ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ১৮ মে, ২০২৬, সময় : ৬:১৭ এএম

রাজধানীর কারওয়ান বাজারে প্রতিদিন প্রায় দুই থেকে তিন কোটি টাকার চাঁদাবাজি হয়। এর মধ্যে এই বাজারের কয়েকটি পাইকারি মুরগির দোকান থেকেই মাসে প্রায় ৬০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করা হয়। এমন দাবি করেছেন বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা ও ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান।


অন্যদিকে সরকারি দল বিএনপির সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য মাহ্‌মুদা হাবীবা জামায়াতের এমপির দাবিকে ‘ঢালাও অভিযোগ’ হিসেবে অভিহিত করে তাঁকে সরাসরি আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। এ সময় চাঁদাবাজি নিয়ে দুই এমপির মধ্যে কিছুক্ষণ বাহাস হয়।


আজ সোমবার রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম আয়োজিত ‘জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭: রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ও নাগরিক প্রত্যাশা’শীর্ষক প্রাক্‌-বাজেট সংলাপে অংশ নিয়ে এ কথা বলেন সরকারি ও বিরোধী দলের এই সংসদ সদস্যরা।


প্রাক্‌-বাজেট সংলাপে সঞ্চালনা করেন বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান, বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) মহাপরিচালক অধ্যাপক এ কে এনামুল হক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক শরমিন্দ নীলোর্মি, নিট পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর সাবেক সভাপতি ফজলুল হক প্রমুখ।


অনুষ্ঠানের উন্মুক্ত আলোচনায় কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি এ এইচ এম সফিকুজ্জামান বলেন, ‘মূল্যস্ফীতি বেড়েছে, মানুষের কষ্ট বাড়ছে। এ জন্য বাজেটে প্রয়োজনীয় দ্রব্যে আমদানি শুল্ক কমানো প্রয়োজন।’ এ ছাড়া জ্বালানির দাম আর না বাড়ানোর পরামর্শ দেন তিনি।


এ এইচ এম সফিকুজ্জামানের কথার সূত্র ধরে দ্রব্যমূল্য বাড়ার ক্ষেত্রে চাঁদাবাজির প্রভাব নিয়েও কথা বলার পরামর্শ দেন জামায়াতের সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান।


নিজের সংসদীয় এলাকা তেজগাঁও-কারওয়ান বাজারের পরিস্থিতি তুলে ধরে সাইফুল আলম খান বলেন, ‘আমি তো আসলে চাঁদাবাজি এরিয়ার এমপি। আমাদের কারওয়ান বাজারে দৈনিক প্রায় দুই থেকে তিন কোটি টাকা কালেকশন হয়। কারওয়ান বাজারে কয়েকটা পাইকারি মুরগির দোকান আছে, তাদের কাছ থেকে মাসে ৬০ লাখ টাকা চাঁদা নেওয়া হয়। কারওয়ান বাজারের চাঁদাবাজি নিয়ে বলতে গেলে একদিন সময় লাগবে।’


সাইফুল আলম খান আরও বলেন, ‘এই চাঁদাবাজি যারা করে, ওপরে তারা রাজনৈতিক নেতা, ভেতরে চাঁদাবাজ। এটা আগের সরকারের লোকেরা করত, এখন কারা করে তা আর এখানে বলছি না।’


জামায়াতের এপির এ বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানান অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিএনপির সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য মাহ্‌মুদা হাবীবা। তিনি বলেন, ‘এমপি সাহেব বলছেন, তাঁর এলাকায় চাঁদাবাজি হচ্ছে এবং সেটা তিনি জানেন না, কারা করছেন। এর চেয়ে দুঃখজনক আর কিছু হতে পারে না। কারা চাঁদাবাজি করছে তার একটা স্পষ্ট তালিকা তাঁর (জামায়াতের এমপি) কাছে থাকা উচিত এবং এই তালিকা নিয়ে তাঁর আইনের কাছে যাওয়া উচিত।’


মাহ্‌মুদা হাবীবা আরও বলেন, ‘টকশোতে বা গোলটেবিলে বসে এ ধরনের আলোচনায় আমরা কথা বলতেই পারি। কিন্তু পাঁচটা নাম যখন দিতে পারি না, সেটা তখন ঢালাও বক্তব্য হয়ে যায়। আমার সংসদীয় এলাকায় যারা চাঁদাবাজি করবে, সে সরকারি দল হোক বা বাইরের দল হোক, আমি তাঁদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করব এবং সেখানে আমি অবশ্যই আইনের আশ্রয় নেব। তাই আমি জামায়াত এমপির দাবি প্রত্যাখ্যান করছি।’


বিএনপি নেত্রী মাহ্‌মুদা হাবীবার এমন মন্তব্যের জবাবে জামায়াতের এমপি সাইফুল আলম খান বলেন, ‘আগেও সরকারি দলের লোকেরা চাঁদাবাজি করত, এখনো সরকারি দলের লোকেরাই চাঁদাবাজি করছে।’


সাইফুল আলম আরও বলেন, ‘আমার এলাকার সবচেয়ে বড় চাঁদাবাজির এলাকা হলো কারওয়ান বাজার। আগে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজে চাঁদাবাজিতে জড়িত ছিলেন। তিনি আমার মহল্লার লোক, আমি সব পরিষ্কার জানি। কারওয়ান বাজারে চাঁদাবাজি কেন্দ্র করে যুবদলের একজন নেতা (মুসাব্বির) নিহত হয়েছিলেন। বিএনপির এমপি মামলা করার কথা বলেছেন। কিন্তু পুলিশ চাঁদাবাজি নিয়ে সরকারি দলের লোকের বিরুদ্ধে মামলা নেয় না।’


চাঁদাবাজি নিয়ে বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে কথা হয়েছে বলে জানান সাইফুল আলম খান। তিনি বলেন, ‘আমি তাঁর সহযোগিতা চেয়েছি। একজন মন্ত্রী আমাকে পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপ করতে। আমি চাচ্ছি কারওয়ান বাজার, মহাখালী বাসস্ট্যান্ড ও তেজগাঁও অঞ্চলে যে চাঁদাবাজি হচ্ছে, তা বন্ধ হোক।’




সর্বশেষ সব খবর

ছাত্রলীগের নেতা ইউসুফ রানা

  • প্রকাশ : শনিবার ১০ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৭:৩৩ পিএম

রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগকে গোপনে সংগঠিত করা এবং অনুসারীদের নিয়ে এলাকায় মহড়া দিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে ধানমন্ডি থানা ছাত্রলীগের নেতা ইউসুফ রানার বিরুদ্ধে।


ইউসুফ রানা ধানমন্ডি থানা ছাত্রলীগের নেতা হিসেবে পরিচিত। সাম্প্রতিক একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশের বাইরে আত্মগোপনে থাকার পর তিনি আবারও রাজনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছেন।


স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, ইউসুফ রানা আড়ালে থেকে অনুসারীদের মাধ্যমে মোটরসাইকেল শোডাউন, মিছিল ও সভাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পরিচালনা করছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দা তাঁর অনুসারীদের বিরুদ্ধে এলাকায় অস্ত্র প্রদর্শনেরও অভিযোগ করেছেন।


তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে ইউসুফ রানার বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।


প্রতিবেদনে ধানমন্ডি থানার এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের গোপন তৎপরতা চালানো ও সংগঠিত করার অভিযোগে ইউসুফ রানাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তবে অভিযোগগুলোর সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।


এদিকে, স্থানীয় বাসিন্দারা এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে অভিযোগগুলো তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।


অন্যদিকে, বিএনপির ছাত্রদল নেতা আমান দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ছাত্রদলের এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের দেশে ফেরা ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার বিরোধিতা করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি তাঁদের কর্মকাণ্ড দমনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানান।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ১০ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৩:০২ পিএম

রাজধানীর আগারগাঁও লিংক রোডে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে দুটি ককটেল নিক্ষেপ করেছে দুর্বৃত্তরা। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) দিবাগত রাত সোয়া ১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে একটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। অন্যটি ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) বোম ডিসপোজাল ইউনিট বিস্ফোরণের মাধ্যমে নিষ্ক্রিয় করে।


ঘটনায় জড়িত দুই মোটরসাইকেল আরোহীকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে কাজ করছে পুলিশ। ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে রাত আড়াইটার দিকে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) ইবনে মিজান।


তিনি বলেন, রাত সোয়া ১টার দিকে দুই মোটরসাইকেল আরোহী ঘটনাস্থলে এসে দুই থেকে তিন মিনিট অবস্থান করেন। এ সময় তারা আশপাশ পর্যবেক্ষণ করেন। 


এরপর দুটি ককটেল নিক্ষেপ করে সেখান থেকে চলে যান। তারা আগারগাঁও হয়ে কাফরুল রোডের দিকে চলে গেছেন বলে তথ্য পেয়েছে পুলিশ।


ডিসি ইবনে মিজান বলেন, ঘটনার পরপরই পুলিশের দল মাঠে নেমেছে। জড়িতদের শনাক্ত করতে আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হবে। রাতে দোকানপাট ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে সব ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। সকালে প্রতিষ্ঠানগুলো খুললে ফুটেজ সংগ্রহ করে পরবর্তী কার্যক্রম চালানো হবে।


বিস্ফোরিত না হওয়া ককটেলটি পরীক্ষা করে বোম ডিসপোজাল ইউনিট কোনো স্প্লিন্টার বা ক্ষতিকর উপাদান পায়নি বলে জানান ডিসি ইবনে মিজান। তার ভাষ্য, বস্তুটি অনেকটা পটকার মতো ছিল।


প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পাশের মতো স্পর্শকাতর এলাকায় এ ঘটনায় পুলিশের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দুর্বৃত্তরা মূল সড়ক এড়িয়ে লিংক রোড দিয়ে এসে ককটেল নিক্ষেপ করে চলে যায়। মূল সড়লকেন্দ্রিক নিরাপত্তাব্যবস্থা থাকলেও তারা বিকল্প পথ ব্যবহার করেছে।


ডিসি ইবনে মিজান আরও বলেন, ঘটনাটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি- চ্যাটজিপিটি দিয়ে বানানো

  • প্রকাশ : শনিবার ১০ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:৪০ এএম

‎ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগের পেছনে দেয়াল ঘেঁষে একটু খালি জায়গা। ৬ অক্টোবর, বিকেল ৫টা। আনুমানিক ৪০ বছর বয়সী এক ব্যক্তি শোওয়া। নড়াচড়া তেমন নেই। ডান পায়ের গোড়ালিতে ব্যান্ডেজ করা। পাশ দিয়ে একের পর এক মানুষ যাচ্ছে, কারও সেদিকে ভ্রুক্ষেপ নেই। আশপাশের কেউও জানেন না লোকটি কোথা থেকে এসেছেন, পরিবার কোথায়। লোকটির সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেও কোনো উত্তর পাওয়া গেল না। 

‎

‎লোকটি যে স্থানে শুয়ে ছিলেন, ওইদিন সকালে সেখান থেকেই একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পরিচয় বের করতে পারেনি পুলিশ। একই দিন কাছাকাছি সময়ে ওই স্থান থেকে কিছুটা দূরে পাওয়া যায় আরও একজনের মরদেহ। তিনিও অজ্ঞাতপরিচয়। পুলিশ সদস্যদের ধারণা, অসুস্থতাজনিত কারণে তাদের মৃত্যু হয়েছে। শুধু এই দুজন নয়, শাহবাগ থানাধীন এলাকায় গত এক মাসে অন্তত ১৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের কারও পরিচয় বের করা যায়নি। বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হয়েছে।

‎

‎স্থানীয়রা জানান, ঢাকা মেডিকেলের আশপাশসহ এই এলাকায় বিপুলসংখ্যক ভাসমান মানুষ থাকে। পুরো শাহবাগ এলাকায় এমন মানুষের সংখ্যা অনেক। এর মধ্যে আছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকা, জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট এলাকা, চাঁনখাঁরপুল ও হাইকোর্টের মাজার, দোয়েল চত্বর ও বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা। 

‎

‎পুলিশের তথ্যমতে, ঢাকার মধ্যে সবচেয়ে বেশি অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহ পাওয়া যায় শাহবাগ এলাকায়। গত ২৯ সেপ্টেম্বর এ এলাকায় এক দিনে তিনজনের মরদেহ পাওয়া যায়। আগের দিন ২৬ সেপ্টেম্বর একই এলাকা থেকে চারজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়। 

‎রাজধানীর প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এ এলাকায় সরকারি-বেসরকারি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান আছে। জায়গাটি একই সঙ্গে পরিচয়হীন মানুষের ঠিকানাও। মৃত্যুর পর যাদের অধিকাংশের পরিচয় পাওয়া যাচ্ছে না।

‎

‎শাহবাগ থানা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৯ মাসে শাহবাগ, ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও আশপাশের এলাকা থেকে ৭৯টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৪ জনের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। ৬৫ জনের পরিচয় মেলেনি। এর আগে ২০২৫ সালে ৮১টি অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে পরিচয় শনাক্ত হয় ১৩ জনের। গত ২১ মাসে উদ্ধার হওয়া ১৬০টি মরদেহের মধ্যে পরিচয় মিলেছে ২৭টির। পরিচয়হীন থেকে গেছেন ১৩৩ জন, যা শতকরা হিসাবে অজ্ঞাতনামা ৮৩ শতাংশ। 

‎

‎এদিকে ডিএমপির তথ্য মতে, ২০২৫ সালে ঢাকা মহনগর পুলিশের আট বিভাগে ২১৪টি অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহ পাওয়া যায়। এর মধ্যে ৮১টি হয়েছে রমনা বিভাগে, যার বেশির ভাগই শাহবাগ থানাধীন এলাকার। অন্য বিভাগগুলোর মধ্যে তেজগাঁওয়ে ৫১টি, ওয়ারীতে ২১, লালবাগে ১৭, মতিঝিলে ১৭, মিরপুরে ১২, উত্তরায় ৯ এবং সবচেয়ে কম গুলশানে ৬টি অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আর চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত ঢাকা মহানগরীতে ৭৬টি অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ৩১টি রমনার এবং অধিকাংশই শাহবাগ এলাকার। এর পরের স্থান মতিঝিলের ১৪টি। তারপর ওয়ারী ১৩টি।

‎

‎পুলিশের তথ্য ও মরদেহের নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, মারা যাওয়া ব্যক্তিদের অধিকাংশের বয়স ৪০ বছরের বেশি। তাদের বড় একটি অংশ মাদকাসক্ত। বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়া, দীর্ঘদিন চিকিৎসার বাইরে থাকা এবং শরীরে পচন ধরার মতো জটিলতায়ও অনেকের মৃত্যু হয়েছে।

‎

‎পুলিশ ও চিকিৎসকরা জানান, অজ্ঞাতপরিচয় মানুষগুলো মূলত ভাসমান। তাদের নিয়মিত চিকিৎসা নেওয়ার সামর্থ্য নেই, পুষ্টিকর খাবারও খেতে পারে না। দেখা যায়, ঠান্ডাজনিত রোগ, বার্ধক্যজনিত জটিলতা বা অন্যান্য অসুস্থতায় আক্রান্ত হয়ে তুলনামূলক কম বয়সে তারা মারা যান।

‎

‎ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক সমকালকে বলেন, গৃহহীন, পারিবারিকভাবে বিচ্ছিন্ন, মানসিকভাবে অসুস্থসহ মানুষ নানা কারণে ভবঘুরে হয়, সড়কে আশ্রয় নেয়। রাজধানীতে এসব মানুষের পরিচয় বা তালিকা সরকারের পক্ষ থেকে করা প্রয়োজন। এতে একদিকে তারা কোনো অপরাধে জড়িয়ে গেলে তা যেমন চিহ্নিত করা সম্ভব, অন্যদিকে মৃত্যুর পরও তাদের পরিচয় জানা ও স্বজনদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া সহজ হবে। এটি সরকারের অন্যতম জনকল্যাণমূলক দায়িত্ব। 

‎

‎শাহবাগ এলাকায় কেন এত ভাসমান মানুষ


‎গত দুই মাসে শাহবাগ এলাকার ভাসমান লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও শাহবাগ এলাকায় পুলিশের তৎপরতা কম থাকায় জায়গাগুলোকে নিরাপদ মনে করেন তারা। এ ছাড়া হাইকোর্ট ও দোয়েল চত্বরের পাশের মাজারে দিনে দুবেলা বিনামূল্যে খাবার পাওয়ায় এসব এলাকায় থাকেন অনেকে। খাবারের জন্য জাতীয় স্টেডিয়াম, পুরান ঢাকা ও কমলাপুর থেকেও অনেকে আসেন।

‎

‎জাতীয় ঈদগাহের দক্ষিণ-পূর্ব কোণে শাহ খাজা শরফুদ্দীন চিশতির (রহ.) মাজারের (হাইকোর্ট মাজার) পক্ষ থেকে প্রতিদিন রান্না করা খাবার বিতরণ করা হয়। সেখানে আগে থেকেই ভিড় করে ভবঘুরে ও ভাসমান মানুষ।

‎

‎মাজারের বাবুর্চি মো. নাজমুল হোসেন জানান, প্রতিদিন দুপুরে ও সন্ধ্যায় প্রায় ৫০০ জনের খাবার রান্না করে দেওয়া হয়। এর মধ্যে অর্ধেকই থাকে ভবঘুরে প্রকৃতির মানুষ। তারা আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে এসে জড়ো হন।

‎

‎এ ছাড়া ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আশপাশে অস্থায়ী খাবারের দোকান, অমর একুশে হল ও আবাসিক এলাকার সামনে আনন্দ বাজার থেকে ভবঘুরে লোকজন খাবার সংগ্রহ করেন। তাই এসব এলাকায় অনেকে থাকেন।

‎

‎দোয়েল চত্বরের পাশে ঢাকা গেটে সাগর নামে মধ্যবয়সী এক ভবঘুরে জানান, পরিবার ছেড়ে পাঁচ-ছয় বছর ধরে দোয়েল চত্বরের আশপাশে থাকেন। এ সময়ে তাঁর আশপাশে থাকা সাত-আটজন মারা গেছেন। সারাদিন ওই এলাকাতেই থাকেন। তিনিসহ তাঁর মতো সবাই পাশের মাজার থেকে খাবার খান। হাইকোর্টের মাজার গেটে নূর আলম নামের এক ভবঘুরে বলেন, ‘কোনো কাজ করি না। মাজার থেকে খাবার খাই।’


‎ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের পাশে জাহাঙ্গীর আলম জানান, তিনি অনেক দিন ধরে অসুস্থ। বেশি নড়াচড়া করতে পারেন না। খাবার দেন আশপাশের দোকানিরা।

‎

‎বছরে গড়ে ২৯২ অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহের ময়নাতদন্ত


‎ঢাকা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন অ্যান্ড টক্সিকোলজি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ থেকে ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত বিভাগটিতে এক হাজার ৬৯০টি অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ২০২১ সালে ২৪৮টি, ২০২২ সালে ২৩০টি, ২০২৩ সালে ২৫০টি, ২০২৪ সালে ৩২৪টি, ২০২৫ সালে ৩৮৪টি এবং চলতি বছর আগস্ট পর্যন্ত ২৫৪টি অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হয়। এভাবে প্রায় পৌনে ছয় বছরে গড়ে ২৯২টি মরদেহের ময়নাতদন্ত হয়েছে। শীতকালে অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি থাকে।

‎

‎চিকিৎসকরা জানান, অজ্ঞাত মরদেহের পরিচয় শনাক্তে ময়নাতদন্তের সময়ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করা হয়। মরদেহের দাঁত ও হাড়ের নমুনা সংগ্রহ করে সংরক্ষণ করা হয়। এসব নমুনা প্রয়োজন অনুযায়ী ঢামেক ও সিআইডিতে রাখা হয়, যাতে পরবর্তী সময়ে স্বজনের সন্ধান পাওয়া গেলে ডিএনএ পরীক্ষাসহ অন্যান্য প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করা যায়।

‎

‎ঢামেকের ফরেনসিক মেডিসিন অ্যান্ড টক্সিকোলজি বিভাগের প্রধান ডা. মমতাজ আরা বলেন, বিভিন্ন স্থানে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় মারা যাওয়া ব্যক্তিদের অনেকেই সেপটিক শকে আক্রান্ত ছিলেন। শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ একে একে অকার্যকর হয়ে গেলে এ ধরনের রোগীরা সেপটিক শকে মারা যান। 

‎

‎পরিচয় শনাক্তে পুলিশ যা করে


‎পুলিশ জানিয়েছে, প্রতিটি মরদেহের পরিচয় শনাক্তে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহের চেষ্টা করা হয়। পরে সিআইডি ও পিবিআইর মাধ্যমে এসব তথ্য জাতীয় তথ্যভান্ডারের সঙ্গে মিলিয়ে দেখার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু যাদের জাতীয় পরিচয়পত্র কখনও করা হয়নি তাদের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয় না। আবার মরদেহ পচে যাওয়ায় অনেক সময় আঙুলের ছাপ বা অন্যান্য বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হয় না।

‎

‎ফিঙ্গার প্রিন্টের মাধ্যমে পরিচয় শনাক্ত করা না গেলে সারাদেশের থানাগুলোতে বার্তা পাঠানো হয়। পাশাপাশি ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারের মাধ্যমেও পরিচয় শনাক্তের জন্য তথ্য প্রচার করা হয়। দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব না হলে মরদেহের ডিএনএ নমুনা সংরক্ষণ করা হয়। 

‎

‎শাহবাগ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জাহাঙ্গীর আলম বলেন, অজ্ঞাতপরিচয়ের যেসব মরদেহ উদ্ধার করা হয়, তাদের অধিকাংশেরই কোনো পরিচয়পত্র থাকে না। এ কারণে বেশির ভাগ মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয় না। পরিচয় না পেলে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে বেওয়ারিশ লাশ হিসেবে সেগুলো আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

‎

‎বছরে ৫৭৭ বেওয়ারিশ লাশ দাফন 


‎আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রাজধানীতে ৪৬০টি মরদেহ দাফন করা হয়েছে। ২০২৫ সালে ৬৪৪টি, ২০২৪ সালে ৫৭০টি এবং ২০২৩ সালে ৪৯০টি মরদেহ দাফন করা হয়। এই চার বছরে রাজধানীতে মোট দুই হাজার ১৬৪টি মরদেহ দাফন করা হয়েছে। এসব মরদেহ রাজধানীর রায়েরবাজার ও জুরাইন কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

‎

‎হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বছরে গড়ে প্রায় ৫৭৭টি মরদেহ দাফন করা হয়েছে। পুলিশ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে বেওয়ারিশ মরদেহ গ্রহণের পর প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সেগুলো রায়েরবাজার ও জুরাইন কবরস্থানে দাফন করা হয়।

‎

‎আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের দাফন সেবা কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম বলেন, বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা মরদেহের তালিকা সংরক্ষণ করা হয়। মরদেহ দাফন করার পর কোনো পরিবার-স্বজনের খোঁজ পাওয়া গেলে তাদের আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই কবর চিহ্নিত করে দেওয়া হয়।

সর্বশেষ সব খবর

শারজাহ থেকে আসা ঢাকাগামী এয়ার অ্যারাবিয়ার একটি ফ্লাইটে আসা যাত্রীর কাছ থেকে এসব সোনার ডিম উদ্ধার করা হয়।

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৮ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৬:৫৯ পিএম

রাজধানীর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রীর শরীর থেকে তিনটি সোনার ডিম উদ্ধার করেছে ঢাকা কাস্টমস হাউসের প্রিভেন্টিভ টিম। 


বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৬টায় শারজাহ থেকে আসা ঢাকাগামী এয়ার অ্যারাবিয়ার একটি  ফ্লাইটে আসা যাত্রীর কাছ থেকে এসব সোনার ডিম উদ্ধার করা হয়।


বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকালে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড।


দুই বিমানকর্মীর জুতার ভেতর লুকানো ছিল ৯ কেজি সোনা


বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সকাল সাড়ে ৬টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, ঢাকায় শারজাহ থেকে আসা এয়ার অ্যারাবিয়া (ফ্লাইট নাম্বার G9 518) যোগে সোনা চোরাচালান সংগঠিত হতে পারে মর্মে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঢাকা কাস্টমস হাউসের প্রিভেন্টিভ টিম কর্তৃক বিমানবন্দরে বিভিন্ন পয়েন্টে নজরদারি করে। 


এক পর্যায়ে আরমান উদ্দিন সিদ্দিক (Passport No- A12028533) নামের যাত্রী ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করে ব্যাগেজ বেল্ট-০২ এ উপস্থিত হলে প্রাথমিকভাবে সন্দেহজনক বিবেচনায় প্রিভেন্টিভটিম কর্তৃক যাত্রীকে তল্লাশি করে যাত্রীর পায়ুপথে বিশেষভাবে লুকানো অবস্থায় সাদা স্কচটেপ দিয়ে মোড়ানো তিনটি ডিম্বাকৃতি পেস্ট আকারে সোনা জব্দ করা হয়। যার ওজন (৪৩০ গ্রাম×৩ পিস) ১২৯০ গ্রাম ও বিশুদ্ধতার পরিমাণ ২৪ ক্যারেট। স্বর্ণকারের প্রত্যয়ন মোতাবেক ডিম্বাকৃতির সোনার পেস্ট পরিশোধন করা হলে আনুমানিক ১০০০ গ্রাম স্বর্ণ পাওয়া যেতে পারে। পণ্যের আনুমানিক বাজার মূল্য ১ কোটি ৭৪ লাখ টাকা।


যাত্রীর বিরুদ্ধে কাস্টমস হাউস ঢাকার প্রিভেন্টিভ টিম কর্তৃক ফৌজদারি মামলা দায়ের করার কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলেও জানানো হয় বিজ্ঞপ্তিতে।


বিমানবন্দরের ওয়াশরুমের কমোডের ট্যাংকে ‘স্বর্ণের গুপ্তভাণ্ডার’!



সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৮ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৬:৪৩ পিএম

‎রাজধানীর মহাখালী বাস টার্মিনালের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি বাসে আগুন লেগেছে। পরে ফায়ার সার্ভিসের দুই ইউনিটের চেষ্টায় দ্রুত সময়ের মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।‎ ‎আজ বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দুপুরে মহাখালী বাস টার্মিনাল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।


ফায়ার সার্ভিস কন্ট্রোল রুমের কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম জানান, মহাখালী বাস টার্মিনালের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা প্রাইম পরিবহনের একটি এসি বাসে আগুন লাগে। খবর পাওয়ার পর ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিভিয়ে ফেলে। তবে, এ ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।


তবে কী কারণে হঠাৎ বাসটিতে আগুন লাগে এখন পর্যন্ত সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারেননি কেউ। এ সময় আশপাশে থাকা লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছিল। 

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৮ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:৪৮ এএম

গ্যাস পাইপলাইনের জরুরি মেরামত কাজের জন্য বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাজধানীর কয়েকটি এলাকায় সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত  টানা ১০ ঘণ্টা গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে।


বুধবার (৭ অক্টোবর) এক বিজ্ঞপ্তিতে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে।  


বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত আগারগাঁও, তালতলা পশ্চিমাংশ, শেওড়াপাড়া পশ্চিমাংশ, কাজীপাড়া পশ্চিমাংশ, মিরপুর-১০ পশ্চিমাংশ, মিরপুর-১, পাইকপাড়া, কল্যাণপুর, শ্যামলী, মিরপুর ৬০ ফুট ও পীরের বাগ এলাকায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে।   


এ সময় এসব এলাকার আবাসিক, বাণিজ্যিক ও সিএনজি গ্রাহকরা গ্যাস পাবেন না। কল্যাণপুর থেকে মিরপুর-১ গামী সড়কের ডান পাশের এলাকাও এ কর্মসূচির মধ্যে থাকবে।


এ ছাড়া আশপাশের এলাকায় গ্যাসের স্বল্পচাপ থাকতে পারে। মেরামত কাজের কারণে সাময়িক অসুবিধার জন্য গ্রাহকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ।

সর্বশেষ সব খবর