ইসলামী ব্যাংক (লোগো)
শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসিকে ‘এ’ ক্যাটাগরি থেকে সর্বনিম্ন ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে নামিয়েছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন।
টানা দুই বছর বিনিয়োগকারীদের কোনও লভ্যাংশ দিতে ব্যর্থ হওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক ঘোষণায় এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়েছে, ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে অন্তর্ভুক্তির ফলে এখন থেকে ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার কেনার ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীরা কোনও মার্জিন ঋণ সুবিধা পাবেন না। সিদ্ধান্তটি তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়েছে।
একই কারণে বেসরকারি খাতের স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক লিমিটেড এবং সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংককেও ‘বি’ ক্যাটাগরি থেকে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে নামানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এসব ব্যাংকের ক্ষেত্রেও শেয়ার ক্রয়ে ঋণ সুবিধা বন্ধ থাকবে।
এদিকে ক্যাটাগরি অবনমনের ঘোষণার প্রভাব পড়েছে শেয়ার দরে। দিনটির লেনদেন শুরুর দিকে ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার দর ছিল ৩৪ টাকা ৭০ পয়সা। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দর কমে দুপুর ১২টার দিকে ৩৩ টাকা ১০ পয়সায় নেমে আসে।
পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কোনও কোম্পানি ধারাবাহিকভাবে লভ্যাংশ দিতে ব্যর্থ হলে বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমে যায়; যার সরাসরি প্রভাব পড়ে শেয়ার দর ও লেনদেনে। ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে অন্তর্ভুক্তি সাধারণত কোম্পানির আর্থিক দুর্বলতার ইঙ্গিত বহন করে এবং এতে বিনিয়োগ ঝুঁকি বেড়ে যায়।
ছবি : সংগৃহীত
গত পাঁচ বছরে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের নির্ধারিত দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। ২০২১ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) ৩২ দফায় দাম বাড়িয়েছে। একই সময়ে কয়েক দফায় দাম কমানোও হয়েছে। সব মিলিয়ে ২০২১ সালের এপ্রিলে ৯৭৫ টাকা থাকা ১২ কেজি সিলিন্ডারের নির্ধারিত দাম ২০২৬ সালের এপ্রিলে বেড়ে দাঁড়ায় ১ হাজার ৯৪০ টাকা।
২০২১ সালের ১২ এপ্রিল দেশে প্রথমবার বেসরকারি পর্যায়ের এলপিজির দাম নির্ধারণ করে বিইআরসি। তখন ১২ কেজি সিলিন্ডারের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য নির্ধারণ করা হয় ৯৭৫ টাকা। এরপর বিশ্ববাজারের দামের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রতি মাসে দাম পরিবর্তন করা হয়।
পাঁচ বছরে দামের ওঠানামা
২০২১ সালে এপ্রিলের ৯৭৫ টাকা থেকে মে ও জুনে দাম কমে যথাক্রমে ৯০৬ ও ৮৪২ টাকা হয়। এরপর জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত টানা পাঁচ দফায় দাম বাড়ানো হয়। নভেম্বরের শেষে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম দাঁড়ায় ১ হাজার ৩১৩ টাকা। পরে ডিসেম্বরে ৮৫ টাকা কমিয়ে তা ১ হাজার ২২৮ টাকা করা হয়।
২০২২ সালে সাত দফায় দাম বাড়ানো হলেও পাঁচ দফায় কমানো হয়। বছরের শেষে ডিসেম্বরে দাম দাঁড়ায় ১ হাজার ২৯৭ টাকা। এর আগে জানুয়ারিতে দাম ছিল ১ হাজার ১৭৪ টাকা।
২০২৩ সালে সাত দফা দাম বাড়ানোর বিপরীতে পাঁচ দফা কমানো হয়। বছরের শুরুতে ১ হাজার ২৩২ টাকা থাকা সিলিন্ডারের দাম ডিসেম্বরের শেষে দাঁড়ায় ১ হাজার ৪০৪ টাকা। ওই বছর সর্বনিম্ন দাম ছিল জুনে, ৯৯৯ টাকা।
২০২৪ সালে সাত দফায় দাম বাড়ানো হয়। বছরের শুরুতে ১ হাজার ৪৩৩ টাকা থেকে ফেব্রুয়ারিতে দাম বেড়ে ১ হাজার ৪৭৪ টাকা এবং মার্চে ১ হাজার ৪৮২ টাকা হয়। পরে কয়েক দফা কমা-বাড়ার পর নভেম্বর ও ডিসেম্বরে দাম ছিল ১ হাজার ৪৫৫ টাকা।
২০২৫ সালে দাম বাড়ানোর প্রবণতা তুলনামূলক কম ছিল। বছরজুড়ে দুই দফায় দাম বাড়লেও একাধিক দফায় তা কমানো হয়। ফেব্রুয়ারিতে সর্বোচ্চ দাম ছিল ১ হাজার ৪৭৮ টাকা। নভেম্বর মাসে তা কমে দাঁড়ায় ১ হাজার ২১৫ টাকা।
চলতি বছরের প্রথম চার মাসে এলপিজির দামে আবার বড় পরিবর্তন আসে। জানুয়ারিতে ১ হাজার ২৫৩ টাকা থেকে ফেব্রুয়ারিতে দাম বেড়ে ১ হাজার ৩৫৬ টাকা হয়। পরে ভ্যাট কমানোর কারণে ১৫ টাকা কমিয়ে দাম নির্ধারণ করা হয় ১ হাজার ৩৪১ টাকা। মার্চে দাম অপরিবর্তিত ছিল।
এরপর এপ্রিলে দুই দফায় মোট ৫৯৯ টাকা বাড়ানো হয়। প্রথম দফায় ৩৮৭ টাকা এবং দ্বিতীয় দফায় ২১২ টাকা বাড়িয়ে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৯৪০ টাকা নির্ধারণ করা হয়।
অর্থাৎ, ২০২১ সালের এপ্রিলের ৯৭৫ টাকা থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিলে দাম বেড়ে হয় ১ হাজার ৯৪০ টাকা। পাঁচ বছরে দাম বেড়েছে ৯৬৫ টাকা, যা প্রায় ৯৯ শতাংশ।
পরের মাসগুলোতে আবার কমেছে দাম
এপ্রিলের পর জুনে ৫৫ টাকা এবং জুলাইয়ে ৩৫৭ টাকা কমানো হয়। আগস্টে এক দফায় ৭০ টাকা বাড়িয়ে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৫৯৮ টাকা নির্ধারণ করে বিইআরসি। সর্বশেষ সেপ্টেম্বরে আরও ১৩ টাকা কমিয়ে দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৫৮৫ টাকা।
তবে বিইআরসি নির্ধারিত দামে বাজারে এলপিজি পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। সেপ্টেম্বরে ১২ কেজির সিলিন্ডারের নির্ধারিত দাম ১ হাজার ৫৮৫ টাকা হলেও বাজারে তা ২ হাজার ১৫০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি হচ্ছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে।
খুচরা ব্যবসায়ীরা এ পরিস্থিতির জন্য সংকটের কথা বলছেন। তবে এলপিজি মালিকরা দেশে কোনো সংকট নেই বলে জানিয়েছেন।
আমদানির তথ্যেও সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকার দাবি
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) এলপিজি খাতের মালিকরা বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর সঙ্গে সচিবালয়ে বৈঠক করেন। সেখানে দেশের এলপিজি খাতের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের আগস্টে দেশে ১ লাখ ৫৭ হাজার ৭৬০ মেট্রিক টন এবং সেপ্টেম্বরের ২২ তারিখ পর্যন্ত ১ লাখ ১৮ হাজার ৭৪২ মেট্রিক টন এলপিজি আমদানি করা হয়েছে। বৈঠকে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, দেশে এলপিজির জোগান ও মজুত পরিস্থিতি ভালো বলে জানানো হয়। আমদানিকারক ও অপারেটররা জানান, বর্তমানে দেশে এলপিজির কোনো সংকট নেই।
কৃত্রিম সংকট খতিয়ে দেখতে ডিসিদের নির্দেশ
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দেশের কোথাও এলপিজির কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অতিরিক্ত দামে বিক্রি করা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী। সচিবালয়ে জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত অনলাইন বৈঠকে তিনি এ নির্দেশ দেন।
মন্ত্রী জানান, দেশে এলপিজির সরবরাহে কোনো ঘাটতি নেই। তবে কোনো কোনো এলাকায় কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বেশি দামে এলপিজি বিক্রি করা হতে পারে। সরবরাহ স্বাভাবিক থাকার পরও কোথাও কেন সংকটের কথা শোনা যাচ্ছে এবং কেন অতিরিক্ত দাম নেওয়া হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখে তথ্য ও প্রমাণসহ প্রতিবেদন পাঠাতে ডিসিদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর পরদিন বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দেশে এলপিজির সরবরাহ পর্যাপ্ত ও সন্তোষজনক রয়েছে বলে জানায় এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ। সংগঠনটি বলেছে, পর্যাপ্ত সরবরাহের পরও বিইআরসির নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি বা অবৈধভাবে মজুত করা হলে সরকারের কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
নির্ধারিত দামে বিক্রি নিয়ে প্রশ্ন
এলপিজির সরবরাহ নিয়ে একাধিক উদ্যোগ ও বক্তব্যের পরও সাধারণ মানুষ সরকার নির্ধারিত দামে সিলিন্ডার কিনতে পারবেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ শামসুল আলম বলেন, যে হারে এলপিজির দাম বাড়ানো হচ্ছে, তাতে ভোক্তাদের জন্য দীর্ঘমেয়াদে তা সামাল দেওয়া কঠিন হবে। তাঁর মতে, বড় সমস্যা হলো বিইআরসির নির্ধারিত দামে বাজারে এলপিজি বিক্রি না হওয়া। ফলে ভোক্তাদের আরও বেশি দামে সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, এলপিজি খাতে অনিয়ম প্রতিরোধের দায়িত্ব বিইআরসি, প্রতিযোগিতা কমিশন, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও বিএসটিআইসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর। এসব প্রতিষ্ঠান কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় অসাধু ব্যবসা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনে লাইসেন্স বাতিল এবং আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে নতুন করে লাইসেন্স দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। তাঁর মতে, এলপিজি ব্যবসায়ীরা ইচ্ছামতো দাম বাড়াবে এবং রাষ্ট্র কোনো ব্যবস্থা নেবে না, এমন পরিস্থিতি থাকা উচিত নয়।
ছবি : সংগৃহীত
পণ্য না কিনে শুধুমাত্র ক্যাশআউট করার জন্য বাংলা কিউআর ব্যবহার করলে সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্ট ব্লক করা হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান।
তিনি বলেন, ক্যাশলেস লেনদেন গড়ে তুলতে বাংলা কিউআরের প্রচলন করা হয়েছে। এর মূল উদ্দেশ্য প্রতিটি লেনদেনের ফুটপ্রিন্ট রাখা। এ সেবা দিতে কোনো ব্যাংক, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসসহ (এমএফএস) অন্যান্য প্রতিষ্ঠান গড়িমসি করলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আজ বুধবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সভাকক্ষে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি এসব কথা জানান।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বর্তমানে ব্যাংক ও এমএফএস গ্রাহকেরা মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করে দেশে প্রায় ৩৯ লাখ মার্চেন্টের বাংলা কিউআর স্ক্যান করে পণ্যের মূল্য পরিশোধ করতে পারছেন। গত জুনে দৈনিক গড়ে প্রায় ১ লাখ বাংলা কিউআর পেমেন্ট সম্পন্ন হতো। তখন লেনদেনের পরিমাণ ছিল গড়ে ২৮ কোটি টাকার বেশি। বর্তমানে দৈনিক গড়ে প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার বাংলা কিউআর পেমেন্ট হচ্ছে, যার আর্থিক মূল্য গড়ে প্রায় ১৪৩ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। মাত্র ৯০ দিনের ব্যবধানে লেনদেনের সংখ্যা প্রায় সাড়ে তিন গুণ এবং লেনদেনের অর্থমূল্য প্রায় পাঁচ গুণ হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বাংলা কিউআর লেনদেনের প্রচার ও প্রসার বৃদ্ধির জন্য নতুন কিছু পদক্ষেপের কথা জানানো হয়। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১ অক্টোবর থেকে সব বাংলা কিউআর কোডভিত্তিক পেমেন্টের অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট মার্চেন্ট হিসাবে প্রদান করা হবে। এতে মার্চেন্টদের অর্থ পাওয়ার ক্ষেত্রে বিলম্ব কমবে। এ ছাড়া বাংলা কিউআর পেমেন্টের ক্ষেত্রে অর্থগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট (এমডিআর) ১ শতাংশ রহিত করা হয়েছে। পাশাপাশি ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠানের চার্জ শূন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর ফলে মার্চেন্ট পর্যায়ে বাংলা কিউআর পেমেন্টের খরচ কমবে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
অন্যদিকে, আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে মার্চেন্ট পয়েন্টে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত এনপিএসবি প্ল্যাটফর্মের প্রতিটি বাংলা কিউআর লেনদেনের বিপরীতে পেমেন্ট গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানকে শূন্য দশমিক ১০ শতাংশ এবং ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠানকে শূন্য দশমিক ২০ শতাংশ হারে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে প্রণোদনা দেওয়া হবে।
আগামী ১ নভেম্বর থেকে চালু হবে বাংলা কিউআরভিত্তিক ব্যক্তি-টু-ব্যক্তি (পিটুপি) লেনদেন। এর মাধ্যমে একজন গ্রাহক অন্য গ্রাহকের বাংলা কিউআর স্ক্যান করে অথবা সংশ্লিষ্ট মোবাইল অ্যাপে কিউআরের ছবি আপলোড করে আন্তঃব্যবহারযোগ্য অর্থ স্থানান্তর করতে পারবেন।
বাংলা কিউআর ব্যবহার করে বিকাশ থেকে ১০ হাজার টাকার বেশি পেমেন্ট করা যায় না—এমন প্রশ্নের জবাবে মুখপাত্র বলেন, এমন অভিযোগ তাদের কাছেও এসেছে। এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটিকে সতর্ক করা হয়েছে। এছাড়া তাদের এজেন্টদের অসহযোগিতার বিষয়টিও জানিয়ে সতর্ক করা হয়েছে।
সালমান মুক্তাদির
কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মোহাম্মদ মুক্তাদিরের ব্যংক হিসাব তলব করেছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)।
আজ বুধবার সব ব্যাংকে চিঠি দিয়ে তার হিসাব খোলার ফরম, হালনাগাদ লেনদেন বিবরণীসহ যাবতীয় তথ্য চাওয়া হয়েছে। আধাঘণ্টার মধ্যে এ সংক্রান্ত তথ্য দিতে বলা হয়েছে। একটি গোয়েন্দা সংস্থার চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে তথ্য চাওয়া হয় বলে একটি সূত্র জানিয়েছে।
গত শনিবার শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে রাজধানীর ইসিবি চত্বরের নিউগ্রিনি প্রপার্টিজে সালমানের স্টুডিওতে হামলা, ব্যাপক ভাঙচুর ও মালামাল লুট হয়। পরে তিনি অভিযোগ করেন বিএনপির লোকজন তার কাছে চাঁদা দাবি করেছিলেন। চাঁদা না দেওয়ায় তার স্টুডিওতে হামলা হয়েছে। তার এই বক্তব্যের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ সরকারের অনেকে প্রতিক্রিয়া জানান। এখন লেনদেন ক্ষতিয়ে দেখার উদ্যোগ নিল সরকার।
ছবি : সংগৃহীত
দেশের বাজারে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) সরবরাহে সংকট তৈরি হওয়ায় ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম দুই হাজার টাকা ছাড়িয়েছে। এক মাসের ব্যবধানে এলপিজি আমদানি প্রায় ২৫ শতাংশ কমে যাওয়ায় বাজারে ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এই সুযোগে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) নির্ধারিত দামের চেয়ে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে।
বর্তমানে ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের জন্য ভোক্তাদের গুনতে হচ্ছে প্রায় ২ হাজার থেকে ২ হাজার ১০০ টাকা। অথচ বিইআরসি নির্ধারিত মূল্য ১ হাজার ৫৮৫ টাকা। ফলে নির্ধারিত দামের তুলনায় বাড়তি অর্থ গুনতে হচ্ছে সাধারণ গ্রাহকদের।
বিইআরসি ও এলপিজি আমদানিকারক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত আগস্টে দেশে প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার টন এলপিজি আমদানি হয়েছিল। চলতি সেপ্টেম্বর মাসে সেই পরিমাণ কমে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টনে নেমেছে। অর্থাৎ এক মাসে আমদানি কমেছে প্রায় ৪০ হাজার টন।
এর আগে গত ২ সেপ্টেম্বর ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১৩ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ৫৮৫ টাকা নির্ধারণ করেছিল বিইআরসি। কিন্তু আমদানি ও সরবরাহে ঘাটতির কারণে বাস্তবে বাজারে সেই দামে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধাবস্থার প্রভাবে লোহিত সাগর, হরমুজ প্রণালিসহ গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে পণ্য পরিবহনে জটিলতা তৈরি হয়েছে। এতে জাহাজের সংকটের পাশাপাশি বেড়েছে পরিবহন ব্যয়। বাংলাদেশের এলপিজির প্রধান আমদানি উৎস মধ্যপ্রাচ্য হওয়ায় আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাব সরাসরি দেশের বাজারেও পড়েছে।
মেঘনা ফ্রেশ এলপিজি লিমিটেডের প্রধান বিপণন কর্মকর্তা (সিএমও) আবু সাঈদ রেজা বলেন, বর্তমানে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো কার্গো পাওয়া। একটি নৌপথ বন্ধ থাকলে আগে বিকল্প পথে পণ্য আনা সম্ভব হতো। কিন্তু এখন দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি থাকা সত্ত্বেও অনেক আন্তর্জাতিক সরবরাহকারী প্রায় ২০ শতাংশ সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে। বাড়তি প্রিমিয়াম দিয়েও খোলাবাজার থেকে কার্গো সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
আমদানিকারকদের দাবি, আন্তর্জাতিক বাজারে কার্গো প্রিমিয়াম ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টি বিইআরসির মাসিক মূল্য নির্ধারণে পুরোপুরি সমন্বয় করা হচ্ছে না।
এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (লোয়াব) সদস্যদের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্ববাজারে কার্গো প্রিমিয়াম টনপ্রতি ১৬০ ডলার থেকে বেড়ে ২৬০ থেকে ৪০০ ডলারে পৌঁছেছে। ফলে বিইআরসির নির্ধারিত দামে এলপিজি বিক্রি করে অতিরিক্ত ব্যয় সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। লোকসান এড়াতে কিছু প্রতিষ্ঠান আমদানি কমিয়ে দিয়েছে বলেও দাবি করেছেন তারা।
ওমেরা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) তানজীম চৌধুরী বলেন, সেপ্টেম্বরে তাদের প্রতিষ্ঠান প্রায় ৩০ হাজার টন এলপিজি আমদানি করেছে। বৈশ্বিক সংকটে উৎপাদকদের দিক থেকে সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলেও পরিস্থিতি সামাল দিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে।
বাংলাদেশে বছরে এলপিজির চাহিদা প্রায় ১৫ থেকে ১৬ লাখ টন। এর প্রায় ৮০ শতাংশ গৃহস্থালির রান্নার কাজে ব্যবহৃত হয়। মোট চাহিদার প্রায় ৯৯ শতাংশই বেসরকারি খাতের মাধ্যমে সরবরাহ করা হয়ে থাকে।
বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ জানিয়েছেন, সেপ্টেম্বর মাসে সরবরাহ ঘাটতির পেছনে কিছু প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত জাহাজ সময়মতো না পৌঁছানোর বিষয়টিও রয়েছে। সংকট মোকাবিলায় দ্রুত আমদানিকারকদের সঙ্গে বৈঠক করা হবে বলেও জানান তিনি।
তবে আন্তর্জাতিক নৌপথের জটিলতা দ্রুত না কাটলে এবং প্রয়োজনীয় কার্গো সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলে অক্টোবরেও এলপিজির সংকট অব্যাহত থাকতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিইআরসি চেয়ারম্যান।
ফলে একদিকে নির্ধারিত দামের তুলনায় বাড়তি অর্থ দিয়ে রান্নার গ্যাস কিনতে হচ্ছে ভোক্তাদের, অন্যদিকে আমদানি ও সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়ায় সামনে এলপিজির বাজার পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বাড়ছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর)
তিন বছরে প্রায় ৬২১ কোটি টাকা বিক্রির তথ্য গোপন করা হয়েছে। যাতে ভ্যাট ফাঁকি দেওয়া হয়েছে প্রায় ৩৫ কোটি টাকা। কিশোরগঞ্জের ভৈরবে অবস্থিত জে আই ইমপেক্স লিমিটেডের বিরুদ্ধে এই বিপুল পরিমাণ বিক্রির তথ্য গোপন করে ভ্যাট ফাঁকি দেওয়ার তথ্য পেয়েছে কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট, ঢাকা (পূর্ব)।
সম্প্রতি এই প্রতিষ্ঠানে অভিযানের পর এই ফাঁকি উদ্ঘাটন করা হয়েছে। আজ রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ৮ সেপ্টেম্বর ঢাকা কমিশনারেটের সদর দপ্তর ও নরসিংদী ভ্যাট বিভাগের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত প্রিভেন্টিভ দল জে আই ইমপেক্স লিমিটেডে অভিযান চালায়। এ সময় প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন বাণিজ্যিক দলিল, ক্লিপ ফাইল, প্লাস্টিক ফোল্ডার, সিপিইউ, টালি খাতা, রেজিস্টার, ট্রাক ভাড়া সংক্রান্ত কাগজপত্র, মেমো ফাইল, ট্রাকচালকদের খরচের বিবরণী এবং প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তার সই করা কম্পিউটার প্রিন্টেড বিক্রয় দলিল জব্দ করা হয়।
জব্দ করা নথিপত্র পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, প্রতিষ্ঠানটি ২০২৩ সাল থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে মাসভিত্তিক পণ্য সরবরাহের ৭২টি ফোল্ডার ও নথি পাওয়া গেছে। এসব নথি যাচাই-বাছাই করে ৬২১ কোটি ৭৪ লাখ ৩৭ হাজার ১৩৪ টাকার বিক্রয়ের তথ্য পাওয়া যায়, যা প্রতিষ্ঠান গোপন করেছে। যার বিপরীতে প্রাথমিকভাবে ৩৫ কোটি ৬৫ লাখ ৮৩ হাজার ৭৯৮ টাকার মূসক ফাঁকি উদ্ঘাটিত হয়েছে। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে মূসক ফাঁকির মামলা দায়েরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর
ভঙ্গুর অর্থনীতি থেকে উত্তরণ ঘটিয়ে ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করার লক্ষ্য নিয়ে সরকার নতুন উন্নয়ন মডেল বাস্তবায়ন করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ডেট্রয়েটে আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশি ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড আর্কিটেক্টসের দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।
ড. তিতুমীর বলেন, আগের সরকারের রেখে যাওয়া ভঙ্গুর অর্থনীতি থেকে উত্তরণে সরকার পুনরুদ্ধার, পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও পুনর্গঠন-এই তিন ‘আর’ (থ্রি-আর) কৌশলের ভিত্তিতে নতুন উন্নয়ন মডেল বাস্তবায়ন করছে। এ কৌশলের আওতায় বিনিয়োগ, উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর পাশাপাশি শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, শিল্পের বহুমুখীকরণ, প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ও উৎপাদনশীলতা বাড়ানো এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করে বাংলাদেশকে একটি প্রতিযোগিতামূলক উৎপাদনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে চায় সরকার।
সম্মেলনে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন প্রকৌশলী, বিজ্ঞানী ও প্রযুক্তি উদ্যোক্তাদের দেশের উন্নয়নে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান ড. তিতুমীর।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণাপ্রতিষ্ঠান, প্রযুক্তি কোম্পানি ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে বাংলাদেশের সংযোগ স্থাপনে প্রবাসী বাংলাদেশিরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।
ড. তিতুমীর প্রবাসী পেশাজীবীদের তরুণ প্রকৌশলী ও উদ্যোক্তাদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।
পাশাপাশি দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে আন্তর্জাতিক গবেষণা সহযোগিতা, প্রযুক্তি ও জ্ঞান হস্তান্তর এবং সম্ভাবনাময় দেশীয় স্টার্টআপের জন্য বৈশ্বিক বিনিয়োগ ও বাজারের সুযোগ তৈরিতে ভূমিকা রাখার কথাও বলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, আপনাদের জ্ঞান, অভিজ্ঞতা, বিশ্বাসযোগ্যতা ও পেশাগত যোগাযোগও বাংলাদেশের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ। আসুন, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশিদের ব্যক্তিগত সাফল্যকে বাংলাদেশের জন্য সম্মিলিত সম্ভাবনায় রূপান্তর করি।
আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশি ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড আর্কিটেক্টসের সভাপতি প্রকৌশলী মনির জামানের সভাপতিত্বে সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন মার্কিন কংগ্রেস সদস্য ডেবি ডিঙ্গেল ও মিশিগান সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি মেগান ক্যাভানাহ।
যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে আসা বাংলাদেশি প্রকৌশলী ও স্থপতিরা সম্মেলনে অংশ নেন।