দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে তরুণ উদ্যোক্তাদের সহায়তা দিতে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) অরেঞ্জ কর্নার্স বাংলাদেশের রোডশো অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাকৃবি ক্যারিয়ার ক্লাব (বাউসিসি) এবং থ্রী জিরো ক্লাবের সহযোগিতায় এ রোডশো অনুষ্ঠিত হয়।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ নজরুল ইসলাম সম্মেলন কক্ষে এ আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম সরদার।
'ময়মনসিংহে উদ্যোক্তাবান্ধব পরিবেশ শক্তিশালীকরণ'
শীর্ষক আলোচনায় বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষিব্যবসা ও বিপণন বিভাগের প্রধান সহযোগী অধ্যাপক ড. দিলশাদ জাহান ইথেন, সেফ ফুডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জিকরুল হাকিম, ওয়াই ওয়াই ভেনচারের প্রোগ্রাম পরিচালক মুস্তাফিজুর রহমান।
আলোচনায় তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য বিভিন্ন সুযোগ ও সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন বক্তারা। সহযোগী অধ্যাপক ড. দিলশাদ জাহান ইথেন বলেন, বাকৃবি এমন একটি প্ল্যাটফর্ম, যেখানে সম্পদ ও সুযোগের দারুণ একটি সমন্বয় রয়েছে। এখানে যেমন তরুণ মেধাবী শিক্ষার্থীরা রয়েছে, তেমনি আছেন অভিজ্ঞ অ্যাকাডেমিশিয়ানরা। এটি একটি একাডেমিক বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ায় এখানে ইন্ডাস্ট্রি ও খামার পর্যায়ের বিভিন্ন অংশীদারদের বিচরণ রয়েছে। ফলে এখানে জ্ঞানকে সরাসরি প্র্যাকটিক্যাল সেশনে রূপান্তর করে কাজের সুযোগ অনেক।
সেফ ফুডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জিকরুল হাকিম বলেন, ব্যবসা শুরু করার পর এটার সাথে লেগে থাকাটাই গুরুত্বপূর্ণ। লেগে থাকতে গেলে অনেক ভুল হবে, ফলে ক্ষতিও হবে। কিন্তু থেমে যাওয়া যাবে না। লক্ষ্য ঠিক রেখে ভুলটা কিভাবে খুব দ্রুত শুধরানো যায়, এই চেষ্টাটা খুব জরুরি। পাশাপাশি জরুরি একটা ব্যাপার হলো নেটওয়ার্কিং। এটি অনেক কঠিন কাজকেও সহজ করে দেয়।
ওয়াই ওয়াই ভেনচারের প্রোগ্রাম পরিচালক মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমরা তরুণ উদ্যোক্তাদের উদ্ভাবনী আইডিয়াকে ব্যবসায় রূপান্তর করি মেন্টরিং, নেটওয়ার্কিং ও আর্থিক সহায়তা দেওয়ার মাধ্যমে। ময়মনসিংহে উদ্যোক্তাদের সুবিধা সম্পর্কে তিনি বলেন, এখানে উদ্যোক্তারা মাটি, কৃষি ও সাধারণ মানুষের খুব কাছাকাছি থাকেন। সমস্যার মূল জায়গা ধরে সমাধান বের করা তাদের জন্য সহজ। ঢাকায় নেটওয়ার্কিং বা ব্যাংকের সুযোগ বেশি থাকলেও ঢাকার বাইরে সম্ভাবনার ক্ষেত্র অনেক বড়। স্থানীয় অভিজ্ঞ ব্যবসায়ী ও কৃষি বিশেষজ্ঞরা এই কাজে নতুনদের মেন্টরশিপ দিতে প্রস্তুত।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম সরদার বলেন, এই ধরনের প্রোগ্রাম তরুণদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও উজ্জ্বল ক্যারিয়ার গঠনে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে। বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক কর্মক্ষেত্রে যে ধরনের যোগ্যতার প্রয়োজন, চাকরির বাজারে তার চাহিদা ক্রমশ বাড়ছে। তাই এখন আমাদের চিন্তাভাবনা ও দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন আনা জরুরি।
নিয়োগ পরীক্ষায় ভাইভার নম্বর বাড়ানোর প্রস্তাবের প্রতিবাদে ইবিতে বিক্ষোভ।
নিয়োগ পরীক্ষায় লিখিত অংশের নম্বর কমিয়ে মৌখিক (ভাইভা) পরীক্ষার নম্বর বাড়ানোর প্রস্তাবের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সাধারণ শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাত সোয়া ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জিয়া মোড় থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি বের হয়। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রধান ফটকের সামনে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়।
এ সময় শিক্ষার্থীদের ‘আমার সোনার বাংলায়, বৈষম্যের ঠাঁই নাই’, ‘ভাইভা বোর্ডের বিরুদ্ধে, আগুন জ্বালো একসাথে’, ‘অ্যাকশন টু অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’, ‘ভাইভা বোর্ডের বিরুদ্ধে ডাইরেক্ট অ্যাকশন’, ‘কোটা গেছে যেই পথে, ভাইভা যাবে সেই পথে’, ‘আবু সাঈদ মুক্ত, শেষ হয়নি যুদ্ধ’ এবং ‘মেধা না কোটা? মেধা, মেধা’সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়।
সমাবেশে শিক্ষার্থীরা বলেন, ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় লিখিত অংশের নম্বর কমিয়ে ভাইভার নম্বর বাড়ানোর প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে মেধাভিত্তিক নিয়োগব্যবস্থা ব্যাহত হবে। একই সঙ্গে এতে দুর্নীতি ও রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের আশঙ্কা বাড়বে। ভাইভা একটি ব্যক্তি-নির্ভর পরীক্ষা। ভাইভা বোর্ডের সদস্যদের হাতে পরীক্ষার্থীর মূল্যায়নে গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতা থাকে। সেই ক্ষমতার যথাযথ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা না গেলে কোনোভাবেই স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নিয়োগ নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
তারা আরও বলেন, ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের সরকারি চাকরিজীবীরা তৃণমূল পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করেন এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি কাজ করেন। এ পর্যায়ের নিয়োগে যদি ব্যক্তি বা রাজনৈতিক প্রভাব কাজ করে, তাহলে প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের সুযোগ তৈরি হবে। লিখিত পরীক্ষায় একজন প্রার্থী বেশি নম্বর পেয়েও যদি ভাইভায় কম নম্বরের কারণে পিছিয়ে পড়েন, তাহলে তার মেধার যথাযথ মূল্যায়ন হবে না। অন্যদিকে লিখিত পরীক্ষায় তুলনামূলক কম নম্বর পাওয়া প্রার্থীকে ভাইভায় বেশি নম্বর দিয়ে এগিয়ে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। এতে স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির পথ আরও প্রশস্ত হতে পারে।
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) সমুদ্রবিজ্ঞান বিভাগের ১৬তম আবর্তনের (২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষ) শিক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমীন অডিটোরিয়ামে উৎসবমুখর পরিবেশে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রাব্বানী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ ড. মো. হাসান উদ্দিন এবং বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. মো. মহিনুজ্জামান।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সমুদ্রবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মো. গোলাম মোস্তফা। এছাড়াও বিভাগের সর্বস্তরের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ এতে অংশ নেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে অতিথিদের ফুল ও সম্মাননা স্মারক দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়।
পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত, গীতা পাঠ এবং জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। সংবর্ধনা পর্বে ১৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা বিদায়ী ব্যাচের উদ্দেশ্যে তাদের শুভেচ্ছা বক্তব্য ও স্মৃতিচারণ তুলে ধরেন। পরবর্তীতে বিদায়ী ১৬তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা তাঁদের বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের নানা অভিজ্ঞতা, প্রাপ্তি ও আবেগঘন অনুভূতি ব্যক্ত করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রাব্বানী বিদায়ী শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ জীবনের সার্বিক সাফল্য ও উজ্জ্বল উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করেন। ডিন ও বিভাগের শিক্ষকমণ্ডলী তাঁদের বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের অর্জিত জ্ঞানকে দেশের সমুদ্রসম্পদ রক্ষা ও গবেষণায় কাজে লাগানোর আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বিদায়ী শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ জীবনের সাফল্য কামনা করেন এবং দেশ ও সমাজের কল্যাণে নিজেদের জ্ঞান, মেধা ও দক্ষতা কাজে লাগানোর আহ্বান জানান। পরে বিদায়ী শিক্ষার্থীদের সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করা হয়। এতে বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ উপস্থিত সবাই অংশ নেন।আবেগঘন পরিবেশের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।
খাবারের গামলায় পা, জবির ক্যাফেটেরিয়ায় স্বাস্থ্যবিধির চরম লঙ্ঘন
শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত খাবার নিশ্চিত করার কথা থাকলেও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) একমাত্র ক্যাফেটেরিয়ায় তার উল্টো চিত্র দেখা গেছে। খাবার প্রস্তুতের কাজে ব্যবহৃত বড় গামলার ওপর কর্মীদের পা রাখার পাশাপাশি রান্নাঘরের মেঝেতেই চলছে খাদ্য প্রস্তুতির কাজ। ফলে ক্যাফেটেরিয়ার খাবারের গুণগত স্বাস্থ্যমান ও পরিচ্ছন্নতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দেখা যায়, ক্যাফেটেরিয়ার রান্নাঘরের মেঝেতে বড় ধাতব গামলায় খাবার প্রস্তুতের কাজ চলছে। এর পাশেই বসে আছেন কয়েকজন কর্মী। তাদের একজনকে খাবার প্রস্তুতের কাজে ব্যবহৃত গামলার ওপর পা রেখে বসে থাকতে দেখা যায়। রান্নাঘরের মেঝেতেও ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী ও রান্নার উপকরণ।
এছাড়াও রান্নাঘরের সার্বিক পরিবেশও অপরিচ্ছন্ন। খাবার তৈরির সরঞ্জাম, খাদ্যসামগ্রী ও মেঝের ব্যবহারের ধরন নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ। প্রতিদিন এই ক্যাফেটেরিয়ার খাবারের ওপর নির্ভরশীল শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।
পুরান ঢাকার ঘনবসতিপূর্ণ ও ব্যস্ত এলাকায় অবস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়টিতে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী অবস্থান করেন। অনেক শিক্ষার্থীই ক্লাস ও পরীক্ষার ফাঁকে ক্যাম্পাসের একমাত্র ক্যাফেটেরিয়ার খাবারের ওপর নির্ভর করেন। ফলে খাবার প্রস্তুতের স্থান ও প্রক্রিয়া স্বাস্থ্যসম্মত না হলে তার প্রভাব সরাসরি শিক্ষার্থীদের ওপর পড়তে পারে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র ক্যাফেটেরিয়ায় খাবারের মান ও পরিবেশ নিয়ে বিভিন্ন সময় প্রশ্ন উঠলেও স্থায়ীভাবে সমস্যার সমাধান হচ্ছে না। তাদের দাবি, শুধু ঘটনার পর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস নয়, ক্যাফেটেরিয়ার রান্নাঘর নিয়মিত পরিদর্শন, খাদ্য প্রস্তুত ও সংরক্ষণে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত এবং খাবারের মান নিয়মিত পরীক্ষা করতে হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা।
জবির ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগের শিক্ষার্থী শওকত হাসান দীপ্ত বলেন, “আসলে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কপালে যেন দুঃখ ছাড়া আর কিছুই নেই। আমরা প্রতিদিন যে খাবার খাচ্ছি, সেটার মান ও প্রস্তুতপ্রক্রিয়া নিয়ে যদি এমন প্রশ্ন ওঠে, তাহলে বিষয়টি অত্যন্ত হতাশাজনক। বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র ক্যাফেটেরিয়ায় শিক্ষার্থীদের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত ও নিরাপদ খাবার নিশ্চিত করা প্রশাসনের দায়িত্ব। আমরা চাই, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।”
জকসুর স্বাস্থ্য ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক নূর মোহাম্মদ বলেন, “বিষয়টি দেখার পর আমরা ক্যাফেটেরিয়ার পরিচালক মাসুদ ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি ঘটনাটিকে অত্যন্ত বিব্রতকর হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং জানিয়েছেন, আগামীকাল থেকে এ ধরনের বিষয় আর দেখা যাবে না। খাবারের মান ও অন্যান্য সমস্যাগুলো সমাধানের বিষয়েও তিনি আমাদের আশ্বস্ত করেছেন। খাবারের মান আরও উন্নত করার জন্য আমরা ক্রমাগত চেষ্টা করছি। তবে শিক্ষার্থীদের জন্য খাবার সাশ্রয়ী রাখতে গিয়ে বিষয়টি দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে। তারপরও আমাদের পক্ষ থেকে চেষ্টা অব্যাহত থাকবে। আজকের ঘটনার যেন পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে বিষয়ে আমাদের সজাগ দৃষ্টি থাকবে।”
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ পরিচালক কে. এ. এম. রিফাত হাসান বলেন, “আমরা আসলে ছবিটা দেখেছি। তবে ছবিটি এআই জেনারেটেড কি না, নাকি সত্যিকার ছবি এবং ঘটনাটি বাস্তবে ঘটেছে কি না এগুলো আমরা আগে তদন্ত করে দেখব। যদি ঘটনাটি সত্যি হয়ে থাকে, তাহলে অবশ্যই প্রচলিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে আমাদের একটি খাদ্যের মান ও উন্নয়ন কমিটি রয়েছে। ওই কমিটির মাধ্যমেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। যেভাবে খাবার প্রস্তুত করা হচ্ছে, তা খুবই অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ।”
এ বিষয়ে ক্যাফেটেরিয়ার পরিচালক মোঃ মাসুদ রানা বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত বিব্রতকর। আমার কর্মচারীরা এভাবে খাবার প্রস্তুত করছে এ ধরনের ঘটনা আগে কখনো দেখিনি। হঠাৎ কীভাবে এমন ঘটনা ঘটল, সেটিও আমার বোধগম্য নয়। বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। পরবর্তীতে যেন এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে, সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি খাবারের মান ও অন্যান্য সমস্যাগুলোও সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।”
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
কৃষি গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা আগামী ২ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। এবারের ভর্তি কার্যক্রমের নেতৃত্ব দেবে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (শেকৃবি)।
কৃষি গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা কমিটির সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।সূত্র জানায়, কৃষি গুচ্ছের ভর্তি পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে আয়োজন ও সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকবে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। ভর্তি পরীক্ষার পরবর্তী কার্যক্রম নিয়ে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর মধ্যে সমন্বয় করা হচ্ছে।
ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের যোগ্যতা, আবেদন প্রক্রিয়া, আসনসংখ্যা, পরীক্ষার সময় ও কেন্দ্রসংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য পরবর্তী সময়ে ভর্তি পরীক্ষা কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হবে।
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল লতিফ বলেন, “কৃষি গুচ্ছের ভর্তি পরীক্ষা সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করবে। পরীক্ষার্থীরা যাতে নির্বিঘ্নে ও সুন্দর পরিবেশে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নেওয়া হবে।”
উল্লেখ্য, কৃষি গুচ্ছ পদ্ধতিতে দেশের কৃষি ও কৃষিসংশ্লিষ্ট উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে সমন্বিতভাবে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়। প্রতিবছর দেশের বিভিন্ন প্রান্তের বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী এ ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেন। সর্বশেষ শিক্ষাবর্ষে কৃষি গুচ্ছ ভর্তি কার্যক্রমে মোট ৯টি বিশ্ববিদ্যালয় অংশ নেয়।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হলো বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিম্যাল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়।
অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাসউদ আল মাহদী
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সাদ্দাম হোসেন হল- এর নতুন প্রভোস্ট হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাসউদ আল মাহদী।
আজ মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. আতিকুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
রেজিস্ট্রার দপ্তর সূত্রে, সাদ্দাম হোসেন হলের প্রভোস্ট হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইন্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. আবুল কালাম আজাদ-এর মেয়াদ শেষ হওয়ায় দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাসউদ আল মাহদীকে আগামী ১ বছরের জন্য ওই হলের প্রভোস্ট হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম মতিনুর রহমান।
নিয়োগপ্রাপ্ত প্রভোস্ট ড. মাসউদ আল মাহদী জানান, আমাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে মর্মে অবগত করেছে প্রশাসন। তবে এখনও আনুষ্ঠানিক চিঠি হাতে পাইনি। যোগদান করার পর হল কেন্দ্রিক পরিকল্পনা হাতে নিব।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) শিক্ষকদের অধিকার, মর্যাদা ও পেশাগত স্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ে গণতান্ত্রিক ও স্বচ্ছ পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে ‘সাদা দল’ নামে একটি শিক্ষক সংগঠনের আত্মপ্রকাশ হয়েছে।
একই সাথে সংগঠনটির পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট আহবায়ক কমিটি গঠিত হয়েছে। এতে ফসল উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. ওবায়েদুল ইসলাম আহ্বায়ক এবং উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন সদস্য সচিব হিসেবে মনোনীত হয়েছেন।
কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন- মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. আবু জোফার মো. মোসলেহ উদ্দিন, ফিজিওলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহা. ইলিয়াছুর রহমান ভূঁইয়া এবং মাইক্রোবায়োলজি অ্যান্ড হাইজিন বিভাগের অধ্যাপক ড. কে এইচ এম নাজমুল হুসাইন নাজির।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত সংগঠনটির এক ঘোষণাপত্রে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, শিক্ষকদের পেশাগত স্বাধীনতা, মর্যাদা ও অধিকার বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে শিক্ষকদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং পেশাগত সমস্যা সমাধানে একটি কার্যকর ও দায়িত্বশীল সংগঠন প্রয়োজন।
ঘোষণাপত্রে ‘সাদা দল’-কে সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক শিক্ষক সংগঠন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সংগঠনটির লক্ষ্য হিসেবে সত্য, ন্যায়, সততা, সাম্য ও ইনসাফভিত্তিক একটি গণতান্ত্রিক ও সুন্দর শিক্ষক সমাজ গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে। ঘোষণাপত্র অনুযায়ী আহ্বায়ক কমিটি সংগঠনের পূর্ণাঙ্গ গঠনতন্ত্র প্রণয়ন, সদস্যপদ-সংক্রান্ত নীতিমালা নির্ধারণ এবং পরবর্তী সময়ে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করবে বলে জানানো হয়।