ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ১৭ মে, ২০২৬, সময় : ৩:৩৭ এএম

রাজধানী কারওয়ানবাজারে সোনারগাঁও হোটেল ক্রসিংয়ের কোনো লেইনে যানবাহন থামাতে এখন আর দৌড়ঝাঁপ করতে হচ্ছে না পুলিশকে; একটি জায়গায় দাঁড়িয়ে শুধু তারা মাঝেমধ্যে হাতের ইশারা দিচ্ছেন। দিন কয়েক আগেও রাজধানী ঢাকার ব্যস্ততম এ সিগন্যালে এক লেইন আটকে আরেকটি ছাড়তে গিয়ে রীতিমতো গলদঘর্ম অবস্থা দেখা যেত ট্রাফিক পুলিশের। শনিবার সকালে সেই চিত্র আর দেখা গেল না।


এদিন লাল-সবুজ বাতি মেনে চলছিল সব ধরনের বাহন। ট্রাফিক পুলিশের নির্দেশনার ফাঁক গলে কোনো যানবাহন চলছিল না। এ সিগন্যালে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ক্যামেরা বসানোর পর থেকেই পাল্টে গেছে আগের হ-য-ব-র-ল চিত্র; বিপরীতে দেখা যাচ্ছে এমন শৃঙ্খলা।


ক্যামেরায় নজরদারির মাধ্যমে আইনভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ ভয়ে বাহনের চালকরা আর ঝুঁকি নিচ্ছেন না।


যদিও কোনো যানবাহনের নম্বর প্লেট অস্পষ্ট কিংবা নম্বর প্লেট না থাকার কারণে জটিলতাও তৈরি হচ্ছে। কেননা অস্পষ্ট নম্বর প্লেট শনাক্ত করতে পারছে না এসব ক্যামেরা।


শুধু এ মোড় নয়, রাজধানীর মোট ৩০টি গুরুত্বপূর্ণ ক্রসিংয়ে চালু থাকা সিগন্যাল লাইট পয়েন্টে এআই প্রযুক্তির পিটিজেড ক্যামেরা বসিয়ে কাজ করার কথা বলছে পুলিশ।


সোনারগাঁও মোড়ে সিগন্যালে দায়িত্ব পালন করা ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের একজন বিদ্যুৎ হোসেন শনিবার বলেন, ক্যামেরার ভয়ে কেউ সিগন্যাল ভাঙছে না।


সোনারগাঁও হোটেলের সামনের ‘স্টপ লাইন’ দেখিয়ে তিনি বলেন, “দেখেন কেউ লাইনই ক্রস করছে না। বেশির ভাগই সিগন্যাল মানছে। আমরা সিগন্যাল মতো গাড়ি ছাড়ার বা থামার ইশারা দিচ্ছি দাঁড়িয়ে থেকে।”


এআই ক্যামেরা লাগানোর পর থেকে ট্রাফিক পুলিশের কষ্ট কমেছে এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় পুলিশ বেশি মনোযোগ দিতে পারছে বলে মনে করেন বিদ্যুৎ হোসেন।


পরীক্ষামূলকভাবে গত ৭ মে থেকে ঢাকার বিভিন্ন ট্রাফিক পয়েন্টে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার শুরু করেছে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ। এআইভিত্তিক ক্যামেরাগুলোতে সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ লঙ্ঘন শনাক্ত করার সফটওয়্যার সংযোজন করা হয়েছে।


সফটওয়্যারের দেওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী আইন লঙ্ঘন হলেই সেই গাড়ি শনাক্ত করছে ক্যামেরা। সে অনুযায়ী ডিজিটাল মামলা দেওয়া হচ্ছে গাড়ির মালিককে।


এ ব্যবস্থা চালুর প্রথম সপ্তাহেই যানবাহনগুলোর সিগন্যাল মানার ক্ষেত্রে ‘অভাবনীয় সাফল্য’ পাওয়ার কথা বলছেন সংশ্লিষ্টরা।


ডিএমপি সদর দপ্তরে গত ২৯ এপ্রিল আইজিপি আলী হোসেন ফকির এ সফটওয়্যার উদ্বোধন করেন। এরপর ৩ মে গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে চালক ও গাড়ির মালিকদের ‘ভিডিও ফুটেজের মাধ্যমে ট্রাফিক মামলার’ বিষয়ে সতর্ক করা হয়। কয়েকদিন পরীক্ষামূলকভাবে চলার পর ৭ মে থেকে নির্ধারিত পয়েন্টগুলোতে এই স্বয়ংক্রিয় মামলা কার্যক্রম শুরু করে পুলিশ।


‘পিটিজেড ক্যামেরা’


আইন লঙ্ঘন করা গাড়ির নম্বর শনাক্ত করতে এআইভিত্তিক এ ক্যামেরাগুলোকে ‘পিটিজেড ক্যামেরা’ বলছে পুলিশ। এটি ‘প্যান-টিল্ট-জুম’ প্রযুক্তির উন্নত নিরাপত্তা ক্যামেরা, যা দূরবর্তী স্থান থেকে ডানে-বামে, ওপরে-নিচে ঘোরানো ও জুম করা যায়।


বড় এলাকা বা জনসমাগমপূর্ণ জায়গা পর্যবেক্ষণের জন্য এ ক্যামেরা ব্যবহার করা হয়। এটি ৩৬০ ডিগ্রি ঘুরে ঘুরে চিত্র ধারণ করতে পারে। চলন্ত বস্তু বা ব্যক্তিকে অনুসরণ করতে পারে। এটি ওয়াইফাই সংযোগের মাধ্যমে সহজেই অ্যাপ দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। ‘অপটিক্যাল জুম’ এর মাধ্যমে অনেক দূর থেকে স্পষ্ট ছবি বা গাড়ির নম্বর প্লেট শনাক্ত করতে পারে।


ডিএমপি ট্রাফিক বিভাগ বলছে, প্রাথমিকভাবে ক্যামেরাগুলোতে দেওয়া সফটওয়্যারে ছয়টি ‘লজিক’ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ ছয় ধরনের আইন অমান্য করা যানবাহন শনাক্ত করে নম্বরপ্লেটসহ গাড়ির ছবি তুলে রাখছে। সেসব ছবি-ভিডিও ডিএমপি সদর দপ্তরের ট্রাফিক টেকনিক্যাল ইউনিটের (টিটিইউ) সার্ভারে জমা করছে।


এ সফটওয়্যারের সঙ্গে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) সার্ভারও যুক্ত করা হয়েছে। ফলে সহজেই আইন ভঙ্গকারী যানবাহনের নম্বর দিয়ে নিমিশেই মিলছে গাড়ির মালিকের বিস্তারিত তথ্য।


টিটিইউ টিমের সদস্যরা সার্ভারের ছবি ও ভিডিও পর্যালোচনা করে আইন অমান্য করা গাড়ির মালিকের নামে মামলা দিচ্ছেন। ‘ই-ট্রাফিক প্রসিকিউশন সফটওয়্যারের’ মাধ্যমে মালিক/চালকদের রেজিস্ট্রি করা ঠিকানায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেসব মামলার কপি ডাকযোগে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে।


৪ শতাধিক মামলা


এ প্রযুক্তির ক্যামেরা ব্যবহার শুরুর প্রথম আট দিনে সার্ভারে ১০ হাজারের বেশি ভিডিও জমা হয়েছে। সেগুলো টিটিইউ ইউনিটের সদস্যরা যাচাইবাছাই করে আইন ভঙ্গের মাত্রা অনুযায়ী মামলা দিচ্ছেন।


ডিএমপি ট্রাফিকের এআই প্রযুক্তির সিনিয়র সিস্টেম অ্যানালিস্ট শারমিন আফরোজ বলেন, “হিউজ ভিডিও পাচ্ছি। যেমন ধরেন সফটওয়্যারকে ‘লেইন ভায়োলেশনের’ বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছি। এখন কোনো গাড়ির চাকা একটু এদিক-ওদিক হলেই ক্যামেরা সেটিকে ‘ভায়োলেশন’ হিসেবে ধরে ফুটেজ দিচ্ছে।


“কিন্তু যেহেতু এই ব্যবস্থাপনাটা নতুন, তাই আমরা ছোটোখাটো ভায়োলেশনগুলো এড়িয়ে যাচ্ছি। বিবেচনায় নিচ্ছি, তার ওই ভায়োলেশনটার কারণে যানজট তৈরি হচ্ছে কিনা, স্বাভাবিক চলাচলে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে কিনা। এসব ফুটেজ যাচাইবাছাই করে এখন পর্যন্ত ৪০০ এর বেশি ‘প্রসিকিউশন’ (মামলা) প্রস্তুত করেছি। এর মধ্যে অনেগুলোই (মালিক/চালকদের) পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে, বাকিগুলো পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।”


প্রতিদিন কী পরিমাণ আইন লঙ্ঘন হচ্ছে, এ ব্যাপারে শারমিন বলেন, “গত বুধবার আমরা ৭৪৮টি ভিডিও পেয়েছি। বৃহস্পতিবার একটু কম পেয়েছি।”


কোন ধরনের আইন অমান্যের প্রবণতা বেশি, এ প্রশ্নে তিনি বলেন, “বেশির ভাগই বাম লেইন দখল করে রাখা আর ‘স্টপ লাইন’ না মানার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। তবে এখন ‘স্টপ লাইন’ মানার প্রবণতা বাড়ছে। বেশির ভাগই সিগন্যাল অনুযায়ী স্টপ লাইনটা মানছেন।”


ডিএমপির সাবেক কমিশনার সরওয়ার বলেন, “আমাদের লোকজন কাজ করতেছে, ভবিষ্যতে দেখা যাবে যে প্রতিদিন হয়ত ১ হাজার মামলা হবে।”


যেসব যানবাহন শনাক্ত করছে ক্যামেরা


বর্তমানে বাম লেইন বন্ধ করা, অবৈধভাবে লেইন পরিবর্তন বা বারবার পরিবর্তন, সিগন্যাল লাইট অমান্য বা স্টপ লাইট অমান্য বা জেব্রা ক্রসিংয়ের উপর গাড়ি উঠিয়ে দেওয়া, রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা বা রাস্তায় বা ক্রসিংয়ে যাত্রী ওঠা-নামা করানো, অবৈধ পার্কিং করা এবং উল্টো পথে যানবাহন চালালে এ মামলা হবে।


গত ১১ মে বিমানবন্দর ক্রসিংয়ে সৌরশক্তির সিগন্যাল লাইট স্থাপন অনুষ্ঠানে ডিএমপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার সরওয়ার বলেন, “আরো অনেকগুলো লজিক দেওয়া হবে। এই লজিক যত বাড়ানো হবে, ট্রাফিক আইন ভঙ্গকারী আইনের আওতা আরো বাড়বে।”


মামলার কপি যাচ্ছে ডাকযোগে


ডিএমপি বলছে, বর্তমানে ক্যামেরার মাধ্যমে শনাক্ত আইন ভঙ্গকারী মালিক/চালকদের ঠিকানায় ‘অটো জেনারেটেড নোটিস’ ডাকযোগে পাঠানো হচ্ছে। নোটিস পাওয়ার পর মালিক/চালকরা ডিএমপি সদর দপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক বিভাগে হাজির হয়ে সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারার নির্ধারিত জরিমানা ব্যাংক/মোবাইল ব্যাংকের মাধ্যমে পরিশোধ করে মামলা নিষ্পত্তি করবেন।


নোটিস পাওয়ার পরও সংশ্লিষ্ট মালিক/চালকরা সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক বিভাগে হাজির না হলে তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সমন বা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করবেন ডিএমপির ম্যাজিস্ট্রেটরা।


তবে মামলার তথ্য চালক/মালিকের মোবাইলে পাঠানোর পরিকল্পনার কথাও বলছে পুলিশ।


ডিএমপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত কমিশনার বলেন, “বর্তমানে চিঠি পাঠিয়ে ট্রাফিক মামলা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তবে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে মোবাইলের অ্যাপের মাধ্যমে বা মোবাইলে এসএমএস পাঠিয়ে মামলার তথ্য জানাবে পুলিশ।”


মোবাইল ফোনের বার্তায় অভিযোগ লিংকও পাঠানো হবে, যেখানে অভিযোগ ওঠা ব্যক্তি প্রসিকিউশনের চিঠি এবং নিজের আইন ভঙ্গের কয়েক সেকেন্ডের ভিডিও সরাসরি দেখতে পারবেন। এতে ‘স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা বাড়বে’ বলে মনে করেন ট্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তারা।


ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ বলছে, সড়কে আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে একসময় কাগজের স্লিপে মামলা দেওয়া হতো। পরে ই-ট্রাফিক প্রসিকিউশন সিস্টেমের অংশ হিসেবে পস (পয়েন্ট অব সেল) মেশিন চালু করা হয়।


তবে সড়কে গাড়ি থামিয়ে তাৎক্ষণিক মামলা ও জরিমানা আদায়ের কারণে যানজট আরো বাড়ার অভিযোগ রয়েছে। এআইভিত্তিক ক্যামেরায় মামলা কার্যক্রমের দিকে যাওয়ায় সেই সমস্যা কমবে বলেও মনে করা হচ্ছে।


যেসব পয়েন্টে বসেছে ক্যামেরা


ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ব্যবস্থাপনায় ইন্টারকন্টিনেন্টাল ক্রসিং থেকে জাহাঙ্গীর গেইট পর্যন্ত সাতটি, গুলশান-১ নম্বর ও ২ নম্বরসহ মোট নয়টি, দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ব্যবস্থাপনায় হাই কোর্ট ক্রসিং থেকে ইন্টারকন্টিনেন্টাল ক্রসিং পর্যন্ত ছয়টি এবং ডিএমপির ব্যবস্থাপনায় ১৫টিসহ মোট ৩০টি গুরুত্বপূর্ণ ক্রসিংয়ে সিগন্যাল লাইট চালু রয়েছে।


এই ৩০টি পয়েন্টেই এআই প্রযুক্তির পিটিজেড ক্যামেরা বসিয়ে কাজ করার কথা বলছে পুলিশ। পর্যায়ক্রমে সব সিগন্যাল লাইটের খুঁটিতেই এ ক্যামেরা বসানো হবে।


সিস্টেম অ্যানালিস্ট শারমিন আফরোজ বলেন, “বর্তমানে শতাধিক পিটিজেড ক্যামেরার মাধ্যমে এ ব্যবস্থাপনা চলছে। পর্যায়ক্রমে আরো ক্যামেরা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”


জটিলতা কোথায়?


ডিএমপির কর্মকর্তারা বলছেন, নতুন এ ব্যবস্থায় প্রধান যে জটিলতা দেখা গেছে সেটি হচ্ছে, অনেক যানবাহনের নম্বর প্লেট অস্পষ্ট। আবার কিছু গাড়িতে নম্বর প্লেট নেই। ফলে ক্যামেরা সেসব যানবাহন শনাক্ত করতে পারছে না।


ট্রাফিক বিভাগ বলছে, অনেক চালক নির্ধারিত নম্বর প্লেট ব্যবহার না করে শুধু পেইন্ট দিয়ে গাড়ির নিবন্ধন নম্বর লিখে চালাচ্ছেন। আবার অনেক যানবাহনের মালিক নম্বর প্লেটের ফি পরিশোধ করলেও বিআরটিএ থেকে নির্ধারিত নম্বর প্লেট ও আরএফআইডি (রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি আইডেন্টিফিকেশন) ট্যাগ সংগ্রহ করেননি। বিভিন্ন যানবাহনের উইন্ডশিল্ডে স্থাপন করা আরএফআইডি ট্যাগ অকার্যকর পাওয়া যাচ্ছে, যা ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় জটিলতা তৈরি করছে।


সে কারণে চলতি সপ্তাহ থেকেই অভিযানে নামার কথা গত ১১ মে গণবিজ্ঞপ্তিতে তুলে ধরে ডিএমপি।


বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সড়কে চলাচলকারী নিবন্ধিত যানবাহনে সরকার কর্তৃক নির্ধারিত রং, ডিজাইন এবং সাইজের নাম্বার প্লেট যথাযথ স্থানে লাগানোর আইনগত বাধ্যবাধকতা রয়েছে।


ডিএমপির এক কর্মকর্তা বলেন, “কয়েকদিনের মধ্যে যদি বিআরটিএ নির্ধারিত নম্বর প্লেট না লাগায়, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


গত কয়েকমাসে এক্সপ্রেসওয়েতে অনিয়ন্ত্রিত গতির গাড়ি শনাক্ত করে মামলা করেছে পুলিশ। এর বাইরে বিভিন্ন ক্যামেরায় ভুল পার্কিং, রাস্তায় স্বাভাবিক চলাচলে বিঘ্ন ঘটানোসহ বিভিন্ন আইন ভঙ্গকারীর ভিডিও সংগ্রহ করছেন ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা। এর ভিত্তিতে ওই গাড়ির বিরুদ্ধে মামলা করা হচ্ছে।


ডিএমপি বলছে, ‘হ্যালো ডিএমপি’ নামে একটি অ্যাপ চালু করা হয়েছে। ভবিষ্যতে যে কেউ ওই অ্যাপে কোনো যানবাহনের আইন অমান্যের ভিডিও আপলোড করতে পারবেন। এরপর সেটি যাচাইবাছাই করে মামলায় যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে পুলিশের।



সর্বশেষ সব খবর

সভাপতি রাশেদ ও সম্পাদক হুমায়ূন

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৮:৩৯ পিএম

ঢাকার স্থানীয়দের ঐতিহ্যবাহী সংগঠন ঢাকা সাংবাদিক ফোরামের (ডিএসএফ) নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। সংগঠনটির সভাপতি পদে রাজধানী টেলিভিশনের নির্বাহী পরিচালক রাশেদ আলী ও সাধারণ সম্পাদক পদে দৈনিক কালবেলার বিশেষ প্রতিনিধি মো. হুমায়ূন কবীর নির্বাচিত হয়েছেন। শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাজধানীর ঢাকা ক্লাবে আয়োজিত দ্বি-বার্ষিক সাধারণ সভা ও নতুন কমিটি গঠন করা হয়। ২০২৬-২৮ মেয়াদে আগামী দুবছরের জন্য ২১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়।


নির্বাচিতদের নাম ঘোষণা করেন বিশিষ্ট কবি, শিশুসাহিত্যিক ও দৈনিক আগামীর সময়ের ডিরেক্টর-ক্লাব অ্যান্ড ওয়েলফেয়ার সাইদুজ্জামান রওশন (দন্ত্যস রওশন)।


নতুন কমিটিতে সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন এনটিভির জাহিদ রহমান, সহ-সভাপতি পদে দৈনিক সংগ্রামের এ কে এম কামরুজ্জামান (হিরু), সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে মানবজমিনের রাশিম মোল্লা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে মাসুদ রানা, অর্থ সম্পাদক পদে প্রেসেঞ্জা ইন্টারন্যাশনাল প্রেস এজেন্সির মাকসুদা লিসা, সাংগঠনিক সম্পাদক পদে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের মো. রাশেদ নিজাম, দপ্তর সম্পাদক পদে একুশে টেলিভিশনের আফসানা জাহান নীলা, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে সাপ্তাহিক সাফকথার মো. মাহমুদুর রশিদ, ক্রীড়া সম্পাদক ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে এনটিভির ইয়াসির আরাফাত (কুশল), তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক পদে নিউজ টোয়েন্টিফোর টেলিভিশনের আল মোহাইমিনুল খান, প্রশিক্ষণ ও গবেষণা সম্পাদক পদে আজকের দৈনিকের মো. আবুল কাশেম, আইন ও কল্যাণ সম্পাদক পদে চ্যানেল এসের মিঠুন সরকার, নারী বিষয়ক সম্পাদক পদে দ্য বিজনেস ফাইলের সৈয়দা রিমি কবিতা নির্বাচিত হয়েছেন।


এ ছাড়া কার্যনির্বাহী সদস্য পদে বাসসের মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন (লিটন), এখন টিভির শাহরিয়ার জামান দীপ, বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কমের দেলোয়ার হোসেন বাদল, এগ্রি নিউজ টোয়েন্টিফোর.কমের মো. খোরশেদ আলম জুয়েল, ডিবিসি টেলিভিশনের হোমায়রা মাহমুদা ফারুকী ও দৈনিক মানবজমিনের আনোয়ার হোসেন পিন্টু নির্বাচিত হয়েছেন।


সাধারণ সভায় ডিএসএফের গঠনতন্ত্রে কিছু পরিবর্তন আনার সুপারিশ করা হয় এবং তা পাস হয়।


দ্বি-বার্ষিক সাধারণ সভায় বক্তারা ঢাকার ঐতিহ্য তুলে ধরতে এবং সবার জন্য বাসযোগ্য ঢাকা গড়তে ঢাকা সাংবাদিক ফোরামকে কার্যকর ভূমিকা রাখতে কাজ করার আহ্বান জানান।

সর্বশেষ সব খবর

উদ্ধার হওয়া ঘণ্টা

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৬:১৭ পিএম

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে সেন্ট পল স্কুল অ্যান্ড চার্চের প্রায় ৭০ কেজি ওজনের একটি পিতলের ঘণ্টা চুরির পর তা উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ২টা ৫০ মিনিটে জাকির হোসেন রোডের একটি ময়লার ডাস্টবিনের পাশ থেকে সাদা পলিব্যাগে মোড়ানো অবস্থায় ঘণ্টাটি উদ্ধার করা হয়।


মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল হালিম বলেন, গত বুধবার রাত ১২টার পর যেকোনো সময় ৯২ আসাদ অ্যাভিনিউয়ে ওয়াসা ভবনের সামনে অবস্থিত সেন্ট পল স্কুল অ্যান্ড চার্চের দোতলার ঘণ্টাটি চুরি হয়। বিষয়টি জানতে পেরে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। ঘটনার আগে রাত ১২টা ৩ মিনিট থেকে চার্চের সিসিটিভি ক্যামেরার রেকর্ডিং বন্ধ ছিল। তবে কী কারণে ওই সময় থেকে সিসিটিভির রেকর্ডিং বন্ধ ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।


ওসি আরও বলেন, ঘটনার পর চুরি হওয়া ঘণ্টা উদ্ধার ও জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল অভিযান শুরু করে। পুলিশের অভিযানের মুখে চোর বা চোরচক্র ঘণ্টাটি ফেলে রেখে পালিয়ে যায় বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরে মোহাম্মদপুরের জাকির হোসেন রোডের ময়লার ডাস্টবিনের পাশ থেকে সাদা পলিব্যাগে মোড়ানো অবস্থায় সেটি উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের সময় ঘণ্টাটি অক্ষত ছিল।


পুলিশ জানায়, উদ্ধার করা ঘণ্টাটি থানা-হেফাজতে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া চলমান। চুরির আগে সিসিটিভি রেকর্ডিং বন্ধ হওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। পাশাপাশি আশপাশের বিভিন্ন স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। চুরির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। 

সর্বশেষ সব খবর

মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৫:৩৪ পিএম

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ ও ট্রলি-সংকটকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, সরকারি কাজে বাধা, নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করা ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগে জামায়াত নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। শুক্রবার বিমানবন্দর থানায় মামলাটি করেন বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মকর্তা শাহরিয়ার আলম সজিব।


বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল হাসান তালুকদার বলেন, মামলার অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এরপর প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


মামলার এজাহারে বলা হয়, গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল আনুমানিক ১০টা ৪০ মিনিটে মদিনা থেকে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইট (বিজি-৩৩৮) বিমানবন্দরে অবতরণের পর বিপুল যাত্রীর চাপ সৃষ্টি হয়। এ সময় ৮ নম্বর লাগেজ বেল্ট এলাকায় ট্রলি-সংকট দেখা দেয় এবং যাত্রীরা লাগেজ পেতে বিলম্বের মুখে পড়েন। এতে সেখানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। যাত্রীদের ক্ষোভ ও উত্তেজনার মধ্যে ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কামাল হোসেনের আহ্বানে ঘটনাস্থলে যান বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ। তিনি পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করছিলেন। এ সময় মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান তার দিকে আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে এগিয়ে যান এবং অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন। আখতারুজ্জামান নির্বাহী পরিচালককে ‘আমি কিন্তু পিটাব ধইরা’ এবং ‘ঘাড় ধরে বের করে দেব’ বলে হুমকি দেন। একই সময় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী সম্পর্কেও অশালীন মন্তব্য করেন তিনি।


এজাহারে আরও বলা হয়েছে, আখতারুজ্জামানের সঙ্গে থাকা প্রটোকল সহকারীরা বিমানবন্দরের সংরক্ষিত (কেপিআই) এলাকায় মুঠোফোনে ভিডিও ধারণ করছিলেন। সেখানে দায়িত্ব পালনরত নিরাপত্তা সুপারভাইজার ওয়ারেন্ট অফিসার মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন তাদের ভিডিও ধারণে নিষেধ করেন। এতে আখতারুজ্জামান ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন এবং একপর্যায়ে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন।


এ ছাড়া সাধারণ যাত্রীদের সংগ্রহ করা জমজমের পানির বোতল ট্রলি থেকে ফেলে দিয়ে ক্ষতিসাধন এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের এক প্রতিনিধির সঙ্গে মারমুখী আচরণের অভিযোগও আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে।


মামলার বাদী এজাহারে উল্লেখ করেন, অভিযুক্তের এসব কর্মকাণ্ডের কারণে স্পর্শকাতর ও সংরক্ষিত বিমানবন্দর এলাকায় সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি হয়। একই সঙ্গে বিমানবন্দরের স্বাভাবিক শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।


পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য ও অন্যান্য আলামত সংগ্রহ করে তদন্ত করা হবে। তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৪:৪৫ পিএম

রাজধানীর মিরপুরে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নির্মিত আবাসন প্রকল্পের একটি ভবনের লিফট ছিঁড়ে তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। আজ শুক্রবার সকালে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের আগারগাঁওয়ের জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পূর্নবাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) নেওয়া হয়েছে। আহতরা হলেন- প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক কর্মচারী মোস্তাফিজুর রহমান (৬২), নাইস আহমেদ (৪০) ও তার ছেলে ওয়াসি (৮)। তাদের মধ্যে নাইস আহমদের দুটি পা ভেঙে গেছে। 


ভবনের বাসিন্দা সরকারি কর্ম কমিশন সচিবালয়ের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা শাহাবুদ্দিন আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, সকাল ৬টার দিকে পাইকপাড়া আনসার ক্যাম্পের কাছে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসন প্রকল্পের ১ নম্বর ভবনে এ ঘটনা ঘটে। ফজরের নামাজের পর ভবনের পাঁচ তলার তিন বাসিন্দা লিফটে ওঠেন। কিছুক্ষণ পর বিকট শব্দে লিফটটি ছিঁড়ে পড়ে। শব্দ শুনে দারোয়ান সেখানে গিয়ে লিফটের ভেতরে চিৎকার শুনতে পান। পরে আশপাশের কয়েকজন গিয়ে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেন।


ভবনের আরেক বাসিন্দা অর্থ বিভাগের প্রশাসনিক কর্মকর্তা সমির চন্দ্র শীল অভিযোগ করেন, লিফটটি প্রায়ই অচল থাকে। মাঝেমধ্যে সামান্য মেরামত করে চালানো হচ্ছে। এটি যে অত্যন্ত ঝুঁকিপুর্ণ এই দুর্ঘটনাই তার প্রমাণ। লিফটের বিষয়টি কয়েকবার গণপূর্ত বিভাগের কাছে চিঠি দিয়ে জানানো হলেও তারা কর্ণপাত করেনি।


মিরপুর থানা পুলিশ বলছে, এ বিষয়ে পুলিশের কাছে কেউ কোনো অভিযোগ করেনি।

সর্বশেষ সব খবর

খেলনার আড়ালে আমদানি কোটি টাকার ১৯৮০ ড্রোন জব্দ

কমলাপুর আইসিডি কাস্টমসের অভিযান


  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:২৯ পিএম

খেলনার আড়ালে অবৈধভাবে আমদানি করা প্রায় এক কোটি টাকা মূল্যের ১ হাজার ৯৮০টি ড্রোন জব্দ করেছে ঢাকা কাস্টমস হাউস। গতকাল বুধবার রাজধানীর কমলাপুর আইসিডি কাস্টমসের অভিযানে এই চালানটি ধরা পড়ে। এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।


এতে বলা হয়, চকবাজারের ‘মিম কালেকশন’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান রিমোট কন্ট্রোল খেলনা আমদানির কথা বলে এই চালানটি আনে। কিন্তু কাস্টমস কমিশনারের কাছে থাকা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ২৯ সেপ্টেম্বর চালানটি পরীক্ষা করা হয়। এ সময় ঘোষণার সঙ্গে অসঙ্গতি পাওয়া যায়। তখনই বেরিয়ে আসে আসল তথ্য। দেখা যায়, খেলনার আড়ালে ঘোষণা ছাড়াই আনা হয়েছে প্রায় ৬৫৬ কেজি ওজনের ১৯৮০ পিস অবৈধ ড্রোন।


চালানটি বিল অব এন্ট্রি নম্বর-১২৩৬৭, তারিখ ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ এর মাধ্যমে আমদানি করা হয়। এতে পণ্য হিসেবে রিচার্জেবল রিমোট কন্ট্রোল (আরআরসি) খেলনা ঘোষণা করা হয়েছিল।


এনবিআর বলছে, আটক ড্রোনগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রাজস্ব ও প্রযোজ্য জরিমানা আদায় করা হবে। একই সঙ্গে ড্রোনগুলোর উড্ডয়নসীমা এবং সংশ্লিষ্ট দলিলাদি যাচাই করা হবে। যাচাই-বাছাই শেষে পরবর্তী ব্যবস্থা 


কাস্টমস আইন, ২০২৩ ও সংশ্লিষ্ট বিধিমালা অনুযায়ী এ ঘটনায় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।


এ ব্যাপারে কাস্টম হাইজ আইসিডি, ঢাকার কমিশনার কাজী মুহাম্মদ জিয়াউদ্দীন বলেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যানের নির্দেশনা অনুযায়ী আমদানি নীতি পরিপন্থি পণ্য আমদানি ও রাজস্ব ফাঁকি রোধে কাস্টমস হাইজ আইসিডি, ঢাকা কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১:২৫ পিএম

হাফপ্যান্টকে ‘অশালীন’ বলে একজন অ্যাথলেট প্রশিক্ষককে মেট্রো স্টেশনে পুলিশের হেনস্তার প্রতিবাদে হাফপ্যান্ট পরে মেট্রোরেলে চড়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন কয়েকজন তরুণ।


বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকাল সাতটার দিকে ঢাকার ফার্মগেট মেট্রো স্টেশনে হাফপ্যান্ট পরে প্রতিবাদ জানান পাঁচ তরুণ। এই স্টেশনেই গত ২৭ সেপ্টেম্বর সকালে টি-শার্ট ও হাফপ্যান্ট পরে মেট্রোরেলে উঠতে যাওয়ায় সাজ্জাদ হোসেন নামের এক অ্যাথলেট প্রশিক্ষক পুলিশের হেনস্তার মুখে পড়েন।


সাজ্জাদ হোসেনকে হেনস্তার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার সকালে (ভোর পাঁচটা থেকে সকাল আটটা) ফার্মগেট মেট্রো স্টেশনে ‘হাফপ্যান্ট পরে মেট্রোরেলে!’ শীর্ষক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল। স্বাভাবিক স্পোর্টসওয়্যার পরার কারণে কাউকে হয়রানি করা বা গণপরিবহন ব্যবহারে বাধা দেওয়া উচিত নয় বলে যারা মনে করেন, তাদের এই কর্মসূচিতে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।


এই কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে ‘হাফপ্যান্ট পরে মেট্রোরেলে!’ শিরোনামে আয়োজকদের খোলা একটি ফেসবুক ইভেন্টে বুধবার রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত ৬৭২ জন ‘গোয়িং’ (যাচ্ছি) ও ৮ হাজার ২০০ জন ব্যবহারকারী ‘ইন্টারেস্টেড’ (আগ্রহী) দিয়েছিলেন।


আজ সকাল সাতটার দিকে তিনজন তরুণ ফার্মগেটে আনোয়ারা উদ্যান-সংলগ্ন মেট্রো স্টেশনের নিচে আসেন। তারা হলেন বেসরকারি চাকরিজীবী সাগর মজুমদার ও রকিবুল ইসলাম এবং ব্যবসায়ী মাহফুজুর রহমান।


এসময় রানার ও বেসরকারি চাকরিজীবী সাগর মজুমদার বলেন, ‘আমরা রানার। দৌড়ানোর সময় শর্টস পরাটা বেশি কমফোর্টেবল। সে জন্য আমরা শর্টস পরি। দেশ-বিদেশে পরিচিত অ্যাথলেট সাজ্জাদ হোসেন সম্প্রতি শর্টস পরে মেট্রোতে উঠতে গিয়ে হয়রানির শিকার হয়েছেন। আমরা চাই না আর কেউ তার মতো হয়রানির শিকার হোক। সে জন্যই প্রতিবাদ জানাতে আসা।’


সাগর মজুমদার জানান, যেহেতু তিনি একজন রানার, ফলে তিনিও সাজ্জাদ হোসেনের মতো হয়রানির শিকার হতে পারেন মেট্রোরেল বা অন্য যেকোনো জায়গায়। সেই জায়গা থেকে একটি কর্মসূচি ডাকা হয়েছে। সেখানে যোগ দিতে তিনি এসেছেন। সবার প্রতি তাদের বার্তা হচ্ছে, ‘আসুন, আমরা নেগেটিভ মাইন্ডটাকে (নেতিবাচক মন) সরিয়ে ফেলি। শর্টস আসলে বিষয় নয়, নেতিবাচকভাবে দেখলে নেতিবাচক আর ইতিবাচকভাবে দেখলে ইতিবাচক।’


সকাল সাতটার পর ‘শর্টস’ পরে মেট্রোরেলে ওঠেন সাগর মজুমদার ও মাহফুজুর রহমান। মেট্রোরেলে উঠে টিকিট কাউন্টারে গিয়ে বিজয় সরণি স্টেশনের জন্য টিকিট কাটেন সাগর ও মাহফুজুর। এরপর প্ল্যাটফর্মে ওঠার উদ্দেশ্যে টিকিট পাঞ্চ করে তারা মেট্রোরেলের ভেতরের অংশে প্রবেশ করেন। পরে মেট্রোরেলে ফার্মগেট থেকে বিজয় সরণি স্টেশনে নেমে নিজেদের মতো চলে যান সাগর ও মাহফুজুর। এদিকে আরেকজন তরুণ রকিবুল তাদের সঙ্গে ওঠেননি।


রকিবুল হাসান বলেন, ‘আমি যাষ্ট একজন রানার ভাইকে হয়রানি বা হ্যারেস করা হয়ছে, এবং ইভেন্টে এইটা পরে দেখলাম, পরিচিত অনেকে ইন্টারেস্টেড দিছে। সেই অনুপাতে যাওয়া প্রতিবাদ স্বরুপে ইভেন্ট অংশগ্রহণ করা। কিন্তু গিয়ে দেখি ব্যাতিক্রম কিছু।’


সাগর ও মাহফুজুর যখন মেট্রোরেলে ওঠেন, একই সময়ে ফার্মগেট মেট্রো স্টেশনের অন্য একটি ফটক দিয়ে আরও দুজন প্রতিবাদী তরুণ হাফপ্যান্ট পরে ওঠেন বলে জানা গেছে। তবে ওই দুজনের নাম-পরিচয় জানা যায়নি। তারা ফার্মগেট স্টেশন থেকে মতিঝিলের টিকিট কেটেছিলেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।


গত ২৭ সেপ্টেম্বর সকালে শরীরচর্চা শেষ করে টি-শার্ট ও হাফপ্যান্ট পরে মেট্রোরেলে উঠতে যাওয়ায় অ্যাথলেট প্রশিক্ষক সাজ্জাদ হোসেনের পোশাককে ‘অশালীন’ বলে ফার্মগেট মেট্রো স্টেশনে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্য তাকে টিকিট পাঞ্চ মেশিনের সামনে ৪০ মিনিট দাঁড় করিয়ে রাখেন। যদিও মেট্রোরেলে চলাচলের জন্য কোনো ড্রেসকোড নেই। এর প্রতিবাদে ফার্মগেট স্টেশনে কর্মসূচির জন্য খোলা ফেসবুক ইভেন্টে লেখা হয়েছিল, ‘আপনার রানিং শর্টস পরুন, টি-শার্ট পরুন, একসঙ্গে আসুন, মেট্রোতে উঠুন৷ এটি কোনো বিশৃঙ্খলা তৈরির আয়োজন নয়। এটি একটি শান্তিপূর্ণ নাগরিক প্রতিবাদ- স্বেচ্ছাচারী হয়রানির বিরুদ্ধে, স্পষ্ট নিয়মের দাবিতে এবং যাত্রীদের প্রতি সম্মানজনক আচরণের পক্ষে। কোনো কিছু নিষিদ্ধ হলে তার স্পষ্ট ও লিখিত নিয়ম থাকা উচিত। সমস্যা শর্টসে নয়, সমস্যা হয়রানিতে!’

সর্বশেষ সব খবর