ছবি : সংগৃহীত
এক লাফে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে জামানত পাঁচগুণ বাড়ানো হয়েছে; চেয়ারম্যান প্রার্থীর জামানত বাড়িয়ে ২৫ হাজার টাকা এবং সদস্য প্রার্থীর জামানত ৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে চেয়ারম্যান প্রার্থীর নির্বাচনি ব্যয় ১০ লাখ টাকা এবং সদস্য প্রার্থীর ব্যয় ২ লাখ টাকা করা হয়েছে। এসব পরিবর্তন এনে বুধবার স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) নির্বাচন বিধিমালা, ২০১০ এ সংশোধনী এনে গেজেট প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
সংশোধন অনুযায়ী, এএমএম নাসির উদ্দিন নেতৃত্বাধীন ইসি ইউপি পদে প্রার্থীদের জামানত আগের তুলনায় পাঁচগুণ এবং ভোটের ব্যয় দুই গুণ বাড়ানো হয়েছে।
সেই সঙ্গে প্রার্থীদের জামানত বাজেয়াপ্তে ১৫% ভোট না পাওয়া, মনোনয়নপত্রে চেয়ারম্যান পদে ভোট করতে ১২ ডিজিটের টিআইএন সনদ ও আয়কর রিটার্নের কপি যুক্ত করা, ভোটে অনিয়মে ব্যবস্থা নিতে ইসির ক্ষমতা বাড়ানো, সংসদের মতো করে ইউপি ভোটে হলফনামায় তথ্য স্পষ্টীকরণ, নির্দলীয় ভোটের প্রতীক সংরক্ষণসহ একগুচ্ছ সংশোধনী আনা হয়েছে।
দীর্ঘ এক দশক পর এবার নির্দলীয় প্রতীকে ভোট হবে ইউনিয়ন পরিষদে। চেয়ারম্যান পদে আগে নিবন্ধিত দলের প্রতীক ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য মার্কা বরাদ্দ ছিল; এবার চেয়ারম্যান পদে ২০টি প্রতীক সংরক্ষণ করা হয়েছে সংশোধিত বিধিমালায়। এছাড়া সাধারণ সদস্য পদে ১২টি ও সংরক্ষিত সদস্য পদে ১০টি প্রতীক সংরক্ষণ করা হয়েছে।
আগামী বছরের শুরুতে ইউপি নির্বাচন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে; এরপর ধাপে ধাপে সাড়ে চার হাজার ইউপির নির্বাচন সম্পন্ন হবে।
ইউপিতে ভোটের মার্কা
আগে চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হলেও এবার ইউপি নির্বাচন হবে নির্দলীয় প্রতীকে। বিধিমালায় চেয়ারম্যান পদের জন্য ২০টি, সাধারণ সদস্য পদে ১২টি ও সংরক্ষিত সদস্য পদে ১০টি মার্কা বা প্রতীক চূড়ান্ত করা হয়েছে।
চেয়ারম্যান পদের প্রতীক- কম্পিউটার, কলার ছড়ি, ঘণ্টা, ঘোড়া, চিংড়ি, জগ, টেবিল, টেবিল ঘড়ি, টেলিফোন, দালান, দোতলা বাস, পাগড়ি, বেবি টেক্সি, ময়ূর, মোবাইল ফোন, মোটর সাইকেল, মোড়া, রেল ইঞ্জিন, সোফা ও হাঁস।
সংরক্ষিত আসনের সদস্যদের প্রতীক- আলমিরা, কলস, ড্রেসিং টেবিল, পালকি, ফলের ঝুড়ি, মাইক, সেলাই মেশিন, সূর্যমুখী ফুল, হরিণ ও হেলিকপ্টার।
সাধারণ সদস্য পদের প্রতীক- উট, কাপ-পিরিচ, ঘুড়ি, জাহাজ, টর্চ লাইট, টিউবওয়েল, ট্রাক্টর, তালা, ফুটবল, বৈদ্যুতিক পাখা, বৈদ্যুতিক বাল্ব ও মোরগ।
যেসব সংশোধন এল
>> জামানত - চেয়ারম্যান প্রার্থীর ২৫ হাজার টাকা এবং সদস্য প্রার্থীর ৫ হাজার টাকা। কোনো প্রার্থীর পক্ষে একাধিক মনোনয়নপত্র দাখিল করা হলেও একাধিক জামানতের প্রয়োজন হবে না। আগে জামানত ছিল চেয়ারম্যান ৫ হাজার টাকা ও সদস্য এক হাজার টাকা।
>> প্রদত্ত ভোটের ন্যূনতম ১৫ শতাংশ না পেলে প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হবে।
>> চেয়ারম্যান প্রার্থীর নির্বাচনি ব্যয় ১০ লাখ টাকা এবং সদস্য প্রার্থীর জন্য ২ লাখ টাকা। আগে চেয়ারম্যানের ৫ লাখ ও সদস্যের ভোটের ব্যয় ২ লাখ টাকা ছিল।
>> বিধি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে কমিশনের ক্ষমতা বাড়িয়ে প্রার্থিতা বাতিলের বিষয়টি যুক্ত করা হয়েছে।
>> কোনো ভোটকেন্দ্রের ফলাফল বলপ্রয়োগ, ভীতি প্রদর্শন, কারসাজি বা অন্য কোনো অপকর্মের কারণে চরমভাবে পক্ষপাতদুষ্ট হলে কমিশন ওই কেন্দ্রের ফলাফল স্থগিত করতে পারবে। প্রযোজনে নির্বাচন বাতিল করে পুনভোটের ব্যবস্থা নেবে ইসি।
>> দৃষ্টি বা শারীরিক প্রতিবন্ধী কিংবা অন্য কোনো কারণে সহায়তার বিষয়টি আরও স্পষ্ট করা হয়েছে। ভোটারকে ভোটদানে সহায়তার জন্য কমপক্ষে ২১ বছর বয়সি একজন ব্যক্তি নেওয়া যাবে; ভোটার ব্যালট পেপারে নিজে চিহ্ন দিতে না পারলে তার নির্দেশনা অনুযায়ী সহায়তাকারী চিহ্ন দিতে পারবেন। তবে ওই সহায়তাকারী কোনো প্রার্থী, প্রার্থীর এজেন্ট, ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য হতে পারবেন না।
>> গণমাধ্যকর্মীকেও বাধা দিলে শাস্তির বিষয়টি যুক্ত করা হয়েছে। এ অপরাধে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে।
>> ইউপি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচনি অপরাধ ও আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়গুলো মনিটরিং করতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক মনিটরিং কমিটি গঠন করতে পারবে কমিশন।
>> এছাড়া কিছু করণিক ভুল, প্রতীকের তালিকা থেকে দলীয় প্রতীক বাদ, স্বতন্ত্রদের প্রতীক ববাদ দিয়ে চেয়ারম্যান প্রার্থীর জন্য প্রতীক সংসক্ষণ, মনোনয়ন পত্রের ফরম, হলফনামার সংযুক্তিসহ নির্বাচন সংশ্লিষ্ট আরও কিছু সংশোধন আনা হয়েছে।
প্রতীকী ছবি
দেশে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা ২০০ ছাড়িয়েছে। বুধবার সকাল আটটা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০১ জনে। এর মধ্যে সেপ্টেম্বরেই মারা গেছেন ১০৪ জন, যা চলতি বছরের কোনো মাসে সর্বোচ্চ। এ সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৮৬৮ জন। বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালগুলোতে ১৭৩ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ১৭৯ জন এবং ঢাকার দুই সিটির বাইরে ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ৪০৫ জন ভর্তি হয়েছেন। অন্যান্য বিভাগের মধ্যে বরিশালে ১৭৮ জন, চট্টগ্রামে ৩১৭, খুলনায় ২৮০, ময়মনসিংহে ১১৩, রাজশাহীতে ১৫৬, রংপুরে ৫৯ এবং সিলেটে ৮ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
বুলেটিনের তথ্য অনুযায়ী, একই সময়ে ১ হাজার ৫৫৭ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন। চলতি বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৬৭ হাজার ৩৬৭ জন। তাদের মধ্যে ৬২ হাজার ১১৭ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ২০০০ সাল থেকে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ও মৃত্যুর তথ্য সংরক্ষণ করছে। এর মধ্যে ২০২৩ সালে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে সবচেয়ে বেশি ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হন। ওই বছর মৃত্যুও ছিল সর্বোচ্চ ১ হাজার ৭০৫ জন। গত বছর ডেঙ্গুতে চার শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়। হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ছিল প্রায় ১ লাখ ২ হাজার।
প্রতীকী ছবি
সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ১১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম ও উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ১ হাজার ২৭০ জন ভর্তি হয়েছেন। বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে হামের উপসর্গ নিয়ে ৬ জন, সিলেট বিভাগে ১ জন, চট্টগ্রামে ২ জন, খুলনা ১ জন ও রংপুরে ২ জনের মৃত্যু হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে দেশে হাম ও হামের উপসর্গে এ পর্যন্ত মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৭৬ জনে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে ১০১ জন ও হামের উপসর্গ নিয়ে ৯৭৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় এক হাজার ১৫৭ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে মোট সন্দেহভাজন সংক্রমণের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৮৩ হাজার ৪৪৯ জনে। এছাড়াও গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন ১১৩ জন। এ নিয়ে এ পর্যন্ত নিশ্চিত হামে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০ হাজার ৮৫১ জনে।
গত ১৫ মার্চ থেকে সারাদেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম সন্দেহে এক লাখ ৬২ হাজার ৪৮ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন এক লাখ ৫৫ হাজার ৬১২ জন।
জাতিসংঘ অধিবেশনের ফাঁকে চুক্তি স্বাক্ষরকালে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান এবং আজারবাইজানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেহুন বায়রামভ
কূটনৈতিক এবং অফিসিয়াল বা সরকারি পাসপোর্টধারীদের জন্য ভিসা অব্যাহতি সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ ও আজারবাইজান। নিউইয়র্ক স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে নতুন এই চুক্তি সই করেছে দুই দেশ।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান এবং আজারবাইজানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেহুন বায়রামভ কূটনৈতিক এবং অফিসিয়াল বা সরকারি পাসপোর্টধারীদের জন্য ভিসা অব্যাহতি সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষর করেছেন।
উল্লেখ্য, পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। মঙ্গলবার জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদ অধিবেশনের ফাঁকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গেও শুভেচ্ছা ও মতবিনিময় করেছেন তিনি।
অধিবেশনে আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর বক্তব্য রাখবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
পাসপোর্ট
সাম্প্রতিক সময়ে পাসপোর্ট হারানো, চুরি বা নষ্ট হওয়ার ঘটনায় পুনঃইস্যুর আবেদন বেড়েছে। এ পরিস্থিতি এড়াতে নতুন নির্দেশনা দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, প্রথমবার পাসপোর্ট হারানো, চুরি বা নষ্ট হলে নির্ধারিত ফি’র বাইরে কোনো জরিমানা দিতে হবে না। তবে একই ঘটনা দ্বিতীয়বার বা এরপর ঘটলে প্রতিবারই নির্ধারিত ফি’র সঙ্গে অতিরিক্ত ১০,০০০ টাকা জরিমানা দিতে হবে। এছাড়া নতুন নিয়মে পাসপোর্ট হারানো বা চুরি যাওয়ার পর পুনঃইস্যুর ক্ষেত্রে অনলাইনে রিপোর্ট করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বহিরাগমন-৪ শাখা থেকে এ বিষয়ে পরিপত্র জারি করা হয়। উপসচিব মোহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান স্বাক্ষরিত পরিপত্রে হারানো, চুরি বা নষ্ট পাসপোর্ট পুনঃইস্যুর বিভিন্ন ধাপ ও করণীয় উল্লেখ করা হয়েছে।
অনলাইনে রিপোর্ট ও থানায় জিডি
পরিপত্রে বলা হয়, পাসপোর্ট হারানো, চুরি বা বিনষ্ট হওয়ার বিষয়টি অনতিবিলম্বে বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের নির্ধারিত ওয়েবসাইট বা অনলাইনে রিপোর্ট করতে হবে। ওই রিপোর্টের ভিত্তিতে অধিদপ্তর পাসপোর্টের স্ট্যাটাস হালনাগাদ করবে।
এছাড়া নিকটস্থ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে হবে। সংশ্লিষ্ট থানা ৭২ ঘণ্টার মধ্যে জিডির সঠিকতা যাচাই করে প্রতিবেদন পাসপোর্ট অধিদপ্তর বা সংশ্লিষ্ট পাসপোর্ট অফিসে পাঠাবে।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন পাওয়া না গেলে জিডির কপি দিয়েই পাসপোর্ট পুনঃইস্যুর আবেদন করা যাবে। এরপর অধিদপ্তর ‘লস্ট সার্কুলার’ জারি করে পুনঃইস্যুর কার্যক্রম সম্পন্ন করবে।
জিডি যাচাইয়ের সময় যদি জানা যায়, ভিসা প্রক্রিয়ার জন্য কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা ট্রাভেল এজেন্সির কাছে পাসপোর্ট জমা দেওয়া হয়েছিল এবং সেটি অবৈধভাবে আটকে রাখা হয়েছে কিংবা দ্রুত ফেরত পাওয়ার সুযোগ নেই, তাহলে আগের পাসপোর্ট রিভোক করে নতুন পাসপোর্ট দেওয়ার ব্যবস্থা করা যাবে।
তথ্য হালনাগাদ করবে স্পেশাল ব্রাঞ্চ
হারানো বা চুরি হওয়া পাসপোর্টের তথ্য পাওয়ার পর স্পেশাল ব্রাঞ্চ তাদের ইমিগ্রেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে (আইএমএস) প্রয়োজনীয় তথ্য হালনাগাদ করবে। প্রয়োজন হলে ইন্টারপোলকেও বিষয়টি জানানো হবে। এরপর প্রচলিত বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিদেশে অবস্থানকালে পাসপোর্ট হারানো, চুরি বা নষ্ট হলে অনলাইনে রিপোর্ট করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ দূতাবাস, হাইকমিশন বা কনস্যুলেটকে জানাতে হবে। সংশ্লিষ্ট মিশন ‘লস্ট সার্কুলার’ জারি করে পুনঃইস্যুর ব্যবস্থা করবে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠাবে।
নতুন পাসপোর্ট ইস্যু করার পর এর ডেটাপেজে স্পষ্টভাবে ‘Previous Passport is Reported to be Lost’ উল্লেখ থাকবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ডাটাবেজে আগের পাসপোর্টের স্ট্যাটাস ‘Lost’ অথবা ‘Revoked’ হিসেবে হালনাগাদ করতে হবে।
পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য পরিবর্তনে বিধিনিষেধ
পাসপোর্ট পুনঃইস্যুর সময় আবেদনকারীর নাম, জন্মতারিখ, বাবার নাম ও মায়ের নাম পুরোপুরি পরিবর্তন করা যাবে না। তবে আইন ও বিধি অনুযায়ী অনুমোদিত সংশোধনের বিষয় আলাদাভাবে বিবেচনা করা যাবে।
আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত বা নষ্ট পাসপোর্টের শনাক্তযোগ্য অংশ আবেদনকারীর কাছে থাকলে সেটি জমা দিয়ে নতুন পাসপোর্ট নেওয়া যাবে। কিন্তু পাসপোর্ট পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেলে এবং পরিচয় শনাক্তের মতো কোনো অংশ দেখানো সম্ভব না হলে হারানো পাসপোর্টের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নিয়ম অনুসরণ করতে হবে।
পাওয়া গেলেও হারানো পাসপোর্ট ব্যবহার করা যাবে না
একবার বাতিল করা পাসপোর্ট পরবর্তী সময়ে উদ্ধার হলেও তা দিয়ে ভ্রমণ করা যাবে না। অবিলম্বে সেটি নিষ্ক্রিয় করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা থানায় জানাতে হবে।
এছাড়া অনলাইনে বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরকে বিষয়টি জানাতে হবে। বিদেশে থাকলে সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ মিশনকেও অবহিত করতে হবে। এরপর প্রয়োজন অনুযায়ী ডাটাবেজ ও ইমিগ্রেশন অ্যালার্ট হালনাগাদ করা হবে।
হারানো, চুরি বা নষ্ট পাসপোর্ট পুনঃইস্যু নিয়ে আগে জারি করা বিভিন্ন পরিপত্র, আদেশ ও নির্দেশনা সমন্বয় ও সংশোধন করে নতুন এই পরিপত্র জারি করা হয়েছে। এটি ২১ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হয়েছে।
মঙ্গলবার সকালে জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানদের সম্মানে প্রাতরাশের আয়োজন করেন
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন উপলক্ষে বিশ্বনেতাদের সম্মানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের দেওয়া নৈশভোজে অংশ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান। মঙ্গলবার স্থানীয় সময় রাতে নিউইয়র্কের লোটে নিউইয়র্ক প্যালেস হোটেলে এ নৈশভোজের আয়োজন করা হয়। এতে জাতিসংঘের সদস্যদেশগুলোর সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধান এবং তাদের সহধর্মিণীরা অংশ নেন।
এর আগে মঙ্গলবার সকালে জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানদের সম্মানে প্রাতরাশের আয়োজন করেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার সহধর্মিণী জুবাইদা রহমানও এতে অংশ নেন।
পাঁচ দিনের সফরে গত সোমবার বিকেলে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামীকাল বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে বাংলায় ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে তার।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের এটি প্রথম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ সফর। তার এ সফরকে ঘিরে নিউইয়র্কে প্রবাসী বাংলাদেশি এবং বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। একই সময়ে তার যুক্তরাষ্ট্র সফরের প্রতিবাদে জাতিসংঘ সদরদপ্তরের কাছে বিক্ষোভ করেছে আওয়ামী লীগ (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) ও এর ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতা-কর্মীরা।
সফরকালে জাতিসংঘের মহাসচিব, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং বৈশ্বিক ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর একাধিক বৈঠকের কথা রয়েছে। এসব বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, অর্থনীতি ও পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের নতুন গণতান্ত্রিক যাত্রা, অর্থনৈতিক স্থায়িত্ব, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরবেন বলে জানা গেছে।
তারেক রহমান একই পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দিতে যাচ্ছেন। এর আগে তার বাবা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া জাতিসংঘে ভাষণ দিয়েছেন।
সফরের দ্বিতীয় দিনে মঙ্গলবার কর্মসূচির শুরুতে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের দেওয়া প্রাতরাশে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। পরে বিশ্বনেতাদের সম্মানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের দেওয়া নৈশভোজেও প্রধানমন্ত্রী ও তার সহধর্মিণী অংশ নেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে নিউইয়র্ক থেকে দেশের উদ্দেশে রওনা হবেন।
ছবি : সংগৃহীত
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।
বর্তমানে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ড. খলিলুর রহমান তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানান।
আলাপচারিতার একটি ছবি শেয়ার করে পোস্টে তিনি লেখেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ব্যক্তিগত কুশল বিনিময়।’
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে মার্কিন প্রেসিডেন্টের দেওয়া ভাষণের পর সংক্ষিপ্তভাবে এ কুশল বিনিময় অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় ডোনাল্ড ট্রাম্প বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান।