ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৩:৫৩ পিএম

বাংলাদেশে এখন ব্যাংক থেকে বিতরণ করা প্রতি ১০০ টাকা ঋণের প্রায় ৩৩ টাকাই খেলাপি। আর এর মাধ্যমে খেলাপি ঋণের হারের দিক থেকে বিশ্বে শীর্ষে চলে এসেছে বাংলাদেশে।  এরপরই রয়েছে চাদ, ইকুয়েটোরিয়াল গিনি, আলজেরিয়া ও ঘানা। এর আগে বিশ্বে সবচেয়ে বেশি খেলাপি ঋণের দেশ ছিল যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেন। পরে পুরোনো খেলাপি ঋণ অবলোপন, ঋণ আদায় ও ভালো মানের নতুন ঋণ বাড়ানোর মাধ্যমে দেশটি এই হার দ্রুত কমিয়েছে।


অন্যদিকে বাংলাদেশে আগে আড়ালে থাকা অনিয়মিত ও বেনামি ঋণ খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত হওয়ায় প্রকৃত চিত্র প্রকাশ পেয়েছে। ফলে ইউক্রেন তালিকার বাইরে চলে গেছে এবং বাংলাদেশ উঠে এসেছে শীর্ষে।



বাংলাদেশের খেলাপি ঋণ ৩২.৯২%

বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে ২০২৬ সালের জুন শেষে দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৬ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকা। এটি ব্যাংকগুলোর বিতরণ করা মোট ঋণের ৩২ দশমিক ৭৮ শতাংশ।


২০২৬ সালের মার্চ শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা। পরের তিন মাসেই তা ১৭ হাজার ৮৫১ কোটি টাকা বেড়েছে। এর আগে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে খেলাপি ঋণ রেকর্ড ৬ লাখ ৪৪ হাজার ৫১৫ কোটি টাকায় উঠেছিল।


খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এই খেলাপি ঋণের বড় অংশ হঠাৎ সৃষ্টি হয়নি। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দীর্ঘদিন ধরে ঋণ পুনঃ তফসিল, বিশেষ ছাড় ও হিসাবগত পরিবর্তনের মাধ্যমে অনেক সমস্যাগ্রস্ত ঋণ নিয়মিত দেখানো হয়েছিল।


রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ব্যাংকগুলোর সম্পদের মান পর্যালোচনা এবং দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানের নিরীক্ষায় অনিয়ম, জালিয়াতি ও বেনামি ঋণের প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে এসেছে। ফলে আগে আড়ালে থাকা বিপুল ঋণ এখন খেলাপিতে পরিণত হয়েছে।

সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় রয়েছে একীভূত হওয়া পাঁচটি ব্যাংক। এসব ব্যাংকের বিতরণ করা ঋণের ৮০ শতাংশের বেশি খেলাপি। এর বাইরে সরকারি-বেসরকারি আরও কয়েকটি ব্যাংকের অর্ধেকের বেশি ঋণ খেলাপি হয়ে পড়েছে। রাজনৈতিক প্রভাবে দেওয়া ভুয়া ও বেনামি ঋণ, দুর্বল তদারকি, ব্যবসায় মন্দা এবং জ্বালানিসংকটও খেলাপি ঋণ বাড়ার পেছনে ভূমিকা রেখেছে।


দ্বিতীয় খেলাপি ঋণ চাদের

মধ্য আফ্রিকার দেশ চাদে খেলাপি ঋণের সর্বশেষ প্রাপ্ত হার ৩১ দশমিক ৫১ শতাংশ। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ফাইন্যান্সিয়াল সাউন্ডনেস ইন্ডিকেটরস ডেটাবেজে থাকা প্রতিটি দেশের সর্বশেষ তথ্য তুলনা করলে এটি বাংলাদেশের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। তবে দেশটির এ তথ্য ২০২৩ সালের ডিসেম্বরের। পরে দেশটি আর আইএমএফের এই সূচকে নতুন তথ্য দেয়নি।


তৃতীয় অবস্থানে ইকুয়েটোরিয়াল গিনি

তালিকার তৃতীয় স্থানে রয়েছে মধ্য আফ্রিকার আরেক দেশ ইকুয়েটোরিয়াল গিনি। আফ্রিকান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশটির ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের হার এখন ৩০ শতাংশ। ২০২৩ সালে এ হার ৩২ দশমিক ৫ শতাংশ ছিল।


চতুর্থ আলজেরিয়ার খেলাপি ঋণের হার ২০.০৫ শতাংশ

উত্তর আফ্রিকার দেশ আলজেরিয়ায় ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে খেলাপি ঋণের হার ছিল ২০ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ। আইএমএফে প্রকাশিত দেশগুলোর সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য তুলনা করলে এটি চতুর্থ সর্বোচ্চ।


ঘানার খেলাপির হার ১৮.১১ শতাংশ

তালিকার পঞ্চম স্থানে রয়েছে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ ঘানা। ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে দেশটির ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের হার ছিল ১৮ দশমিক ১১ শতাংশ। ২০২৩ সালে ঘানার খেলাপি ঋণের হার ছিল ২০ দশমিক ৬ শতাংশ।


ইউক্রেন ছিল শীর্ষে 

খেলাপি ঋণের তালিকায় দীর্ঘ সময় ধরে শীর্ষে ছিল ইউক্রেন। ২০২৩ সালের দেশটির খেলাপি ঋণের হার ছিল ৩৭ দশমিক ৪ শতাংশ। রাশিয়ার হামলার পরে অর্থনৈতিক ধাক্কায় তা প্রায় ৩৯ শতাংশে উঠেছিল। তবে ২০২৪ সাল থেকে ইউক্রেনের ঋণ পরিস্থিতির উন্নতি হতে শুরু করে। ঋণ আদায়, পুনর্গঠন এবং তুলনামূলক ভালো মানের নতুন ঋণ বিতরণ বাড়ায় মোট ঋণের বিপরীতে খেলাপি ঋণের অনুপাত কমেছে।  ইউক্রেনের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাবে, ২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসে দেশটির ব্যাংক খাতে মোট ঋণ ১৩৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন হৃভনিয়া বা ১০ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছিল। একই সময়ে খেলাপি ঋণের হার নেমে আসে ২৭ শতাংশে। উল্লেখ্য, ১ মার্কিন ডলার সমান হচ্ছে ৪৪ দশমিক ৬১ হৃভনিয়া। বড় পরিবর্তনটি ঘটে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে। 


ইউক্রেনের সবচেয়ে বড় ব্যাংক প্রিভাতব্যাংকসহ কয়েকটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক বিপুল পরিমাণ পুরোনো খেলাপি ঋণ হিসাব থেকে অবলোপন করে। এর ফলে ২০২৫ সালের ১ ডিসেম্বর ইউক্রেনের পুরো ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের হার ২৩ দশমিক ৯১ শতাংশ থাকলেও ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি তা কমে ১৩ দশমিক ৯২ শতাংশে নেমে আসে। তবে অবলোপনের অর্থ এসব ঋণ মাফ করে দেওয়া নয়। ঋণগুলো আগেই শতভাগ সঞ্চিতি দিয়ে সংরক্ষিত ছিল। অবলোপনের পর সেগুলো ব্যাংকের মূল ব্যালান্স শিট বা স্থিতিপত্র থেকে সরিয়ে বাইরের হিসাবে নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ঋণগ্রহীতাদের কাছে পাওনা আদায়ের অধিকার ব্যাংকের রয়েছে। প্রিভাতব্যাংক এসব অর্থ উদ্ধারে ইউক্রেনের পাশাপাশি লন্ডন, সাইপ্রাস ও ইসরায়েলে আইনি কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।


এরপরও ইউক্রেনে খেলাপি ঋণ কমার ধারা অব্যাহত রয়েছে। ইউক্রেনের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ জুলাই দেশটির ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের হার আরও কমে ১২ দশমিক ৫ শতাংশে নেমেছে। প্রায় ১৭ বছরের মধ্যে এটি সর্বনিম্ন। ফলে দেশটি এখন সর্বোচ্চ খেলাপি ঋণের পাঁচ দেশের তালিকার অনেক বাইরে। রাজনৈতিক প্রভাবে দেওয়া ভুয়া ও বেনামি ঋণ, দুর্বল তদারকি, ব্যবসায় মন্দা এবং জ্বালানিসংকটও খেলাপি ঋণ বাড়ার পেছনে ভূমিকা রেখেছে।


যেভাবে শীর্ষে উঠল বাংলাদেশ 

ইউক্রেন ও বাংলাদেশের গতিপথ প্রায় বিপরীত। ইউক্রেন পুরোনো ও সম্পূর্ণ সঞ্চিতি রাখা খেলাপি ঋণ ব্যালান্স শিট থেকে অবলোপন করেছে, ঋণ আদায় ও পুনর্গঠন করেছে এবং ভালো মানের নতুন ঋণ বাড়িয়েছে। এতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ও অনুপাত—দুটিই কমেছে।


বাংলাদেশে ঘটেছে উল্টোটি। ২০২৪ সালের জুনে দেশের ব্যাংক খাতে আনুষ্ঠানিকভাবে খেলাপি ঋণ ছিল ২ লাখ ১১ হাজার ৩৯১ কোটি টাকা। দুই বছরের মধ্যে তা বেড়ে ৬ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। তবে এমন নয় যে পুরো খেলাপি ঋণ এই সময়ের মধ্যেই নতুন করে সৃষ্টি হয়েছে। বরং দীর্ঘদিন ধরে পুনঃ তফসিল, বিশেষ ছাড় ও হিসাবগত কৌশলে আড়াল করে রাখা বিপুল সমস্যাগ্রস্ত ঋণ এখন খেলাপি হিসেবে স্বীকৃতি পাচ্ছে।


কী পদক্ষেপ নিচ্ছে বাংলাদেশ

খেলাপি ঋণ কমাতে বাংলাদেশ ব্যাংক ঋণ শ্রেণীকরণ ও সঞ্চিতি রাখার নিয়ম আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করেছে। দুর্বল ব্যাংকগুলোর সম্পদের মান পর্যালোচনা করা হচ্ছে; পুনর্গঠন করা হয়েছে কয়েকটি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ। ঝুঁকিভিত্তিক তদারকিও চালু করা হয়েছে। এসব পদক্ষেপের কারণে আগে নিয়মিত দেখানো অনেক সমস্যাগ্রস্ত ঋণ এখন খেলাপি হিসেবে শনাক্ত হচ্ছে।


পরিস্থিতি থেকে বের হতে একই সঙ্গে ঋণখেলাপিদের নানাভাবে ছাড় দেওয়া হচ্ছে। যদিও ঋণ অবলোপন বা পুনঃ তফসিল করলে কাগজে খেলাপি ঋণ কমতে পারে; কিন্তু তাতে পাওনা টাকা আদায় হয় না। আইএমএফও বলেছে, কঠোর শ্রেণীকরণনীতি ও সম্পদের মান পর্যালোচনায় আরও খেলাপি ঋণ বেরিয়ে আসতে পারে।


বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফল পেতে হলে ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের সম্পদ জব্দ ও অর্থ আদায়, দ্রুত মামলা নিষ্পত্তি, ব্যাংকের পরিচালনা ও ঋণ অনুমোদনে রাজনৈতিক প্রভাব বন্ধ এবং নতুন করে খারাপ ঋণ সৃষ্টি ঠেকাতে হবে। এগুলো ধারাবাহিকভাবে করা গেলে মধ্য মেয়াদে খেলাপি ঋণ কমতে পারে। কিন্তু আবারও নির্বিচার পুনঃ তফসিল ও বিশেষ সুবিধা দেওয়া হলে হার সাময়িকভাবে কমলেও ব্যাংক খাতের মূল সমস্যার সমাধান হবে না।


তথ্যসূত্র: আইএমএফের ফাইন্যান্সিয়াল সাউন্ডনেস ইন্ডিকেটরস, বাংলাদেশ ব্যাংক, আফ্রিকান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক, বিশ্বব্যাংকের খেলাপি ঋণ সূচক, ইউক্রেনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক, লিগা ডট নেট ও ফিন্যান্সিয়াল ক্লাব।



সর্বশেষ সব খবর

কাঁচা মরিচ ও টমেটো

  • প্রকাশ : বুধবার ০২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৭:১৩ পিএম

বাজার স্থিতিশীল রাখতে ও সরবরাহ বাড়াতে সরকার কাঁচা মরিচ ও টমেটো আমদানিতে শুল্ক-কর উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে কাঁচা মরিচ ও টমেটোর অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এবং সরবরাহ ঘাটতি নিরসনে সরকার এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।



বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং সাধারণ ভোক্তার ওপর মূল্যের প্রভাব কমাতে এনবিআর নির্দিষ্ট শর্তে কাঁচা মরিচ ও টমেটো আমদানিতে প্রযোজ্য শুল্ক-কর অব্যাহতির প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।


প্রধান সিদ্ধান্তসমূহ

শুল্ক মওকুফ: কাঁচা মরিচ ও টমেটো আমদানিতে বিদ্যমান আমদানি শুল্ক, নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক ও অন্যান্য কর কমানো ও সম্পূর্ণ অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

 

লক্ষ্যমাত্রা: বাজারে সরবরাহ বাড়ানো এবং খুচরা পর্যায়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় এ দুটি পণ্যের দাম সহনশীল পর্যায়ে নামিয়ে আনা।


অব্যাহতির প্রধান শর্তাবলী

১. উদ্ভিদ সংগনিরোধ সনদ: আমদানিকৃত কাঁচা মরিচ ও টমেটোর মান এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সংগনিরোধ অনুবিভাগ থেকে আমদানির অনুমতি (IP) নিতে হবে।


২. নির্দিষ্ট সময়সীমা: এই সুবিধা অনির্দিষ্টকালের জন্য নয়; সরকার নির্ধারিত নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে খালাসকৃত চালানের ক্ষেত্রেই এ ছাড় প্রযোজ্য হবে।


৩. আমদানি চ্যানেল: অনুমোদিত বাণিজ্যিক আমদানিকারক ও প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে পণ্য খালাস করতে হবে।

বাজার ও অর্থনীতিতে সম্ভাব্য প্রভাব


 খুচরা বাজারে দাম হ্রাস: আমদানিকৃত কাঁচা মরিচ ও টমেটো বাজারে প্রবেশ করলে কৃত্রিম সংকট দূর হবে এবং দাম দ্রত নিয়ন্ত্রণে আসবে।

 

ভোক্তার স্বস্তি: দৈনন্দিন রান্নার অত্যাবশ্যকীয় দুটি উপকরণের সহজলভ্যতা সাধারণ মানুষের স্বস্তি ফেরাবে।


স্থানীয় কৃষকদের স্বার্থ সুরক্ষা: নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য এ সুবিধা দেওয়ায় স্থানীয় কৃষকদের উৎপাদন মৌসুম শুরু হলে যাতে তারা ক্ষতির মুখে না পড়েন, সেদিকে লক্ষ্য রাখা হয়েছে।


সরকারের এই সময়োপযোগী পদক্ষেপ বাজার স্থিতিশীল করতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সর্বশেষ সব খবর

বাংলাদেশ ব্যাংক ভবন

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ২:২৬ পিএম

খেলাপি ঋণ কমাতে কঠোরতার পরিবর্তে একের পর এক ছাড়ের পথে হাঁটছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। নতুন এক সিদ্ধান্তে এক হাজার কোটি টাকার বেশি ঋণ দুই বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ ১৫ বছর মেয়াদে পুনঃতপশিলের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে বিশেষ নীতি সহায়তা পাওয়া ঋণেও এ সুবিধা দেওয়া যাবে। এমনকি বিশেষ সুবিধা নেওয়া ঋণে এখন আবার গ্রেস পিরিয়ডও বাড়ানো যাবে। মাত্র ২ শতাংশ ডাউনপেমেন্ট দিয়ে চলতি সেপ্টেম্বরের মধ্যে আবেদন করতে পারবেন ঋণগ্রহীতারা। গতকাল সোমবার এ সংক্রান্ত নির্দেশনা ব্যাংকগুলোতে পাঠানো হয়।


বিশেষ সুবিধায় খেলাপি ঋণ পুনঃতপশিল বা পুনর্গঠনের জন্য গত বছরের জানুয়ারিতে একটি কমিটি গঠন করে বাংলাদেশ ব্যাংক। কমিটির কাছে প্রায় এক হাজার ২০০ আবেদন জমা পড়ে। সুনির্দিষ্ট নীতিমালা না করে এভাবে কমিটির মাধ্যমে সুবিধা দেওয়া নিয়ে নানা প্রশ্ন ওঠে। এরপর বাংলাদেশ ব্যাংক গত বছরের ১৬ সেপ্টেম্বর এক সার্কুলার জারি করে গত বছরের জুন পর্যন্ত খেলাপি হওয়া ঋণে বিশেষ পুনঃতপশিল সুবিধার জন্য আবেদন করতে বলে। গত বছরের ২৪ নভেম্বর অপর এক সার্কুলারের মাধ্যমে আবেদন করার সময়সীমা বাড়িয়ে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত সুযোগ দেওয়া হয়। গত মে মাসে আরেক দফা সময় বাড়িয়ে জুন পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়। এখন চতুর্থ দফা আবেদনের সময় বাড়িয়ে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নির্ধারণ করা হলো।


সার্কুলারে বলা হয়েছে, যেসব ঋণগ্রহীতা নীতি সহায়তা-সংক্রান্ত বাছাই কমিটির সুপারিশ বা গত বছর দেওয়া এ সংক্রান্ত সার্কুলারের আওতায় ইতোমধ্যে সুবিধা নিয়েছেন, তারাও নতুন করে আবেদন করতে পারবেন। আবেদনকৃত ঋণস্থিতি এক হাজার কোটি টাকা বা এর বেশি হলে দুই বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ ১৫ বছর মেয়াদে পুনঃতপশিল সুবিধা দেওয়া যাবে। 


যেসব ঋণ খেলাপি হয়নি সে ক্ষেত্রেও বিশেষ পুনঃতপশিল সুবিধা দেওয়া যাবে। এ ক্ষেত্রে অবশিষ্ট মেয়াদের ৫০ শতাংশের সঙ্গে আরও চার বছরের জন্য মেয়াদ নির্ধারণ করে পুনর্গঠন করা যাবে। ইতোমধ্যে নীতি সহায়তা পাওয়া ঋণগ্রহীতার স্থিতি এক হাজার কোটি টাকার বেশি হলে তিনিও ১৫ বছর মেয়াদ ও দুই বছরের গ্রেস পিরিয়ড সুবিধা নিতে পারবেন। ওই সময়ে এক বছরের গ্রেস পিরিয়ড নিয়ে সুবিধা নেওয়া গ্রহীতার ক্ষেত্রে  আরও মেয়াদ বাড়ানো যাবে। এ সার্কুলারের আওতায় সব আবেদন চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে।


নিয়মিত ঋণে পুনঃতপশিল সুবিধার বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা উদহারণ দিয়ে বলেন, কেউ হয়তো আট বছর মেয়াদে ঋণ নিয়ে ইতোমধ্যে দু্ই বছর পার করেছেন। এখন অবশিষ্ট ছয় বছরের সঙ্গে তিন বছর এবং অতিরিক্ত চার বছর যোগ করে মোট ১৩ বছরের জন্য পুনঃতপশিল করা যাবে। আর ঋণস্থিতি এক হাজার কোটি টাকার কম ঋণে দুই বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ ১০ বছর মেয়াদে পুনর্গঠন করা যাবে।


বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায় ও আর্থিক ব্যবস্থা পুনর্গঠনের লক্ষ্যে নীতি সহায়তাসংক্রান্ত নির্দেশনা যথাযথ বাস্তবায়ন করতে হবে। নীতি সহায়তা পাওয়ার জন্য আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে নতুন আবেদন করা যাবে।


বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্তের বিষয়ে মতামত জানতে চাইলে বেসরকারি একটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, খেলাপি ঋণ কমাতে ঋণ আদায়ে জোর দেওয়ার পরিবর্তে এভাবে একের পর এক ঢালাও সুবিধা আবার আগের জায়গায় নেওয়া হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের মধ্যে আবার ঋণ পরিশোধ না করার অজুহাত দেখানোর নতুন সংস্কৃতি তৈরি হচ্ছে। তিনি বলেন, দুই বছরের গ্রেস পিরিয়ড মানে যার সামর্থ্য আছে সেও আর ঋণ পরিশোধ করবে না। এভাবে ঢালাও সুবিধা না দিয়ে কেস টু কেস ভিত্তিতে প্রকৃত সমস্যাগ্রস্তকে সুবিধা দিলে ভালো হতো।


দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ অনেক পুরোনো সমস্যা। গত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে খেলাপি ঋণ বাস্তবের তুলনায় কম  দেখানোর প্রবণতা ছিল। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে প্রকৃত চিত্র দেখানোর পর খেলাপি ঋণ লাফিয়ে বাড়তে শুরু করে। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের আগে ২০২৪ সালের জুন শেষে খেলাপি ঋণ ছিল দুই লাখ ১১ হাজার ৩৯১ কোটি টাকা, যা ওই সময়ে মোট ঋণের ১২ দশমিক ৫৬ শতাংশ। 


গত বছরের সেপ্টেম্বর শেষে খেলাপি ঋণ বেড়ে দাঁড়ায় ছয় লাখ ৪৪ হাজার ৫১৫ কোটি টাকা বা ৩৫ দশমিক ৭৩ শতাংশে। তবে বিশেষ নীতি সহায়তা চালুর পর তিন মাসেই ৮৭ হাজার ২৯৮ কোটি টাকা কমে নেমে আসে পাঁচ লাখ ৫৭ হাজার ২১৭ কোটি টাকায়। সেখান থেকে ৩১ হাজার ৪৮৮ কোটি টাকা বেড়ে গত মার্চ শেষে পাঁচ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা হয়েছে। মোট ঋণের যা ৩২ দশমিক ২৬ শতাংশ।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১:০৩ পিএম

দূর্বল পাঁচ ব্যাংক মিলে গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানতে ‌‘হেয়ারকাট’ থাকছে না। এসব ব্যাংকের আমানতের বিপরীতে ২০০৪ ও ২০২৫ সালের জন্য ঘোষিত মুনাফার একটি অংশ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এলে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সাথে আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে যেন ব্যক্তি আমানতকারীরা প্রয়োজনীয় টাকা তুলতে পারেন সে ব্যবস্থা করতে হবে। আজ মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত হয়। 


গভর্নর কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান কাজী শায়খুল হাসান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবেদুর রহমান সিকদার অংশ নেন। এ সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. মো. হাবিবুর রহমান, ড. মো. কবির আহাম্মদ, মো. সরোয়ার হোসেন ও মো. আনিছুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।


আমানতে থাকছে না ‘হেয়ারকাট’


বৈঠকে গভনর্র বলেন, ‘জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী সম্মিলিত ব্যাংকের আমানতকারীদের মুনাফার ওপর কোনো ধরনের হেয়ারকাট থাকবে না বলে ঘোষণা দেন। এ বিষয়ে আমানতকারীদের মধ্যে এখনও কিছুটা অস্পষ্টতা রয়েছে। সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের সকল আমানতকারীকে এ ব্যাপারে স্পষ্টভাবে জানাতে হবে যে, আমানতকারীদের মুনাফার ওপর কোনো ধরনের হেয়ারকাট থাকবে না।’


তিনি বলেন, ‘গত বছরের ডিসেম্বর ঘোষিত স্কিম অনুযায়ী ইতোমধ্যে আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়া হচ্ছে। আগামী ১ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার থেকে ব্যক্তি আমানতকারীরা যাতে তাদের আল-ওয়াদিয়াহ চলতি হিসাব, মুদারাবা সঞ্চয়ী হিসাব ও মুদারাবা মেয়াদি আমানতের মূল অর্থ স্কিমে প্রদত্ত নির্দেশনার বাইরেও প্রয়োজন অনুযায়ী তোলার সুযোগ পান সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।’


বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর বলেন, ‘৩৫ হাজার কোটি টাকা মূলধন সমৃদ্ধ দেশের সর্ববৃহৎ এবং একমাত্র সরকারি মালিকানাধীন ইসলামী ব্যাংক হিসেবে যাত্রা শুরু করা সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসিকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে স্বাভাবিক সকল ব্যাংকিং কার্যক্রম শুরু করার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।’


দীর্ঘদিন আমানতকারীদের জমানো টাকা ফেরত দিতে না পারা শরীয়াহভিত্তিক এক্সিম ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, সোশ্যাল ইসলামী, ইউনিয়ন, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক মিলে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করা হয়। ব্যাংকগুলো এতদিন বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়োগ করা প্রশাসক দিয়ে চলছিল। তবে সম্প্রতি সব প্রশাসক তুলে এনে সরকারের নিয়োগ দেওয়া পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের হাতে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ব্যাংকটির অনুমোদিত মূলধন ৪০ হাজার কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকার ২০ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে। বাকি ১৫ হাজার কোটি টাকা আমানতকারীদের শেয়ার দেওয়া হবে।

সর্বশেষ সব খবর

মো. আবদুর রহমান খান

  • প্রকাশ : রবিবার ২৩ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৫:৩৩ পিএম

বিশ্বব্যাংকের ওয়াশিংটনস্থ প্রধান কার্যালয়ে বাংলাদেশ-সংশ্লিষ্ট ‘কনস্টিটিউয়েন্সি’র বিকল্প নির্বাহী পরিচালক (অল্টারনেট এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর) পদে তিন বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান। রোববার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ নিয়োগের কথা জানানো হয়েছে। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেন উপসচিব মো. গোলাম রব্বানী।


প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, মো. আবদুর রহমান খানকে তার অব্যবহৃত অবসর-উত্তর ছুটি (পিআরএল) ও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সুবিধাদি স্থগিত এবং অন্য যেকোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা-সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে এ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।


যোগদানের তারিখ থেকে তার তিন বছরের মেয়াদ গণনা করা হবে। নিয়োগের অন্যান্য শর্ত চুক্তিপত্রের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

সর্বশেষ সব খবর

প্রতীকী ছবি

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৫:৪১ পিএম

আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করলো নতুন বিনিয়োগ উন্নয়ন সংস্থা ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ’। বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) ও পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ কর্তৃপক্ষ (পিপিপিএ) একীভূত করে নতুন এই সংস্থা গঠিত হয়েছে। 


এর ফলে বিনিয়োগকারীরা নির্বিঘ্ন ও নির্ভরযোগ্য পরিষেবা পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার সরকার ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন, ২০২৬-এর প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করেছে। এর মাধ্যমে বিলুপ্ত হলো বিডা, বেজা ও পিপিপিএর। সংস্থা তিনটির সমন্বয়ে গঠিত হলো ইনভেস্ট বাংলাদেশ।


রাষ্ট্রপতির আদশে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আব্দুস সাত্তারের সই করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন, ২০২৬-এর ধারা ১-এর উপধারা (২)-এর প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সরকার বৃহস্পতিবার থেকে এ আইন কার্যকর করল।


বিডা সূত্রে জানা গেছে, গেজেট কার্যকর হওয়ার মাধ্যমে এখন থেকে সব কার্যক্রম ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’ নামে পরিচালিত হবে। নতুন কর্তৃপক্ষের পূর্ণাঙ্গ সাংগঠনিক কাঠামো, বিভিন্ন উইং ও টিম গঠনের বাকি কাজগুলো ধাপে ধাপে সম্পন্ন হবে।


নতুন আইন অনুযায়ী, ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ’ একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হিসেবে কাজ করবে। এর প্রধান কার্যালয় থাকবে ঢাকায়। তবে সরকারের অনুমোদন নিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে শাখা কার্যালয় এবং বিদেশে লিয়াজোঁ কার্যালয় স্থাপন করা যাবে। কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একজন চেয়ারম্যান ও সাতজন সদস্য নিয়ে বোর্ড গঠন করা হবে। চেয়ারম্যান হবেন কর্তৃপক্ষের প্রধান নির্বাহী।


নতুন কর্তৃপক্ষের অন্যতম দায়িত্ব হবে বিনিয়োগের সম্ভাবনা চিহ্নিত করা, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে প্রচার চালানো, বিনিয়োগের প্রতিবন্ধকতা দূর করা এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করা।


একীভূতকরণের ফলে বিডা, বেজা ও পিপিপিএর বিদ্যমান সম্পদ, নথি, চুক্তি, দায়-দেনা ও অন্যান্য বিষয় নতুন কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর হবে। এসব প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও কাজ করবেন নতুন কর্তৃপক্ষের অধীনে।

সর্বশেষ সব খবর

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১২:০৯ এএম

দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আরও বেড়ে এখন ৩৭ হাজার ৩৪৮ দশমিক ৪৩ মিলিয়ন বা ৩৭ দশমিক ৩৪ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আজ বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানিয়েছেন।


কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সবশেষ তথ্যানুযায়ী, ২০ আগস্ট পর্যন্ত দেশের গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৭ হাজার ৩৪৮ দশমিক ৪৩ মিলিয়ন ডলার। আর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুযায়ী রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩২ হাজার ৫৩২ দশমিক ৮৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে।


এর আগে গত ১৮ আগস্ট পর্যন্ত দেশের গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩৭ হাজার ২৪৫ দশমিক ০৬ মিলিয়ন ডলার। আর বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে রিজার্ভ ছিল ৩২ হাজার ৪৩৮ দশমিক ৯০ মিলিয়ন ডলার।

 

নিট রিজার্ভ গণনা করা হয় আইএমএফের বিপিএম-৬ পরিমাপ অনুসারে। মোট রিজার্ভ থেকে স্বল্পমেয়াদি দায় বিয়োগ করলে নিট বা প্রকৃত রিজার্ভের পরিমাণ পাওয়া যায়।

সর্বশেষ সব খবর