হাইকোর্টে বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের বিক্ষোভ। ছবি : সংগৃহীত
সুপ্রিম কোর্টে আওয়ামী লীগপন্থি আইনজীবীদের অবস্থানকে ঘিরে হাইকোর্ট বিভাগে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেছেন বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের একাংশ। আজ বুধবার (২৯ এপ্রিল) হাইকোর্টের এনেক্স ভবনের নিচে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সদস্যরা এ বিক্ষোভ করেন।
এসময় আওয়ামীপন্থি আইনজীবীদের সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সামনে শেখ হাসিনার নামে স্লোগান দিতে শোনা যায়। এর আগে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে আওয়ামীপন্থি আইনজীবীদের মনোনয়ন বাতিল হয়। এর প্রতিবাদে বুধবার দুপুর দেড়টার দিকে হাইকোর্টের এনেক্স ভবনের নিচে সংবাদ সম্মেলনের ডাক দিয়েছিল আওয়ামীপন্থি আইনজীবীরা।
তবে সংবাদ সম্মেলনের আগেই সেই স্থান দখলে নিয়ে বিক্ষোভ করেন বিএনপিপন্থিরা। পরে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির নবনির্বাচিত আইন সম্পাদক ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল বলেন, আইনগতভাবে আওয়ামী লীগ তার কার্যক্রমে নিষিদ্ধ হয়েছে। তাই তাদের আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার সুযোগ নেই।
তবে বিএনপিপন্থিরা সংবাদ সম্মেলনের স্থান দখলে নেওয়ায় আওয়ামীপন্থি আইনজীবীরা আর পূর্বনির্ধারিত সংবাদ সম্মেলন করেনি।
বাংলাদেশ ও ভারতের পতাকা
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুই দিনব্যাপী বাংলাদেশ-ভারত যৌথ কার্যদলের (জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ) বৈঠক শুরু হয়েছে। স্থলবন্দরের বাধা দূর করা, পাটপণ্যে ভারতের শুল্ক পুনর্বিবেচনা ও আমদানি-রপ্তানি স্বাভাবিক করা বাংলাদেশের প্রধান লক্ষ্য বলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।
বৈঠকে যোগ দিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (এফটিএ) আয়েশা আক্তারের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের বাংলাদেশি প্রতিনিধিদল গতকাল নয়াদিল্লি গেছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, দুই দেশের বাণিজ্য–ঘাটতি কমানো, পণ্য আমদানি-রপ্তানিতে সৃষ্ট প্রতিবন্ধকতা দূর করা আর বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের উপায় নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হবে। বাংলাদেশি পাটপণ্যে ভারতের নতুন শুল্ক এবং ভারতীয় সুতা আমদানিতে বাংলাদেশের বিধিনিষেধও আলোচনায় গুরুত্ব পাবে।
তিন বছর পর বৈঠক
বাংলাদেশ-ভারত যৌথ কার্যদলের আগের বৈঠক হয়েছিল ২০২৩ সালের ২৬ ও ২৭ সেপ্টেম্বর ঢাকায়। এর আগে ১৪তম বৈঠক হয় ২০২২ সালের ২ ও ৩ মার্চ নয়াদিল্লিতে।
২০২৪ সালের আগস্টে বাংলাদেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দুই দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়। এর প্রভাব পড়ে বাণিজ্য আলোচনায়। ফলে নিয়মিত এই বৈঠক নির্ধারিত সময়ে হয়নি। আগের বৈঠকগুলোয় স্থলবন্দর ও সমন্বিত সীমান্তচৌকির অবকাঠামো উন্নয়ন, বন্দরসংক্রান্ত বিধিনিষেধ প্রত্যাহার, সীমান্ত হাট চালু, রেলপথে পণ্য পরিবহন ও আঞ্চলিক যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পণ্যের মানদণ্ড নির্ধারণে সমন্বয় ও পারস্পরিক স্বীকৃতি, বাংলাদেশ-ভারত সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি নিয়ে যৌথ সমীক্ষা ও পেট্রাপোল-বেনাপোল চেকপোস্ট ২৪ ঘণ্টা চালু রাখার বিষয়ও আলোচনায় ছিল।
বিধিনিষেধে কমেছে স্থলপথের বাণিজ্য
দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কে টানাপোড়েনের বড় বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে স্থলবন্দর ব্যবহারের ক্ষেত্রে। ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে বাংলাদেশ বেনাপোল, ভোমরা, সোনামসজিদ, বাংলাবান্ধা ও বুড়িমারী স্থলবন্দর দিয়ে ভারতীয় সুতা আমদানির সুবিধা বন্ধ করে দেয়। সমুদ্রপথে আমদানির সুযোগ অবশ্য রাখা হয়।
এর কয়েক সপ্তাহ পর ভারত বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, প্লাস্টিক, পিভিসিসহ বিভিন্ন পণ্য স্থলপথে আমদানিতে বিধিনিষেধ আরোপ করে। ওই বছরের জুনে পাট ও নির্দিষ্ট কিছু বস্ত্রপণ্যের ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ দেওয়া হয়।
এর প্রভাব পড়ে বেনাপোল স্থলবন্দরের রপ্তানি পরিসংখ্যানে। ২০২৫–২৬ অর্থবছরে এই বন্দর দিয়ে ভারতে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানি হয় ১ লাখ ৮৯ হাজার ৩৫৮ টন। আগের অর্থবছরে রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৩ লাখ ৮১ হাজার ৪৪০ টন।
তবে পরিমাণ কমলেও রপ্তানি আয় প্রায় একই ছিল। ২০২৫–২৬ অর্থবছরে বেনাপোল দিয়ে রপ্তানি আয় হয় ১৭৫ কোটি ডলার। আগের অর্থবছরে তা ছিল ১৭৬ কোটি ডলার।
পাটপণ্যে ভারতের নতুন শুল্ক
বৈঠকের আগে বাংলাদেশি পাটপণ্যে ভারতের নতুন শুল্ক আরোপের বিষয়টি সামনে এসেছে। গত ২৪ সেপ্টেম্বর ভারতের অর্থ মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ ও নেপাল থেকে আমদানি করা পাটের সুতা ও টুইন, হেসিয়ান কাপড়, পাটের বস্তা ও স্যাকিং ক্লথের ওপর সংশোধিত অ্যান্টিডাম্পিং শুল্ক নির্ধারণ করে।
বাংলাদেশি পাটের সুতা ও টুইনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি টনে ৪৪৫ ডলার। ভারতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নতুন তদন্তের ভিত্তিতে এই শুল্ক আরোপ করা হয়নি। আগের শুল্কের মধ্যবর্তী পর্যালোচনার ভিত্তিতে হার পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ ছাড়া গত ২৯ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশসহ পাঁচটি দেশ থেকে আমদানি করা পিইটি ফিল্মের ওপর প্রতি টনে সর্বোচ্চ ২১৮ ডলার অ্যান্টিডাম্পিং শুল্ক আরোপের সুপারিশ করেছে ভারতের বাণিজ্য প্রতিকার অধিদপ্তর (ডিজিটিআর)। বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান আকিজ বায়াক্স ফিল্মসের ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত শুল্ক ৫৮ ডলার। তবে ভারতের অর্থ মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন না হওয়া পর্যন্ত এই সুপারিশ কার্যকর হচ্ছে না।
ব্যবসায়ীদের দাবিও আলোচনায়
নয়াদিল্লির বৈঠকের এজেন্ডা তৈরির আগে গত মে মাসে দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর সঙ্গে বৈঠক করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। ব্যবসায়ীরা স্থলবন্দরের বিধিনিষেধ প্রত্যাহার, অশুল্ক বাধা দূর করা ও আগে বাতিল হওয়া ট্রান্সশিপমেন্ট–সুবিধা পুনরায় চালুর সুপারিশ করেন।
বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের ডেপুটি হাইকমিশনার পবনকুমার তুলসীদাস বাধে গত মাসে এফবিসিসিআই নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে শুল্ক ও অশুল্ক বাধা কমানোর পাশাপাশি দুই দেশের ব্যবসায়ীদের সমন্বয়ে যৌথ ব্যবসায়ী টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়।
এর আগে গত আগস্ট মাসে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির ও ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর বৈঠকে সীমান্ত হাট চালু, স্থলবন্দরগুলোর সক্ষমতা বাড়ানো ও ভারতীয় সুতা আমদানিতে বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের বিষয়টি আলোচনায় আসে।
সুপ্রিম কোর্ট
সুপ্রিম কোর্ট এলাকায় রাতে অপ্রত্যাশিত ব্যক্তিদের প্রবেশের ঘটনায় নিরাপত্তা জোরদারে নতুন নির্দেশনা দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন। এখন থেকে রাত ১১টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্ট এলাকায় প্রবেশের সময় অবশ্যই নিজ নিজ পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখতে হবে। মঙ্গলবার এ বিষয়ে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সুপ্রিম কোর্ট দেশের বিচার অঙ্গনের সর্বোচ্চ স্থান এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। প্রধান বিচারপতি এবং সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগের বিচারপতিরা এখানকার বিভিন্ন ভবনের কোর্ট রুমে বিচার কার্য পরিচালনা করেন। ফলে বিচারপতি, মামলা পরিচালনায় নিয়োজিত আইনজীবী এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা হিসেবে সুপ্রিম কোর্টের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সুপ্রিম কোর্টের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আগে থেকেই প্রবেশের সময় সংশ্লিষ্টদের নিজ নিজ পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে, রাতে সুপ্রিম কোর্ট এলাকায় অপ্রত্যাশিত ব্যক্তিরা প্রবেশ করছেন। এতে সুপ্রিম কোর্টের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে।
এ অবস্থায় সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাত ১১টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্ট এলাকায় প্রবেশের ক্ষেত্রে সবাইকে বাধ্যতামূলকভাবে নিজ নিজ পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখার অনুরোধ করা হয়েছে।
জরুরি প্রয়োজনে ওই সময়ে কেউ সুপ্রিম কোর্ট এলাকায় প্রবেশ করলে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের চাহিদা অনুযায়ী জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) বা অফিসিয়াল পরিচয়পত্র প্রদর্শনের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হয়েছে।
ছবি : সংগৃহীত
পদমর্যাদায় দ্বিতীয় শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তা, অথচ বেতন পাচ্ছিলেন ১১ ও ১২তম গ্রেডে। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের ক্ষেত্রে ১৩ বছর ধরে চলা এই বৈষম্যের অবসান হতে যাচ্ছে। প্রায় ১০ মাস আগে আদালতের চূড়ান্ত নির্দেশে পদমর্যাদা অনুযায়ী দশম গ্রেডে বেতনভাতা উন্নীত হয়েছে। তবে এতদিন বেতন নির্ধারণের পদ্ধতি ঠিক না হওয়ায় সেই অনুযায়ী বেতন পাননি তারা। অবশেষে দশম গ্রেডে বেতন নির্ধারণের পদ্ধতি আইবাস প্লাস প্লাস সফটওয়্যারে যুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ।
গত মঙ্গলবার অর্থ বিভাগের বাস্তবায়ন-২ অনুবিভাগ এ-সংক্রান্ত আদেশ জারি করে। তবে বকেয়া বেতন-ভাতা পাওয়ার ক্ষেত্রে কিছু শর্ত দেওয়া হয়েছে। আদেশে বলা হয়, প্রশাসনিক মন্ত্রণালয় কর্তৃক সরকারি আদেশ জারির তারিখের আগে কোনো আর্থিক বকেয়া প্রধান শিক্ষকরা প্রাপ্য হবেন না।
আদালতের রায়ে মিলল স্বীকৃতি
প্রধান শিক্ষকদের দশম গ্রেডে উন্নীত করার বিষয়টি দীর্ঘদিনের আইনি লড়াইয়ের ফল। ২০১৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের প্রবেশ পদে বেতন স্কেল দশম গ্রেড করা এবং গেজেটেড পদমর্যাদা দেওয়ার নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও প্রশিক্ষণবিহীন–উভয় ধরনের প্রধান শিক্ষকের ক্ষেত্রে ২০১৪ সালের ৯ মার্চ থেকে এ সুবিধা কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
পাশাপাশি হিসাবরক্ষণ অফিস থেকে বেতন-ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা গ্রহণের জন্য প্রধান শিক্ষকদের আয়ন-ব্যয়ন কর্মকর্তার ক্ষমতা দেওয়ার নির্দেশও দেন আদালত। পরে হাইকোর্টের ওই রায় বহাল রাখেন আপিল বিভাগ।
প্রধান শিক্ষকদের বেতন নির্ধারণ নিয়ে আদালতে রিট করা ব্যক্তিদের একজন বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সমিতির সভাপতি রিয়াজ পারভেজ। তিনি সমকালকে জানান, মন্ত্রণালয়ের আদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট করা হয়েছিল। ওই রিটের শুনানি শেষে হাইকোর্ট রুল জারি করেন এবং পরে রায় দেন।
পদমর্যাদা বাড়লেও বেতন বাড়েনি
২০১৪ সালের ৯ মার্চ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদটি দ্বিতীয় শ্রেণিতে উন্নীত করে সরকার। একই দিন এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। পদমর্যাদা দ্বিতীয় শ্রেণিতে উন্নীত হলেও বেতন নির্ধারণে তার প্রতিফলন ঘটেনি। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের প্রবেশ পদে ১১তম এবং প্রশিক্ষণবিহীনদের ১২তম গ্রেডে রাখা হয়।
বর্তমান জাতীয় বেতন স্কেল অনুযায়ী দশম গ্রেডে মূল বেতন শুরু ৩২ হাজার টাকা থেকে। এ গ্রেডে সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৭,৩০০ টাকা। এর আগে দশম গ্রেডের পুরোনো বেতন কাঠামোয় মূল বেতন ছিল ১৬ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ৩৮ হাজার ৬৪০ টাকা।
সহকারী শিক্ষকদের গ্রেড বাড়ানোর প্রস্তাবও আটকে
প্রধান শিক্ষকদের দশম গ্রেড বাস্তবায়নের উদ্যোগের মধ্যেই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের গ্রেড বাড়ানোর দাবি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বর্তমানে সহকারী শিক্ষকরা জাতীয় বেতন স্কেলের ১৩তম গ্রেডে রয়েছেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সহকারী শিক্ষকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তাদের বেতন গ্রেড ১৩তম থেকে ১১তম করার প্রস্তাব জাতীয় বেতন কমিশনে পাঠিয়েছিল প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির
ভারতের সঙ্গে পানি সহযোগিতার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের নির্বাচিত সরকার দেশের স্বার্থে সর্বোচ্চটা আদায় করতে চাইবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি বলেছেন, ভারতের কাছ থেকে বাংলাদেশ ন্যায্য হিস্যা চায়।
পানি বণ্টনের বিষয়ে বাংলাদেশের পক্ষে আন্তর্জাতিক আইনের অবস্থান রয়েছে। পাশাপাশি আলোচনার টেবিলে দেশের জনগণের সমর্থন ও আকাঙ্ক্ষাও বাংলাদেশের অবস্থানকে শক্তিশালী করছে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ঢাকায় বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) আয়োজিত ‘পানির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন ভাবনা: তরুণ নেতৃত্ব, ন্যায়বিচার ও সহযোগিতা’ শীর্ষক সেমিনারে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
সেমিনারে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, পানি ইস্যুতে সহযোগিতা বাড়াতে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে কার্যকর যোগাযোগ ও সংলাপ প্রয়োজন।
এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে একটি কমিটি গঠন করেছে এবং ভারতীয় পক্ষের প্রতিনিধিদের নাম চাওয়া হয়েছে। দুই দেশের পানি বণ্টন চুক্তির বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা ভারতের কাছে নাম চেয়েছি, যাতে আমাদের প্রতিনিধিরা তাদের সঙ্গে সংলাপ ও আলোচনা শুরু করতে পারেন।
এখন আমাদের তাদের জবাবের অপেক্ষা করতে হবে। ভারতের পক্ষ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়ার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে হুমায়ুন কবির বলেন, খুব শিগগিরই এ বিষয়ে জবাব পাওয়া যেতে পারে। এরপর দুই দেশের মধ্যে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে পরবর্তী দফার পানি চুক্তি নবায়নের পথ প্রশস্ত হবে।
তিনি আরও বলেন, দুই দেশের নেতৃত্বের মধ্যে সহযোগিতার মানসিকতা থাকলে পানি নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে বন্ধুত্বপূর্ণ সমাধান সম্ভব। কূটনীতি ও সংলাপের মাধ্যমেই এসব বিষয় সমাধান করতে হবে।
পানি ভাগাভাগির ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক আইনের অবস্থানও বাংলাদেশের আলোচনার অন্যতম ভিত্তি বলে উল্লেখ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
ছবি : সংগৃহীত
ইলিশের প্রজনন মৌসুম উপলক্ষে আজ ৮ অক্টোবর থেকে আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত টানা ২২ দিন ইলিশ মাছ ধরা, বেচা-কেনা, পরিবহন ও বাজারজাতকরণ নিষিদ্ধ করেছে সরকার।
নিষেধাজ্ঞার সময়ে জেলে পরিবারগুলোকে সরকারের পক্ষ থেকে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হবে। তাদের প্রত্যেককে ৪০ কেজি করে চাল দেওয়ার কর্মসূচি রয়েছে।
নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ ধরার বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে।
নিষিদ্ধ সময়ে জেলেদের পাশাপাশি মাছ পরিবহন, বিক্রি ও মজুতের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মৎস্য আইনে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ শিকার করলে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড, পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।
বাংলাদেশ ও ভারতের পতাকা
বাণিজ্য বিষয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের ১৬তম বৈঠক আজ বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে শুরু হচ্ছে। দুই দিনব্যাপী এই বৈঠক আগামীকাল শুক্রবার শেষ হবে।
বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পথে থাকা বিভিন্ন বাধা, পাটজাত পণ্যের ওপর অ্যান্টিডাম্পিং শুল্ক এবং স্থলবন্দর-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়সহ একাধিক ইস্যু তুলে ধরবে বাংলাদেশ।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আয়েশা আক্তারের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের সরকারি প্রতিনিধিদল বৈঠকে অংশ নিতে গত মঙ্গলবার নয়াদিল্লির উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ ভারতীয় বাজারে ১৭৫ কোটি ডলারের পণ্য রফতানি করেছে। বিপরীতে একই সময়ে ভারত বাংলাদেশে ১ হাজার ৯৬ কোটি ডলারের পণ্য রফতানি করেছে।
চীনের পর ভারত বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম আমদানি উৎস। দেশের ব্যবসায়ীরা ভারত থেকে শিল্পের বিভিন্ন কাঁচামালের পাশাপাশি কাপড়, সুতা ও তুলা আমদানি করে থাকেন।