সাবেক ডিবিপ্রধান হারুন অর রশীদ
২০১৬ সালে গাজীপুরের পাতারটেকে জঙ্গি নাটক সাজিয়ে সাতজনকে হত্যার অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক ডিবিপ্রধান হারুন অর রশীদসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে ফরমাল চার্জ (আনুষ্ঠানিক অভিযোগ) দাখিল করা হয়েছে।
দীর্ঘ তদন্ত শেষে বহুল আলোচিত এ ঘটনায় প্রথমবারের মতো বিচারের মুখোমুখি হচ্ছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা।
আজ মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ এই অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন।
এ মামলায় উল্লেখযোগ্য আসামি হলেন- সাবেক আইজিপি একেএম শহিদুল হক, সাবেক আইজিপি জাবেদ পাটোয়ারী, ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার মো. আসাদুজ্জামান মিয়া ও পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের তৎকালীন প্রধান মো. মনিরুল ইসলাম।
প্রসিকিউশন জানায়, দীর্ঘ তদন্তের পর চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে এ মামলার প্রতিবেদন জমা দেয় তদন্ত সংস্থা। এরপর যাচাই-বাছাই শেষে ফরমাল চার্জ বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আকারে ট্রাইব্যুনালে আজ জমা দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে শুনানির পর পরবর্তী দিন ধার্য করবেন ট্রাইব্যুনাল।
উল্লেখ্য, নিহত সাতজনের একজন ছিলেন ইবরাহীম। তিনি যাত্রাবাড়ীর একটি মাদরাসায় লেখাপড়া করতেন। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তীতে বিচারবহির্ভূতভাবে ছেলেকে গুমসহ হত্যার দায়ে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থায় অভিযোগ করেন ইবরাহীমের বাবা।
গ্রেপ্তার দুই আসামি
একটি অটোভ্যানের জন্য বন্ধুত্বের আড়ালে ভয়ঙ্কর ছকে হত্যা করা হয়েছে সুজন হাওলাদার (২৯) নামে এক যুবককে। এর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পিবিআই হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে। হত্যায় ব্যবহৃত চাপাতি আলামত হিসেবে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই আসামি হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। ঢাকা জেলা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
পিবিআই জানিয়েছে, কেরানীগঞ্জের অটোভ্যানচালক সুজন হাওলাদার (২৯) ৮ আগস্ট বিকেলে অটোভ্যান নিয়ে বাসা থেকে বের হন। রাত ৯টার দিকে তিনি তার স্ত্রীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলেন। এরপর মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরদিন তার স্ত্রী কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় নিখোঁজ সংক্রান্ত সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। ২ দিন পর গত ১০ আগস্ট সকালে আশুলিয়া থানার আব্দুল্লাহপুরগামী সড়কের পাশে নির্মাণাধীন এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে থেকে মাথায় আঘাত ও গলাকাটা অবস্থায় সুজন হাওলাদারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের মা আলো বেগম বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে আশুলিয়া থানায় মামলা করেন। ১১ আগস্ট পিবিআই ঢাকা জেলা স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে। বর্তমানে মামলাটি তদন্ত করছেন পুলিশ পরিদর্শক (নি.) মো. জামাল উদ্দীন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পিবিআই ঢাকা জেলার সদস্যরা ১১ আগস্ট মাদারীপুর সদর এলাকার একটি গ্যারেজে অভিযান পরিচালনা করে মামলার তদন্তে প্রাপ্ত আসামি মো. মারুফ (৩৯) ও মো. তানভীর ঢালী ওরফে আকাশকে (২২) গ্রেপ্তার করেন। তাদের হেফাজত থেকে ভিকটিমের লুণ্ঠিত অটোভ্যান ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। পরে আসামি মারুফের দেখানো মতে আশুলিয়া এক্সপ্রেসওয়ের নিচে পানির মধ্য থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাপাতি উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তার উভয় আসামি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
পিবিআইয়ের তদন্তে জানা যায়, আসামি মো. মারুফ ও ভিকটিম মো. সুজন হাওলাদার পূর্বপরিচিত। তাঁদের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল। ৮ আগস্ট ঢাকার নয়াবাজার এলাকায় তাদের দেখা হয়। পরে তারা একসঙ্গে কেরানীগঞ্জে গিয়ে ইয়াবা সেবন করে এবং সুজনের অটোভ্যানে করে আশুলিয়া হয়ে গাজীপুরের কাশিমপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। অটোভ্যানটি আত্মসাতের উদ্দেশ্যে মারুফ সুজনকে কাশিমপুরে নিয়ে গিয়ে অটোভ্যানে মালামাল লোড করে। রাত ৩টার দিকে কাশিমপুর হতে মালামালসহ ঢাকার লালবাগের উদ্দেশ্যে রওনা করে। কিন্তু ভোরের দিকে আশুলিয়ায় নির্মাণাধীন এক্সপ্রেসওয়ের নিচে পৌঁছলে অটোভ্যানটি বিকল হয়ে যায়। অটোভ্যান ঠিক করতে না পারায় তারা নির্মাণাধীন এক্সপ্রেসওয়ের নিচে পিলারের পাশে বসে ইয়াবা সেবন করে।
পিবিআই জানায়, ভিকটিম সুজন নেশাগ্রস্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। এ সময় মারুফ উপরে গিয়ে সুজনের ভ্যানে থাকা চাপাতি নিয়ে আসে। ৯ আগস্ট দুপুরে মারুফ প্রথমে পাথর দিয়ে সুজনের মাথায় আঘাত করে। ভ্যানে থেকে নিয়ে আসা চাপাতি দিয়ে তার গলায় আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করে। এরপর হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাপাতিটি পানিতে ফেলে দেয়। এরপর মারুফ অটো ভ্যানের তার দিয়ে অটোভ্যান সচল করে মালামালসহ ঢাকার লালবাগে চলে আসে। একদিন পর ১০ আগস্ট সকালে মারুফ অটো ভ্যান নিয়ে মাদারীপুরে গিয়ে লুণ্ঠিত অটোভ্যানটি অপর আসামি তানভীর ঢালী ওরফে আকাশের কাছে ৯০ হাজার টাকায় বিক্রি করে। এ ঘটনার সঙ্গে অন্য কোনো ব্যক্তি জড়িত আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মামলার তদন্ত চলছে।
তিন মোটরসাইকেলে এসে গাড়ি থামিয়ে অস্ত্রের মুখে টাকার ব্যাগ ছিনিয়ে নেয় দুর্বৃত্তরা, ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া
রাজধানীর উত্তরা এলাকায় ব্যাংকে জমা দিতে যাওয়ার পথে ডিএল পেট্রোল পাম্পের ১ কোটি ২১ লাখ ২৫ হাজার টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। রোববার সকাল ১০টা থেকে সাড়ে ১০টার মধ্যে উত্তরা র্যাব-১ ব্যাটালিয়নের দক্ষিণ পাশে এ ঘটনা ঘটে।
প্রতিষ্ঠানটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের খালাতো ভাই তাসীন আক্তার হকের। পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তিনটি মোটরসাইকেলে করে আসা কয়েকজন ব্যক্তি টাকা বহনকারী গাড়িটির গতিরোধ করেন।
একপর্যায়ে গাড়িতে ধাক্কা দিয়ে সেটি থামানোর পর ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে টাকার ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যান তারা। মামলার এজাহারে ছিনতাই হওয়া টাকা ডিএল পেট্রোল পাম্পের বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় পেট্রোল পাম্পের ম্যানেজার করিম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেছেন।
সূত্র জানায়, ডিএল প্রতিষ্ঠানের মালিকানার সঙ্গে যুক্ত তাসীন আক্তার হক। তিনি প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বোন, সাবেক সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী খুরশীদ জাহান হকের ছোট ছেলে। পেট্রোল পাম্প-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ডিএল পেট্রোল পাম্পে প্রতিদিন প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ লাখ টাকা লেনদেন হয়। নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিদিনের বিক্রির টাকা সকাল ১০টা থেকে সাড়ে ১০টার মধ্যে ব্যাংকে জমা দেওয়ার জন্য নেওয়া হতো।
শুক্র ও শনিবার ব্যাংক বন্ধ থাকায় ওই দুদিনের টাকা পরবর্তী কর্মদিবস রোববার একসঙ্গে ব্যাংকে জমা দেওয়া হয়। ফলে রোববার তুলনামূলক বেশি টাকা ব্যাংকে নেওয়া হয়।গতকালও নিয়ম অনুযায়ী পেট্রোল পাম্পের টাকা ব্যাংকে জমা দিতে নেওয়া হচ্ছিল। সকাল ১০টা থেকে সাড়ে ১০টার মধ্যে উত্তরা র্যাব-১ ব্যাটালিয়নের দক্ষিণ পাশে পৌঁছালে তিনটি মোটরসাইকেলে আসা কয়েকজন ব্যক্তি গাড়িটির গতিরোধ করেন। পরে তারা গাড়িতে ধাক্কা দেন এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলার পর টাকার ব্যাগ নিয়ে দ্রুত মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে যান।
ছিনতাই হওয়া টাকার পরিমাণ ১ কোটি ২১ লাখ ২৫ হাজার উল্লেখ করা হয়েছে মামলায়। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে পেট্রোল পাম্পের টাকা একই সময়ে ব্যাংকে জমা দেওয়ার জন্য নেওয়া হতো। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সাড়ে ১০টার মধ্যে টাকা নিয়ে ব্যাংকের উদ্দেশে রওনা হওয়ার বিষয়টি ছিনতাইকারীরা আগে থেকেই জানত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। রোববার বিশেষ করে শুক্র ও শনিবারের দুদিনের টাকা একসঙ্গে ব্যাংকে নেওয়া হবে এ তথ্য দুর্বৃত্তদের কাছে আগে থেকেই ছিল কি না, সেটিও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
একই সঙ্গে টাকা বহনের নির্দিষ্ট সময় ও রুট সম্পর্কে কেউ তথ্য সরবরাহ করেছিল কি না, তা-ও তদন্ত করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত ছিনতাইয়ে জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। তাদের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের নম্বরও শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।ছিনতাই হওয়া টাকা উদ্ধার এবং জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক ইউনিট তদন্ত করছে।
উত্তরা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) তারেক আহমেদ বেগম বলেন, এখন পর্যন্ত কোনো অগ্রগতি নেই। তবে আমাদের একাধিক ইউনিট কাজ করছে। আশা করি শিগগির আসামি গ্রেফতার ও রহস্য উন্মোচন হবে।
তাসীন আক্তার হকের মা প্রয়াত খুরশীদ জাহান হক বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ১৯৯১-১৯৯৬ মেয়াদে তিনি সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন। পরে ১৯৯৬-২০০১ এবং ২০০২-২০০৬ মেয়াদে দিনাজপুর সদর আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তৎকালীন বিএনপি সরকারের মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন খুরশীদ জাহান হক। তিনি তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বড় বোন।
সংগৃহীত ছবি
বিমান টিকিট দেওয়ার কথা বলে কয়েক শ’ গ্রাহক ও সাব-এজেন্টের কাছ থেকে অগ্রিম টাকা নিয়ে প্রতারণার অভিযোগে অনলাইনভিত্তিক ট্রাভেল প্রতিষ্ঠান ফ্লাইট এক্সপার্টের বিরুদ্ধে প্রায় ৩৪ কোটি ৬৯ লাখ টাকার মানিলন্ডারিং মামলা করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার রাজধানীর মতিঝিল থানায় মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে সাতজনের বিরুদ্ধে মামলাটি করা হয়। সিআইডির পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আজ সোমবার এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়, মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন ফ্লাইট এক্সপার্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও সালমান বিন রশিদ শাহ সায়েম, প্রেসিডেন্ট এম এ রশিদ শাহ সম্রাট, তিন পরিচালক, হেড অব ফাইন্যান্স মো. সাকীব হোসেন ও সোমা ইন্টারন্যাশনাল সার্ভিসেসের স্বত্বাধিকারী মোতাহের হোসেন।
সিআইডি জানায়, ২০১৬ সালে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটি অস্বাভাবিক মূল্যছাড়ের ঘোষণা দিয়ে বিভিন্ন সময় গ্রাহক ও সাব-এজেন্টদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অগ্রিম অর্থ সংগ্রহ করলেও অনেক ক্ষেত্রে টিকিট সরবরাহ করেনি। প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ২০২৫ সালের ১ আগস্ট দেশত্যাগ করেন।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে জমা হওয়া অর্থ অন্য হিসাবে স্থানান্তর, উত্তোলন ও রূপান্তরের মাধ্যমে এর উৎস ও মালিকানা গোপনের চেষ্টা করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব থেকে অর্থ আত্মসাতেরও প্রমাণ মিলেছে বলে দাবি সিআইডির।
সংস্থাটি জানিয়েছে, প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ করা ৩৪ কোটি ৬৯ লাখ ৩১ হাজার ৯০ টাকা বিভিন্ন ব্যাংকিং লেনদেনের মাধ্যমে স্থানান্তর ও রূপান্তর করে মানিলন্ডারিং করা হয়েছে বলে প্রাথমিক অনুসন্ধানে প্রমাণ পাওয়া গেছে।
কনডেম সেলে সেই মিন্নি
বরগুনা জেলা কারাগারের কনডেমড সেলের একমাত্র নারী আসামি মিন্নি। তিনি বরগুনার বহুল আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলার ঘোষিত রায়ে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামী। আলোচিত এই নারী আসামীর দিনরাত কাটছে এখন কারাগারের কনডেম সেলে। জানা গেছে, কনডেম সেলে ইবাদত বন্দেগি করেই দিন পার করছেন তিনি।
কারাবিধি অনুযায়ী, কনডেম সেলের বন্দীর দুই সেট করে পোশাক দেয়া হয়েছে। কনডেম সেলের বন্দিরা সেল থেকে বের হতে পারেন না। তবে মাসে একবার স্বজনদের সঙ্গে দেখা করতে পারেন। সপ্তাহে একবার নির্দিষ্ট সময় পরিবারের সঙ্গে ফোনে কথা বলতে পারেন।
মিন্নির ক্ষেত্রেও বাইরের কারো সঙ্গে কথা বলার তেমন একটা সুযোগ নেই। তবে তিনি কারারক্ষীদের সঙ্গেও তেমন কথা বলেন না। বাবা-মা দেখা করতে এলে তাদের সঙ্গেই তার যত কথা। এছাড়া বাকি সময় ইবাদত বন্দেগি করেই কাটে তার সময়।
কারা কর্তৃপক্ষ সূত্র জানা যায়, মিন্নির মধ্যে কোনো অস্থিরতা বা আবেগ প্রকাশ পায়নি। তিনি সব সময় চুপচাপ থাকেন। তবে তাকে নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করতে দেখা যায়। কারাগারে তার আচার-আচরণও সন্তোষজনক। এখন পর্যন্ত কারাগারে কোনো অপরাধে জড়িত হননি তিনি।
আদালতের নথি অনুয়ায়ী, ২০১৯ সালের ২৬ জুন বরগুনা সরকারি কলেজের কাছে স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির সামনেই প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয় রিফাত শরীফকে। ওই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়। পুলিশি তদন্তে খুনিদের সঙ্গে মিন্নির যোগসাজশের বিষয়টি উঠে আসে। মামলায় ২৪ জনকে আসামি করা হয়। তাদের মধ্যে রিফাতের স্ত্রী মিন্নিসহ ছয়জনকে মৃত্যুদণ্ড, ১১ জনকে ১০, পাঁচ ও তিন বছরের কারাদণ্ড এবং বাকিদের খালাস দেয় আদালত।
সেই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের সাত বছর পূর্ণ হচ্ছে আজ ২৬ জুন। স্বামী রিফাত শরীফকে হত্যার অভিযোগে মিন্নিকে ফাঁসির দণ্ড দেওয়া হয়। তবে মিন্নির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বাবা-মা ও স্বজনদের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ এবং মামলা পরিচালনার সুবিধার্থে কাশিমপুর কারাগার থেকে বরিশালে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে কারা কৃর্তপক্ষ।
মিন্নির বাবা বরাবরই দাবি করেছে, ষড়যন্ত্র করে তার মেয়েকে ফাঁসানো হয়েছে।
২০১৯ সালে ২৬ জুন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্য দিবালোকে রাম দা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে রিফাত শরীফকে। একাধারে রিফাতকে কুপিয়ে বীরদর্পে অস্ত্র উঁচিয়ে এলাকা ত্যাগ করে হামলাকারীরা। গুরুতর আহত রিফাতকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে বিকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
রিফাত হত্যাকাণ্ডের পরপরই তাকে কুপিয়ে জখম করার ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং মুহূর্তেই তা ভাইরাল হয়। এরপর দেশ-বিদেশ থেকে প্রকাশ্যে এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবি জানানো হয়। ঘটনার পরদিন ২৭ জুন বরগুনা সদর থানায় ১২ জনের নামোল্লেখ এবং অজ্ঞাত ১০-১২ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন রিফাতের বাবা আব্দুল হালিম দুলাল শরীফ। ছয়দিন পর ২ জুলাই মামলার প্রধান আসামি ‘বন্ড বাহিনী’র প্রধান সাব্বির আহমেদ নয়ন ওরফে ‘নয়ন বন্ড’ পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন। এছাড়া মামলার তদন্ত করতে গিয়ে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে রিফাতের স্ত্রী ও মামলার প্রধান সাক্ষী মিন্নির যোগসাজশ পায় পুলিশ। ঘটনার ২০ দিন পর মিন্নিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
তদন্ত শেষে ২০১৯ সালের ১ অক্টোবর প্রাপ্তবয়স্ক ও অপ্রাপ্তবয়স্ক দুই ভাগে ২৪ জনকে অভিযুক্ত করে বরগুনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে পুলিশ। এতে ১০ জন প্রাপ্তবয়স্ক এবং ১৪ জন অপ্রাপ্তবয়স্ককে আসামি করা হয়। এরপর ২০২০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর প্রাপ্তবয়স্ক ১০ আসামির মধ্যে নিহত রিফাতের স্ত্রী মিন্নিকে প্রধান পরিকল্পনাকারী হিসেবে উল্লেখ করে ছয় আসামিকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেয় আদালত। বাকি চারজনকে খালাস দেওয়া হয়।
একই বছরের ২৭ অক্টোবর অপ্রাপ্তবয়স্ক ১৪ জনের ছয়জনকে ১০ বছরের কারাদণ্ডাদেশ দেয় শিশু আদালত। এছাড়া চারজনকে পাঁচ বছর ও একজনকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
খাইরুল ইসলাম সজীব
চাঁদাবাজির অভিযোগে আটক নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নানের ছেলে জেলা যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক খাইরুল ইসলাম সজীবকে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মুচলেকা নিয়ে রোববার রাত দেড়টায় তাঁকে ছেড়ে দেয়। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে সজীবকে ডিবিতে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য যাচাই বাছাই করার পর মুচলেকা নিয়ে নিয়ে রাত ১টা ৩০ মিনিটে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অপরাধ তারেক আল মেহেদী সোমবার দুপুরে জানান, রোববার রাত ২ টার পর তাঁকে ঢাকার গোয়েন্দা কার্যালয়ে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। তাঁকে কি অভিযোগে আটক করা হয়েছিল বা তাঁর কাছ থেকে কী তথ্য পাওয়া গেছে সেটা ঢাকা গোয়েন্দা পুলিশ বলতে পারবে।
রোববার রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বাসা থেকে ডিবির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জ জেলা ডিবি পুলিশ তাঁকে হেফজতে নেয়। প্রথমে তাঁকে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সন্ধ্যায় নেওয়া হয় ঢাকার মিন্টো রোডে ডিবি কার্যালয়ে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম জানান, সজীবের বিরুদ্ধে কিছু লোকজন পুলিশের কাছে চাঁদাবাজির অভিযোগ করেছে। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করার জন্য আমরা তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি।
পুলিশ সদরদপ্তর থেকে রোববার রাত সাড়ে ৯টায় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সজীবের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নারায়ণগঞ্জ ডিবি কার্যালয়ে আনা হয়। পরে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একটি টিম তাঁকে নারায়ণগঞ্জ ডিবি কার্যালয় থেকে মিন্টো রোডে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যায়।
নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদী জানান, সজীবের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির বেশ কয়েকটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তাঁকে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বাসা থেকে হেফাজতে নেওয়া হয়। তাঁকে এক ঘণ্টারও বেশি সময় জিজ্ঞাসাবাদের পর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ঢাকা মহানগর ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়।
এদিকে নানা অনিয়মে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগে সজীবকে প্রাথমিক সদস্য পদসহ যুবদল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। রোববার রাতে যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহসভাপতি নুরুল ইসলাম সোহেল স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে পোস্ট করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বহিষ্কৃতদের কোনো অপকর্ম দল নেবে না। যুবদলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীকে সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
রাজধানী ঢাকা মহানগরীর বাড্ডা থানা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা, স্বজনপ্রীতি, সরকারী টাকা আত্মসাৎ এর অভিযোগ পাওয়া গেছে। ২০১৫ সালে যোগদানের পর থেকে এখন পর্যন্ত তিনি সেখানে সরকারী নিয়ম-নীতি তোয়াক্কা না করে নিজের ইচ্ছামত প্রশাসনিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। স্বজনপ্রীতি ও ঘুষ বাণিজ্যের মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ, সরকারী বই বিতরণের টাকা আত্মসাৎ এবং সপ্তাহে দুই দিন আবার কোন কোন সময়ে মাসে ৩ থেকে ৪ দিন অফিস করার তথ্য উঠে এসেছে অভিযোগে।
এ নিয়ে অনিয়ম-অব্যস্থাপনা, দুর্নীতির অভিযোগে আবদুল হাকিমের নামে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর মহাপরিচালকের কাছে অভিযোগ করেছেন বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, কর্মচারী ও স্কুল কমিটির কর্মকর্তারা।
ওই শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), উপ-পরিচালক, মাউশি ঢাকা এবং ঢাকা জেলা শিক্ষা অফিসার বরাবর অভিযোগের অনুলিপি প্রেরণ করে দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে আবদুল হাকিমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবী জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা।
আবদুল হাকিমের বিরুদ্ধে অভিযোগে বলা হয়েছে, স্কুলের ম্যানেজিং কমিটিকে অবজ্ঞা করে আবার কোন কোন ক্ষেত্রে কমিটির কতিপয় ব্যক্তিদের ম্যানেজ করে কিংবা ভয়-ভীতি দেখিয়ে ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে বাড্ডা থানায় কমপক্ষে ১০টি স্কুল ও কলেজের শিক্ষক-শিক্ষিকা ও কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়েছেন। ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে নিজের আপন বোন, ভাগ্নিপতি, ভাইসহ এই এলাকায় কমপক্ষে ১৫ জনকে ল্যাব সহকারী, দপ্তরী, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর ও দপ্তরী পদে নিয়োগ দিয়ে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। ২০১৫ সাল থেকে (২০২৬ সাল) এখন পর্যন্ত তিনি একই অফিসে কর্মরত থাকলেও সপ্তাহে ২ দিন কিংবা মাসে ৫/৬ দিন অফিস করেন। তার এসব অনিয়ম, অব্যস্থাপনা ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযোগ করায় কমপক্ষে ১০ জন শিক্ষকের পদোন্নতি ও এমপিওভুক্তির ফাইল আটকিয়ে দিয়েছেন। তুলনামূলক কম যোগ্যতাসম্পন্ন বা কম মেধাবী শিক্ষকদের পদোন্নতি দিয়েছেন মোটা অংকের ঘুষের বিনিময়ে। অভিযোগে আরো বলা হয়েছে, তিনি সরকারী নীতিমালা লঙ্ঘন করে নিয়োগ বিধিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নিয়োগ বোর্ড থেকে নিজের আপন ভাই, বোন ও ভাগ্নিপতিকে চাকুরী দিয়েছেন।
অভিযোগের আবেদনে আরো বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের পূর্বে বাড্ডা থানার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যত নিয়োগ হয়েছে তা তিনি নিজেই সকলকে ম্যানেজ করে নিয়োগ বাণিজ্য করেছেন। ক্ষমতার অপব্যবহার করে বাড্ডা থানার আওতাধীন ছোলমাইদ স্কুল ও কলেজ, পূর্ব রামপুরা হাই স্কুল, রামপুরা একরামুন্নেসা বয়েজ হাই স্কুল, বাড্ডা হাই স্কুল, সাতারকুল হাই স্কুলসহ কমপক্ষে ১০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক ও ল্যাব সহকারী নিয়োগে দুর্নীতি করেছেন।
ছোলমাইদ স্কুল ও কলেজে চাকুরীর নিয়োগ বিধি লঙ্ঘন করে নিজেই নিয়োগ বোর্ডে থেকে আবদুল হাকিম তার আপন বোন ও ভগ্নিপতিকে শিক্ষক হিসাবে নিয়োগ দিয়েছেন। বিধি মোতাবেক কোন অবস্থাতেই নিয়োগ বোর্ড নিজ পরিবারের কেউ বা অতি আপনজনদের কেউ নিয়োগ বোর্ডে থাকার নিয়ম নেই। কিন্তু ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে তিনি শুধু নিজের বোন, ভগ্নিপতিকেই চাকুরী দেন নাই তার নিজ এলাকার জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলা ও নিজ ইউনিয়নের কয়েকজনকে ল্যাব সহকারী ও অফিস সহকারী হিসাবে নিয়োগ দিয়েছেন। অভিযোগকারীরা দাবি জানিয়েছেন, এ ব্যাপারে দ্রুত সঠিক তদন্ত হলেই সত্য ঘটনার প্রমাণ মিলবে। এছাড়া নিয়োগপ্রাপ্ত কোন শিক্ষক বা কর্মচারীর এমপিও ফাইল ছাড় করাতে তাকে মোটা অংকের ঘুষ দিতে হয়।
আবদুল হাকিম বিধিবহির্ভূতভাবে ও জনবল কাঠামোর অতিরিক্ত শিক্ষক-কর্মচারীর এমপিও করাতে চুক্তির মাধ্যমে ৫-৬ লক্ষ টাকা নিয়ে এমপিও করেছেন। রামপুরা একরামুন্নেসা বয়েজ স্কুলের তিনজন শিক্ষকের এমপিও করার জন্য তিনি ১১ লক্ষ টাকা ঘুষ নিয়ে বিধিবহির্ভূতভাবে এবং জনবল কাঠামোর বাইরে এমপিও করে দিয়েছেন। এদের মধ্যে জামাল হাসান মজুমদার নামে একজন গণিত শিক্ষকের প্রাপ্যতা না থাকা সত্ত্বেও জনবল কাঠামোর বাইরে সম্পূর্ণ অবৈধ ও দুর্নীতির মাধ্যমে তাকে এমপিও করিয়েছেন।
বাড্ডা শিক্ষা থানায় অনেক যোগ্য ও অভিজ্ঞতা সম্পন্ন শ্রেণী শিক্ষক থাকা সত্ত্বেও বিশেষ কারণে এবং তার বিশেষ পছন্দের মানুষ হিসাবে এবং তাঁর সাথে সখ্যতা থাকার কারণে যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার ঘাটতি থাকা সত্ত্বেও একটি হাই স্কুলের একজন মহিলা সহকারী শিক্ষিকাকে জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহের প্রতিযোগিতায় শ্রেষ্ঠ শ্রেণী শিক্ষিকা হিসাবে ৩-৪ বার নির্বাচিত করেছেন। এ বিষয়ে বাড্ডা শিক্ষা থানায় চাপা ক্ষোভ ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
এনসিটিবি কর্তৃক সরবরাহকৃত সরকারি বই বিতরণে সরকার কর্তৃক প্রতিটি বইয়ের জন্য ৩০ পয়সা করে যাতায়াত খরচ হিসাবে প্রতিটি বিদ্যালয়কে দেওয়ার কথা থাকলেও বিগত ২০১৫ সাল থেকে আজ পর্যন্ত তিনি কোন প্রতিষ্ঠানকে একটি টাকাও প্রদান না করে তা আত্মসাৎ করেছেন। প্রতি বছর বাড্ডা শিক্ষা থানায় প্রায় ৭-৭.৫ লক্ষ বই বিতরণ করা হয়ে থাকে তাতে করে প্রতি বছর ২ লক্ষ ২০ হাজার থেকে ২ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা তিনি আত্মসাৎ করেছেন।
বিগত ২০২৪ সালের পূর্ব পর্যন্ত প্রতি বছর বিজয় ফুল অনুষ্ঠানের জন্য প্রতিটি বিদ্যালয়ের নামে প্রায় ৪-৫ হাজার টাকা শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে বরাদ্দ দিয়ে আসছে। কিন্তু থানা মাধ্যমিক শিক্ষা বিগত ২০২৪ সালের পূর্ব পর্যন্ত প্রতি বছর বিজয় ফুল অনুষ্ঠানের জন্য প্রতিটি বিদ্যালয়ের নামে প্রায় ৪-৫ হাজার টাকা শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে বরাদ্দ দিয়ে আসছে। কিন্তু থানা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ আবদুল হাকিম কোন প্রতিষ্ঠানকে একটি টাকাও প্রদান না করে তিনি তা নিজে আত্মসাৎ করেছেন। এসব বিষয়ে কথা বললে তিনি নানান রকম অজুহাত দিয়ে বলেন, এই টাকা আমার অফিসে ব্যয় করা হয়েছে।
প্রতি বছর গ্রীষ্মকালীন ও শীতকালীন জাতীয় স্কুল ও মাদ্রাসা ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় তার পছন্দের কয়েকজন শিক্ষকের মাধ্যমে প্রতিটি এমপিও ও ননএমপিও প্রতিষ্ঠান থেকে জোর পূর্বক ৫ হাজার করে টাকা বার্ষিক চাঁদা হিসাবে তুলে কাউকে কোন হিসাব না দিয়ে তা আত্মসাৎ করেছেন। উক্ত টাকার হিসাব নিরীক্ষণ করার জন্য একটি কমিটি থাকলেও তিনি কোন হিসাব কাউকে দেখতে দেননি এবং অডিট পর্যন্ত করতে দেননি।
সরজমিনে নওরোজ টিম কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের সাথে কথা বলে জানতে পারেন, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ আবদুল হাকিম পলাতক আওয়ামী লীগের সময় স্থানীয় লোকদের ম্যানেজ করে এক প্রকার বলয় তৈরি করে যেভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন, তেমনি এখনো স্থানীয় এমপি এবং শাসক দলের নেতাকর্মীদের মাঝে একপ্রকার দ্বন্দ্ব তৈরি করার কারিগর তিনি বলে জানা গেছে।
এসব অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ আবদুল হাকিম অভিযোগের কথা অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, একটি সুবিধাবাদী মহল তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক এসব অভিযোগ করেছে।
আব্দুল হাকিম বলেন, যদি কোনো শিক্ষককে আমি এমপিও ভুক্ত করতে সাহায্য বা অনিয়ম করি তাহলে এতো বছর পর কেনো অভিযোগ তুলা হচ্ছে? এমন প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, আমি নিয়মের ভেতর থেকেই সব করেছি।