মোস্তাফিজুর রহমান শুভ, মোজাম্মেল হেসেন আবির, নাঈম ভূঁইয়া
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে ‘প্রথম জুলাই প্রতিরোধ দিবস’। দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠনগুলোর প্রতিনিধিরা ক্যাম্পাসের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের অধিকার, আবাসন, পরিবহন, ছাত্রসংসদ নির্বাচনসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দাবি উত্থাপন করেন।
রোববার (১২ জুলাই) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে ‘প্রতিরোধ দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় ছাত্ররাজনৈতিক সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিরা এসব দাবি তুলে ধরেন।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা শিক্ষার্থীবান্ধব ক্যাম্পাস গড়ে তোলা এবং শিক্ষার্থীদের মৌলিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ৬ দফা দাবি জানায়। দাবিগুলো হলো: শিক্ষার্থীবান্ধব ক্যাম্পাস বিনির্মাণ, বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়াম নির্মাণ, নির্মাণাধীন নতুন ক্যাম্পাস ও বর্তমান ক্যাম্পাসের মধ্যে সংযোগ সড়ক নির্মাণ, হল-সংশ্লিষ্ট ফি কমানো, আবাসিক হলের খাবারের মানোন্নয়ন এবং খাবারে ভর্তুকি প্রদান।
ইসলামী ছাত্রশিবির, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল ক্যাম্পাস নিশ্চিত করতে ৫ দফা দাবি উত্থাপন করে। দাবিগুলো হলো: জুলাইয়ে কুবি শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় জড়িতদের বিচার নিশ্চিত করা, পরিবহন সমস্যার স্থায়ী সমাধান, সহাবস্থানমূলক ক্যাম্পাস নিশ্চিত করা, আবাসিক হলের সিট বণ্টন নীতিমালা স্পষ্ট করা এবং ছাত্রসংসদ নির্বাচন আয়োজন।
জাতীয় ছাত্রশক্তি, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ভাবনা ও ছাত্ররাজনীতির সংস্কারের বিষয়ে ৪ দফা দাবি পেশ করে। দাবিগুলো হলো: ছাত্রসংসদ নির্বাচন, ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’ নির্মাণ, ছাত্ররাজনীতির কাঠামোগত পরিবর্তন এবং শিক্ষার্থী উদ্যোক্তাদের জন্য নির্দিষ্ট স্থান বরাদ্দ।
ইসলামী ছাত্রশিবির, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মোজাম্মেল হোসেন আবির বলেন, ১১ জুলাইকে ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিরোধ দিবস’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ায় প্রশাসন প্রশংসার দাবিদার। তবে জুলাইয়ের চেতনা ধারণ করে বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের পাশাপাশি ১১ জুলাই শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।
জাতীয় ছাত্রশক্তি, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নাইম ভূঁইয়া বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস সংরক্ষণের জন্য দ্রুত জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও প্রতিরোধ দিবসের স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা প্রয়োজন। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত ও নেতৃত্ব বিকাশের লক্ষ্যে দ্রুত কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (কুকসু) নির্বাচন আয়োজনের আহ্বান জানান তিনি।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান শুভ বলেন, ২০২৪ সালের ১১ জুলাই কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনা পরবর্তী সময়ে দেশব্যাপী জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। তিনি বলেন, ওই দিনের প্রতিরোধকে সরকার ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন স্বীকৃতি দিয়েছে। বর্তমান প্রশাসনের সময়ে বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের একই মঞ্চে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হওয়াকে তিনি ইতিবাচক উল্লেখ করে শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি বাস্তবায়ন এবং শিক্ষার্থীবান্ধব, নিরাপদ ও সহাবস্থানভিত্তিক ক্যাম্পাস গড়ে তুলতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) ছাত্রদলের দুই পক্ষের সংঘর্ষের ভিডিও ধারণকালে দৈনিক কালের কণ্ঠ-এর মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার সাদমান রাকিনের মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়াম ভবনের পূর্ব পাশে ছাত্রদলের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় পেশাগত দায়িত্বের অংশ হিসেবে সংঘর্ষের ভিডিও ধারণ করছিলেন সাংবাদিক সাদমান রাকিন। সংঘর্ষের সময়ই তাঁর কাছ থেকে মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটে।
ঘটনার একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ছাত্রদল কর্মী ও আইন বিভাগের ১৯তম আবর্তনের শিক্ষার্থী খান মোহাম্মদ রোম্মান লাঠি হাতে দৌড়ে এসে ভিডিও ধারণরত সাংবাদিক সাদমান রাকিনের কাছ থেকে মোবাইল ফোনটি কেড়ে নেন। এরপর ভিডিও ধারণ বন্ধ হয়ে যায়।
এ বিষয়ে সাংবাদিক সাদমান রাকিন বলেন, আমি পেশাগত দায়িত্ব পালন করে সংঘর্ষের ভিডিও ধারণ করছিলাম। এসময় খান মোহাম্মদ রোম্মান লাঠি হাতে আমার দিকে এগিয়ে এসে জোরপূর্বক আমার মোবাইল ফোনটি কেড়ে নেন। এতে আমি সংবাদ সংগ্রহে বাধাগ্রস্ত হই। একজন সাংবাদিকের কাছ থেকে এভাবে মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া এবং সংবাদ সংগ্রহে বাধা দেওয়া অত্যন্ত অনাকাঙ্ক্ষিত ও স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিপন্থী।
পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে একজন সাংবাদিকের কাছ থেকে মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া এবং সংবাদ সংগ্রহে বাধা দেওয়ার ঘটনায় সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসে স্বাধীনভাবে সংবাদ সংগ্রহের পরিবেশ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) ভাষা শহীদ আবদুস সালাম হল ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মালেক উকিল হলে ছাত্রদলের দু’পক্ষের মধ্যে সংঘটিত সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর তদন্তে গঠিত কমিটি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দীনের নেতৃত্বে কমিটির সদস্যরা হল দুটির বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করেন। এ সময় তারা সংশ্লিষ্ট স্থানগুলো ঘুরে দেখেন এবং ঘটনার বিষয়ে প্রাথমিকভাবে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করেন।
এর আগে ১৮ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দপ্তরের এক অফিস আদেশে ভাষা শহীদ আবদুস সালাম হল ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মালেক উকিল হলে ছাত্রদলের দু’পক্ষের মধ্যে সংঘটিত সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত ও বিস্তারিত প্রতিবেদন দিতে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠনের কথা জানানো হয়।
কমিটিতে আহ্বায়ক হিসেবে রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দীন। সদস্য হিসেবে রয়েছেন বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মহিনুজ্জামান এবং সদস্য-সচিব হিসেবে রয়েছেন প্রক্টর অধ্যাপক এ এফ এম আরিফুর রহমান। অফিস আদেশে কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
পরিদর্শনকালে তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দীন বলেন, “আমরা ঘটনাস্থল সরেজমিনে পরিদর্শন করেছি। ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় পর্যবেক্ষণ ও তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করছি। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা ও ক্ষয়ক্ষতির বিষয়গুলো তুলে আনা হবে। সবার বক্তব্য ও প্রাসঙ্গিক তথ্য যাচাই করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে জমা দেওয়া হবে।”
এদিকে, দুই হলের সিসিটিভি ফুটেজ যাতে কেউ নষ্ট বা পরিবর্তন করতে না পারে, সে জন্য পরিদর্শনকালে হল দুটির প্রভোস্টের কক্ষ সিলগালা করে রাখা হয়।
তদন্ত কমিটি সংশ্লিষ্ট ঘটনাগুলোর প্রকৃত কারণ, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের ভূমিকা এবং সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে প্রতিবেদন দেবে বলে জানা গেছে।
সাম্প্রতিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
শাহ বিলিয়া জুলফিকার ও ‘ভাইভা বুস্টার: দ্য ফাইনাল রাউন্ড’
ফেনী ইউনিভার্সিটির স্থায়ী ক্যাম্পাসের মূল ভবনের নির্মাণকাজ শুরু
সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করে অবশেষে ফেনী ইউনিভার্সিটির স্থায়ী ক্যাম্পাসের মূল ভবনের নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) ফেনী সদর উপজেলার শর্শদী ইউনিয়নের নোয়াবাদ এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রস্তাবিত স্থায়ী ক্যাম্পাসে বিশেষ দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের মাধ্যমে এই নির্মাণকাজের শুভ উদ্বোধন করা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ফেনী ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজ (BoT)-এর সম্মানিত সদস্য ও প্রজেক্ট কমিটির কনভেনার আলতাফ হোসেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর (অ্যাক্টিং) ড. মাসুদুল হক চৌধুরী, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ড. মোহা. মোস্তাফিজুর রহমান, রেজিস্ট্রার ড. মোহাম্মদ জহিরুল হক এবং প্রজেক্ট ইঞ্জিনিয়ার মো. জালাল আহমেদ।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যানবৃন্দ, প্রক্টর, ছাত্র উপদেষ্টা, শিক্ষক এবং কর্মকর্তাবৃন্দ।
দোয়া ও মিলাদ মাহফিল শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাসের মূল ভবনের নির্মাণকাজ দ্রুততম সময়ে এবং নির্ধারিত গুণগত মান বজায় রেখে সম্পন্ন করার আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়। একইসাথে সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা ও আন্তরিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে প্রকল্পটি সফলভাবে বাস্তবায়নের প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।
উল্লেখ্য, ফেনী সদর উপজেলার শর্শদী ইউনিয়নের নোয়াবাদ এলাকায় ফেনী ইউনিভার্সিটির স্থায়ী ক্যাম্পাস প্রকল্পের প্রাথমিক কার্যক্রম ২৮ আগস্ট ২০২৫ তারিখে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মাধ্যমে শুরু হয়। পরবর্তীতে ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে জমির উন্নয়ন ও অন্যান্য প্রস্তুতিমূলক কাজ শুরু হয়। সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ার পর আজ ১৮ আগস্ট ২০২৬ তারিখে মূল ভবনের নির্মাণকাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো। প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে এখানে একটি ৭ তলা বিশিষ্ট আধুনিক ভবন নির্মাণ করা হবে।
নভেম্বর ২০১২-এ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)-এর অনুমোদন লাভের পর ১৫ মে ২০১৩ তারিখে ‘সেন্টার ফর লার্নিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট’ স্লোগানকে সামনে রেখে ফেনী ইউনিভার্সিটি তার একাডেমিক কার্যক্রম শুরু করে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে উচ্চশিক্ষা, গবেষণা ও দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নে বিশ্ববিদ্যালয়টি ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
বর্তমানে ফেনী ইউনিভার্সিটিতে ৩টি অনুষদ, ৮টি বিভাগ, ফেনী ইউনিভার্সিটি রিসার্চ সেল এবং ইন্সটিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সেল (আইকিউএসি) -এর কার্যক্রম সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে। স্থায়ী ক্যাম্পাসের নতুন এই মূল ভবন নির্মাণের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রমের পরিধি আরও সম্প্রসারিত হবে এবং শিক্ষার্থীদের জন্য একটি পরিবেশবান্ধব ও আধুনিক শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত হবে।
নোবিপ্রবি ছাত্রদল।
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি) শাখা ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদ। একই সঙ্গে শিগগিরই বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নতুন কমিটি ঘোষণা করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছিরের অনুমোদনক্রমে সংগঠনটির পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হলো। শিগগিরই উক্ত ইউনিটের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হবে।
কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক (সহ-সভাপতি পদমর্যাদা) মোঃ জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, নোবিপ্রবি ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণার বিষয়টি এমন সময়ে এলো, যখন মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) গভীর রাতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের সংবাদ সংগ্রহের সময় দুই সাংবাদিকের ওপর হামলা ও হেনস্তার অভিযোগও ওঠে। এ ঘটনায় ক্যাম্পাসের সাংবাদিকদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করছেন কুবি উপাচার্য
শিক্ষা, গবেষণা, উদ্ভাবন, দক্ষতা উন্নয়ন, ইন্টার্নশিপ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) ‘রাউন্ডটেবিল অন ইন্ডাস্ট্রি-অ্যাকাডেমিয়া কোলাবোরেশন ইনিশিয়েটিভস’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক ও সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুর আড়াইটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ক্যাম্পাসে উপাচার্যের বাসভবনে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য আব্দুল্লাহ-আল-মামুন। প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম। প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিন। এ ছাড়া বৈঠকে ৪২টি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
বৈঠকে বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপের সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি চাকরিতে কুবি শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানান। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে ল্যাব সুবিধা বিনিময়েরও প্রতিশ্রুতি দেন তারা। এছাড়া, শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও যুগোপযোগী করতে কারিকুলাম পুনর্বিন্যাসের পাশাপাশি বাস্তবমুখী ও কর্মসংস্থান উপযোগী বিষয় চালুর পরামর্শ দেন তারা।
বৈঠক শেষে ছয়টি প্রতিষ্ঠান কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করে। এ ছাড়া আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ভবিষ্যতে এমওইউ স্বাক্ষরে সম্মতি জানায়।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করিম বলেন, ‘আমাদের এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীদের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলা। আমরা শুরু থেকেই ‘স্টুডেন্ট ফার্স্ট’ নীতিতে কাজ করার কথা বলে আসছি। বিশ্ববিদ্যালয় ও ইউজিসির উৎসাহেই আজকের এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আজ ৪২টি প্রতিষ্ঠান আমাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ছয়টি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আমরা সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করেছি। এসব এমওইউর মূল উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপ ও চাকরির সুযোগ তৈরি করা, ফ্যাকাল্টি এক্সচেঞ্জ, পারস্পরিক চাহিদা ও প্রয়োজনীয়তা নিয়ে কাজ করা এবং উভয় প্রতিষ্ঠানের ল্যাব পারস্পরিকভাবে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করা।’
তিনি আরও বলেন, ‘আজ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এমওইউ হয়েছে, সামনে আরও হবে। আজ ইউজিসির সদস্য জানিয়েছেন, দুই মাস পর এ উদ্যোগের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হবে। আমরা কতটুকু করতে পেরেছি, তা দেখা হবে। আমরা অবশ্যই আমাদের মূল লক্ষ্য, অর্থাৎ দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি এবং কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কর্মযোগ্যতা ও আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে কাজ করে যাব।’
ইউজিসির সদস্য আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘বর্তমান সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি মানবসম্পদ উন্নয়ন। এর অন্যতম অনুষঙ্গ হলো একাডেমিয়া-ইন্ডাস্ট্রির মধ্যে কার্যকর সম্পর্ক তৈরি করা। আমরা আশা করি, বিশ্ববিদ্যালয়ের তত্ত্বাবধানে যেসব সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হচ্ছে, সেগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হবে এবং এমওইউর উদ্দেশ্যের কোনো ব্যত্যয় ঘটবে না, তা নিশ্চিত করা হবে। একই সঙ্গে আমরা যে জব লার্নিং পিরিয়ড নির্ধারণ করেছি, বিশ্ববিদ্যালয় ও একাডেমিয়া-ইন্ডাস্ট্রির সম্পর্কের মাধ্যমে সেটিও যেন ফলপ্রসূ হয়, সেটিই আমাদের প্রত্যাশা।’
তিনি বলেন, ‘কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে এ ধরনের আয়োজন এবারই প্রথম। তবে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে এটি এ ধরনের ১২তম আয়োজন।’
উল্লেখ্য, ৪২টি প্রতিষ্ঠান বৈঠকে অংশ নিলেও এমওইউ স্বাক্ষর করেছে ছয়টি প্রতিষ্ঠান। স্বাক্ষরকারী প্রতিষ্ঠানগুলো হলো স্মার্ট সলিউশন, বাংলাদেশ স্মল অ্যান্ড কটেজ ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিক), ড্যাপকো ভেঞ্চারস লিমিটেড, সুপ্রিম ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড, উইডেভস অ্যান্ড উইল্যাব এবং ফ্লোরিনা কসমেটিকস।