নরসিংদীসহ সারাদেশে হওয়া ধর্ষণ ও নারীদের উপর সহিংসতার ঘটনাসমূহের দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
শুক্রবার ( ২৭ ফেব্রুয়ারি) বাদ জুম্মা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে প্রধান ফটকে এসে সমবেত হয় পরে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে শিক্ষার্থীরা।
এ সময় তাদেরকে "আমার বোনকে ধর্ষণ করে, প্রশাসন কী করে" "আমার সোনার বাংলায়, ধর্ষকদের ঠাঁই নাই", "ধর্ষকদের চামড়া, তুলে নিবো আমরা", "একটা একটা ধর্ষক ধর, ধরে ধরে জবাই কর", "দড়ি লাগলে দড়ি নে, ধর্ষকদের ফাসি দে" "দিন দুপুরে ধর্ষণ করে, প্রশাসন কি করে" ইত্যাদি স্লোগান দিতে দেখা যায়।
এসময় ইবি শিক্ষার্থী রাহাত আব্দুল্লাহ বলেন, ‘গত পনের দিন আগে ধর্ষণ হওয়ার বিচারের জন্য আমাদের রাস্তায় নামতে হয়। এটা জাতির জন্য লজ্জাজনক। আমরা দেখেছি, ধর্ষক কোনো একটি রাজনৈতিক দলের প্রশ্রয় রয়েছে। আমরা জানতে চাই- সেই রাজনৈতিক দলকে ধর্ষকদের পাহারাদার হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে কি না। যদি তারা ধর্ষকদের পাহারাদার হিসেবে আবির্ভূত হয় তাহলে জনগণ তাদের লাল কার্ড দেখাবে।’
আরেক শিক্ষার্থী ও বৈষম্যবিরোধী নেতা বাঁধন স্পর্শ বলেন, ‘গতকালকে নরসিংদীতে একজন কিশোরী মেয়েকে প্রথমে পাঁচ ছয়জন মিলে ধর্ষণ করার পরবর্তীতে সে বিচার চায় কিন্তু তাকে আবারো ধর্ষণ করে হত্যা করা হয়েছে। এটা যারা করেছে তাদের আশ্রয়স্থল হলো- বিএনপি। আমি বলতে চাই- যারা ধর্ষণ করেছে তাদের উপযুক্ত শাস্তি দিতে হবে এবং উপযুক্ত শাস্তি হতে হবে ফাঁসি ফাঁসি এবং ফাঁসি। অন্যথায় আমি সরকারকে বলতে চাই- আপনারা যদি দলের নেতাকর্মী হিসেবে তাদেরকে বাঁচাতে চান তাহলে কিন্তু দেশের ছাত্রজনতা সেটাকে মেনে নিবে না। ছাত্ররা যেমন জুলাই বিপ্লবে রাজপথে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার মতো ফ্যাসিস্টদের বিরুদ্ধে রুখে দিয়েছির। আপনাদের মতো দুর্নীতিবাজের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে সময় লাগবে না। সেই ১৯৯৬ সালে যখন ৪৫ দিনের মাথায় বিএনপির সরকার পড়ে যায় ইয়াসমিন নামক একটা মেয়ের কারণে। ইয়াসমিনকে তখনকার সময়ে বিএনপির আমলে নিশংসভাবে গণধর্ষণ করা হয়েছিল। যার কারণে না কি সরকার পতন হয়েছিল। যদি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই ধরনের ধর্ষণের বিচার না করেন তাই সেই ইয়াসমিনের মতো আমেনার কারণে একই পরিণতি ভোগ করতে হবে।’
শাখা ছাত্র শিবিরের সাংগঠনিক সম্পাদক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জাকারিয়া হোসাইন বলেন, ‘যে দেশে ধর্ষণের মতো ঘৃণ্য অপরাধের বিচারের জন্য ছাত্র জনতাকে মাঠে নামতে হয় সেটা এই জাতির জন্য, ছাত্রসমাজের জন্য, ২৪ পরবর্তী বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক। আজ পর্যন্ত আমরা যতগুলো ধর্ষণের বিচারের দাবিতে মাঠে নেমেছি, একটিরও বিচার আমাদের দেশের মাটিতে হয়নি। দিন যায় দিন আসে ক্ষমতার পালাবদল হয়। আপনাদেরকে সর্তক করে দিতে চাই— আপনাদের ছত্রছায়ায় নাম ও ক্ষমতা ব্যবহার করে, যে বা যারা এ সকল কর্মকাণ্ড ঘটাচ্ছে তাদের লাগাম টেনে ধরুন। নয়তো ছাত্র জনতা, বিপ্লব পরবর্তী বাংলাদেশ আপনাদের লাগাম টেনে ধরবে । ২৪ পরবর্তী বাংলাদেশের যতগুলো ধর্ষণের বিচারের জন্য আমরা রাজপথে নেমেছি একটিরও বিচার হয়নি। বিএনপি সরকারের প্রতি আমাদের আহ্বান থাকবে আপনারা সকল ধর্ষণের বিচার করুন।’
মিডিয়াকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘আমরা দেখতে পাই দেশে যখন দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে ধর্ষণ, খুন, হয়রানি করা হচ্ছে তখন একদল ভাই ভারতীয় তারককার বিয়ে নিয়ে ফেসবুক গরম করছেন। আমরা দেখতে পাই- প্রধানমন্ত্রীর মেয়ে কী করেন, প্রধানমন্ত্রী সচিবালয় থেকে কোন প্রোগ্রামে হেঁটে যাচ্ছেন এসব প্রতি মিনিটে মিনিটে দালাল মিডিয়াগুলো প্রচার করতে থাকে। কিন্তু ধর্ষণ-খুনের আপডেট এ দালাল মিডিয়াগুলো থেকে পাওয়া যায় না।’
ঢাকা এসোসিয়েশনের নবীনবরণ
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) অধ্যয়নরত ঢাকাস্থ শিক্ষার্থীদের আঞ্চলিক সংগঠন ‘কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ঢাকা অ্যাসোসিয়েশন’-এর উদ্যোগে নবীনবরণ ও মিলনমেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের কনফারেন্স রুমে এ নবীনবরণ অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন সরকার এছাড়াও গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মাহমুদুল হাসান ও প্রভাষক মশিউর রহমানসহ ঢাকা অ্যাসোসিয়েশনের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে নবীন শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। পরে সংগঠনের সদস্যদের মধ্যে পরিচিতি ও মতবিনিময়সহ বিভিন্ন আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হয়।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক হাসান মাহমুদ সাফিন বলেন, “মিলনমেলার উদ্দেশ্যে আয়োজিত আমাদের এই আয়োজনটি ছিল প্রাক্তন, নবীন এবং বর্তমানে ক্যাম্পাসে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের মধ্যে একটি সুন্দর সেতুবন্ধন তৈরি করার প্রয়াস। সবার সঙ্গে দেখা হওয়া, পরিচিত হওয়া এবং একসঙ্গে কিছু সুন্দর মুহূর্ত কাটানোর লক্ষ্যেই আমরা এই আয়োজন করেছি। সবার আন্তরিক অংশগ্রহণ ও ভালোবাসাই আমাদের আয়োজনকে সফল করেছে। ইনশাআল্লাহ, ভবিষ্যতেও এমন আরও সুন্দর ও বড় আয়োজনের মাধ্যমে আমরা সবাইকে একসঙ্গে নিয়ে পথ চলতে চাই।”
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) ছাত্রদলের দুই পক্ষের মধ্যে ব্যাপক ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও মারামারির ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষে দুই গ্রুপের অন্তত ৫ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। আজ মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সালাম হল এলাকায় এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি জাহিদ হাসান ও সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল হোসেনের অনুসারীদের সঙ্গে সিনিয়র সহ-সভাপতি সাব্বির হোসেন শান্তর অনুসারীদের মধ্যে বিরোধকে কেন্দ্র করে এ সংঘর্ষ ঘটে। অভিযোগ উঠেছে, ঘটনার সময় সাব্বির হোসেন শান্তর গ্রুপ বহিরাগতদের এনে হলে প্রতিপক্ষ গ্রুপের ওপর হামলা চালায়। এক পর্যায়ে নোবিপ্রবি ছাত্রদলের সভাপতি এবং সেক্রেটারির সালাম হলের রুমে ব্যাপক ভাঙচুর চলে। এছাড়াও , নোবিপ্রবির সালাম ও মালেক হলের বিভিন্ন রুম ভাঙচুর করা হয়।
পরবর্তীতে, সালাম হল প্রাঙ্গণ থেকে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক গ্রুপের নেতাকর্মীরা একজোটে সাব্বির গ্রুপের অনুসারীদের ধাওয়া দেয়। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া গড়ায় অডিটোরিয়াম থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ মিনার প্রাঙ্গণ পর্যন্ত। সেখানে উভয় পক্ষ সংঘর্ষ ও মারামারিতে জড়িয়ে পড়ে। এতে অন্তত ৫ জন আহত হন।
ঘটনার পরপরই বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও প্রক্টরিয়াল বডি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কাজ করছে। এ নিয়ে তাতক্ষনিক তদন্ত কমিটি গঠন করেন নোবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও আহতদের দেখে জানান, আমরা এ নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। আমাদের শিক্ষক, কর্মকর্তা ,কর্মচারীরা এখানে আছেন। পরিস্থিতি এখন আমাদের নিয়ন্ত্রণে আছে। আমরা অতিদ্রুত এ নিয়ে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহন করবো।
উল্লেখ্য, গতকাল গভীর রাতে ছাত্রদলের দু পক্ষের মধ্যে মালেক হল এবং পকেট গেট সংলগ্ন এলাকায় দু পক্ষের সংঘর্ষ হয়। উক্ত সংঘর্ষের জেরে আজ দুপুরে আবার ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়। এতে আহত হয় প্রায় ৫ জন।
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) হলের সিট পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার গভীর রাত থেকে মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) প্রথম প্রহর পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের আব্দুল মালেক উকিল হল ও পকেট গেট এলাকায় দফায় দফায় সংঘটিত এ ঘটনায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক এক সমন্বয়ক ও এক ছাত্রদল নেতাসহ অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে একজনকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আহতরা হলেন—শাখা ছাত্রদলের ছাত্রকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক ও পরিসংখ্যান বিভাগের ১৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আনিসুর রহমান সিফাত, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক ও ফলিত গণিত বিভাগের ১৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থী জাহিদুল ইসলাম হাসান এবং কৃষি বিভাগের ১৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সামিউল ইসলাম।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, রাত আনুমানিক দুইটার দিকে আব্দুল মালেক উকিল হলের একটি কক্ষের সিট পরিবর্তন (এক্সচেঞ্জ) নিয়ে ছাত্রদলের দুই পক্ষের সিনিয়র-জুনিয়র কর্মীদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। প্রায় এক ঘণ্টা পর রাত তিনটার দিকে শাখা ছাত্রদলের সভাপতি জাহিদ হাসান ও সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল হোসেনের অনুসারীরা সংঘবদ্ধ হয়ে সিনিয়র সহ-সভাপতি সাব্বির হাসানের অনুসারী আনিসুর রহমান সিফাতের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ ওঠে। পরে সিফাতকে মারধর করে হল থেকে বের করে দেওয়া হলে তিনি পকেট গেটের দিকে চলে যান।
এরপর পকেট গেট এলাকায় সামিউল ইসলামের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এতে তাঁর ঠোঁট ফেটে যায় এবং পরে তাঁকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। অন্যদিকে, ঘটনা থামাতে গেলে হলের ভেতরে মারধরের শিকার হন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক জাহিদুল ইসলাম হাসান। এ সময় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত দুই সাংবাদিকও হেনস্তার শিকার হন।
মারধরের শিকার ছাত্রদল নেতা আনিসুর রহমান সিফাত বলেন, “সিট নিয়ে তুচ্ছ বাকবিতণ্ডার জেরে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের অনুসারীরা অন্যায়ভাবে আমার ওপর পরিকল্পিতভাবে হামলা চালায় এবং মারধর করে হল থেকে বের করে দেয়, বিশেষ করে ফিশারিজের রায়হান কবির রাশেদ ও ইকোনমিক্সের তানভীর ভুইঁয়া।”
নিজের ওপর হামলাকারীদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আগস্টের ১০ তারিখও ওরা ছাত্রলীগ করেছে, এখন বড় ছাত্রদল হয়ে গেছে। ছাত্রলীগ দিয়ে ছাত্রদলের রাজনীতি চলে না। আর ছাত্রলীগের স্টাইলে পেশিশক্তির রাজনীতি নোবিপ্রবি ক্যাম্পাসে কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। গুপ্ত শিবিরকে দিয়ে যখন কমিটি দেওয়া হয় আর ছাত্রলীগ দিয়ে রাজনীতি করা হয় তখন তাদের থেকে এর চেয়ে বেশি কিইবা আশা করতে পারি।”
ঘটনার বিষয়ে শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি সাব্বির হাসান বলেন, “আমি ঐ রুমে রাতের খাবার খেতে গিয়েছিলাম। একটা সিট এক্সচেঞ্জ নিয়ে বাক-বিতণ্ডার হয়, পরে সেটার একটা সমাধান হয় এবং সবাই চলে যায়। কিন্তু পরবর্তীতে তারা পরিকল্পিতভাবে এসে ছাত্রদলের দায়িত্বশীল এক নেতার ওপর এমন হামলা করে। যা সুস্পষ্ট সাংগঠনিক শৃঙ্খলাভঙ্গের শামিল। আমি ইতিমধ্যে বিষয়টি কেন্দ্রে জানিয়েছে। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল হোসেন বলেন, “এ বিষয়ে বিস্তারিত জানি না। তবে যতটা জানি এটা সিনিয়র ও জুনিয়রের মধ্যকার ঝামেলা কোনো পলিটিক্যাল বিষয় নয়। আমি বিষয়টি ভালোভাবে খুঁজে দেখে বিস্তারিত বলতে পারব।”
এদিকে, এ বিষয়ে একাধিকবার কল দিয়েও শাখা ছাত্রদলের সভাপতি জাহিদ হাসানের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আ ফ ম আরিফুর রহমান বলেন, “আমি এই বিষয়ে অবগত রয়েছি। হলের প্রভোস্ট বডির সবাইকে বিষয়টি জানানো হয়েছে এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকেও অবহিত করা হয়েছে। আনসার সদস্যদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে এবং আমরা প্রক্টরিয়াল বডির একটি সভা ডাকছি। আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ এলে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে এরই মধ্যে আমরা আমাদের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়ে রাখছি।”
মৎস্য উৎপাদনে দেশের সক্ষমতা আরও বাড়াতে গবেষণা, আধুনিক প্রযুক্তির প্রয়োগ এবং জলজ পরিবেশ সংরক্ষণে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. এনামউল্যা।
‘রুপালি মৎস্যে স্বনির্ভর দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) হাবিপ্রবিতে জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
দিনটি উপলক্ষে সকাল সাড়ে ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে থেকে মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের উদ্যোগে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। ভাইস- চ্যান্সেলরের নেতৃত্বে র্যালিতে মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষক- শিক্ষার্থীসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা- কর্মচারীরা অংশ নেন। শিক্ষার্থীদের অনেকে দেশীয় ঐতিহ্যবাহী পোশাকে সজ্জিত হয়ে ব্যানার ও ফেস্টুন নিয়ে এতে অংশগ্রহণ করেন।
ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে র্যালিটি প্রশাসনিক ভবনের সামনে এসে শেষ হয়। পরে মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং মৎস্য খাতের গুরুত্ব তুলে ধরতে শিক্ষার্থীরা একটি জনসচেতনতামূলক মৎস্য নাটিকা পরিবেশন করেন। র্যালি-পরবর্তী বক্তব্যে ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. এনামউল্যা বলেন, দেশের অর্থনীতি, খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তার পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে মৎস্য খাতের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে গ্রামীণ অর্থনীতির গতিশীলতা এবং মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে এ খাতের অবদান রয়েছে।
তিনি বলেন, মৎস্য উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি উৎপাদনের গুণগত মান ও স্থায়িত্ব নিশ্চিত করাও জরুরী। এ জন্য রোগ ব্যবস্থাপনা, উন্নত জাত উদ্ভাবন, আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি এবং জলজ পরিবেশ সংরক্ষণে গবেষণার পরিধি আরও বাড়াতে হবে। হাবিপ্রবির শিক্ষক ও গবেষকদের উদ্ভাবিত জ্ঞান ও প্রযুক্তি যাতে মাঠপর্যায়ের মৎস্যচাষি ও উদ্যোক্তাদের কাজে আসে, সে বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন তিনি। গবেষণাগারে অর্জিত জ্ঞান বাস্তব উৎপাদন ব্যবস্থায় কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা গেলে দেশের মৎস্য খাত আরও সমৃদ্ধ হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. নওশের ওয়ান ও ট্রেজারার প্রফেসর ড. এম. মো. মাসুদুল হাসান খান।এ ছাড়া মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের ডীন প্রফেসর মো. ফরিদুল্লাহ, সংশ্লিষ্ট অনুষদের বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান, ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর প্রফেসর ড. আবুল কালামসহ শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন।জাতীয় মৎস্য পক্ষ উপলক্ষে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে একদিকে যেমন মৎস্য খাতের অর্থনৈতিক ও পুষ্টিগত গুরুত্ব তুলে ধরা হয়, অন্যদিকে মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ ও টেকসই উৎপাদনে গবেষণা ও জনসচেতনতার প্রয়োজনীয়তাও তুলে ধরা হয়।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) মার্কেটিং বিভাগে নতুন সভাপতি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালা উপেক্ষা করে ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন ও হিসাব বিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আব্দুস শাহীদ মিয়াকে মার্কেটিং বিভাগে সভাপতি হিসেবে নিয়োগ দেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) নিজ বিভাগ থেকে সভাপতি নিয়োগের দাবিতে সকাল ৯টা থেকে ব্যবসায় প্রশাসন অনুসদ ভবনে তালা ঝুলিয়ে আন্দোলন শুরু করেছে শিক্ষার্থীরা। তারা নিজ বিভাগের শিক্ষকদের থেকে সভাপতি নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন।
তারা জানিয়েছে, স্পষ্ট বিধিমালা লঙ্ঘন করে অন্য বিভাগ থেকে সভাপতি নিয়োগ দিয়েছে প্রশাসন। আমরা রাজনীতি বুঝি না, নীতিমালা অনুযায়ী নিজ বিভাগ থেকে সভাপতি নিয়োগ দিতে হবে। এক দফা দাবিতে অনঢ় থাকবে তারা।
এর আগে গতকাল সোমবার (১৭ আগস্ট) ওই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. সাদিকুল আজাদের সভাপতির মেয়াদ শেষ হওয়ায় ১৮ তারিখ থেকে পরবর্তী পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ডিনকে দায়িত্ব দেয় প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মনজুরুল হক স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এই তথ্য জানা যায়।
রেজিস্ট্রার দপ্তর এই নিয়োগের যথাযথ ব্যাখ্যা দিতে পারেননি এবং কেন এমনটা করা হয়েছে তাও অবগত নন তারা। যেহেতু বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ অভিভাবক উপাচার্য তিনিই ভালো বলতে পারবেন বলে এড়িয়ে গেলেন তারা। তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সদ্য বিদায়ী সভাপতির পর রোটেশনে সভাপতির দায়িত্বে সহকারী অধ্যাপক মাজেদুল হক আসার কথা। তিনি আওয়ামীপন্থি শিক্ষক ও শেখ হাসিনাকে ফেরানোর ‘ষড়যন্ত্রে জড়িত’ বলে অভিযোগ থাকায় তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত দায়িত্ব থেকে দূরে রাখা হয়েছে, এর পরের জনকে দিতে হলে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দিয়ে রেজুলেশন করতে হয়। তাই আপাতত পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত ডিনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অনেকের মন্তব্য।
এদিকে নথিতে দেখা গেছে, সদ্য বিদায়ী সভাপতি সাদিকুল আজাদের পর মার্কেটিং বিভাগের সভাপতির যোগ্যতা অর্জন করেছে সহকারী অধ্যাপক মাজেদুল হক, পরের সিরিয়ালে মো. রুহুল আমিন ও মো. আলাল উদ্দিন।
বিশ্ববিদ্যালয়ে সভাপতি নিয়োগ নীতিমালা অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট বিভাগ যদি নতুন হয় এবং সহকারী অধ্যাপক পদের শিক্ষক না থাকেন তাহলে অন্য যেকোনো বিভাগ থেকে সভাপতি নিয়োগ দেওয়া যাবে। অন্যথায় সিনিয়র মেইনটেইন করে নিজ বিভাগ থেকে সভাপতি নিয়োগ পাবেন। তবে সর্বনিম্ন সহকারী অধ্যাপক পদমর্যাদার শিক্ষক থাকা আবশ্যক। কোনো যৌক্তিক কারণে পদ শূন্য হয় তাহলে সংশ্লিষ্ট অনুষদের ডিন দায়িত্ব পান।
সদ্য বিদায়ী সভাপতি সাদিকুল আজাদ জানান, ‘আমার মেয়াদ আজ পূর্ণ হয়েছে। শুনেছি প্রশাসন পরবর্তী সংশ্লিষ্ট ডিনকে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে কিভাবে কেন এমন সিদ্ধান্ত হলো আমি জানি না।’
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে নবনিযুক্ত সভাপতি ও সংশ্লিষ্ট অনুষদের ডিন আব্দুস শহীদ মিয়া বলেন, ‘নিয়োগটা হয়তো সাময়িক সময়ের জন্য দেওয়া হয়েছে কারণ বিজ্ঞপ্তিতে ‘পুনরাদেশ না দেওয়া অব্দি’ উল্লেখ করা হয়েছে।’
নীতিমালার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সভাপতি কাকে নিয়োগ দেওয়া হবে কি হবে না, বিষয়টির প্রসেস সম্বন্ধে আমি অবগত নই। চিঠি পেয়ে বিভাগে গিয়েছিলাম আজ।’
জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মনজুরুল হক সংশ্লিষ্ট বিষয়ে মন্তব্য করতে অপারগতা দেখিয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট বিষয়ে জানতে উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম মতিনুর রহমানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সংযোগ পাওয়া যায়নি।
সবুজ ও নির্মল ক্যাম্পাস গড়ে তোলার প্রত্যয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় খুলনা জেলা ছাত্র কল্যাণ সমিতি।
আজ মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুরের অনুষদ ভবনের সামনে আনুষ্ঠানিকভাবে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করে সংগঠনটি।
এর আগে মীর মুগ্ধ সরোবর ও বোটানিক্যাল গার্ডেনে বিলাতি গাব ও আমের চারা রোপণ এবং খালেদা জিয়া হল ও উম্মুল মুমিনীন আয়েশা সিদ্দিকা (রা) হল নিকটস্থ পেয়ারা বাগানে বিলাতি গাবের বীজ বপন করে সংগঠনটি। পাশাপাশি শাহ আজিজুর রহমান হলেও বীজ বপন ও গাছ লাগান তারা।
আনুষ্ঠানিক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে সংগঠনের উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সৈয়দ মাকসুদুর রহমান, অধ্যাপক ড. আব্দুল গফুর গাজী, সভাপতি সাজ্জাতুল্লাহ শেখ-সহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
খুলনা জেলা ছাত্র কল্যাণ সমিতির উপদেষ্টা প্রফেসর ড. সৈয়দ মাকসুদুর রহমান বলেন, ''বৃক্ষ আমাদের পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, বিশুদ্ধ বায়ু নিশ্চিত এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর ও বাসযোগ্য পৃথিবী গড়তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি রোপিত গাছের যথাযথ পরিচর্যা ও সংরক্ষণও আমাদের সবার দায়িত্ব। গাব গাছ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাদের কাছে আমার প্রত্যাশা থাকবে, তারা যেন রোপিত গাছগুলোর পরিচর্যা করে। আমরা আশা করি, খুলনা জেলা ছাত্র কল্যাণ সমিতির এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ভবিষ্যতেও ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত থাকবে।"
খুলনা জেলা ছাত্র কল্যাণ সমিতির উপদেষ্টা প্রফেসর ড. আব্দুল গফুর গাজী বলেন, "খুলনা জেলা ছাত্র কল্যাণ সমিতির এই মহতী ও পরিবেশবান্ধব উদ্যোগকে আমরা আন্তরিকভাবে সাধুবাদ জানাই। একই সঙ্গে প্রত্যাশা করি, এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির ধারাবাহিকতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং পরিবেশের সুরক্ষা ও সবুজ ক্যাম্পাস গড়ার লক্ষ্যে সংগঠনটি আরও ব্যাপকভাবে এমন জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করবে।"
জেলা কল্যাণের সভাপতি সাজ্জাতুল্লাহ শেখ বলেন, "আমার দীর্ঘদিনের পর্যবেক্ষণে ক্যাম্পাস, কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ এলাকায় আমরা বিলাতি গাব গাছ দেখিনি। অথচ এই গাছটি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং এর ফল খুবই সুস্বাদু। তাই খুলনা থেকে আমরা এই বিলাতি গাব গাছ এনেছি। ক্যাম্পাসের পরিবেশ রক্ষা ও সুস্বাদু এই ফল মানুষ ও পশু-পাখির আহারের জন্য আমরা এই গাছ লাগিয়েছি। আমরা আশাবাদী এ বৃক্ষ আশেপাশের এলাকায় ছড়িয়ে যাবে এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও মানুষের কল্যাণে কাজে আসবে। আমাদের বৃক্ষরোপন কর্মসূচি এখানেই শেষ নয়। পরবর্তীতে এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।"