ড. মুহাম্মদ ইউনূস
অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ওই সরকারের উপদেষ্টারা। আজ মঙ্গলবার যৌথ বিবৃতিতে তাঁরা বলেছেন, দ্ব্যর্থহীন ভাষায় ঘোষণা করতে চাই- ভয়ভীতি, মিথ্যাচার, অনলাইন হয়রানি কিংবা ব্যক্তিগত হুমকি জুলাইয়ের প্রতিশ্রুত পরিবর্তনের সংকল্প থেকে আমাদের বিন্দুমাত্র দমাতে পারবে না।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের আপামর জনগণের ম্যান্ডেট এবং তরুণ সমাজের বিপুল আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত সংস্কার ও মর্যাদার ঐতিহাসিক অর্জনকে কোনো অপপ্রচার কিংবা ক্ষমতাচ্যুত ফ্যাসিবাদী শক্তি ও তাদের দোসরদের চক্রান্তে মুছে যেতে দেওয়া হবে না।
বিবৃতিতে সাবেক উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ, মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, সি আর আবরার, ড. আসিফ নজরুল, আদিলুর রহমান খান, লে. জেনারেল জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.), ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ড. সাখাওয়াত হোসেন (অব.), ফারুক-ই-আজম বীর প্রতীক, ফরিদা আখতার, শারমিন সোনিয়া মুরশিদ, মোস্তফা সরয়ার ফারুকী (চলচ্চিত্র নির্মাতা) এবং সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের নাম রয়েছে।
সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেলজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে অনলাইন অপপ্রচার ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আক্রমণে গভীর ক্ষোভ ও তীব্র নিন্দা প্রকাশ করেন সাবেক উপদেষ্টারা।
তাঁরা বিবৃতিতে বলেছেন, দেশ যখন মহাবিপর্যয়ের দ্বারপ্রান্তে ছিল, তখন অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার চরম ধ্বংসস্তূপ থেকে দেশ পুনর্গঠনের গুরুদায়িত্ব কাঁধে নেয়। বছরের পর বছর ধরে চলা লাগামহীন অর্থনৈতিক লুটপাট, গণতান্ত্রিক প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর ভাঙন, দুর্নীতি, প্রাতিষ্ঠানিক স্বৈরাচার এবং মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘনের শিকার একটি জাতিকে টেনে তোলার জন্য এই সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে। বিগত ফ্যাসিবাদী শাসনামলে নিয়মিত ঘটে যাওয়া গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মতো জঘন্য ও নির্মম অধ্যায়ের অবসান ঘটিয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর পুনর্গঠন, ফ্যাসিবাদী শাসনের শিকার ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার দেওয়া এবং মানবাধিকারের সুরক্ষাকে অব্যাহত রাখার প্রত্যয়ে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অবাধ ও সুষ্ঠু সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।
সাবেক উপদেষ্টারা বলেছেন, গভীর পরিতাপের সঙ্গে লক্ষ্য করছি, কিছু রাজনৈতিক দুষ্কৃতকারী ও কায়েমী স্বার্থান্বেষীরা অধ্যাপক ইউনূসের বিরুদ্ধে অনবরত মিথ্যা তথ্য ও অপপ্রচার ছড়াচ্ছে। এমনকি তাঁকে শারীরিকভাবেও হুমকি দিচ্ছে। দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের গ্রহণযোগ্যতাকে ক্ষুণ্ন করতেই ড. ইউনূসকে হেনস্তা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সাবেক উপদেষ্টারা।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি বিমানবন্দরে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। একই সঙ্গে ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতির বরাত দিয়ে জানানো হয়, বিষয়টি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে উত্থাপন করে এর সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করা এবং তাদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নিউইয়র্কে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনকে নির্দেশনা দিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, দুষ্কৃতকারীরা নিষিদ্ধ রাজনৈতিক সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী অধ্যাপক ইউনূস আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে অত্যন্ত শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব উল্লেখ করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিদেশের মাটিতে তাকে হয়রানির ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
মন্ত্রণালয় আরও জানায়, এ ঘটনার পেছনে যারা দায়ী, তারা বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশ ও দেশের নাগরিকদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে।
ছবি : সংগৃহীত
দেশের সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণিতে ডিজিটাল লটারি পদ্ধতি মাধ্যমে নেওয়া হবে শিক্ষার্থীদের ভর্তি। যদিও দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ভর্তি হতে হলে শিক্ষার্থীদের দিতে হবে ভর্তি পরীক্ষা। এর মধ্যে দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ৫০ নম্বরের এবং ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষা হবে ১০০ নম্বরের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ভর্তি নীতিমালা-২০২৭ এ জানানো হয়েছে এসব তথ্য।
আজ মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ এ নীতিমালা প্রকাশ করেছে। এতে সই করেছেন মন্ত্রণালয়ের সরকারি মাধ্যমিক-১ শাখার উপসচিব তানিয়া ফেরদৌস।
নীতিমালায় বলা হয়ে- প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির জন্য আবশ্যিকভাবে লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী নির্বাচন করতে হবে। প্রথম শ্রেণিতে আবেদনের ক্ষেত্রে একজন শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ ৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পছন্দক্রম দিতে পারবে। তবে ডাবল শিফট স্কুলে উভয় শিফট পছন্দ করলে দুটি বিদ্যালয়ে পছন্দক্রম সম্পাদন হয়েছে বলে গণ্য হবে। একই প্রতিষ্ঠানে একাধিক আবেদন করলে সকল আবেদন বাতিল হবে।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) কেন্দ্রীয়ভাবে ডিজিটাল লটারির মাধ্যমে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তিপ্রক্রিয়া সংক্রান্ত যাবতীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করবে। ভর্তি কমিটির সদস্যদের উপস্থিতিতে লটারির কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে। লটারি কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে।
লটারির মাধ্যমে নির্বাচিত শিক্ষার্থীর তালিকা প্রস্তুত করার পাশাপাশি শূন্য আসনের সমান সংখ্যক অপেক্ষমাণ তালিকাও প্রস্তুত রাখতে হবে। ভর্তি কমিটি কর্তৃক নির্ধারিত তারিখে নির্বাচিত শিক্ষার্থী ভর্তি না হলে অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে পর্যায়ক্রমে ভর্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
যদিও দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণিতে লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে ভর্তি নীতিমালায়।
নীতিমালা বলা হয়েছে, দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণির শূন্য আসনে লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে মেধাক্রম অনুসারে ভর্তির জন্য শিক্ষার্থী বাছাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে নির্বাচিত শিক্ষার্থীর তালিকা প্রস্তুত করার পাশাপাশি শূন্য আসনের সমান সংখ্যক অপেক্ষমাণ তালিকা প্রস্তুত রাখতে হবে। ভর্তি কমিটি নির্ধারিত তারিখে নির্বাচিত শিক্ষার্থী ভর্তি না হলে অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে পর্যায়ক্রমে ভর্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, প্রাথমিক স্তর অর্থাৎ, দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ৫০ নম্বরের পরীক্ষা নেওয়া হবে। এর মধ্যে বাংলায় ১৫, ইংরেজিতে ১৫ ও গণিতে ২০ নম্বরের প্রশ্নপত্র থাকবে। ভর্তি পরীক্ষার সময় হবে ১ ঘণ্টা। আর ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষা হবে ১০০ নম্বরের ওপর। এর মধ্যে বাংলায় ৩০, ইংরেজিতে ৩০ এবং গণিতে ৪০ নম্বর থাকবে। ভর্তি পরীক্ষার সময় হবে ২ ঘণ্টা।
নীতিমালার নির্দেশনা মতে, ভর্তি কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানপ্রধানরা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে শূন্য আসনের সংখ্যা উল্লেখ করে ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রচার করবেন। এছাড়া ভর্তি কমিটি জাতীয়, স্থানীয় পত্রিকা এবং ওয়েবসাইটে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে ব্যাপক প্রচারের ব্যবস্থা নেবে।
ছবি : সংগৃহীত
ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়াতে পাড়া-মহল্লায় মাইকিং ও জুমার নামাজের খুতবায় সচেতনতামূলক বক্তব্য দেওয়ার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণবিষয়ক এক সভায় প্রধানমন্ত্রী এসব নির্দেশনা দেন।
সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে আগামী কয়েক মাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সময়ে ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে সংশ্লিষ্ট সব সরকারি সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। বিশেষ করে যেসব এলাকায় মানুষ বেশি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হচ্ছেন, সেসব এলাকায় প্রতিরোধমূলক কার্যক্রমে জোরদার করতে হবে।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। এ জন্য পাড়া-মহল্লায় নিয়মিত মাইকিংয়ের মাধ্যমে সচেতনতা সৃষ্টি এবং জুমার নামাজের খুতবায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় সম্পর্কে বক্তব্য দেওয়ার নির্দেশনা দেন তিনি।
সভায় সরকারি আবাসিক কোয়ার্টার ও হাসপাতাল প্রাঙ্গণ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার বিষয়েও সিদ্ধান্ত হয়। ডেঙ্গু প্রতিরোধ কার্যক্রম কার্যকর করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সভায় উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন।
প্রতীকী ছবি
দেশে ডেঙ্গুতে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর মোট ৩১৬ জনের মৃত্যু হলো। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গু সংক্রান্ত প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে নতুন করে ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন এক হাজার ৯৫৪ জন।
ফলে চলতি বছরে হাসপাতালে ভর্তি মোট ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ১ লাখ তিন হাজার ৩৯৬ জনে। তাদের মধ্যে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৯৭ হাজার ২৯৬ জন।
এর আগে, গত ৬ অক্টোবর সরকারের এ সংস্থা ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে দশজনের মৃত্যুর কথা জানায়। যা চলতি বছর একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর ঘটনা।
প্রতীকী ছবি
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে হাম ও হামের উপসর্গ দেখা গেছে ১ হাজার ৭৪ জনের শরীরে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশে হাম ও হামের উপসর্গে মোট মৃতের সংখ্যা এক হাজার ১৭০। এর মধ্যে, নিশ্চিত হামে ১০৪ ও হামের উপসর্গ নিয়ে এক হাজার ৬৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ১৫ মার্চ থেকে দেশে সন্দেহজনক হামের রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৭ হাজার ৩৭১ জনে। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছেন ২২ হাজার ৭১২ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি বছর ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১ লাখ ৮৪ হাজার ২৬৯ রোগী ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১ লাখ ৭৬ হাজার ৬৭২ জন চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ আলী আল হুমুদি
সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশি ট্যাক্সি ও ট্রাক ড্রাইভারসহ দক্ষ শ্রমিকদের নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারে এক ফলপ্রসূ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিনের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ আলী আল হুমুদি।
সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ ও আরব আমিরাতের ঐতিহাসিক সম্পর্ক এবং মুসলিম ভ্রাতৃত্বের গভীর বন্ধন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বিশেষ করে দুই দেশের এই ঐতিহাসিক কূটনৈতিক ভিত্তি যা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দূরদর্শী নেতৃত্বে সুসংহত হয়েছিল, তা অত্যন্ত শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করা হয়।
বৈঠকে সম্প্রতি নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের মধ্যে অনুষ্ঠিত দ্বিপাক্ষিক শীর্ষ বৈঠকের ধারাবাহিক আলোচনার অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়।
এ সময় দুই দেশের ঐতিহ্যবাহী কূটনৈতিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া, জনগণের সাথে জনগণের যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশের শ্রমবাজার আরও প্রসারিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়।
বিশেষ করে আমিরাতে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য ট্যাক্সি ড্রাইভার ও ট্রাক ড্রাইভারের পেশায় কাজের সুযোগ সৃষ্টি এবং অধিক সংখ্যক দক্ষ জনশক্তি প্রেরণের সম্ভাবনা নিয়ে গুরুত্বের সাথে কথা বলেন উভয় প্রতিনিধি।
এছাড়া দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধি, বাংলাদেশে ইউএই’র বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, জ্বালানি খাতে সহযোগিতা জোরদার এবং কৌশলগত অবকাঠামো ও শিল্প খাতে নতুন অংশীদারিত্ব সৃষ্টির সুযোগ নিয়ে বিশদ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
পারস্পরিক স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট এসব সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে দুই দেশের অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বকে আরও গতিশীল করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করা হয়।