প্রতীকী ছবি
টানা তিন দফা লম্বা লাফের পর এবার দেশের বাজারে কমেছে সোনার দাম। এবারের দফায় ভালো মানের; অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের সোনার দাম ভরিতে ২ হাজার ৭৪১ টাকা কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।
এর ফলে, দেশের বাজারে প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট সোনার দাম এখন দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২৬ হাজার ৯২৩ টাকা।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকালে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সোনার এই নতুন রেট প্রকাশ করে বাজুস। এদিন সকাল ১০টা থেকেই সোনার নতুন এই রেট কার্যকর হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার (পিওর গোল্ড) দাম হ্রাস পাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সোনার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম এখন ২ লাখ ২৬ হাজার ৯২৩ টাকা। এছাড়া, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ২ লাখ ১৬ হাজার ৭১৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৮৬ হাজার ৯৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৫২ হাজার ৪০ টাকা। এসব দামের সঙ্গে ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস আরও জানিয়েছে, স্বর্ণালঙ্কার তৈরির ক্ষেত্রে ডিজাইন অনুযায়ী মজুরি প্রযোজ্য হবে। সোনা ও রৌপ্য অলঙ্কারের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট যুক্ত থাকায় গ্রাহকের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না। মজুরি ও পাথরের মূল্য বাদ দিয়ে অলঙ্কার এক্সচেঞ্জের ক্ষেত্রে ১২ শতাংশ এবং পারচেজের ক্ষেত্রে ১৮ শতাংশ বাদ দিতে হবে। তবে এক্সচেঞ্জ ও পারচেজের ক্ষেত্রে আলাদাভাবে ভ্যাট বাদ দেওয়া যাবে না। পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এ মূল্য কার্যকর থাকবে।
এর আগে, মাত্র চারদিনে তিন দফায় ১২০৮০ টাকা বাড়ানো হয়েছিল সোনার দাম। এর মধ্যে, সবশেষ বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) মূল্যবান এই হলুদ ধাতুটির দাম ভরিতে ৫ হাজার ৪৮২ টাকা বাড়ায় বাজুস। এতে এদিন ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম দাঁড়ায় ২ লাখ ২৯ হাজার ৬৬৪ টাকা। অন্যদিকে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম দাঁড়ায় ২ লাখ ১৯ হাজার ৩৪২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম দাঁড়ায় ১ লাখ ৮৮ হাজার ৩৭৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম দাঁড়ায় ১ লাখ ৫৩ হাজার ৮৪৮ টাকা।
তার আগের দিন বুধবার (৪ নভেম্বর) ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ভরিতে ৩ হাজার ৩২৪ টাকা বাড়িয়েছিল বাজুস। আর এর আগে সোমবার (২ নভেম্বর) ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ভরিতে বাড়ানো হয়েছিল ৩ হাজার ২৬৬ টাকা।
বাংলাদেশ ব্যাংক
উপজেলাভিত্তিক তরুণ উদ্যোক্তা অনুসন্ধান, চিহ্নিতকরণ ও অর্থায়ন কর্মসূচি ‘উদ্যোগ’-এর আওতায় ঋণ পাইয়ে দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে কতিপয় চক্র। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকলকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সামাজিক মাধ্যমে দেয়া এক পোস্টে এ সতর্কবার্তা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের গোচরীভূত হয়েছে যে, ‘উদ্যোগ’ কর্মসূচির আওতায় ঋণ পাইয়ে দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে কতিপয় ব্যক্তি বিকাশসহ বিভিন্ন মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস ও অন্যান্য মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, ‘উদ্যোগ’ কর্মসূচির সকল কার্যক্রম স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। এমতাবস্থায়, উক্ত কর্মসূচির আওতায় ঋণ প্রাপ্তির নিশ্চয়তা প্রদান কিংবা ঋণ পাইয়ে দেয়ার নামে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে অর্থ প্রদান করা থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে বিশেষভাবে অনুরোধ করা যাচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক আরও জানিয়েছে, ‘উদ্যোগ’ নামে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কোনো আনুষ্ঠানিক ফেসবুক পেজ বা অন্য কোনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অফিসিয়াল পেজ নেই। এ নামে কোনো ভুয়া ফেসবুক পেজ বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অ্যাকাউন্ট খুলে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার কিংবা প্রতারণামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে প্রচলিত তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি-সংক্রান্ত আইনসহ প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সংশ্লিষ্ট সবাইকে এ ধরনের প্রতারণামূলক কার্যক্রম সম্পর্কে সতর্ক থাকার এবং বিভ্রান্তিকর প্রচারণায় প্রভাবিত না হওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।এদিকে তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে বিশেষ অর্থায়ন কর্মসূচি সম্প্রসারণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ‘উদ্যোগ’ কর্মসূচির আওতায় দেশের অবশিষ্ট ৫৬ জেলার তরুণ উদ্যোক্তাদের কাছ থেকে আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে। ১ নভেম্বর শুরু হওয়া এ কার্যক্রম চলবে আগামী ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত।এ কর্মসূচিতে একজন উদ্যোক্তাকে সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা দেওয়া হবে। এর মধ্যে ১০ লাখ টাকা ঋণ এবং বাকি ১০ লাখ টাকা অনুদান হিসেবে দেওয়া হবে। ঋণ ও অনুদানের অর্থ একসঙ্গে এককালীন বিতরণ করা হবে। অনুদানের অর্থের সংস্থান করা হবে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) তহবিল থেকে।
আবেদন করতে আগ্রহী তরুণদের নির্ধারিত ফরম পূরণ করে সংশ্লিষ্ট উপজেলার যেকোনো তফসিলি ব্যাংকের শাখায় জমা দিতে হবে। আবেদন ফরম পাওয়া যাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট, এসএমই পোর্টাল এবং তফসিলি ব্যাংকগুলোর নিজস্ব ওয়েবসাইটে।
এর আগে, কর্মসূচির পরীক্ষামূলক পর্যায়ে দেশের আট জেলার ৬৪টি উপজেলা থেকে আবেদন নেয়া হয়েছিল। গত ১৬ সেপ্টেম্বর শুরু হয়ে ১৫ অক্টোবর শেষ হওয়া ওই পর্বে মোট ১৮ হাজার ৪৪৪টি আবেদন জমা পড়ে।
দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম ভরিতে ৩ হাজার ৩২৪ টাকা বাড়িয়ে ভ্যাটসহ ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) বাজুসের প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং-সংক্রান্ত এক সভায় সোনার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়।
বাজুস জানিয়েছে, আজ দুপুর ১টা ৪৫ মিনিট থেকে নতুন এ দাম কার্যকর হয়েছে।
নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা।এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১৪ হাজার ৯৩ টাকা। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৮৩ হাজার ৮৮৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫২ হাজার ২৩২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
স্বর্ণের দাম বাড়ানো হলেও দেশের বাজারে অপরিবর্তিত রয়েছে রুপার দাম। বর্তমানে ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেটের রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ হাজার ৪৯৯ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৩ হাজার ৩৮৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ হাজার ৯১৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ২ হাজার ২১৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
নিম্নতম মজুরি বোর্ডের সভা
আগামী ডিসেম্বর মাসে তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের নতুন মজুরি কার্যকর করতে শ্রমিক প্রতিনিধিদের দাবির সঙ্গে একমত হয়েছেন মালিক পক্ষ। বুধবার গার্মেন্টস শ্রমিকদের জন্য গঠিত হওয়া নতুন মজুরি বোর্ডের প্রথম সভায় মালিক পক্ষ এ দাবির সঙ্গে একমত প্রকাশ করেন বলে উভয় পক্ষের প্রতিনিধিরা বৈঠক শেষে জানিয়েছেন।
রাজধানীর সেগুনবাগিচায় নিম্নতম মজুরি বোর্ডের অফিসে বুধবার সকাল ১১টায় এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে মজুরি বোর্ডে শ্রমিক পক্ষের প্রতিনিধি বাবুল আক্তার সাংবাদিকদের বলেন, ডিসেম্বরে নতুন মজুরি বাস্তবায়ন হবে। জানুয়ারি থেকে শ্রমিকরা নতুন মজুরি হাতে পাবেন বলে একমত হয়েছেন মালিকপক্ষের প্রতিনিধি।
পোশাক কারখানার মালিকদের প্রতিনিধি এ বি এম শামসুদ্দিন এ সিদ্ধান্তে একমত প্রকাশ করেছেন বলে জানিয়েছেন বাবুল আক্তার। এ সময় শ্রমিকদের কারখানায় কাজে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান এ শ্রমিক নেতা।
ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে কয়েক দিন ধরে রাজধানী ও আশপাশের শিল্পাঞ্চলে পোশাকশ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ চলছে। ঢাকার আশুলিয়া, গাজীপুরের কালিয়াকৈর, নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা ও রাজধানী ঢাকায় বিক্ষোভ করে আসছেন শ্রমিকরা। শ্রমিকদের নতুন মজুরি নির্ধারণে মজুরি বোর্ড গঠনের কথা জানানো হলেও বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে তাদের অসন্তোষ পুরোপুরি কাটেনি। শ্রমিকদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নিরাপত্তার কারণে জেলার বহু পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।
এর আগে রোববার তৈরি পোশাক শিল্পে শ্রমিকদের মজুরি পুনঃনির্ধারণে ৬ সদস্যের ‘নিম্নতম মজুরি বোর্ড’ গঠন করে সরকার। সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে নতুন মজুরি বোর্ডের ঘোষণা দেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। সড়ক ছেড়ে কাজে ফিরে যেতে শ্রমিকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। শুক্রবার শ্রমিক নেতা এবং শনিবার তৈরি পোশাক উৎপাদন ও রপ্তানিকারক উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন মন্ত্রী। দুই পক্ষের আলোচনার পর এক সংবাদ সম্মেলনে রোববার মজুরি বোর্ড গঠনের ঘোষণা দেন তিনি।
ঘোষিত মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান (সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ) করা হয় শেখ আশফাকুর রহমানকে। বাকি সদস্যরা হলেন, মালিক পক্ষের প্রতিনিধি বিজিএমইএর পরিচালক এ বি এম শামছুদ্দিন, শ্রমিক পক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশনের (বিজিআইডাব্লিউএফ) সাধারন সম্পাদক বাবুল আখতার, বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশেনর যুগ্ন মহাসচিব আসিফ আইয়ুব ও নিরপেক্ষ দুই সদস্য মোসলেহ উদ্দিন আহমদ ও আনোয়ার হোসাইন। আজ মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান পরিবর্তন করা হয়েছে। পিরোজপুরের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) সৈয়দ আজাদ সুবহানীকে ঢাকার নিম্নতম মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান (জেলা ও দায়রা জজ) পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এই বোর্ড সব পদে শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরির সুপারিশ করবে। বোর্ডের সুপারিশের ভিত্তিতে নতুন মজুরি কাঠামো ঘোষণা ও গেজেট হিসেবে প্রকাশ করবে সরকার।
সর্বশেষ ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে পোশাক খাতে ১২ হাজার ৫০০ টাকা নিম্নতম মজুরি ঘোষণা ও কার্যকর হয়। পরের মাস থেকে বর্ধিত মজুরি পেয়ে আসছেন শ্রমিকরা। সাধারণত প্রতি পাঁচ বছর পরপর পোশাক খাতে নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করে মজুরি পুনর্নির্ধারণ করা হয়। তবে গত ১০ এপ্রিল শ্রম আইন সংশোধন বিল সংসদে পাস হয়। এতে মজুরি পুনর্নির্ধারণের সময় পাঁচ বছর থেকে কমিয়ে তিন বছর করা হয়। সেই হিসাবে নভেম্বর মাসে নতুন নিম্নতম মজুরি বোর্ড ঘোষণার কথা।
ছবি : সংগৃহীত
তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের নতুন মজুরি নির্ধারণে গঠিত নিম্নতম মজুরি বোর্ডের প্রথম সভা চলছে। রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বোর্ডের কার্যালয়ে সকাল সাড়ে ১১টায় এ সভা শুরু হয়। সভাটি বুধবার বিকেল ৩টায় হওয়ার কথা থাকলেও পরবর্তীতে সময় পরিবর্তন করা হয়।
শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে সভার সময় পরিবর্তনের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তৈরি পোশাক উৎপাদন ও রপ্তানিকারক উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে শ্রমঅসন্তোষ ও মজুরি প্রসঙ্গে কথা বলেন। এ মাসের মধ্যেই মজুরিকাঠামো নির্ধারণের প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আজ বুধবারের মধ্যে মজুরি বোর্ডের বৈঠক ডাকতে সরকারের নিম্নতম মজুরি বোর্ডকে পরামর্শ দিতে প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করেন তিনি।
গত রোববার (১ নভেম্বর) তৈরি পোশাক শিল্পে শ্রমিকদের মজুরি পুনর্নির্ধারণে ৬ সদস্যের ‘নিম্নতম মজুরি বোর্ড’ গঠন করে সরকার। সেদিন সকালে সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে নতুন মজুরি বোর্ডের ঘোষণা দেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। ঘোষিত মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান (সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ) শেখ আশফাকুর রহমানের নেতৃত্বে বাকি সদস্যরা হলেন, মালিকপক্ষের প্রতিনিধি বিজিএমইএর পরিচালক এ বি এম শামছুদ্দিন ও বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের যুগ্ম মহাসচিব আসিফ আইয়ুব।
অন্যদিকে শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন ও বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশনের (বিজিআইডাব্লিউএফ) সাধারণ সম্পাদক বাবুল আখতার।
এ ছাড়া বোর্ডে নিরপেক্ষ সদস্য হিসেবে রয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোসলেহ উদ্দিন আহমদ। এই বোর্ড সব পদে শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরির সুপারিশ করবে। বোর্ডের সুপারিশের ভিত্তিতে নতুন মজুরি কাঠামো ঘোষণা ও গেজেট হিসেবে প্রকাশ করবে সরকার।
সর্বশেষ ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে পোশাক খাতে ১২ হাজার ৫০০ টাকা নিম্নতম মজুরি ঘোষণা ও কার্যকর হয়। পরের মাস থেকে বর্ধিত মজুরি পেয়ে আসছেন শ্রমিকরা। সাধারণত প্রতি পাঁচ বছর পরপর পোশাক খাতে নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করে মজুরি পুনর্নির্ধারণ করা হয়। তবে ১০ এপ্রিল শ্রম আইন সংশোধন বিল সংসদে পাস হয়। এতে মজুরি পুনর্নির্ধারণের সময় পাঁচ বছর থেকে কমিয়ে তিন বছর করা হয়।
তৈরি পোশাকশ্রমিকদের মজুরি পুনর্নির্ধারণে গঠিত মজুরি বোর্ডের প্রথম বৈঠক বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হতে পারে। বুধবারের মধ্যেই বৈঠকের নোটিশ দেবে নিন্মতম মজুরি বোর্ড। মজুরি বোর্ডের একজন সদস্য এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার তারা প্রথম বৈঠকে বসবেন বলে আশা করছেন। কারণ, তারপর দুই দিন সরকারি ছুটি। বৃহস্পতিবার বৈঠক না হলে অনেক দেরি হয়ে যায়।
তিনি জানান, বোর্ড গঠনের পর গত তিন দিনেও বৈঠক না হওয়ায় শ্রমিক নেতাসহ বিভিন্ন পক্ষের চাপ রয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এসব কথা বলেন তিনি।
জানতে চাইলে নিন্মতম মজুরি বোর্ডের সচিব রাইসা আফরোজ বলেন, ‘আজ মঙ্গলবার কিংবা আগামীকাল বুধবারের মধ্যে তৈরি পোশাক খাতে মজুরি পুনর্নির্ধারণে নিম্নতম মজুরি বোর্ডের প্রথম বৈঠকের নোটিশ জারি করা হবে।’ মঙ্গলবার পর্যন্ত বৈঠকের নোটিশ জারি করা হয়নি। ফলে বুধবার এ ব্যাপারে নোটিশ জারির বিষয়টি প্রায় নিশ্চিত।
রোববার তৈরি পোশাক শিল্পে শ্রমিকদের মজুরি পুনর্নির্ধারণে ৬ সদস্যের ‘নিম্নতম মজুরি বোর্ড’ গঠন করেছে সরকার। সচিবালয়ে রোববার সকালে সংবাদ সম্মেলনে নতুন মজুরি বোর্ডের ঘোষণা দেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। ঘোষিত মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান (সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ) শেখ আশফাকুর রহমানের নেতৃত্বে বাকি সদস্যরা হলেন, মালিক পক্ষের প্রতিনিধি বিজিএমইএর পরিচালক এ বি এম শামছুদ্দিন ও বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের যুগ্ন মহাসচিব আসিফ আইয়ুব।
অন্যদিকে শ্রমিক পক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন ও বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশনের (বিজিআইডাব্লিউএফ) সাধারণ সম্পাদক বাবুল আখতার।
এছাড়া বোর্ডে নিরপেক্ষ সদস্য হিসেবে রয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোসলেহ উদ্দিন আহমদ। এই বোর্ড সব পদে শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরির সুপারিশ করবে। বোর্ডের সুপারিশের ভিত্তিতে নতুন মজুরি কাঠামো ঘোষণা ও গেজেট হিসেবে প্রকাশ করবে সরকার।
সর্বশেষ ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে পোশাক খাতে ১২ হাজার ৫০০ টাকা নিম্নতম মজুরি ঘোষণা ও কার্যকর হয়। পরের মাস থেকে বর্ধিত মজুরি পেয়ে আসছেন শ্রমিকরা। সাধারণত প্রতি পাঁচ বছর পরপর পোশাক খাতে নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করে মজুরি পুনর্নির্ধারণ করা হয়। তবে ১০ এপ্রিল শ্রম আইন সংশোধন বিল সংসদে পাস হয়। এতে মজুরি পুনর্নির্ধারণের সময় পাঁচ বছর থেকে কমিয়ে তিন বছর করা হয়।