বৌদ্ধধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শুভ বুদ্ধপূর্ণিমা আজ শুক্রবার। বৌদ্ধধর্মমতে, প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে এই দিনে মহামতি গৌতম বুদ্ধ আবির্ভূত হয়েছিলেন। গৌতম বুদ্ধের শুভজন্ম, বোধিজ্ঞান ও মহাপরিনির্বাণ লাভ—এই তিন স্মৃতিবিজড়িত বৈশাখী পূর্ণিমা বিশ্বের বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের কাছে বুদ্ধপূর্ণিমা নামে পরিচিত। বুদ্ধের মূল জীবনদর্শন হচ্ছে অহিংসা, সাম্য, মৈত্রী ও প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে সহাবস্থান করা। অহিংসবাদের প্রবর্তক গৌতম বুদ্ধ বলেছিলেন, বৈরিতা দিয়ে বৈরিতা, হিংসা দিয়ে হিংসা কখনো প্রশমিত হয় না। অহিংসা দিয়ে হিংসাকে, অবৈরিতা দিয়ে বৈরিতাকে প্রশমিত করতে হবে।
বুদ্ধপূজা ও শীল গ্রহণ, পিণ্ডদান, ভিক্ষু সংঘের প্রাতরাশসহ নানা আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে সারা দেশে দিনটি উদ্যাপন করবেন বৌদ্ধধর্মাবলম্বীরা।
বুদ্ধপূর্ণিমা উপলক্ষে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের নেতাদের সঙ্গে গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সে সময় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, দল-মত, ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে দেশের প্রত্যেক মানুষ যাতে শান্তি ও নিরাপত্তার সঙ্গে বসবাস করতে পারে, এমন পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর।
বৌদ্ধধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, প্রতিটি ধর্মই মানুষকে কল্যাণের দিকে আহ্বান করে। বৌদ্ধধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মগুরু মহামতি গৌতম বুদ্ধ তাঁর অনুসারীদের জন্য পঞ্চশীল নীতি দিয়েছিলেন। এই পঞ্চশীল নীতি হলো প্রাণী হত্যা না করা, চুরি না করা, ব্যভিচার না করা, মিথ্যা না বলা এবং মাদক থেকে বিরত থাকা। প্রেম, অহিংস এবং সর্বজীবে দয়াও বৌদ্ধধর্মের শিক্ষা।
রাজধানীর মেরুল বাড্ডার আন্তর্জাতিক বৌদ্ধবিহারে বুদ্ধপূর্ণিমা উপলক্ষে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে বাংলাদেশ বুড্ডিস্ট ফেডারেশন। তারা বলেছে, মেরুল বাড্ডার আন্তর্জাতিক বৌদ্ধবিহারে আজ সকাল ১০টায় বুদ্ধপূজা, শীল গ্রহণ হবে। আর সন্ধ্যা ছয়টায় বুদ্ধপূর্ণিমার তাৎপর্য নিয়ে বিশেষ আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে।
বাংলাদেশ বুড্ডিস্ট ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ভিক্ষু সুনন্দপ্রিয় প্রথম আলোকে বলেন, পৃথিবীতে যাতে যুদ্ধ, হানাহানি বিলোপ হয়, বাংলাদেশেও মানুষ যেন বৈষম্যহীনভাবে বসবাস করতে পারে, নাগরিক অধিকার নিয়ে থাকতে পারে—এটাই এবারের বুদ্ধপূর্ণিমার প্রার্থনা ও কামনা।
হুময়ুন কবির ও শামীম কায়সার প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ পাঠ করছেন
বাংলাদেশ সরকারের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন আরও দুইজন। শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শপথ নেন। এর পরপরই নতুন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের শপথ অনুষ্ঠিত হয়।
প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির ও গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য শামীম কায়সার এমপি।
এর আগে, মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, রাশেদুজ্জামান মিল্লাত, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ ও বান্দরবান জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সাচিং প্রু জেরি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিল্লি সফর নিয়ে ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমে খবর আসার পর তার প্রেস সচিব বলেছেন, এ বিষয়ে বাংলাদেশ এখনো সিদ্ধান্ত নেয়নি।
শুক্রবার ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, তারেক রহমান ২৩-২৫ অগাস্ট দিল্লি সফর করতে পারেন। ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জিতে ক্ষমতায় আসার পর বিএনপির নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম দিল্লি সফর নিয়ে প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে কয়েক সপ্তাহ ধরে আলোচনা চলছে।
রয়টার্স লিখেছে, ২০২৪ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্কে যে টানাপড়েন তৈরি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে চলমান প্রচেষ্টার মধ্যেই এ সফরের সম্ভাব্য সময়সূচি সামনে এল।
চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে চলে যান। জুলাই আন্দোলন দমাতে নিপীড়নের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গেল নভেম্বরে তার মৃত্যুদণ্ডের রায় দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠাতে দিল্লিকে বারবার অনুরোধ করে আসছে ঢাকা। ভারত বলছে, তারা শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়টি পরীক্ষা করছে।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী রয়টার্সকে বলেছেন, “দিল্লি সফর নিয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।”
তিনি বলেন, শেখ হাসিনার ও অন্য পলাতক আসামিদের প্রত্যর্পণের বিষয়ে দিল্লির জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে ঢাকা।
শুক্রবার নিয়মিত ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, সফর নিয়ে ভারতের পক্ষ থেকে বলার মতো কোনো মন্তব্য নেই।
এদিন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের প্রস্তুতির ইঙ্গিত দিয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর সেটি আবার প্রত্যাহার করে নিয়েছে ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবন। শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ঘিরে টানাপড়েন এবং তারেক রহমানের সফর ঘিরে অনিশ্চয়তার মধ্যে শুক্রবার ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবনের এমন কাণ্ড নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ছয় মাস আগে ক্ষমতায় আসা তারেক রহমানের সরকার শুরু থেকেই ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করছে। তার সম্ভাব্য নয়া দিল্লি সফর নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলার মধ্যে গত সপ্তাহে ঢাকা ইঙ্গিত দিয়েছিল, সফরের জন্য আরও অনুকূল কূটনৈতিক পরিবেশ প্রয়োজন।
গত ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জিতে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পরপরই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দ্বিপক্ষীয় সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিল নরেন্দ্র মোদীর সরকার।
এছাড়া সেপ্টেম্বরে নয়া দিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনের আউটরিচ অধিবেশনেও বিমসটেকের বর্তমান চেয়ারম্যান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী ব্রিকসের আয়োজনে যোগ দেবেন কি না, তা নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের তরফে স্পষ্ট কিছু বলা হয়নি। তবে অগাস্টের প্রথম সপ্তাহে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের বক্তব্যে ব্রিকসের চেয়ে দ্বিপক্ষীয় সফরকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল।
গেল ১৪ অগাস্ট ঢাকা ও দিল্লির কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক সূত্রগুলো বলছিল, প্রধানমন্ত্রীর সফরের সম্ভাব্য তারিখ হতে পারে ২২-২৩ অগাস্ট; অর্থাৎ, ভারতের স্বাধীনতা দিবসের ঠিক এক সপ্তাহ পর।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেয়নি। কর্মকর্তারাও নাম প্রকাশ করে কথা বলতে রাজি হননি।
তবে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো তারেক রহমানের সম্ভাব্য সফর নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করতে শুরু করে।
ঢাকার সরকারি সূত্রগুলো তখন বলছিল, প্রতিবেশী দেশটিতে প্রধানমন্ত্রীর প্রথম সফরের জন্য নীরবে হলেও নিশ্চিতভাবেই প্রস্তুতি এগিয়ে চলছে।
গেল ১০ অগাস্ট প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতীয় হাই কমিশনার (যিনি ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর মর্যাদা পান) দীনেশ ত্রিবেদীর বৈঠকটি এই সংক্ষিপ্ত সফরের বিষয়ে মত পরিবর্তনে ভূমিকা রেখে থাকতে পারে বলে তখন ধারণা করা হয়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র বলেছিলেন, জাতিসংঘ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করতে আগামী ২৭ বা ২৮ অগাস্ট যুক্তরাষ্ট্রে চলে যাবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। তার আগে তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভারত সফরে যোগ দেবেন।
এর মধ্যে গত ৫ অগাস্ট জুলাই আন্দোলনের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে নয়া দিল্লিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ভার্চুয়াল মাধ্যমে যুক্ত হন। তিনি সেখানে বলেছেন, ডিসেম্বরেই দেশে ফিরবেন।
সেদিন ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানানোর পর ঢাকা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিল্লি সফরে অনুকূল পরিবেশ তৈরি এবং শেখ হাসিনা ও শরীফ ওসমান হাদি হত্যার দুই আসামির প্রত্যর্পণের শর্ত দেয়।
বঙ্গভবনে মন্ত্রিসভার নতুন সদস্যদের নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি শপথ পড়ান
মন্ত্রিসভার নতুন সদস্যদের শপথ পড়িয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনের দরবার হলে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেয়ার পর নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ পড়ান তিনি।
নতুন করে মন্ত্রিসভায় যুক্ত হয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নরসিংদী-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল মঈন খান, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য আন্দালিভ রহমান পার্থ, বান্দরবানের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী, গাইবান্ধা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন এবং প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।
এ ছাড়া বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত পদোন্নতি পেয়ে পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন।
এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামালের কাছে রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।
রাষ্ট্রপতির শপথের পর বঙ্গভবনের দরবার হলে মন্ত্রিসভার নতুন সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের মন্ত্রিসভার আকার আরও বাড়ল।
বঙ্গভবনে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠান
দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনের দরবার হলে জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামালের কাছে শপথ নেন তিনি।
শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি। জাতীয় সংগীত ও কুরআন তিলাওয়াতের মধ্যদিয়ে শুরু হয় আনুষ্ঠানিকতা। শপথ নেয়ার পর প্রচলিত রীতি অনুযায়ী শপথ বইয়ে স্বাক্ষর করেন নতুন রাষ্ট্রপতি।
স্বাক্ষর শেষে নির্ধারিত আসনে বসেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এর মধ্যদিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
শপথ অনুষ্ঠানে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, রাজনৈতিক নেতা ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠান উপলক্ষে বঙ্গভবনে ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়া হয়।
রাষ্ট্রপতির শপথের পর বঙ্গভবনে অনুষ্ঠিত হবে মন্ত্রিসভার নতুন সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠান। সরকার গঠনের ছয় মাসের মাথায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মন্ত্রিসভার আকার বাড়ছে।
নতুন করে মন্ত্রিসভায় যুক্ত হচ্ছেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নরসিংদী-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল মঈন খান, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য আন্দালিভ রহমান পার্থ, বান্দরবানের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী, গাইবান্ধা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন এবং প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। এ ছাড়া বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত পদোন্নতি পেয়ে পূর্ণমন্ত্রী হচ্ছেন। তাদের শপথ পড়াবেন নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
এর আগে বৃহস্পতিবার সংসদ ভবনের সভাকক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে ২৫৫ ভোট পেয়ে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ১১-দলীয় ঐক্যের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ পান ৮৮ ভোট।
গত ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন মো. সাহাবুদ্দিন। এরপর সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেন তৎকালীন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। আর স্পিকারের দায়িত্ব নেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।
আবদুল মঈন খান, আন্দালিব রহমান পার্থ, সাচিং প্রু জেরী ও মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন
তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভায় আরও চারজন যুক্ত হচ্ছেন বলে জানা গেছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেবেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এরপরই মন্ত্রিসভার নতুন সদস্যরা শপথ নেবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়। মন্ত্রিসভায় যুক্ত হতে যাওয়া চারজনের মধ্যে দুইজনের ব্যাপারে নিশ্চিত হয়েছে।
সূত্র জানায়, আবদুল মঈন খান, আন্দালিব রহমান পার্থ ও সাচিং প্রু জেরী মন্ত্রী হিসেবে আজ শপথ নিতে যাচ্ছেন। আর প্রতিমন্ত্রী হিসেবে মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকনের নাম শোনা যাচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রাষ্ট্রপতি নতুন তিন মন্ত্রী ও একজন প্রতিমন্ত্রীকে শপথবাক্য পড়াবেন। এর মধ্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে সম্ভাব্য মন্ত্রী–প্রতিমন্ত্রীদের কয়েকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তাঁদের সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।
নতুন মন্ত্রীর তালিকায় নাম থাকা- আবদুল মঈন খান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য। তিনি নরসিংদী-২ আসনের সংসদ সদস্য। গত ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বিএনপির প্রার্থী হিসেবে এই আসন থেকে নির্বাচিত হন।
আন্দালিব রহমান পার্থ বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান। বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে তাঁর দল নির্বাচনে অংশ নেয়। তিনি ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য।
সাচিং প্রু জেরী বান্দরবান আসনের সংসদ সদস্য। গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে বান্দরবান আসন থেকে নির্বাচিত হন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী হিসেবে আলোচনায় থাকা মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে গত ফেব্রুয়ারিতে সরকার গঠনের সময় প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলেন ৫০ জন। তাদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী ছাড়া ২৫ জন মন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। এর বাইরে প্রধানমন্ত্রীর ১০ জন উপদেষ্টা রয়েছেন। তাদের পাঁচজন মন্ত্রী এবং পাঁচজন প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় দায়িত্ব পালন করছেন।
ছবি : সংগৃহীত
বঙ্গভবনে যাওয়ার আগে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করলেন নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার জুম্মার নামাজ পড়েন বেইলি রোডের স্টাফ কোয়ার্টার জামে মসজিদে। সেখান থেকে ১টা ৪৬ মিনিটে সরাসরি যান শেরে বাংলা নগরে জিয়া উদ্যানে জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিস্থলে। সেখানে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে ফাতেহা পাঠ করেন এবং মোনাজাত করেন।
রাজনীতির দীর্ঘ পথ চলায় বিএনপি মহাসচিব হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই কবরে বহুবার দলীয় নেতা-কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেছেন।
এই সময়ে বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান রতন ও নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্টের সহকারী একান্ত সচিব ইউনুস আলী উপস্থিত ছিলেন। এসময় কবর প্রাঙ্গণের চারপাশে নিরাপত্তা বেষ্টনীর বাইরে দলের নেতাকর্মী-সমর্থক মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ভোটের মাধ্যমে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।