ছবি : সংগৃহীত
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ডলারের দাম ক্রমাগত বাড়ছে; আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে তিন সপ্তাহে দর বেড়েছে ৬৩ পয়সা বা দশমিক ৫১ শতাংশ।
সপ্তাহের শেষ দিন বৃহস্পতিবার আন্তঃব্যাংক লেনদেনে ডলারের সর্বোচ্চ দাম ছিল ১২৩ টাকা ৫৫ পয়সা; সর্বনিম্ন ১২৩ টাকা। গড় দাম ছিল ১২৩ টাকা ৩৮ পয়সা। কয়েকটি ব্যাংক ১২৪ টাকা ৫০ পয়সা দরে নগদ ডলার বিক্রি করছে। পণ্য আমদানিতে এলসি (ঋণপত্র) খোলার ক্ষেত্রে দাম রাখা হয়েছে ১২৪ টাকার বেশি। আর খোলা বাজারে ডলারের দর ১২৬ টাকা ৬০ পয়সায় উঠেছে।
বুধবার আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে ডলারের গড় দাম ছিল ১২৩ টাকা। সপ্তাহের প্রথম দিন রোববার ছিল ১২২ টাকা ৯৭ পয়সা। আর তিন সপ্তাহ আগে ২৪ জুন গড় দাম ছিল ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা।
এক বছর আগে, ২০২৫ সালের ৯ জুলাই আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে ডলারের গড় দর ছিল ১২২ টাকা ১ পয়সা।
এ হিসাবে দেখা যাচ্ছে, বছরের ব্যবধানে বাংলাদেশি মুদ্রা টাকার বিপরীতে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত মুদ্রা মার্কিন ডলারের দাম বেড়েছে ১ টাকা ৫৪ পয়সা বা ১ দশমিক ২৬ শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলছেন, চাহিদা বাড়ায় ডলারের দাম বাড়ছে। তবে ব্যাংক খাতের কেউ কেউ বলছেন, সফররত আইএমএফ প্রতিনিধিদলকে ‘খুশি করতে’ ডলারের দর বাড়ানো হচ্ছে। আইএমএফ বরাবরই টাকা-ডলারের বিনিময় হার পুরোপুরি বাজারের উপর ছেড়ে দেওয়ার পরামর্শ দিয়ে আসছে।
আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে ডলারের দর বাড়ায় ব্যাংকগুলোর পাশাপাশি খোলা বাজারেও (কার্ব মার্কেট) বাড়ছে দাম।
রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ও জনতা ব্যাংক বৃহস্পতিবার ১২৪ টাকা দরে নগদ ডলার বিক্রি করেছে; কিনেছে ১২৩ টাকায়।
বেসরকারি ইস্টার্ন ব্যাংক ১২৪ টাকা ৫০ পয়সা দরে ডলার বিক্রি করেছে; কিনেছে ১২৩ টাকা ৫০ পয়সা দরে।
সিটি ব্যাংকও ১২৪ টাকা ৫০ পয়সা দরে ডলার বিক্রি করেছে; কিনেছে ১২৩ টাকা ৫০ পয়সা দরে।
বৃহস্পতিবার খোলা বাজারে ১২৬ টাকা ৬০ পয়সা দরে ডলার বিক্রি হয়েছে; ক্রয় মূল্য ছিল ১২৬ টাকা ৩০ পয়সা।
গত সপ্তাহের শেষ দিন বৃহস্পতিবার ১২৫ টাকা ৫০ পয়সায় বিক্রি হয়; কেনা হয় ১২৫ টাকা ২০ পয়সায়।
মতিঝিলের এক ডলার ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “হঠাৎ করেই ডলারের চাহিদা বেড়ে গেছে; সে তুলনায় সরবরাহ নেই। সে কারণেই দাম বাড়ছে।”
একই কথা বলেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান।
তিনি বলেন, “সরকারি কয়েকটি পেমেন্ট ছিল। সে কারণে ডলারের চাহিদা বাড়ায় ডলারের দাম বেড়েছে। প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্সের ঊর্ধ্বমুখী ধারা অব্যাহত থাকলে ডলারের দর আর বাড়বে না।”
তিনি বলেন, বাজারে চাহিদা বাড়ায় কিছুদিন ধরে ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে ডলার কিনছে না কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার জন্য আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) একটি প্রতিনিধি দল ঢাকা সফর করছে। প্রতিনিধি দলের সদস্যরা ইতোমধ্যে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাসহ অর্থ মন্ত্রণালয় ও অন্যান্য মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
আইএমএফ প্রতিনিধি দলের সফরের সঙ্গে ডলারের দাম বাড়ার কোনো সম্পর্ক আছে কি না—এ প্রশ্নের উত্তরে আরিফ খান বলেন, “আইএমএফ প্রতিনিধি দলের সফর বা তাদের শর্তের সঙ্গে ডলারের দাম বাড়ার কোনো সম্পর্ক নেই। মূলত চাহিদা বাড়ার কারণেই বেড়েছে।”
তবে একটি বেসরকারি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে বলেছেন, “আইএমএফ বহুদিন ধরেই টাকা-ডলারের বিনিময় হার পুরোপুরি বাজারের উপর ছেড়ে দিতে বলছে। সংস্থাটির সঙ্গে নতুন সরকারের নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ঋণ পাওয়ার পথ সহজ করতে আইএমএফকে খুশি করতে ডলারের দাম বাড়ানো হতে পারে।”
আইএমএফ যা বলছে
এদিকে বৃহস্পতিবার বিকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে সচিবালয়ে বৈঠক করেন সফররত আইএমএফের প্রতিনিধিরা। এই বৈঠকের মধ্য দিয়ে প্রতিনিধি দলটি তাদের এবারের বৈঠক শেষ করেছে।
১২ জুলাই থেকে এই প্রতিনিধিদল ঢাকা সফর করছে। অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর আইএমএফ একটি বিবৃতি দিয়েছে, তাতে মুদ্রা বিনিময় বিষয়ে বলা হয়েছে, মূল্যস্ফীতি কমানো এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ পুনর্গঠনের জন্য কঠোর মুদ্রানীতি বজায় রাখার পাশাপাশি বাংলাদেশকে ফলপ্রসূ রাজস্বনীতি অব্যাহত রাখতে হবে।
সংস্থাটি বলেছে, ২০২৫ সালে বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার ব্যবস্থায় যে ‘ক্রলিং পেগ’ চালু করেছিল বাংলাদেশ, তা ধারাবাহিকভাবে বাস্তবায়ন করা হলে বিনিময় হার আরও নমনীয় হবে এবং বৈদেশিক খাতের স্থিতিশীলতাও সুরক্ষিত থাকবে।
ক্রলিং পেগ হচ্ছে এমন একটি বিনিময় হার ব্যবস্থা, যেখানে একটি দেশের মুদ্রার বিনিময় হারকে একবারে পুরোপুরি বাজারের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয় না, আবার পুরোপুরি স্থিরও রাখা হয় না। কেন্দ্রীয় ব্যাংক নির্দিষ্ট নিয়মে ধীরে ধীরে বিনিময় হার সমন্বয় করে। ডলারের বিপরীতে টাকার দাম এক দিনে বড় পরিবর্তন না করে ধাপে ধাপে বৃদ্ধি বা কমানোই হচ্ছে ক্রলিং পেগ।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) অনলাইন ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ই-ভ্যাট সিস্টেমে জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর ২০২৬ কর মেয়াদের অনলাইন ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত কোনো সুদ ও জরিমানা ছাড়াই এসব কর মেয়াদের ভ্যাট রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন করদাতারা।
আজ বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) এনবিআরের দ্বিতীয় সচিব শেখ মো. মাসুদুর রহমানের (মূসক: মনিটরিং, পরিসংখ্যান ও সমন্বয়) সই করা এক প্রজ্ঞাপনে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭-এ ভ্যাট রিটার্ন দাখিলসংক্রান্ত বিধান সংশোধন করে ‘মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬’ জারি করা হয়েছে। নতুন বিধান অনুযায়ী, প্রতি কর মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের ব্যবস্থা সংযুক্ত করা হয়েছে। এ কারণে এনবিআরের ই-ভ্যাট সিস্টেমে কিছু প্রশাসনিক সংস্কার প্রয়োজন।
এ পরিস্থিতিতে জনস্বার্থ বিবেচনায় মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২-এর ধারা ৬৪-এর উপধারা (২)-এ দেয়া ক্ষমতাবলে জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর ২০২৬ কর মেয়াদের অনলাইন ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা বাড়িয়েছে এনবিআর। বর্ধিত সময়ের মধ্যে অর্থাৎ আগামী ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত করদাতারা সুদ ও জরিমানা ছাড়াই রিটার্ন জমা দিতে পারবেন।
এদিকে ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা নির্ধারণ করে নতুন অধ্যাদেশ জারি করেছে সরকার। নতুন বিধান অনুযায়ী, সাধারণ নিবন্ধিত, তালিকাভুক্ত, নিবন্ধনযোগ্য বা তালিকাভুক্তিযোগ্য ব্যক্তিকে সংশ্লিষ্ট কর মেয়াদ শেষ হওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে ভ্যাট রিটার্ন দাখিল করতে হবে।
তবে সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা, ব্যাংক, বিমা প্রতিষ্ঠান এবং শূন্য রিটার্ন দাখিলকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের জন্য সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ দিন। অর্থাৎ এসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান কর মেয়াদ শেষ হওয়ার ২০ দিনের মধ্যে রিটার্ন জমা দিতে পারবে।
মতিঝিলের দিলকুশা শাখার প্রবেশপথে গ্রাহকদের ফুল দিয়ে বরণ করে নিচ্ছেন ব্যাংক কর্মীরা
নতুন করে স্বাভাবিক ব্যাংকিং শুরুর প্রথম দিনে গ্রাহকদের ফুল দিয়ে স্বাগত জানিয়ে টাকা ফেরত দেওয়া শুরু করেছে ন্যাশনাল ব্যাংক। বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীতে ব্যাংকটির দিলকুশা শাখায় সরেজমিন দেখা যায়, বেলুন দিয়ে সাজানো হয়েছে শাখাটি। প্রবেশপত্রে লাইন ধরে দাঁড়িয়ে ব্যাংকের কর্মীরা গ্রাহকদের ফুল দিয়ে বরণ করে নিচ্ছেন।
অনেকটা উৎসবের আমেজে গ্রাহকদের টাকা ফেরত দেওয়ার কার্যক্রম চালাচ্ছেন তারা। টাকা তুলতে আসা গ্রাহকদের মিষ্টিমুখ করানোর পাশাপাশি কফি দিয়ে আপ্যায়ন করা হচ্ছে। আজ যাঁরা টাকা তুলছেন, তাঁদের মূলত নতুন টাকার নোট দেওয়া হচ্ছে।
ব্যাংটির ওই শাখাটির কর্মকর্তারা জানান, ১১ অক্টোবর যারা টাকা ফেরত চেয়ে আবেদন করেছেন, আজ তাঁদের চাহিদা অনুযায়ী টাকা ফেরত দেওয়া হচ্ছে। এর বাইরে মানবিক ও বিশেষ বিবেচনায় অন্য গ্রাহকদেরও অর্থ দেওয়া হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে বড় অঙ্কের অর্থ কেউ তুলতে চাইলে তাঁকে কয়েক দিন পর আসতে বলা হয়েছে। সকালে এই শাখায় কথা হয় মুন্সিগঞ্জ গজারিয়া শাখার এক গ্রাহক মোহাম্মদ হান্নান দেওয়ানের সঙ্গে। অসুস্থ বাবার চিকিৎসা খরচের জন্য ৪০ হাজার টাকা তুলেছেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘প্রতি সপ্তাহে এই শাখা থেকে ২০ হাজার টাকা করে তুলেছি। আজ ৪০ হাজার টাকা তুলেছি। বাবা হাসাপাতালে ভর্তি; তাঁর নিয়মিত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে প্রতি সপ্তাহে ২০ হাজার টাকা লাগে। এর আগে একসঙ্গে বেশি টাকা তুলতে চেয়েছিলাম; কিন্তু পাইনি।’
দিলকুশার শাখা ব্যবস্থাপক মঈনুল ইসলাম বলেন, ১১ অক্টোবর যাঁরা টাকা তোলার আবেদন করেছেন, তাদের চাহিদা অনুযায়ী টাকা ফেরত দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি অন্য গ্রাহকদেরও টাকা দেওয়া হচ্ছে। তিনি জানান, এই শাখায় মোট ৩৩ জন গ্রাহক প্রথম দিনে ১ কোটি টাকার বেশি আমানত ফেরত চেয়ে আবেদন করেছেন।
একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সকাল ১০টায় লেনদেন শুরুর পর প্রথম ঘণ্টায় মোট ৪০ জন গ্রাহককে ৩২ লাখ টাকার মতো ফেরত দেওয়া হয়েছে। টাকা তোলার পাশাপাশি টাকা জমাও নেওয়া হচ্ছে এই শাখায়। অনেক গ্রাহক আজ টাকাও জমা দিয়েছেন।
নতুন করে স্বাভাবিক ব্যাংকিং শুরু
আজ নতুন করে স্বাভাবিক ব্যাংকিং শুরুর এই কার্যক্রমকে ব্যাংকের নবযাত্রা হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে ন্যাশনাল ব্যাংক। ৮ অক্টোবর ন্যাশনাল ব্যাংক জানায়, তাদের গ্রাহকেরা ১৫ অক্টোবর থেকে সব ধরনের স্বাভাবিক লেনদেন করতে পারবেন।
গ্রাহকেরা সারা দেশে ব্যাংকটির সব শাখা ও এটিএম বুথ থেকে চাহিদা অনুযায়ী অর্থ উত্তোলন করতে পারবেন। একই দিন থেকে কাউন্টার সেবা, মোবাইল অ্যাপ, ইন্টারনেট ব্যাংকিংসহ ব্যাংকের সব ডিজিটাল ও অনলাইন সেবা পূর্ণমাত্রায় চালু হবে।
জুয়েলারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে আগামী ১৯ অক্টোবর (সোমবার) সারাদেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। গতকাল মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বাজুসের সভাপতি এনামুল হক খানের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শারদীয় দুর্গোৎসবের অষ্টমী পূজা উপলক্ষ্যে দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে আগামী ১৯ অক্টোবর সারা দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে বাজুস। একই সঙ্গে এ বিষয়ে সবার আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেছে সংগঠনটি।
বাংলাদেশ ব্যাংক
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আগামী ২০ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত টানা তিন দিন দেশের সব তফসিলি ব্যাংক বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। পরের শুক্র-শনি মিলিয়ে এই ছুটি হতে যাচ্ছে পাঁচ দিন। তবে ছুটির আগের শনিবার অর্থাৎ ১৭ অক্টোবরের সাপ্তাহিক ছুটি বাতিল করা হয়েছে। রোববার (১১ অক্টোবর) বাংলাদেশ ব্যাংকের সুপারভাইজরি ডেটা ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড অ্যানালিটিক্স ডিপার্টমেন্ট (এসডিএডি) থেকে এ-সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করা হয়েছে।
সার্কুলারে বলা হয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপনের পরিপ্রেক্ষিতে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ২০, ২১ ও ২২ অক্টোবর যথাক্রমে মঙ্গলবার, বুধবার ও বৃহস্পতিবার দেশের সব তফসিলি ব্যাংক বন্ধ থাকবে। তবে ১৭ অক্টোবর শনিবার ব্যাংকগুলো স্বাভাবিক নিয়মে কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
এদিকে সমুদ্র, স্থল ও বিমানবন্দর এলাকার পোর্ট ও কাস্টমস এলাকায় অবস্থিত ব্যাংকের শাখা ও বুথগুলোতে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম সীমিত পরিসরে চালু রাখতে হবে। এ নির্দেশনা অনুযায়ী, ২০ থেকে ২২ অক্টোবর সরকারি ছুটির দিন এবং ২৩ ও ২৪ অক্টোবর শুক্রবার ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও আমদানি-রপ্তানিসংক্রান্ত কার্যক্রম সীমিত আকারে চলবে।
সার্কুলারে আরও বলা হয়, এ ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসন এবং বন্দর ও কাস্টমস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যাংকগুলো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জনস্বার্থে ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারায় অর্পিত ক্ষমতাবলে এ নির্দেশনা জারি করেছে।
এলপিজি সিলিন্ডার দুইদিন বিক্রি বন্ধ ঘোষণা
এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবসায়ীদের হয়রানির প্রতিবাদে সারা দেশে দুই দিন সব গ্যাসের দোকান বন্ধ থাকবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি সেলিম খান।
আজ সোমবার (১২ অক্টোবর) রাজধানীর প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী বৃহস্পতি ও শুক্রবার সারা দেশে সব সিলিন্ডারের দোকান বন্ধ থাকবে।
সভাপতি বলেন, গ্যাস সিলিন্ডারের দাম ও সাপ্লাই নিয়ে বারবার হয়রানির শিকার হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। এসবের প্রতিবাদে আগামী বৃহস্পতি ও শুক্রবার সব দোকান বন্ধ থাকবে। এলপি গ্যাস ব্যবসায়ীদের যেসব দাবি দাওয়া আছে, সেগুলো মানা না হলে আরও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে সমিতির সাধারণ সম্পাদক নাসিরুদ্দিন নাসিম অভিযোগ করেন, শুধু ৫টি কোম্পানির হাতে এলপি সিলিন্ডার গ্যাসের বিপণন জিম্মি। তাদের হাত ধরে স্বৈরাচারী কায়দায় এলপি গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির হচ্ছে বলে ক্ষোভ জানান তিনি।
প্রসঙ্গেত, সর্বশেষ গত ৪ অক্টোবর এলপিজির দাম বাড়ানো হয়। ১২ কেজির সিলিন্ডার ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। ১২ কেজি ছাড়াও সব ওজনের সিলিন্ডারের দাম বাড়ানো হয়।
তবে সব সময়ের মতো সরকার নির্ধারিত এই দামে কোথাও মিলছে না গ্যাস। ২ হাজার থেকে ২২০০ কিংবা ২৪০০ টাকা দিলে মিলিয়ন পাওয়া যায় ১২ কেজির সিলিন্ডার।
ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের ডলারের দরপতন ও আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমার প্রভাবে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম বেড়েছে। শুক্রবার স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ১ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৯০ দশমিক ৫৭ ডলারে পৌঁছেছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, গ্রিনিচ মান সময় (জিএমটি) সকাল ৬টা ৩০ মিনিটে এই দর রেকর্ড করা হয়। এর আগে বুধবার স্বর্ণের দাম দুই মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গিয়েছিল। তবে শুক্রবারের দরবৃদ্ধিতে সপ্তাহজুড়ে স্বর্ণের দাম বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ডিসেম্বর মাসে সরবরাহের জন্য নির্ধারিত স্বর্ণের ফিউচার দরও ১ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ২১৫ দশমিক ৩০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকেরা বলছেন, ডলারের দর কমলে অন্যান্য মুদ্রার ব্যবহারকারীদের কাছে ডলারে মূল্য নির্ধারিত স্বর্ণ তুলনামূলক সস্তা হয়ে ওঠে। এতে মূল্যবান ধাতুটির চাহিদা বাড়তে পারে। তেলের দাম কমাও মূল্যস্ফীতির চাপ নিয়ে বাজারের প্রত্যাশায় প্রভাব ফেলতে পারে।
তবে বিনিয়োগকারীরা এখনো মূল্যস্ফীতির স্থায়িত্ব এবং যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হারসংক্রান্ত পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। সুদের হার কমার সম্ভাবনা সোনার বাজারকে প্রভাবিত করতে পারে, কারণ স্বর্ণ কোনো সুদ দেয় না এবং সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে এর আকর্ষণ সুদের হারের পরিবর্তনের সঙ্গে ওঠানামা করে।
সব মিলিয়ে ডলারের দুর্বলতা ও তেলের দরপতন শুক্রবার স্বর্ণের বাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা তৈরিতে সহায়তা করেছে। তবে মূল্যস্ফীতি ও ফেডের নীতিগত সিদ্ধান্তের অনিশ্চয়তা বাজারে প্রভাব বজায় রেখেছে।
সূত্র: রয়টার্স