• প্রকাশ : শুক্রবার ২৬ জুন, ২০২৬, সময় : ৪:৩৪ এএম
  • আপডেট : শুক্রবার ২৬ জুন, ২০২৬, সময় : ৪:৩৪ এএম

এ সম্পর্কিত আরও খবর

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৬ জুন, ২০২৬, সময় : ৪:৩৪ এএম

বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের আইকিউএসি এবং প্রশাসন বিভাগের প্রশিক্ষণ ও গবেষণা শাখার যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত বাউবির ই-লার্নিং সেন্টার-এ "ডি-নথি ব্যবহার ও বাস্তবায়ন বিষয়ক" প্রশিক্ষণ কর্মশালার দুটি ব্যাচের দুদিন করে চার দিনব্যাপী (২২ ও ২৩ জুন এবং ২৪ ও ২৫ জুন) অনুষ্ঠিত এ প্রশিক্ষণের ২৫ জুন ২০২৬ তারিখ বৃহস্পতিবার সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।


এ উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের গাজীপুরস্থ ক্যাম্পাস-এর শিক্ষক সেমিনার হলে ‘ডি-নথির ব্যবহার ও বাস্তবায়ন বিষয়ক প্রশিক্ষণ’ কর্মসূচির ১ম ও ২য় ব্যাচের সমাপনী ও সদন বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।


সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান। 


সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন," বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় (বাউবি)-এর আইকিউএসি এবং প্রশাসন বিভাগের প্রশিক্ষণ ও গবেষণা শাখার যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত বাউবির ই-লার্নিং সেন্টার-এ "ডি-নথি ব্যবহার ও বাস্তবায়ন বিষয়ক এই ডি-নথি ব্যবহার ও বাস্তবায়ন বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালার সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। যারা সফলভাবে এই প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন, তাদের প্রত্যেককে জানাই আন্তরিক অভিনন্দন।”


বর্তমান বিশ্বে প্রশাসনিক কার্যক্রম দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। চতুর্থ শিল্প বিপ্লব, তথ্যপ্রযুক্তির বিস্তার এবং স্মার্ট সেবার যুগে সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমকে আরও দক্ষ, স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও জনবান্ধব করতে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। এই বাস্তবতায় ডি-নথি কেবল একটি সফটওয়্যার বা প্রযুক্তিগত প্ল্যাটফর্ম নয়; এটি প্রশাসনিক সংস্কৃতি ও কর্মপদ্ধতির একটি মৌলিক রূপান্তরের প্রতীক।


বাংলাদেশ সরকার একটি স্মার্ট বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে প্রশাসনের সর্বস্তরে ই-গভর্ন্যান্স এবং ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণের যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, ডি-নথি তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। কাগজভিত্তিক দাপ্তরিক কার্যক্রম থেকে ডিজিটাল নথি ব্যবস্থাপনায় রূপান্তর প্রশাসনিক প্রক্রিয়াকে করেছে অধিকতর গতিশীল, কার্যকর ও পরিবেশবান্ধব বলেও উপাচার্য তাঁর অভিমত ব্যক্ত করেন।


এছাড়াও উপাচার্য বলেন, 'ডি-নথির মাধ্যমে- ফাইল নিষ্পত্তির সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে; প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পায়;  নথির নিরাপত্তা ও সংরক্ষণ নিশ্চিত হয়; সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া দ্রুততর হয়; অফিস ব্যবস্থাপনায় সময়, শ্রম ও ব্যয় সাশ্রয় হয়; এবং সর্বোপরি, সেবাগ্রহীতারা দ্রুত ও মানসম্মত সেবা লাভ করেন'।


প্রশিক্ষণ যে কোনো প্রতিষ্ঠানের মানবসম্পদ উন্নয়নের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার। পরিবর্তিত প্রযুক্তি ও নতুন কর্মপদ্ধতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে নিয়মিত প্রশিক্ষণের কোনো বিকল্প নেই। একটি প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত শক্তি তার অবকাঠামো নয়, বরং দক্ষ, জ্ঞানসমৃদ্ধ ও প্রযুক্তিবান্ধব মানবসম্পদ। তাই এই ধরনের প্রশিক্ষণ কর্মশালা কর্মকর্তাদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা উন্নয়ন এবং পরিবর্তিত প্রশাসনিক পরিবেশের সঙ্গে অভিযোজনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।


বিশেষ করে, একটি বৃহৎ ও প্রযুক্তিনির্ভর ওপেন অ্যান্ড ডিস্ট্যান্স লার্নিং (ODL) প্রতিষ্ঠান হিসেবে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ডিজিটাল প্রশাসনিক ব্যবস্থা আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অংশীজনদের দ্রুত, নির্ভুল এবং সময়োপযোগী সেবা প্রদানের জন্য প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। ডি-নথির কার্যকর প্রয়োগ সেই লক্ষ্য অর্জনের অন্যতম পূর্বশর্ত।


উপাচার্য আরো বলেন, আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আজকের প্রশিক্ষণ থেকে অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা আপনারা কেবল নিজেদের কর্মক্ষেত্রেই প্রয়োগ করবেন না, বরং সহকর্মীদের মধ্যেও এর ইতিবাচক চর্চা ও ব্যবহার বিস্তারে ভূমিকা রাখবেন। একটি প্রশিক্ষণের প্রকৃত সফলতা তখনই আসে, যখন অর্জিত জ্ঞান বাস্তব কর্মপরিবেশে প্রতিফলিত হয় এবং প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি করে।


আমাদের মনে রাখতে হবে, ডিজিটাল রূপান্তর কেবল প্রযুক্তি গ্রহণের বিষয় নয়; এটি মানসিকতা, কর্মসংস্কৃতি এবং দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনেরও বিষয়। পরিবর্তনকে গ্রহণ করার সক্ষমতাই একটি প্রতিষ্ঠানকে সময়ের চাহিদার সঙ্গে এগিয়ে নিয়ে যায়। আমি এই প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজক, প্রশিক্ষক এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানাই। আশা করি, ভবিষ্যতেও বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় কর্মকর্তাদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং ডিজিটাল সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ ধরণের যুগোপযোগী প্রশিক্ষণ কর্মসূচি অব্যাহত রাখবে। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সকল কর্মকর্তার পেশাগত সাফল্য ও বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উত্তরোত্তর অগ্রগতি কামনা করছি।"


সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের মাননীয় সদস্য অধ্যাপক ড.আব্দুল্লাহ-আল-মামুন। তিনি বলেন, "সরকারের মূল লক্ষ্য উচ্চশিক্ষার রূপান্তর, যেখানে একাডেমিক উন্নয়ন, গবেষণা ও শিক্ষক প্রশিক্ষণকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ডিজিটালাইজেশন এবং মানবসম্পদ উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা উল্লেখ করেন। এই প্রশিক্ষণ প্রশাসনিক দক্ষতা ও স্বচ্ছতা বাড়াবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।"




অতিথিবৃন্দের বক্তব্য শেষে প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তাদের মাঝে সনদপত্র বিতরণ করা হয়। মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড.আব্দুল্লাহ- আল-মামুন কর্মকর্তাদের হাতে ডি-নথির ব্যবহার ও বাস্তবায়ন শীর্ষক প্রশিক্ষণের সনদপত্র তুলে দেন।


আইকিউএসির পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জহির রায়হান এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাপনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাউবির মাননীয় প্রো-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোঃ সিরাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, "সার্টিফিকেটের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা, যা বাস্তব জীবনে কাজে লাগাতে হবে। নিজের দায়িত্ব ও মেধা সঠিকভাবে ব্যবহার করাই প্রকৃত সফলতা। তিনি সবাইকে দায়িত্বশীলভাবে কাজ করার আহ্বান জানান এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবিষ্যৎ আরও উন্নত ও সমৃদ্ধ হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।"


অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাউবির মাননীয় প্রো-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আনিসুর রহমান। আরো উপস্থিত ছিলেন, রিসোর্স পারসন এটুআই-এর সিনিয়র কনসালটেন্ট আবু সালেহ মো. মাহফুজুল আলম ও এটুআই-এর জুনিয়র কনসালটেন্ট মো. সজিবুর রহমান, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তারা।


সমাপনী বক্তব্য রাখেন, কম্পিউটার বিভাগের পরিচালক মোঃ মাসুম বিল্লাহ। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন এসএসএস বিভাগের উপ-পরিচালক ড মোঃ জাহাঙ্গীর আলম। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন প্রশাসন বিভাগের প্রশিক্ষণ ও গবেষণা শাখার যুগ্ম-পরিচালক ড. মোঃ শওকত আলী।




আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল

  • প্রকাশ : বুধবার ১৯ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:৩৭ পিএম

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে গুলিবিদ্ধ শাহরিয়ার হোসেনকে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেছেন তাঁর বাবা মো. মনির হোসেন। 


জবানবন্দিতে তিনি বলেন, তাঁর ছেলের মৃত্যু সনদপত্র দিতে অস্বীকার করেন চিকিৎসক। একটি সাদা কাপড় দিয়ে চিকিৎসক বলেছিলেন, শাহরিয়ারের শরীর ঢেকে নিয়ে যাওয়ার জন্য। পথিমধ্যে কেউ জিজ্ঞেস করলে শাহরিয়ারের গুলিবিদ্ধ হওয়ার বিষয়টি বলতেও নিষেধ করেন সেই চিকিৎসক।


আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ আজ বুধবার এ জবানবন্দি দেন মনির হোসেন। গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর ধানমন্ডি ও মোহাম্মদপুর এলাকায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় করা মামলায় পঞ্চম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন তিনি।


মনির হোসেন কাঁচামালের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। তিনি মোহাম্মদপুরে ব্যবসা করেন। জুলাই শহীদ শাহরিয়ার হোসেন তাঁর বড় ছেলে।


জবানবন্দিতে মনির হোসেন বলেন, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই শাহরিয়ার মোহাম্মদপুরে আন্দোলনে অংশ নেন। সেখানে পুলিশ ও আওয়ামী ক্যাডাররা আন্দোলনকারীদের গুলি করে। তাঁর দুই ভাগনে এসে শাহরিয়ারের শরীরে গুলি লাগার কথা জানান। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তাঁকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নেওয়া হয় চিকিৎসকের পরামর্শে। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক শাহরিয়ারকে মৃত ঘোষণা করেন।


তাঁর ছেলেকে হত্যার জন্য আওয়ামী লীগকে দায়ী করেন মনির হোসেন। এ ছাড়া ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তৎকালীন কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ অনেককে দায়ী করেন তিনি।


এ মামলায় মোট আসামি ২৮ জন। এর মধ্যে চারজন গ্রেপ্তার আছেন। তাঁরা হলেন আনসারের সাবেক সদস্য মোহাম্মদ ওমর ফারুক, মোহাম্মদপুর থানা ছাত্রলীগের সভাপতি নাঈমুল হাসান রাসেল ও সাবেক সহসভাপতি মো. সাজ্জাদ হোসেন এবং যুবলীগ কর্মী কে এম ফজলে রাব্বী।


সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসসহ এ মামলার ২৪ আসামি পলাতক। পলাতক অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, পুলিশ সদর দপ্তরের সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি প্রলয় কুমার জোয়ারদার, ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার, মোহাম্মদপুর অঞ্চলের সাবেক এডিসি রৌশানুল হক সৈকত প্রমুখ।


ছেলে গুলিবিদ্ধ হওয়ার বিষয়টি বলতে নিষেধ করা হয়েছিল


শেখ হাসিনা, মানবতা, বিরোধী অপরাধ, সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল, আওয়ামী লীগ, গুলি


জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে গুলিবিদ্ধ শাহরিয়ার হোসেনকে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেছেন তাঁর বাবা মো. মনির হোসেন। 


জবানবন্দিতে তিনি বলেন, তাঁর ছেলের মৃত্যু সনদপত্র দিতে অস্বীকার করেন চিকিৎসক। একটি সাদা কাপড় দিয়ে চিকিৎসক বলেছিলেন, শাহরিয়ারের শরীর ঢেকে নিয়ে যাওয়ার জন্য। পথিমধ্যে কেউ জিজ্ঞেস করলে শাহরিয়ারের গুলিবিদ্ধ হওয়ার বিষয়টি বলতেও নিষেধ করেন সেই চিকিৎসক।


আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ আজ বুধবার এ জবানবন্দি দেন মনির হোসেন। গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর ধানমন্ডি ও মোহাম্মদপুর এলাকায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় করা মামলায় পঞ্চম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন তিনি।


মনির হোসেন কাঁচামালের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। তিনি মোহাম্মদপুরে ব্যবসা করেন। জুলাই শহীদ শাহরিয়ার হোসেন তাঁর বড় ছেলে।


জবানবন্দিতে মনির হোসেন বলেন, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই শাহরিয়ার মোহাম্মদপুরে আন্দোলনে অংশ নেন। সেখানে পুলিশ ও আওয়ামী ক্যাডাররা আন্দোলনকারীদের গুলি করে। তাঁর দুই ভাগনে এসে শাহরিয়ারের শরীরে গুলি লাগার কথা জানান। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তাঁকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নেওয়া হয় চিকিৎসকের পরামর্শে। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক শাহরিয়ারকে মৃত ঘোষণা করেন।


তাঁর ছেলেকে হত্যার জন্য আওয়ামী লীগকে দায়ী করেন মনির হোসেন। এ ছাড়া ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তৎকালীন কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ অনেককে দায়ী করেন তিনি।


এ মামলায় মোট আসামি ২৮ জন। এর মধ্যে চারজন গ্রেপ্তার আছেন। তাঁরা হলেন আনসারের সাবেক সদস্য মোহাম্মদ ওমর ফারুক, মোহাম্মদপুর থানা ছাত্রলীগের সভাপতি নাঈমুল হাসান রাসেল ও সাবেক সহসভাপতি মো. সাজ্জাদ হোসেন এবং যুবলীগ কর্মী কে এম ফজলে রাব্বী।


সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসসহ এ মামলার ২৪ আসামি পলাতক। পলাতক অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, পুলিশ সদর দপ্তরের সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি প্রলয় কুমার জোয়ারদার, ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার, মোহাম্মদপুর অঞ্চলের সাবেক এডিসি রৌশানুল হক সৈকত প্রমুখ।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বুধবার ১৯ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:২১ পিএম

এলএনজি কার্গোর অভাবে অবশেষে মজুত ফুরিয়ে গেছে এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের (এফএসআরইউ)। 


আজ বুধবার দুপুরে টার্মিনালটি পুরোপুরি গ্যাসশূন্য হয়ে বন্ধ হয়ে যায়। নতুন কার্গো না আসা পর্যন্ত এখন সামিটের টার্মিনাল থেকেই মূলত আমদানি করা এলএনজি সরবরাহের ওপর নির্ভর করতে হবে।


এদিকে এক্সিলারেটের সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জাতীয় গ্রিডে এলএনজি সরবরাহও এক দফা কমেছে। 


আজ বুধবার দুপুর ১২টার দিকে দুই টার্মিনাল থেকে ৬৬ কোটি ১০ লাখ ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ হলেও সন্ধ্যা ৬টায় তা কমে দাঁড়ায় ৫৬ কোটি ২০ লাখ ঘনফুটে। একই সময়ে দেশীয় কূপ থেকে সরবরাহ ছিল প্রায় ১৬২ কোটি ৭০ লাখ ঘনফুট। ফলে সন্ধ্যায় জাতীয় সঞ্চালন লাইনে মোট গ্যাস প্রবাহ ছিল ২১৮ কোটি ৯০ লাখ ঘনফুট।


পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, দুপুর ১২টায় দেশে মোট গ্যাস সরবরাহ ছিল ২২৮ কোটি ৯০ লাখ ঘনফুট। এর মধ্যে দেশীয় গ্যাস ১৬২ কোটি ৮০ লাখ এবং এলএনজি থেকে ৬৬ কোটি ১০ লাখ ঘনফুট। ছয় ঘণ্টার ব্যবধানে মোট সরবরাহ কমেছে ১০ কোটি ঘনফুট।


আরপিজিসিএলের এক কর্মকর্তা জানান, আজ বুধবার দুপুর ২টা ৪০ মিনিটের দিকে এক্সিলারেটের টার্মিনালে মজুত এলএনজি পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়। ফলে সেখান থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। তবে সামিটের টার্মিনাল সচল রয়েছে। সেখান থেকে প্রায় ৫৬ কোটি ঘনফুট গ্যাস জাতীয় সঞ্চালন লাইনে দেওয়া হচ্ছে।


এভাবে এক্সিলারেটের টার্মিনাল বন্ধ হওয়ার পেছনে কার্গো সংকটকেই মূল কারণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে টার্মিনালের বয়লার মেরামত নিয়েও তথ্যের বিভ্রাট ছিল বলে জানিয়েছেন ওই কর্মকর্তা। 


তার ভাষ্য, এক্সিলারেটের পক্ষ থেকে বয়লার সচল করতে ৭২ ঘণ্টা বিরতির কথা জানানো হয়েছিল। পরে বয়লার ঠিক হয়ে যাওয়ার কথা জানানো হলেও ততক্ষণে কার্গোর সংকট তৈরি হয়ে যায়। ফলে টার্মিনাল সচল রাখার মতো এলএনজি মজুত ছিল না।


সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কার্গো সময়মতো না আসায় টার্মিনাল সচল থাকার পরও গ্যাস সরবরাহ করা যাচ্ছে না। ফলে একদিকে গ্যাসের ঘাটতি বাড়ছে, অন্যদিকে জরুরিভিত্তিতে বেশি দামে কার্গো কিনতে হচ্ছে। নতুন কার্গো ২৩ আগস্ট সময়মতো দেশে না এলে সংকট আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।


প্রতীকী ছবি

  • প্রকাশ : বুধবার ১৯ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:১১ পিএম

কারাগারে থাকা বন্দিকে সীমিত সময়ের জন্য মুক্তি দেওয়ার প্রক্রিয়া হলো প্যারোল। বিধি মোতাবেক কেউ প্যারোল আবেদনের যোগ্য হলে তিনি আবেদন করতে পারেন।


জামিনের সঙ্গে এর পার্থক্য রয়েছে। জামিন হয় আদালতের নির্দেশে, কিন্তু প্যারোল হয় প্রশাসনিক আদেশে। জামিন পাওয়া ব্যক্তি বাইরে স্বাধীন থাকেন এবং তিনি কোনো আদালত বা পুলিশের জিম্মায় থাকেন না। কিন্তু প্যারোল পাওয়া ব্যক্তি পুরো সময় পুলিশের তত্ত্বাবধানে থাকেন। প্যারোল পাওয়া ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট সময় পর পুলিশ কারাগারে নিয়ে আসবে।


আইনজীবী মনজিল মোরশেদ জানান, যে কোনো ধরনের বন্দি, কয়েদী বা হাজতিই প্যারোলে মুক্তি পাওয়ার জন্য বিবেচিত হতে পারেন।


তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তি যে অপরাধের কারণে বা যে ধরন বা মেয়াদের শাস্তি ভোগরতই থাকুন না কেন, সুনির্দিষ্ট কারণ দেখিয়ে (যেমন নিকটাত্মীয়ের জানাজা) তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করতে পারেন প্যারোলে মুক্তির জন্য। মন্ত্রণালয় দূরত্ব ও স্থান বিবেচনা করে একটা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য তার আবেদন মঞ্জুর করতে পারেন।


প্যারোলে মুক্তির বিষয়ে যত নীতিমালা

কোনো বন্দি প্যারোল পাবেন এবং প্যারোলের আওতায় তার সময়কাল কীভাবে দেখা হবে - তা নিয়ে একটি নীতিমালা আছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের।

এ নীতিমালা অনুযায়ী, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট প্যারোল মঞ্জুরকারী কর্তৃপক্ষ হিসেবে বিবেচিত হবেন। এ নীতিতে থাকা অন্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো:


১. নিরাপত্তা ও দূরত্ব বিবেচনা করে প্যারোল মঞ্জুরকারী কর্তৃপক্ষ সময় নির্ধারণ করে দেবেন;


২. নিকট আত্মীয় যেমন বাবা-মা, শ্বশুর-শাশুড়ি, সন্তান, আপন ভাই-বোন মারা গেলে প্যারোলে মুক্তি দেওয়া যায়;


৩. আদালতের আদেশ বা সরকারের বিশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রয়োজনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুমোদন সাপেক্ষে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য প্যারোলে মুক্তি দেওয়া যাবে;


৪. প্যারোলে মুক্তি পেলেও সার্বক্ষণিক পুলিশ প্রহরায় থাকতে হবে;


৫. কারাগারের ফটক থেকে প্যারোলে মুক্তি পাওয়া ব্যক্তিকে পুলিশ বুঝে নেওয়ার পর নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই কারাগারে ফেরত দিতে হবে।


মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন

  • প্রকাশ : বুধবার ১৯ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৮:২৬ পিএম

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন জুলাই আন্দোলনে আহতদের চিকিৎসাসেবা ও শহীদ পরিবারের পুনর্বাসনের ওপর বিশেষ জোর দিয়ে বলেছেন, আমাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে জুলাই আহতদের চিকিৎসা এবং শহীদ পরিবারদের পুনর্বাসনের বিষয়গুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিশ্চিত করা।


তিনি বলেন, দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে যাদের প্রয়োজন সবচেয়ে বেশি, তাদের কাছে সেবা পৌঁছে দিতে আমরা কাজ করছি। আহত জুলাই যোদ্ধারা যেন অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারেন এবং তাদের জীবনযাত্রার মান সহনীয় পর্যায়ে থাকে, সে বিষয়ে আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক ও তৎপর রয়েছি।


বুধবার মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার এবং জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসন সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় কমিটি’র সভায় তিনি এ কথা জানান।


তিনি বলেন, আহত জুলাই যোদ্ধারা যেন অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারেন এবং তাদের জীবনযাত্রার মান সহনীয় পর্যায়ে থাকে, সেই বিষয়ে আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক ও তৎপর রয়েছি।


সভায় উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান, মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আশরাফুল ইসলাম এবং সংরক্ষিত মহিলা আসন-৩৪৫-এর সংসদ সদস্য ও জুলাই শহীদ জাবিরের মাতা রোকেয়া বেগম।


 মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আহমেদ আযম খান বলেন, আমাদের সরকার, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার—জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনায় বাংলাদেশ গড়বে, সেজন্য আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ। আর সেই অঙ্গীকার থেকেই আমরা জুলাই গণঅভ্যুত্থান অধিদপ্তরকে সক্রিয় করে এর মাধ্যমে আহত জুলাই যোদ্ধা ও শহিদ পরিবারের জন্য কাজ করব। এই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের কৃতিত্ব কোনো একক দলের নয়, এটি পুরো জাতির। সকল শহিদ পরিবার ও আহতদের পরিচর্যা ও সেবা নিশ্চিত করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।          



অন্যদিকে, তালিকার নির্ভুলতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোকপাত করে মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আশরাফুল ইসলাম উল্লেখ করেন, জুলাই যোদ্ধাদের এবং শহীদদের তালিকায় যে সকল ভুলত্রুটি বা অভিযোগ আসছে, সেগুলো তদন্ত সাপেক্ষে অত্যন্ত স্বচ্ছতার সাথে সংশোধন করা হচ্ছে। জুলাই শহীদ ও জুলাই যোদ্ধাদের আবেদনের ভিত্তিতে ডাক্তারি সনদসহ জেলা পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট কমিটির মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করা হয়। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই অন্তে জুলাই গণঅভ্যুত্থান অধিদপ্তরের সুপারিশের ভিত্তিতে মন্ত্রণালয়ের প্রয়োজনীয় অনুমোদনপূর্বক গেজেটভুক্ত করা হয়। আমাদের লক্ষ্য একটি সম্পূর্ণ নির্ভুল ও স্বচ্ছ তালিকা উপহার দেওয়া, যাতে কোনো অযোগ্য ব্যক্তি এতে সুযোগ না পায় এবং প্রকৃত কোনো জুলাই যোদ্ধা বা শহিদ পরিবার বাদ না পড়েন।             

 ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার এবং জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসন সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় কমিটি’র সভা

বিশেষ আমন্ত্রণে সভায় উপস্থিত ছিলেন সংরক্ষিত মহিলা আসন-৩৪৫ এর সংসদ সদস্য ও জুলাই শহীদ জাবিরের মাতা রোকেয়া বেগম। এছাড়া সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, অর্থ বিভাগ, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ, জননিরাপত্তা বিভাগ, স্থানীয় সরকার বিভাগ, পরিকল্পনা বিভাগ, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় কর্তৃক মনোনীত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা; সরকার মনোনীত জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের একজন প্রতিনিধি এবং জুলাই যোদ্ধাদের একজন প্রতিনিধি।


সভায় জুলাই শহীদ ও জুলাই যোদ্ধাদের প্রকৃত তালিকা এবং তাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসনের লক্ষ্যে আলোচ্যসূচি অনুযায়ী আলোচনা করা হয় ও প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

  • প্রকাশ : বুধবার ১৯ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৮:১৫ পিএম
  • আপডেট : বুধবার ১৯ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৮:১৫ এএম


সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক

  • প্রকাশ : বুধবার ১৯ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৮:১৫ পিএম

নয়টি মামলায় সর্বোচ্চ আদালত থেকে জামিনের পর অবশেষে কারাগার থেকে মুক্তি পেলেন সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক। 


আজ বুধবার বিকেল ৪টার দিকে কেরানীগঞ্জ বিশেষ কারাগার থেকে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন তার কারামুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এছাড়াও সুপ্রিমকোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোতাহার হোসেন সাজু তার মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। 


তিনি জানান, গত এক বছরে তাকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে হত্যা বা হত্যাচেষ্টা, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলের রায় পরিবর্তন, জালিয়াতির অভিযোগ এবং দুর্নীতির মোট নয়টি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এর সবগুলোতেই তিনি সর্বোচ্চ আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন।


জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর বনানী থানায় হত্যাচেষ্টা ও বিস্ফোরকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে করা সর্বশেষ এক মামলায় খায়রুল হককে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বহাল রাখেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার ‘নো অর্ডার’ আদেশ দেন চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক।


জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর ২০২৫ সালের ২৪ জুলাই রাজধানীর ধানমন্ডির বাসা থেকে সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হককে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখা। ওইদিন রাতেই তাকে যাত্রাবাড়ীতে যুবদলকর্মী আবদুল কাইয়ুম আহাদ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারেই ছিলেন।


২০২৬ সালের এপ্রিল ও মে মাসে বিভিন্ন মামলায় সর্বোচ্চ আদালত থেকে তার জামিন বহাল হলেও নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর কারণে এতদিন তিনি কারামুক্ত হতে পারেননি। 


২০১০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর দেশের ১৯তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন এ বি এম খায়রুল হক। ২০১১ সালের ১৭ মে তিনি অবসরে যান।

  • প্রকাশ : বুধবার ১৯ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৭:৪২ পিএম
  • আপডেট : বুধবার ১৯ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:৪৩ এএম


ঈদে-মিলাদুন্নবী

  • প্রকাশ : বুধবার ১৯ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৭:৪২ পিএম

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (স.) উপলক্ষে আগামী ২৬ আগস্ট দেশজুড়ে নানা কর্মসূচি পালন করবে সরকার। গত ১৩ আগস্ট ঈদে মিলাদুন্নবী (স.) উদযাপন সংক্রান্ত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় জাতীয় কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হয়। 


ধর্ম সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক মুফতি মুহাম্মদ মুহিববুল্লাহিল বাকীসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর ও সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।


আজ বুধবার (১৯ আগস্ট) ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।


ঈদে মিলাদুন্নবী (স.) উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী পৃথক বাণী দেবেন। সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি ভবন ও সশস্ত্র বাহিনীর সব স্থাপনায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে।


কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঢাকা মহানগরীর গুরুত্বপূর্ণ ট্রাফিক আইল্যান্ড, লাইটপোস্ট, স্থান ও সড়ক জাতীয় পতাকা, রঙিন পতাকা এবং ‘কালিমা তায়্যিবা’ লেখা ব্যানারে সজ্জিত করা হবে।


বাংলাদেশ সচিবালয় মসজিদসহ দেশের সব মসজিদে দোয়া মাহফিল আয়োজন করা হবে। একই সঙ্গে বিভাগ, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা এবং সশস্ত্র বাহিনী নিজ নিজ অধিক্ষেত্রে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করবে।


ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে ওয়াজ মাহফিল, সেমিনার ও টকশো প্রচারের পাশাপাশি কিরাত, হামদ-নাত, স্বরচিত কবিতা পাঠ এবং শিক্ষার্থীদের জন্য সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার আয়োজন করবে ইসলামিক ফাউন্ডেশন। আরবিতে খুতবা লেখা প্রতিযোগিতাও অনুষ্ঠিত হবে।


এ ছাড়া ইসলামিক ফাউন্ডেশন স্মরণিকা বা ক্রোড়পত্র প্রকাশ করবে। বায়তুল মোকাররম মসজিদের দক্ষিণ প্রান্তে মাসব্যাপী ইসলামিক বইমেলারও আয়োজন করা হবে।


দিবসটি উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচারের জন্য বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতার ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক মিডিয়াকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। সংবাদপত্রগুলোও বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করবে।


বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জেলা শিল্পকলা একাডেমি, শিশু একাডেমি, অন্যান্য সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, ওয়াকফ প্রশাসকের কার্যালয়, ঢাকা ও জেদ্দা হজ অফিসসহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (স.)-এর জীবন ও কর্ম, ইসলামের শান্তি, প্রগতি, সৌহার্দ্য, সহিষ্ণুতা, বিশ্ব ভ্রাতৃত্ব, মানবাধিকার ও নারীর মর্যাদা বিষয়ে আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল, হামদ-নাত, কবিতা পাঠ, সাংস্কৃতিক ও কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করতে বলা হয়েছে।


শিশুদের জন্য হামদ-নাত, আলোচনা সভা ও রচনা প্রতিযোগিতাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করবে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি।


এদিকে ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে দেশের সব সামরিক ও বেসামরিক হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশু পরিবার, শিশু সদন, আবাসিক শিশু বিকাশ কেন্দ্র ও প্রবীণ নিবাসে উন্নতমানের খাবার পরিবেশনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাস ও মিশনগুলোতেও যথাযথ মর্যাদায় দিবসটি পালন করা হবে।


দিবসটি উপলক্ষে শান্তি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বিশেষ ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়।