাপতির বক্তব্যে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) জনাব মোঃ হাবিবুল্যাহ মাহামুদ বলেন, "বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় দীর্ঘদিনের জটিলতা থেকে বের হয়ে আসছে। এবারও পরীক্ষা কার্যক্রম নির্ধারিত সময়ের তুলনায় এক থেকে দেড় মাসেরও বেশি সময় এগিয়ে আনা হয়েছে এবং ফলাফল প্রকাশের সময়ও কমিয়ে আনা হয়েছে। কোনো অবস্থাতেই এ পরীক্ষায় পুরাতন খাতা ব্যবহার করা যাবে না এবং একজন পরীক্ষার্থী ১০টি কোর্সের বেশি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন না বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এ বিষয়ে তিনি আঞ্চলিক ও উপ-আঞ্চলিক কেন্দ্রের প্রধান এবং সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সতর্কতার সাথে পরীক্ষা গ্রহণের আহ্বান জানান। পরীক্ষা কার্যক্রম সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট সবার সমন্বিত সহযোগিতা কামনা করেন। দীর্ঘ সময় ধরে পরীক্ষার প্রস্তুতি ও কার্যক্রমে সময় দেওয়ার জন্য তিনি সকলকে পরীক্ষা বিভাগের পক্ষ থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান এবং সবার সহযোগিতায় সফলভাবে পরীক্ষা সম্পন্ন হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
উক্ত সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের এসএসএইচএল-এর ডিন অধ্যাপক তানভীর আহসান, এসএসএস বিভাগের পরিচালক অধ্যাপক ড. মোঃ আবু তালেব, বিএ/বিএসএস পরীক্ষা-২০২৫-এর ১ম ও ২য় সেমিস্টার (পার্ট-১) পরীক্ষা কমিটির সভাপতি ড. মোঃ জাকির হোসেন তালুকদারসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক কেন্দ্রের পরিচালকবৃন্দ পরীক্ষার প্রস্তুতি ও সার্বিক ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে তাঁদের মতামত ও বক্তব্য উপস্থাপন করেন।
আইসিটি উপদেষ্টা, পরীক্ষা-সংক্রান্ত কমিটির সদস্যবৃন্দ, তথ্য ও গণসংযোগ বিভাগের যুগ্ম-পরিচালক এবং পরীক্ষা বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ এ সময়ে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া, বিভিন্ন উপ-আঞ্চলিক কেন্দ্রের প্রধানগণ সভায় ভার্চুয়ালি সংযুক্ত ছিলেন।
আসন্ন পরীক্ষায় সারা দেশের ২ শত ৮৮ টি কেন্দ্রে মোট ২ লাখ ৪৭ হাজার ১৩ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করবেন। বিস্তারিত তথ্য ও আপডেটের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট (www.bou.ac.bd) ভিজিট করার অনুরোধ করা হলো।
প্রতীকী ছবি
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে তিন পুরুষের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত ৭৫৩ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন, ময়মনসিংহ ও খুলনায় তিনজন মারা গেছেন। এ নিয়ে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে সারা দেশে ৭৪ জন মারা গেছেন। তাদের মধ্যে ৪৩ জন নারী ও ৩১ জন পুরুষ।
গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৪১৭ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৮২, ময়মনসিংহ বিভাগে ৬৫, রংপুর বিভাগে ৭, খুলনা বিভাগে ৯৭, রাজশাহী বিভাগে ৫৫, বরিশাল বিভাগে ৮০ ও সিলেট বিভাগে দুজন রয়েছেন।
চালক ও মালিকের পাশাপাশি সড়ক আইন ভাঙলে এবার শাস্তির মুখে পড়তে পারেন যাত্রী ও পথচারীরাও। প্রস্তাবিত ‘সড়ক নিরাপত্তা আইন, ২০২৬’-এ সড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নতুন করে যাত্রী, পথচারী, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায় নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত আইনে চালককে দ্রুত গাড়ি চালাতে উৎসাহ দেওয়া, ঝুঁকিপূর্ণভাবে গাড়িতে ওঠা, গাড়ির জানালা দিয়ে হাত বা মাথা বের করা এবং নির্ধারিত আসনের বাইরে বসার মতো অপরাধে যাত্রীকে সর্বোচ্চ এক হাজার টাকা জরিমানার বিধান রাখা হচ্ছে।
ফুটপাত ব্যবহার না করে চলাচল করলেও পথচারীকে একই অঙ্কের জরিমানা করা হতে পারে। পথচারীদের ফুটপাত, নির্ধারিত পারাপার স্থান ও নিরাপদ সড়কদ্বীপ ব্যবহার বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
তবে দেশের অনেক সড়কে ফুটপাত দখল, অনুপস্থিতি কিংবা চলাচলের অনুপযোগী হওয়ার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। যদিও খসড়ায় নিরাপদ ফুটপাত, পর্যাপ্ত ক্রসিং ও সড়কদ্বীপ তৈরির দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ওপর দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
নতুন আইনে মোটরসাইকেলে ছয় বছরের কম বয়সী শিশুকে সহযাত্রী হিসেবে নেওয়া নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এর বেশি বয়সী শিশুকে কীভাবে বহন করা যাবে, তা বিধির মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে।
লাইসেন্স ছাড়া অপ্রাপ্তবয়স্ককে মোটরসাইকেল চালানোর সুযোগ দিলে মালিক বা অভিভাবককেও দায়ী করার প্রস্তাব রয়েছে। একই সঙ্গে চালক ও সহযাত্রী দুজনের জন্যই মানসম্মত হেলমেট ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে।
এ ছাড়া ১৩৫ সেন্টিমিটারের কম উচ্চতার অথবা ১৪ বছরের কম বয়সী শিশুকে মোটরযানের সামনের আসনে বসানো যাবে না। শিশুদের বয়স, উচ্চতা ও ওজন অনুযায়ী বিশেষ নিরাপত্তা আসন বা ‘চাইল্ড রিস্ট্রেইন্ট সিস্টেম’ ব্যবহারের বিধানও প্রস্তাব করা হয়েছে।
গতি নিয়ন্ত্রণেও কঠোর হওয়ার কথা বলা হয়েছে নতুন আইনে। জাতীয় পর্যায়ে মোটরযানের সর্বোচ্চ গতিসীমা ঘণ্টায় ৮০ কিলোমিটার এবং শহর এলাকায় ৪০ কিলোমিটার নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে। এ জন্য স্পিড ক্যামেরা ও স্বয়ংক্রিয় স্পিড ম্যানেজমেন্ট ব্যবস্থা চালুর কথাও বলা হয়েছে।
পথচারী পারাপারের স্থান, মোড় ও রেলক্রসিংয়ের ৫০ মিটারের মধ্যে ওভারটেকিং নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি কুয়াশা, বৃষ্টি বা ধুলায় দৃষ্টিসীমা কমে গেলে এবং জনবহুল এলাকায়ও ওভারটেকিং করা যাবে না।
ক্লান্ত বা ঝিমুনি অবস্থায় গাড়ি চালানো এবং একান্ত প্রয়োজন ছাড়া এক হাতে স্টিয়ারিং নিয়ন্ত্রণও নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব রয়েছে। এসব বিধান প্রথমবার ভাঙলে সর্বোচ্চ এক মাস কারাদণ্ড বা পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ড হতে পারে। পাশাপাশি চালকের এক পয়েন্ট কাটার বিধানও রাখা হয়েছে।
মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো শনাক্তে চালকের নিঃশ্বাস, রক্ত বা অন্য নমুনা পরীক্ষার সুযোগ রাখা হয়েছে। দুর্ঘটনার পর দ্রুত নমুনা সংগ্রহের ব্যবস্থাও থাকবে। নমুনা দিতে অস্বীকার করলে সর্বোচ্চ তিন মাস কারাদণ্ড বা ১০ হাজার টাকা জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ড হতে পারে।
নিরাপদ যানবাহন নিশ্চিত করতে এয়ারব্যাগ, সিটবেল্ট, স্পিড গভর্নর, ইলেকট্রনিক স্ট্যাবিলিটি কন্ট্রোল, অ্যান্টিলক ব্রেকিং সিস্টেম, আধুনিক স্পিড লিমিটার, জিপিএস ট্র্যাকার, ড্যাশ ক্যামেরা ও ড্রাইভিং মনিটরিং সিস্টেম ব্যবহারের প্রস্তাবও রাখা হয়েছে।
পাশাপাশি অটোনোমাস ইমার্জেন্সি ব্রেকিং ও বুদ্ধিমান গতি অভিযোজন ব্যবস্থার কথাও বলা হয়েছে। নতুন গাড়ির নিরাপত্তা যাচাইয়ে ‘নিউ কার অ্যাসেসমেন্ট প্রোগ্রাম’ এবং সড়কের নিরাপত্তা মান নির্ধারণে ‘স্টার রেটিং’ চালুর প্রস্তাব রয়েছে।
পরিকল্পনা থেকে নির্মাণ পর্যন্ত স্বাধীন প্রতিষ্ঠান বা বিশেষজ্ঞ দিয়ে সড়ক নিরাপত্তা অডিট বাধ্যতামূলক করার কথাও বলা হয়েছে।
যানবাহনের ফিটনেস, চালকের যোগ্যতা, রুট পারমিট, অতিরিক্ত কর্মঘণ্টা, অতিরিক্ত যাত্রী ও মালামাল পরিবহন এবং চালক-কর্মীদের স্বাস্থ্যসুরক্ষার ক্ষেত্রে মালিককে দায়ী করার প্রস্তাব রয়েছে। চালক, কন্ডাক্টর ও পরিবহনকর্মীদের নিয়োগপত্র দেওয়ার বিধানও রাখা হয়েছে। দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে প্রথমবার সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার এবং পরবর্তী প্রতিবার ১০ হাজার টাকা জরিমানার প্রস্তাব করা হয়েছে।
সড়কের নকশা, নির্মাণ ও ব্যবস্থাপনায় বিধান লঙ্ঘন করলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি একক বা যৌথভাবে দায়ী হতে পারেন। এ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ড বা ন্যূনতম এক লাখ টাকা জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ডের বিধান প্রস্তাব করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত ‘সড়ক নিরাপত্তা আইন, ২০২৬’ বর্তমানে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে রয়েছে। মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর মতামত ও পর্যালোচনার জন্য এটি আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। যাচাই-বাছাই শেষে আইনটি সংসদে উপস্থাপনের প্রক্রিয়া শুরু হবে।
তবে নতুন আইনটি ২০১৮ সালের সড়ক পরিবহন আইন বাতিল করছে না। বরং ওই আইন, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ আইন-২০১৭ এবং মহাসড়ক আইন-২০২১সহ সংশ্লিষ্ট আইনের পরিপূরক হিসেবে কাজ করবে।
আইনটির মূল লক্ষ্য চালক, যাত্রী ও পথচারীর আচরণের পাশাপাশি নিরাপদ যানবাহন, সড়ক অবকাঠামো, গতি নিয়ন্ত্রণ, দুর্ঘটনা তদন্ত এবং দুর্ঘটনার পর চিকিৎসা ও সেবাকে একই কাঠামোর মধ্যে আনা।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু নতুন আইন প্রণয়ন করলেই সড়ক নিরাপদ হবে না। নিরাপদ ফুটপাত, আধুনিক যানবাহন, প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি, দক্ষ জনবল, পর্যাপ্ত অর্থায়ন এবং কার্যকর জবাবদিহি নিশ্চিত না হলে নতুন এই আইন বাস্তবে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনতে পারবে না।