ধানমন্ডিতে ছাদ থেকে ফেলে গৃহকর্মীকে হত্যা

  • প্রকাশ : শনিবার ২০ জুন, ২০২৬, সময় : ১০:৫৯ এএম

রাজধানীর ধানমন্ডিতে একটি বহুতল ভবনের আটতলা ছাদ থেকে রিক্তা মণি (১২) নামে এক গৃহকর্মীকে ফেলে দিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বাসার গৃহকর্তা ও গৃহকর্ত্রীকে আটক করেছে পুলিশ।


শুক্রবার (১৯ জুন) ভোর ৬টার দিকে ধানমন্ডির ৯/এ নম্বর সড়কের একটি বাসায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত রিক্তা মণির বাড়ি সুনামগঞ্জে। সে ওই বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে কর্মরত ছিল।


ঘটনার পর খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে রিক্তার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।


শনিবার (২০ জুন) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ওসি সাইফুল ইসলাম।


তিনি জানান, ঘটনার পর ওই বাসার গৃহকর্তা প্রকৌশলী সবিবুর রহমান এবং তার স্ত্রী ফারাহ নুসরাতকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়েছে।


ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, নিহত রিক্তার পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। পুলিশ ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত করছে।



সর্বশেষ সব খবর

খেলনার আড়ালে আমদানি কোটি টাকার ১৯৮০ ড্রোন জব্দ

কমলাপুর আইসিডি কাস্টমসের অভিযান


  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:২৯ পিএম

খেলনার আড়ালে অবৈধভাবে আমদানি করা প্রায় এক কোটি টাকা মূল্যের ১ হাজার ৯৮০টি ড্রোন জব্দ করেছে ঢাকা কাস্টমস হাউস। গতকাল বুধবার রাজধানীর কমলাপুর আইসিডি কাস্টমসের অভিযানে এই চালানটি ধরা পড়ে। এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।


এতে বলা হয়, চকবাজারের ‘মিম কালেকশন’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান রিমোট কন্ট্রোল খেলনা আমদানির কথা বলে এই চালানটি আনে। কিন্তু কাস্টমস কমিশনারের কাছে থাকা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ২৯ সেপ্টেম্বর চালানটি পরীক্ষা করা হয়। এ সময় ঘোষণার সঙ্গে অসঙ্গতি পাওয়া যায়। তখনই বেরিয়ে আসে আসল তথ্য। দেখা যায়, খেলনার আড়ালে ঘোষণা ছাড়াই আনা হয়েছে প্রায় ৬৫৬ কেজি ওজনের ১৯৮০ পিস অবৈধ ড্রোন।


চালানটি বিল অব এন্ট্রি নম্বর-১২৩৬৭, তারিখ ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ এর মাধ্যমে আমদানি করা হয়। এতে পণ্য হিসেবে রিচার্জেবল রিমোট কন্ট্রোল (আরআরসি) খেলনা ঘোষণা করা হয়েছিল।


এনবিআর বলছে, আটক ড্রোনগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রাজস্ব ও প্রযোজ্য জরিমানা আদায় করা হবে। একই সঙ্গে ড্রোনগুলোর উড্ডয়নসীমা এবং সংশ্লিষ্ট দলিলাদি যাচাই করা হবে। যাচাই-বাছাই শেষে পরবর্তী ব্যবস্থা 


কাস্টমস আইন, ২০২৩ ও সংশ্লিষ্ট বিধিমালা অনুযায়ী এ ঘটনায় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।


এ ব্যাপারে কাস্টম হাইজ আইসিডি, ঢাকার কমিশনার কাজী মুহাম্মদ জিয়াউদ্দীন বলেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যানের নির্দেশনা অনুযায়ী আমদানি নীতি পরিপন্থি পণ্য আমদানি ও রাজস্ব ফাঁকি রোধে কাস্টমস হাইজ আইসিডি, ঢাকা কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১:২৫ পিএম

হাফপ্যান্টকে ‘অশালীন’ বলে একজন অ্যাথলেট প্রশিক্ষককে মেট্রো স্টেশনে পুলিশের হেনস্তার প্রতিবাদে হাফপ্যান্ট পরে মেট্রোরেলে চড়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন কয়েকজন তরুণ।


বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকাল সাতটার দিকে ঢাকার ফার্মগেট মেট্রো স্টেশনে হাফপ্যান্ট পরে প্রতিবাদ জানান পাঁচ তরুণ। এই স্টেশনেই গত ২৭ সেপ্টেম্বর সকালে টি-শার্ট ও হাফপ্যান্ট পরে মেট্রোরেলে উঠতে যাওয়ায় সাজ্জাদ হোসেন নামের এক অ্যাথলেট প্রশিক্ষক পুলিশের হেনস্তার মুখে পড়েন।


সাজ্জাদ হোসেনকে হেনস্তার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার সকালে (ভোর পাঁচটা থেকে সকাল আটটা) ফার্মগেট মেট্রো স্টেশনে ‘হাফপ্যান্ট পরে মেট্রোরেলে!’ শীর্ষক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল। স্বাভাবিক স্পোর্টসওয়্যার পরার কারণে কাউকে হয়রানি করা বা গণপরিবহন ব্যবহারে বাধা দেওয়া উচিত নয় বলে যারা মনে করেন, তাদের এই কর্মসূচিতে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।


এই কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে ‘হাফপ্যান্ট পরে মেট্রোরেলে!’ শিরোনামে আয়োজকদের খোলা একটি ফেসবুক ইভেন্টে বুধবার রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত ৬৭২ জন ‘গোয়িং’ (যাচ্ছি) ও ৮ হাজার ২০০ জন ব্যবহারকারী ‘ইন্টারেস্টেড’ (আগ্রহী) দিয়েছিলেন।


আজ সকাল সাতটার দিকে তিনজন তরুণ ফার্মগেটে আনোয়ারা উদ্যান-সংলগ্ন মেট্রো স্টেশনের নিচে আসেন। তারা হলেন বেসরকারি চাকরিজীবী সাগর মজুমদার ও রকিবুল ইসলাম এবং ব্যবসায়ী মাহফুজুর রহমান।


এসময় রানার ও বেসরকারি চাকরিজীবী সাগর মজুমদার বলেন, ‘আমরা রানার। দৌড়ানোর সময় শর্টস পরাটা বেশি কমফোর্টেবল। সে জন্য আমরা শর্টস পরি। দেশ-বিদেশে পরিচিত অ্যাথলেট সাজ্জাদ হোসেন সম্প্রতি শর্টস পরে মেট্রোতে উঠতে গিয়ে হয়রানির শিকার হয়েছেন। আমরা চাই না আর কেউ তার মতো হয়রানির শিকার হোক। সে জন্যই প্রতিবাদ জানাতে আসা।’


সাগর মজুমদার জানান, যেহেতু তিনি একজন রানার, ফলে তিনিও সাজ্জাদ হোসেনের মতো হয়রানির শিকার হতে পারেন মেট্রোরেল বা অন্য যেকোনো জায়গায়। সেই জায়গা থেকে একটি কর্মসূচি ডাকা হয়েছে। সেখানে যোগ দিতে তিনি এসেছেন। সবার প্রতি তাদের বার্তা হচ্ছে, ‘আসুন, আমরা নেগেটিভ মাইন্ডটাকে (নেতিবাচক মন) সরিয়ে ফেলি। শর্টস আসলে বিষয় নয়, নেতিবাচকভাবে দেখলে নেতিবাচক আর ইতিবাচকভাবে দেখলে ইতিবাচক।’


সকাল সাতটার পর ‘শর্টস’ পরে মেট্রোরেলে ওঠেন সাগর মজুমদার ও মাহফুজুর রহমান। মেট্রোরেলে উঠে টিকিট কাউন্টারে গিয়ে বিজয় সরণি স্টেশনের জন্য টিকিট কাটেন সাগর ও মাহফুজুর। এরপর প্ল্যাটফর্মে ওঠার উদ্দেশ্যে টিকিট পাঞ্চ করে তারা মেট্রোরেলের ভেতরের অংশে প্রবেশ করেন। পরে মেট্রোরেলে ফার্মগেট থেকে বিজয় সরণি স্টেশনে নেমে নিজেদের মতো চলে যান সাগর ও মাহফুজুর। এদিকে আরেকজন তরুণ রকিবুল তাদের সঙ্গে ওঠেননি।


রকিবুল হাসান বলেন, ‘আমি যাষ্ট একজন রানার ভাইকে হয়রানি বা হ্যারেস করা হয়ছে, এবং ইভেন্টে এইটা পরে দেখলাম, পরিচিত অনেকে ইন্টারেস্টেড দিছে। সেই অনুপাতে যাওয়া প্রতিবাদ স্বরুপে ইভেন্ট অংশগ্রহণ করা। কিন্তু গিয়ে দেখি ব্যাতিক্রম কিছু।’


সাগর ও মাহফুজুর যখন মেট্রোরেলে ওঠেন, একই সময়ে ফার্মগেট মেট্রো স্টেশনের অন্য একটি ফটক দিয়ে আরও দুজন প্রতিবাদী তরুণ হাফপ্যান্ট পরে ওঠেন বলে জানা গেছে। তবে ওই দুজনের নাম-পরিচয় জানা যায়নি। তারা ফার্মগেট স্টেশন থেকে মতিঝিলের টিকিট কেটেছিলেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।


গত ২৭ সেপ্টেম্বর সকালে শরীরচর্চা শেষ করে টি-শার্ট ও হাফপ্যান্ট পরে মেট্রোরেলে উঠতে যাওয়ায় অ্যাথলেট প্রশিক্ষক সাজ্জাদ হোসেনের পোশাককে ‘অশালীন’ বলে ফার্মগেট মেট্রো স্টেশনে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্য তাকে টিকিট পাঞ্চ মেশিনের সামনে ৪০ মিনিট দাঁড় করিয়ে রাখেন। যদিও মেট্রোরেলে চলাচলের জন্য কোনো ড্রেসকোড নেই। এর প্রতিবাদে ফার্মগেট স্টেশনে কর্মসূচির জন্য খোলা ফেসবুক ইভেন্টে লেখা হয়েছিল, ‘আপনার রানিং শর্টস পরুন, টি-শার্ট পরুন, একসঙ্গে আসুন, মেট্রোতে উঠুন৷ এটি কোনো বিশৃঙ্খলা তৈরির আয়োজন নয়। এটি একটি শান্তিপূর্ণ নাগরিক প্রতিবাদ- স্বেচ্ছাচারী হয়রানির বিরুদ্ধে, স্পষ্ট নিয়মের দাবিতে এবং যাত্রীদের প্রতি সম্মানজনক আচরণের পক্ষে। কোনো কিছু নিষিদ্ধ হলে তার স্পষ্ট ও লিখিত নিয়ম থাকা উচিত। সমস্যা শর্টসে নয়, সমস্যা হয়রানিতে!’

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:৪৩ এএম

রাজধানীর দনিয়া ও মদিনাবাগ এলাকায় গ্যাসলাইন পরিবর্তন কাজের জন্য আজ বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ৬ ঘণ্টা গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তথ্য জানায় তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ।


বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ১ অক্টোবর দুপুর ২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত মোট ৬ ঘণ্টা মদিনাবাগ, দনিয়া এলাকায় বিদ্যমান বিতরণ লাইন পরিবর্তনের কাজ করা হবে। এ কারণে স্মৃতিধারা, জাপানি বাজার, মদিনাবাগ, দনিয়া ও রায়েরবাগ এলাকার সব আবাসিক ও বাণিজ্যিক শ্রেণির গ্রাহকের গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে।


এছাড়া তৎসংলগ্ন এলাকায় গ্যাসের স্বল্পচাপ বিরাজ করতে পারে বলে জানিয়েছে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ। তাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ সাময়িক এই অসুবিধার জন্য গ্রাহকদের কাছে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছে।



সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বুধবার ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ২:০০ পিএম

রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বরের হোপ মার্কেট এলাকায় ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযানের সময় হামলা ভাঙচুর ও আগুনের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। 


‎হকাররা জানান, সকালে সিটি করপোরেশনের লোকজন ফুটপাতের দোকান উচ্ছেদ করতে আসেন। হোপ মার্কেটের সামনের ফুটপাতের দোকান উচ্ছেদ করতে গিয়ে সেখানে বিদ্যুতের তার থেকে আগুন ধরে যায়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন হকাররা। পরে সিটি করপোরেশনের কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করেন তারা।


সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল পৌনে ১১টার দিকে হোপ মার্কেটের দিক থেকে দৌড়ে মিরপুর ১৩ নম্বরের দিকে যাচ্ছেন কিছু আনসার সদস্য। ২০ থেকে ৩০ জন লোক তাদের দিকে লাঠি ও ইটপাটকেল ছুঁড়ে মারছেন। 


হোপ মার্কেটের সামনে গিয়ে দেখা যায়, বায়তুল কুদ্দুস জামে মসজিদের পশ্চিম পাশের একটি জায়গায় আগুন জ্বলছে। এ সময় মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বর থেকে পুলিশের পিক-আপ গেলে হকাররা সেটিকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। তার কয়েক মিনিট পরই ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের দুটি গাড়ি যায় আগুন নেভাতে।


প্রায় ১৫-২০ মিনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে ফায়ার সার্ভিস। সেখানে বিভিন্ন মালামাল ছিল বলে জানান হকাররা। ‎এ সময় কয়েকশ হকার সেখানে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। সিটি করপোরেশনের দুটি গাড়ি ভাঙচুর করে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।  


ঘটনাস্থল থেকে ছবি ও ভিডিও তুলতে গেলে বাধা দেন তারা। এমনকি গণমাধ্যমকর্মীদেরও বাধা দেওয়া হয়। এ সময় আগুনে পোড়া গাড়ির ছবি তুলতে গেলে সমকালের আলোকচিত্রী মাহবুব হোসেন নবীনের ওপর হামলা চালায় হকাররা। ঘটনার সময় কোনো পুলিশ সদস্যকে সেখানে দেখা যায়নি। 

‎ 

সর্বশেষ সব খবর

জমির ভাগ পেতে হামলার দায়িত্ব নেন শাহরিয়া

ইসিবি চত্বরের আবাসন প্রকল্পে হামলা


ইসিবি চত্ত্বর গিনি প্রপার্টিজে সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুর

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১১:৫৫ এএম

৩৫ কাঠা জমি উদ্ধার করে দিতে পারলে এর একটি অংশের মালিকানা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল শাহরিয়া মাহমুদকে। সেই প্রতিশ্রুতি পেয়ে রাজধানীর ইসিবি চত্বর এলাকার নিউগিনি প্রপার্টিজ নামে আবাসন প্রকল্পে হামলার দায়িত্ব নেন তিনি।  হামলা ‘সফল’ করতে মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগের স্থানীয় নেতা শাহ আলম অনিকসহ কয়েকজনের মাধ্যমে ভাসানটেক ও পল্লবীর বস্তি থেকে নিম্নআয়ের মানুষ ভাড়া করা হয়। তারা শনিবার রাতে নিউগিনি আবাসন প্রকল্প এবং কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। 


হামলায় দেশীয় অস্ত্রের পাশাপাশি একাধিক আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। তদন্তসংশ্লিষ্ট ও এলাকা সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। এদিকে হামলা-লুটপাটের ঘটনায় সোমবার আরেকজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার মিজানুর রহমান এজাহারনামীয় ৯ নম্বর আসামি। এ নিয়ে মোট গ্রেপ্তারের সংখ্যা ৬। তাদের মধ্যে মুন্না, মামুন ও আসলামকে রোববার এবং সোমবার শাহরিয়া মাহমুদ ও শাহ আলম অনিককে আদালতে পাঠানো হয়। তাদের পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার জন্য আদালতে আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা ক্যান্টনমেন্ট থানার পরিদর্শক (অপারেশন) সুব্রত দেবনাথ। 


আগামীকাল বুধবার রিমান্ড শুনানির তারিখ ধার্য করে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়। অন্য তিন আসামিরও বুধবার রিমান্ড শুনানির তারিখ ধার্য করা আছে। পাঁচ আসামিই রয়েছেন কারাগারে। 


যে জমিটি নিয়ে বিরোধের কথা বলা হচ্ছে, সে বিষয়ে দুই ধরনের তথ্য পাওয়া গেছে। এক. মেজর জেনারেল (অব.) গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরীসহ কয়েজনের ৩৫ কাঠা জমি রয়েছে নিউগিনি প্রকল্পের ভেতরে। নিউগিনির ভেতরে তাদের জমি খালি পড়ে রয়েছে। এই জমিও এক প্রকার নিউগিনির দখলে। রাস্তা না থাকায় এই জমিতে যাওয়ার সুযোগ নেই। নিউগিনি প্রপার্টিজ গেট দিয়ে রেখেছে। 


এই জমির অবস্থান প্রকল্পের শেষ মাথায়। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুপক্ষের বিরোধ চলছে।  দুই. নিউগিনি প্রপার্টিজ কর্তৃপক্ষের দাবি, গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরীর ২৩ কাঠা জমি ছিল। এর মধ্যে ১৫ কাঠা কয়েক বছর আগে তিনি নিউগিনির কাছে বিক্রি করেন। বাকি আট কাঠা তাঁর রয়েছে। পাশে অন্যদের আরও ১২ কাঠা জমি আছে। এই জমির মালিকরাও মহিউদ্দিনের সঙ্গে হাত মিলেয়েছেন, কারণ তাদের জমিতেও যাওয়ার রাস্তা দিচ্ছে না নিউগিনি। বিক্রি করে দেওয়া ১৫ কাঠা জমি তিনি দখলে নিতে চান। জমির দখল ও রাস্তা নিয়ে বিরোধ তৈরি হয়। 


তদন্ত সূত্র জানিয়েছে, গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরীর সঙ্গে মামলার এক নম্বর আসামি শাহরিয়া মাহমুদের পূর্বপরিচয় রয়েছে। সেই সূত্রে ওই জমি উদ্ধার এবং জমিতে যাওয়ার ফটক ভেঙে দেওয়ার দায়িত্ব নেন শাহরিয়া মাহমুদ।


পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী, শনিবার রাত সোয়া ১১টার দিকে দুই শতাধিক লোক নিউগিনি প্রপার্টিজের দুই পাশের দুই ফটক দিয়ে গুলি করতে করতে ভেতরে প্রবেশ করে। এর আগে দুটি ফটকসংলগ্ন (বাইরের অংশে) দুটি টিনের স্থাপনায় হামলা ও লুটপাট করা হয়। চার নম্বর ফটক দিয়ে ঢুকে কিছুক্ষণ সামনে যাওয়ার পরই বাম পাশে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও এবং আবাসন প্রকল্পের অফিস। স্টুডিও এবং প্রকল্পের অফিসে ঢুকে ভাঙচুর ও লুটপাট শুরু করা হয়। আরও কয়েকটি নির্মাণাধীন ভবনে হামলা এবং নির্মাণশ্রমিকদের মারধর করে মোবাইল ফোন ও টাকা লুট করা হয়। স্টুডিওটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।


এ ঘটনায় রোববার নিউগিনি প্রপার্টিজের পরিচালক সাইফুল ইসলাম ভুইয়া বাদী হয়ে গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরীসহ ১৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ২০০ জনের বিরুদ্ধে ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলা করেন। শাহরিয়াকে মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে এক নম্বর আসামি করা হয়। অপর আসামিদের মধ্যে আবুল কাশেম ক্যান্টনমেন্ট থানা জামায়াতে ইসলামীর রোকন। এ ছাড়া বাবুল হোসেন ও মোহাম্মদ শাহিনুজ্জামান স্থানীয় আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। এ মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া মামুন ও মুন্না ভাসানটেক বস্তির বাসিন্দা এবং আসলাম অটোরিকশাচালক। 


ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসি গিয়াস উদ্দিন বলেন, আসামি শাহরিয়া মাহমুদ ও শাহ আলম অনিককে সোমবার আদালতে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়। আদালত আগামীকাল বুধবার রিমান্ড শুনানির দিন ধার্য করেন।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১১:১৯ এএম

রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় হামলাকারীদের জড়ো করা, দেশীয় অস্ত্র-সরঞ্জাম সরবরাহ ও এক্সক্যাভেটর (খননযন্ত্র) জোগাড়ের সঙ্গে জড়িত মূল ব্যক্তিরা এখনও দৃশ্যমান তদন্তের বাইরে। স্থানীয় বিএনপি এবং যুব ও ছাত্রদলের কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। তারা সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিসহ দুটি প্রভাবশালী গ্রুপের অনুসারী বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।


হামলার আগে ছাত্রদলের সাবেক এক নেতার কার্যালয়ের সামনেসহ ঘটনাস্থলের আশপাশে হামলাকারীরা জড়ো হয়। তবে এ ঘটনায় করা মামলায় তাদের নাম নেই। ঘটনার চার দিন পেরিয়ে গেলেও মূল অভিযুক্ত হানিফ মিয়াসহ বাকিদের কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। তবে হামলার সময়ে একটি সাদা রঙের মাইক্রোবাস ও পাহারায় থাকা সরকারদলীয় স্থানীয় বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীকে দেখা গেছে। সিসি ক্যামেরা ফুটেজে এমন নতুন নতুন তথ্য সামনে আসছে। 


সোমবার গিয়ে দেখা যায়, ‎রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে ভাঙা ভবনের ভেতরে টিকাদান কর্মসূচি চলছে। সেন্টারের ভেতরে ভাঙা ইট ও পড়ে থাকা জিনিসপত্র সরিয়ে পরিষ্কার করা হয়েছে। একটি কক্ষে টিকাদান কার্যক্রম চলছে। বাকি কয়েকটি কক্ষে টেবিল-চেয়ার বসানো হয়েছে। পেছনের অংশে এক্সক্যাভেটর দিয়ে পড়ে থাকা ভাঙা ইট ও গাছ সরানো হচ্ছে। কর্মীরা ভাঙা ভবনের একটি কক্ষে ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুকে হামের টিকাসহ নিয়মিত টিকা দিচ্ছেন।


ছয় মাস বয়সী মেয়েকে নিয়ে আসা রেশমা বলেন, ‘মেয়েকে টিকা দিতে নিয়ে এসেছি। বাসার আশপাশের সবাই এখান থেকে টিকা নেয়। মেয়েকে প্রথম টিকা দিতে নিয়ে এলাম।’


নাতনিকে নিয়ে আসা লিলি বেগম বলেন, ‘আমার ছেলেমেয়েকে এই সেন্টার থেকে টিকা নিয়েছি। নাতনিকেও আগে এখান থেকে টিকা দেওয়ানো হয়েছে। আজকে আবার নিয়ে এলাম।’


রাড্ডার কর্মকর্তারা জানান, গত রোববার যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের নির্দেশের পর রাতেই সামনের গেট সরিয়ে ফেলা হয়। গতকাল সোমবার সকাল সাড়ে ৬টার পর সেন্টারের সামনের অংশে ও সেন্টারের ভেতরে পড়ে থাকা ইট সরিয়ে দেওয়া হয়। পরে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে ‎টিকাদান ও স্বাস্থ্যসেবা চালু করেন তারা। গতকাল মোট ৬৭ জন সেন্টারটিতে সেবা নিতে আসে।


‎রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক ডা. নাসরিন আকতার বলেন, ‘প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশের পর আজ (গতকাল) সেন্টারের গেট খুলে দেওয়া হয়েছে। ভেতরে ভাঙচুর করা জিনিসপত্র সরিয়ে দেওয়ায় সীমিত আকারে আমাদের সেন্টারে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া শুরু হয়েছে।’ 


তিনি বলেন, যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং যারা এর সঙ্গে জড়িত, তাদের সবাইকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হোক।

‎

এদিকে সকাল থেকে রাড্ডা সেন্টার পরিদর্শনে আসেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা। এ সময় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসার দাবি জানান তারা। এ ছাড়া বিভিন্ন সংগঠনের ব্যানারে মানববন্ধন করতে দেখা গেছে। বিভিন্ন সংগঠন রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে।


জড়িত অনেকে স্থানীয় বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত


কয়েকশ লোক বিভিন্ন সরঞ্জাম নিয়ে গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে কয়েক ঘণ্টা ধরে তাণ্ডব চালায় স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে। দুই নিরাপত্তাকর্মীকে জিম্মি করে চিকিৎসা সরঞ্জাম, ওষুধ, টিকাসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র লুট করে। এক্সক্যাভেটর বা ভেকু দিয়ে একটি পাকা ও তিনটি আধা পাকা ভবনসহ স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়। এরপর সেখানে ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’ নামে দুটি সাইনবোর্ড ও দুটি ব্যানার টাঙিয়ে দেয় হামলাকারীরা। এই সমিতির সদস্য সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি বিএনপি নেতা ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক সদস্য মো. হানিফ মিয়া, ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সাবেক সদস্য সচিব ‎মোস্তফা জগলুল পাশা পাপেলসহ স্থানীয় কতিপয় প্রভাবশালী ব্যক্তি। তারা ফেরদৌসী আহমেদ (মিষ্টি) এমপি ও স্থানীয় বিএনপির প্রভাবশালীদের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। তবে ঘটনার পরদিনই ফেরদৌসী আহমেদ (মিষ্টি) জানিয়েছিলেন, তিনি হামলার বিষয়ে কিছু জানেন না।


স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে হামলার আগে জড়িতদের অনেকে শাহ আলী থানা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ ওরফে লেলিনের কার্যালয়ের সামনে জড়ো হন। ‎‎পরে সেখান থেকে তারা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা করতে যান। 


একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, বৃহস্পতিবার রাত ১২টা ৫ মিনিটের দিকে শাহ আলী থানার পাশেই বি-ব্লক মাঠসংলগ্ন লেলিনের কার্যালয়ের সামনে লোকজন জড়ো হয়। পরে সেখান থেকে তারা হামলায় অংশ নেয়। গতকাল সোমবার বিকেলে গিয়ে কার্যালয়টি বন্ধ পাওয়া যায়। 


আশপাশের কয়েকজন দোকানির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দোতলা ভবনটিতে লেলিন তাঁর অনুসারীদের নিয়ে বসতেন। কার্যালয়টি খোলাই থাকে। তবে সোমবার সকাল থেকে সেটি বন্ধ ছিল।


এ ছাড়া স্বাস্থ্যকেন্দ্রসংলগ্ন ফেয়ার প্লাজার বিপরীতে আন-নূরী জামে মসজিদের উত্তর পাশের ৬/৬ নম্বর সড়কের একটি ফুটেজে ঘটনার সময় একটি সাদা মাইক্রোবাস ঘুরতে দেখা যায়। সে সময় স্থানীয় শাহ আলী থানা শ্রমিক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ইব্রাহিমসহ হাতে লাঠি নিয়ে কয়েকজনকে অবস্থান করতে দেখা যায়। এই সড়কের পেছনেই ৫ নম্বর সড়কে এজাহারভুক্ত আসামি ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক সদস্য মো. হানিফ মিয়ার কার্যালয়। সোমবার বিকেলে গিয়ে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। 


আশপাশের দোকানিরা জানান, আগে রাত ১০টা পর্যন্ত কার্যালয়টি খোলা থাকত। কিন্তু তিন দিন ধরে বন্ধ রয়েছে। আরেক ফুটেজে শাহ আলী থানা শ্রমিক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক এক নেতাকে বেশ কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে যেতে দেখা যায়।


‎‎স্থানীয় লোকজন ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, হামলা ও ভাঙচুরের সময় মো. হানিফ মিয়া, আবুল কালাম আজাদ ওরফে লেলিন এবং ঢাকা মহানগর যুবদলের সাবেক সদস্য সচিব মোস্তফা জগলুল পাশা ওরফে পাপেলসহ আরও কয়েকজন একটি সাদা মাইক্রোবাসে ঘটনাস্থলের আশপাশে ঘুরে নির্দেশনা দেন। হামলাকারীরা ছিন্নমূল মার্কেটের কাছাকাছি এসে লাঠিসোটা, রামদা, হাতুড়িসহ দেশীয় অস্ত্র সংগ্রহ করেন। স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যাওয়ার আগে তারা মাথায় কাপড় বাঁধেন এবং মুখোশ পরেন। আর স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ভবন ভাঙার কাজে ব্যবহৃত এক্সক্যাভেটরটি মিরপুর বেড়িবাঁধ এলাকা থেকে নিয়ে আসা হয়। দোকান ভাঙার কথা বলে আনা হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়।


আরও দুজন গ্রেপ্তার


রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় গত রোববার রাতে কেরানীগঞ্জের গুদারাঘাট থেকে আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে শাহ আলী থানা পুলিশ। তারা হলেন মো. মিন্টু ও মো. মিলন। তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা ওই দিন রাতে ভাঙচুরে অংশ নিয়েছিলেন। ভাঙচুর শেষে তারা জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যান। দুজনের মধ্যে মিন্টুর কাছ থেকে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের টিনসহ কিছু জিনিস উদ্ধার করা হয়েছে। আর মিলনের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে স্টিলের দরজা।


এ দুজনসহ এ ঘটনায় মোট ১২ জন গ্রেপ্তার হলেন। এর আগে গ্রেপ্তার ১০ জনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে লুট হওয়া আসবাব, টিকা, নথি, ফ্রিজ, প্রিন্টার, জেনারেটরসহ বিভিন্ন ধরনের মালপত্র এবং দুটি কাভার্ডভ্যান উদ্ধার করা হয়েছে।


সোমবার দুপুরে রাড্ডার নির্বাহী পরিচালকসহ প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তাদের শাহ আলী থানায় ডাকে পুলিশ। পরে তাদের উদ্ধার করা মালপত্র বুঝে নেওয়ার জন্য আদালতের মাধ্যমে আবেদন করতে বলা হয় বলে জানিয়েছেন নির্বাহী পরিচালক ডা. নাসরিন আকতার।


ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে ডিএমপির মিরপুর বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার সালেহ্ মুহম্মদ জাকারিয়া বলেন, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় জড়িত সবাইকে গ্রেপ্তার করা হবে।


এদিকে সোমবার ঘটনাস্থলে ঢাকা মহানগর যুবদলের সদস্য সচিব সাজ্জাদুল মিরাজ সাংবাদিকদের বলেন, রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলার সময় আমি পুলিশ ও মিরপুর বিভাগের ডিসিকে ফোন করে বিষয়টি জানাই। তাঁর দাবি, কয়েকশ মানুষ ভাঙচুর চালালেও পুলিশ শুরুতে ঘটনাটি ছোট করে দেখেছিল। পরে শাহ আলী থানার ওসির সঙ্গে যোগাযোগের কথাও জানান তিনি। মিরাজ আরও অভিযোগ করেন, ঘটনাস্থলে ওসির গাড়ি থাকা অবস্থাতেই লুটের মালপত্র ট্রাকে তোলা হচ্ছিল। তিনি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।


স্বাস্থ্যকেন্দ্র ধ্বংসে নিন্দা ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি আসকের


মিরপুর-১-এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, লুটপাট ও ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও উদ্বেগ জানিয়েছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)। সংগঠনটি বলেছে, পাঁচ দশক ধরে নিম্ন আয়ের মানুষ, বিশেষ করে নারী ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে আসা প্রতিষ্ঠানটি ধ্বংসের ফলে সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা মারাত্মক ব্যাহত হয়েছে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের উল্লেখ করে আসক বলেছে, ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে ২০০-২৫০ জন নিরাপত্তাকর্মীদের জিম্মি করে লুটপাট ও ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। ঘটনাস্থল থানার কাছে হওয়ায় এবং পুলিশকে খবর দেওয়ার পরও কেন তা ঠেকানো যায়নি, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সংগঠনটি। হামলাকারীদের পাশাপাশি পরিকল্পনাকারী, নির্দেশদাতা ও পৃষ্ঠপোষকদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে আসক। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা স্বাধীনভাবে তদন্ত, দায়ীদের জবাবদিহি এবং দ্রুত স্বাস্থ্যসেবা পুনঃস্থাপনের আহ্বান জানিয়েছে তারা।


রাড্ডাকে ৫০ লাখ টাকা অনুদান দেওয়ার আশ্বাস জামায়াতের


হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটে ক্ষতিগ্রস্ত রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারকে ৫০ লাখ টাকা অনুদান দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। সোমবার বিকেলে ক্ষতিগ্রস্ত স্বাস্থ্যকেন্দ্র পরিদর্শন শেষে তিনি এ ঘোষণা দেন। 


এ সময় শফিকুর রহমান বলেন, ‘আর কোনো দুর্বৃত্ত যেন দেশের কোথাও কোনো অপকর্ম করতে না পারে, সে ব্যাপারে সরকারকে এখনই উদ্যোগ নিতে হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। সরকারি দলের আশ্রয়-প্রশ্রয়েই দেশজুড়ে মব সন্ত্রাস চলছে।’ 


তিনি বলেন, সরকারি দলের আশ্রয়-প্রশ্রয় ছাড়া রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার ভাঙার সাহস কেউ করতে পারে না। 


পুলিশের সামনে কোটি টাকার সরঞ্জাম লুটের অভিযোগ ব্যারিস্টার ফুয়াদের


রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার থেকে কোটি কোটি টাকার যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম লুটের অভিযোগ করেছেন এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ। সোমবার হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে তিনি বলেন, পুলিশের গাড়ির সামনেই ফার্নিচার ও ইকুইপমেন্ট ট্রাকে তোলা হয়েছে, যার প্রমাণ সিসিটিভিতে রয়েছে। ঘটনায় রাজনৈতিক দুর্বৃত্তপনার পাশাপাশি প্রশাসনের সম্পৃক্ততারও ইঙ্গিত রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। ফুয়াদ হাসপাতালের কর্মীদের নিরাপত্তা, খাসজমি স্থায়ীভাবে বরাদ্দ ও ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান।

 

সর্বশেষ সব খবর