ঘটনার সাথে সরাসরি জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করেছে পিবিআই

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৭ এপ্রিল, ২০২৬, সময় : ১:২১ পিএম

ছোট দুই ভাই-বোনকে বেশি আদর ও ভালোবাসেন মা-বাবা; এমন ধারণা থেকে এক প্রতারক কবিরাজ চক্রের শরণাপন্ন হয় শেরপুর জেলার মোছা. লুবাবা (১৩) নামের এক কিশোরী। এ সুযোগে কৌশলে তার কাছ থেকে ২৭ ভরি স্বর্ণালংকার ও তিন লাখের বেশি টাকা প্রতারণা করে নেয় চক্রটি। প্রতারণার ২৫ ভরি স্বর্ণালংকার উদ্ধারসহ ঘটনার সাথে সরাসরি জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করেছে জামালপুর পুলিশ ব্যুরো ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) সদস্যরা।



জামালপুর পিটিআই কার্যালয়ে পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত বৃহস্পতিবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি জানান। লুবাবা শেরপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী। প্রতারক চক্রের মূলহোতা মনির হোসেন জামালপুর সদর উপজেলার লক্ষ্মীরচর ইউনিয়নের চর যথার্থপুর চান্দাপাড়া এলাকার মৃত মজিবর রহমানের ছেলে। 



পিবিআই জানায়, শেরপুরের কাপড় ব্যবসায়ী সাইদুর রহমানের মেয়ে লুবানা (১২) স্থানীয় সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। তার মনে ধারণা জন্মায় যে, মা-বাবা তাকে কম ভালোবাসেন। এই ভাবনা থেকে বাবা-মাকে সব থেকে আপন করে নেওয়ার জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ভিডিও দেখে আসছিল। একপর্যায়ে টিকটকে ‘খুরশেদ কবিরাজ’ নামে এক তান্ত্রিকের সন্ধান পায়। মা-বাবার ভালোবাসা পাইয়ে দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ওই ভণ্ড কবিরাজ ইমো অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে লুবানার সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করে। কবিরাজির ফি ও বিভিন্ন সামগ্রী কেনার কথা বলে ১ মার্চ বিকাশের মাধ্যমে লুবানার কাছ থেকে ২ লাখ ৪৩ হাজার ১৫০ টাকা হাতিয়ে নেয় চক্রটি। 



এতেও কাজ না হওয়ায় ১০ মার্চ তারা লুবানার কাছ থেকে ২৭ ভরি স্বর্ণালংকার ও আরও ১ লাখ টাকা নেয়। টাকা ও স্বর্ণালংকার নেয়ার পরও সমস্যার সমাধান না হওয়ায় সর্বশেষ ঝাড়ফুঁকের কথা বলে লুবানার কাছে আরও ১ লাখ টাকা দাবি করে ভণ্ড কবিরাজ। লুবানা বিকাশের দোকানে টাকা পাঠাতে গেলে, অল্প বয়সী মেয়ের এত টাকা লেনদেনের বিষয়টি দেখে দোকানদারের সন্দেহ হয়। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে লুবানার বাবাকে ফোন করে বিষয়টি জানান। এরপরই পুরো ঘটনা ফাঁস হয়ে যায়। 



পিবিআইয়ের তথ্য মতে; ১ মার্চ জনৈক মো. খুরশেদ কবিরাজ,  ‘কবিরাজ’ ও ‘আল্লাহর দান’ ইত্যাদি নামে বিভিন্ন ইমো নম্বর পরিচালনাকারী প্রতারক চক্র বিকাশের মাধ্যমে ৯ মার্চের মধ্যে ২ লাখ ৪৩ হাজার ১৫০ টাকা প্রতারণামূলকভাবে তার কাছ থেকে নিয়ে নেয়। ১০ মার্চ সাড়ে ২৭ স্বর্ণালংকার ও নগদ ১ লাখ টাকা প্রতারণামূলকভাবে নেয়। এ ঘটনায় ১৭ মার্চ কাপড় ব্যবসায়ী ছাইদুর রহমান বাদী হয়ে শেরপুর সদর থানায় একটি মামলা করেন। পিবিআই প্রধান অ্যাডিশনাল আইজিপি মো. মোস্তফা কামাল পিবিআইয়ের জামালপুর ইউনিটকে মামলাটির রহস্য উদঘাটনের জন্য নির্দেশনা দেন। এ নির্দেশনার প্রেক্ষিতে ৩১ মার্চ মামলাটি পিবিআই হেডকোয়ার্টার্স এর মাধ্যমে জামালপুর জেলার পিবিআই নিজ উদ্যোগে মামলাটি গ্রহণ করে এবং তদন্ত ভার এসআই আব্দুস সালামের উপর অর্পণ করা হয়।   


উদ্ধার স্বর্ণালংকার ও মোবাইল ফোন 


পিবিআই মামলার রহস্য উদঘাটনে বেশ কয়েকটি টিমে ভাগ হয়ে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করে। তথ্য প্রযুক্তি সহায়তায় মামলার ঘটনার সাথে সরাসরি জড়িত আসামি মো. মুছা মিয়া (২৯) ও  মো. রফিকুল ইসলামকে ৯ এপ্রিল গাজীপুর জেলার শ্রীপুর থানার মাওনা এমসি বাজার এলাকা হতে গ্রেপ্তার করে। তাদের তথ্যের ভিত্তিতে ১৫ এপ্রিল ভোরে মূলহোতা মো. মনির হোসেনকে ময়মনসিংহ জেলার কোতয়ালী থানার চরপাড়া গণেশার মোড় এলাকা হতে গ্রেপ্তার করা হয়।  মনির হোসেনকে নিয়ে অভিযান পরিচালনা করে তার বাড়ির পাশের বাগানের মাটি খুঁড়ে ২৫ ভরি স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়।


তদন্ত ও আসামিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, আসামিরা ইমো অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সাধারণ মানুষের বিভিন্ন সমস্যার  বিষয়ে শুনে সমাধানের কথা বলে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে বিভিন্ন অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়। 


বাবা-মা’র ভালোবাসা পেতে ভুয়া কবিরাজের শরণাপন্ন কিশোরী

পিবিআই জানায়, বাদীর মেয়ে কিছুদিন যাবত নিজে থেকেই মনে করে আসছিল যে, তার বাবা-মা তার ছোট ভাইবোনের চেয়ে তাকে কম আদর করে। এই বিষয়ে হতাশাগ্রস্ত হয়ে বাদীর অজান্তে সে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে কীভাবে বাবা-মাকে আপন করে পাওয়া যায় সেই বিষয়ে ভিডিও দেখা শুরু করে। সেই সুবাদে টিকটকে তান্ত্রিক পরিচয়ধারী জনৈক মো. খুরশেদ কবিরাজের সাথে বাদীর মেয়ের পরিচয় হয়। পরিচয়ের সূত্র ধরে মো. খুরশেদ কবিরাজ নামক প্রতারক তার সহকারী ‘কবিরাজ’ নামে ২টি ও ‘আল্লাহর দান’ নামে ১টি ইমু অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে বাদীর মেয়ের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করে সকল সমস্যা সমাধানের আশ্বাসে কবিরাজির ফি, ১টি খাসি, ৪টি জায়নামাজ, ৪টি আগর বাতি, ৪টি মোমবাতি, ৫ কেজি গরুর দুধ, ৫ কেজি ফল, মন্ত্রে কাজ না হওয়ায় জোড়া শুকর কিনে জবাই করা, ২ কেজি চন্দন কাঠ কেনা বাবদ ৬ এপ্রিল হতে ৯ এপ্রিল পর্যন্ত মোট ২ লাখ ৪৩ হাজার ১৫০ টাকা বিকাশ অ্যাকাউন্টে দেয়।

সর্বশেষ কাজ হিসেবে ঝাড়ফুঁক দিয়ে দেয়ার কথা বলে ২৭ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ ১ লাখ টাকা কৌশলে হাতিয়ে নিয়ে চলে আসে। বাদীর মেয়ে আবার টাকা পাঠাতে গেলে  বিকাশ দোকানদার তার বয়স কম হওয়ায় বাদীকে ফোন করলে বাদী এ প্রতারণার বিষয়ে জানতে পারেন। 



পুলিশ সুপার জানান, মামলার ঘটনায় সরাসরি জড়িত তিনজন প্রতারককে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। জড়িত অন্য সদস্যদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার প্রক্রিয়া চলছে। মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

তিনি জানান, প্রতারণা করে নেওয়া প্রায় ২৫ ভরি স্বর্ণালংকার ও এ সময়ের সবচেয়ে আধুনিক মোবাইল ফোনসহ পাঁচটি মোবাইল জব্দ করা হয়েছে। চটকধারী বিজ্ঞাপন দেখে যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনও প্রকার আর্থিক লেনদেন না করার জন্য জনসাধারণকে অনুরোধ করেছেন তিনি।





গ্রেপ্তার সাজু মিয়া

  • প্রকাশ : বুধবার ১৯ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৬:১০ পিএম

চট্টগ্রাম নগরে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) পরিচয়ে ৭৭ ভরি স্বর্ণ ও ১৮ লাখ টাকা লুট এবং ব্যবসায়ীকে অপহরণ চক্রের মূলহোতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গ্রেপ্তার সাজু মিয়া আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। লুট হওয়া মোবাইল ফোনও উদ্ধার করা হয়েছে। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে পিবিআই। 


পিবিআই জানিয়েছে, গ্রেপ্তার সাজু মিয়া (৩৭) চক্রটির মূলহোতা। ১৬ আগস্ট তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার  করা হয়।


পিবিআই সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর নগরের কোতোয়ালি থানার কেসি দে রোডের শহীদ মিনারের আন্ডারগ্রাউন্ড এলাকা থেকে ব্যবসায়ী পুলক দাশকে (৪৫) ডিবি পরিচয়ে তুলে নেয় দুর্বৃত্তরা। এ সময় তার কাছে থাকা সোনা বিক্রির নগদ ১৭ লাখ ৯০ হাজার ৫২০ টাকা, সোনার গহনা, মোবাইল ফোনসহ এক কোটি ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৫০ টাকা মূল্যের মালামাল ছিনিয়ে নেয় চক্রটি। পরে পুলক দাশের মুখ বেঁধে অজ্ঞাত স্থানে গাড়ি থেকে ফেলে রেখে যায় তারা। 


এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ৮ অক্টোবর কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন ভুক্তভোগী। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় আদালত মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পিবিআইকে দেন। পরে মামলাটির তদন্ত শুরু করে পিবিআই।  তদন্তের একপর্যায়ে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ভুয়া ডিবি চক্রের মূলহোতা সাজু মিয়ার অবস্থান শনাক্ত করা হয়।


পরে এসআই আব্দুর রশীদের নেতৃত্বে পিবিআইয়ের একটি দল অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে।


পিবিআই জানায়, গ্রেপ্তার সাজু মিয়াকে আদালতে হাজির করা হলে তিনি ঘটনার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। 


চক্রটির সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত এবং অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।



গ্রেপ্তার আল-আমিন

  • প্রকাশ : বুধবার ১৯ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৪:২১ পিএম

সাভারের আশুলিয়ার বাসাইদ এলাকায় তালাবদ্ধ কক্ষ থেকে মো. কামরুল খান (৪৪) নামের এক ব্যক্তিকে গলা কেটে হত্যার চাঞ্চল্যকর ঘটনার রহস্য মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে উদ্ঘাটন করেছে পিবিআই ঢাকা জেলা। এ ঘটনায় জড়িত মূল অভিযুক্ত মো. আল-আমিনকে (৩৬) খুলনার তেরখাদা থানা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তার স্বীকারোক্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি ও ভিকটিমের মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।


পিবিআই বুধবার দুপুরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তথ্য জানিয়েছে। এতে বলা হয়, ১৬ আগস্ট আশুলিয়া থানার বাসাইদ এলাকার রাজু সিটির সামনে আমির আলীর ভাড়া দেওয়া টিনের চালার একটি তালাবদ্ধ কক্ষ থেকে দুর্গন্ধ ছড়ালে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পরে পিবিআই ঢাকা জেলার ক্রাইম সিন টিম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ফিঙ্গারপ্রিন্ট প্রযুক্তির মাধ্যমে নিহতের পরিচয় শনাক্ত করে। নিহত কামরুল খান খুলনার তেরখাদা থানার কালাপাটগাতি গ্রামের মৃত করিম খানের ছেলে।


এ ঘটনায় নিহতের মামাতো ভাই মো. জামিল শেখ বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে পিবিআই স্বউদ্যোগে মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে। পিবিআই প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. মোস্তফা কামালের দিকনির্দেশনায় এবং পিবিআই ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার এম. এন. মোর্শেদের তত্ত্বাবধানে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে খুলনার তেরখাদা থেকে আল-আমিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। 


প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও আদালতে দেওয়া ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে আল-আমিন জানান, নিহত কামরুল ও তিনি খুলনার একই এলাকার বাসিন্দা এবং পূর্বপরিচিত। কাজের সন্ধানে তারা ঢাকায় এসে  ৯ আগস্ট বাসাইদ এলাকায় একটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে রাজমিস্ত্রির কাজ শুরু করেন। গত ১৪ আগস্ট রাতে কাজের টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে কামরুল ও আল-আমিনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে আল-আমিন সবজি কাটার ছুরি দিয়ে কামরুলের গলায় আঘাত করে হত্যা করেন এবং পরে মরদেহ গামছা দিয়ে বেঁধে রেখে পালিয়ে যান।


পিবিআই জানায়, বাড়িওয়ালা কোনো ধরনের পরিচয়পত্র ও মোবাইল নম্বর ছাড়াই তাদের রুম ভাড়া দেওয়ায় পরিচয় শনাক্তে কিছুটা চ্যালেঞ্জ থাকলেও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় দ্রুততম সময়ে অপরাধীকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে। মামলাটির তদন্ত তদারকি করছেন পিবিআই ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার এম, এন, মোর্শেদ এবং তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন পুলিশ পরিদর্শক মো. জামাল উদ্দিন।



সুমাইয়া সাঈদ

  • প্রকাশ : বুধবার ১৯ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ২:৩৯ পিএম

সোশ্যাল মিডিয়ায় পর্নোগ্রাফিক কনটেন্ট তৈরি, প্রচার ও বিক্রির অভিযোগে রাজধানী থেকে সুমাইয়া সাঈদ (২৫) নামে এক ইনস্টাগ্রাম ইনফ্লুয়েন্সারকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (দক্ষিণ) বিভাগ। এ সময় ওই তরুণীর প্রধান সহযোগী খাজা সাকলাইন ফারুককেও গ্রেপ্তার করে পুলিশ।


এ ঘটনায় মেয়ের অনৈতিক কার্যক্রম অবহিত থেকেও তার উপার্জনে সম্মতি থাকা এবং অর্থ গ্রহণের অভিযোগে সুমাইয়ার বাবা মো. আবু সাঈদকেও আসামি করা হয়েছে মামলায়।


ডিবি সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ আগস্ট সাইবার মনিটরিংয়ের সময় সুমাইয়ার ইনস্টাগ্রাম ও টেলিগ্রাম আইডিতে আপত্তিকর কনটেন্ট এবং সেসব বিক্রির বিজ্ঞাপন দৃষ্টিগোচর হয়। মোবাইল ফোন ভিত্তিক অর্থ লেনদেনের মাধ্যম বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে নির্দিষ্ট ফি (যেমন- ৩ হাজার ৫০০ টাকায় লাইফটাইম প্যাকেজ) নিয়ে অশ্লীল ছবি ও ভিডিও বিক্রি করা হতো।


এরপর প্রযুক্তির সহায়তায় তাদের অবস্থান শনাক্ত করে গত ১১ আগস্ট রাতে ঢাকার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি ফ্ল্যাটে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে সুমাইয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে একটি আইফোন-১৭ প্রো ম্যাক্স ও একটি ওয়ানপ্ল্যাস স্মার্টফোন জব্দ করা হয়। পরে সুমাইয়ার দেয়া তথ্য অনুযায়ী বাড্ডার ‘ঢাকা পপুলার ট্রাভেলস’ থেকে তার প্রধান সহযোগী খাজা সাকলাইন ফারুককে গ্রেপ্তার করা হয়।


এ ঘটনায় প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, কয়েকজন সহযোগীর সঙ্গে যোগসাজশে সুমাইয়া চক্রটি পরিচালনা করতেন। আর চাঞ্চল্যকর তথ্য হচ্ছে, সুমাইয়ার বাবা মেয়ের এসব অপকর্ম জানার পরও তাতে কোনো ধরনের বাধা না দিয়ে, বরং নিয়মিত এর অর্থ নিতেন।


এ ঘটনায় রমনা মডেল থানায় পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর অধীনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার রহস্য উদঘাটন এবং এ চক্রের পলাতক অন্যসব আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য আদালতে গ্রেপ্তারকৃতদের তিনদিনের রিমান্ড আবেদন করেছে পুলিশ।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৪:৩৫ পিএম

চেক ডিজঅনারের এক বছরের সাজার আরেক মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে লোকসংগীত শিল্পী, সুরকার ও সংগীত পরিচালক মুজিব পরদেশীকে। বাদীপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার এ আদেশ দেন ঢাকার পঞ্চম যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ সাদিক আহম্মেদ।


আদালতের বেঞ্চ সহকারী শাহ আলম মিয়া বলেন, “২০০৭ সালের ২১ নভেম্বর আসামি মুজিব পরদেশীকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়।


“এর মধ্যে বাদী পাবেন ৫ লাখ টাকা এবং অবশিষ্ট ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা যাবে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে।”


মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০০৩ সালে মামলার বাদী মজিবুর রহমানের ছোট ভাই সোলায়মান সরদারকে যুক্তরাজ্যে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে ৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা নেন মুজিব পরদেশী এর মধ্যে ব্যাংকের মাধ্যমে ২ লাখ ২০ হাজার এবং নগদে আরও ২ লাখ ২০ হাজার টাকা গ্রহণ করা হয়।


পরবর্তীতে সোলায়মানকে যুক্তরাজ্যে নিতে ব্যর্থ হলে মুজিব পরদেশীর কাছ টাকা ফেরত চান বাদী। তখন তিনি ২ লাখ ২০ হাজার টাকা করে দুটি চেক দেন। কিন্তু চেক দুটি ব্যাংকে জমা দিলে ‘তহবিল অপর্যাপ্ত’ জানিয়ে তা একাধিকবার প্রত্যাখ্যাত হয়।


এ ঘটনায় বাদী একাধিকবার আইনি নোটিস পাঠালেও টাকা পরিশোধ করা হয়নি। পরে ২০০৪ সালের ১ জুন মামলা দায়ের করেন মজিবুর রহমান।


মামলায় অভিযোগ করা হয়, মুজিব পরদেশী তার সংগীতশিল্পীর পরিচয়কে কাজে লাগিয়ে বিদেশে নেওয়ার কথা বলে আরও কয়েকজনের কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন।


এর আগে গত ৪ অগাস্ট ১০ লাখ টাকার আরেকটি চেক ডিজঅনার মামলায় মুজিব পরদেশীকে কারাগারে পাঠানো হয়। ২০২২ সালে মাগুরার আদালতে মামলাটি করেন ইদ্রিস আলী বিশ্বাস। পরের বছরের ১৫ মার্চ মাগুরার দ্বিতীয় যুগ্ম দায়রা জজ মুহাম্মদ আনোয়ার ছাদাত তাকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও চেকের সমপরিমাণ ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেন।


রায় ঘোষণার সময় মুজিব পরদেশী পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। পরে ওই পরোয়ানার ভিত্তিতে উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করে। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়।


এরপর আইনজীবী আব্দুর রহমান মিয়া মজিবুর রহমানের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন।


মুজিব পরদেশীর আসল নাম মুজিবুর রহমান মোল্লা। তিনি আশির দশকে বাংলা লোকগীতির মাধ্যমে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।


গ্রেপ্তার দুই আসামি

  • প্রকাশ : শনিবার ১৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১:১৪ পিএম

একটি অটোভ্যানের জন্য বন্ধুত্বের আড়ালে ভয়ঙ্কর ছকে হত্যা করা হয়েছে সুজন হাওলাদার (২৯) নামে এক যুবককে। এর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পিবিআই হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে। হত্যায় ব্যবহৃত চাপাতি আলামত হিসেবে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই আসামি হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। ঢাকা জেলা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। 


পিবিআই জানিয়েছে, কেরানীগঞ্জের অটোভ্যানচালক সুজন হাওলাদার (২৯) ৮ আগস্ট বিকেলে অটোভ্যান নিয়ে বাসা থেকে বের হন। রাত ৯টার দিকে তিনি তার স্ত্রীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলেন। এরপর মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরদিন তার স্ত্রী কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় নিখোঁজ সংক্রান্ত সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। ২ দিন পর গত ১০ আগস্ট সকালে আশুলিয়া থানার আব্দুল্লাহপুরগামী সড়কের পাশে নির্মাণাধীন এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে থেকে মাথায় আঘাত ও গলাকাটা অবস্থায় সুজন হাওলাদারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের মা আলো বেগম বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে আশুলিয়া থানায় মামলা করেন। ১১ আগস্ট পিবিআই ঢাকা জেলা স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে। বর্তমানে মামলাটি তদন্ত করছেন পুলিশ পরিদর্শক (নি.) মো. জামাল উদ্দীন। 


বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পিবিআই ঢাকা জেলার সদস্যরা ১১ আগস্ট মাদারীপুর সদর এলাকার একটি গ্যারেজে অভিযান পরিচালনা করে মামলার তদন্তে প্রাপ্ত আসামি মো. মারুফ (৩৯) ও মো. তানভীর ঢালী ওরফে আকাশকে (২২) গ্রেপ্তার করেন। তাদের হেফাজত থেকে ভিকটিমের লুণ্ঠিত অটোভ্যান ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। পরে আসামি মারুফের দেখানো মতে আশুলিয়া এক্সপ্রেসওয়ের নিচে পানির মধ্য থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাপাতি উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তার উভয় আসামি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।


পিবিআইয়ের তদন্তে জানা যায়, আসামি মো. মারুফ ও ভিকটিম মো. সুজন হাওলাদার পূর্বপরিচিত। তাঁদের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল। ৮ আগস্ট ঢাকার নয়াবাজার এলাকায় তাদের দেখা হয়। পরে তারা একসঙ্গে কেরানীগঞ্জে গিয়ে ইয়াবা সেবন করে এবং সুজনের অটোভ্যানে করে আশুলিয়া হয়ে গাজীপুরের কাশিমপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। অটোভ্যানটি আত্মসাতের উদ্দেশ্যে মারুফ সুজনকে কাশিমপুরে নিয়ে গিয়ে অটোভ্যানে মালামাল লোড করে। রাত ৩টার দিকে কাশিমপুর হতে মালামালসহ ঢাকার লালবাগের উদ্দেশ্যে রওনা করে। কিন্তু ভোরের দিকে আশুলিয়ায় নির্মাণাধীন এক্সপ্রেসওয়ের নিচে পৌঁছলে অটোভ্যানটি বিকল হয়ে যায়। অটোভ্যান ঠিক করতে না পারায় তারা নির্মাণাধীন এক্সপ্রেসওয়ের নিচে পিলারের পাশে বসে ইয়াবা সেবন করে। 


পিবিআই জানায়, ভিকটিম সুজন নেশাগ্রস্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। এ সময় মারুফ উপরে গিয়ে সুজনের ভ্যানে থাকা চাপাতি নিয়ে আসে। ৯ আগস্ট দুপুরে মারুফ প্রথমে পাথর দিয়ে সুজনের মাথায় আঘাত করে। ভ্যানে থেকে নিয়ে আসা চাপাতি দিয়ে তার গলায় আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করে। এরপর হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাপাতিটি পানিতে ফেলে দেয়। এরপর মারুফ অটো ভ্যানের তার দিয়ে অটোভ্যান সচল করে মালামালসহ ঢাকার লালবাগে চলে আসে। একদিন পর ১০ আগস্ট সকালে মারুফ অটো ভ্যান নিয়ে মাদারীপুরে গিয়ে লুণ্ঠিত অটোভ্যানটি অপর আসামি তানভীর ঢালী ওরফে আকাশের কাছে ৯০ হাজার টাকায় বিক্রি করে। এ ঘটনার সঙ্গে অন্য কোনো ব্যক্তি জড়িত আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মামলার তদন্ত চলছে।


তিন মোটরসাইকেলে এসে গাড়ি থামিয়ে অস্ত্রের মুখে টাকার ব্যাগ ছিনিয়ে নেয় দুর্বৃত্তরা, ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

  • প্রকাশ : সোমবার ১০ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:২৯ পিএম

রাজধানীর উত্তরা এলাকায় ব্যাংকে জমা দিতে যাওয়ার পথে ডিএল পেট্রোল পাম্পের ১ কোটি ২১ লাখ ২৫ হাজার টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। রোববার সকাল ১০টা থেকে সাড়ে ১০টার মধ্যে উত্তরা র‍্যাব-১ ব্যাটালিয়নের দক্ষিণ পাশে এ ঘটনা ঘটে। 


প্রতিষ্ঠানটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের খালাতো ভাই তাসীন আক্তার হকের। পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তিনটি মোটরসাইকেলে করে আসা কয়েকজন ব্যক্তি টাকা বহনকারী গাড়িটির গতিরোধ করেন। 


একপর্যায়ে গাড়িতে ধাক্কা দিয়ে সেটি থামানোর পর ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে টাকার ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যান তারা। মামলার এজাহারে ছিনতাই হওয়া টাকা ডিএল পেট্রোল পাম্পের বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় পেট্রোল পাম্পের ম্যানেজার করিম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেছেন।


সূত্র জানায়, ডিএল প্রতিষ্ঠানের মালিকানার সঙ্গে যুক্ত তাসীন আক্তার হক। তিনি প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বোন, সাবেক সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী খুরশীদ জাহান হকের ছোট ছেলে। পেট্রোল পাম্প-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ডিএল পেট্রোল পাম্পে প্রতিদিন প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ লাখ টাকা লেনদেন হয়। নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিদিনের বিক্রির টাকা সকাল ১০টা থেকে সাড়ে ১০টার মধ্যে ব্যাংকে জমা দেওয়ার জন্য নেওয়া হতো। 


শুক্র ও শনিবার ব্যাংক বন্ধ থাকায় ওই দুদিনের টাকা পরবর্তী কর্মদিবস রোববার একসঙ্গে ব্যাংকে জমা দেওয়া হয়। ফলে রোববার তুলনামূলক বেশি টাকা ব্যাংকে নেওয়া হয়।গতকালও নিয়ম অনুযায়ী পেট্রোল পাম্পের টাকা ব্যাংকে জমা দিতে নেওয়া হচ্ছিল। সকাল ১০টা থেকে সাড়ে ১০টার মধ্যে উত্তরা র‍্যাব-১ ব্যাটালিয়নের দক্ষিণ পাশে পৌঁছালে তিনটি মোটরসাইকেলে আসা কয়েকজন ব্যক্তি গাড়িটির গতিরোধ করেন। পরে তারা গাড়িতে ধাক্কা দেন এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলার পর টাকার ব্যাগ নিয়ে দ্রুত মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে যান।


ছিনতাই হওয়া টাকার পরিমাণ ১ কোটি ২১ লাখ ২৫ হাজার উল্লেখ করা হয়েছে মামলায়। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে পেট্রোল পাম্পের টাকা একই সময়ে ব্যাংকে জমা দেওয়ার জন্য নেওয়া হতো। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সাড়ে ১০টার মধ্যে টাকা নিয়ে ব্যাংকের উদ্দেশে রওনা হওয়ার বিষয়টি ছিনতাইকারীরা আগে থেকেই জানত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। রোববার বিশেষ করে শুক্র ও শনিবারের দুদিনের টাকা একসঙ্গে ব্যাংকে নেওয়া হবে এ তথ্য দুর্বৃত্তদের কাছে আগে থেকেই ছিল কি না, সেটিও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। 


একই সঙ্গে টাকা বহনের নির্দিষ্ট সময় ও রুট সম্পর্কে কেউ তথ্য সরবরাহ করেছিল কি না, তা-ও তদন্ত করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত ছিনতাইয়ে জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। তাদের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের নম্বরও শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।ছিনতাই হওয়া টাকা উদ্ধার এবং জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক ইউনিট তদন্ত করছে।


উত্তরা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) তারেক আহমেদ বেগম বলেন, এখন পর্যন্ত কোনো অগ্রগতি নেই। তবে আমাদের একাধিক ইউনিট কাজ করছে। আশা করি শিগগির আসামি গ্রেফতার ও রহস্য উন্মোচন হবে।


তাসীন আক্তার হকের মা প্রয়াত খুরশীদ জাহান হক বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ১৯৯১-১৯৯৬ মেয়াদে তিনি সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন। পরে ১৯৯৬-২০০১ এবং ২০০২-২০০৬ মেয়াদে দিনাজপুর সদর আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তৎকালীন বিএনপি সরকারের মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন খুরশীদ জাহান হক। তিনি তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বড় বোন।