বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ও চাতাল শিল্পে জলবায়ু পরিবর্তন এবং সবুজ ও ন্যায্য রূপান্তর সংক্রান্ত গবেষণার ফলাফল নিয়ে এক গবেষণা ফলাফল শেয়ারিং আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ (বিলস)-এর উদ্যোগে এই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ শ্রম কমিশনের সম্মানিত সদস্য ও বিলস-এর সম্মানিত সম্পাদক সাকিল আখতার চৌধুরী। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন গার্মেন্টস শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদের যুগ্ম সমন্বয়ক ও বিলস-এর উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য নইমুল আহসান জুয়েল, বিলস-এর ভাইস চেয়ারম্যান আমিরুল ইসলাম আমিন এবং পরিচালক কোহিনূর মাহমুদ।
গবেষণার মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিলস-এর উপ-পরিচালক ও প্রধান গবেষক মো. মনিরুল ইসলাম। সার্বিক কার্যক্রমে সহযোগিতা করেন বিলস-এর রিসার্চ অফিসার রাবেয়া খানম। এছাড়া অনুষ্ঠানে গবেষক, শ্রম অধিকারকর্মী, শ্রমিক প্রতিনিধি এবং পোশাক খাত সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সভায় উপস্থাপিত গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব বাংলাদেশের রপ্তানিমুখী শিল্প—বিশেষ করে তৈরি পোশাক ও চাতাল খাতে বহুমাত্রিক সংকট সৃষ্টি করছে। পরিবেশগত ঝুঁকির পাশাপাশি শ্রমিকদের স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও জীবিকায় এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে।
মূল আলোচক হিসেবে বিলস-এর উপ-পরিচালক ও প্রধান গবেষক মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক (আরএমজি) ও চাতাল (চাল প্রক্রিয়াকরণ) শিল্প জাতীয় অর্থনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। জলবায়ু পরিবর্তন, শিল্পে অটোমেশন এবং সবুজ কারখানায় রূপান্তরের প্রেক্ষাপটে এই খাতগুলোতে উল্লেখযোগ্য কাঠামোগত পরিবর্তন ঘটছে।
তিনি বলেন, এই রূপান্তর প্রক্রিয়া শ্রমিক, মালিক, ট্রেড ইউনিয়ন ও সরকারি সংস্থার জন্য নতুন সুযোগ ও চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে এবং শ্রমিকদের কর্মসংস্থান নিরাপত্তা ও জীবনমানে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলছে।
এই বাস্তবতা বিবেচনায় বিলস এবং তারা ক্লাইমেট ফাউন্ডেশনের সহায়তায় “বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ও চাতাল শিল্পে জলবায়ু পরিবর্তন এবং সবুজ ও ন্যায্য রূপান্তরের বাস্তব অবস্থা ও সংশ্লিষ্ট প্রভাবসমূহ বিশ্লেষণ” শীর্ষক একটি গবেষণা পরিচালনা করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
গবেষণায় পোশাক ও চাতাল শিল্পে পরিবেশবান্ধব জ্বালানিতে রূপান্তরের বর্তমান অবস্থা, প্রধান চ্যালেঞ্জ, সম্ভাবনা এবং এর ফলে শ্রমিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় যে প্রভাব পড়ছে, তা বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
গবেষণা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সাভার ও গাজীপুর থেকে ২০০ জন পোশাক শ্রমিক এবং দিনাজপুর ও ময়মনসিংহ থেকে ২০০ জন চাতাল শ্রমিকের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। পাশাপাশি স্থানীয় ট্রেড ইউনিয়ন প্রতিনিধি, স্থানীয় জনগণ, কারখানা মালিক, স্থানীয় সরকার প্রতিনিধি ও এনজিও কর্মীদের কাছ থেকেও তথ্য নেওয়া হয়েছে।
পরবর্তীতে গবেষণার খসড়া ফলাফল সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে শেয়ার করে তাঁদের মতামত ও সুপারিশ অন্তর্ভুক্ত করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রণয়ন করা হয়।
আলোচনা সভার মূল উদ্দেশ্য ছিল পোশাক ও চাতাল শিল্পে অটোমেশন, সবুজ জ্বালানির ব্যবহার, সবুজ কারখানায় রূপান্তর এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। একই সঙ্গে ট্রেড ইউনিয়ন ও সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডাররা যেন সবুজ ও ন্যায্য রূপান্তর প্রক্রিয়ায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন, সে লক্ষ্যে সুপরিকল্পিত পদক্ষেপ ও কর্মকৌশলপত্র প্রণয়নে সহায়তা করা।
বক্তাদের অভিমত
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, এই গবেষণার ফলাফল স্পষ্টভাবে দেখায় যে জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে শিল্পখাতের অভিযোজন কেবল প্রযুক্তিনির্ভর নয় এটি একটি সামাজিক ও মানবিক প্রক্রিয়াও।
তাঁরা বলেন, সবুজ শিল্পায়নের পথে অগ্রসর হতে হলে ন্যায্য রূপান্তর নিশ্চিত করা জরুরি। শ্রমিকদের দক্ষতা উন্নয়ন ও সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত না হলে এই রূপান্তর কখনোই টেকসই হবে না।
বক্তারা আরও বলেন, গবেষণা অনুযায়ী নারী শ্রমিকরা জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব সবচেয়ে বেশি ভোগ করছেন। তাই নীতিনির্ধারণের ক্ষেত্রে এই গবেষণার সুপারিশ বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আলোচকরা বলেন, এই গবেষণা ফলাফল নীতিনির্ধারক, শিল্প মালিক এবং শ্রম সংগঠনগুলোর জন্য একটি কার্যকর দিকনির্দেশনা হিসেবে কাজ করবে। অংশগ্রহণকারীরা আশা প্রকাশ করেন, গবেষণাভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব, শ্রমিকবান্ধব ও টেকসই শিল্প ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
ছবি : সংগৃহীত
রাজধানীর আগারগাঁও লিংক রোডে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে দুটি ককটেল নিক্ষেপ করেছে দুর্বৃত্তরা। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) দিবাগত রাত সোয়া ১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে একটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। অন্যটি ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) বোম ডিসপোজাল ইউনিট বিস্ফোরণের মাধ্যমে নিষ্ক্রিয় করে।
ঘটনায় জড়িত দুই মোটরসাইকেল আরোহীকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে কাজ করছে পুলিশ। ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে রাত আড়াইটার দিকে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) ইবনে মিজান।
তিনি বলেন, রাত সোয়া ১টার দিকে দুই মোটরসাইকেল আরোহী ঘটনাস্থলে এসে দুই থেকে তিন মিনিট অবস্থান করেন। এ সময় তারা আশপাশ পর্যবেক্ষণ করেন।
এরপর দুটি ককটেল নিক্ষেপ করে সেখান থেকে চলে যান। তারা আগারগাঁও হয়ে কাফরুল রোডের দিকে চলে গেছেন বলে তথ্য পেয়েছে পুলিশ।
ডিসি ইবনে মিজান বলেন, ঘটনার পরপরই পুলিশের দল মাঠে নেমেছে। জড়িতদের শনাক্ত করতে আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হবে। রাতে দোকানপাট ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে সব ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। সকালে প্রতিষ্ঠানগুলো খুললে ফুটেজ সংগ্রহ করে পরবর্তী কার্যক্রম চালানো হবে।
বিস্ফোরিত না হওয়া ককটেলটি পরীক্ষা করে বোম ডিসপোজাল ইউনিট কোনো স্প্লিন্টার বা ক্ষতিকর উপাদান পায়নি বলে জানান ডিসি ইবনে মিজান। তার ভাষ্য, বস্তুটি অনেকটা পটকার মতো ছিল।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পাশের মতো স্পর্শকাতর এলাকায় এ ঘটনায় পুলিশের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দুর্বৃত্তরা মূল সড়ক এড়িয়ে লিংক রোড দিয়ে এসে ককটেল নিক্ষেপ করে চলে যায়। মূল সড়লকেন্দ্রিক নিরাপত্তাব্যবস্থা থাকলেও তারা বিকল্প পথ ব্যবহার করেছে।
ডিসি ইবনে মিজান আরও বলেন, ঘটনাটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে।
ছবি- চ্যাটজিপিটি দিয়ে বানানো
ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগের পেছনে দেয়াল ঘেঁষে একটু খালি জায়গা। ৬ অক্টোবর, বিকেল ৫টা। আনুমানিক ৪০ বছর বয়সী এক ব্যক্তি শোওয়া। নড়াচড়া তেমন নেই। ডান পায়ের গোড়ালিতে ব্যান্ডেজ করা। পাশ দিয়ে একের পর এক মানুষ যাচ্ছে, কারও সেদিকে ভ্রুক্ষেপ নেই। আশপাশের কেউও জানেন না লোকটি কোথা থেকে এসেছেন, পরিবার কোথায়। লোকটির সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেও কোনো উত্তর পাওয়া গেল না।
লোকটি যে স্থানে শুয়ে ছিলেন, ওইদিন সকালে সেখান থেকেই একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পরিচয় বের করতে পারেনি পুলিশ। একই দিন কাছাকাছি সময়ে ওই স্থান থেকে কিছুটা দূরে পাওয়া যায় আরও একজনের মরদেহ। তিনিও অজ্ঞাতপরিচয়। পুলিশ সদস্যদের ধারণা, অসুস্থতাজনিত কারণে তাদের মৃত্যু হয়েছে। শুধু এই দুজন নয়, শাহবাগ থানাধীন এলাকায় গত এক মাসে অন্তত ১৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের কারও পরিচয় বের করা যায়নি। বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, ঢাকা মেডিকেলের আশপাশসহ এই এলাকায় বিপুলসংখ্যক ভাসমান মানুষ থাকে। পুরো শাহবাগ এলাকায় এমন মানুষের সংখ্যা অনেক। এর মধ্যে আছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকা, জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট এলাকা, চাঁনখাঁরপুল ও হাইকোর্টের মাজার, দোয়েল চত্বর ও বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা।
পুলিশের তথ্যমতে, ঢাকার মধ্যে সবচেয়ে বেশি অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহ পাওয়া যায় শাহবাগ এলাকায়। গত ২৯ সেপ্টেম্বর এ এলাকায় এক দিনে তিনজনের মরদেহ পাওয়া যায়। আগের দিন ২৬ সেপ্টেম্বর একই এলাকা থেকে চারজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়।
রাজধানীর প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এ এলাকায় সরকারি-বেসরকারি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান আছে। জায়গাটি একই সঙ্গে পরিচয়হীন মানুষের ঠিকানাও। মৃত্যুর পর যাদের অধিকাংশের পরিচয় পাওয়া যাচ্ছে না।
শাহবাগ থানা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৯ মাসে শাহবাগ, ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও আশপাশের এলাকা থেকে ৭৯টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৪ জনের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। ৬৫ জনের পরিচয় মেলেনি। এর আগে ২০২৫ সালে ৮১টি অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে পরিচয় শনাক্ত হয় ১৩ জনের। গত ২১ মাসে উদ্ধার হওয়া ১৬০টি মরদেহের মধ্যে পরিচয় মিলেছে ২৭টির। পরিচয়হীন থেকে গেছেন ১৩৩ জন, যা শতকরা হিসাবে অজ্ঞাতনামা ৮৩ শতাংশ।
এদিকে ডিএমপির তথ্য মতে, ২০২৫ সালে ঢাকা মহনগর পুলিশের আট বিভাগে ২১৪টি অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহ পাওয়া যায়। এর মধ্যে ৮১টি হয়েছে রমনা বিভাগে, যার বেশির ভাগই শাহবাগ থানাধীন এলাকার। অন্য বিভাগগুলোর মধ্যে তেজগাঁওয়ে ৫১টি, ওয়ারীতে ২১, লালবাগে ১৭, মতিঝিলে ১৭, মিরপুরে ১২, উত্তরায় ৯ এবং সবচেয়ে কম গুলশানে ৬টি অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আর চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত ঢাকা মহানগরীতে ৭৬টি অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ৩১টি রমনার এবং অধিকাংশই শাহবাগ এলাকার। এর পরের স্থান মতিঝিলের ১৪টি। তারপর ওয়ারী ১৩টি।
পুলিশের তথ্য ও মরদেহের নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, মারা যাওয়া ব্যক্তিদের অধিকাংশের বয়স ৪০ বছরের বেশি। তাদের বড় একটি অংশ মাদকাসক্ত। বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়া, দীর্ঘদিন চিকিৎসার বাইরে থাকা এবং শরীরে পচন ধরার মতো জটিলতায়ও অনেকের মৃত্যু হয়েছে।
পুলিশ ও চিকিৎসকরা জানান, অজ্ঞাতপরিচয় মানুষগুলো মূলত ভাসমান। তাদের নিয়মিত চিকিৎসা নেওয়ার সামর্থ্য নেই, পুষ্টিকর খাবারও খেতে পারে না। দেখা যায়, ঠান্ডাজনিত রোগ, বার্ধক্যজনিত জটিলতা বা অন্যান্য অসুস্থতায় আক্রান্ত হয়ে তুলনামূলক কম বয়সে তারা মারা যান।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক সমকালকে বলেন, গৃহহীন, পারিবারিকভাবে বিচ্ছিন্ন, মানসিকভাবে অসুস্থসহ মানুষ নানা কারণে ভবঘুরে হয়, সড়কে আশ্রয় নেয়। রাজধানীতে এসব মানুষের পরিচয় বা তালিকা সরকারের পক্ষ থেকে করা প্রয়োজন। এতে একদিকে তারা কোনো অপরাধে জড়িয়ে গেলে তা যেমন চিহ্নিত করা সম্ভব, অন্যদিকে মৃত্যুর পরও তাদের পরিচয় জানা ও স্বজনদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া সহজ হবে। এটি সরকারের অন্যতম জনকল্যাণমূলক দায়িত্ব।
শাহবাগ এলাকায় কেন এত ভাসমান মানুষ
গত দুই মাসে শাহবাগ এলাকার ভাসমান লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও শাহবাগ এলাকায় পুলিশের তৎপরতা কম থাকায় জায়গাগুলোকে নিরাপদ মনে করেন তারা। এ ছাড়া হাইকোর্ট ও দোয়েল চত্বরের পাশের মাজারে দিনে দুবেলা বিনামূল্যে খাবার পাওয়ায় এসব এলাকায় থাকেন অনেকে। খাবারের জন্য জাতীয় স্টেডিয়াম, পুরান ঢাকা ও কমলাপুর থেকেও অনেকে আসেন।
জাতীয় ঈদগাহের দক্ষিণ-পূর্ব কোণে শাহ খাজা শরফুদ্দীন চিশতির (রহ.) মাজারের (হাইকোর্ট মাজার) পক্ষ থেকে প্রতিদিন রান্না করা খাবার বিতরণ করা হয়। সেখানে আগে থেকেই ভিড় করে ভবঘুরে ও ভাসমান মানুষ।
মাজারের বাবুর্চি মো. নাজমুল হোসেন জানান, প্রতিদিন দুপুরে ও সন্ধ্যায় প্রায় ৫০০ জনের খাবার রান্না করে দেওয়া হয়। এর মধ্যে অর্ধেকই থাকে ভবঘুরে প্রকৃতির মানুষ। তারা আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে এসে জড়ো হন।
এ ছাড়া ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আশপাশে অস্থায়ী খাবারের দোকান, অমর একুশে হল ও আবাসিক এলাকার সামনে আনন্দ বাজার থেকে ভবঘুরে লোকজন খাবার সংগ্রহ করেন। তাই এসব এলাকায় অনেকে থাকেন।
দোয়েল চত্বরের পাশে ঢাকা গেটে সাগর নামে মধ্যবয়সী এক ভবঘুরে জানান, পরিবার ছেড়ে পাঁচ-ছয় বছর ধরে দোয়েল চত্বরের আশপাশে থাকেন। এ সময়ে তাঁর আশপাশে থাকা সাত-আটজন মারা গেছেন। সারাদিন ওই এলাকাতেই থাকেন। তিনিসহ তাঁর মতো সবাই পাশের মাজার থেকে খাবার খান। হাইকোর্টের মাজার গেটে নূর আলম নামের এক ভবঘুরে বলেন, ‘কোনো কাজ করি না। মাজার থেকে খাবার খাই।’
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের পাশে জাহাঙ্গীর আলম জানান, তিনি অনেক দিন ধরে অসুস্থ। বেশি নড়াচড়া করতে পারেন না। খাবার দেন আশপাশের দোকানিরা।
বছরে গড়ে ২৯২ অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহের ময়নাতদন্ত
ঢাকা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন অ্যান্ড টক্সিকোলজি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ থেকে ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত বিভাগটিতে এক হাজার ৬৯০টি অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ২০২১ সালে ২৪৮টি, ২০২২ সালে ২৩০টি, ২০২৩ সালে ২৫০টি, ২০২৪ সালে ৩২৪টি, ২০২৫ সালে ৩৮৪টি এবং চলতি বছর আগস্ট পর্যন্ত ২৫৪টি অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হয়। এভাবে প্রায় পৌনে ছয় বছরে গড়ে ২৯২টি মরদেহের ময়নাতদন্ত হয়েছে। শীতকালে অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি থাকে।
চিকিৎসকরা জানান, অজ্ঞাত মরদেহের পরিচয় শনাক্তে ময়নাতদন্তের সময়ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করা হয়। মরদেহের দাঁত ও হাড়ের নমুনা সংগ্রহ করে সংরক্ষণ করা হয়। এসব নমুনা প্রয়োজন অনুযায়ী ঢামেক ও সিআইডিতে রাখা হয়, যাতে পরবর্তী সময়ে স্বজনের সন্ধান পাওয়া গেলে ডিএনএ পরীক্ষাসহ অন্যান্য প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করা যায়।
ঢামেকের ফরেনসিক মেডিসিন অ্যান্ড টক্সিকোলজি বিভাগের প্রধান ডা. মমতাজ আরা বলেন, বিভিন্ন স্থানে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় মারা যাওয়া ব্যক্তিদের অনেকেই সেপটিক শকে আক্রান্ত ছিলেন। শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ একে একে অকার্যকর হয়ে গেলে এ ধরনের রোগীরা সেপটিক শকে মারা যান।
পরিচয় শনাক্তে পুলিশ যা করে
পুলিশ জানিয়েছে, প্রতিটি মরদেহের পরিচয় শনাক্তে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহের চেষ্টা করা হয়। পরে সিআইডি ও পিবিআইর মাধ্যমে এসব তথ্য জাতীয় তথ্যভান্ডারের সঙ্গে মিলিয়ে দেখার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু যাদের জাতীয় পরিচয়পত্র কখনও করা হয়নি তাদের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয় না। আবার মরদেহ পচে যাওয়ায় অনেক সময় আঙুলের ছাপ বা অন্যান্য বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হয় না।
ফিঙ্গার প্রিন্টের মাধ্যমে পরিচয় শনাক্ত করা না গেলে সারাদেশের থানাগুলোতে বার্তা পাঠানো হয়। পাশাপাশি ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারের মাধ্যমেও পরিচয় শনাক্তের জন্য তথ্য প্রচার করা হয়। দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব না হলে মরদেহের ডিএনএ নমুনা সংরক্ষণ করা হয়।
শাহবাগ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জাহাঙ্গীর আলম বলেন, অজ্ঞাতপরিচয়ের যেসব মরদেহ উদ্ধার করা হয়, তাদের অধিকাংশেরই কোনো পরিচয়পত্র থাকে না। এ কারণে বেশির ভাগ মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয় না। পরিচয় না পেলে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে বেওয়ারিশ লাশ হিসেবে সেগুলো আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
বছরে ৫৭৭ বেওয়ারিশ লাশ দাফন
আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রাজধানীতে ৪৬০টি মরদেহ দাফন করা হয়েছে। ২০২৫ সালে ৬৪৪টি, ২০২৪ সালে ৫৭০টি এবং ২০২৩ সালে ৪৯০টি মরদেহ দাফন করা হয়। এই চার বছরে রাজধানীতে মোট দুই হাজার ১৬৪টি মরদেহ দাফন করা হয়েছে। এসব মরদেহ রাজধানীর রায়েরবাজার ও জুরাইন কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।
হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বছরে গড়ে প্রায় ৫৭৭টি মরদেহ দাফন করা হয়েছে। পুলিশ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে বেওয়ারিশ মরদেহ গ্রহণের পর প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সেগুলো রায়েরবাজার ও জুরাইন কবরস্থানে দাফন করা হয়।
আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের দাফন সেবা কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম বলেন, বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা মরদেহের তালিকা সংরক্ষণ করা হয়। মরদেহ দাফন করার পর কোনো পরিবার-স্বজনের খোঁজ পাওয়া গেলে তাদের আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই কবর চিহ্নিত করে দেওয়া হয়।
শারজাহ থেকে আসা ঢাকাগামী এয়ার অ্যারাবিয়ার একটি ফ্লাইটে আসা যাত্রীর কাছ থেকে এসব সোনার ডিম উদ্ধার করা হয়।
রাজধানীর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রীর শরীর থেকে তিনটি সোনার ডিম উদ্ধার করেছে ঢাকা কাস্টমস হাউসের প্রিভেন্টিভ টিম।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৬টায় শারজাহ থেকে আসা ঢাকাগামী এয়ার অ্যারাবিয়ার একটি ফ্লাইটে আসা যাত্রীর কাছ থেকে এসব সোনার ডিম উদ্ধার করা হয়।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকালে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সকাল সাড়ে ৬টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, ঢাকায় শারজাহ থেকে আসা এয়ার অ্যারাবিয়া (ফ্লাইট নাম্বার G9 518) যোগে সোনা চোরাচালান সংগঠিত হতে পারে মর্মে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঢাকা কাস্টমস হাউসের প্রিভেন্টিভ টিম কর্তৃক বিমানবন্দরে বিভিন্ন পয়েন্টে নজরদারি করে।
এক পর্যায়ে আরমান উদ্দিন সিদ্দিক (Passport No- A12028533) নামের যাত্রী ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করে ব্যাগেজ বেল্ট-০২ এ উপস্থিত হলে প্রাথমিকভাবে সন্দেহজনক বিবেচনায় প্রিভেন্টিভটিম কর্তৃক যাত্রীকে তল্লাশি করে যাত্রীর পায়ুপথে বিশেষভাবে লুকানো অবস্থায় সাদা স্কচটেপ দিয়ে মোড়ানো তিনটি ডিম্বাকৃতি পেস্ট আকারে সোনা জব্দ করা হয়। যার ওজন (৪৩০ গ্রাম×৩ পিস) ১২৯০ গ্রাম ও বিশুদ্ধতার পরিমাণ ২৪ ক্যারেট। স্বর্ণকারের প্রত্যয়ন মোতাবেক ডিম্বাকৃতির সোনার পেস্ট পরিশোধন করা হলে আনুমানিক ১০০০ গ্রাম স্বর্ণ পাওয়া যেতে পারে। পণ্যের আনুমানিক বাজার মূল্য ১ কোটি ৭৪ লাখ টাকা।
যাত্রীর বিরুদ্ধে কাস্টমস হাউস ঢাকার প্রিভেন্টিভ টিম কর্তৃক ফৌজদারি মামলা দায়ের করার কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলেও জানানো হয় বিজ্ঞপ্তিতে।
ছবি : সংগৃহীত
রাজধানীর মহাখালী বাস টার্মিনালের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি বাসে আগুন লেগেছে। পরে ফায়ার সার্ভিসের দুই ইউনিটের চেষ্টায় দ্রুত সময়ের মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। আজ বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দুপুরে মহাখালী বাস টার্মিনাল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ফায়ার সার্ভিস কন্ট্রোল রুমের কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম জানান, মহাখালী বাস টার্মিনালের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা প্রাইম পরিবহনের একটি এসি বাসে আগুন লাগে। খবর পাওয়ার পর ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিভিয়ে ফেলে। তবে, এ ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
তবে কী কারণে হঠাৎ বাসটিতে আগুন লাগে এখন পর্যন্ত সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারেননি কেউ। এ সময় আশপাশে থাকা লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছিল।
ছবি : সংগৃহীত
গ্যাস পাইপলাইনের জরুরি মেরামত কাজের জন্য বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাজধানীর কয়েকটি এলাকায় সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত টানা ১০ ঘণ্টা গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) এক বিজ্ঞপ্তিতে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত আগারগাঁও, তালতলা পশ্চিমাংশ, শেওড়াপাড়া পশ্চিমাংশ, কাজীপাড়া পশ্চিমাংশ, মিরপুর-১০ পশ্চিমাংশ, মিরপুর-১, পাইকপাড়া, কল্যাণপুর, শ্যামলী, মিরপুর ৬০ ফুট ও পীরের বাগ এলাকায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে।
এ সময় এসব এলাকার আবাসিক, বাণিজ্যিক ও সিএনজি গ্রাহকরা গ্যাস পাবেন না। কল্যাণপুর থেকে মিরপুর-১ গামী সড়কের ডান পাশের এলাকাও এ কর্মসূচির মধ্যে থাকবে।
এ ছাড়া আশপাশের এলাকায় গ্যাসের স্বল্পচাপ থাকতে পারে। মেরামত কাজের কারণে সাময়িক অসুবিধার জন্য গ্রাহকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ।
রাজধানীর সদরঘাটে লঞ্চে প্রবেশকে কেন্দ্র করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) কয়েক শিক্ষার্থীর সঙ্গে ‘প্রিন্স আওলাদ’ লঞ্চের কর্মীদের কথা-কাটাকাটি, মারধর ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে।
পরে বিষয়টি মীমাংসার নামে লঞ্চ মালিক সমিতির কাছে জবি ছাত্রদলের সদস্য সচিব শামছুল আরেফিনের কিছু কর্মীসহ ছাত্রদলের কয়েকজন ৪০ হাজার টাকা দাবি করে বলে অভিযোগ উঠেছে এবং শেষ পর্যন্ত ২০ হাজার টাকায় বিষয়টি মীমাংসা করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
সোমবার (৫ অক্টোবর) বিকেল ৫টার দিকে সদরঘাটের ৪ নম্বর টার্মিনালে ‘প্রিন্স আওলাদ’ লঞ্চে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয় দিয়ে দুই শিক্ষার্থী ‘প্রিন্স আওলাদ’ লঞ্চে প্রবেশের চেষ্টা করেন। সন্ধ্যার দিকে লঞ্চে প্রবেশের সময় কর্মীরা তাদের বাধা দিলে এ নিয়ে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে ওই দুই শিক্ষার্থী একজন লঞ্চকর্মীকে মারধর করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরে ঘটনাস্থলে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী উপস্থিত হন। তাদের মধ্যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সৈকত, কাব্য, ইমন, আসিফ ও আলিমুল; ইতিহাস বিভাগের ১৮ ব্যাচের সাইদ ও নাইম; থিয়েটার বিভাগের ১৮ ব্যাচের নাইম; আইইআর বিভাগের ১৮ ব্যাচের তাজ এবং আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের (আইএমএল) ১৮ ব্যাচের বহিষ্কৃত ছাত্রদল কর্মী শের আলী উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।
জানা যায়, সৈকত, কাব্য, ইমন, আসিফ ও আলিমুল জবি শাখা ছাত্রদলের সদস্যসচিব শামছুল আরেফিনের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। পরে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে লঞ্চকর্মীদের ফের ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে কয়েকজন শিক্ষার্থী ও লঞ্চকর্মী আহত হয়েছেন। এ সময় লঞ্চের কয়েকজন কর্মীর মোবাইল ফোন ভাঙার অভিযোগও ওঠে।
ঘটনার পর মোবাইল ফোন ভাঙা ও চিকিৎসা ব্যয়ের কথা উল্লেখ করে লঞ্চ মালিক সমিতির কাছে ৪০ হাজার টাকা দাবি করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে। এ সময় ছাত্রদলের পরিচয় ব্যবহার করে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। পরে আলোচনার মাধ্যমে ২০ হাজার টাকায় বিষয়টি নিষ্পত্তি হয় বলে জানা গেছে।
পরিচয় গোপন রাখার শর্তে ‘প্রিন্স আওলাদ’ লঞ্চের এক কর্মী বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয় দিয়ে কিছু শিক্ষার্থী প্রায়ই সন্ধ্যা বা রাতে লঞ্চে এসে গাঁজা ও বিভিন্ন মাদক সেবন করেন। এ কারণে পরিচয়পত্র ছাড়া কাউকে লঞ্চে প্রবেশে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে এ ঘটনার সূত্রপাত হয়।
তিনি বলেন, "এই ঘটনার পর আমরা লঞ্চ মালিক সমিতির অফিসে বসি। সেখানেও এক দফা কথা-কাটাকাটি ও ধাক্কাধাক্কি হয়। পরে বৈঠকে ৪০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। শেষ পর্যন্ত ২০ হাজার টাকায় বিষয়টি মীমাংসা হয়।"
প্রিন্স আওলাদ লঞ্চের সুপারভাইজার মো. জিল্লু বলেন, "আর্থিক লেনদেনের কত টাকা নিয়েছে, সেটা আমি বলতে পারছি না। তবে তারা বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে টাকা নিয়েছেন। পুরান ঢাকা, বিশেষ করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় দেশের শিক্ষা ক্ষেত্রে অগ্রদূত ও বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। তাই আমরা চাই, কেউ যেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম নষ্ট না করে।"
লঞ্চটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক যুবরাজ হোসেন বলেন, "আজকের ঘটনার পর আমরা একসঙ্গে বসেছিলাম। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয় ছাড়া যেন কেউ লঞ্চে প্রবেশ করতে না পারে, সে জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দেওয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি।"
এদিকে মীমাংসার নামে টাকা দাবির বিষয়টি জানতে পেরে কয়েকজন সাংবাদিক ঘটনাস্থলে গিয়ে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করেন। এ সময় বাংলাদেশ বুলেটিনের জবি প্রতিনিধি আকাশ আহমেদ রুপম ও পাবলিক নিউজের জবি প্রতিনিধি এটিএম হাসনাত হাবিবের সঙ্গে উপস্থিত ছাত্রদলকর্মীদের বাগ্বিতণ্ডা ও ধাক্কাধাক্কি হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। একপর্যায়ে সাংবাদিকদের জোর করে ঘটনাস্থল থেকে বের করে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ বিষয়ে জবি ছাত্রদলের সদস্যসচিব শামছুল আরেফিনের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে জবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল বলেন, "আমি এ বিষয়ে পুরোপুরি অবগত না। যদি ছাত্র দলের পরিচয় ব্যবহার করে এ চাঁদাবাজি করে তাহলে ছাত্রদল এ দ্বায়ভার নিবে না। তারা ছাত্র দলের কর্মী না৷ আর যদি ছাত্র দলের কেউ থাকে তাহলে ছাত্র দল সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিবে।"