২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে সারা দেশে কমপক্ষে ৬০০টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় ১৫৮ জন রাজনৈতিক কর্মী নিহত হয়েছেন।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব সহিংস ঘটনায় সাত হাজার ৮২ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে ৫৫০টি অর্থাৎ ৯১ দশমিক ৭ শতাংশ ঘটনায় বিএনপির সম্পৃক্ততা ছিল। নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগের সম্পৃক্ততা ছিল ১২৪টি অর্থাৎ ২০ দশমিক ৭ শতাংশ ঘটনায়। আর জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি যথাক্রমে ৭ দশমিক ৭ ও ১ দশমিক ২ শতাংশ ঘটনায় জড়িত ছিল।
প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ১১ ডিসেম্বর নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার ৩৬ দিনের মধ্যে কমপক্ষে ১৫ জন রাজনৈতিক নেতা ও কর্মী নিহত হয়েছেন।
গতকাল সোমবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবি কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে 'কর্তৃত্ববাদ পতন-পরবর্তী দেড় বছর: প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি' শীর্ষক পর্যবেক্ষণভিত্তিক গবেষণা প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়।
জুলাই আন্দোলনের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে সম্পর্কিত ৮৩৭টি হত্যা মামলাসহ এক হাজার ৭৮৫টি মামলা ২০২৫ সালের ১৯ নভেম্বর পর্যন্ত সারা দেশে দায়ের হয়। এর মধ্যে ৬৬৩টি মামলা ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়, যার মধ্যে ৪৫৩টিই হত্যা মামলা।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাত্র ১০৬টি মামলায় চার্জশিট জমা দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ৩১টি হত্যা মামলা রয়েছে, যা তদন্তের ধীর অগ্রগতি নির্দেশ করে। এসব মামলায় এ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকারের ১২৮ জন সাবেক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, আন্দোলনের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য এক হাজার ১৬৮ জন কর্মরত এবং সাবেক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ৭৬১টি মামলা দায়ের করা হয়। এর মধ্যে ৬১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এ পর্যন্ত ৪৫০টি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে, এর মধ্যে ৪৫টি আমলে নেওয়া হয়েছে। এসব মামলায় ২০৯ জনকে অভিযুক্ত এবং ৮৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বর্তমানে ১০৫ জন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ১২টি মামলা আইসিটিতে বিচারাধীন।
টিআইবি জানায়, অনেক অভিযুক্ত ব্যক্তি দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছেন। অভিযোগ রয়েছে, সেনাবাহিনী, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে তাদের পালাতে সহায়তা করেছেন।
জুলাই আন্দোলনের পর মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে টিআইবি উদ্বেগ জানিয়েছে। প্রতিবেদনে অনুমান করা হয়েছে, সারা দেশে প্রায় দেড় লাখ লোককে এসব মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে, 'মামলা বাণিজ্য', প্রতিশোধমূলক মামলা, রাজনৈতিক হয়রানি ও চাঁদাবাজির অভিযোগের বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে মামলায় নামের অন্তর্ভুক্তি কিংবা মামলা থেকে নাম বাদ দেওয়ার প্রতিশ্রুতির বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত। অনেক ক্ষেত্রে, চাপের কারণে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো যথাযথ তদন্ত ছাড়াই মামলা নিয়েছে।
টিআইবি আইসিটিতে নিযুক্ত বিচারক এবং প্রসিকিউটরদের যোগ্যতা এবং রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে।
এতে আরও বলা হয়েছে, সাংবাদিকদের হত্যা মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে, যা বিচার ব্যবস্থার অপব্যবহার নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলছে।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান সতর্ক করে বলেন, মব সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে পারে।
তিনি আরও বলেন যে, বাংলাদেশে মব সহিংসতার ঘটনা 'আসলে সরকারের ভেতর থেকেই শুরু হয়েছিল'।
তিনি বলেন, সচিবালয়ে প্রথম মবের উৎপত্তি হয়েছিল। সরকারের বাইরের শক্তি যাদের আজ মব বলি, তারা ক্ষমতায়িত হয়েছে সেই মবের কারণে। এতে সরকারের নৈতিক ভিত্তিও দুর্বল হয়েছে।
নির্বাচন-সম্পর্কিত সহিংসতা সম্পর্কে, ইফতেখারুজ্জামান সতর্ক করে বলেন, “আমরা সবাই আশা করি একটিও হত্যাকাণ্ড ঘটবে না, তবে আমরা এর নিশ্চয়তা দিতে পারি না। আমরা মনে করি সহিংসতার ঝুঁকি কেবল ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নয়, পরবর্তী কয়েক দিন পর্যন্তও থাকবে।”
তিনি বলেন, ‘সরকার ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন এবং তাদের পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষমতা, দক্ষতা এবং অভিজ্ঞতা রয়েছে। তবে, তিনি বাংলাদেশের অতীত নির্বাচনী ইতিহাস বিবেচনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।’ তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে নির্বাচন খুব কমই সম্পূর্ণরূপে সহিংসতামুক্তভাবে হয়েছে, এবার সহিংসতা রোধে পূর্ববর্তী নির্বাচন থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত। ’
টিআইবি প্রধান জুলাই-পরবর্তী জবাবদিহিতা প্রক্রিয়া নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, আন্দোলনের সময় হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে সাংবাদিকদের গণহারে মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তিনি সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে এই ধরনের পদক্ষেপ কি ন্যায়বিচারের কাজ নাকি প্রতিশোধের কাজ, তা জানতে চেয়ে সতর্ক করে বলেন, এটি প্রকৃত অপরাধী এবং কর্তৃত্ববাদের দোসরদের শনাক্ত করা কঠিন করে তোলে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘রাজনীতিবিদ এবং আমলারা জুলাইয়ের আন্দোলন থেকে কিছুই শেখেননি এবং তারা তাদের নিজস্ব স্বার্থ রক্ষায় মনোনিবেশ করেছেন। ফলস্বরূপ, তারা জনগণের কাছে জবাবদিহিতাপূর্ণ সরকার গঠনের লক্ষ্যে ঐকমত্য কমিশনের সামনে উত্থাপিত প্রস্তাবগুলোর বিরোধিতা করেন।’
তিনি আরও বলেন, যদি নোট অব ডিসেন্টের মৌলিক ধারণা গৃহীত হয়, তাহলে ঐকমত্যের মাধ্যমে গৃহীত সিদ্ধান্তগুলি এখনো বাস্তবায়ন করা যেতে পারে।
ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘সংখ্যাগরিষ্ঠদের মতামতকে প্রাধান্য দেওয়ার রীতি বিশ্বব্যাপী প্রচলিত। তবে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এমনটি হবে কি না, সেটি দেখার বিষয়। গণভোটের রায় 'হ্যাঁ'-এর পক্ষে গেলে সে ক্ষেত্রে যারা সরকারে যাবে, তাদের সদিচ্ছার ওপর সংস্কার বাস্তবায়ন নির্ভর করবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকার তাদের সম্পদের বিবরণী জনসমক্ষে প্রকাশ করে একটি উদাহরণ স্থাপন করতে পারত, কিন্তু তা করেনি।’
ইফতেখারুজ্জামান সাম্প্রতিক দুটি অধ্যাদেশ- সম্প্রচার কমিশন অধ্যাদেশ এবং মিডিয়া কমিশন অধ্যাদেশের সমালোচনা করে বলেন, গণমাধ্যমকে ইচ্ছাকৃতভাবে উপেক্ষা করা হয়েছে এবং নতুন ঝুঁকি তৈরি করা হয়েছে।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, গণমাধ্যম স্বাধীনভাবে পেশাদারত্বের সঙ্গে নিরাপদে কাজ করুক- এ চিন্তাভাবনা অন্তর্বর্তী সরকার ধারণ করেছে কি না। দুটি মিডিয়া কমিশন লোকদেখানো পদক্ষেপ ছাড়া আর কিছু নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
বিচার বিভাগীয় সংস্কার সম্পর্কে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ নিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে বিচার বিভাগীয় নিয়োগ কমিটি গঠন এবং একটি স্বাধীন বিচার বিভাগীয় সচিবালয়ের দিকে অগ্রসর হওয়া।
তবে, তিনি উল্লেখ করেন, এসব পদক্ষেপ কতটুকু কার্যকর হবে, তার জবাব পরবর্তী সরকারকে দিতে হবে। এ ছাড়া বিচারব্যবস্থার ভেতরে দলীয়করণ এখনো বড় চ্যালেঞ্জ।
তিনি রাজনৈতিক দলগুলোকে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান এবং পেশাজীবী সংস্থাগুলোকে রাজনীতিমুক্ত রাখার জন্য দৃঢ় অঙ্গীকারবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
বাড়তি দামে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি খতিয়ে দেখতে ডিসিদের নির্দেশ
সরবরাহে ঘাটতি না থাকলেও কোথাও কোথাও কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অতিরিক্ত দামে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে কি না-তা খতিয়ে দেখতে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) নির্দেশ দিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। সেই সঙ্গে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকার পরও কোথাও সংকট দেখা দিলে এর কারণ অনুসন্ধান করে তথ্য-প্রমাণসহ মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
আজ বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে ভার্চ্যুয়ালি অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এই নির্দেশ দেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী।
ইকবাল হাসান মাহমুদ জানান, দেশে এলপিজির সরবরাহে কোনো ঘাটতি নেই। এরপরও বিভিন্ন এলাকায় সংকটের কথা শোনা যাচ্ছে এবং নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে এলপিজি বিক্রির অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। কোথায় কী কারণে সরবরাহ কম, কোথায় অতিরিক্ত দাম নেয়া হচ্ছে এবং এর পেছনে কৃত্রিম সংকট তৈরির কোনো বিষয় আছে কি না- এসব তথ্য সংগ্রহ করে প্রতিবেদন দিতে জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী বলেন, কৃত্রিম সংকট তৈরি করে এলপিজির দাম বাড়ানো হলে তা বরদাশত করা হবে না। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করা হলেও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
জেলা প্রশাসকদের পাঠানো তথ্য পাওয়ার পর আমদানিকারক ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে বৈঠক করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে জানিয়ে তিনি বলেন, যেসব এলাকায় সরবরাহে ঘাটতি পাওয়া যাবে, সেখানে সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হবে। এ সময় এলপিজির সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে জেলা প্রশাসকদের আরও সজাগ ও সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন মন্ত্রী।
সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির দাম বৃদ্ধির প্রভাব দেশের বাজারেও পড়েছে। ইতোমধ্যে আমদানিকারকদের পক্ষ থেকে সরবরাহে বড় ধরনের সংকট নেই বলে দাবি করা হলেও দেশের বিভিন্ন এলাকায় খুচরা বাজারে বাড়তি দামে এলপিজি বিক্রির অভিযোগ উঠেছে।
কোথাও কোথাও ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ২ হাজার টাকা ছাড়ানোর তথ্যও পাওয়া গেছে। এই অবস্থায় সরবরাহ ব্যবস্থার কোনে পর্যায়ে সমস্যা হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখার উদ্যোগ নিলো সরকার।
ঢাবি-বুয়েটকে টপকে গেল ৪ বিশ্ববিদ্যালয়
যুক্তরাজ্যভিত্তিক শিক্ষা সাময়িকী টাইমস হায়ার এডুকেশেন ‘ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র্যাঙ্কিং ২০২৭’ প্রকাশ করেছে। এ র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষ এক হাজার বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় জায়গা মেলেনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট)।
দেশের এ দুটি বিশ্ববিদ্যালয়কে টপকে তিনটি বেসরকারি ও একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ৮০০ থেকে ১০০০-এর তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে।
এবার দেশের মোট ২৫টি বিশ্ববিদ্যালয় তালিকায় জায়গা পেয়েছে। এর মধ্যে শীর্ষ ১২ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫টিই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। তালিকায় র্যাঙ্কিংয়ের বাইরের ১০টিসহ দেশের মোট ৩৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম এসেছে। আজ বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬) টাইমস হায়ার এডুকেশেনের ওয়েবসাইটে এ তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।
শিক্ষার মান, শিক্ষার্থী-শিক্ষকের অনুপাত, গবেষণার মান, সাইটেশন, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীসহ কয়েকটি সূচকের ভিত্তিতে বিশ্বের ১১৮টি দেশের ২ হাজার ২৯৭টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে মূল্যায়ন করা হয়েছে।
বিভিন্ন মানসম্মত পারফরম্যান্স সূচক ব্যবহার করে শিক্ষার মান, গবেষণা পরিবেশ, গবেষণা শ্রেষ্ঠত্ব, ইন্ডাস্ট্রি সংযুক্তি ও আন্তর্জাতিক সম্ভাবনা-এই গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি ক্ষেত্রে টাইমস হায়ার এডুকেশন ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র্যাঙ্কিং বিশ্বের স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর র্যাঙ্কিং করে থাকে।
র্যাঙ্কিংয়ে দেখা গেছে, তালিকায় ৮০১ থেকে ১০০০ র্যাঙ্কের মধ্যে যৌথভাবে শীর্ষে রয়েছে আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ (এআইইউবি), ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (ডিআইইউ), জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) ও নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি (এনএসইউ)।
১০০১ থেকে ১২০০ র্যাঙ্কে রয়েছে যথাক্রমে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি), বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি (ব্র্যাক), গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (গাকৃবি), ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজি (আইইউবিএটি), যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি)।
১২০১ থেকে ১৪০০ র্যাঙ্কে বর্ণমালার ক্রমানুসারে যৌথভাবে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ), মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (মাভাবিপ্রবি), শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) ও ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ইউআইইউ) নাম রয়েছে।
১৪০১ থেকে ১৬০০ র্যাঙ্কে বর্ণমালার ক্রমানুসারে যৌথভাবে রয়েছে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট), ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ (আইইউবি), আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম (আইআইইউসি), খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় (খুবি), নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি), রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট) ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি)।
১৮০১-২০০০ র্যাঙ্কে আছে ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি (ইডব্লিউইউ) ও মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (এমআইএসটি)।
অন্যদিকে র্যাঙ্কিংয়ে অংশ নিলেও মূল র্যাঙ্ক অর্জনের প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ না করায় তালিকায় জায়গা পায়নি এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন (এইউডব্লিউ), চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিম্যাল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয় (সিভাসু), ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (ডিআইইউ), গ্রিন ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ (জিইউবি), শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (শেকৃবি), স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ (এসইউবি), ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ (ইউল্যাব), উত্তরা ইউনিভার্সিটি, বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় ও ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ (ডব্লিউইউবি)।
আত্মহত্যা প্ররোচনার মামলায় দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের পরিবারের সঙ্গে জামায়াতের ইসলামীর বিতর্কিত এমপি গাজী নজরুল ইসলামের আপস রফা হওয়ার কথা বলেছেন তার আইনজীবী। আজ বুধবার আদালতে এই বিষয়টি তুলে ধরে এমপি নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামের জামিন প্রার্থনা করার কথাও বলেছেন আইনজীবী মাহবুবুর রহমান।
ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহের আদালতে জামিন শুনানি হয়।
আসামিপক্ষের আইনজীবী মাহবুবুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, “গাজী নজরুল ইসলাম ও মাকছুদা ইসলামের আপসের শর্তে জামিন চেয়েছিলাম। তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত না।
“ইতোমধ্যে বাদীপক্ষের সঙ্গে আপস মীমাংসা হয়েছে। শুনানিতে উপস্থিত থেকে বাদী জানিয়েছেন, দুই আসামির জামিন দিলে তার আপত্তি নেই।”
এদিকে শুনানি নিয়ে বিচারক মাকছুদা ইসলামের জামিন মঞ্জুর করেছেন। তবে গাজী নজরুলের জামিন আবেদন নামঞ্জুর হয়েছে বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী।
গত ২০ সেপ্টেম্বর রাজধানীর সংসদ ভবনের উল্টোদিকের ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর রাতে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদাকে হেফাজতে নেয় পুলিশ।
রাতেই আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম, তার স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম ও নিহতের মামা ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করেন মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ।
মামলার এজাহারে মাসুম বিল্লাহ অভিযোগ করেছেন, গত জুনে তার শ্যালক ওবায়দুর রহমানের ‘প্রত্যক্ষ প্ররোচনায়’ সংসদ সদস্য গাজী নজরুলের সঙ্গে বাদীর বড় মেয়ে মরিয়মের (১৯) বিয়ে হয়। সংসদ ভবনের বিপরীত পাশে ৫ নম্বর ন্যাম ভবনের ২০৩ নম্বর বাসায় নজরুল ও মাকছুদার সঙ্গে থাকতেন মরিয়ম।
এজাহারে বলা হয়, বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে নজরুল ও মাকছুদা শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন বলে মরিয়ম তার পরিবারকে বলে গেছেন। এর মধ্যে রোববার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে নজরুল মোবাইল ফোনে বাদীকে দ্রুত বাসায় যেতে বলেন। সেখানে গিয়ে মরিয়মকে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলে থাকতে দেখেন বাবা মাসুম বিল্লাহ।
পরদিন শেরেবাংলা নগর থানার এসআই মো. শামসুজ্জোহা সরকারের আবেদনে গাজী নজরুল ইসলামকে চারদিন ও মাকছুদা বেগমের একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত। সেদিন রাতেই মামলার তদন্তভার গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
২৪ সেপ্টেম্বর আদালত এমপি নজরুলকে ফের চার দিনের রিমান্ডে পাঠায়। ২৮ সেপ্টেম্বর এদিন দ্বিতীয় স্ত্রীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার মামলায় নজরুলকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়। মামলার অপর আসামি মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, সরকারকে ঢালাওভাবে দোষারোপ এবং বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে কেউ বক্তব্য দিয়ে থাকলে, তার বিচার জনগণ করবে।
আজ বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। গত ২৬ সেপ্টেম্বর রাতে রাজধানীর ইসিবি চত্বর এলাকার নিউগিনি প্রপার্টিজ আবাসন প্রকল্পে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে।
ওই ঘটনায় কনটেন্ট নির্মাতা সালমান মুক্তাদির লাইভে এসে দাবি করেন, দলীয় পরিচয়ে তার কাছে চাঁদা চাওয়া হয়েছিল। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে বলেও দাবি করেন তিনি।
তবে পরদিন সকালে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে চাঁদা দাবির বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে সালমান মুক্তাদির জানান, তার কাছে সরাসরি কেউ চাঁদা চাননি। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কয়েকজনকে গ্রেফতারের তথ্য জানিয়েছে পুলিশ।
রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে দখলদারি প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রভাব খাটানোর কিছু নেই, দুর্বৃত্ত তো দুর্বৃত্তই। মাটিকাটায় জমি দখলের ঘটনা রাতের অন্ধকারে হয়েছে, সেখানে ৯৯৯-এ ফোন করার পরে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ গিয়েছে, গ্রেফতার করেছে এবং কিছু আলামত সংগ্রহ করেছে। ওখানে গোলাগুলি হয়েছিল। ওই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত হচ্ছে এবং মামলা হয়েছে।
তিনি বলেন, আমাকে সমালোচনা করে একজন (সালমান মুক্তাদির) বলেছেন, মামলা হয়েছে আমি জানি না। তা অন্তত আইনের বিষয়েও তো আমরা একটু খুঁটিনাটি চর্চা করি। কেউ যখন এজাহার নিয়ে যায়, তখন সেটা মামলা হিসেবে লিপিবদ্ধ করার আগে একটু প্রাথমিক তদন্ত পুলিশকে করতে হয়। তা নাহলে দেখা যাবে ওই মামলায় আমাকে-আপনাদেরও আসামি করে ফেলেছে। যদি অ্যাজ ইট ইজ এজাহারে যা থাকে তাই যদি লিপিবদ্ধ করতে হতো, তাহলে দেখা যাবে যে বঙ্গভবনের ভূমি নিয়েও যদি কেউ আপত্তি তোলে, ওইটাও এজাহার হয়ে যাবে। সেজন্য প্রাথমিক একটা তদন্ত করতে হয়। সেটা করে কেস (মামলা) এন্ট্রি করতে হয়। যিনি মামলা করেছেন তিনি সেখানকার একজন এস্টেট কোম্পানির ডিরেক্টর হিসেবে মামলা করেছেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, সুতরাং ঢালাও ব্লেম করার জন্য, সরকারকে ঢালাওভাবে দোষারোপ করার জন্য এবং বিএনপিকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে চাঁদাবাজ বলার জন্য কেউ যদি বক্তব্য দিয়ে থাকে সেটা বিচার করবে জনগণ। সেখানে কোনো চাঁদাবাজির ঘটনা ছিল না, তিনি (সালমান মুক্তাদির) নিজেই বলেছেন তার কাছে চাঁদা চাননি। কিন্তু তারপরও কেন বলছেন বিএনপি চাঁদাবাজ? এজাতীয় বক্তব্যের আমরা তীব্র নিন্দা জানাই। তাছাড়া এ ঘটনার তদন্ত করছি, করবো। এখানে যেই জড়িত থাকুক-সে নিউগিনির প্রপার্টির হোক অথবা পার্শ্ববর্তী জমির মালিক হোক তাদের সবাইকে তদন্তের আওতায় আনা হচ্ছে এবং খুব দ্রুত আইনানুগ অ্যাকশন নেওয়া হবে।
এদিকে আজ বুধবার সালমান মুক্তাদিরের ব্যাংক হিসাবের তথ্য চেয়েছে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। এ বিষয়ে দেশের সব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে চিঠি পাঠিয়েছে সংস্থাটি। চিঠিতে সালমান মুক্তাদিরের নামে থাকা ব্যাংক হিসাবের বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে। কয়েকটি ব্যাংক চিঠি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
চিঠিতে তার ব্যাংক হিসাবের তথ্য, হিসাব খোলার ফরম, গ্রাহক পরিচিতি (কেওয়াইসি) সংক্রান্ত নথি এবং হিসাবের শুরু থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত লেনদেনের বিবরণীসহ সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র বিএফআইইউতে পাঠাতে বলা হয়েছে।
ছবি : সংগৃহীত
দিল্লি ও ঢাকার সম্পর্কে নানান ‘সমস্যা’ ও ‘চ্যালেঞ্জ’ থাকলেও দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী একসঙ্গে বসলে সব সমস্যারই সমাধান সম্ভব বলে মনে করেন ভারতের হাই কমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিল্লি সফর নিয়ে ‘তাড়াহুড়োর কোনো কারণ দেখছেন না’ জানিয়ে তিনি বলেছেন, এর জন্য প্রয়োজনীয় সময় দিতে হবে।
আজ বুধবার সচিবালয়ে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলেন।
তারেক রহমানের সম্ভাব্য দিল্লি সফর প্রসঙ্গে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, “এর উত্তরে আমি একটাই কথা বলব যে, আমার মনে হয়, উভয় পক্ষই কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। আর দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী এবং তাদের টিমকে আমাদের সময় দিতে হবে, এটা একেবারেই নিশ্চিত। যে কোনো এক সময়ে, দুটি সার্বভৌম স্বাধীন রাষ্ট্রের দুই নেতাই।
“আমাদের তো সবরকম সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ রয়েছে। আমরা যদি মনে করি যে কোনো চ্যালেঞ্জ থাকবে না, তা সত্যি ভুল হবে। তবে একসঙ্গে বসলে এমন কোনো একটা প্রশ্ন নাই যার সমাধান হবে না। তাই আমার মনে হয় দুই নেতা ও তাদের দুই টিমকে প্রয়োজনীয় সময় আমাদের দেওয়া উচিত। আর এগুলো সঠিক সময়ে প্রক্রিয়াধীন হবে।”
এর আগের দিন মঙ্গলবার তারেক রহমানের দিল্লি সফর নিয়ে তাড়াহুড়ো না করার বার্তা দেন ভারতীয় হাই কমিশনার।
মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত করেন ত্রিবেদী। পরে এক সাংবাদিক জানতে চান, নভেম্বরে প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফরের সম্ভাব্য তারিখ ঠিক হয়েছে কি না।
জবাবে ভারতের হাই কমিশনার বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর ভিজিট নিয়ে বেশি কিছু আলোচনা…আগে যা হয়েছিল, আবার আমি বলি-আমাদের ইনভাইটেশন ইজ ওপেন। এটা নিয়ে আমার মনে হচ্ছে না এবারে কোনো তাড়াহুড়ার দরকার আছে। যখন সময় হবে নিশ্চয় হবে।
“এভরিথিং ইজ ভেরি পজিটিভ। বাট উই মাস্ট গিভ ডিউ টাইম। একটা সময়ের মধ্যে সবকিছু পজিটিভ হবে। দেওয়ার ইজ নো কোয়েশ্চেন অ্যাবাউট এনিথিং নেগেটিভ।”
আজ বুধবারও একইরকম বার্তা দিয়ে ত্রিবেদী বলেন, “কিন্তু আগ্রহের যে জিনিসটা, দুই দেশের মানুষের যে আগ্রহটা, তা হচ্ছে নেতাদের দেখা করতে দিন। জনগণের সাথে জনগণের যোগাযোগ ও খেলাধুলা চলতে দিন।
“তা পানিই হোক, ক্রিকেট হোক, ফুটবল হোক, বাণিজ্য হোক, কবিতা হোক, থিয়েটার হোক, চলচ্চিত্র হোক কিংবা গান হোক। একদমই, এগুলো আরও বেশি সাংস্কৃতিক... একদমই, পারস্পরিক নির্ভরতা। এরকম পারস্পরিক নির্ভরতা থাকা ভালো।”
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ভারত সফর করার সময় ‘সাধারণ মানুষের’ বিশেষ আগ্রহ থাকে মন্তব্য করে হাই কমিশনার বলেন, “আমি তো বলব যে আমি ভারতে যখন থাকি, এটা খুবই কৌতূহল জাগায়। এবং আমি দেখেছি যে প্রধানমন্ত্রীকে ঘিরে তারা খুবই সতর্ক ও বিশেষ গুরুত্ব দেয়। সত্যিই অনেক কৌতূহলী।
“আর আমি একটা কথা বলব যে, দুই দেশেরই একটা আগ্রহ আছে। আগ্রহ কী আছে? যখনই একটু কথা হয় যে সম্মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আসছেন, সবাই দারুণ উৎসাহিত হয়। দুই দেশেই। তার মানে? তার মানেই পরস্পরের ওপর নির্ভরশীলতা। এটা সাধারণ মানুষ চায়, দুই দেশের সাধারণ মানুষ। রাজনৈতিক মানুষের কথা বলছি না, সরকারের কথা না, সাধারণ মানুষে এটা চায়।”
ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের ঢাকা সফর নিয়ে প্রশ্ন করলে বিষয়টি এড়িয়ে যান ত্রিবেদী। তিনি বলেন, “এটাতো মাথার ওপর দিয়ে গেল।”
এসময় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান বলেন, “এটি হাই কমিশনারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত।”
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ ও পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের স্থানে ভাস্কর্য না বানিয়ে পানির ফোয়ারা নির্মাণের উদ্যোগ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে মন্ত্রী বলেন, সংবাদমাধ্যমে এটি ‘ভুলভাবে’ উপস্থাপন হয়েছে।
গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরী
রাজধানীর ইসিবি চত্বর এলাকার নিউগিনি প্রপার্টিজের আবাসন প্রকল্পে হামলার ঘটনায় মেজর জেনারেল (অব.) গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের একটি দল তাকে সেগুনবাগিচা থেকে গ্রেপ্তার করে। তিনি এ সংক্রান্ত মামলার এজহারের চার নম্বর আসামি।
ডিবির গুলশান বিভাগের উপকমিশনার আ ফ ম আনোয়ার হোসেন খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, আজ বেলা পৌনে তিনটার দিকে সেগুনবাগিচার একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ মামলায় এখন পর্যন্ত ৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এর মধ্যে ৬ জন এজাহারভুক্ত আসামি।
গত শনিবার রাতে নিউগিনি আবাসন প্রকল্প এবং কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। হামলায় দেশীয় অস্ত্রের পাশাপাশি একাধিক আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা হয়।
এ ঘটনায় রোববার নিউগিনি প্রপার্টিজের পরিচালক সাইফুল ইসলাম ভুইয়া বাদী হয়ে গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরীসহ ১৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ২০০ জনের বিরুদ্ধে ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলা করেন। শাহরিয়া মাহমুদ নামে এক যুবককে মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে এক নম্বর আসামি করা হয়। অপর আসামিদের মধ্যে আবুল কাশেম ক্যান্টনমেন্ট থানা জামায়াতে ইসলামীর রোকন। এ ছাড়া বাবুল হোসেন ও মোহাম্মদ শাহিনুজ্জামান স্থানীয় আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। এ মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া মামুন ও মুন্না ভাসানটেক বস্তির বাসিন্দা এবং আসলাম অটোরিকশাচালক।