ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বরের তাৎপর্য তুলে ধরে জাতীয় ঐক্য, দেশপ্রেম, গণতন্ত্র ও ইতিবাচক পরিবর্তনের আহ্বান। ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস-২০২৬ উপলক্ষে দিনাজপুরে যথাযোগ্য মর্যাদায় আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বর্ণাঢ্য র্যালী ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (৭ নভেম্বর) দিনব্যাপী এসব কর্মসূচীতে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, বীর মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, বিভিন্ন সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিসহ বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশগ্রহণ করেন। দিবসটি উপলক্ষে সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে দিনাজপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমীতে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিল সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, এমপির। বিশেষ কারণে তিনি স্বশরীরে উপস্থিত থাকতে পারেননি। একই কারণে জাতীয় সংসদের হুইপ মোঃ আখতারুজ্জামান মিয়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে পারেননি।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন দিনাজপুর-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম। তিনি তাঁর বক্তব্যে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক ঘটনাপ্রবাহ এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বিগত ১৫ বছর এ দিবসটি পালন করা সম্ভব হয়নি এবং তৎকালীন সরকারের সময় তাঁদের দিবসটি পালন করতে দেওয়া হয়নি। বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
দিনাজপুরের পুলিশ সুপার মোঃ জেদান আল মুসা, পিপিএম তাঁর বক্তব্যে ইতিহাস জানার পাশাপাশি ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে বাস্তব জীবনে তার প্রতিফলন ঘটানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, শুধু ইতিহাস জানলেই হবে না, সেই ইতিহাসের আলোকে কাজ করতে হবে। নিজেদের উন্নত করতে হবে এবং মন-মানসিকতার ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটাতে হবে।
এ ছাড়া বক্তব্য দেন দিনাজপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক মোঃ মোফাজ্জল হোসেন দুলাল, দিনাজপুর সরকারী কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোঃ লুৎফর রহমান এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা ও জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার মোঃ মোকশেদ আলী মঙ্গলিয়া। তাঁরা দিবসটির ঐতিহাসিক তাৎপর্য, জাতীয় ঐক্য, দেশপ্রেম, সামাজিক দায়ীত্ববোধ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ইতিবাচক সমাজ গঠনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ রফিকুল ইসলাম।সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, জাতীয় দিবসগুলো কেবল আনুষ্ঠানিকভাবে উদযাপনের বিষয় নয়; বরং এসব দিবসের তাৎপর্য অনুধাবন করে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হওয়া এবং নিজ নিজ অবস্থান থেকে দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখার অঙ্গীকার গ্রহণ করা জরুরী।
তিনি জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের দুটি গুরুত্বপূর্ণ শব্দ—‘বিপ্লব’ ও ‘সংহতি’র তাৎপর্য ব্যাখ্যা করেন। তাঁর মতে, বিপ্লব হচ্ছে কাঙ্ক্ষিত আমূল পরিবর্তনের প্রত্যাশা, আর সংহতি হচ্ছে সেই পরিবর্তন বাস্তবায়নে মানুষের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা ও সম্মিলিত অবস্থান। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে হলে প্রত্যেককে নিজ নিজ জায়গা থেকে দায়ীত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে জেলা প্রশাসক বলেন, পৃথিবীকে উন্নত করার অন্যতম প্রধান হাতিয়ার শিক্ষা। একজন শিক্ষক যদি একজন ভালো মানুষ তৈরি করতে পারেন, তাহলে সেই শিক্ষার্থীর মধ্য থেকেই ভবিষ্যতে একজন ভালো কর্মকর্তা, উদ্যোক্তা, রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী, বাবা কিংবা মা গড়ে উঠতে পারেন। তাই উন্নত রাষ্ট্র ও সমাজ বিনির্মাণে নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ ও মানসম্মত শিক্ষার বিকল্প নেই।
তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার প্রকৃত চেতনা ধারণ করতে হলে দেশের আইন-কানুন জানতে হবে এবং পরিবার ও সমাজের অন্যদেরও সে বিষয়ে সচেতন করতে হবে। জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের তাৎপর্য উপলব্ধি করে সবাইকে দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এস. এম. হাবিবুল হাসানসহ জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, সরকারী দপ্তরের প্রতিনিধিবৃন্দ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
বিকেলে জেলা বিএনপির র্যালী ও সমাবেশ
অন্যদিকে, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বিকেল ৪টায় দিনাজপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে জেলা বিএনপির উদ্যোগে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মোফাজ্জল হোসেন দুলাল।
প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন দিনাজপুর-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন দিনাজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ মঞ্জুরুল ইসলাম। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বখতিয়ার আহমেদ কচি।
সমাবেশে বক্তারা ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে গণতন্ত্র, স্বাধীনতা, জাতীয় ঐক্য ও সার্বভৌমত্বের চেতনায় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
সমাবেশ শেষে বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালী বের করা হয়। র্যালীটি দিনাজপুর শহরের কাচারী রোড, পৌরসভা রোড ও সদর হাসপাতাল রোডসহ প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেল রোডে অবস্থিত জেলা বিএনপির কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়।
র্যালীতে জেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি মোঃ মোকাররম হোসেন, সহসভাপতি আলহাজ্ব মাহবুব আহমেদ, মোঃ আখতারুজ্জামান জুয়েল ও মোঃ হাসানুজ্জামান উজ্জ্বল, মোঃ খালেকুজ্জামান বাবু, জেলা বিএনপির উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম মুন্না, সহসাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন ও মোঃ নাজমুল হুদা জনি, কোষাধ্যক্ষ আনিসুর রহমান বাদশা এবং পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন মণ্ডল বকুলসহ জেলা ও পৌর বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া দিনাজপুর জেলা যুবদলের আহ্বায়ক এ কে এম মাসুদুল ইসলাম মাসুদ, সদস্যসচিব রেজাউর রহমান রেজা, জেলা মহিলা দলের সভাপতি জিনাত আরা ও সাধারণ সম্পাদক শাহীন সুলতানা ডিউটি, কেন্দ্রীয় তাঁতীদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও দিনাজপুর জেলা তাঁতীদলের সভাপতি মোঃ রেজাউল ইসলাম গুরু এবং জেলা তাঁতীদলের সাধারণ সম্পাদক মোঃ হাসু খাঁন সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ সেলিমসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা র্যালীতে অংশগ্রহণ করেন।
দিনব্যাপী কর্মসূচীতে জেলা প্রশাসন, বিভিন্ন সরকারী দপ্তর, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের ঐতিহাসিক তাৎপর্য, জাতীয় ঐক্য, দেশপ্রেম, শিক্ষা ও ইতিবাচক সামাজিক পরিবর্তনের বিষয়গুলো আলোচনায় উঠে আসে।
সিলেট নগরীর বালুচর শাহমাদানী ঈদগাহ থেকে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে ইকোপার্ক পর্যন্ত সড়ক নির্মাণকাজ চলছে। প্রায় আড়াই কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কটি ২৪ ফুট প্রশস্ত করে টেকসই আরসিসি (RCC) ঢালাইয়ের মাধ্যমে নির্মাণ করা হচ্ছে। এছাড়া সড়কের উভয় পাশে পানি নিষ্কাশন স্বাভাবিক রাখতে ৬ ফুট করে মোট ১২ ফুট প্রশস্ত ড্রেন তৈরি করে তার ওপর স্ল্যাব বসিয়ে ফুটপাত নিশ্চিত করা হয়েছে। সড়ক, ড্রেন ও ফুটপাত নির্মাণে সব মিলিয়ে খরচ হচ্ছে প্রায় ১৮ কোটি টাকা। শনিবার দুপুরে সড়ক ও ড্রেনের শেষ পর্যায়ের ঢালাই কাজ সরেজমিনে পরিদর্শন করেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।
পরিদর্শনকালে তিনি কাজের সার্বিক অগ্রগতি ঘুরে দেখেন এবং নির্মাণসামগ্রীর গুণগত মান তদারকি করেন। পরিদর্শন শেষে সিসিক প্রশাসক বলেন, "বালুচর-ইকোপার্ক সড়কটি নগরীর যোগাযোগের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি মাধ্যম। এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ এবং ইকোপার্কসহ আশপাশের নানা গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। জনসাধারণের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি দূর করে নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতেই সড়কটি ২৪ ফুট প্রশস্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
"তিনি আরও বলেন, "সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে পানি নিষ্কাশনের বিষয়টিকে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছি। বর্ষায় যেন কোনো জলাদ্ধতা তৈরি না হয়, সেজন্য সড়কের দুই পাশে মোট ১২ ফুট প্রশস্ত ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছে। এসব ড্রেনের ওপর বসানো স্ল্যাব একই সঙ্গে পথচারীদের জন্য নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় ফুটপাত হিসেবে ব্যবহৃত হবে।"
নগর উন্নয়ন পরিকল্পনার ওপর জোর দিয়ে আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী জানান, সিলেট নগরীর সার্বিক যোগাযোগব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনে সিটি কর্পোরেশন ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন সড়ক প্রশস্তকরণ ও টেকসই সংস্কারকাজ পরিচালনা করছে। পরিকল্পিত সড়ক, কার্যকর ড্রেনেজ নেটওয়ার্ক এবং নিরাপদ পথচারীবান্ধব ফুটপাত তৈরি করাই সিসিকের মূল লক্ষ্য।
পরিদর্শনকালে তিনি ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্টদের নির্মাণকাজের সর্বোচ্চ গুণগত মান বজায় রেখে দ্রুততম সময়ে অবশিষ্ট কাজ সমাপ্ত করার কঠোর নির্দেশনা দেন।
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে সিসিকের নির্বাহী প্রকৌশলী লিপু সিংহ, জনসংযোগ কর্মকর্তা (অ.দা.) নেহার রঞ্জন পুরকায়স্থসহ সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও প্রকৌশলীরা উপস্থিত ছিলেন।
ঝালকাঠির নলছিটিতে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের এক নেতাকে আটকের পর পুলিশের ওপর হামলা, গাড়ি ভাঙচুর ও হাতকড়াসহ আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে নলছিটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুজ্জামান সহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।
রবিবার (৮ নভেম্বর) দুপুরে উপজেলার দপদপিয়া ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, একাধিক মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামী এলাকায় অবস্থান করছেন এমন তথ্যের ভিত্তিতে নলছিটি থানা পুলিশের একটি দল সেখানে অভিযান চালায়।অভিযানকালে দপদপিয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি ও ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. সিরাজ মোল্লাকে আটক করে পুলিশ।
সিরাজ মোল্লাকে আটকের পর পুলিশ তাকে নিয়ে আসার সময় তার পরিবারের সদস্য ও সহযোগীরা পুলিশের ওপর চড়াও হন। একপর্যায়ে পরিস্থিতি সহিংস হয়ে ওঠে এবং হামলাকারীরা পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে নলছিটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুজ্জামানকে আহত করেন। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে হামলাকারীরা হাতকড়া পরা অবস্থায় আসামি সিরাজ মোল্লাকে পুলিশের হেফাজত থেকে ছিনিয়ে নেয়। এ সময় পুলিশের একটি সরকারি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়।
নলছিটি থানা ভারপ্রাপ্ত( ওসি) তৌহিদুজ্জামান জানান, বিভিন্ন জায়গায় সাঁড়াশি অভিযান চালানো হচ্ছে। খুব দ্রুত তাকেসহ এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হবে।
চিত্রনায়িকা পরীমনিকে বয়কটের ঘোষণা দিয়ে গাইবান্ধায় প্রতিবাদ বিক্ষোভ করেছেন সাংবাদিকরা। এ সময় পরীমনির বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগের প্রতিবাদ জানিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন সাংবাদিক নেতারা।
রোববার দুপুর ১২টার দিকে জেলা পুলিশ লাইন রোডে গাইবান্ধার সাংবাদিকদের আয়োজনে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ সমাবেশে জেলার বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকরা অংশগ্রহণ করেন।
উক্ত সমাবেশে বক্তারা বলেন, গত ৫ নভেম্বর পরীমনি রাজধানী ঢাকায় আদালত চত্বরে দৈনিক সমকালের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার রবিউল ইসলাম রাজুকে ব্যাড টাচ (অশালীন স্পর্শ)-এর মিথ্যা অভিযোগ তুলে গালিগালাজ করে। অথচ ওই সাংবাদিকের একটি হাত প্রতিবন্ধী।
বক্তারা আরও বলেন, সাংবাদিকদের সম্মান ও পেশাগত মর্যাদা রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। সাংবাদিকদের নিয়ে কোন ধরনের অসম্মানজনক আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়।
এ সময় বক্তরা পরীমনিকে বয়কটের ঘোষণা দিয়ে তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন।
সমবায়ের মাধ্যমে পুরুষ ও নারীকে আত্মনির্ভরশীল হয়ে ওঠার আহ্বান জানিয়েছেন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। তিনি বলেছেন, শুধু পণ্য বিপণন নয়, বরং কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সমবায় সমিতি গড়ে তুলে দলবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। সম্মিলিত উদ্যোগ ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে এগিয়ে এলে বাংলাদেশকে দ্রুত আত্মমর্যাদাশীল ও আত্মনির্ভরশীল জাতি হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।
রোববার (৮ নভেম্বর) দুপুরে পঞ্চগড় কালেক্টরেট চত্বরে জেলা প্রশাসন ও জেলা সমবায় কার্যালয়ের আয়োজনে ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবসের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সমবায়ের মূল শক্তি হচ্ছে ঐক্য, পারস্পরিক সহযোগিতা ও সম্মিলিত উদ্যোগ। নারী-পুরুষ সবাইকে সমবায়ের আওতায় এনে গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সমবায়ভিত্তিক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হতে হবে। এর মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সামাজিক অগ্রগতি ত্বরান্বিত হবে।
এর আগে জাতীয় সমবায় দিবস উপলক্ষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি কালেক্টরেট চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। পরে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে জাতীয় পতাকা ও সমবায় পতাকা উত্তোলন করা হয়। এরপর ফিতা কেটে ও বেলুন উড়িয়ে জাতীয় সমবায় দিবস ও সমবায় মেলার উদ্বোধন করেন প্রতিমন্ত্রী।
এ সময় পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক শুকরিয়া পারভীন, পুলিশ সুপার আবু সাইম, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাহিরুল ইসলাম কাচ্চু, জেলা জামায়াতের আমির ইকবাল হোসাইন, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সমবায় সমিতির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে, জাতীয় সমবায় দিবসের অনুষ্ঠানের আগে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় অংশ নেন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ।
সভায় জেলার সাম্প্রতিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় খুন, ছিনতাই ও ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড কমে আসায় সন্তোষ প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী। তবে জেলায় আত্মহত্যার ক্রমবর্ধমান প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, আত্মহত্যার মতো সামাজিক সংকট মোকাবিলায় জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে সচেতনতামূলক সভা-সমাবেশ আয়োজন করতে হবে। পাশাপাশি হতাশাগ্রস্ত ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত মানুষের পাশে পরিবার, সমাজ ও জনপ্রতিনিধিদের এগিয়ে আসতে হবে। সম্মিলিত সচেতনতা ও সহযোগিতার মাধ্যমে এ ধরনের প্রবণতা প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব।
গাজীপুর মহানগরীর পূবাইলে হানি ট্র্যাপের ফাঁদে ফেলে এক ব্যক্তিকে জিম্মি করে মারধর, টাকা-পয়সা, মোবাইল ফোন ও মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে মোঃ সোহেল মিয়া (৪২) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পূবাইল থানা পুলিশ।
পুলিশ জানায়, গত ৫ নভেম্বর সন্ধ্যা ৬টার দিকে পূবাইল থানাধীন মাজুখান এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যক্তি রেইনবো কমার্শিয়াল অ্যান্ড এসএস লিমিটেডের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানের সাবেক দুই নারী কর্মী ভালো বেতনে অন্য প্রতিষ্ঠানে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ভুক্তভোগীকে মাজুখান এলাকায় ফাহিমা নামের এক নারীর ভাড়া বাসায় ডেকে নেন। সেখানে চা-নাশতা খাওয়ার পর পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী আরও কয়েকজন ওই বাসায় প্রবেশ করেন। পরে এক নারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের মিথ্যা অপবাদ দিয়ে তাঁকে জিম্মি করে মারধর করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ সময় ভুক্তভোগীর শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়। পরে তাঁর স্ত্রীর কাছে দুর্ঘটনার কথা বলে টাকা দাবি করা হয়। টাকা আদায়ের উদ্দেশ্যে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে নগদ ২৮ হাজার টাকা, বিকাশের মাধ্যমে আরও ৩ হাজার টাকা এবং দুটি স্মার্টফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ছাড়া প্রাণনাশের ভয়ভীতি দেখিয়ে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা মূল্যের লাল-কালো রঙের একটি পালসার মোটরসাইকেল বিক্রি করেছেন মর্মে তিনটি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে তাঁর স্বাক্ষর নেওয়া হয় এবং এ ঘটনার ভিডিও ধারণ করা হয় বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। পরে মোটরসাইকেলটি নিয়ে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
এ ঘটনায় পূবাইল থানায় নিয়মিত মামলা দায়েরের পর তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) মো. রফিকুল ইসলাম তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে মামলার ২ নম্বর আসামি মোঃ সোহেল মিয়াকে গ্রেপ্তার করেন।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার সোহেল মিয়া মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ থানার আধকানী জালালাপুর এলাকার লাল মিয়ার ছেলে। তিনি পূবাইলের মাজুখান এলাকায় ফাহিমা নামের এক নারীর বাসায় ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করতেন।
পূবাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আতিকুর রহমান জানান, অভিযানে গ্রেপ্তার সোহেলের হেফাজত থেকে অভিযোগে লুণ্ঠিত একটি মোটরসাইকেল, একটি স্মার্টফোন ও তিনটি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন!
রবিবার দুপুরে গ্রেপ্তার আসামিকে আদালতে পাঠিয়ে সাত দিনের পুলিশ রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তার এবং ঘটনার বিস্তারিত তদন্তে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
দিনাজপুরের বিরল সীমান্তে রাতভর বিশেষ অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। পৃথক দুটি অভিযানে ৩০ বোতল ভারতীয় মদ ও ৫০০ পিস নেশাজাতীয় ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। জব্দকৃত মাদকদ্রব্যের আনুমানিক সিজার মূল্য ১ লাখ ৪৫ হাজার টাকা।
শনিবার (৭ নভেম্বর) দিবাগত রাতে দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি)-এর অধীনস্থ ধর্মজান ও মৌচোষা বিওপির দায়ীত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পৃথক অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় বিরল উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে মালিকবিহীন অবস্থায় এসব মাদকদ্রব্য জব্দ করেন বিজিবি সদস্যরা।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, সীমান্তপথে মাদকদ্রব্যের অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে গোয়েন্দা নজরদারী বৃদ্ধি এবং নিয়মিত টহলের পাশাপাশি বিশেষ অভিযান জোরদার করা হয়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদকের বিস্তার রোধ এবং তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহ ছোবল থেকে রক্ষায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
জব্দকৃত মাদকদ্রব্যের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। পাশাপাশি এসব অবৈধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও চক্রকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে বিজিবি।
দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম এম জিল্লুর রহমান জানান, সীমান্ত দিয়ে মাদক ও অবৈধ পণ্যের অনুপ্রবেশ রোধে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্কতা ও দৃঢ়তার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে। মাদক ও চোরাচালানের বিরুদ্ধে বিজিবির অবস্থান অত্যন্ত কঠোর। সীমান্তকে নিরাপদ ও মাদকমুক্ত রাখতে গোয়েন্দা নজরদারি, নিয়মিত টহল এবং বিশেষ অভিযান আরও জোরদার করা হবে। সীমান্ত অপরাধে জড়িত কোনো ব্যক্তি বা চক্রকে ছাড় দেওয়া হবে না।