প্রতীকী ছবি
দেশে বর্ষাকালে যত্রতত্র জলাবদ্ধতার জেরে ডেঙ্গু সংক্রমণ প্রকট হতে শুরু করেছে। গতকাল বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু জ্বর নিয়ে সারাদেশের বিভিন্ন হাসপাতালে আরও ৩৯১ রোগী ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি জুলাইয়ের প্রথম ১৫ দিনে ভর্তি ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে তিন হাজার ২৬৬ জনে, যা চলতি মাস এমনকি চলতি বছরে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ ডেঙ্গু রোগী ভর্তির রেকর্ড। এর আগে জুনে হাসপাতালে ভর্তি হয় দুই হাজার ৯০৭ জন। এতদিন এটিই ছিল সর্বোচ্চ রোগী ভর্তি। গতকাল বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাওয়া ডেঙ্গুবিষয়ক বিজ্ঞপ্তি পর্যালোচনা করে এসব তথ্য জানা যায়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ঢাকা বিভাগে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন পাঁচ বছরের মেয়ে শিশু এবং ৪৬ থেকে ৫০ বছরের একজন পুরুষ। এ নিয়ে চলতি মাসে ডেঙ্গুতে ১২ জনের মৃত্যু হলো। গত জুনে ১৩ জনের মৃত্যুর তথ্য দিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে।
ডেঙ্গুর সংক্রমণবিষয়ক স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, চলতি বছরে ডেঙ্গু জ্বর নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৯ হাজার ৩৭০ জন। যার মধ্যে জানুয়ারিতে এক হাজার ৮১ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৪০৯, মার্চে ৩৫৩, এপ্রিলে ৬৪০, মে ৭১৪, জুনে দুই হাজার ৯০৭ এবং জুলাইয়ের প্রথম ১৫ দিনে তিন হাজার ২৬৬ জন ভর্তি হয়েছেন।
অন্যদিকে মৃত্যুর তথ্যে দেখা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ও মৃত্যুর প্রবণতা কম দেখা গেলেও জুন থেকে তা আবার বাড়তে শুরু করেছে। জানুয়ারিতে দুই, ফেব্রুয়ারিতে দুই, মে মাসে একজনের মৃত্যু হয়। মার্চ ও এপ্রিল মাসে কারও মৃত্যু হয়নি। এরপর জুনে ১৩ এবং চলতি জুলাইয়ের প্রথম ১৫ দিনে মারা গেছেন ১২ জন।
জনস্বাস্থ্যবিদ আবু জামিল ফয়সাল সংবাদমাধ্যমকে বলেন, চলতি বছর থেমে থেমে বৃষ্টিপাত হওয়ায় বিভিন্ন পাত্রে জমে থাকা পানিতে এডিস মশার প্রজনন বেড়েছে, যা সংক্রমণ বাড়ার অন্যতম কারণ। মশা ও এর আবাসস্থল ধ্বংসে রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশনসহ স্থানীয় প্রশাসনের অপর্যাপ্ত উদ্যোগ আর উদাসীনতা এডিস মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গু পরিস্থিতিকে আরও উসকে দিচ্ছে। এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, নিয়মিত লার্ভিসাইডিং এবং সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে সমন্বিত মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম জোরদার করতে হবে।
কোটায় আবেদনকারীদের জন্য নির্দেশনা
২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে দ্বিতীয় ধাপে অনলাইনের মাধ্যমে স্পেশাল কোটায় (এসকিউ) আবেদন করা শিক্ষার্থীদের নিয়ে নতুন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কলেজ কর্তৃক নিশ্চিতকরণে তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর ২০২৬) রাত ৯টার মধ্যে কলেজ কর্তৃপক্ষকে শিক্ষার্থীদের নিশ্চায়ন করতে হবে।
গতকাল বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬) আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির এ-সংক্রান্ত এক চিঠি উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ ও প্রধান শিক্ষককে পাঠানো হয়েছে।
২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে দ্বিতীয় ধাপে অনলাইনের মাধ্যমে Special Quota (SQ) কোটায় আবেদনকৃত শিক্ষার্থীদের সংশ্লিষ্ট কলেজ থেকে নিশ্চায়ন বা অনুমোদন ১ অক্টোবর রাত ৯টার মধ্যে ভর্তি ওয়েবসাইট এর (Login) প্যানেলে (কলেজের ইআইআইএন নম্বর ও পাসওয়ার্ড) দিয়ে লগইন করে সম্পন্ন করার জন্য অনুরোধ করা হলো।
ভর্তি ওয়েবসাইটে এ-সংক্রান্ত (User Guide for Institution) অনুসরণ করা যেতে পারে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কলেজ কর্তৃক (SQ) কোটায় আবেদনকৃত শিক্ষার্থীদের নিশ্চায়ন ও অনুমোদন সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হলে পরবর্তী সময়ে উদ্ভূত জটিলতার জন্য বোর্ড কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে না।
সেন্টমার্টিন দ্বীপ
কক্সবাজারের সেন্টমার্টিন দ্বীপে পর্যটকদের যাতায়াত ও ভ্রমণসংক্রান্ত বিধিনিষেধে বেশ কিছু পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে বর্তমান সরকার। পর্যটকদের রাত্রিযাপন ও ভ্রমণের সময়সীমায় পরিবর্তন আসতে পারে। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।
সেন্টমার্টিন দ্বীপের বাসিন্দা, পরিবেশবিদ, পর্যটন সংশ্লিষ্টসহ বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে আগামী ১৫ই অক্টোবরের মধ্যে নীতিমালা চূড়ান্ত করা হবে বলে পরিবেশ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেছেন, একদিকে সেন্টমার্টিন দ্বীপের সুরক্ষা নিশ্চিত করা যায়, একইসঙ্গে সেখানকার জীবন-জীবিকার বিষয়গুলোও যেন নিশ্চিত করা যায় সে অনুযায়ী আমরা একটা গাইডলাইন তৈরি করবো।
এর আগে, ২০২৪ সালের অক্টোবরে সেন্টমার্টিনের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, পরিবেশ, প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় দ্বীপটিতে পর্যটকদের ভ্রমণে ১২টি নির্দেশনা জারি করেছিল বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।
দ্বীপটির বাসিন্দা ও জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, ওই বিধি-নিষেধের ফলে দ্বীপটিতে গত এক বছরে পর্যটন ব্যবসায় যেমন নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে, আবার জীবিকার জন্য গাছ কেটে ফেলা বা অবাধে মাছ ধরার মতো বিরূপ তৎপরতাও দেখা গেছে কিছু বাসিন্দার মধ্যে।
যে কারণে, সেখানকার বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা দ্রুতই বর্তমান সরকারের কাছে এই বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন।
যদিও সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, এখনই অন্তর্বর্তী সরকারের সময় যে সব বিধি-নিষেধ জারি করা হয়েছিল তার মধ্যে যেগুলো যৌক্তিক সেগুলো বহাল রাখা হতে পারে।
বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের একমাত্র প্রবালসমৃদ্ধ দ্বীপ সেন্টমার্টিনে প্রায় ১০ হাজার মানুষের বসবাস। দ্বীপটির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রতিদিন কয়েক হাজার পর্যটক সেখানে যেতেন।
পর্যটকদের থাকার জন্য দ্বীপটিতে গড়ে উঠেছে অসংখ্য হোটেল-রিসোর্ট। সেন্টমার্টিন হোটেল-মোটেল-রিসোর্ট মালিক সমিতির সভাপতি এম এ আবদুর রহিম জিহাদী জানান, দ্বীপটিতে সব মিলিয়ে দেড়শোর মতো আবাসিক হোটেল ও রিসোর্ট রয়েছে। এগুলোয় অন্তত পাঁচ হাজার পর্যটকের আবাসন ব্যবস্থা রয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা ১২ দফা বিধিনিষেধে ডিসেম্বর ও জানুয়ারি—এই দুই মাস নির্দিষ্ট সংখ্যক পর্যটকের রাত্রিযাপনের সুযোগ রাখা হয়েছিল। নভেম্বর মাসে শুধু দিনের বেলায় সেন্টমার্টিন ঘোরার অনুমতি ছিল, রাতে অবস্থান করা যেত না।
তবে এই সিদ্ধান্তকে যৌক্তিক মনে করছে না বর্তমান সরকার। ফলে রাত্রিযাপনের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার বিষয়ে প্রাথমিকভাবে আলোচনা চলছে।
পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘যে মানুষটা ছয় বা সাত ঘণ্টা জার্নি করে যাচ্ছে, দুই ঘণ্টা থেকে আবার ছয় সাত ঘণ্টা জার্নি করে কক্সবাজার ফিরছে এটা একেবারেই আনহেলদি প্র্যাকটিস।’
তিনি বলেন, ‘এই বিষয়ে আমি ও আমাদের মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী (আব্দুল আউয়াল মিন্টু) একমত হয়েছি। এটি নিয়ে সক্রিয় আলোচনা করা হচ্ছে, আগের নেওয়া এই সিদ্ধান্ত পরিবর্তনে আলোচনা হচ্ছে। যে জার্নি করে যাবে তাকে যদি আমরা রাত্রিযাপনের সুযোগ দেই সেটি ভালো হবে।’
ট্যুর অপারেটরদের সংগঠনও রাত্রিযাপনের বিষয়ে আগের বিধিনিষেধে পরিবর্তন আনার পক্ষে।
বাংলাদেশ ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ রাফিউজ্জামান বলেন, ‘এই রাত্রিযাপন নিয়ে যে নিষেধাজ্ঞা এটাতে পর্যটকরা মারাত্মকভাবে নিরুৎসাহিত হয়েছে। কারণ এত টাকা খরচ করে যখন একজন পর্যটক কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিনে যাবে, নিশ্চয়ই সে দুই ঘণ্টার জন্য এত দূরের পথ পাড়ি দেবে না। এই সিদ্ধান্তে যেন পরিবর্তন আসে সেটা আমরা চাই।’
অন্তর্বর্তী সরকারের ১২ দফা নির্দেশনা অনুযায়ী, ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে সেন্টমার্টিনে রাত কাটানোর সুযোগ রাখা হয়েছিল। একই সঙ্গে রাত্রিযাপনকারী পর্যটকের সংখ্যাও নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়। বর্তমানে দিনে সর্বোচ্চ দুই হাজার পর্যটকের রাত্রিযাপনের অনুমতি রয়েছে। তাদের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে পাস দেওয়া হয়।
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমাদের নীতিমালা রয়েছে সেখানে ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে শুধু দুই হাজার পর্যটক গিয়ে রাত্রিযাপন করতে পারবেন। যারা যাবেন তাদেরকে ওয়েবসাইটের মাধ্যমে এই পাস দেওয়া হয়। যেহেতু বিধি নিষেধে এখনো কোনো পরিবর্তন হয়নি, ওই সংখ্যার বাইরে কোনো পর্যটক সেখানে যেতে পারবেন না এবং অবস্থান করতে পারবেন না।’
সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম বলেন, ‘এখানে দীর্ঘদিন ধরে এই পর্যটন শিল্প গড়ে উঠেছিল। হঠাৎ করে এমন নিষেধাজ্ঞার কারণে টুরিস্ট ব্যবসায় বেশ প্রভাব পড়েছে। এটি নিয়ে আমরা আমাদের অভিযোগগুলো পরিবেশ মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছি।’
তবে, বর্তমান সরকার পর্যটকের সংখ্যা কিংবা ভ্রমণের সময়সীমা আরো বাড়াবে কি-না সেই বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, সেখানে কোন মাস থেকে কোন মাস পর্যন্ত যাওয়া যাবে, কতজন পর্যটক গিয়ে রাত্রিযাপন করতে পারবে, সেখানকার ব্যবসায়ীরা কী চাচ্ছেন, পরিবেশের কতটুকু সীমাবদ্ধতা আছে তার সবই আমরা তাদের কাছ থেকে জানবো। এ নিয়ে শুনানি বা বৈঠক হবে, সেই বৈঠকে তাদের বক্তব্যসহ সব পক্ষের বক্তব্যের ভিত্তিতে আগামী ১৫ই অক্টোবরের মধ্যে একটা গাইডলাইন দেওয়া হবে। যেখানে পরিবেশ যেন রক্ষা হয়, এবং ওখানে যারা বসবাস করে তাদের স্বার্থও যেনো রক্ষা হয় সেই বিষয়গুলো আমরা দেখবো।
সেন্টমার্টিন দ্বীপের ব্যবসায়ী ও সেখানকার জনপ্রতিনিধিরা বলেন, এর আগে অক্টোবর থেকে মার্চ এই ছয় মাস দ্বীপটিতে ভ্রমণের সুযোগ ছিল। বিগত সরকার নভেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত ভ্রমণের জন্য যে নির্দিষ্ট সময় সীমা করছে সেটিতে তারা পরিবর্তন চান।
সেক্ষেত্রে অক্টোবর থেকে মার্চ পর্যন্ত যেনো এই ভ্রমণের সুযোগ রাখা হয়, সে কথাও বলছেন তারা।
যদিও তাদের এই বক্তব্যের সঙ্গে একমত নন পরিবেশবিদদের কেউ কেউ। পরিবেশবিদ মো. শামসুদ্দোহা বলেন, সেন্টমার্টিনের পরিবেশ ও প্রতিবেশ রক্ষা করতে হলে এটার ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখা দরকার। একটা নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেওয়া দরকার। সেটা কোনোভাবেই তিন মাসের বেশি নয়।
সেন্টমার্টিন ভ্রমণে দেওয়া আগের বিধিনিষেধে আলোকসজ্জাসহ বারবিকিউ পার্টি, রাতে সৈকতে আলো জ্বালানো ও শব্দ সৃষ্টি নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।
পাশাপাশি দ্বীপটির কেয়াবনে প্রবেশ, কেয়া ফল সংগ্রহ বা ক্রয়-বিক্রয় এবং সামুদ্রিক কাছিম, পাখি, প্রবাল, রাজকাঁকড়া, শামুক-ঝিনুকসহ অন্যান্য জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি করাও নিষিদ্ধ ছিল।
সৈকতে মোটরসাইকেল, সি-বাইকসহ যেকোনো মোটরচালিত যানবাহন চলাচলেও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
তবে এসব বিধিনিষেধ পরিবেশ রক্ষায় খুব একটা কাজে আসেনি বলে মনে করেন দ্বীপটির জনপ্রতিনিধি ফয়েজুল ইসলাম।
তিনি বিবিসি বাংলাকে বলেন, ‘এই নিষেধাজ্ঞার ফলে আগের চেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে। কারণ আগে মানুষ পর্যটক আসতো, পর্যটন নিয়ে ব্যস্ত থাকতো দ্বীপের লোকজন। এখন মাত্র দুই থেকে তিনমাস অল্প পর্যটক আসার কারণে এখন অনেকে গাছপালা কেটে বিক্রি করতেছে, জীবিকার তাগিদে অবাধে মাছ ধরতেছে, এতে পরিবেশের আরও ক্ষতি হচ্ছে।’
তবে পরিবেশ সুরক্ষায় বর্তমান সরকারও কঠোর অবস্থানে থাকার ইঙ্গিত দিয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘সবার আগে এই দ্বীপটিকে সুরক্ষা করতে হবে। এখানকার জীববৈচিত্র্য যাতে সুরক্ষিত হয় সেজন্য আমরা এটা নিয়ে কাজ করছি।’
তিনি বলেন, ‘আমরা প্লাস্টিক ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দেবো যেন কোনো পর্যটক প্লাস্টিক বা সিঙ্গেল পলিথিন নিয়ে দ্বীপে ঢুকতে না পারে। এটিকে বাস্তবায়ন করতে পরিবেশসহ কোস্টগার্ডের লোক, সবাইকে দায়িত্ব পালন করবে। এগুলো চেক করে প্রত্যেকটা জাহাজ ছাড়বে। কোনো পলিথিন বা প্লাস্টিক উঠতে পারবে না জাহাজে।’
নতুন নীতিমালায় সেন্টমার্টিনের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সুরক্ষার পাশাপাশি দ্বীপের বাসিন্দাদের জীবন-জীবিকা এবং পর্যটন ব্যবসার বিষয়গুলোও বিবেচনায় নেওয়ার কথা জানিয়েছে সরকার।
ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি
রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং এবং বিএনপির হাইকমান্ড সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
ফেরদৌস আহমেদ মিষ্টি দল ও সংসদ সদস্য—দুই পদ থেকেই পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন। দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তিনি যেকোনো সময় পদত্যাগপত্র জমা দিতে পারেন। আজ বৃহস্পতিবারই পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানা গেছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিএনপির এক শীর্ষ নেতা। তিনি জানান, দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ফেরদৌস আহমেদ মিষ্টি সংসদের স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেবেন। পাশাপাশি তিনি বিএনপি থেকেও পদত্যাগ করবেন।
বিএনপির ওই নেতা বলেন, 'দলীয় সিদ্ধান্তেই তিনি পদত্যাগ করবেন। যেকোনো সময় সংসদের স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেওয়া হতে পারে। আজ পদত্যাগপত্র দেওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।'
এদিকে ফেরদৌস আহমেদ মিষ্টি ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। গতকাল রাতে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির ওই কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। কমিটি বিলুপ্তির পরপরই তার দল ও সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টা থেকে ২টার মধ্যে মিরপুর-১ নম্বরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, মুখোশ পরা ২০০ থেকে ২৫০ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সেখানে হামলা চালায়। তারা দুই নিরাপত্তাকর্মীকে জিম্মি করে ক্লিনিকে ঢুকে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। পরে ভারী যন্ত্রপাতি এনে একটি পাকা ও তিনটি সেমিপাকা ভবনসহ পুরো স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
রাড্ডা কর্তৃপক্ষ বলেছে, হামলাকারীরা ওষুধ, ভ্যাকসিন, সরকারি টিকাদান কর্মসূচির রেজিস্টার ও নথি, পরিবার পরিকল্পনার সামগ্রী, আলট্রাসনোগ্রাম মেশিন, জেনারেটর, ফ্রিজ, এসি ও নগদ টাকা লুট করে নিয়ে যায়। সব মিলিয়ে ক্ষতির পরিমাণ দেড় কোটি টাকার বেশি বলে উল্লেখ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
এ ঘটনায় রাড্ডার নির্বাহী পরিচালক নাসরিন আখতার বাদী হয়ে শাহ আলী থানায় মামলা করেন। মামলায় মিরপুরের বিএনপি নেতা মো. হানিফ মিয়ার নাম উল্লেখ করে ২০০ থেকে ২৫০ জনকে অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অনধিকার প্রবেশ, চুরি, হুমকি ও দেড় কোটি টাকার বেশি ক্ষতির অভিযোগ আনা হয়।
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতি ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের ফলে মানুষের গড় আয়ু বাড়ছে উল্লেখ করে প্রবীণদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক নিরাপত্তা, আবাসন ও কর্মসংস্থান ব্যবস্থা পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ‘আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস’ উপলক্ষ্যে দেওয়া এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘চিকিৎসাবিজ্ঞানের অভাবনীয় অগ্রগতি এবং জীবনমানের উন্নয়নের ফলে মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে পৃথিবীর সব দেশেই প্রবীণ জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। দীর্ঘায়ুর এই যুগ প্রবীণ নাগরিকদের স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক নিরাপত্তা, আবাসন ও কর্মসংস্থান ব্যবস্থাপনাকে নতুন করে ঢেলে সাজানোর বিষয়ে চিন্তার সুযোগ সৃষ্টি করেছে।’
এবারের দিবসের প্রতিপাদ্য— ‘দ্য এইজ অব লংজিবিটি : রিথিংকিং সিস্টেমস ফর লংগার লাইভস’।
বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো ১ অক্টোবর দেশেও ‘আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস’ পালিত হচ্ছে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব প্রবীণ নাগরিককে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও গভীর শ্রদ্ধা জানান।
এবারের দিবসের প্রতিপাদ্যটি সময়োপযোগী ও তাৎপর্যপূর্ণ হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মানুষের স্বাভাবিক জীবনচক্রের অংশ হিসেবে বার্ধক্যে উপনীত হওয়া অনিবার্য। তাই প্রত্যেক মানুষের বার্ধক্য নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ হওয়া প্রয়োজন।
তিনি বলেন, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ১৫(ঘ) অনুচ্ছেদে ক্রমবর্ধমান প্রবীণ জনগোষ্ঠীর জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কাঠামো নিশ্চিত করাকে রাষ্ট্রের দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকার ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বয়স্ক ভাতা খাতে ৫ হাজার ২৩৯ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে এবং সুবিধাভোগীর সংখ্যা ও ভাতা প্রদানের পরিমাণ বৃদ্ধি করেছে।
রাষ্ট্রপতি বলেন, প্রবীণদের কল্যাণ ও উন্নয়নে সরকার নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এসব উদ্যোগ প্রবীণদের কল্যাণ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করেন তিনি।
প্রবীণদের অবদান উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, তারা কেবল অতীতের গল্প নন, তারা বর্তমানের শিকড় এবং ভবিষ্যতের পথপ্রদর্শক। তাদের শ্রম, ঘাম, মেধা, ত্যাগ ও অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করেই আজকের বাংলাদেশ গড়ে উঠেছে।
তিনি আরও বলেন, প্রবীণদের একটি বড় অংশ অবনতিশীল স্বাস্থ্য, আর্থিক অনিশ্চয়তা ও নিঃসঙ্গতার মধ্যে দিন অতিবাহিত করছেন। একটি ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক রাষ্ট্র বিনির্মাণে প্রবীণ জনগোষ্ঠীর প্রতি যত্নশীল দৃষ্টিভঙ্গি অপরিহার্য।
রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করেন, সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, সামাজিক ও জনহিতৈষী সংগঠন, বিত্তবান ব্যক্তিবর্গ এবং প্রতিটি পরিবার প্রবীণদের কল্যাণে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনে এগিয়ে আসবে।
তিনি বলেন, প্রবীণদের প্রতি ভালোবাসা, তাদের হাসিমুখ ও নিরাপদ বার্ধক্য নিশ্চিত করা সবার অঙ্গীকার হওয়া উচিত।
রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশ ও বিশ্বের সব প্রবীণ ব্যক্তির সুস্বাস্থ্য ও শান্তিময় জীবন কামনা করেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
একদিনের সফরে ফেনীর পথে রওনা হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা ৩৬ মিনিটে গুলশানের বাসা থেকে সরকারপ্রধানের গাড়িবহর সড়ক পথে যাত্রা করে বলে জানিয়েছেন তার অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।
তিনি পৌনে ৯টায় বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান ফেনী যাচ্ছেন। গুলশানের বাসা থেকে রওনা হয়ে রাজধানী অতিক্রম করছে প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর।
“ফেনীতে দিনব্যাপী নির্ধারিত কর্মসূচি শেষ করে সন্ধ্যায় ঢাকায় ফিরবেন প্রধানমন্ত্রী।”
তারেক রহমানের নানা এস্কান্দার মজুমদারের বাড়ি ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার শ্রীপুর গ্রামে।
সরকারপ্রধানের মা, প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ফেনী-১ আসনে ভোট করতেন। তিনি ১৯৯১ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত সেখানে পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এ কারণে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মুখে এখনো ফেরে, ‘নেত্রী মোদের খালেদা, গর্ব মোদের আলাদা’।
কর্মসূচি: বেলা সাড়ে ১২টায় পশুরাম উপজেলার খেয়াঘাট মহুরী ব্রিজ এলাকায় ‘মহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়)’ প্রকল্পের উদ্বোধন, দেড়টায় ফুলগাজী বেগম খালেদা জিয়া মহিলা কলেজ প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন, দুপুর ২টায় ফুলগাজী জেলা পরিষদ ডাক বাংলোতে স্থাপিত রুফটপ সোলার থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ কার্যক্রমের উদ্বোধন এবং বিকাল সাড়ে ৩টায় ফুলগাজী সরকারি পাইলট স্কুল মাঠে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং ইমাম, মুয়াজ্জিনসহ অন্য ধর্মাবলম্বীদের সন্মানী প্রদান অনুষ্ঠানে যোগদান।
দুপুরে ফুলগাজী ডাক বাংলোতে জোহরের নামাজ আদায় ও মধ্যাহ্নভোজ সারবেন প্রধানমন্ত্রী। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে বিজয়ী হয়ে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর ফেনীতে তারেক রহমানের এটিই প্রথম সফর।
এর আগে সংসদ নির্বাচনের প্রচারণার অংশ হিসেবে গত ২৫ জানুয়ারি চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা আসার পথে ফেনীর পাইলট স্কুল মাঠে এক নির্বাচনি জনসমাবেশে বক্তব্য দিয়েছিলেন তারেক রহমান।
বাড়তি দামে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি খতিয়ে দেখতে ডিসিদের নির্দেশ
সরবরাহে ঘাটতি না থাকলেও কোথাও কোথাও কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অতিরিক্ত দামে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে কি না-তা খতিয়ে দেখতে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) নির্দেশ দিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। সেই সঙ্গে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকার পরও কোথাও সংকট দেখা দিলে এর কারণ অনুসন্ধান করে তথ্য-প্রমাণসহ মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
আজ বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে ভার্চ্যুয়ালি অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এই নির্দেশ দেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী।
ইকবাল হাসান মাহমুদ জানান, দেশে এলপিজির সরবরাহে কোনো ঘাটতি নেই। এরপরও বিভিন্ন এলাকায় সংকটের কথা শোনা যাচ্ছে এবং নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে এলপিজি বিক্রির অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। কোথায় কী কারণে সরবরাহ কম, কোথায় অতিরিক্ত দাম নেয়া হচ্ছে এবং এর পেছনে কৃত্রিম সংকট তৈরির কোনো বিষয় আছে কি না- এসব তথ্য সংগ্রহ করে প্রতিবেদন দিতে জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী বলেন, কৃত্রিম সংকট তৈরি করে এলপিজির দাম বাড়ানো হলে তা বরদাশত করা হবে না। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করা হলেও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
জেলা প্রশাসকদের পাঠানো তথ্য পাওয়ার পর আমদানিকারক ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে বৈঠক করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে জানিয়ে তিনি বলেন, যেসব এলাকায় সরবরাহে ঘাটতি পাওয়া যাবে, সেখানে সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হবে। এ সময় এলপিজির সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে জেলা প্রশাসকদের আরও সজাগ ও সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন মন্ত্রী।
সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির দাম বৃদ্ধির প্রভাব দেশের বাজারেও পড়েছে। ইতোমধ্যে আমদানিকারকদের পক্ষ থেকে সরবরাহে বড় ধরনের সংকট নেই বলে দাবি করা হলেও দেশের বিভিন্ন এলাকায় খুচরা বাজারে বাড়তি দামে এলপিজি বিক্রির অভিযোগ উঠেছে।
কোথাও কোথাও ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ২ হাজার টাকা ছাড়ানোর তথ্যও পাওয়া গেছে। এই অবস্থায় সরবরাহ ব্যবস্থার কোনে পর্যায়ে সমস্যা হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখার উদ্যোগ নিলো সরকার।