ছবি : সংগৃহীত
রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স ও কারওয়ান বাজারে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া মোহাম্মদপুরের বেড়িবাঁধ এলাকায় রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাকে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা।
বৃহস্পতিবার রাতে পৃথক এসব ঘটনা ঘটে। তবে এসব ঘটনায় কোনো হতাহত সংবাদ পাওয়া যায়নি। রাত ১০টা ১০ মিনিটের দিকে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সের ৩ নম্বর গেটের সামনে একটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে।
পল্টন থানার ডিউটি অফিসার এএসআই সমাজ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, দুর্বৃত্তরা সেখানে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তা শনাক্তে কাজ চলছে। এর আগে রাত সাড়ে ৯টার দিকে কারওয়ান বাজারে প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলের ১ নম্বর গেটের সামনের সড়কে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. ইবনে মিজান জানান, খবর পেয়ে হাতিরঝিল থানার ওসিসহ পুলিশের একাধিক দল ঘটনাস্থলে যায়। কারা এ বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে, তা শনাক্তে তদন্ত চলছে।
এদিকে রাত পৌনে ৯টার দিকে মোহাম্মদপুরের বেড়িবাঁধ এলাকায় রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাকে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, মোটরসাইকেলে আসা দুই ব্যক্তি ট্রাকটিতে আগুন দিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়।
ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণকক্ষের ডিউটি কর্মকর্তা মো. শাহজাহান জানান, রাত ৮টা ৫০ মিনিটে আগুন লাগার খবর পেয়ে মোহাম্মদপুরে দুটি ইউনিট পাঠানো হয়। তবে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা পৌঁছানোর আগেই স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
বাংলাদেশ কপ৩১ সম্মেলনে অনুদানভিত্তিক জলবায়ু অর্থায়ন ও ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় কার্যকর সহায়তা চাইবে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু।
তিনি বলেন, কপ৩১ সম্মেলনে পর্যাপ্ত অনুদানভিত্তিক জলবায়ু অর্থায়ন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেবে বাংলাদেশ। বিশেষ করে অভিযোজন ও জলবায়ুজনিত ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় ঋণের বোঝা না বাড়িয়ে অনুদান বৃদ্ধি এবং জলবায়ু তহবিলের আবেদন ও অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ করার দাবি জানানো হবে।
বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আগামী ৯ থেকে ২০ নভেম্বর তুরস্কের আনতালিয়ায় অনুষ্ঠেয় জাতিসংঘ জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলন কপ৩১ উপলক্ষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি সম্মেলনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের প্রস্তুতি, প্রধান অগ্রাধিকার ও প্রত্যাশা তুলে ধরেন। এ সময় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. সাইমুম পারভেজ উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রী জানান, তুরস্ক সরকারের আমন্ত্রণে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী সম্মেলনের উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে অংশগ্রহণ করবেন। এর মাধ্যমে জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের স্বার্থ, বাংলাদেশের জাতীয় অগ্রাধিকার এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা সর্বোচ্চ রাজনৈতিক পর্যায়ে তুলে ধরার সুযোগ সৃষ্টি হবে।
আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, লবণাক্ততা, খরা ও তাপপ্রবাহ মানুষের জীবন, জীবিকা ও উন্নয়নকে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ফেলছে। বাংলাদেশ এ সম্মেলনে জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের সুরক্ষা, জলবায়ু ন্যায়বিচার এবং জাতীয় পরিকল্পনা বাস্তবায়নে অর্থায়ন ও প্রযুক্তি সহায়তাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
অভিযোজন প্রসঙ্গে পরিবেশমন্ত্রী বলেন, জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং বৈশ্বিক অভিযোজন লক্ষ্যের আওতায় বাস্তব অগ্রগতি অর্জনে অর্থায়ন, প্রযুক্তি ও সক্ষমতা বৃদ্ধির সহায়তা চাইবে বাংলাদেশ। উপকূল, হাওর, চর ও খরাপ্রবণ এলাকার মানুষের পানি, খাদ্য, স্বাস্থ্য ও জীবিকার নিরাপত্তা, আগাম সতর্কীকরণ এবং স্থানীয়ভাবে পরিচালিত অভিযোজনকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
জলবায়ুজনিত ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় মন্ত্রী বলেন, ক্ষয়ক্ষতি তহবিল থেকে ঝুঁকিপূর্ণ দেশ ও ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর জন্য দ্রুত ও সহজে অনুদানভিত্তিক অর্থায়ন প্রাপ্তির ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে। অর্থনৈতিক ক্ষতির পাশাপাশি বাস্তুচ্যুতি, জীবিকা হারানো ও অন্যান্য অ-অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় নতুন ও অতিরিক্ত সহায়তা প্রয়োজন।
বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে সীমিত রাখার প্রচেষ্টায় বিজ্ঞানভিত্তিক ও দ্রুত নির্গমন হ্রাসের ওপর জোর দেন পরিবেশমন্ত্রী। তিনি বলেন, উন্নত দেশগুলোকে নেতৃত্ব দিতে হবে এবং প্রধান নির্গমনকারী দেশগুলোকে দায়িত্ব ও সক্ষমতা অনুযায়ী কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। উন্নয়নশীল দেশগুলোর শর্তসাপেক্ষ জাতীয়ভাবে নির্ধারিত অবদান বা এনডিসি বাস্তবায়নে অর্থায়ন ও প্রযুক্তি সহায়তাও নিশ্চিত করতে হবে।
মন্ত্রী জানান, কৃষি, শিল্প, পরিবহন ও জ্বালানি খাতে পরিবেশবান্ধব রূপান্তরের জন্য সহায়তা চাইবে বাংলাদেশ। এ ক্ষেত্রে রূপান্তরের ব্যয় ও সুফলের ন্যায্য বণ্টন, শ্রমিকের অধিকার, দক্ষতা উন্নয়ন, সামাজিক সুরক্ষা এবং নারী ও তরুণদের শোভন কর্মসংস্থানকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
নবায়নযোগ্য জ্বালানি, জ্বালানি দক্ষতা, পরিচ্ছন্ন শিল্প ও পরিবহন এবং জলবায়ু সহনশীল প্রযুক্তিতে সাশ্রয়ী প্রবেশাধিকার বাংলাদেশের অগ্রাধিকারে থাকবে বলে জানান মন্ত্রী। পাশাপাশি বন, ম্যানগ্রোভ, জলাভূমি ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, প্রকৃতিনির্ভর সমাধান এবং নারী ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর নেতৃত্বাধীন জলবায়ু উদ্যোগে অর্থায়ন বাড়ানোর পক্ষে কাজ করবে বাংলাদেশ। জলবায়ু পদক্ষেপের কারণে উন্নয়নশীল দেশের রপ্তানি, কর্মসংস্থান ও প্রতিযোগিতার সক্ষমতার ওপর বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় সহযোগিতাও চাওয়া হবে।
সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে ড. সাইমুম পারভেজ বলেন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার মতামত এবং জলবায়ু বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থানপত্র প্রণয়ন করা হয়েছে। স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জোট, জি-৭৭ এবং সমমনা জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল জাতীয় স্বার্থে কাজ করবে। কপ৩১ সম্মেলন থেকে বাংলাদেশের প্রত্যাশা হলো অর্থায়ন ও বাস্তবায়ন সহায়তায় সুনির্দিষ্ট অগ্রগতি, যা জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলা করে মানুষের জীবন ও জীবিকা সুরক্ষায় কাজে আসবে।
তিনি আরও জানান, সম্মেলনস্থলে বাংলাদেশ সরকার ১০০ বর্গমিটার আয়তনের একটি প্যাভিলিয়ন স্থাপন করছে। সেখানে বাংলাদেশের জলবায়ু ঝুঁকি, অভিযোজন অভিজ্ঞতা, এনডিসি ৩.০, জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা, জলবায়ু অর্থায়ন, ক্ষয়ক্ষতি, কার্বন বাজার, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর উদ্যোগ তুলে ধরা হবে। প্যাভিলিয়নটি অভিজ্ঞতা বিনিময়, নীতি সংলাপ ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার সুযোগ তৈরিতে ব্যবহার করা হবে। এছাড়াও জুট প্যাভিলিয়ন স্থাপন করা হবে।
এসময় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম, অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ নাভিদ শফিউল্লাহ, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো: লুৎফর রহমান, বন অধিদপ্তরের প্রধান বন সংরক্ষক মোঃ আমীর হোসাইন চৌধুরী, বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী রওনাকুল ইসলাম-সহ অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ, প্রিন্ট, ইলেক্ট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমের সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সংসদ অধিবেশন ঘিরে আগামী রোববার (৮ নভেম্বর) রাত থেকে সংসদ ভবন ও আশপাশে সভা-সমাবেশ, মিছিল ও বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। আগামী সোমবার (৯ নভেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের চতুর্থ অধিবেশন শুরু হওয়ার আগে নেওয়া এ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অধিবেশন শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এ নিষেধাজ্ঞার কথা জানানো হয়।
গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সংসদের চতুর্থ অধিবেশন নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে শেরেবাংলা নগরে জাতীয় সংসদ ভবন ও এর আশপাশের এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা প্রয়োজন। এ কারণে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ অর্ডিন্যান্সের ২৮ ও ২৯ ধারায় অর্পিত ক্ষমতাবলে নির্ধারিত এলাকায় সব ধরনের অস্ত্রশস্ত্র, বিস্ফোরক, ক্ষতিকারক ও দূষণীয় দ্রব্য বহন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে যেকোনো ধরনের সভা-সমাবেশ, মিছিল, শোভাযাত্রা ও বিক্ষোভ প্রদর্শনের ওপরও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
ডিএমপির বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ময়মনসিংহ রোডের মহাখালী ক্রসিং থেকে পুরাতন বিমানবন্দর হয়ে বাংলামোটর ক্রসিং পর্যন্ত এলাকা নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকবে। এ ছাড়া বাংলামোটর লিংক রোডের পশ্চিম প্রান্ত থেকে হোটেল সোনারগাঁও রোডের সার্ক ফোয়ারা পর্যন্ত এবং পান্থপথের পূর্ব প্রান্ত থেকে গ্রিন রোডের সংযোগস্থল হয়ে ফার্মগেট পর্যন্ত এলাকায়ও এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে।এ ছাড়া মিরপুর রোডের শ্যামলী মোড় থেকে ধানমন্ডি-১৬ (পুরাতন ২৭) নম্বর সড়কের সংযোগস্থল, রোকেয়া সরণির সংযোগস্থল থেকে পুরাতন নবম ডিভিশন (উড়োজাহাজ) ক্রসিং হয়ে বিজয় সরণি পর্যটন ক্রসিং, ইন্দিরা রোডের পূর্ব প্রান্ত থেকে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের পশ্চিম প্রান্ত পর্যন্ত এলাকা নিষেধাজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত।
জাতীয় সংসদ ভবনের সংরক্ষিত এলাকা এবং এসব সীমানার মধ্যে থাকা সব রাস্তা ও গলিপথেও নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে।
আগামী ৮ নভেম্বর রাত ১২টা থেকে এ আদেশ কার্যকর হবে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের চতুর্থ অধিবেশন শেষ না হওয়া পর্যন্ত তা বলবৎ থাকবে।
প্রতীকী ছবি
রাজধানীর মিরপুরে এশিয়ান ইউনিভার্সিটির একটি যাত্রীবাহী বাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে চারজন নিহত হয়েছেন। বুধবার সকালে শাহ আলী থানার নবাবেরবাগ এলাকার দিয়াবাড়ী মিরপুর বেড়িবাঁধে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।
ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, সকাল ৭টা ৩৮ মিনিটের দিকে দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছায় কল্যাণপুর ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট। বাস ও অটোরিকশার এই সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই চারজন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে দুজন পুরুষ ও দুজন নারী রয়েছেন।
পরে ফায়ার সার্ভিসকর্মীরা নিহত চারজনের মরদেহ উদ্ধার করে শাহ আলী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আরিফুল ইসলামের কাছে হস্তান্তর করেন। ঘটনার বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
প্রতীকী ছবি
রাজধানীর কল্যাণপুরে যাত্রীবাহী বাস ও লেগুনার মুখোমুখি সংঘর্ষে চারজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের দুজন পুরুষ ও দুজন নারী। বুধবার (৪ নভেম্বর) সকাল পৌনে ৮টার দিকে কল্যাণপুরের উত্তরপাড়ার নবাবের রাস্তায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, নবাবের রাস্তায় একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি লেগুনার সংঘর্ষ হয়।
এতে লেগুনাটি দুমড়ে-মুচড়ে গিয়ে ঘটনাস্থলেই চারজন নিহত হন।
ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, খবর পেয়ে কল্যাণপুর ফায়ার স্টেশনের একটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ পরিচালনা করে। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মিডিয়া সেলের পরিদর্শক তালহা বিন জসিম এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।
ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে এখনো কাজ করছে।
রাজধানীর ধানমন্ডিতে একটি আবাসিক ভবনে অগ্নিকাণ্ডে ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে ধানমন্ডির ১০/এ তে একটি ভবনে ঘটনাটি ঘটে।
ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের রাকিবুল হাসান বলেছেন, এদিন বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে ধানমন্ডির ১০/এ তে একটি ভবনে আগুন লাগার খবর তারা পান।
আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ৫টি ইউনিট কাজ করছে বলে জানিয়েছেন তিনি।উল্লেখ্য, প্রাথমিকভাবে অগ্নিকাণ্ডের কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে কিছু জানাতে পারেনি নিয়ন্ত্রণ কক্ষের এই কর্মকর্তা।
ছবি : সংগৃহীত
রাজধানীর মিরপুরে পোশাকশ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। সড়কে যানবাহন চলাচলও ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়েছে। সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত পাঁচজনকে আটকের কথা জানিয়েছে পুলিশ। এদিকে নিরাপত্তার কারণে সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা মিরপুর-১১ নম্বর মেট্রোরেল স্টেশনও আবার চালু হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে মিরপুর-১১ নম্বর এলাকায় পোশাকশ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ শুরু হয়। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ চলে। পরে আন্দোলনকারীরা বিভিন্ন অলিগলিতে ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে সকালে মিরপুর-১১ নম্বর এলাকায় সড়কে অবস্থান নেন পোশাকশ্রমিকেরা। পুলিশ তাদের সরিয়ে দিতে গেলে সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় আন্দোলনকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ার গ্যাসের শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়ে। সংঘর্ষের সময় কয়েকজনকে আটক করে পুলিশ।
সংঘর্ষের কারণে মিরপুর-১১ থেকে মিরপুর-১০ ও পল্লবীগামী সড়কে যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। এতে আশপাশের এলাকায় যানজটের সৃষ্টি হয়। তবে বেলা ১২ পর পরিস্থিতির উন্নতি হতে থাকে। সড়কে যানবাহনের সংখ্যা বাড়তে থাকে এবং একপর্যায়ে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়ে আসে।
নিরাপত্তার কারণে সকাল ১০টা ২২ মিনিট থেকে মিরপুর-১১ নম্বর মেট্রোরেল স্টেশনের কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার পর স্টেশনটি আবার চালু করা হয়।
পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জালাল উদ্দিন বলেন, ‘বেলা ১২ পর পরিস্থিতির উন্নতি হতে থাকে। সড়কে যানবাহনের সংখ্যা বাড়তে থাকে। পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক। শ্রমিক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে মিরপুরের বিভিন্ন পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
এদিকে মিরপুর-১০ নম্বর এলাকায় একটি জলকামান ও দুটি সাঁজোয়া যান প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) সদস্যদেরও সতর্ক অবস্থানে দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে।
সংঘর্ষ থামার পর পরিস্থিতি শান্ত হলেও পুরো এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সতর্ক অবস্থান রয়েছে।