রাজধানী থেকে সাবেক সংসদ সদস্য ও জাতীয় পার্টির নেতা শরিফুল ইসলাম জিন্নাহকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
আজ শুক্রবার (২৭ মার্চ) ভোর সাড়ে ৩টার দিকে রাজধানীর রমনা থানা এলাকা থেকে বগুড়া জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তাকে গ্রেপ্তার করে।
বগুড়া জেলা গোয়েন্দা শাখার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইকবাল বাহার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ বগুড়া-২ আসনের তিনবারের সাবেক সংসদ সদস্য এবং জাতীয় পার্টির বগুড়া জেলা কমিটির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান। তিনি বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার মহাস্থানগড় এলাকার মৃত আজিমদ্দিনের ছেলে।
ডিবির (ওসি) মো. ইকবাল বাহার জানান, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় দায়ের করা হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলায় তিনি পলাতক ছিলেন। বগুড়ার শিবগঞ্জ থানায় দায়ের করা একটি মামলায় দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারা এবং বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে।
তিনি আরও জানান, শরিফুল ইসলাম জিন্নাহর বিরুদ্ধে হত্যা ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলাসহ মোট ১০টি মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। তাকে সংশ্লিষ্ট মামলায় আদালতে সোপর্দ করা হবে।
ইসিবি চত্ত্বর গিনি প্রপার্টিজে সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুর
৩৫ কাঠা জমি উদ্ধার করে দিতে পারলে এর একটি অংশের মালিকানা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল শাহরিয়া মাহমুদকে। সেই প্রতিশ্রুতি পেয়ে রাজধানীর ইসিবি চত্বর এলাকার নিউগিনি প্রপার্টিজ নামে আবাসন প্রকল্পে হামলার দায়িত্ব নেন তিনি। হামলা ‘সফল’ করতে মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগের স্থানীয় নেতা শাহ আলম অনিকসহ কয়েকজনের মাধ্যমে ভাসানটেক ও পল্লবীর বস্তি থেকে নিম্নআয়ের মানুষ ভাড়া করা হয়। তারা শনিবার রাতে নিউগিনি আবাসন প্রকল্প এবং কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়।
হামলায় দেশীয় অস্ত্রের পাশাপাশি একাধিক আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। তদন্তসংশ্লিষ্ট ও এলাকা সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। এদিকে হামলা-লুটপাটের ঘটনায় সোমবার আরেকজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার মিজানুর রহমান এজাহারনামীয় ৯ নম্বর আসামি। এ নিয়ে মোট গ্রেপ্তারের সংখ্যা ৬। তাদের মধ্যে মুন্না, মামুন ও আসলামকে রোববার এবং সোমবার শাহরিয়া মাহমুদ ও শাহ আলম অনিককে আদালতে পাঠানো হয়। তাদের পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার জন্য আদালতে আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা ক্যান্টনমেন্ট থানার পরিদর্শক (অপারেশন) সুব্রত দেবনাথ।
আগামীকাল বুধবার রিমান্ড শুনানির তারিখ ধার্য করে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়। অন্য তিন আসামিরও বুধবার রিমান্ড শুনানির তারিখ ধার্য করা আছে। পাঁচ আসামিই রয়েছেন কারাগারে।
যে জমিটি নিয়ে বিরোধের কথা বলা হচ্ছে, সে বিষয়ে দুই ধরনের তথ্য পাওয়া গেছে। এক. মেজর জেনারেল (অব.) গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরীসহ কয়েজনের ৩৫ কাঠা জমি রয়েছে নিউগিনি প্রকল্পের ভেতরে। নিউগিনির ভেতরে তাদের জমি খালি পড়ে রয়েছে। এই জমিও এক প্রকার নিউগিনির দখলে। রাস্তা না থাকায় এই জমিতে যাওয়ার সুযোগ নেই। নিউগিনি প্রপার্টিজ গেট দিয়ে রেখেছে।
এই জমির অবস্থান প্রকল্পের শেষ মাথায়। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুপক্ষের বিরোধ চলছে। দুই. নিউগিনি প্রপার্টিজ কর্তৃপক্ষের দাবি, গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরীর ২৩ কাঠা জমি ছিল। এর মধ্যে ১৫ কাঠা কয়েক বছর আগে তিনি নিউগিনির কাছে বিক্রি করেন। বাকি আট কাঠা তাঁর রয়েছে। পাশে অন্যদের আরও ১২ কাঠা জমি আছে। এই জমির মালিকরাও মহিউদ্দিনের সঙ্গে হাত মিলেয়েছেন, কারণ তাদের জমিতেও যাওয়ার রাস্তা দিচ্ছে না নিউগিনি। বিক্রি করে দেওয়া ১৫ কাঠা জমি তিনি দখলে নিতে চান। জমির দখল ও রাস্তা নিয়ে বিরোধ তৈরি হয়।
তদন্ত সূত্র জানিয়েছে, গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরীর সঙ্গে মামলার এক নম্বর আসামি শাহরিয়া মাহমুদের পূর্বপরিচয় রয়েছে। সেই সূত্রে ওই জমি উদ্ধার এবং জমিতে যাওয়ার ফটক ভেঙে দেওয়ার দায়িত্ব নেন শাহরিয়া মাহমুদ।
পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী, শনিবার রাত সোয়া ১১টার দিকে দুই শতাধিক লোক নিউগিনি প্রপার্টিজের দুই পাশের দুই ফটক দিয়ে গুলি করতে করতে ভেতরে প্রবেশ করে। এর আগে দুটি ফটকসংলগ্ন (বাইরের অংশে) দুটি টিনের স্থাপনায় হামলা ও লুটপাট করা হয়। চার নম্বর ফটক দিয়ে ঢুকে কিছুক্ষণ সামনে যাওয়ার পরই বাম পাশে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও এবং আবাসন প্রকল্পের অফিস। স্টুডিও এবং প্রকল্পের অফিসে ঢুকে ভাঙচুর ও লুটপাট শুরু করা হয়। আরও কয়েকটি নির্মাণাধীন ভবনে হামলা এবং নির্মাণশ্রমিকদের মারধর করে মোবাইল ফোন ও টাকা লুট করা হয়। স্টুডিওটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
এ ঘটনায় রোববার নিউগিনি প্রপার্টিজের পরিচালক সাইফুল ইসলাম ভুইয়া বাদী হয়ে গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরীসহ ১৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ২০০ জনের বিরুদ্ধে ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলা করেন। শাহরিয়াকে মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে এক নম্বর আসামি করা হয়। অপর আসামিদের মধ্যে আবুল কাশেম ক্যান্টনমেন্ট থানা জামায়াতে ইসলামীর রোকন। এ ছাড়া বাবুল হোসেন ও মোহাম্মদ শাহিনুজ্জামান স্থানীয় আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। এ মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া মামুন ও মুন্না ভাসানটেক বস্তির বাসিন্দা এবং আসলাম অটোরিকশাচালক।
ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসি গিয়াস উদ্দিন বলেন, আসামি শাহরিয়া মাহমুদ ও শাহ আলম অনিককে সোমবার আদালতে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়। আদালত আগামীকাল বুধবার রিমান্ড শুনানির দিন ধার্য করেন।
ছবি : সংগৃহীত
রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় হামলাকারীদের জড়ো করা, দেশীয় অস্ত্র-সরঞ্জাম সরবরাহ ও এক্সক্যাভেটর (খননযন্ত্র) জোগাড়ের সঙ্গে জড়িত মূল ব্যক্তিরা এখনও দৃশ্যমান তদন্তের বাইরে। স্থানীয় বিএনপি এবং যুব ও ছাত্রদলের কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। তারা সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিসহ দুটি প্রভাবশালী গ্রুপের অনুসারী বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
হামলার আগে ছাত্রদলের সাবেক এক নেতার কার্যালয়ের সামনেসহ ঘটনাস্থলের আশপাশে হামলাকারীরা জড়ো হয়। তবে এ ঘটনায় করা মামলায় তাদের নাম নেই। ঘটনার চার দিন পেরিয়ে গেলেও মূল অভিযুক্ত হানিফ মিয়াসহ বাকিদের কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। তবে হামলার সময়ে একটি সাদা রঙের মাইক্রোবাস ও পাহারায় থাকা সরকারদলীয় স্থানীয় বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীকে দেখা গেছে। সিসি ক্যামেরা ফুটেজে এমন নতুন নতুন তথ্য সামনে আসছে।
সোমবার গিয়ে দেখা যায়, রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে ভাঙা ভবনের ভেতরে টিকাদান কর্মসূচি চলছে। সেন্টারের ভেতরে ভাঙা ইট ও পড়ে থাকা জিনিসপত্র সরিয়ে পরিষ্কার করা হয়েছে। একটি কক্ষে টিকাদান কার্যক্রম চলছে। বাকি কয়েকটি কক্ষে টেবিল-চেয়ার বসানো হয়েছে। পেছনের অংশে এক্সক্যাভেটর দিয়ে পড়ে থাকা ভাঙা ইট ও গাছ সরানো হচ্ছে। কর্মীরা ভাঙা ভবনের একটি কক্ষে ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুকে হামের টিকাসহ নিয়মিত টিকা দিচ্ছেন।
ছয় মাস বয়সী মেয়েকে নিয়ে আসা রেশমা বলেন, ‘মেয়েকে টিকা দিতে নিয়ে এসেছি। বাসার আশপাশের সবাই এখান থেকে টিকা নেয়। মেয়েকে প্রথম টিকা দিতে নিয়ে এলাম।’
নাতনিকে নিয়ে আসা লিলি বেগম বলেন, ‘আমার ছেলেমেয়েকে এই সেন্টার থেকে টিকা নিয়েছি। নাতনিকেও আগে এখান থেকে টিকা দেওয়ানো হয়েছে। আজকে আবার নিয়ে এলাম।’
রাড্ডার কর্মকর্তারা জানান, গত রোববার যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের নির্দেশের পর রাতেই সামনের গেট সরিয়ে ফেলা হয়। গতকাল সোমবার সকাল সাড়ে ৬টার পর সেন্টারের সামনের অংশে ও সেন্টারের ভেতরে পড়ে থাকা ইট সরিয়ে দেওয়া হয়। পরে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে টিকাদান ও স্বাস্থ্যসেবা চালু করেন তারা। গতকাল মোট ৬৭ জন সেন্টারটিতে সেবা নিতে আসে।
রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক ডা. নাসরিন আকতার বলেন, ‘প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশের পর আজ (গতকাল) সেন্টারের গেট খুলে দেওয়া হয়েছে। ভেতরে ভাঙচুর করা জিনিসপত্র সরিয়ে দেওয়ায় সীমিত আকারে আমাদের সেন্টারে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া শুরু হয়েছে।’
তিনি বলেন, যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং যারা এর সঙ্গে জড়িত, তাদের সবাইকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হোক।
এদিকে সকাল থেকে রাড্ডা সেন্টার পরিদর্শনে আসেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা। এ সময় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসার দাবি জানান তারা। এ ছাড়া বিভিন্ন সংগঠনের ব্যানারে মানববন্ধন করতে দেখা গেছে। বিভিন্ন সংগঠন রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে।
জড়িত অনেকে স্থানীয় বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত
কয়েকশ লোক বিভিন্ন সরঞ্জাম নিয়ে গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে কয়েক ঘণ্টা ধরে তাণ্ডব চালায় স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে। দুই নিরাপত্তাকর্মীকে জিম্মি করে চিকিৎসা সরঞ্জাম, ওষুধ, টিকাসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র লুট করে। এক্সক্যাভেটর বা ভেকু দিয়ে একটি পাকা ও তিনটি আধা পাকা ভবনসহ স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়। এরপর সেখানে ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’ নামে দুটি সাইনবোর্ড ও দুটি ব্যানার টাঙিয়ে দেয় হামলাকারীরা। এই সমিতির সদস্য সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি বিএনপি নেতা ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক সদস্য মো. হানিফ মিয়া, ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সাবেক সদস্য সচিব মোস্তফা জগলুল পাশা পাপেলসহ স্থানীয় কতিপয় প্রভাবশালী ব্যক্তি। তারা ফেরদৌসী আহমেদ (মিষ্টি) এমপি ও স্থানীয় বিএনপির প্রভাবশালীদের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। তবে ঘটনার পরদিনই ফেরদৌসী আহমেদ (মিষ্টি) জানিয়েছিলেন, তিনি হামলার বিষয়ে কিছু জানেন না।
স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে হামলার আগে জড়িতদের অনেকে শাহ আলী থানা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ ওরফে লেলিনের কার্যালয়ের সামনে জড়ো হন। পরে সেখান থেকে তারা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা করতে যান।
একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, বৃহস্পতিবার রাত ১২টা ৫ মিনিটের দিকে শাহ আলী থানার পাশেই বি-ব্লক মাঠসংলগ্ন লেলিনের কার্যালয়ের সামনে লোকজন জড়ো হয়। পরে সেখান থেকে তারা হামলায় অংশ নেয়। গতকাল সোমবার বিকেলে গিয়ে কার্যালয়টি বন্ধ পাওয়া যায়।
আশপাশের কয়েকজন দোকানির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দোতলা ভবনটিতে লেলিন তাঁর অনুসারীদের নিয়ে বসতেন। কার্যালয়টি খোলাই থাকে। তবে সোমবার সকাল থেকে সেটি বন্ধ ছিল।
এ ছাড়া স্বাস্থ্যকেন্দ্রসংলগ্ন ফেয়ার প্লাজার বিপরীতে আন-নূরী জামে মসজিদের উত্তর পাশের ৬/৬ নম্বর সড়কের একটি ফুটেজে ঘটনার সময় একটি সাদা মাইক্রোবাস ঘুরতে দেখা যায়। সে সময় স্থানীয় শাহ আলী থানা শ্রমিক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ইব্রাহিমসহ হাতে লাঠি নিয়ে কয়েকজনকে অবস্থান করতে দেখা যায়। এই সড়কের পেছনেই ৫ নম্বর সড়কে এজাহারভুক্ত আসামি ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক সদস্য মো. হানিফ মিয়ার কার্যালয়। সোমবার বিকেলে গিয়ে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
আশপাশের দোকানিরা জানান, আগে রাত ১০টা পর্যন্ত কার্যালয়টি খোলা থাকত। কিন্তু তিন দিন ধরে বন্ধ রয়েছে। আরেক ফুটেজে শাহ আলী থানা শ্রমিক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক এক নেতাকে বেশ কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে যেতে দেখা যায়।
স্থানীয় লোকজন ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, হামলা ও ভাঙচুরের সময় মো. হানিফ মিয়া, আবুল কালাম আজাদ ওরফে লেলিন এবং ঢাকা মহানগর যুবদলের সাবেক সদস্য সচিব মোস্তফা জগলুল পাশা ওরফে পাপেলসহ আরও কয়েকজন একটি সাদা মাইক্রোবাসে ঘটনাস্থলের আশপাশে ঘুরে নির্দেশনা দেন। হামলাকারীরা ছিন্নমূল মার্কেটের কাছাকাছি এসে লাঠিসোটা, রামদা, হাতুড়িসহ দেশীয় অস্ত্র সংগ্রহ করেন। স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যাওয়ার আগে তারা মাথায় কাপড় বাঁধেন এবং মুখোশ পরেন। আর স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ভবন ভাঙার কাজে ব্যবহৃত এক্সক্যাভেটরটি মিরপুর বেড়িবাঁধ এলাকা থেকে নিয়ে আসা হয়। দোকান ভাঙার কথা বলে আনা হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়।
আরও দুজন গ্রেপ্তার
রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় গত রোববার রাতে কেরানীগঞ্জের গুদারাঘাট থেকে আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে শাহ আলী থানা পুলিশ। তারা হলেন মো. মিন্টু ও মো. মিলন। তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা ওই দিন রাতে ভাঙচুরে অংশ নিয়েছিলেন। ভাঙচুর শেষে তারা জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যান। দুজনের মধ্যে মিন্টুর কাছ থেকে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের টিনসহ কিছু জিনিস উদ্ধার করা হয়েছে। আর মিলনের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে স্টিলের দরজা।
এ দুজনসহ এ ঘটনায় মোট ১২ জন গ্রেপ্তার হলেন। এর আগে গ্রেপ্তার ১০ জনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে লুট হওয়া আসবাব, টিকা, নথি, ফ্রিজ, প্রিন্টার, জেনারেটরসহ বিভিন্ন ধরনের মালপত্র এবং দুটি কাভার্ডভ্যান উদ্ধার করা হয়েছে।
সোমবার দুপুরে রাড্ডার নির্বাহী পরিচালকসহ প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তাদের শাহ আলী থানায় ডাকে পুলিশ। পরে তাদের উদ্ধার করা মালপত্র বুঝে নেওয়ার জন্য আদালতের মাধ্যমে আবেদন করতে বলা হয় বলে জানিয়েছেন নির্বাহী পরিচালক ডা. নাসরিন আকতার।
ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে ডিএমপির মিরপুর বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার সালেহ্ মুহম্মদ জাকারিয়া বলেন, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় জড়িত সবাইকে গ্রেপ্তার করা হবে।
এদিকে সোমবার ঘটনাস্থলে ঢাকা মহানগর যুবদলের সদস্য সচিব সাজ্জাদুল মিরাজ সাংবাদিকদের বলেন, রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলার সময় আমি পুলিশ ও মিরপুর বিভাগের ডিসিকে ফোন করে বিষয়টি জানাই। তাঁর দাবি, কয়েকশ মানুষ ভাঙচুর চালালেও পুলিশ শুরুতে ঘটনাটি ছোট করে দেখেছিল। পরে শাহ আলী থানার ওসির সঙ্গে যোগাযোগের কথাও জানান তিনি। মিরাজ আরও অভিযোগ করেন, ঘটনাস্থলে ওসির গাড়ি থাকা অবস্থাতেই লুটের মালপত্র ট্রাকে তোলা হচ্ছিল। তিনি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
স্বাস্থ্যকেন্দ্র ধ্বংসে নিন্দা ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি আসকের
মিরপুর-১-এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, লুটপাট ও ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও উদ্বেগ জানিয়েছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)। সংগঠনটি বলেছে, পাঁচ দশক ধরে নিম্ন আয়ের মানুষ, বিশেষ করে নারী ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে আসা প্রতিষ্ঠানটি ধ্বংসের ফলে সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা মারাত্মক ব্যাহত হয়েছে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের উল্লেখ করে আসক বলেছে, ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে ২০০-২৫০ জন নিরাপত্তাকর্মীদের জিম্মি করে লুটপাট ও ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। ঘটনাস্থল থানার কাছে হওয়ায় এবং পুলিশকে খবর দেওয়ার পরও কেন তা ঠেকানো যায়নি, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সংগঠনটি। হামলাকারীদের পাশাপাশি পরিকল্পনাকারী, নির্দেশদাতা ও পৃষ্ঠপোষকদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে আসক। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা স্বাধীনভাবে তদন্ত, দায়ীদের জবাবদিহি এবং দ্রুত স্বাস্থ্যসেবা পুনঃস্থাপনের আহ্বান জানিয়েছে তারা।
রাড্ডাকে ৫০ লাখ টাকা অনুদান দেওয়ার আশ্বাস জামায়াতের
হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটে ক্ষতিগ্রস্ত রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারকে ৫০ লাখ টাকা অনুদান দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। সোমবার বিকেলে ক্ষতিগ্রস্ত স্বাস্থ্যকেন্দ্র পরিদর্শন শেষে তিনি এ ঘোষণা দেন।
এ সময় শফিকুর রহমান বলেন, ‘আর কোনো দুর্বৃত্ত যেন দেশের কোথাও কোনো অপকর্ম করতে না পারে, সে ব্যাপারে সরকারকে এখনই উদ্যোগ নিতে হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। সরকারি দলের আশ্রয়-প্রশ্রয়েই দেশজুড়ে মব সন্ত্রাস চলছে।’
তিনি বলেন, সরকারি দলের আশ্রয়-প্রশ্রয় ছাড়া রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার ভাঙার সাহস কেউ করতে পারে না।
পুলিশের সামনে কোটি টাকার সরঞ্জাম লুটের অভিযোগ ব্যারিস্টার ফুয়াদের
রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার থেকে কোটি কোটি টাকার যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম লুটের অভিযোগ করেছেন এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ। সোমবার হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে তিনি বলেন, পুলিশের গাড়ির সামনেই ফার্নিচার ও ইকুইপমেন্ট ট্রাকে তোলা হয়েছে, যার প্রমাণ সিসিটিভিতে রয়েছে। ঘটনায় রাজনৈতিক দুর্বৃত্তপনার পাশাপাশি প্রশাসনের সম্পৃক্ততারও ইঙ্গিত রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। ফুয়াদ হাসপাতালের কর্মীদের নিরাপত্তা, খাসজমি স্থায়ীভাবে বরাদ্দ ও ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ
রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাকিবুল হাসানের সঙ্গে কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। আজ রোববার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।
সম্প্রতি ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন থানার ওসি বদলি, বিশেষ করে শাহ আলী থানার ওসি প্রত্যাহারের প্রসঙ্গ তুলে সাংবাদিকরা জানতে চান, শুধু বদলি করাই কি সমস্যার সমাধান?
প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘না, বদলি প্রশাসনিক কারণে হয়, কোনো বিষয়ে কর্তব্য অবহেলার কারণে হয় অথবা কোনো কিছুর সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে সে জন্য হয়। কিন্তু বদলিটা লাস্ট (শেষ) নয়, বদলির পরে তাদের বিরুদ্ধে ডিপার্টমেন্টাল প্রসিডিং (বিভাগীয় ব্যবস্থা) হচ্ছে।’
ক্যান্টনমেন্ট থানার সাবেক ওসির ভাইরাল হওয়া ঘটনাটি সম্পর্কে তিনি বলেন, কয়েকটি সংস্থার মাধ্যমে বিস্তারিত তদন্ত ও ফরেনসিক পরীক্ষা শেষে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে এবং বিভাগীয় কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন। এছাড়া তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মতো গুরুতর ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগে মামলা করা হয়েছে এবং তাকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে।
ওই সাবেক ওসির সঙ্গে আওয়ামী লীগের কোনো সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে কি না জানতে চাইলে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে।
এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি অডিওকে কেন্দ্র করে আলোচনায় আসেন ক্যান্টনমেন্ট থানার তৎকালীন ওসি মো. রাকিবুল হাসান।
অডিও বক্তব্যে রাকিবুল হাসানকে পুলিশের বর্তমান পরিস্থিতি, কর্মকর্তাদের পদায়ন ও অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে কথা বলতে শোনা যায়। তিনি পুলিশের পদায়ন ও নেতৃত্ব নিয়ে অসন্তোষের কথা তুলে ধরেন।
তিনি দাবি করেন, পুলিশের ঊর্ধ্বতন পর্যায়ের অনেক কর্মকর্তা বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন, অথচ মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যরা তা করছেন না। ওসি পদায়নে অর্থ লেনদেন, প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মাধ্যমে পোস্টিং এবং যোগ্য কর্মকর্তাদের বঞ্চিত করে অযোগ্যদের গুরুত্বপূর্ণ পদে দেওয়ার অভিযোগও তোলেন তিনি।
একইসঙ্গে শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তাকে ঠেকানোর সক্ষমতা পুলিশের নেই বলেও মন্তব্য করেন রাকিবুল। অডিওটি নিয়ে তদন্তের পর রাকিবুলকে ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসির পদ থেকে প্রত্যাহার করা হয়। পরে তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা করা হয় এবং গত ২৪ সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়।
শুনানি শেষে আদালত তাকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দেন। পরে মামলাটির তদন্তভার ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগকে (ডিবি) দেওয়া হয়।
ছবি : সংগৃহীত
রাজধানীর মিরপুর-১-এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনার দুই দিন পর ‘প্রশাসনিক কারণ’ দেখিয়ে রাজধানীর শাহ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলমকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
প্রত্যাহারের পর শনিবার মধ্যরাতে দায়িত্ব হস্তান্তর করে থানা ত্যাগ করেন তিনি। ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) হেডকোয়ার্টারের পুলিশ কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমেদের সই করা কার্যালয় আদেশে তাকে প্রত্যাহারের তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
ডিএমপির জারি করা ওই অফিস আদেশে জাহাঙ্গীর আলমকে কেন্দ্রীয় সংরক্ষণ দপ্তরে সংযুক্ত করার কারণ হিসেবে ‘প্রশাসনিক কারণ’ উল্লেখ করা হলেও এর বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেয়া হয়নি।
মিরপুর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার বলেন, শাহ আলী থানার ওসিকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। শনিবার রাতে দায়িত্ব হস্তান্তর করেছেন তিনি।
ঘটনাস্থলের মাত্র এক কিলোমিটারের মধ্যে শাহ আলী থানা অবস্থিত। সেখানে পুলিশের উপস্থিতিতে ভাঙচুর চালানো হয়েছে- এমন অভিযোগের বিষয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, খবর পাওয়ার পর পুলিশ সময়মতো ঘটনাস্থলে পৌঁছেছিল কিনা এবং কারও কোনো অবহেলা বা গাফিলতি ছিল কিনা, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
গণমাধ্যমে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনায় আসার পর গতকাল বিকেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ ও ডিএমপির মিরপুর বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এই ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের ছাড় দেওয়া হবে না।
রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িত এখন পর্যন্ত ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার গ্রেপ্তার হওয়া চারজনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে লুট হওয়া মালপত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
ছবি : সংগৃহীত
রাজধানীর সায়েন্সল্যাব এলাকায় ঢাকা কলেজ ও আইডিয়াল কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আইডিয়াল কলেজের সামনে এই ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার সূত্রপাত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সায়েন্সল্যাব মোড়ে জলকামানসহ বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এই সংঘর্ষের জেরে ওই এলাকার বিভিন্ন সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, রোববার বেলা ১১টার দিকে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির নতুন উপাচার্য (ভিসি) নিয়োগের প্রতিবাদে ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে জড়ো হতে থাকেন। পরে তারা একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে সায়েন্সল্যাব মোড়ে অবস্থান নেন। দুপুর ১২টার দিকে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির শতাধিক শিক্ষার্থীও সেখানে এসে যোগ দিলে সংলগ্ন আইডিয়াল কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে দুই কলেজের শিক্ষার্থীরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিউমার্কেট, কলাবাগান ও ধানমন্ডি থানার প্রায় ৬০ জন পুলিশ সদস্য সায়েন্সল্যাব মোড় ও এর আশপাশের বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নিয়েছেন। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সেখানে প্রস্তুত রাখা হয়েছে জলকামান।
নিউমার্কেট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আইয়ুব ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, দুই কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার পর পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
তিনি বলেন, ‘উভয় কলেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা বর্তমানে নিজ নিজ ক্যাম্পাসের ভেতরে অবস্থান করছে। বাইরে থেকে কেউ যাতে উসকানি বা ঢিল ছুড়তে না পারে, সে জন্য পুলিশ অত্যন্ত সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।’
রাজধানীর আদাবরের বাড়িটির জানালার কাচ ভাঙচুর করেছে দুর্বৃত্তরা
গতকাল শনিবার সকাল সাড়ে ৬টা। রামদা, চাপাতি, পিস্তলসহ ১৫-২০ জনের একটি দল হামলা চালায় রাজধানীর আদাবরের বাড়িটিতে। অভিযোগ, শ্যামলী হাউজিংয়ের আটতলা বাড়িটি দখল করার চেষ্টা চলছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, “দলবল নিয়ে এসে দুর্বৃত্তরা প্রথমে বলে, টাকা দে। বাসায় থাকিস, টাকা দিবি না?”
‘এই কথা বলতে বলতে বাসার মূল ফটকে কোপানো শুরু করে। জানালার কাচ ভাঙচুর করে। বাসার গেট খুলে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করেছে। তবে খুলতে না পারায় ভাঙচুর করে পালিয়ে যায়।’
গতকালের এই ঘটনা ঘটেছে আটতলা একটি বাড়িতে। বাড়িটির মালিক আমিনুর রহমান একজন ব্যবসায়ী। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরেও একবার বাড়িটি দখল করা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন আমিনুর রহমানের ভাতিজা মনির হোসেন।
গতকালের ঘটনার বর্ণনা দিয়ে মনির হোসেন বলেন, সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ১৫-২০ জন লোক তাঁদের বাড়িটির সামনে আসেন। কিছুক্ষণ বাড়িটি পর্যবেক্ষণ করেন। পরে চারজন মূল ফটকের সামনে আসেন। তাঁদের মধ্যে দুজনের হাতে চাপাতি, একজনের হাতে রামদা ছিল। ফটকের একটু দূরে পিস্তল হাতে একজন দাঁড়িয়ে ছিলেন। তিনিই এই হামলার নির্দেশনা দিচ্ছিলেন।
মনির হোসেন দাবি করেন, ‘প্রথমে এসেই তাঁরা বাড়ির মূল ফটকের গেট খুলতে বলেন। সবাইকে বের হয়ে যেতে বলেন। কিন্তু বের না হওয়ায় বাইরে থেকে বলা শুরু করেন, “টাকা দে! বাড়িতে থাকিস, টাকা দিস না। বের হ।” এই কথা বলতে বলতে চাপাতি, রামদা দিয়ে গেটে এলোপাতাড়ি কোপানো শুরু করে। গেটের সামনে থাকা সিসিটিভি (ক্লোজ সার্কিট) ক্যামেরা, জানালার কাচ ভাঙচুর করে। ইটের টুকরা দিয়ে দুইতলার আরও দুটি জানালার কাচ ভেঙে ফেলে। বাড়ির ভেতরে ঢুকতে না পেরে পাঁচ মিনিটের মধ্যে ভাঙচুর করে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।’
মনির হোসেনের অভিযোগ, ভাঙচুর চলাকালে তিনি জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এর মাধ্যমে পুলিশকে খবর দেন। অথচ পুলিশ প্রায় তিন ঘণ্টা পরে পৌনে ১০টার দিকে এসে পৌঁছায়। পুলিশ ঠিক সময়ে এলে দুর্বৃত্তদের ধরা সম্ভব হতো।
পরে এ ঘটনায় আদাবর থানায় একটি অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলে জানান মনির হোসেন। তবে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, তাঁরা জানেন না।
মনির হোসেন বলেন, ‘আমরা ভয়ের মধ্যে আছি। ভয়ে বাসা থেকে বের হতে পারছি না। আবার কখন কী হয়, বুঝতে পারছি না। এভাবে তো চলা যায় না। আমাদের সাহায্য করুন।’
আদাবর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল ইসলাম বলেন, ঘটনার পর পুলিশ বাড়িটি পরিদর্শন করেছে। তারা তদন্ত করে দেখছে। কোনো অগ্রগতি আছে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, খোঁজ নিয়ে দেখবেন।
আগেও দখল হয়েছিল বাড়িটি
মনির হোসেন দাবি করেন, ২০২৪ সালের ১৭ আগস্ট খোরশেদ আলম নামে এক ব্যক্তি বাড়িটি দখল করে নেন। পরে আদাবর থানায় একটি অভিযোগ দেওয়ার পরও কোনো সুরাহা হয়নি। একপর্যায়ে আদালতে মামলা করেন। আদালত আদাবর থানাকে তদন্ত করতে বলেন। পরবর্তী সময়ে এই মামলা পিবিআই তদন্ত করে। গত ১২ মার্চ বাড়িটি দখল ফেরত পান তাঁরা।
মনির হোসেন আরও বলেন, পিবিআই প্রায় চার মাস তদন্ত করে একটি অভিযোগপত্র দিয়েছেন। কিন্তু অভিযোগপত্রে কী আছে তাঁরা জানেন না। এর মধ্যে আবার হামলা চালানো হলো। তাঁরা এখন কী করবেন, কার কাছে সাহায্য চাইবেন, বুঝতে পারছেন না।