ছবি : সংগৃহীত
দেশের আলাদা দুটি জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় মা ও শিশু সন্তানসহ তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুরে ও বিকেলে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া এবং শেরপুরের নকলায় এই সড়ক দুর্ঘটনা দুটি ঘটে।
উল্লাপাড়া (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি জানান, সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলায় যাত্রীবাহী বাসের চাপায় অটোরিকশার যাত্রী মা ও তার তিন বছরের শিশু সন্তান নিহত হয়েছেন। এই দুর্ঘটনায় অটোরিকশার আরও অন্তত তিনজন যাত্রী আহত হয়েছেন।
আজ বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের হাটিকুমরুল এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তিরা হলেন সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার নূরনগর গ্রামের বিপ্লব হোসেনের স্ত্রী নীলা বেগম (২৫) এবং তার তিন বছর বয়সী ছেলে।
হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ ইসমাইল হোসেন জানান, বিকেলে বগুড়া থেকে ঢাকাগামী একটি যাত্রীবাহী বাস ওই অটোরিকশাটিকে চাপা দিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই মা ও ছেলের মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে হাইওয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি শনাক্ত ও চালককে আটকে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।
শেরপুর প্রতিনিধি জানান, শেরপুরের নকলায় বাস ও সিএনজিচালকদের মধ্যে যাত্রী ওঠানো নিয়ে বিরোধের জেরে বাসের চাপায় এক পথচারী নিহত হয়েছেন। চালক নেমে যাওয়ার পর বাসের সহকারী গাড়িটি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলে তা মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ওই পথচারীকে চাপা দেয়।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে নকলা পৌর শহরের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে শেরপুর-ঢাকা মহাসড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতের নাম আব্দুল কাদির (৬০)। তিনি উপজেলার উত্তর গণপদ্দী গ্রামের মৃত হরমুজ আলীর ছেলে। তিনি স্থানীয় ‘স্বদেশ ডায়াগনস্টিক সেন্টার’-এর পরিচালক ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, দুপুরে নকলা পৌর শহরের হলপট্টি মোড়ে যাত্রী ওঠানোকে কেন্দ্র করে ঢাকাগামী ‘রংধনু পরিবহন’ নামের একটি বাসের চালকের সঙ্গে কয়েকজন সিএনজিচালকের বাগবিতণ্ডা ও হাতাহাতি হয়। একপর্যায়ে বাসচালক গাড়ি থেকে নেমে যান। ওই সময় বাসের হেলপার স্টিয়ারিং ধরে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু অনভিজ্ঞ হওয়ায় বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা পথচারী আব্দুল কাদিরকে সজোরে ধাক্কা দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নকলা থানার অফিসার ইনচার্জ রিপন চন্দ্র গোপ বলেন, দুর্ঘটনার পর ‘রংধনু পরিবহন’ বাসটি জব্দ করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। একই সঙ্গে বাসের চালক ও সহকারীকে আটক করা হয়েছে। এই ঘটনায় পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দরে ব্যবহৃত গাড়ির যন্ত্রাংশ আমদানির ঘোষণায় বিএমডব্লিউ স্পোর্টস কার ও বিএমডব্লিউর যন্ত্রাংশের সন্ধান পেয়েছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) কাস্টমস গোয়েন্দার অভিযানে এমন একটি চালান ধরা পড়েছে বলে এনবিআরের জনসংযোগ দপ্তর জানিয়েছে।
অভিযানে ব্যবহৃত গাড়ির যন্ত্রাংশ আমদানির ঘোষণায় একটি বিএমডব্লিউ স্পোর্টস কার, আরেকটি বিএমডব্লিউ ৭৪ওআই সামনের অর্ধাংশ এবং পাঁচটি হাফ-কাট ইসুজু ট্রাক পেয়েছে বলে জানা গেছে।
কাস্টমস গোয়েন্দা জানায়, চট্টগ্রাম বন্দরে সন্দেহভাজন চালানটিতে ব্যবহৃত গাড়ির ডিফারেনশিয়াল অ্যাসেম্বলি, পাওয়ার স্টিয়ারিং অ্যাসেম্বলিসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশ আমদানির ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কায়িক পরীক্ষায় ঘোষিত পণ্যের সঙ্গে বাস্তবে পাওয়া পণ্যের উল্লেখযোগ্য অসংগতি দেখা যায়। এতে গাড়ির গুরুত্বপূর্ণ অংশসহ একাধিক যানবাহন পাওয়ায় আমদানি ঘোষণা, প্রকৃত পণ্যের পরিচয় ও বৈধতা যাচাইয়ের উদ্যোগ নিয়েছে কাস্টমস গোয়েন্দা।
আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স আয়াজ অটো ইন্টারন্যাশনাল। যার সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট আমিন (সিঅ্যান্ডএফ) প্রাইভেট লিমিটেড। রপ্তানিকারক সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক আরব জাপান ইউজড কারস অ্যান্ড স্পেয়ার পার্টস কোম্পানি এলএলসি। কায়িক পরীক্ষায় প্রথমে সম্পূর্ণ খোলা বা যন্ত্রাংশ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় একটি দুই আসনের বিএমডব্লিউ স্পোর্টস/রেসিং কার পাওয়া যায়। প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে গাড়িটি ২০০৯ সালের মডেল S Drive 23i, ইঞ্জিনের ধারণক্ষমতা প্রায় ২ হাজার ৫০০ সিসি।
একই চালানে বিএমডব্লিউ ৭৪ওআই মডেলের একটি গাড়ির সামনের অর্ধাংশ বা ফ্রন্ট হাফ। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, গাড়িটির মডেল ইয়ার ২০১৬ এবং ইঞ্জিনের ধারণক্ষমতা প্রায় ৩ হাজার সিসি। গাড়িটির শুধু সামনের অংশ চালানে পাওয়া যাওয়ায় বিষয়টি বিশেষভাবে খতিয়ে দেখছে কাস্টমস গোয়েন্দা। এর অবশিষ্ট অংশ অন্য কোনো চালানে আমদানি করা হয়েছে কি না, কিংবা পৃথক চালানে এনে পরে গাড়িটি পুনঃসংযোজনের কোনো পরিকল্পনা ছিল কি না, তা তদন্তের আওতায় রয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত তথ্য পাওয়া যায়নি।
কাস্টমস গোয়েন্দা আরও জানায়, চালানটিতে আরও পাওয়া গেছে পাঁচটি হাফ-কাট ইসুজু ট্রাক। প্রতিটি ট্রাকের কেবিনের ভেতরে বিভিন্ন গাড়ির যন্ত্রাংশ প্যাক করে রাখা হয়েছিল। এছাড়া চালানে আরও বিভিন্ন ধরনের ব্যবহৃত গাড়ির যন্ত্রাংশ পাওয়া যায়। কাস্টমস গোয়েন্দার পর্যবেক্ষণে ঘোষিত পণ্যের বিবরণ ও বাস্তবে পাওয়া পণ্যের ধরন এবং অবস্থার মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য ধরা পড়ে। ফলে পণ্যের প্রকৃত পরিচয়, পরিমাণ, মূল্য এবং আমদানির অনুমোদনসংক্রান্ত নথিপত্র যাচাই করা হচ্ছে।
কাস্টমস গোয়েন্দা বলছে, ঘোষণার সঙ্গে বাস্তবে পাওয়া পণ্যের অসংগতি থেকে পণ্যের ভুল ঘোষণা বা মিসডিক্লারেশনের বিষয়টি সামনে এসেছে। এর মাধ্যমে শুল্ক-কর ফাঁকির চেষ্টা হয়েছে কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে। চট্টগ্রাম বন্দরে ঘোষণার আড়ালে গাড়ি বা গাড়ির গুরুত্বপূর্ণ অংশ আমদানির এ ধরনের প্রচেষ্টা শনাক্তে নজরদারি জোরদার করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।
ছবি : সংগৃহীত
বাংলাদেশে কার্যক্রম সম্প্রসারণ, বিনিয়োগের সম্ভাবনা এবং দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক পরিকল্পনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে আলোচনা করেছেন জাপানের অটোমোবাইল ব্র্যান্ড টয়োটা- এর প্রতিনিধিরা। সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মঙ্গলবার সরকার প্রধানের সঙ্গে বৈঠক করেন টয়োটা তুশো করপোরেশনের উচ্চ পর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল।
বৈঠক তথ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন বলেন, “প্রতিনিধি দলটির নেতৃত্ব দেন টয়োটা তুশো করপোরেশনের ভাইস চেয়ারম্যান ইচিরো কাশিতানি। বৈঠকে তারা বাংলাদেশে টয়োটার গাড়ি উৎপাদন কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন।
“এ উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিল্পায়নের প্রসার, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং স্থানীয় পর্যায়ে দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নে অবদান রাখার আগ্রহের কথাও জানান তারা। প্রধানমন্ত্রী টয়োটার বিনিয়োগ ও কার্যক্রম সম্প্রসারণের আগ্রহকে স্বাগত জানান।”
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশ সরকার দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের জন্য একটি স্থিতিশীল, প্রতিযোগিতামূলক ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে কাজ করছে। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রয়োজনীয় নীতি সহায়তা, অবকাঠামোগত সুবিধা এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
উপ প্রেস সচিব বলেন, “বৈঠকে বাংলাদেশে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরা হয়েছে। এসব খাতে টয়োটা তুশো করপোরেশন বিনিয়োগে আগ্রহী হলে সরকার প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও সহায়তা দেবে।”
টয়োটা কর্তৃপক্ষ থেকে বলা হয়, বাংলাদেশে তাদের ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক আরও সম্প্রসারণ করে সব বিভাগীয় পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে টয়োটার সেবা ও কার্যক্রম আরও সহজলভ্য করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। একটি অর্থনৈতিক অঞ্চলে ২০২৭ সালে টয়োটা বাংলাদেশের উদ্যোগে ‘বাংলাদেশের সঙ্গে, বাংলাদেশের জন্য’ উন্নয়ন দর্শনকে সামনে রেখে হাইব্রিড ইলেকট্রিক ভেহিক্যল (এইচইভি) বা ইলেকট্রিক গাড়ি উৎপাদন শিল্প গড়ে তোলার কাজ শুরু করা হবে। ২০২৯ সালের মধ্যে যা পূর্ণাঙ্গ উৎপাদনে যাবে।
উপ প্রেস সচিব বলেন, “টয়োটা বাংলাদেশের মানবসম্পদ উন্নয়নেও অবদান রাখতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। বিশেষ করে তরুণদের জন্য কারিগরি ও পেশাগত প্রশিক্ষণের সুযোগ সৃষ্টি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ শিল্পের উপযোগী দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে টয়োটা সম্ভাব্য উদ্যোগ ও আগ্রহের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেছে।”
বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, প্রধানমন্ত্রীর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ এবং প্রধানমন্ত্রীর এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খান উপস্থিত ছিলেন।
টয়োটা তুশো করপোরেশনের পক্ষে ছিলেন কোম্পানির মোবিলিটি ডিভিশনের সিইও শিগেরু হারাদা, টয়োটা বাংলাদেশ লিমিটেডের প্রেসিডেন্ট প্রেমমিত সিংসহ প্রতিষ্ঠানটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
এই নির্বাসন প্রক্রিয়াটি ভারতীয় বিমান বাহিনীর একটি বিশেষ বিমানে সম্পন্ন করা হয়। বাগডোগরায়, বাংলাদেশি নাগরিকদের বিএসএফ সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।(ছবি-দ্য প্রিন্ট)
‘অবৈধভাবে’ বসবাসের অভিযোগে ভারতের কাশ্মীর থেকে অন্তত ১৫০ ‘বাংলাদেশিকে’ আটকের পর তাদের দেশে ফেরত পাঠানোর খবর দিয়েছে ভারতের একটি সংবাদমাধ্যম। দ্য প্রিন্টের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, সোমবার ওই বাংলাদেশিদের আটকের পর তাদের ফেরত পাঠাতে ভারতীয় বিমান বাহিনীর বিমানে করে পশ্চিমবঙ্গের বাগডোগরা বিমানবন্দরে নিয়ে আসা হয়। সেখান থেকে তাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
ভারতের কাশ্মীর থেকে এটিই প্রথম কোনো প্রকাশ্যে নথিভুক্ত বৃহৎ পরিসরের ফেরত পাঠানোর ঘটনা। দ্য প্রিন্ট লিখেছে, ভারতের সরকারি রেকর্ড অনুযায়ী জম্মু ও কাশ্মীরে মোট ৫০৪ জন বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন। আটক ১৫০ জনও তাদেরই অংশ।
পুলিশের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে খবরে বলা হয়েছে, “কাশ্মীরে কর্মরত শ্রমিকদের নিবন্ধনের জন্য আধার কার্ড জমা দিতে বলা হয়েছিল। সে সময় আধার কার্ডের তথ্যে গরমিল বা অসঙ্গতি ধরা পড়লে বিষয়টি বাংলাদেশে পাঠিয়ে তাদের জাতীয়তা নিশ্চিত করা হয়। পরে গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে ‘ফরেনার্স অ্যাক্ট’ এর অধীনে তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
ওই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে দুটি ট্রানজিট পয়েন্ট আছে। একটি মালদা, আরেকটি বাগডোগরা। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী তাদের পাহারা দিয়ে সীমান্ত পার করে দিয়েছে। তার আগে ভারতীয় বিমান বাহিনীর একটি বিশেষ বিমানে তাদের পশ্চিমবঙ্গে নিয়ে আসা হয়।” তবে মালদা নাকি বাগডোগরা, ঠিক কোন সীমান্ত দিয়ে তাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে সে সম্পর্কে স্পষ্ট করে কিছু বলেননি তিনি।
পশ্চিমবঙ্গে দার্জিলিং জেলার শিলিগুড়ি মহকুমার একটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা বাগডোগরা। এর অপরপাশে অর্থাৎ দক্ষিণ দিকে বাংলাদেশের পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা সীমান্ত। অন্যদিকে মালদা পশ্চিমবঙ্গে উত্তরাঞ্চলীয় জেলা। এর অপরপাশে বাংলাদেশের রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সীমান্ত। দ্য প্রিন্ট বলছে, জনমিতিগত পরিবর্তন রুখতে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি প্রকাশ প্রভাকর নাভালকারের নেতৃত্বে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার গঠিত উচ্চ পর্যায়ের একটি কমিটি সম্প্রতি জম্মু ও কাশ্মীর পরিদর্শনের কয়েক মাস পর এই বাংলাদেশিদের ফেরত পাঠানো হলো। কমিটির নথিতে জম্মু ও কাশ্মীরে মোট ৫০৪ জন বাংলাদেশি নাগরিকের উপস্থিতি রেকর্ড করা হয়, যার মধ্যে ৪৬ জন জম্মুতে এবং বাকি ৪৫৮ জন কাশ্মীরে অবস্থান করছেন। জম্মু ও কাশ্মীর প্রশাসন আটক বাংলাদেশিদের আরও একটি দলকে ৭ অক্টোবর ফেরত পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
পঞ্চগড় ১৮ বিজিবি ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ মো. কায়েস বলেন, “আমরা এ ধরনের খবর জেনেছি বিভিন্ন মাধ্যমে। তবে কোনোভাবেই যেন পুশইন না হয় সে ব্যাপারে আমরা সতর্ক আগে থেকেই আছি। এ খবর পাওয়ার পর সীমান্তে সতর্কতা আরও বাড়ানো হয়েছে। একই সাথে গোয়েন্দা নজরদারির পাশাপাশি টহল বাড়িয়েছি।” তারা সকলের সহযোগিতা নিয়ে কাজ করছেন, বলেন বিজিবির এই কর্মকর্তা।
ছবি : সংগৃহীত
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েও নিয়োগপত্র বঞ্চিত হয়েছেন ৮৩ জন। ভেরিফিকেশনে বাদ পড়া প্রার্থীদের মধ্যে অনেকে ধাপে ধাপে নিয়োগপত্র পেলেও শেষ পর্যন্ত তারা বঞ্চিতই রয়ে গেছেন। পাশাপাশি নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে সুপারিশপ্রাপ্ত হলেও চাকরিতে যোগ দেননি এমন প্রার্থীর সংখ্যা ১ হাজার ৪৭১ জন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেননি। তারা অন্য কোথাও চাকরি করছেন বলে জানা গেছে। আর বড় একটি সংখ্যা নিয়োগপত্র নিয়েও যোগদান করেননি।
আজ মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের (ডিপিএ) পলিসি অ্যান্ড অপারেশনস বিভাগের কর্মকর্তারা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ‘সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা, ২০২৫’ দুই ধাপে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। এতে মোট শূন্যপদ ছিল ১৪ হাজার ৩৮৫টি। এসব পদের বিপরীতে আবেদন জমা পড়েছিল ১০ লাখ ৮০ হাজার ৮০টি। সে হিসাবে গড়ে প্রতিটি পদের বিপরীতে লড়াই করেন প্রায় ৭৫ জন চাকরিপ্রার্থী।
অধিদপ্তরের তথ্যমতে, প্রথম ধাপে (রাজশাহী, রংপুর, সিলেট, খুলনা, বরিশাল ও ময়মনসিংহ বিভাগ) ১০ হাজার ২১৯টি শূন্য পদের বিপরীতে আবেদন জমা পড়ে ৭ লাখ ৪৫ হাজার ৯২৯টি। দ্বিতীয় ধাপে (ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগ) ৪ হাজার ১৬৬টি পদের বিপরীতে আবেদন জমা পড়ে ৩ লাখ ৩৪ হাজার ১৫১টি।
এদিকে সহকারী শিক্ষক নিয়োগে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন ৬৯ হাজার ২৬৫ জন প্রার্থী। তাদের মৌখিক পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত করা হয়। গত ৮ ফেব্রুয়ারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়। এতে ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থীকে নিয়োগে চূড়ান্ত সুপারিশ করা হয়।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ২৪ সেপ্টেম্বর জেলাভিত্তিক নিয়োগের আদেশ জারি করা হয়। কয়েক ধাপে জারি করা এ আদেশের পর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমার নির্দেশনা দেওয়া হয়। তাতে কাগজপত্র জমা দেন ১৩ হাজার ৮৩১ জন। বাকিদের মধ্যে ৫৫২ জন কাগজপত্র জমা দেননি। আরেকজন মারা গেছেন।
এদিকে কাগজপত্র জমা দিয়ে নিয়োগপত্র হাতে পান ১৩ হাজার ৭৪৮ জন। তাদের মধ্যে নির্ধারিত সময়ে চাকরিতে যোগ দিয়েছেন ১২ হাজার ৮৩০ জন।
হিসাব অনুযায়ী- কাগজপত্র জমা দিয়ে নিয়োগপত্র হাতে পেয়েও সহকারী শিক্ষক পদে যোগদান করেননি ৯১৮ জন। আর কাগজপত্র জমা দেননি ৫৫৩ জন। সেই হিসাবে ১ হাজার ৪৭১ জন চাকরিতে যোগদানে আগ্রহ দেখাননি।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (এডিজি) আবদুর রহিম বলেন, অনেকে কাগজপত্র জমা দেননি। তারা কোনো আগ্রহই দেখাননি। আবার অনেকে নিয়োগপত্র হাতে পেয়েও যোগদান করেননি। হয়তো তাদের অন্যত্র চাকরি হয়েছে। সেটিকে তারা গুরুত্ব দিয়েছেন। সব সরকারি নিয়োগে এমন ঘটনা ঘটে থাকে।
তিনি বলেন, ‘কিন্তু সহকারী শিক্ষক পদে ১ হাজার ৪৭১ জন যোগ না দেওয়ায় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কারণ আমাদের এতবড় নিয়োগ প্রক্রিয়া বারবার চালানো কষ্টসাধ্য। এর সঙ্গে সরকারের যে বাড়তি খরচ, সে বিষয়টিও রয়েছে। পাশাপাশি পদ শূন্য থাকায় বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট পড়বে। আমরা শিগগির আরেকটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের প্রস্তুতি নিচ্ছি। সেটি হয়ে গেলে আর সংকট থাকবে না।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ
সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা এমনভাবে পুনঃস্থাপন করা হবে যাতে ভবিষ্যতে কোনো সরকার বা সংসদ চাইলেই তা সহজে বাতিল করতে না পারে। ভবিষ্যতে এটি সরাতে হলে জনগণের মতামত নিতে ‘গণভোট’-এর প্রয়োজন হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির সভাপতি সালাহউদ্দিন আহমদ। আজ মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনে সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।
এদিন বৈঠকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহত জুলাই যোদ্ধাদের সঙ্গে মতবিনিময় করে কমিটি।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফেরানো প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, উচ্চ আদালতের রায়ের বিষয়গুলো সংবিধান সংশোধনীতে প্রতিফলিত হবে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থায় কিছু পরিবর্তন আসতে পারে, তবে বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
বিরোধী দলসহ বিভিন্ন পক্ষের প্রস্তাব পর্যালোচনা করে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে রাষ্ট্রপতি যে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হতে পারবেন না- সে বিষয়ে কমিটির সুস্পষ্ট মতামত রয়েছে।
বৈঠকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সাংবিধানিক স্বীকৃতি এবং জুলাই যোদ্ধাদের সুরক্ষার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, শহীদ পরিবার ও আহতদের পক্ষ থেকে যেসব দাবি এসেছে, তা বৈঠকে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঘোষণাপত্রে থাকা অনেক বিষয় রাজনৈতিক দলগুলোও স্বীকার করেছে। এসব বিষয় সংবিধানে যুক্ত করার প্রয়োজন রয়েছে। এক্ষেত্রে তফসিলে অন্তর্ভুক্তির বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে, যার মাধ্যমে জুলাই যোদ্ধাদের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনাসহ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিচার দ্রুত সম্পন্ন করার বিষয়ে সরকার আন্তরিক। বিচার বিভাগ স্বাধীনভাবে কাজ করবে এবং সরকার এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। সরকার অন্যান্য মামলার বিষয়গুলোও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সনদ যেভাবে স্বাক্ষর হয়েছে, সেভাবেই তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে যাদের ‘নোট অব ডিসেন্ট’ বা ভিন্নমত রয়েছে, সেগুলো বাদ দিয়ে তা বাস্তবায়নের সুযোগ নেই। সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে সবার মতামতই ধারণ করার চেষ্টা করবে বিশেষ কমিটি।
সংবিধান সংশোধনের দাবিতে বিভিন্ন পক্ষের লংমার্চ কর্মসূচি প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, লংমার্চ করা মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার। যে কেউ তা করতে পারেন। তবে লংমার্চ বা অন্য কোনো কর্মসূচির মাধ্যমে তো আর সংবিধান সংশোধন করা সম্ভব নয়। সংবিধান সংশোধন করতে হলে অবশ্যই সংসদীয় আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।
কানাডার বিনিয়োগ বৃদ্ধির আহ্বান রাষ্ট্রপতির
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বাংলাদেশে কানাডার বিনিয়োগ আরও বৃদ্ধির জন্য দেশটির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। আজ মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বাংলাদেশে নিযুক্ত কানাডার হাইকমিশনার অজিত সিং রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে বঙ্গভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে রাষ্ট্রপতি এ আহ্বান জানান।
রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম বাসসকে এ তথ্য জানিয়েছেন।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি গণতন্ত্র চর্চায় কানাডার দীর্ঘ ঐতিহ্যের প্রশংসা করেন এবং বাংলাদেশেও এক্ষেত্রে কানাডার সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে গণতন্ত্র ও সংসদীয় রীতির অনুপস্থিতির কারণে বর্তমান সরকারকে বেগ পেতে হচ্ছে এবং সরকার গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম শুরু করেছে।
এ সময় কানাডার হাইকমিশনার জানান, দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ বার্ষিক চার বিলিয়ন কানাডীয় ডলার ছাড়িয়েছে এবং এক্ষেত্রে বাণিজ্য সম্প্রসারণের আরও সুযোগ রয়েছে।
এ সময় রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশে কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা, সার, আইটি, আউটসোর্সিংসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে অধিকতর সহযোগিতা বৃদ্ধির আহ্বান জানান।
এ সময় কানাডার হাইকমিশনার দেশটির পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর আসন্ন বাংলাদেশ সফরের বিষয়টি রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন।
একইসাথে তিনি রোহিঙ্গা ইস্যুতে কানাডা সরকারের সহযোগিতার বিষয়টি তুলে ধরে বলেন, কানাডা সরকার এ পর্যন্ত প্রায় ৬০০ মিলিয়ন ডলারের সহযোগিতা প্রদান করেছে।
অব্যাহত সহযোগিতার জন্য রাষ্ট্রপতি কানাডা সরকারকে ধন্যবাদ জানান এবং রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে স্বেচ্ছায় ও নিরাপদ প্রত্যাবর্তনে আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টিতে কানাডাকে কার্যকর ভূমিকা পালনের অনুরোধ জানান।
তিনি শিক্ষাক্ষেত্রে, বিশেষ করে কারিগরি, প্রযুক্তি, নার্সিং ও চিকিৎসা খাতে কানাডার সহযোগিতা বৃদ্ধির অনুরোধ জানান।
রাষ্ট্রপতি বলেন, এক লাখেরও অধিক বাংলাদেশি কানাডার উন্নয়নে অবদান রাখছে।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সচিবগণ ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া কানাডার পক্ষে রাজনৈতিক কাউন্সেলর মার্কাস ডেভিস উপস্থিত ছিলেন।