ঢাকা শহরের যানজট নিরসনে রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে ১১ দফা প্রস্তাব তুলে ধরে ঢাকা যানজট নিরসন কমিটি

  • প্রকাশ : রবিবার ১২ এপ্রিল, ২০২৬, সময় : ১০:৩৯ এএম

ঢাকা শহরে যারা বসবাস করেন তাদের কাছেই খুবই পরিচিত বিষয়গুলোর মধ্যে অন্যতম হলো যানজট। তবে এবার যানজট নিরসনে ১১টি প্রস্তাবনা তুলে ধরেছে ঢাকা যানজট নিরসন কমিটি নামের একটি বেসরকারি সংগঠন। রোববার (১২ এপ্রিল) জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব প্রস্তাবনা বিষয়ে আলোচনা করা হয়। 


সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা যানজট নিরসন কমিটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা, সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। প্রস্তাবনাগুলো তুলে ধরেন ঢাকা যানজট নিরসন কমিটির সভাপতি ইছহাক দুলাল।


তিনি বলেন, ইউনাইটেড নেশনস ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে ২৩০-২৫০ মিলিয়নে পৌঁছবে এবং এ জনসংখ্যা বৃদ্ধির একটি বড় অংশ ঘটবে শহরাঞ্চলে। এখনই যানজট হ্রাসে উদ্যোগ গ্রহণ করা না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। ঢাকায় ২০০৭-২০০৮ সালে গাড়ির গড় গতিবেগ ছিল ২১ কি.মি. যা বর্তমানে ৪.৫ হতে ৭ কি.মি. প্রতি ঘণ্টায়। 


সিপিডির এক জরিপ বলছে, ঢাকার যাত্রীদের প্রতি দুই ঘণ্টায় ৪৬ মিনিট যানজটে আটকে থাকতে হয়, যা বছরে জনপ্রতি প্রায় ২৭৬ ঘণ্টার সমান। এই অচলাবস্থার কারণে প্রতিদিন নষ্ট হচ্ছে বিপুল পরিমাণ কর্মঘণ্টা, যার আর্থিক ক্ষতি বছরে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে। 


আমরা ইতোপূর্বে ২০১০ সালে ও ২০২৪ সালে এ বিষয়ে বিভিন্ন পর্যালোচনামূলক গবেষণা করে নিম্নোক্ত প্রস্তাবগুলো তুলে ধরেছি। যার কিছু ইতোমধ্যেই বাস্তবায়নের পর্যায়ে আছে এবং বাকিগুলোর বাস্তবতা উপলব্ধি করে সরকারের কাছে তুলে ধরার জন্য দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।


যানজট নিরসন কমিটির ১১টি প্রস্তাবনার মধ্যে রয়েছে—


১. খাল সংস্কার: ঢাকা শহরের চারদিকে যে খাল আছে সেগুলো সংস্কার করে স্পিডবোট, ওয়াটার বাস, ছোট ছোট লঞ্চ চালু করা।


২. ট্রাম রোড: ঢাকা শহরের চারপাশে নদী ঘেঁষে একটি ট্রাম রোড (মিনি রেলপথ) স্থাপন করা।


৩. রিং রোড: মিনি রেলপথ ঘেঁষে একটি রিং রোড তৈরি করা।


৪. বাস স্ট্যান্ড স্থানান্তর: সায়দাবাদ বাস স্ট্যান্ডকে কাঁচপুরে স্থানান্তর করা। মহাখালী বাস স্ট্যান্ডকে টঙ্গীতে স্থানান্তর করা, বাবুবাজার বাস স্ট্যান্ড বর্তমানে পরিচিত কেরানীগঞ্জে স্থানান্তর করা। গাবতলী বাস স্ট্যান্ড গাবতলীতে থাকবে।


৫. কমলাপুর থেকে বাইপাস বেসলাইন টঙ্গীর সঙ্গে সংযুক্ত অথবা উড়াল সেতু নির্মাণ করা: কমলাপুর থেকে বাইপাস রেললাইন টঙ্গীর সঙ্গে সংযুক্ত অথবা উড়াল সেতু নির্মাণ করলে ঢাকা শহরের অভ্যন্তরীণ মানভট নিরসনে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হতে পারে।


৬. জেল ও আদালত ভবন একই স্থানে স্থাপনের প্রস্তাব: ঢাকা শহরকে দুইটি জোনে ভাগ করে- জোন এক, কেরানীগঞ্জ জেলখানার পাশে আদালত ভবন স্বাদন করা। জোন দুই, কাশিমপুর জেলখানার পাশে আদালত ভবন স্থাপন করা।


৭. ঢাকার চারদিকে ১০০ কি. মি. ট্রেন চালু করা: ঢাকা শহর থেকে যানজট ও মানুষের চাপ কমানোর জন্য ঢাকার নিকটবর্তী জেলা শহরগুলোর সঙ্গে নিরবিচ্ছিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপন করা।


৮. ফুটপাত দখল মুক্ত করার প্রস্তাব : ফুটপাত দখল মুক্ত করে হকার পুনর্বাসন করা। যেমন ফুটপাত জনগণের সম্পদ। আর হকারদের ফুটপাতে না বসিয়ে হলিডে মার্কেট চালু করা। ফুটপাতে জনগণ চলাফেরা করবে। ঢাকাকে সাতটি জোনে ভাগ করে যেদিন যে এলাকায় মার্কেট বন্ধ থাকবে সেদিন সে স্থানে হলিডে মার্কেট ওই এলাকার উন্মুক্ত স্থানে করার ব্যবস্থা করা।


৯. ট্রাফিক ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো: ট্রাফিকের এসআই থেকে সহকারী কমিশনার পর্যান্ত ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করা এবং কনস্টেবলদের এসআই এই ট্রেনিং করাবে। প্রয়োজনে বুয়েটের মাধ্যমে সহযোগিতা নেওয়া। গাড়ির ড্রাইভার, সিএনজি ড্রাইভার, রিকশার ড্রাইভার ও বাইক চালকদের অন্তত মাসে একবার ট্রাফিক দিক নির্দেশনামূলক ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করা। রাস্তায় কে কোন লাইনে গাড়ি চালাবে এই বিষয়ে সচেতন করা।


১০. নগর পরিবহন চালু করা: ঢাকা ২ সিটি কর্পোরেশনের মাধ্যমে নগর পরিবহন চালু করা। এক, নন এসি গাড়ি, দুই, এসি গাড়ি। নন এসি গাড়ি ভাড়া ৫ টাকা থেকে ২০ টাকা অর্থাৎ ভর্তুকি দেওয়া আর এসি গাড়ি থেকে যে পরিমাণ লাভ আসবে তা নগর পরিবহন চালু করলে প্রতিযোগিতা হবে না, এতে করে মানুষ নাগরিক সুবিধা অধিকার ভোগ উন্নতি হবে।


১১. জাতীয় স্বার্থে গাড়িতে গ্যাস দেওয়া বন্ধ করা: গ্যাসকে সংযোজন করে উৎপাদন বাড়বে এবং সিএনজি ছাড়া অন্য কোনো গাড়িতে যেন গ্যাস না দেওয়া হয়। গাড়িতে গ্যাস না দিয়ে যে সব রপ্তানিমুখী শিল্প ফ্যাক্টরিতে গ্যাসের অভাবে উৎপাদনের বিঘ্ন ঘটেছে সে সব ফ্যাক্টরিগুলোতে এই অতিরিক্ত উৎপাদন সচল করে সম্প্রসারণ করা। এতে করে আমাদের শিল্প ফ্যাক্টরিগুলো বেঁচে যাবে, আমাদের রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়ে যাবে। দেশ ও জাতির উন্নতি হবে।













  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১২:৫০ এএম

রাজধানীর সদরঘাটে লঞ্চে প্রবেশকে কেন্দ্র করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) কয়েক শিক্ষার্থীর সঙ্গে ‘প্রিন্স আওলাদ’ লঞ্চের কর্মীদের কথা-কাটাকাটি, মারধর ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে।


পরে বিষয়টি মীমাংসার নামে লঞ্চ মালিক সমিতির কাছে জবি ছাত্রদলের সদস্য সচিব শামছুল আরেফিনের কিছু কর্মীসহ ছাত্রদলের কয়েকজন ৪০ হাজার টাকা দাবি করে বলে অভিযোগ উঠেছে এবং শেষ পর্যন্ত ২০ হাজার টাকায় বিষয়টি মীমাংসা করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। 


সোমবার (৫ অক্টোবর) বিকেল ৫টার দিকে সদরঘাটের ৪ নম্বর টার্মিনালে ‘প্রিন্স আওলাদ’ লঞ্চে এ ঘটনা ঘটে।


প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয় দিয়ে দুই শিক্ষার্থী ‘প্রিন্স আওলাদ’ লঞ্চে প্রবেশের চেষ্টা করেন। সন্ধ্যার দিকে লঞ্চে প্রবেশের সময় কর্মীরা তাদের বাধা দিলে এ নিয়ে বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে ওই দুই শিক্ষার্থী একজন লঞ্চকর্মীকে মারধর করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।


পরে ঘটনাস্থলে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী উপস্থিত হন। তাদের মধ্যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সৈকত, কাব্য, ইমন, আসিফ ও আলিমুল; ইতিহাস বিভাগের ১৮ ব্যাচের সাইদ ও নাইম; থিয়েটার বিভাগের ১৮ ব্যাচের নাইম; আইইআর বিভাগের ১৮ ব্যাচের তাজ এবং আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের (আইএমএল) ১৮ ব্যাচের বহিষ্কৃত ছাত্রদল কর্মী শের আলী উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।


জানা যায়, সৈকত, কাব্য, ইমন, আসিফ ও আলিমুল জবি শাখা ছাত্রদলের সদস্যসচিব শামছুল আরেফিনের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। পরে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে লঞ্চকর্মীদের ফের ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে কয়েকজন শিক্ষার্থী ও লঞ্চকর্মী আহত হয়েছেন। এ সময় লঞ্চের কয়েকজন কর্মীর মোবাইল ফোন ভাঙার অভিযোগও ওঠে।


ঘটনার পর মোবাইল ফোন ভাঙা ও চিকিৎসা ব্যয়ের কথা উল্লেখ করে লঞ্চ মালিক সমিতির কাছে ৪০ হাজার টাকা দাবি করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে। এ সময় ছাত্রদলের পরিচয় ব্যবহার করে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। পরে আলোচনার মাধ্যমে ২০ হাজার টাকায় বিষয়টি নিষ্পত্তি হয় বলে জানা গেছে।


পরিচয় গোপন রাখার শর্তে ‘প্রিন্স আওলাদ’ লঞ্চের এক কর্মী বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয় দিয়ে কিছু শিক্ষার্থী প্রায়ই সন্ধ্যা বা রাতে লঞ্চে এসে গাঁজা ও বিভিন্ন মাদক সেবন করেন। এ কারণে পরিচয়পত্র ছাড়া কাউকে লঞ্চে প্রবেশে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে এ ঘটনার সূত্রপাত হয়।


তিনি বলেন, "এই ঘটনার পর আমরা লঞ্চ মালিক সমিতির অফিসে বসি। সেখানেও এক দফা কথা-কাটাকাটি ও ধাক্কাধাক্কি হয়। পরে বৈঠকে ৪০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। শেষ পর্যন্ত ২০ হাজার টাকায় বিষয়টি মীমাংসা হয়।"


প্রিন্স আওলাদ লঞ্চের সুপারভাইজার মো. জিল্লু বলেন, "আর্থিক লেনদেনের কত টাকা নিয়েছে, সেটা আমি বলতে পারছি না। তবে তারা বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে টাকা নিয়েছেন। পুরান ঢাকা, বিশেষ করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় দেশের শিক্ষা ক্ষেত্রে অগ্রদূত ও বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। তাই আমরা চাই, কেউ যেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম নষ্ট না করে।"


লঞ্চটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক যুবরাজ হোসেন বলেন, "আজকের ঘটনার পর আমরা একসঙ্গে বসেছিলাম। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয় ছাড়া যেন কেউ লঞ্চে প্রবেশ করতে না পারে, সে জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দেওয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি।"


এদিকে মীমাংসার নামে টাকা দাবির বিষয়টি জানতে পেরে কয়েকজন সাংবাদিক ঘটনাস্থলে গিয়ে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করেন। এ সময় বাংলাদেশ বুলেটিনের জবি প্রতিনিধি আকাশ আহমেদ রুপম ও পাবলিক নিউজের জবি প্রতিনিধি এটিএম হাসনাত হাবিবের সঙ্গে উপস্থিত ছাত্রদলকর্মীদের বাগ্‌বিতণ্ডা ও ধাক্কাধাক্কি হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। একপর্যায়ে সাংবাদিকদের জোর করে ঘটনাস্থল থেকে বের করে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।


এ বিষয়ে জবি ছাত্রদলের সদস্যসচিব শামছুল আরেফিনের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।


এ বিষয়ে জবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল বলেন, "আমি এ বিষয়ে পুরোপুরি অবগত না। যদি ছাত্র দলের পরিচয় ব্যবহার করে এ চাঁদাবাজি করে তাহলে ছাত্রদল এ দ্বায়ভার নিবে না। তারা ছাত্র দলের কর্মী না৷ আর যদি ছাত্র দলের কেউ থাকে তাহলে ছাত্র দল সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিবে।"


রাজধানী

  • প্রকাশ : সোমবার ০৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৪:১৬ পিএম

রাজধানীর পূর্ব কাজীপাড়ার মাদবর পুকুরপাড়ে ভাড়া বাসায় থাকেন একটি নামি করপোরেট প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা জাকির হোসেন। ২৬ বছর ধরে চাকরি করছেন তিনি। 


কর্মস্থলের নিয়ম অনুযায়ী, আর চার বছর পর অবসরে যেতে হবে। অথচ দীর্ঘ কর্মজীবনেও ঢাকায় বাড়ি করার জন্য জমি কেনা কিংবা একটি ফ্ল্যাট কেনার সামর্থ্য হয়নি তাঁর।


হতাশা প্রকাশ করে জাকির হোসেন বলেন, একসময় রাজধানীতে নিজের একটি ফ্ল্যাট কিংবা শহরতলিতে স্বপ্নের ঠিকানা গড়ার স্বপ্ন দেখতেন। এখন আর সেই স্বপ্ন দেখেন না। তিনি বলেন, ‘যা বেতন পাই, তা দিয়ে সংসার মোটামুটি চলে। অতিরিক্ত কিছু করার মতো টাকা হাতে থাকে না। ছেলেমেয়ের লেখাপড়া, অসুস্থ মায়ের ওষুধপত্র ও পরিবারের পেছনেই সব ব্যয় হয়ে যায়।’


জাকির হোসেনের মতো এমন বাস্তবতার মুখোমুখি ঢাকায় বসবাসকারী বহু মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত কর্মজীবী মানুষ। নিম্ন আয়ের মানুষের অবস্থা আরও করুণ। তাদের একটি অংশের ঠাঁই হয় বস্তি কিংবা বসবাসের অনুপযোগী ছোট কক্ষে।


রাজধানীতে কত মানুষ নিজের বাড়িতে থাকেন, তার সুনির্দিষ্ট হিসাব নেই। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ধারণা, ঢাকার জনসংখ্যা আড়াই কোটি হলে সর্বোচ্চ ৫০ লাখ মানুষের নিজস্ব আবাসন রয়েছে। সে হিসাবে বাকি দুই কোটি মানুষকে ভাড়া বাসায় থাকতে হয়।


এমন বাস্তবতায় আজ সোমবার পালিত হচ্ছে বিশ্ব বসতি দিবস। ১৯৮৫ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে দিবসটি পালনের সিদ্ধান্ত হয়। ১৯৮৬ সাল থেকে প্রতিবছর অক্টোবর মাসের প্রথম সোমবার দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। এবারের প্রতিপাদ্য ‘সর্বজনীন বাসস্থান, টেকসই নগরায়ণ’। দিবসটি উপলক্ষে সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। এর একটি কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান থাকবেন। 


গতকাল রোববার গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে শেরেবাংলা নগর এলাকায় র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ ছাড়া বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আজ থেকে শুরু হচ্ছে তিন দিনের আবাসন মেলা।


রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব) সভাপতি ড. আলী আফজাল বলেন, আবাসন সংকট সমাধানে সরকারি ও বেসরকারি খাতকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। প্রথমত, মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্তের জন্য বিশেষ আবাসন অর্থায়ন ব্যবস্থা চালু করা প্রয়োজন, যাতে দীর্ঘ মেয়াদে কম সুদে ঋণ পাওয়া যায়। দ্বিতীয়ত, অনুমোদন প্রক্রিয়া আরও সহজ ও স্বচ্ছ করতে হবে।


ড. আলী আফজাল বলেন, আবাসন খাতের ওপর কর ও ফি যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনতে হবে। সরকার চাইলে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের সঙ্গে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে রাজধানীসহ দেশের সব জেলা শহরে সাশ্রয়ী আবাসন প্রকল্প হাতে নিতে পারে। 


তিনি বলেন, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, নীতিতে স্থিতিশীলতা থাকতে হবে। উদ্যোক্তারা যদি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও বিনিয়োগের নিশ্চয়তা পান, তাহলে তারা আরও বেশি আবাসন তৈরি করতে পারবেন। এতে অনেকেরই নিজস্ব বাসস্থান হবে।


রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক), জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ হাউজিং অ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউট, রিহ্যাবসহ আবাসন খাতের সঙ্গে সম্পৃক্ত দায়িত্বশীলদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জলবায়ু পরিবর্তন, নদীভাঙনসহ বিভিন্ন কারণে রাজধানীতে মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। তবে সবার মাথা গোঁজার ঠাঁই রাজধানীতে হচ্ছে না। তারা বস্তি, ফুটপাত, বাস-লঞ্চ-ট্রেনস্টেশনেও রাত কাটাচ্ছেন। 


ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আইপিডি) নির্বাহী পরিচালক ও নগর পরিকল্পনাবিদ ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, রাজধানীতে কিছু মানুষ ভাড়া বাসায় থাকবেন, সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু ঢাকায় নিজস্ব আবাসন ও ভাড়া বাসায় বসবাসের মধ্যে ভারসাম্যহীনতা অত্যন্ত প্রকট। এখানে ৭০ শতাংশের বেশি মানুষের নিজস্ব বাসস্থান নেই। তাদের মধ্যে নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্তের পাশাপাশি রয়েছেন বস্তিবাসীও।


ড. আদিল বলেন, এসব মানুষের পক্ষে নিজস্ব আবাসনের ব্যবস্থা করা কঠিন। তাদের আয়ের ৪০ থেকে ৫০ শতাংশই আবাসন খাতে ব্যয় হয়। ফলে যুগের পর যুগ তারা নিজস্ব আবাসনের বাইরে থেকে যাচ্ছেন। এ পরিস্থিতির অন্যতম কারণ সরকারের যথাযথ আবাসন নীতির ঘাটতি।


এই ভারসাম্যহীনতা দূর করতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য জমি বরাদ্দ এবং স্বল্প সুদে ঋণের ব্যবস্থা করার পরামর্শ দেন ড. আদিল। পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বে আবাসন প্রকল্প গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন। সবার জন্য বাসস্থান নিশ্চিত করার বিষয়ে সরকারের দায়িত্বশীল কেউ কথা বলতে রাজি হননি। তবে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের একটি তালিকা সরবরাহ করা হয়েছে। 


মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহরে উচ্চ, মধ্যম ও স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য ভূমি উন্নয়ন, অবকাঠামো নির্মাণ এবং আবাসিক প্লট তৈরি করে বরাদ্দ দেওয়ার কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য ফ্ল্যাট নির্মাণের পাশাপাশি স্বল্প খরচে টেকসই ঘর তৈরির কলাকৌশল ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং তা বিপণনের উদ্যোগও রয়েছে। গৃহহীন মানুষের পুনর্বাসনের ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে। 


মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, ৩ হাজার ৫১৩ কোটি ৯৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ৪৪টি প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ চলছে। এর মধ্যে রয়েছে মিরপুরের ৯ নম্বর সেকশনে ১৫টি ১৪ তলা আবাসিক ভবন নির্মাণ প্রকল্প।


বিকাশ চন্দ্র সরকার

  • প্রকাশ : সোমবার ০৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ২:২৬ পিএম

রাজধানীর ইসিবি চত্বরে নিউ গিনি প্রপার্টি আবাসন প্রকল্পে হামলার অন্যতম পরিকল্পনাকারী বিকাশ চন্দ্র সরকারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার গভীর রাতে মাগুরা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ডিবির এক কর্মকর্তা আজ সোমবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। 


সূত্র জানিয়েছে, হামলার আগে তিনি ওই আবাসন প্রকল্পের চেয়ারম্যান নাজিমুদ্দিন ভূঁইয়া এবং সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরীসহ জমির মালিকদের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা করেছিলেন। যখন সমঝোতা হয়নি তখন মামলার এক নম্বর আসামি শাহরিয়া মাহমুদকে হামলার জন্য সন্ত্রাসী ভাড়া করে দেন।  


এদিকে হামলার এই ঘটনায় গ্রেপ্তার ছয়জনকে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কারাগার থেকে মিন্টো রোডে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে। রোববার তাদের তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। তারা হলেন–শাহরিয়া মাহমুদ, মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগ নেতা শাহ আলম অনিক, কুষ্টিয়া-২ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য (এমপি) মো. আব্দুর গফুরের জামাতা মিজানুর রহমান, ভাসানটেক বস্তির বাসিন্দা মো. মামুন, মো. মুন্না ও অটোরিকশাচালক আসলাম। 


এদিকে তিন দিনের রিমান্ড শেষ হওয়ায় সোমবার ওই মামলার চার নম্বর আসামি মেজর জেনারেল (অব.) গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরীকে আদালতে হাজির করে পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। পরে তাঁর জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত। 


ডিবির গুলশান বিভাগের উপকমিশনার আ ফ ম আনোয়ার হোসেন খান বলেন, ছয় আসামিকে ডিবিতে আনা হয়েছে। হামলার ঘটনায় তাদের বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। 


পুলিশ জানায়, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ২৬ সেপ্টেম্বর রাত সোয়া ১১টার দিকে নিউগিনি আবাসন প্রকল্প ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে সশস্ত্র হামলা, ভাঙচুর ও লটুপাট চালানো হয়। ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে হামলাকারীরা। হামলার ঘটনা সমন্বয়ের দায়িত্বে ছিলেন গ্রেপ্তার হওয়া সাবেক মাদ্রাসাশিক্ষক শাহরিয়ার মাহমুদ। হামলার প্রায় সাড়ে আট ঘণ্টা আগেও ইসিবি চত্বর এলাকায় একটি রেস্তোরাঁয় শাহরিয়া মাহমুদ ও মামলায় ২ নম্বর আসামি ক্যান্টনমেন্ট থানা জামায়াতে ইসলামীর রুকন আবুল কাশেমসহ ১৪ জন বৈঠক করেন। বৈঠকের ছবি তদন্ত-সংশ্লিষ্টদের হাতে এসেছে। বৈঠকে বিকাশ কুমার নামে একজন ঠিকাদারকেও শনাক্ত করেছেন তদন্ত-সংশ্লিষ্টরা। 


তদন্ত সূত্র জানায়, বৈঠকে যাদের ছবি দেখা যাচ্ছে, তাদের মধ্যে প্রথমে শাহরিয়া মাহমুদ গ্রেপ্তার হন। আরও কয়েকজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। গতকাল রাতে বিকাশ কুমার হলেন। 


প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, হামলকারীরা ফাঁকা গুলি ছুড়তে ছুড়তে আবাসন প্রকল্পে প্রবেশ করেছিল। অন্তত ৫০টি গুলি ছোড়া হয়। এতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন সেখানকার নির্মাণ শ্রমিক, নিরাপত্তাকর্মী ও আশপাশের বাসিন্দারা। হামলায় অনেক তরুণকে অংশ নিতে দেখা গেছে। ঘটনাস্থল ও ঘটনার পর যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, তারা বস্তির বাসিন্দা ও অটোরিকশাচালক। তাদের ভাড়া করে আনা হয়েছিল।


সূত্র জানিয়েছে, অস্ত্রগুলো বৃহত্তর মিরপুরের কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠী সরবরাহ করে থাকতে পারে। তবে আগ্নেয়াস্ত্রগুলো এখনও উদ্ধার হয়নি।


  • প্রকাশ : সোমবার ০৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১:৪২ এএম

যানজট নিরসন, সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা ও জনদুর্ভোগ কমাতে কদমতলী বাস টার্মিনালসহ কেরানীগঞ্জ দক্ষিণ এলাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ট্রাফিক পয়েন্ট সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার জনাব শামীমা পারভীন।


রোববার (৪ অক্টোবর) পরিদর্শনকালে পুলিশ সুপার সংশ্লিষ্ট এলাকার যান চলাচলের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। একই সঙ্গে স্থানীয় জনসাধারণ, পথচারী ও পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময় করে যানজটের কারণ, জনদুর্ভোগ এবং তা নিরসনে চলমান কার্যক্রমের অগ্রগতি সম্পর্কে তাঁদের মতামত ও পরামর্শ নেন।


এ সময় স্থানীয় জনসাধারণ ঢাকা জেলা পুলিশের উদ্যোগে যানজট নিরসনে পরিচালিত বিভিন্ন কার্যক্রমের প্রশংসা করেন। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত করার উদ্যোগ এবং অবৈধ হকার উচ্ছেদ কার্যক্রমের ফলে পথচারীদের চলাচল সহজ হয়েছে। পাশাপাশি সড়কে যানবাহন চলাচলেও আগের তুলনায় শৃঙ্খলা ফিরে এসেছে। এ উদ্যোগের জন্য তাঁরা পুলিশ সুপারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।


পরিদর্শনকালে পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন বলেন, জনসাধারণের নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে ঢাকা জেলা পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। যানজট নিরসন, সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং জনদুর্ভোগ কমাতে নেওয়া কার্যক্রম ভবিষ্যতেও ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত থাকবে।


তিনি একটি যানজটমুক্ত, নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল সড়ক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সংশ্লিষ্ট সকলের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন।


এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম, অপস্ অ্যান্ড ট্রাফিক-দক্ষিণ) জনাব তরিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) জনাব সুবাস চন্দ্র সাহা, এবং ঢাকা জেলা ট্রাফিক পুলিশের টিআই প্রশাসন (দক্ষিণ) শহিদুল আলম, ঢাকা জেলা ডিবি দক্ষিণের  অফিসার ইনচার্জ আশফাক রাগীব হাসান।


এ ছাড়া ঢাকা জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।


  • প্রকাশ : রবিবার ০৪ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৩:১৮ পিএম

দুবাই থেকে আসা এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে দুই বিমানকর্মীর জুতার ভেতর থেকে ৯ দশমিক ৩৪ কেজি স্বর্ণ উদ্ধার করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি)। উদ্ধার করা স্বর্ণের আনুমানিক বাজারমূল্য ১৬ কোটি ২৫ লাখ টাকা।


রোববার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ২১ নম্বর গেট সংলগ্ন ৪ নম্বর বোর্ডিং ব্রিজের নিচে অ্যাপ্রোন এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়।


কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর জানায়, দুবাই থেকে আসা এমিরেটস এয়ারলাইন্সের ইকে-০৫৮২ ফ্লাইটের দুই বিমানকর্মী মো. মানিক মিয়া ও মো. মিজানুর রহমানের জুতার ভেতর বিশেষ কায়দায় লুকানো অবস্থায় ৮০টি স্বর্ণবার উদ্ধার করা হয়। তারা দুজনই এয়ারক্রাফট টেকনিক্যাল হেলপার হিসেবে কর্মরত।


উদ্ধার করা প্রতিটি স্বর্ণবারের ওজন প্রায় ১১৭ গ্রাম। সব মিলিয়ে স্বর্ণের মোট ওজন ৯ দশমিক ৩৪ কেজি।


বিমানকর্মীদের জুতার ভেতর স্বর্ণবার লুকিয়ে পাচারের ঘটনায় কারা জড়িত এবং এসব স্বর্ণ কার কাছে পৌঁছানোর কথা ছিল, তা খতিয়ে দেখছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। এ ঘটনায় আইনী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।


  • প্রকাশ : শনিবার ০৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:৪৪ পিএম

শিল্পাঞ্চল আশুলিয়াসহ সাভার ও ধামরাইয়ের বিভিন্ন শিল্পকারখানা থেকে বৈদ্যুতিক মিটার চুরি করে ঘটনাস্থলে বিকাশ নম্বর রেখে টাকা আদায়ের অভিযোগে সংঘবদ্ধ চক্রের দুই সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে শিল্প পুলিশ-এক (ঢাকা)। পুলিশের দাবি, চুরি করা মিটার ফেরত দেওয়ার বিনিময়ে দর-কষাকষির মাধ্যমে বিকাশে টাকা নিত চক্রটি।


শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুর দুই টার দিকে আশুলিয়ার শ্রীপুরে শিল্প পুলিশ-এক কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান শিল্প পুলিশ-এক এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া (পিপিএম)।


গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন সিরাজগঞ্জের চৌহালী থানার পাথরাইল গ্রামের কাইয়ুম আলীর ছেলে মো. সবুজ মিয়া ওরফে ‘মিটার সবুজ’ (২৫) এবং একই উপজেলার রেহাই পুকুরিয়া এলাকার লিটন মোল্লার ছেলে মো. মারুফ মোল্লা (৩৫)।


পুলিশ জানায়, গত কয়েক মাস ধরে সাভার, আশুলিয়া ও ধামরাইয়ের শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন কারখানা ও প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ মিটার চুরি করে আসছিল চক্রটি। মিটার চুরির পর সেটি আশপাশের কোনো স্থানে লুকিয়ে রেখে পলিথিনে মোড়ানো একটি চিরকুটে বিকাশ নম্বর লিখে যেত। পরে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষ ওই নম্বরে যোগাযোগ করলে দর-কষাকষির মাধ্যমে বিকাশে টাকা নিয়ে মিটার ফেরত দেওয়া হতো বলে পুলিশের ভাষ্য।


পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, গত পাচ আগস্ট ধামরাইয়ের ঢুলিভিটা এলাকায় ‘দি একমি ল্যাবরেটরিজ লিমিটেড’-এর এক নম্বর গেটের সামনে থেকে পল্লী বিদ্যুতের একটি মিটার চুরি হয়। এ ঘটনায় ধামরাই থানায় মামলা হলে শিল্প পুলিশ- এক ছায়া তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আসামিদের শনাক্ত করা হয়।


এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিকেল ৩টার দিকে আশুলিয়ার পলাশবাড়ী এলাকার ঘোড়াপীর মাজারসংলগ্ন মানিকগঞ্জ বুক হাউসের সামনে অভিযান চালায় শিল্প পুলিশের একটি দল। পুলিশ জানায়, এ সময় মোটরসাইকেলে থাকা সবুজ মিয়া ও মারুফ মোল্লাকে থামার সংকেত দেওয়া হলে তারা পালানোর চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পড়ে গেলে তারা আহত হন। পরে তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করে গ্রেপ্তার করা হয়। একই ঘটনায় অভিযান পরিচালনাকারী পুলিশের দুই সদস্যও আহত হন বলে জানানো হয়েছে।


পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সবুজ মিয়া শিল্পাঞ্চল থেকে ১৫০ থেকে ২০০টি এবং মারুফ মোল্লা ৬০ থেকে ৭০টি মিটার চুরির কথা জানিয়েছেন। তবে এসব তথ্যের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হচ্ছে।


শিল্প পুলিশের তথ্যমতে, সাম্প্রতিক সময়ে একমি ল্যাবরেটরিজ, স্টারলিং লন্ড্রি অ্যান্ড ডেনিমস লিমিটেড, কাইজেন মেটাল ইন্ডাস্ট্রিজ, বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ লিমিটেড, বাংলাদেশ জে ডব্লিউ টি কোম্পানি, প্যাক অ্যান্ড টিম প্যাকেজিং লিমিটেড, ম্যাকটেক করপোরেশন, আয়েশা ক্লোথিং, ইফাদ অটোস, ট্রেন্ড সেটার্স ট্রিমস ইন্ডাস্ট্রিজ, ইউবেস্ট (বাংলা) ফ্যাশন, টর্ক ডিজাইন, এম এম মাল্টিমাইন্ড নিট গার্মেন্টস, সিনলিয়ান ইলেকট্রনিক্স টেকনোলজি বাংলাদেশ এবং ফেব্রিলাইফ ফ্যাশনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে মিটার চুরির ঘটনা ঘটেছে।


গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের একটি হেক্সিং ব্র্যান্ডের বিদ্যুৎ মিটার, দুটি অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোন এবং একটি কালো-লাল রঙের বাজাজ পালসার ১৫০ সিসি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।


পুলিশ আরও জানায়, সবুজ মিয়ার বিরুদ্ধে সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর ও কামারখন্দ, টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর ও মির্জাপুরসহ বিভিন্ন থানায় চুরি, চাদাবাজি ও মাদকসংক্রান্ত ছয়টি মামলা রয়েছে। মারুফ মোল্লার বিরুদ্ধে আশুলিয়া, টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর ও মির্জাপুর, সিরাজগঞ্জের চৌহালী, বেলকুচি ও কামারখন্দ এবং মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া ও সিংগাইর থানায় চুরি, দস্যুতা, চাঁদাবাজি ও মাদকসংক্রান্ত মোট ১০টি মামলা রয়েছে বলে পুলিশের দাবি। এসব মামলা বিচারাধীন।


সংবাদ সম্মেলনে শিল্প পুলিশ- এক এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মাহবুবুল হক সজীব, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপারেশনস অ্যান্ড ইন্টেলিজেন্স) সৈয়দ ফয়ছল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম, লজিস্টিকস অ্যান্ড ট্রেনিং) মো. তোফাজ্জল হোসেন এবং সহকারী পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. রাশেদুল ইসলাম বিশ্বাসসহ শিল্প পুলিশের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।