ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বুধবার ১৩ মে, ২০২৬, সময় : ১১:২৯ পিএম

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজির দাম দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে। এ কারণে এলএনজিতে ভর্তুকির চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে অর্থ মন্ত্রণালয়। 


চলতি অর্থবছরের এলএনজির ভর্তুকির জন্য আট হাজার কোটি টাকার বরাদ্দ রাখা হয়েছিল। প্রথম দিকে ভর্তুকির তেমন দরকার হয়নি। যুদ্ধ শুরুর পর প্রথম দুই মাসের ভর্তুকির বরাদ্দ প্রায় শেষ হয়ে গেছে। 


অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণের পর মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি অবনতি হওয়ার পর এখন এলএনজি আমদানির বিপরীতে প্রতি মাসে চার হাজার কোটি টাকার বেশি ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি কার্গোর ডেলিভারি হওয়ার ১৫ থেকে ১৭ দিনের মধ্যে পাওনা পরিশোধ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সে কারণে ভর্তুকির অর্থ দ্রুত পরিশোধ করতে হচ্ছে। 


সূত্র জানায়, গত এপ্রিল মাসে এলএনজি আমদানিতে পেট্রোবাংলার ঘাটতির পরিমাণ ছিল চার হাজার ২২০ কোটি টাকা। এর বিপরীতে ওই মাসের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে একই পরিমাণ অর্থ ভর্তুকি হিসেবে বরাদ্দ চাওয়া হয়। 


তবে অর্থ মন্ত্রণালয় ভর্তুকি বাবদ এপ্রিলে দুই হাজার ৫০০ কোটি টাকা ছাড় করেছে, যা আমদানি ব্যয় মেটাতে পরিশোধ করেছে পেট্রোবাংলা। 


চলতি মে মাসে ১১টি কার্গো আমদানি করার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে আরও তিন হাজার ৫০০ কোটি টাকা ভর্তুকি ছাড় করার অনুরোধ করে সম্প্রতি মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ। 


জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব রফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছে, মে মাসে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় দুই কার্গো, স্বল্পমেয়াদি চুক্তির আওতায় এক কার্গো ও স্পট মার্কেট থেকে আট কার্গো এলএনজি আমদানি করা হবে। 


এর মধ্যে প্রথম ১৫ দিনে ছয় কার্গো ও পরের ১৫ দিনে পাঁচ কার্গো এলএনজি আমদানি হবে। মোট ১১ কার্গো এলএনজি আমদানিতে ব্যয় হবে সাত হাজার ৭৩০ কোটি টাকা, যা বিক্রি করে পেট্রোবাংলা পাবে তিন হাজার ৬৩০ কোটি টাকা। ফলে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়াবে চার হাজার ১০০ কোটি টাকা। এরমধ্যে মে মাসের ভর্তুকি হিসেবে বরাদ্দ রয়েছে মাত্র ৫০০ কোটি টাকা। 


তবে মে মাসের ভর্তুকির চাহিদা মেটাতে অতিরিক্ত তিন হাজার ৬০০ কোটি টাকা চেয়েছে জ্বালানি বিভাগ। 


জ্বালানি বিভাগ চিঠিতে জানিয়েছে, এলএনজি আমদানির পর নির্ধারিত সময়ে ইনভয়েস পরিশোধে ব্যর্থ হলে লেট পেমেন্ট চার্জ বাবদ সিকিউরড ওভারনাইট ফাইন্যান্সিং রেটের (এসওএফআর) সঙ্গে ৪ থেকে ৫ শতাংশ যোগ করে সুদ পরিশোধের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। নির্ধারিত সময়ে আমদানি মূল্য পরিশোধ করা না গেলে লেট পেমেন্ট চার্জ এবং এলএনজি মূল্যের ওপর সম্ভাব্য অতিরিক্ত প্রিমিয়াম চার্জ আরোপ হলে ঘাটতির পরিমাণ আরও বেড়ে যাবে। 




ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বুধবার ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৩:৫১ পিএম

পণ্য না কিনে শুধুমাত্র ক্যাশআউট করার জন্য বাংলা কিউআর ব্যবহার করলে সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্ট ব্লক করা হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান। 


তিনি বলেন, ক্যাশলেস লেনদেন গড়ে তুলতে বাংলা কিউআরের প্রচলন করা হয়েছে। এর মূল উদ্দেশ্য প্রতিটি লেনদেনের ফুটপ্রিন্ট রাখা। এ সেবা দিতে কোনো ব্যাংক, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসসহ (এমএফএস) অন্যান্য প্রতিষ্ঠান গড়িমসি করলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 


আজ বুধবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সভাকক্ষে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি এসব কথা জানান।


সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বর্তমানে ব্যাংক ও এমএফএস গ্রাহকেরা মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করে দেশে প্রায় ৩৯ লাখ মার্চেন্টের বাংলা কিউআর স্ক্যান করে পণ্যের মূল্য পরিশোধ করতে পারছেন। গত জুনে দৈনিক গড়ে প্রায় ১ লাখ বাংলা কিউআর পেমেন্ট সম্পন্ন হতো। তখন লেনদেনের পরিমাণ ছিল গড়ে ২৮ কোটি টাকার বেশি। বর্তমানে দৈনিক গড়ে প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার বাংলা কিউআর পেমেন্ট হচ্ছে, যার আর্থিক মূল্য গড়ে প্রায় ১৪৩ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। মাত্র ৯০ দিনের ব্যবধানে লেনদেনের সংখ্যা প্রায় সাড়ে তিন গুণ এবং লেনদেনের অর্থমূল্য প্রায় পাঁচ গুণ হয়েছে।


সংবাদ সম্মেলনে বাংলা কিউআর লেনদেনের প্রচার ও প্রসার বৃদ্ধির জন্য নতুন কিছু পদক্ষেপের কথা জানানো হয়। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১ অক্টোবর থেকে সব বাংলা কিউআর কোডভিত্তিক পেমেন্টের অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট মার্চেন্ট হিসাবে প্রদান করা হবে। এতে মার্চেন্টদের অর্থ পাওয়ার ক্ষেত্রে বিলম্ব কমবে। এ ছাড়া বাংলা কিউআর পেমেন্টের ক্ষেত্রে অর্থগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট (এমডিআর) ১ শতাংশ রহিত করা হয়েছে। পাশাপাশি ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠানের চার্জ শূন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর ফলে মার্চেন্ট পর্যায়ে বাংলা কিউআর পেমেন্টের খরচ কমবে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।


অন্যদিকে, আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে মার্চেন্ট পয়েন্টে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত এনপিএসবি প্ল্যাটফর্মের প্রতিটি বাংলা কিউআর লেনদেনের বিপরীতে পেমেন্ট গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানকে শূন্য দশমিক ১০ শতাংশ এবং ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠানকে শূন্য দশমিক ২০ শতাংশ হারে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে প্রণোদনা দেওয়া হবে।


আগামী ১ নভেম্বর থেকে চালু হবে বাংলা কিউআরভিত্তিক ব্যক্তি-টু-ব্যক্তি (পিটুপি) লেনদেন। এর মাধ্যমে একজন গ্রাহক অন্য গ্রাহকের বাংলা কিউআর স্ক্যান করে অথবা সংশ্লিষ্ট মোবাইল অ্যাপে কিউআরের ছবি আপলোড করে আন্তঃব্যবহারযোগ্য অর্থ স্থানান্তর করতে পারবেন।


বাংলা কিউআর ব্যবহার করে বিকাশ থেকে ১০ হাজার টাকার বেশি পেমেন্ট করা যায় না—এমন প্রশ্নের জবাবে মুখপাত্র বলেন, এমন অভিযোগ তাদের কাছেও এসেছে। এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটিকে সতর্ক করা হয়েছে। এছাড়া তাদের এজেন্টদের অসহযোগিতার বিষয়টিও জানিয়ে সতর্ক করা হয়েছে।


সালমান মুক্তাদির

  • প্রকাশ : বুধবার ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ২:১৭ পিএম

কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মোহাম্মদ মুক্তাদিরের ব্যংক হিসাব তলব করেছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। 


আজ বুধবার সব ব্যাংকে চিঠি দিয়ে তার হিসাব খোলার ফরম, হালনাগাদ লেনদেন বিবরণীসহ যাবতীয় তথ্য চাওয়া হয়েছে। আধাঘণ্টার মধ্যে এ সংক্রান্ত তথ্য দিতে বলা হয়েছে। একটি গোয়েন্দা সংস্থার চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে তথ্য চাওয়া হয় বলে একটি সূত্র জানিয়েছে।


গত শনিবার শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে রাজধানীর ইসিবি চত্বরের নিউগ্রিনি প্রপার্টিজে সালমানের স্টুডিওতে হামলা, ব্যাপক ভাঙচুর ও মালামাল লুট হয়। পরে তিনি অভিযোগ করেন বিএনপির লোকজন তার কাছে চাঁদা দাবি করেছিলেন। চাঁদা না দেওয়ায় তার স্টুডিওতে হামলা হয়েছে। তার এই বক্তব্যের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ সরকারের অনেকে প্রতিক্রিয়া জানান। এখন লেনদেন ক্ষতিয়ে দেখার উদ্যোগ নিল সরকার।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৬:২০ পিএম

দেশের বাজারে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) সরবরাহে সংকট তৈরি হওয়ায় ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম দুই হাজার টাকা ছাড়িয়েছে। এক মাসের ব্যবধানে এলপিজি আমদানি প্রায় ২৫ শতাংশ কমে যাওয়ায় বাজারে ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এই সুযোগে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) নির্ধারিত দামের চেয়ে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে।


বর্তমানে ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের জন্য ভোক্তাদের গুনতে হচ্ছে প্রায় ২ হাজার থেকে ২ হাজার ১০০ টাকা। অথচ বিইআরসি নির্ধারিত মূল্য ১ হাজার ৫৮৫ টাকা। ফলে নির্ধারিত দামের তুলনায় বাড়তি অর্থ গুনতে হচ্ছে সাধারণ গ্রাহকদের।


বিইআরসি ও এলপিজি আমদানিকারক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত আগস্টে দেশে প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার টন এলপিজি আমদানি হয়েছিল। চলতি সেপ্টেম্বর মাসে সেই পরিমাণ কমে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টনে নেমেছে। অর্থাৎ এক মাসে আমদানি কমেছে প্রায় ৪০ হাজার টন।


এর আগে গত ২ সেপ্টেম্বর ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১৩ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ৫৮৫ টাকা নির্ধারণ করেছিল বিইআরসি। কিন্তু আমদানি ও সরবরাহে ঘাটতির কারণে বাস্তবে বাজারে সেই দামে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না।


ব্যবসায়ীরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধাবস্থার প্রভাবে লোহিত সাগর, হরমুজ প্রণালিসহ গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে পণ্য পরিবহনে জটিলতা তৈরি হয়েছে। এতে জাহাজের সংকটের পাশাপাশি বেড়েছে পরিবহন ব্যয়। বাংলাদেশের এলপিজির প্রধান আমদানি উৎস মধ্যপ্রাচ্য হওয়ায় আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাব সরাসরি দেশের বাজারেও পড়েছে।


মেঘনা ফ্রেশ এলপিজি লিমিটেডের প্রধান বিপণন কর্মকর্তা (সিএমও) আবু সাঈদ রেজা বলেন, বর্তমানে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো কার্গো পাওয়া। একটি নৌপথ বন্ধ থাকলে আগে বিকল্প পথে পণ্য আনা সম্ভব হতো। কিন্তু এখন দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি থাকা সত্ত্বেও অনেক আন্তর্জাতিক সরবরাহকারী প্রায় ২০ শতাংশ সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে। বাড়তি প্রিমিয়াম দিয়েও খোলাবাজার থেকে কার্গো সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।


আমদানিকারকদের দাবি, আন্তর্জাতিক বাজারে কার্গো প্রিমিয়াম ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টি বিইআরসির মাসিক মূল্য নির্ধারণে পুরোপুরি সমন্বয় করা হচ্ছে না।


এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (লোয়াব) সদস্যদের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্ববাজারে কার্গো প্রিমিয়াম টনপ্রতি ১৬০ ডলার থেকে বেড়ে ২৬০ থেকে ৪০০ ডলারে পৌঁছেছে। ফলে বিইআরসির নির্ধারিত দামে এলপিজি বিক্রি করে অতিরিক্ত ব্যয় সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। লোকসান এড়াতে কিছু প্রতিষ্ঠান আমদানি কমিয়ে দিয়েছে বলেও দাবি করেছেন তারা।


ওমেরা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) তানজীম চৌধুরী বলেন, সেপ্টেম্বরে তাদের প্রতিষ্ঠান প্রায় ৩০ হাজার টন এলপিজি আমদানি করেছে। বৈশ্বিক সংকটে উৎপাদকদের দিক থেকে সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলেও পরিস্থিতি সামাল দিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে।


বাংলাদেশে বছরে এলপিজির চাহিদা প্রায় ১৫ থেকে ১৬ লাখ টন। এর প্রায় ৮০ শতাংশ গৃহস্থালির রান্নার কাজে ব্যবহৃত হয়। মোট চাহিদার প্রায় ৯৯ শতাংশই বেসরকারি খাতের মাধ্যমে সরবরাহ করা হয়ে থাকে।


বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ জানিয়েছেন, সেপ্টেম্বর মাসে সরবরাহ ঘাটতির পেছনে কিছু প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত জাহাজ সময়মতো না পৌঁছানোর বিষয়টিও রয়েছে। সংকট মোকাবিলায় দ্রুত আমদানিকারকদের সঙ্গে বৈঠক করা হবে বলেও জানান তিনি।


তবে আন্তর্জাতিক নৌপথের জটিলতা দ্রুত না কাটলে এবং প্রয়োজনীয় কার্গো সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলে অক্টোবরেও এলপিজির সংকট অব্যাহত থাকতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিইআরসি চেয়ারম্যান।


ফলে একদিকে নির্ধারিত দামের তুলনায় বাড়তি অর্থ দিয়ে রান্নার গ্যাস কিনতে হচ্ছে ভোক্তাদের, অন্যদিকে আমদানি ও সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়ায় সামনে এলপিজির বাজার পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বাড়ছে।


জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর)

  • প্রকাশ : রবিবার ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৭:৩৩ পিএম

তিন বছরে প্রায় ৬২১ কোটি টাকা বিক্রির তথ্য গোপন করা হয়েছে। যাতে ভ্যাট ফাঁকি দেওয়া হয়েছে প্রায় ৩৫ কোটি টাকা। কিশোরগঞ্জের ভৈরবে অবস্থিত জে আই ইমপেক্স লিমিটেডের বিরুদ্ধে এই বিপুল পরিমাণ বিক্রির তথ্য গোপন করে ভ্যাট ফাঁকি দেওয়ার তথ্য পেয়েছে কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট, ঢাকা (পূর্ব)। 


সম্প্রতি এই প্রতিষ্ঠানে অভিযানের পর এই ফাঁকি উদ্ঘাটন করা হয়েছে। আজ রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।


বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ৮ সেপ্টেম্বর ঢাকা কমিশনারেটের সদর দপ্তর ও নরসিংদী ভ্যাট বিভাগের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত প্রিভেন্টিভ দল জে আই ইমপেক্স লিমিটেডে অভিযান চালায়। এ সময় প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন বাণিজ্যিক দলিল, ক্লিপ ফাইল, প্লাস্টিক ফোল্ডার, সিপিইউ, টালি খাতা, রেজিস্টার, ট্রাক ভাড়া সংক্রান্ত কাগজপত্র, মেমো ফাইল, ট্রাকচালকদের খরচের বিবরণী এবং প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তার সই করা কম্পিউটার প্রিন্টেড বিক্রয় দলিল জব্দ করা হয়।


জব্দ করা নথিপত্র পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, প্রতিষ্ঠানটি ২০২৩ সাল থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে মাসভিত্তিক পণ্য সরবরাহের ৭২টি ফোল্ডার ও নথি পাওয়া গেছে। এসব নথি যাচাই-বাছাই করে ৬২১ কোটি ৭৪ লাখ ৩৭ হাজার ১৩৪ টাকার বিক্রয়ের তথ্য পাওয়া যায়, যা প্রতিষ্ঠান গোপন করেছে। যার বিপরীতে প্রাথমিকভাবে ৩৫ কোটি ৬৫ লাখ ৮৩ হাজার ৭৯৮ টাকার মূসক ফাঁকি উদ্ঘাটিত হয়েছে। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে মূসক ফাঁকির মামলা দায়েরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।


প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর

  • প্রকাশ : রবিবার ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:৩৮ পিএম

ভঙ্গুর অর্থনীতি থেকে উত্তরণ ঘটিয়ে ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করার লক্ষ্য নিয়ে সরকার নতুন উন্নয়ন মডেল বাস্তবায়ন করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ডেট্রয়েটে আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশি ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড আর্কিটেক্টসের দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।


ড. তিতুমীর বলেন, আগের সরকারের রেখে যাওয়া ভঙ্গুর অর্থনীতি থেকে উত্তরণে সরকার পুনরুদ্ধার, পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও পুনর্গঠন-এই তিন ‘আর’ (থ্রি-আর) কৌশলের ভিত্তিতে নতুন উন্নয়ন মডেল বাস্তবায়ন করছে। এ কৌশলের আওতায় বিনিয়োগ, উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর পাশাপাশি শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।


তিনি আরও বলেন, শিল্পের বহুমুখীকরণ, প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ও উৎপাদনশীলতা বাড়ানো এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করে বাংলাদেশকে একটি প্রতিযোগিতামূলক উৎপাদনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে চায় সরকার।


সম্মেলনে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন প্রকৌশলী, বিজ্ঞানী ও প্রযুক্তি উদ্যোক্তাদের দেশের উন্নয়নে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান ড. তিতুমীর।


তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণাপ্রতিষ্ঠান, প্রযুক্তি কোম্পানি ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে বাংলাদেশের সংযোগ স্থাপনে প্রবাসী বাংলাদেশিরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।


ড. তিতুমীর প্রবাসী পেশাজীবীদের তরুণ প্রকৌশলী ও উদ্যোক্তাদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।


পাশাপাশি দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে আন্তর্জাতিক গবেষণা সহযোগিতা, প্রযুক্তি ও জ্ঞান হস্তান্তর এবং সম্ভাবনাময় দেশীয় স্টার্টআপের জন্য বৈশ্বিক বিনিয়োগ ও বাজারের সুযোগ তৈরিতে ভূমিকা রাখার কথাও বলেন তিনি।


তিনি আরও বলেন, আপনাদের জ্ঞান, অভিজ্ঞতা, বিশ্বাসযোগ্যতা ও পেশাগত যোগাযোগও বাংলাদেশের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ। আসুন, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশিদের ব্যক্তিগত সাফল্যকে বাংলাদেশের জন্য সম্মিলিত সম্ভাবনায় রূপান্তর করি।


আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশি ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড আর্কিটেক্টসের সভাপতি প্রকৌশলী মনির জামানের সভাপতিত্বে সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন মার্কিন কংগ্রেস সদস্য ডেবি ডিঙ্গেল ও মিশিগান সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি মেগান ক্যাভানাহ।


যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে আসা বাংলাদেশি প্রকৌশলী ও স্থপতিরা সম্মেলনে অংশ নেন।

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৮:২৮ পিএম
  • আপডেট : শুক্রবার ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৮:২৮ এএম

এ সম্পর্কিত আরও খবর


  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৮:২৮ পিএম

চলতি ২০২৬ পুঞ্জিকা বর্ষে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-চলাচল (যাত্রী পরিবহন) সংস্থা বা সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থা (বিকডা-BIWTA/সংশ্লিষ্ট কর্র্তৃপক্ষ)-এর দফায় দফায় চার্জ বৃদ্ধির সিদ্ধান্তে ফ্রেইট ফরোয়ার্ডিং ও নৌ-পরিবহন খাতে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। এক বছরে তিনবার চার্জ নির্ধারণের মতো নজিরবিহীন ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন খাতসংশ্লিষ্ট সাধারণ কর্মী ও ব্যবসায়ীরা।


প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৬ সালের গত ৪ জানুয়ারি প্রথম দফায় চার্জ নির্ধারণ করে বিকডা। এরপর ১৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফায় পুনরায় চার্জ বাড়ানো হয়। সর্বশেষ, নতুন করে আরও ১০ শতাংশ চার্জ বৃদ্ধির নোটিশ দেওয়া হয়েছে, যা সংশ্লিষ্টদের মধ্যে চরম অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করেছে।


সাধারণ কর্মী ও ব্যবসায়ীদের প্রশ্ন—একটি পুঞ্জিকা বর্ষে কীভাবে তিনবার চার্জ নির্ধারণ করা সম্ভব এবং এর অধীনস্থ বিভিন্ন সেক্টর বা এসোসিয়েশনগুলো কীভাবে এই অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত মেনে নিচ্ছে?


এ বিষয়ে বাংলাদেশ ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার্স এসোসিয়েশন (বাফা) এবং বিভিন্ন শিপিং এসোসিয়েশন বা তাদের অধীনস্থ কোম্পানিগুলোর জোরালো ভূমিকা বা দৃশ্যমান প্রতিবাদের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। ফলে সাধারণ কর্মী মহলে একধরনের নীরবতা ও হতাশা কাজ করছে।


একজন ফ্রেইট ফরোয়ার্ডিং কর্মী আক্ষেপ করে বলেন, "একটি বছরে তিনবার চার্জ বাড়ানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এতে ব্যবসা পরিচালনা করা অসম্ভব হয়ে পড়ছে। আমরা বাফা এবং শিপিং এসোসিয়েশনগুলোকে অনুরোধ জানাচ্ছি, আপনারা বিকডার এই ১০ শতাংশ চার্জ বৃদ্ধির অযৌক্তিক প্রস্তাব কোনোভাবেই গ্রহণ করবেন না।"


খাতসংশ্লিষ্টদের দাবি, নিয়মতান্ত্রিকভাবে বছরে একমবারের বেশি কোনো ধরনের চার্জ বা ট্যারিফ নির্ধারণ করা উচিত নয়। লাগামহীন এই চার্জ বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে পণ্যের পরিবহন খরচ বাড়বে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে পুরো সরবরাহ চেইন ও সাধারণ ভোক্তাদের ওপর।


তাই অবিলম্বে বিকডার এই ১০ শতাংশ চার্জ বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত স্থগিত করা এবং এক বছরে একাধিকবার চার্জ নির্ধারণের নীতি থেকে সরে আসার জন্য সংশ্লিষ্ট মহলের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়েছে।