• প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:২২ পিএম

জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, ইসলামী ছাত্রশিবির ও জাতীয় ছাত্রশক্তির ঘোষিত কর্মসূচিকে ঘিরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা জোরদার করেছে প্রশাসন। 


বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ক্যাম্পাসের ভেতরে সব ধরনের সভা-সমাবেশ ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।




বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়ানো, বহিরাগতদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বৈধ পরিচয়পত্র ছাড়া কোনো শিক্ষার্থীকে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না।


সকাল থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসহ বিভিন্ন প্রবেশপথে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, নিরাপত্তাকর্মী ও প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যদের দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে। প্রবেশের সময় শিক্ষার্থীদের পরিচয়পত্র যাচাই করা হচ্ছে।


অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা জবি ছাত্রদলের


এদিকে কর্মসূচিকে ঘিরে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের ক্যাম্পাসে অবস্থান করতে দেখা গেছে। ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা শহীদ মিনার, ভাষাশহীদ রফিক ভবন, অবকাশ ভবন ও ভাস্কর্য চত্বরে অবস্থান নিয়েছেন। ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা অবকাশ ভবনের জকসু কক্ষে অবস্থান করছেন।


জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সংসদের (জকসু) প্রতিনিধিরা উপাচার্য অধ্যাপক মো. রইস উদদীনের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য প্রশাসনিক ভবনে অপেক্ষা করছেন বলে জানা গেছে।



সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৪ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৪:২৮ পিএম

ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস ও জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) মশক নির্মূল অভিযান ও ডেঙ্গু সচেতনতামূলক র‍্যালির আয়োজন করেছে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি) বাকৃবি প্লাটুন। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৫টায় এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।



উক্ত র‍্যালিতে উপস্থিত ছিলেন, প্লাটুন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট অধ্যাপক এ কে এম রফিকুল ইসলাম, পিইউও বাকৃবি প্লাটুন ও সহকারী অধ্যাপক মো: তারিকুল ইসলাম, সামরিক প্রশিক্ষক সার্জেন্ট আতোয়ার রহমান এবং কর্পো: পাপেল মাহমুদসহ বাকৃবি বিএনসিসি সদস্যবৃন্দ।


আয়োজকরা জানান, দেশব্যাপী ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব রোধ এবং এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের লক্ষ্যে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। একই সঙ্গে ডেঙ্গু প্রতিরোধে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই আয়োজন।


সহকারী অধ্যাপক তারিকুল ইসলাম বলেন , বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি) অধিদপ্তরের নির্দেশনায় দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও জনসচেতনতা কর্মসূচির অংশ হিসেবে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় বিএনসিসি প্লাটুন এ র‍্যালি ও মশক নিধন অভিযানের আয়োজন করেছে। এর মূল লক্ষ্য ডেঙ্গুর ভয়াবহতা সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করা এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা। ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি ব্যক্তিগত ও সামাজিক সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও সামাজিক কল্যাণে বিএনসিসির এই উদ্যোগের মাধ্যমে ডেঙ্গুমুক্ত সমাজ গঠনে সচেতনতা বাড়বে বলে আশা করছি ।


অধ্যাপক এ কে এম. রফিকুল ইসলাম বলেন আমাদের মূল লক্ষ্য হলো দেশের যেকোনো প্রতিকূল পরিস্থিতিতে এবং দুর্যোগের সময় স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং যুদ্ধের মতো পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনীর সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করা।


তিনি আরও বলেন আজকের এই র‍্যালির আয়োজন করা হয়েছে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য। মশার কামড় থেকে হওয়া এই রোগটি রুখতে হলে জনসচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য আজকের এই র‍্যালির আয়োজন করা হয়েছে।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৪ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৪:১৯ পিএম

বাংলাদেশ সোসাইটি ফর ভেটেরিনারি এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চের (বিএসভিইআর) ২০২৬-২৭ সালের কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়েছে। নবগঠিত কমিটিতে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন বাকৃবির ভেটেরিনারি অনুষদের ডিন ও ডিন কাউন্সিলের আহবায়ক অধ্যাপক ড. মোঃ বাহানুর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন প্যারাসাইটোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম।


কমিটিতে সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি এন্ড এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিভাসু) মেডিসিন এন্ড সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক এবং ওয়ান হেলথ ইনস্টিটিউটের পরিচালক ড. মো. আহসানুল হক। কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. আনিসুর রহমান। যুগ্ম সচিব হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি এন্ড এনিম্যাল সায়েন্সের অধ্যাপক ড. মোইজুর রহমান।


এছাড়া কমিটিতে সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন বাকৃবির ফিজিওলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহা. ইলিয়াছুর রহমান ভূঁইয়া, সার্জারি ও অবস্টেট্রিক্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মোঃ মাহমুদুল আলম, এনাটমি ও হিস্টোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রবিউল করিম, প্যাথলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. রোখসানা পারভীন, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিকৃবি) মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মুকতার হোসেন, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের (ডিএলএস) পরিচালক (পরিকল্পনা) ড. মোহাম্মদ বজলুর রহমান, বাকৃবির ফার্মাকোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. ফাতেমা আক্তার এবং হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. আতীকুল হক। এছাড়া এক্স-অফিসিও সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন বাকৃবির মাইক্রোবায়োলজি অ্যান্ড হাইজিন বিভাগের অধ্যাপক ড. সুকুমার সাহা।

সর্বশেষ সব খবর

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৪ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১:০৯ পিএম

‎নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) কর্তৃক প্রণীত নিয়োগ নীতিমালা অমান্য করে শিক্ষক নিয়োগের অভিযোগ উঠেছে। সদ্য সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইসমাইল, সাবেক উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রেজওয়ানুল হকসহ পাঁচ শিক্ষক-কর্মকর্তাকে বক্তব্য দেওয়ার জন্য তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আগামী বুধবার (১৯ আগস্ট) তাদের দুদকের নোয়াখালী কার্যালয়ে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে।

‎দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, নোয়াখালী থেকে গত ১১ আগস্ট জারি করা এক নোটিশে সংশ্লিষ্ট পাঁচজনকে আগামী ১৯ আগস্ট নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত হয়ে অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য দেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত হয়ে বক্তব্য দিতে ব্যর্থ হলে অভিযোগ-সংক্রান্ত বিষয়ে তাঁদের কোনো বক্তব্য নেই মর্মে গণ্য করা হবে বলে জানিয়েছে দুদক।

‎দুদকের নোটিশ অনুযায়ী, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন কর্তৃক প্রণীত নিয়োগ নীতিমালা অমান্য করে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগটি অনুসন্ধানাধীন রয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধানপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য একজন অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তাকেও নিয়োগ করা হয়েছে।

‎নোটিশে বলা হয়, সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্মকর্তাদের বক্তব্য গ্রহণ করা প্রয়োজন। এ জন্য তাঁদের জাতীয় পরিচয়পত্রসহ নির্ধারিত তারিখ ও সময়ে দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, নোয়াখালীতে উপস্থিত হয়ে অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তার কাছে বক্তব্য দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

‎দুদকের তলব করা অন্যরা হলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ তামজিদ হোসাইন চৌধুরী, আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. জামশেদুল ইসলাম, একই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শ্রাবন্তী দত্ত।

‎নোটিশে দেওয়া সূচি অনুযায়ী, ১৯ আগস্ট সকাল ১০টায় মো. জামশেদুল ইসলাম, সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে প্রাবন্তী দত্ত, বেলা ১১টায় অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রেজওয়ানুল হক, ১১টা ১৫ মিনিটে অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইসমাইল এবং ১১টা ৩০ মিনিটে মোহাম্মদ তামজিদ হোসাইন চৌধুরীকে উপস্থিত হতে বলা হয়েছে।

‎এ বিষয়ে নোটিশে অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা বলা হয়নি। দুদকের অনুসন্ধানের মাধ্যমে অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

‎উল্লেখ্য, নোবিপ্রবিতে শিক্ষক নিয়োগসংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগে এর আগেও দুদকের অনুসন্ধান ও অভিযান হয়েছে। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগের পর দুদক তথ্য সংগ্রহ করেছিল।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১৩ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ২:৩৫ পিএম

এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের নবম জাতীয় পে-স্কেলে অন্তর্ভুক্তি, চাকরি জাতীয়করণ, শতভাগ উৎসব ভাতা ও সরকারি নিয়মে বাড়িভাড়াসহ ১০ দফা দাবি বাস্তবায়নে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে শিক্ষক-কর্মচারী চাকরি জাতীয়করণ জোট ও অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারী সমন্বিত ফোরাম।


আগামী ৩১ আগস্টের মধ্যে দাবিগুলো পূরণের আল্টিমেটাম দিয়ে সংগঠনটি জানিয়েছে, দাবি বাস্তবায়ন না হলে সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে বিভাগীয় সমাবেশসহ বৃহত্তর আন্দোলনে যাবে শিক্ষক-কর্মচারীরা।


বুধবার (১২ আগস্ট) জাতীয় প্রেস ক্লাবের আব্দুস সালাম হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।


সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা জসিম উদ্দিন আহমদ লিখিত বক্তব্যে বলেন, বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরি জাতীয়করণ ছাড়া শিক্ষাক্ষেত্রে বৈষম্য পুরোপুরি দূর করা সম্ভব নয়। একই সঙ্গে জাতীয়করণের আগে শিক্ষক-কর্মচারীদের ন্যায্য ১০ দফা দাবি বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।


যেসব দবি:

সংগঠনটির ১০ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের পাওনা অর্থ প্রচলিত নিয়ম ও বিধি অনুযায়ী প্রদান, বৈষম্য নিরসনে বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরি জাতীয়করণ, দ্রুত বদলির ব্যবস্থা, শতভাগ উৎসব ভাতা এবং সরকারি নিয়মে বাড়িভাড়া প্রদান।


এ ছাড়া শিক্ষক নিয়োগে এনটিআরসিএর পরিবর্তে পিএসসি-২ ব্যবস্থা চালু, স্বীকৃতিপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে এমপিওভুক্ত করা, ১ম থেকে ১২তম নিবন্ধনধারীদের নিয়োগের ব্যবস্থা, চাকরির বয়সসীমা ৬৫ বছরে উন্নীত করা এবং নৈশপ্রহরীদের প্রচলিত নিয়মে ছুটির পাশাপাশি দ্বিতীয় নৈশপ্রহরী নিয়োগের দাবি জানানো হয়েছে।


অবসর সুবিধা নিয়ে প্রশ্ন:

সংবাদ সম্মেলনে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের কল্যাণ ও অবসর সুবিধার অর্থ নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়। জসিম উদ্দিন আহমদ বলেন, নতুন ব্যবস্থায় আবেদনকারীদের নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলেও অতীতে সর্বশেষ বেতনের ভিত্তিতে কল্যাণ ও অবসর সুবিধা দেওয়ার বিধান ছিল। ফলে বর্তমান ব্যবস্থায় কেন নির্দিষ্ট অঙ্ক নির্ধারণ করা হচ্ছে—এ প্রশ্নের জবাব চান তিনি।


তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের শুধু জমাকৃত অর্থ ফেরত দেওয়ার আলোচনা রয়েছে—এমন খবরে শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এ বিষয়ে সরকারের সুস্পষ্ট অবস্থান প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।


‘জাতীয়করণই বৈষম্য দূর করার পথ’:

সংগঠনের নেতারা বলেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার বড় একটি অংশ বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরশীল হলেও এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা এখনও নানা ক্ষেত্রে সরকারি শিক্ষকদের তুলনায় বৈষম্যের শিকার। বেতন-ভাতা, বাড়িভাড়া, উৎসব ভাতা, বদলি, অবসর সুবিধা ও চাকরির নিরাপত্তায় বৈষম্য রয়েছে বলে দাবি করেন তারা।


তাদের মতে, শুধু সাময়িক ভাতা বৃদ্ধি নয়, দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য বেসরকারি শিক্ষা জাতীয়করণ প্রয়োজন। এতে শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরির নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষাক্ষেত্রের বৈষম্যও কমবে।


সরকারের প্রতি আস্থার পাশাপাশি অসন্তোষ:

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা সরকারের শিক্ষা খাতে বরাদ্দ ও শিক্ষক-কর্মচারীদের কল্যাণে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করলেও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তাদের অভিযোগ, সরকারের সঙ্গে শিক্ষক-কর্মচারীদের দূরত্ব তৈরি হওয়ার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হচ্ছে।


নেতারা বলেন, সরকার শিক্ষক-কর্মচারীদের ন্যায্য দাবি বাস্তবায়নে উদ্যোগী হলে তারা সরকারের প্রতি আরও আস্থাশীল হবেন। কিন্তু ঘোষিত বিভিন্ন সুবিধা বাস্তবায়নে বিলম্ব হলে মাঠপর্যায়ে অসন্তোষ বাড়বে।


৩ দফা কর্মসূচি ঘোষণা:

৩১ আগস্টের মধ্যে ১০ দফা দাবি বাস্তবায়ন না হলে তিন দফা কর্মসূচি পালন করবে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।


প্রথমত, আগামী ১০ দিনের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ১০ সদস্যের শিক্ষক প্রতিনিধিদলের সাক্ষাতের ব্যবস্থা করার দাবি জানানো হয়েছে।


দ্বিতীয়ত, সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে বিভাগীয় পর্যায়ে সমাবেশ করে দাবির পক্ষে জনমত গড়ে তোলা হবে।


তৃতীয়ত, দল-মত নির্বিশেষে দেশের শিক্ষক-কর্মচারীদের নিয়ে সংগ্রাম কমিটি গঠন করে বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।


‘আন্দোলন আরও বিস্তৃত হতে পারে’:

সংগঠনের নেতারা বলেন, শিক্ষক-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের বেতন-ভাতা, চাকরির নিরাপত্তা ও অবসর সুবিধার সমস্যার স্থায়ী সমাধান না হলে আন্দোলন আরও বিস্তৃত হতে পারে। তাদের ভাষ্য, শিক্ষক সমাজকে শুধু আশ্বাস দিয়ে নয়, বাস্তব সিদ্ধান্ত ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে আস্থা অর্জন করতে হবে।


তারা আরও বলেন, বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের জাতীয় পে-স্কেলে অন্তর্ভুক্তি এবং চাকরি জাতীয়করণের বিষয়টি এখন আর বিচ্ছিন্ন কোনো দাবি নয়; এটি শিক্ষাব্যবস্থার বৈষম্য দূর করার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।


সংবাদ সম্মেলনে মতিউর রহমানের সঞ্চালনায় সভাপতিত্ব করেন জসিম উদ্দিন আহমদ। এ সময় অধ্যাপক মনজুরুল ইসলাম, মো. আলী, নূর মোহাম্মদ খোকন, হাসিম তালুকদার, লুৎফর ইসলাম, ইউসুফ ও ঝর্ণা বিশ্বাসসহ শিক্ষক-কর্মচারী নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

বিষয় :

সর্বশেষ সব খবর

গ্রেপ্তার জীবন। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বুধবার ১২ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৭:০৮ পিএম

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনের ওয়াশরুমে ৫০০ টাকা ও মোবাইল ফোন দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এক শিশুকে বলাৎকারের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জীবন নামে এক ভ্যানচালককে গ্রেপ্তার করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানা পুলিশ।


বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত ব্যক্তি ঘটনার কথা স্বীকার করেছেন।


প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানান, ভুক্তভোগী শিশুটি একটি ইজিবাইকে করে যাচ্ছিল এবং অভিযুক্ত জীবন নিজের ভ্যানে করে যাচ্ছিলেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন মহাসড়কের পাশে নাজমুল ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপের সামনে তাদের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা ও মোবাইল ফোন নিয়ে টানাটানি হয়। 


শিশুটি প্রথমে জানায়, জীবন (অভিযুক্ত) তার মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। পরে স্থানীয়রা শিশুটিকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে জানায়, মোবাইল ফোন ও ৫০০ টাকার প্রলোভন দেখিয়ে জীবন তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মিলনায়তনের ওয়াশরুমে নিয়ে গিয়ে বলাৎকার করেছেন। কথা অনুযায়ী, ৫০০ টাকা দিলেও তবে মোবাইল ফোন না দেওয়ায় সেটি নিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন বলে শিশুটি জানায়।


খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ভুক্তভোগী শিশুটি ক্যাম্পাসে ভিক্ষা করে। অন্যদিকে অভিযুক্ত জীবন ক্যাম্পাসসংলগ্ন এলাকায় ভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। তার বাড়ি কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার স্টেশন মোড় এলাকায় বলে জানা গেছে। 


পুলিশ জানিয়েছে, শান্তিডাঙ্গা এলাকায় আরেক শিশুর ওপর যৌন নির্যাতনের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তবে এ অভিযোগের সত্যতা তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যাচাই করা হবে।


ঘটনার পর ভুক্তভোগী শিশুটিকে চিকিৎসার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া হয়। পরে পুলিশের মাধ্যমে তাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়। তার শারীরিক পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।


বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. তাহমিদা আফরিন (তনু) বলেন, ভুক্তভোগী ছেলে শিশু। প্রাথমিকভাবে পরীক্ষা করে এ ধরনের ঘটনার বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার সুযোগ নেই। যেহেতু এটি পুলিশ কেস, তাই পুলিশের অনুমতি ছাড়া কোনো পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব নয়। পুলিশকে খবর দিলে তারা এসে শিশুটিকে নিয়ে যায়। পরবর্তী পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে ঘটনার বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে।


বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহিনুজ্জামান বলেন, ঘটনাটি জানার পর তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে জানানো হয়েছে। টাকা ও মোবাইল ফোনের প্রলোভন দেখিয়ে এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে জানা গেছে। ভুক্তভোগী ও অভিযুক্ত দুজনই ক্যাম্পাসের বাইরের হওয়ায় তাদের পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং আইনগত ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।


বন্ধের দিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি স্থানে এমন ঘটনা কীভাবে ঘটল এ বিষয়ে প্রক্টর বলেন, আমাদের নিরাপত্তাকর্মীর সংখ্যা কম থাকায় দিনের বেলায় সেখানে কোনো আনসার সদস্য রাখা হয় না। সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত আনসার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন। তবে এখন থেকে ওই স্থানের গেটে তালা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে এবং সংশ্লিষ্টদের কাছে চাবি হস্তান্তর করা হবে।


ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাসুদ রানা বলেন, ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা যাচাইয়ের পর অভিযুক্তকে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ঘটনার কথা স্বীকার করেছেন। ভুক্তভোগী শিশুটিকে চিকিৎসকের কাছে পাঠানো হচ্ছে। দ্রুত তার শারীরিক পরীক্ষা এবং ধর্ষণের আলামত ও ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


তিনি আরও বলেন, ভভুক্তভোগী শিশুটির পরিবারের সদস্যদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। পরিবারকে পাওয়া গেলে তাদের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করা হবে। অন্যথায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করবে।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বুধবার ১২ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৬:৫৬ পিএম

সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে ঢাকা কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জুলহাস মৃধাসহ পাঁচ নেতাকে সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদ।


বুধবার (১২ আগস্ট) বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের দপ্তর সম্পাদক (সহসভাপতি পদমর্যাদা) মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।


বহিষ্কৃতরা হলেন—ঢাকা কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জুলহাস মৃধা, প্রাথমিক সদস্য পদ ও যুগ্ম আহ্বায়ক সুমন শিকদার, প্রিন্স খন্দকার, সদস্য সাগর খান এবং মির্জা গোলাম রায়হান।


প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তাদের সংগঠনের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।


এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির।

সর্বশেষ সব খবর