রুহুল কবির রিজভী
জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয়ের পরও প্রতি লিটার ডিজেল বিক্রিতে সরকারের প্রায় ৭০ টাকা লোকসান হচ্ছে বলে দাবি করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও শিল্প মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট আয়োজিত ‘গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সরকার ও বিরোধী দলের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ দাবি করেন।
রিজভী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় এক লিটার ডিজেল কিনতে সরকারের প্রায় ২০৫ টাকা খরচ হয়েছিল। অথচ দীর্ঘদিন দেশে প্রতি লিটার ডিজেল ১১৫ টাকা দরে বিক্রি করা হয়েছে। এতে প্রতি লিটারে সরকারের প্রায় ৯০ টাকা লোকসান হয়েছে।
সম্প্রতি ডিজেলের দাম ২০ টাকা সমন্বয় করা হলেও লোকসান পুরোপুরি কাটেনি উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখনো প্রতি লিটার ডিজেল বিক্রিতে সরকারের প্রায় ৭০ টাকা লোকসান হচ্ছে।
বিভিন্ন দেশের দামের তুলনা
আলোচনায় বিভিন্ন দেশের ডিজেলের দাম তুলে ধরে রিজভী বলেন, নেপালে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম প্রায় ১৬১ টাকা, মিয়ানমারে প্রায় ১৬৪ টাকা, শ্রীলঙ্কায় ১৭৯ টাকা ৪২ পয়সা এবং ফিলিপাইনে ১৮৮ টাকা ৫০ পয়সা। ভারতেও প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১৩৪ টাকার বেশি বলে উল্লেখ করেন তিনি।
রিজভীর ভাষ্য, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার সময়ও বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ১১৫ টাকা দরে ডিজেল বিক্রি করা হয়েছে। পরে দাম ২০ টাকা বাড়ানো হলেও সরকারের লোকসান এখনো রয়েছে।
নাশকতার বিরুদ্ধে কর্মসূচির আহ্বান
দেশের বিভিন্ন স্থানে বাস ও ট্রেনে আগুন এবং ককটেল বিস্ফোরণের প্রসঙ্গ তুলে রিজভী বলেন, মধ্যবাড্ডা, উত্তরা, মিরপুর ও কাফরুল এলাকায় বাসে আগুন, ট্রেনে আগুন এবং হাইকোর্ট ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।
এসব ঘটনার সঙ্গে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের যোগসূত্র রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। একই সঙ্গে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে যারা লং মার্চ করছেন, তাদের এসব ঘটনার বিরুদ্ধেও কর্মসূচি দেওয়ার আহ্বান জানান রিজভী।
রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে ভাঙচুরের প্রসঙ্গ টেনে জামায়াতের উদ্দেশে তিনি বলেন, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কর্মসূচির পাশাপাশি পরিকল্পিত সন্ত্রাসের বিরুদ্ধেও প্রতিবাদসভা ও বিক্ষোভ মিছিল করা উচিত।
তিনি আরও বলেন, জনগণের স্বার্থসংশ্লিষ্ট আন্দোলনে জামায়াতের ভূমিকা নেই। জনগণের সঙ্গে প্রতারণার কারণে তারা কখনো চূড়ান্ত পর্যায়ে জনগণের আস্থা অর্জন করতে পারেনি বলেও মন্তব্য করেন রিজভী।
সভায় আরও বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান, জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের প্রধান সমন্বয়কারী ব্যারিস্টার নাসিম খান ও মুখপাত্র এস এম শাহাদাতসহ অন্যরা।
ছবি- বঙ্গভবন
সমবায় আন্দোলনকে পুনরুজ্জীবিত করতে সমবায় সমিতিগুলোকে দুর্নীতিমুক্ত করার পাশাপাশি তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি, পণ্য বাজারজাতকরণে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ এবং প্রয়োজনীয় আইন সংশোধনের আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, ‘সমবায় সমিতিগুলোর মধ্যে দুর্নীতির কারণে বেশিরভাগ সমিতি নষ্ট হয়ে গেছে এবং তাদের কার্যক্রম দুর্বল হয়ে পড়েছে। হাতে গোনা কয়েকটি সমিতি সফলভাবে কাজ করছে। অথচ সমবায় আন্দোলনের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। সমবায় আন্দোলনকে সফল করতে হলে সংগঠনগুলোকে দুর্নীতিমুক্ত করতে হবে।’
রোববার সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রাষ্ট্রপতি বলেন, সমবায় আন্দোলন শুরু হয়েছিল ১৯০৪ সালে। দীর্ঘ সময় ধরে এই আন্দোলন চলেছে। মাঝখানে স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সমবায়কে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছিলেন। তিনি নিজে যে স্বনির্ভর আন্দোলন, অর্থাৎ স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন, সেই উদ্যোগের সঙ্গে সমবায়কে সম্পৃক্ত করে কাজ করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন।
তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান ষাটের দশকে বাংলাদেশের সমবায় আন্দোলনের পথিকৃৎ হিসেবে পরিচিত ড. আখতার হামিদ খানকে পাকিস্তান থেকে দেশে ফিরিয়ে এনেছিলেন এবং তাকে বার্ডের মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব দিয়ে সমবায় আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত করেছিলেন। ফলে সমবায় আন্দোলন অনেকটা এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিল। একইসাথে রাষ্ট্রপতি সমবায় উন্নয়নে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উল্লেখযোগ্য অবদান ও কার্যক্রম তুলে ধরেন এবং বর্তমান সরকারের নেতৃত্বে সমবায় খাত আরও দ্রুত গতিশীল হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
রাষ্ট্রপতি অতীতের সফল সমবায়ের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে সমবায়ের সেই অবস্থান এখন আর নেই। ধীরে ধীরে সমবায় আন্দোলন একেবারে নিচের দিকে চলে গেছে। এখন আর আগের মতো এই আন্দোলনের প্রতি গুরুত্ব বা মনোযোগ দেখা যায় না।’
এজন্য তিনি সমবায় খাতের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণের উপযোগী করে বিদ্যমান সমবায় সংশ্লিষ্ট আইন সংশোধন ও যুগোপযোগী করার ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান। একইসাথে তিনি সমবায় সমিতিগুলো যেন দেশের এনজিওগুলোর সাথে প্রতিযোগিতা করে টিকে থাকতে পারে, সেই ব্যাবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।
রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশে এনজিওর ধারণা অত্যন্ত সফলভাবে এগিয়ে গেছে। এই এনজিও কার্যক্রমের কারণেও সমবায় আন্দোলন পিছিয়ে পড়েছে। ফলে সমবায় প্রতিষ্ঠানগুলোকে এনজিওগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে হচ্ছে। এমন ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে, যাতে সমবায় সমিতিগুলো প্রতিযোগিতার সক্ষমতা অর্জন করে এনজিওগুলোর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে টিকে থাকতে পারে।
সমবায় প্রতিষ্ঠানের উৎপাদিত পণ্যসমূহের যথাযথ বাজারজাতকরণে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, সমবায় প্রতিষ্ঠানগুলো যেসব পণ্য উৎপাদন করে সেগুলোর বাজারজাতকরণে বড় ধরনের সমস্যা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে সমবায় অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয় উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারে। সমবায়ভিত্তিক কোম্পানি তৈরি করা যেতে পারে, যারা এসব পণ্য বাজারজাতকরণে সমবায় সমিতিগুলোকে সহযোগিতা করবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশে এ ধরনের উদ্যোগে যথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে। পণ্য বাজারজাতকরণের ক্ষেত্রে এই ঘাটতি দূর করা অত্যন্ত জরুরি।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সমবায়ের মূল ধারণা হচ্ছে একতাবদ্ধ হয়ে কাজ করা। নানামুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হলে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। দেশকে পেছনের দিকে ঠেলে দেওয়ার জন্য যেসব চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র রয়েছে, সেগুলো মোকাবিলা করে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য আমাদের কাজ করতে হবে। এ সময় তিনি সফল সমবায়ী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানসমূহের প্রশংসা করে বলেন, সম্প্রতি বগুড়ায় পল্লী উন্নয়ন একাডেমিতে যাওয়ার সুযোগ হয়েছিল। সেখানে তারা অত্যন্ত চমৎকার কাজ করছে। আজকের অনুষ্ঠানে কয়েকটি সফল সমবায়ের কার্যক্রম ও অগ্রগতি দেখে আমি খুব আনন্দিত হয়েছি। তারা সত্যিকার অর্থেই অনেক ভালো কাজ করছে।
রাষ্ট্রপতি সমবায়ীদের আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, আপনারা এখনো সমবায় আন্দোলনকে ধরে রেখেছেন। তবে শুধু ধরে রাখলেই হবে না, এটিকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হবে। এজন্য সমবায় আন্দোলনকে আরও ব্যাপকভাবে দেশের জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। এতে বক্তব্য দেন এই মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এ কে এম সেলিম রেজা হাবিব, মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. রফিকুল ই মোহামেদ এবং বাংলাদেশ জাতীয় সমবায় ইউনিয়নের সভাপতি মো. আবদুস সালাম।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন অধিদপ্তরের নিবন্ধক ও মহাপরিচালক সেলিম ফকির। সমবায় অধিদপ্তর কর্তৃক আয়োজিত এ বছর সমবায় দিবসের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘করবো সমবায়, গড়বো দেশ। সবার জন্য বাংলাদেশ’। অনুষ্ঠানে সফল সমবায়ীদের হাতে পুরস্কার ও ক্রেস্ট তুলে দেন রাষ্ট্রপতি। এর আগে তিনি অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছে বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘ভবিষ্যতে কেউ যেন দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ও জনগণের অধিকার হরণ করে বাংলাদেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে না পারে, সেটিই হোক এবারের ৭ নভেম্বরের প্রধান অঙ্গীকার।’
তিনি বলেন, ‘এ অঙ্গীকার বাস্তবায়নে প্রয়োজন জাতীয় ঐক্য। বাংলাদেশের আর্থসামাজিক, ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতায় জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করতে হলে সিপাহী-জনতার বিপ্লবের চেতনা মনে-প্রাণে ধারণ করতে হবে।’
শনিবার ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে রাজধানীর বনানীর আর্মি স্টেডিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমন অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধ, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহী-জনতার বিপ্লব, ১৯৯০ সালের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের ফ্যাসিবাদ বিরোধী গণঅভ্যুত্থান-প্রতিটি ঐতিহাসিক ঘটনা প্রমাণ করেছে, বাংলাদেশের মানুষ জাতীয় স্বার্থ ও স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কখনো আপস করেনি। সবকিছুর ঊর্ধ্বে তাদের কাছে বাংলাদেশ।’
দেশপ্রেমিক, স্বাধীনতাপ্রিয় ও গণতন্ত্রকামী মানুষের কাছে ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও গৌরবের দিন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘১৯৭৫ সালের এই দিনে দেশপ্রেমিক সিপাহী - জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বিরোধী ষড়যন্ত্র রুখে দিয়েছিল।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘১৯৭৫ সালের নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত চরম আকার ধারণ করে। এরই ধারাবাহিকতায় ৩ নভেম্বর দিবাগত রাতে তৎকালীন সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল জিয়াউর রহমানকে সপরিবারে গৃহবন্দি করা হয়।’ স্বাধীনতার ঘোষককে বন্দি রেখে দেশের স্বার্থবিরোধী যে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছিল, সিপাহী-জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে তা প্রতিহত করেছিল।’
তিনি বলেন, ‘যারা বাংলাদেশকে তাবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে চেয়েছিল, জনগণের গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক অধিকার হরণ করে একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিল এবং সশস্ত্র বাহিনীর গৌরব ও মর্যাদাকে ভূলুণ্ঠিত করতে চেয়েছিল, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক বিপ্লবের মাধ্যমে তাদের পরাজয় ঘটেছিল।’
পরাজিত অপশক্তির ষড়যন্ত্র থেমে থাকেনি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পরবর্তী সময়ে তারা বিভিন্নভাবে সংগঠিত হয়ে দেশকে পুনরায় তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করেছিল। পিলখানায় পরিকল্পিত সেনা হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে সশস্ত্র বাহিনীর গৌরব ও মর্যাদাকে ক্ষুণ্ন করা হয়েছিল। জনগণের গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক অধিকার কেড়ে নিয়ে দেশে ফ্যাসিবাদী শাসন কায়েম করা হয়েছিল।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘হাজারো মানুষের আত্মত্যাগের বিনিময়ে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে সেই অপশক্তির পরাজয় ঘটে এবং দেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হয়। ফ্যাসিবাদ বিরোধী দীর্ঘ আন্দোলনে যারা হতাহত হয়েছেন এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে যারা শহীদ ও আহত হয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী তাঁদের অবদান গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।’
তিনি বলেন, ‘১৯৭১ সালের যুদ্ধ ছিল স্বাধীনতা অর্জনের যুদ্ধ, আর ২০২৪ সাল ছিল দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার লড়াই। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট যেভাবে সর্বস্তরের মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিল, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরও একইভাবে সিপাহী-জনতা ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বিরোধী ষড়যন্ত্র রুখে দিয়েছিল।’
তিনি বলেন, ‘সময়ের সঙ্গে প্রমাণিত হয়েছে, বাংলাদেশের ইতিহাসে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর ছিল দেশের ভবিষ্যৎ পথরেখা নির্ধারণের দিন। বাংলাদেশ যতবার ৭ নভেম্বরের চেতনা থেকে বিচ্যুত হয়েছে, ততবারই দেশের স্বাধীনতা ও জনগণের সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়েছে।’
তারেক রহমান বলেন, ‘দল, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান কিংবা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী—এ দেশের সব নাগরিকের গর্বিত পরিচয় একটাই, আমরা বাংলাদেশি। এই পরিচয়ই আমাদের ঐক্যবদ্ধ জাতিতে পরিণত করেছে। ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ভিত্তি আরও সুদৃঢ় করেছিল। যতদিন বাংলাদেশ থাকবে, ততদিন সিপাহী-জনতার ঐক্যবদ্ধ বিপ্লবের গুরুত্ব ও তাৎপর্য প্রাসঙ্গিক থাকবে।’
প্রধানমন্ত্রী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, ‘১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর তিনি যেভাবে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের পক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন, ১৯৭১ সালেও একইভাবে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে রণাঙ্গনে সম্মুখসমরে লড়াই করেছিলেন।’
তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘একটি জাতির ইতিহাস কেবল অতীতের স্মৃতিচারণ নয়; সঠিক ইতিহাস একটি জাতির আত্মপরিচয়, আত্মমর্যাদা ও সম্মিলিত ভবিষ্যৎ নির্মাণের প্রেরণা। আজকের আয়োজনের বিশেষত্ব হলো, হাজার হাজার কিশোর-কিশোরী ও তরুণ-তরুণী ৭ নভেম্বরকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরেছেন।’
তিনি বলেন, নতুন প্রজন্ম যদি ৭ নভেম্বরের প্রেরণায় উদ্বুদ্ধ হয়ে ঐক্যবদ্ধ থাকে, তাহলে বাংলাদেশ আর পথ হারাবে না। যে দেশের তরুণ প্রজন্ম জাতীয়তাবাদে অনুপ্রাণিত নয়, সে দেশের জনগণের ঐক্য সুদৃঢ় হতে পারে না।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতা অর্জন একটি ঐতিহাসিক গৌরব। তবে সেই গৌরবের পতাকা সমুন্নত রেখে স্বাধীনতাকে অর্থবহ করে তোলা প্রতিটি প্রজন্মের দায়িত্ব। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের দায়িত্ব হলো স্বাধীনতার মূলমন্ত্র ধারণ করে একটি নিরাপদ, সমৃদ্ধ, মানবিক ও মর্যাদাপূর্ণ বাংলাদেশ বিনির্মাণে আত্মনিয়োগ করা।
অভিভাবক হিসেবে তরুণদের সব সম্ভাবনা বিকাশের উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার একটি সমৃদ্ধ আগামী নির্মাণে অঙ্গীকারবদ্ধ।’
দেশের জনগণের প্রতি প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ৭ নভেম্বর সিপাহী-জনতার বিপ্লবের ঐতিহাসিক এই দিনে দেশপ্রেমিক ও গণতন্ত্রকামী মানুষের উচ্চারণ হোক-‘দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়, নয় অন্য কেউ, সবার আগে বাংলাদেশ’।
প্রধানমন্ত্রী জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস-২০২৬ উদযাপন কমিটি, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি), বাংলাদেশ স্কাউটস এবং সর্বোপরি দেশের জনগণকে এ আয়োজনের জন্য ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানান।
অনুষ্ঠানের শুরুতে নভেম্বর জাতীয় বিপ্লবও সংহতি দিবস উপলক্ষে একটি ঐতিহাসিক প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শন করা হয়। ৭ নভেম্বর ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ প্রদর্শনী উপভোগ করেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় এবং সশস্ত্র বাহিনীর তত্ত্বাবধানে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের বিশেষ প্রদর্শনীতে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেটকোরের (বিএনসিসি) ৩ হাজার ক্যাডেট এবং বাংলাদেশ স্কাউটসের ৫০০ সদস্য অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান সহ উপদেষ্টাবৃন্দ, জাতীয় সংসদ সদস্য, বিভিন্ন কূটনৈতিক মিশনের প্রতিনিধি, তিন বাহিনীর প্রধান, সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতিনিধি শিক্ষার্থী, তরুণ, বিএনসিসি ও স্কাউটস সদস্য এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
জিয়াউর রহমান
আজ ৭ নভেম্বর, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস। রাষ্ট্রীয়ভাবে দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদার সঙ্গে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে উদযাপিত হবে। পাশাপাশি বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলো বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর দিবসটি আবার সরকারি ছুটির দিন হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস উদযাপন-সংক্রান্ত সরকারি নির্দেশিকায় দিনটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত দিবস হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এতে এখন থেকে প্রতিবছর ৭ নভেম্বর জাতীয়ভাবে পালন করা হবে।
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আজ সারাদেশে সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে এবং বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশের সব দূতাবাস ও মিশনে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এ-সংক্রান্ত পরিপত্রে বলা হয়েছে, দিবসটি উপলক্ষে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করতে হবে। এ ছাড়া বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশের সব মিশন ও দূতাবাসেও একইভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের নির্দেশনা কার্যকর থাকবে। মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ৭ নভেম্বর দেশে সাধারণ ছুটি থাকবে।
এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা এ ছুটির আওতায় থাকবেন। পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, দেশের সব তপশিলি ব্যাংকও ওই দিন বন্ধ থাকবে।
দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণী দিয়েছেন। বাণীতে রাষ্ট্রপতি বলেন, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং ৭ নভেম্বরের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে দলমতনির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে দুর্নীতি, বৈষম্য ও সব ষড়যন্ত্রের অবসান ঘটাতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বাণীতে বলেন, ১৯৭৫ সালের ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতার বিপ্লব বাংলাদেশের পথ নির্ধারণ করেছিল। সিপাহি-জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে সব চক্রান্ত রুখে দিয়েছিল। দেশের ইতিহাসে ঐতিহাসিক দিনটি ছিল বাংলাদেশের শত্রু-মিত্র চিহ্নিত করার দিন।
তিনি আরও বলেন, যারা বাংলাদেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করে রাখতে চেয়েছিল, জনগণের গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকার হরণ করে দেশে একদলীয় স্বৈরাচারী শাসন কায়েম করতে চেয়েছিল এবং দেশের শৌর্য, বীর্য, সাহস ও সম্মানের প্রতীক সেনাবাহিনীর গৌরব ভূলুণ্ঠিত করতে চেয়েছিল, ৭ নভেম্বর দেশপ্রেমিক সিপাহি-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লবের মাধ্যমে তাদের পরাজয় ঘটেছিল।
৭ নভেম্বরের প্রেক্ষাপট
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনকে পাল্টে দিতে ৩ নভেম্বর ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে পাল্টা অভ্যুত্থান হয়। কয়েক দিনের জন্য সরকারশূন্য অবস্থায় পড়ে যায় বাংলাদেশ। সেনাপ্রধান জেনারেল জিয়াউর রহমান অভ্যুত্থানকারীদের কাছে গৃহবন্দি হয়ে পড়েন। ৬ নভেম্বর মধ্যরাতের পর বিপ্লবী সৈনিকদের কামানের গোলার গর্জন সব চক্রান্ত ছিন্নবিচ্ছিন্ন করে দেয়। সকালে ঢাকার রাজপথে ট্রাকে ট্রাকে সৈনিকরা আকাশের দিকে গুলিবর্ষণ করে তাদের বিজয়ের কথা জানান দিতে থাকেন। জনগণও আনন্দ মিছিলে যোগ দেয়। সেনা ট্যাঙ্কে ফুলের মালা পরিয়ে জনগণ সিপাহি বিপ্লবকে অভিনন্দন জানাতে থাকে।
১৯৭৬ থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত দিবসটি ছিল সরকারি ছুটির দিন। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর তা বাতিল করা হয়। ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় এলে আবার এই দিনে সরকারি ছুটি বহাল করা হয়। ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি দেশজুড়ে জরুরি আইন জারি এবং ফখরুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বাধীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় আসার পর ২০০৬ সালের সরকারি ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, ওই বছর দিনটিতে সরকারি ছুটি বহাল ছিল। পরের বছর ২০০৮ সালে তা ছিল না। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার প্রেক্ষাপটে ২০০৯ সাল থেকে দিনটি সরকারি ছুটি হিসেবে পালিত হয়নি।
জাতীয় এই দিবসটি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কাছে ভিন্ন ভিন্ন নামে অভিহিত। বিএনপিসহ দেশের বেশির ভাগ রাজনৈতিক দল একে ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ বললেও বিগত বছরগুলোতে আওয়ামী লীগ ‘মুক্তিযোদ্ধা সৈনিক হত্যা দিবস’ এবং জাসদ ‘সিপাহি-জনতার অভ্যুত্থান দিবস’ হিসেবে পালন করে।
৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসে। বিএনপিসহ জামায়াতে ইসলামী, এলডিপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এই দিবসটিকে জাতীয়ভাবে পালনের আহ্বান জানায়।
সরকারি কর্মসূচি
দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি ভবন এবং বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ, সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার উদ্যোগে প্রধান প্রধান সড়ক ও সড়কদ্বীপ জাতীয় পতাকা দিয়ে সাজানো হবে। জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনায় দেশের সব মসজিদে মিলাদ মাহফিল ও বিশেষ মোনাজাত করা হবে। পাশাপাশি মন্দির, গির্জা, প্যাগোডাসহ অন্যান্য উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হবে।
এ ছাড়া হাসপাতাল, কারাগার, এতিমখানা, শিশুকেন্দ্র, শিশু পরিবার, শিশুসদন, কিশোর সংশোধনী কেন্দ্র, শান্তি নিবাস ও ভবঘুরে প্রতিষ্ঠানগুলোতে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হবে। দেশের সব শিশু পার্ক শিশুদের জন্য দিনব্যাপী বিনা টিকিটে উন্মুক্ত থাকবে।
নারী ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে অনুষ্ঠিত হবে বিশেষ আলোচনা সভা ও রচনা প্রতিযোগিতা। বাংলাদেশ টেলিভিশন, বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ও রেডিওতে প্রচার করা হবে বিশেষ অনুষ্ঠান। সিনেমা হল ও ভ্যানযোগে প্রামাণ্য চলচ্চিত্র প্রদর্শনীরও আয়োজন করা হবে।
বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির উদ্যোগে দেশাত্মবোধক গানের আসর বসবে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে আলোচনা সভা এবং প্রদর্শনী ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অংশগ্রহণে বিশেষ স্মারক আলোচনা সভা হবে। সশস্ত্র বাহিনীর উদ্যোগে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, মিলাদ মাহফিল, প্রীতিভোজ ও বিশেষ দরবারের আয়োজন করা হবে। বাংলাদেশ ক্যাডেট কোরের তত্ত্বাবধানে ঢাকার আর্মি স্টেডিয়ামে বর্ণাঢ্য ডিসপ্লে প্রদর্শিত হবে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ পুলিশ, বিজিবি, আনসার ও ভিডিপি, বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর, কোস্টগার্ড, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, কারা অধিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর, এনটিএমসি এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সদরদপ্তরে মিলাদ মাহফিল, প্রীতিভোজ ও বিশেষ দরবারের আয়োজন করা হবে।
বিএনপির কর্মসূচি
দিবস উপলক্ষে সাত দিনব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। ৫ থেকে ১১ নভেম্বর পর্যন্ত এসব কর্মসূচি পালন করা হবে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে, ৭ নভেম্বর সকাল ৬টায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারাদেশে দলীয় কার্যালয়গুলোতে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন।
একই দিন বেলা ১১টায় বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং দলের জাতীয় নেতৃবৃন্দসহ সব পর্যায়ের নেতাকর্মী প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ করবেন।
আজ বেলা ৩টায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হবে। জেলা ও মহানগর পর্যায়েও বিএনপির উদ্যোগে র্যালি হবে। এ ছাড়া আগামীকাল সারাদেশের থানা ও উপজেলা পর্যায়ে র্যালি হবে। দিবসটি উপলক্ষে বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলো নিজ নিজ উদ্যোগে আলোচনা সভা ও অন্যান্য কর্মসূচি পালন করবে। কর্মসূচির অংশ হিসেবে গতকাল শুক্রবার বিএনপির উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে রাজধানীর বনানী আর্মি স্টেডিয়ামে আয়োজিত কুচকাওয়াজে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শনিবার সকালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন, দোয়া ও বিশেষ মোনাজাত শেষে তিনি কুচকাওয়াজে অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনী ও বিমানবাহিনীর প্রধান, মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক ও রাষ্ট্রদূতেরা উপস্থিত রয়েছেন।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় এবং সশস্ত্র বাহিনীর তত্ত্বাবধানে আয়োজিত অনুষ্ঠানের বিশেষ প্রদর্শনীতে অংশ নিচ্ছেন বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোরের (বিএনসিসি) তিন হাজার ক্যাডেট এবং বাংলাদেশ স্কাউটসের ৫০০ সদস্য।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি : পিএমও
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আজ শনিবার সকালে শেরেবাংলা নগরে তাদের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানান তিনি।
এ সময় সমাধিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের পাশাপাশি সুরা ফাতেহা পাঠ করেন প্রধানমন্ত্রী। বিএনপির জাতীয় নেতারাসহ সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে রাজধানীতে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার আয়োজন করেছে বিএনপি। আজ বিকেল ৩টায় নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে শোভাযাত্রাটি শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এতে হেঁটে অংশ নেবেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, শোভাযাত্রাটি নয়াপল্টন থেকে শুরু হয়ে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সড়ক প্রদক্ষিণ করে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে গিয়ে শেষ হবে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানান, নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে শুরু হওয়া শোভাযাত্রাটি কাকরাইলে প্রধান বিচারপতির বাসভবনের সামনে দিয়ে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড় অতিক্রম করবে। এরপর বাংলামোটর ও ফার্মগেট হয়ে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে গিয়ে শেষ হবে।
তারেক রহমানের শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকে কেন্দ্র করে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। শোভাযাত্রা সফল করতে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপিসহ দলের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠন ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে।
প্রতীকী ছবি
সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে দুইজন ও খুলনা বিভাগে একজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৫৩৫ জন। শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে ৪৫৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে অক্টোবরেই মারা গেছেন ১৭৪ জন। এছাড়া সেপ্টেম্বরে সর্বোচ্চ ১৪৮ জন, আগস্টে ৪৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন, মে মাসে একজন এবং জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১ হাজার ৫৩৫ জন ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছর হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪৫ হাজার ৯০৬ জনে এবং সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ১ লাখ ৩৯ হাজার ৬৭৮ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি ৭২১ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে। এছাড়া চট্টগ্রামে ২৭৫ জন, খুলনায় ১৬১ জন, বরিশালে ১৪৩ জন, রাজশাহীতে ১০৪ জন, ময়মনসিংহে ৮৮ জন, রংপুরে ৪৩ জন।