বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়ক অবরোধ করেছেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) শিক্ষার্থীরা।
রোববার (৯ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে শিক্ষার্থীরা এ অবরোধ করেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অবরোধ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তারা।
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি)-সংলগ্ন ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কের দপদপিয়া ব্রিজে বাস ও মাহিন্দ্রর মুখোমুখি সংঘর্ষে একজন নিহত ও ববি শিক্ষার্থীসহ অন্তত চারজন আহত হওয়ার ঘটনায় তারা এ অবরোধ করেন।
দুর্ঘটনায় আহত ববি শিক্ষার্থী ইয়াসিন আরাফাত বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন মহাসড়কের বেহাল অবস্থা ও যানবাহনের বেপরোয়া চলাচলের কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। বারবার দাবি জানানো হলেও স্থায়ীভাবে সড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়নি। দ্রুত সড়ক সংস্কারসহ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না হলে আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে।
ববি শিক্ষার্থী সিরাজুল ইসলাম বলেন, একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের মহাসড়ক এভাবে থাকতে পারে না। একটা জীবন গেলে প্রশাসনের টনক নড়ে, তারপর কিছুদিন নীরব থাকে। আবার ঘটনা ঘটলে প্রশাসন সক্রিয় হয়। এভাবে আমাদের শুধু আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের চার দফা দাবি হলো—আহত শিক্ষার্থী ইয়াসিন আরাফাতের সম্পূর্ণ চিকিৎসা ব্যয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বহন করতে হবে। দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের মহাসড়কে পিচ ঢালাই করতে হবে, বিশেষ করে দপদপিয়া ব্রিজের সড়ক সংস্কার করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই পাশে দ্রুত ফুটপাত নির্মাণ করতে হবে। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রূপাতলী পর্যন্ত সার্বক্ষণিক বাস সার্ভিস চালু করতে হবে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহকারী প্রক্টর ড. গাজী মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে সব দাবি-দাওয়া বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যত দ্রুত সম্ভব মেনে নেবে। আমরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বসে আলোচনা করব এবং কীভাবে দ্রুত সময়ের মধ্যে সমস্যাগুলোর সমাধান করা যায়, সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে শিক্ষার্থীদের মহাসড়ক অবরোধের ফলে বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকরা।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপার্সন প্রায়ত বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ শনিবার (১৫ আগস্ট) বাদ জোহর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও শাখা ছাত্রদলের উদ্যোগে এ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন কেন্দ্রীয় মসজিদের ইমাম ও খতিব আশরাফ উদ্দীন খান।
দোয়া মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. এমতাজ হোসেন, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. ইদ্রিস আলী, প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. শাহীনুজ্জামান, ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. ওবায়দুল ইসলাম, জিয়া পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. ফারুকুজ্জামান খান, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম এবং ইউট্যাবের সেক্রেটারি অধ্যাপক ড. মো. রশিদুজ্জামান।
এছাড়া ছাত্রদল ইবি শাখার আহ্বায়ক মাসুদ রুমি মিথুন, সদস্য সচিব রাফিজ আহমেদ ও সাবেক আহ্বায়ক শাহেদ আহমেদসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি বিএনপি ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা দোয়া মাহফিলে অংশ নেন।
দোয়া মাহফিলে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেন, “দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আজ ৮২তম জন্মদিন। তাঁর পুরো জীবনটাই বাংলাদেশের মানুষ এবং গণতন্ত্রের জন্য তিনি উৎসর্গ করেছেন। স্বাধীনতার পর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে তিনি বিগত সরকারের দ্বারা নিপীড়িত, নির্যাতিত ও নিষ্পেষিত হয়েছেন। আমরা মন খুলে এই মহান ব্যক্তির জন্য মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে দোয়া করব। আল্লাহ যেন তাঁকে জান্নাত নসিব করেন।”
আন্তবিশ্ববিদ্যালয় বিতর্ক প্রতিযোগিতা ২০২৬-এ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুটেক্স) বিতর্ক দল ‘বুটেক্সডিসি বুনন’। আন্তর্জাতিক যুব দিবস উপলক্ষে প্রথম আলো বন্ধুসভা আয়োজিত এ প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটিকে হারিয়ে শিরোপা জেতে দলটি।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে প্রথম আলো কার্যালয়ে দিনব্যাপী এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিযোগিতার পাশাপাশি ‘আগামীর বাংলাদেশ: তারুণ্যের চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন ব্র্যাকের শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও মাইগ্রেশন কর্মসূচির পরিচালক সাফি রহমান খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক রাশেদা রওনক খান, ইউএনডিপি বাংলাদেশের হেড অব কমিউনিকেশন্স মো. আব্দুল কাইয়ুম, প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের চাইল্ড অ্যান্ড ইয়ুথ লিডারশিপের অ্যাডভাইজার ফারজুনী রেজা, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, ব্র্যাকের ইয়ুথ প্ল্যাটফর্ম ও মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের প্রোগ্রাম ম্যানেজার মো. আব্দুল কাদির এবং এঞ্জেলস বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও বেনজীর আরাফার। আলোচনা সঞ্চালনা করেন বন্ধুসভার বিতর্ক ও অনুষ্ঠান সম্পাদক এসএম কামরুল ইসলাম।
সংসদীয় ধারার এ প্রতিযোগিতায় প্রথম পর্বে আটটি দল অংশ নেয়। সেখান থেকে চারটি দল পরবর্তী পর্বে উন্নীত হয়। পরবর্তী পর্বের বিজয়ী দুটি দল ফাইনালে মুখোমুখি হয়। চূড়ান্ত পর্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটিকে পরাজিত করে বুটেক্সডিসি বুনন চ্যাম্পিয়ন হয়।
চ্যাম্পিয়ন দলের সদস্যরা হলেন বুটেক্সের ৪৮তম ব্যাচের ওয়েট প্রসেস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের মাহমুদুল হাসান, অ্যাপারেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সাদ আল আশরাফি এবং ডাইস অ্যান্ড কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম। ফাইনালের শ্রেষ্ঠ বিতার্কিক নির্বাচিত হয়েছেন মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম।
বুটেক্স ডিবেটিং ক্লাবের সভাপতি মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘২০২৬–২৭ কার্যনির্বাহী কমিটির এটি প্রথম সাফল্য। বড় মঞ্চে বুটেক্সকে তুলে ধরতে পারা এবং প্রতিযোগিতামূলক বিতর্কে বুটেক্স ডিবেটিং ক্লাবের জয়ের ধারা অব্যাহত রাখতে পারায় আমি গর্বিত।’
সাধারণ সম্পাদক সাদ আল আশরাফি বলেন, ‘নিজের বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রতিনিধিত্ব করে বিজয় অর্জন করা সব সময়ই গর্ব ও সৌভাগ্যের বিষয়। এই সাফল্য শুধু তিনজন বিতার্কিকের নয়; ক্লাবের সদস্য, শিক্ষক ও শুভাকাঙ্ক্ষী সবার।’
ফাইনালের শ্রেষ্ঠ বিতার্কিক মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘বুটেক্সডিসির জন্য কিছু করতে পারা সত্যিই এক অনন্য অনুভূতি। জাতীয় পর্যায়ে নিজের বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রতিনিধিত্ব করা অত্যন্ত গর্বের বিষয়।’
সমাপনী পর্বে প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্বে অংশ নেওয়া বিতার্কিক ও বিচারকদের সম্মাননা দেওয়া হয়।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস ও জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) মশক নির্মূল অভিযান ও ডেঙ্গু সচেতনতামূলক র্যালির আয়োজন করেছে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি) বাকৃবি প্লাটুন। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৫টায় এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
উক্ত র্যালিতে উপস্থিত ছিলেন, প্লাটুন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট অধ্যাপক এ কে এম রফিকুল ইসলাম, পিইউও বাকৃবি প্লাটুন ও সহকারী অধ্যাপক মো: তারিকুল ইসলাম, সামরিক প্রশিক্ষক সার্জেন্ট আতোয়ার রহমান এবং কর্পো: পাপেল মাহমুদসহ বাকৃবি বিএনসিসি সদস্যবৃন্দ।
আয়োজকরা জানান, দেশব্যাপী ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব রোধ এবং এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের লক্ষ্যে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। একই সঙ্গে ডেঙ্গু প্রতিরোধে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই আয়োজন।
সহকারী অধ্যাপক তারিকুল ইসলাম বলেন , বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি) অধিদপ্তরের নির্দেশনায় দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও জনসচেতনতা কর্মসূচির অংশ হিসেবে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় বিএনসিসি প্লাটুন এ র্যালি ও মশক নিধন অভিযানের আয়োজন করেছে। এর মূল লক্ষ্য ডেঙ্গুর ভয়াবহতা সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করা এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা। ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি ব্যক্তিগত ও সামাজিক সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও সামাজিক কল্যাণে বিএনসিসির এই উদ্যোগের মাধ্যমে ডেঙ্গুমুক্ত সমাজ গঠনে সচেতনতা বাড়বে বলে আশা করছি ।
অধ্যাপক এ কে এম. রফিকুল ইসলাম বলেন আমাদের মূল লক্ষ্য হলো দেশের যেকোনো প্রতিকূল পরিস্থিতিতে এবং দুর্যোগের সময় স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং যুদ্ধের মতো পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনীর সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করা।
তিনি আরও বলেন আজকের এই র্যালির আয়োজন করা হয়েছে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য। মশার কামড় থেকে হওয়া এই রোগটি রুখতে হলে জনসচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য আজকের এই র্যালির আয়োজন করা হয়েছে।
বাংলাদেশ সোসাইটি ফর ভেটেরিনারি এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চের (বিএসভিইআর) ২০২৬-২৭ সালের কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়েছে। নবগঠিত কমিটিতে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন বাকৃবির ভেটেরিনারি অনুষদের ডিন ও ডিন কাউন্সিলের আহবায়ক অধ্যাপক ড. মোঃ বাহানুর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন প্যারাসাইটোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম।
কমিটিতে সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি এন্ড এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিভাসু) মেডিসিন এন্ড সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক এবং ওয়ান হেলথ ইনস্টিটিউটের পরিচালক ড. মো. আহসানুল হক। কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. আনিসুর রহমান। যুগ্ম সচিব হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি এন্ড এনিম্যাল সায়েন্সের অধ্যাপক ড. মোইজুর রহমান।
এছাড়া কমিটিতে সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন বাকৃবির ফিজিওলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহা. ইলিয়াছুর রহমান ভূঁইয়া, সার্জারি ও অবস্টেট্রিক্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মোঃ মাহমুদুল আলম, এনাটমি ও হিস্টোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রবিউল করিম, প্যাথলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. রোখসানা পারভীন, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিকৃবি) মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মুকতার হোসেন, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের (ডিএলএস) পরিচালক (পরিকল্পনা) ড. মোহাম্মদ বজলুর রহমান, বাকৃবির ফার্মাকোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. ফাতেমা আক্তার এবং হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. আতীকুল হক। এছাড়া এক্স-অফিসিও সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন বাকৃবির মাইক্রোবায়োলজি অ্যান্ড হাইজিন বিভাগের অধ্যাপক ড. সুকুমার সাহা।
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) কর্তৃক প্রণীত নিয়োগ নীতিমালা অমান্য করে শিক্ষক নিয়োগের অভিযোগ উঠেছে। সদ্য সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইসমাইল, সাবেক উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রেজওয়ানুল হকসহ পাঁচ শিক্ষক-কর্মকর্তাকে বক্তব্য দেওয়ার জন্য তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আগামী বুধবার (১৯ আগস্ট) তাদের দুদকের নোয়াখালী কার্যালয়ে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে।
দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, নোয়াখালী থেকে গত ১১ আগস্ট জারি করা এক নোটিশে সংশ্লিষ্ট পাঁচজনকে আগামী ১৯ আগস্ট নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত হয়ে অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য দেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত হয়ে বক্তব্য দিতে ব্যর্থ হলে অভিযোগ-সংক্রান্ত বিষয়ে তাঁদের কোনো বক্তব্য নেই মর্মে গণ্য করা হবে বলে জানিয়েছে দুদক।
দুদকের নোটিশ অনুযায়ী, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন কর্তৃক প্রণীত নিয়োগ নীতিমালা অমান্য করে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগটি অনুসন্ধানাধীন রয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধানপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য একজন অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তাকেও নিয়োগ করা হয়েছে।
নোটিশে বলা হয়, সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্মকর্তাদের বক্তব্য গ্রহণ করা প্রয়োজন। এ জন্য তাঁদের জাতীয় পরিচয়পত্রসহ নির্ধারিত তারিখ ও সময়ে দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, নোয়াখালীতে উপস্থিত হয়ে অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তার কাছে বক্তব্য দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
দুদকের তলব করা অন্যরা হলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ তামজিদ হোসাইন চৌধুরী, আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. জামশেদুল ইসলাম, একই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শ্রাবন্তী দত্ত।
নোটিশে দেওয়া সূচি অনুযায়ী, ১৯ আগস্ট সকাল ১০টায় মো. জামশেদুল ইসলাম, সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে প্রাবন্তী দত্ত, বেলা ১১টায় অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রেজওয়ানুল হক, ১১টা ১৫ মিনিটে অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইসমাইল এবং ১১টা ৩০ মিনিটে মোহাম্মদ তামজিদ হোসাইন চৌধুরীকে উপস্থিত হতে বলা হয়েছে।
এ বিষয়ে নোটিশে অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা বলা হয়নি। দুদকের অনুসন্ধানের মাধ্যমে অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, নোবিপ্রবিতে শিক্ষক নিয়োগসংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগে এর আগেও দুদকের অনুসন্ধান ও অভিযান হয়েছে। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগের পর দুদক তথ্য সংগ্রহ করেছিল।
এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের নবম জাতীয় পে-স্কেলে অন্তর্ভুক্তি, চাকরি জাতীয়করণ, শতভাগ উৎসব ভাতা ও সরকারি নিয়মে বাড়িভাড়াসহ ১০ দফা দাবি বাস্তবায়নে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে শিক্ষক-কর্মচারী চাকরি জাতীয়করণ জোট ও অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারী সমন্বিত ফোরাম।
আগামী ৩১ আগস্টের মধ্যে দাবিগুলো পূরণের আল্টিমেটাম দিয়ে সংগঠনটি জানিয়েছে, দাবি বাস্তবায়ন না হলে সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে বিভাগীয় সমাবেশসহ বৃহত্তর আন্দোলনে যাবে শিক্ষক-কর্মচারীরা।
বুধবার (১২ আগস্ট) জাতীয় প্রেস ক্লাবের আব্দুস সালাম হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা জসিম উদ্দিন আহমদ লিখিত বক্তব্যে বলেন, বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরি জাতীয়করণ ছাড়া শিক্ষাক্ষেত্রে বৈষম্য পুরোপুরি দূর করা সম্ভব নয়। একই সঙ্গে জাতীয়করণের আগে শিক্ষক-কর্মচারীদের ন্যায্য ১০ দফা দাবি বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
যেসব দবি:
সংগঠনটির ১০ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের পাওনা অর্থ প্রচলিত নিয়ম ও বিধি অনুযায়ী প্রদান, বৈষম্য নিরসনে বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরি জাতীয়করণ, দ্রুত বদলির ব্যবস্থা, শতভাগ উৎসব ভাতা এবং সরকারি নিয়মে বাড়িভাড়া প্রদান।
এ ছাড়া শিক্ষক নিয়োগে এনটিআরসিএর পরিবর্তে পিএসসি-২ ব্যবস্থা চালু, স্বীকৃতিপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে এমপিওভুক্ত করা, ১ম থেকে ১২তম নিবন্ধনধারীদের নিয়োগের ব্যবস্থা, চাকরির বয়সসীমা ৬৫ বছরে উন্নীত করা এবং নৈশপ্রহরীদের প্রচলিত নিয়মে ছুটির পাশাপাশি দ্বিতীয় নৈশপ্রহরী নিয়োগের দাবি জানানো হয়েছে।
অবসর সুবিধা নিয়ে প্রশ্ন:
সংবাদ সম্মেলনে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের কল্যাণ ও অবসর সুবিধার অর্থ নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়। জসিম উদ্দিন আহমদ বলেন, নতুন ব্যবস্থায় আবেদনকারীদের নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলেও অতীতে সর্বশেষ বেতনের ভিত্তিতে কল্যাণ ও অবসর সুবিধা দেওয়ার বিধান ছিল। ফলে বর্তমান ব্যবস্থায় কেন নির্দিষ্ট অঙ্ক নির্ধারণ করা হচ্ছে—এ প্রশ্নের জবাব চান তিনি।
তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের শুধু জমাকৃত অর্থ ফেরত দেওয়ার আলোচনা রয়েছে—এমন খবরে শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এ বিষয়ে সরকারের সুস্পষ্ট অবস্থান প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
‘জাতীয়করণই বৈষম্য দূর করার পথ’:
সংগঠনের নেতারা বলেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার বড় একটি অংশ বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরশীল হলেও এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা এখনও নানা ক্ষেত্রে সরকারি শিক্ষকদের তুলনায় বৈষম্যের শিকার। বেতন-ভাতা, বাড়িভাড়া, উৎসব ভাতা, বদলি, অবসর সুবিধা ও চাকরির নিরাপত্তায় বৈষম্য রয়েছে বলে দাবি করেন তারা।
তাদের মতে, শুধু সাময়িক ভাতা বৃদ্ধি নয়, দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য বেসরকারি শিক্ষা জাতীয়করণ প্রয়োজন। এতে শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরির নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষাক্ষেত্রের বৈষম্যও কমবে।
সরকারের প্রতি আস্থার পাশাপাশি অসন্তোষ:
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা সরকারের শিক্ষা খাতে বরাদ্দ ও শিক্ষক-কর্মচারীদের কল্যাণে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করলেও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তাদের অভিযোগ, সরকারের সঙ্গে শিক্ষক-কর্মচারীদের দূরত্ব তৈরি হওয়ার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হচ্ছে।
নেতারা বলেন, সরকার শিক্ষক-কর্মচারীদের ন্যায্য দাবি বাস্তবায়নে উদ্যোগী হলে তারা সরকারের প্রতি আরও আস্থাশীল হবেন। কিন্তু ঘোষিত বিভিন্ন সুবিধা বাস্তবায়নে বিলম্ব হলে মাঠপর্যায়ে অসন্তোষ বাড়বে।
৩ দফা কর্মসূচি ঘোষণা:
৩১ আগস্টের মধ্যে ১০ দফা দাবি বাস্তবায়ন না হলে তিন দফা কর্মসূচি পালন করবে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।
প্রথমত, আগামী ১০ দিনের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ১০ সদস্যের শিক্ষক প্রতিনিধিদলের সাক্ষাতের ব্যবস্থা করার দাবি জানানো হয়েছে।
দ্বিতীয়ত, সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে বিভাগীয় পর্যায়ে সমাবেশ করে দাবির পক্ষে জনমত গড়ে তোলা হবে।
তৃতীয়ত, দল-মত নির্বিশেষে দেশের শিক্ষক-কর্মচারীদের নিয়ে সংগ্রাম কমিটি গঠন করে বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
‘আন্দোলন আরও বিস্তৃত হতে পারে’:
সংগঠনের নেতারা বলেন, শিক্ষক-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের বেতন-ভাতা, চাকরির নিরাপত্তা ও অবসর সুবিধার সমস্যার স্থায়ী সমাধান না হলে আন্দোলন আরও বিস্তৃত হতে পারে। তাদের ভাষ্য, শিক্ষক সমাজকে শুধু আশ্বাস দিয়ে নয়, বাস্তব সিদ্ধান্ত ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে আস্থা অর্জন করতে হবে।
তারা আরও বলেন, বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের জাতীয় পে-স্কেলে অন্তর্ভুক্তি এবং চাকরি জাতীয়করণের বিষয়টি এখন আর বিচ্ছিন্ন কোনো দাবি নয়; এটি শিক্ষাব্যবস্থার বৈষম্য দূর করার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।
সংবাদ সম্মেলনে মতিউর রহমানের সঞ্চালনায় সভাপতিত্ব করেন জসিম উদ্দিন আহমদ। এ সময় অধ্যাপক মনজুরুল ইসলাম, মো. আলী, নূর মোহাম্মদ খোকন, হাসিম তালুকদার, লুৎফর ইসলাম, ইউসুফ ও ঝর্ণা বিশ্বাসসহ শিক্ষক-কর্মচারী নেতারা উপস্থিত ছিলেন।