ইবি ছাত্রশিবিরের স্মারকলিপি ও আন্দোলনের হুঁশিয়ারি
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আবাসিক হলগুলোতে অবৈধভাবে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের অপসারণ, মেধার ভিত্তিতে সিট বণ্টন ও শিক্ষার্থীবান্ধব আবাসিক পরিবেশ নিশ্চিত করাসহ নয় দফা দাবিতে উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির।
আজ শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর ৩ টার দিকে প্রশাসন ভবনে উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম মতিনুর রহমান বরাবর স্মারকলিপি দেন সংগঠনটির নেতারা।
তাদের দাবিসমূহ- আবাসিক হলে অবৈধভাবে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে শনাক্ত করে নিয়ম অনুযায়ী অপসারণ, কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বা দলীয় সুপারিশ ভিত্তিতে হলে সিট বরাদ্দ বন্ধ করা, সিট বণ্টনের ক্ষেত্রে একটি সুস্পষ্ট, স্থায়ী ও লিখিত নীতিমালা প্রণয়ন, প্রতিটি হলের সিট বণ্টনের তালিকা যথাযথভাবে প্রকাশ করা, প্রতি ৬ (ছয়) মাস পরপর হলগুলোর সিট বরাদ্দের প্রক্রিয়া নিশ্চিতকরণ, ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করে আবাসিক হলসহ শিক্ষার্থীদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, রাজনৈতিক অপচর্চামুক্ত ও শিক্ষার অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিতকরণ, ডাইনিংগুলোতে সুষম ও মানসম্মত খাদ্য এবং স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিতকরণ ও সাম্প্রতিক ঘটনাবলির পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে কার্যকর, নিরপেক্ষ ও দৃশ্যমান ব্যবস্থা গ্রহণ ইত্যাদি রয়েছে।
শাখা ছাত্রশিবির সভাপতি ইউসুব আলী বলেন, "আমরা আজকে ভিসি স্যারের সাথে হল সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে কথা বলেছি। হলের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেছি। বিশেষ করে গত ৫ সেপ্টেম্বর ঘটে যাওয়া একটি অপ্রীতিকর ঘটনা এবং পরবর্তীতে ক্যাম্পাসে অশান্ত পরিবেশ জন্য অন্যতম কারণ হলো হল গুলোতে অনিয়ম এবং বিশেষ করে হলে অবৈধ শিক্ষার্থী অবস্থান। জিয়া হলে অনেক শিক্ষার্থী অবৈধ ভাবে অবস্থান করছে। পাশাপাশি শাহ আজিজুর রহমান হলে দুই বছর যাবৎ অ্যালটমেন্ট দেওয়া হচ্ছে না। কিন্তু অবৈধভাবে শিক্ষার্থী তোলা হচ্ছে। আমরা এ সমস্যাগুলো হল প্রশাসনকে বারবার জানিয়েছি কিন্তু হল প্রশাসন কোন ব্যবস্থা নেয় নি। তারই প্রেক্ষিতে আমরা আজ উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছি। আমরা নিয়মতান্ত্রিকভাবে উপাচার্য পর্যন্ত আসছি। আশা করি তিনি দ্রুত পদক্ষেপ নিবেন এবং এই সমস্যা সমাধান করবেন।"
তিনি আরও বলেন, ''আমাদের দাবি আদায় যদি না হয়, তাহলে আমরা শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে নামবো। আমাদের দাবি না আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা থামবো না।"
এসময় সংগঠনটির নেতৃবৃন্দের উদ্দেশ্য করে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেন, "শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তিশৃঙ্খলার জন্য যে পদক্ষেপগুলো নেওয়া উচিত আমি সেগুলো নিচ্ছি।"
তিনি আরও বলেন, "তোমাদের দাবিগুলোর সাথে আমার মতের কোন বিরোধ নেই। কিন্তু আমি দেখতেছি হল প্রশাসন কোন দায়িত্ব না নিয়ে সব সময় প্রশাসনের কাঁধে চাপিয়ে দিচ্ছে। সেখানে তারা যদি প্রাথমিক সমস্যাগুলো চিহ্নত করতে পারত তাহলে সেটা ভালো হতো। আমি এ বিষয় নিয়ে তাদের সাথে বসবো।"
সিট বরাদ্দের বিষয়ে তিনি বলেন, "আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজাল্ট অনুযায়ী যারা এগিয়ে থাকবে তাদেরকে সিট বরাদ্দ দিব, আর বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজাল্ট হওয়ার আগে যদি সিট বরাদ্দের পর্যায় আসে তাহলে উচ্চ মাধ্যমিকের রেজাল্ট অনুযায়ী সিট বরাদ্দ দিব।"
রাজধানীর গভর্নমেন্ট কলেজ অব অ্যাপ্লাইড হিউম্যান সায়েন্সের শিক্ষার্থীদের সংবাদ সম্মেলন
রাজধানীর গভর্নমেন্ট কলেজ অব অ্যাপ্লাইড হিউম্যান সায়েন্সের অধ্যক্ষ ড. মেহেরুন নেছাকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছেন শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে মধ্যরাতে পুলিশের হামলার অভিযোগ তদন্ত করে জড়িতদের বিচারের দাবিতে ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছেন তারা।শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটে কলেজের মূল ফটকের সামনে সংবাদ সম্মেলন করে এ ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা। এর আগে কলেজের সামনের সড়কের দুই পাশে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন তারা। এ সময় নীলক্ষেত মোড় থেকে আজিমপুর বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা দুই দফা দাবি তুলে ধরেন। প্রথম দাবিতে বলা হয়, মধ্যরাতে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলার ঘটনায় আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে। পাশাপাশি হামলায় জড়িত পুলিশ সদস্য ও কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক বিভাগীয় ও আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।
দ্বিতীয় দাবিতে কলেজের সব শিক্ষার্থীর পক্ষ থেকে অধ্যক্ষ ড. মেহেরুন নেছাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়। তার পদত্যাগের বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) থেকে আনুষ্ঠানিক সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়া পর্যন্ত কলেজের সব প্রশাসনিক কার্যক্রম, ক্লাস ও পরীক্ষা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখার ঘোষণা দেন তারা।শিক্ষার্থীরা জানান, দাবি পূরণে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো আশ্বাস না পাওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। দাবি আদায় না হলে পরবর্তী সময়ে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তারা।
এর আগে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ এনে বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তার পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন কলেজটির শিক্ষার্থীরা। একপর্যায়ে তারা অধ্যক্ষকে তার কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রাখেন। প্রায় ১৩ ঘণ্টা পর রাত সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশ তাকে সেখান থেকে উদ্ধার করে। এ সময় পুলিশি অভিযানে শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জের অভিযোগ ওঠে।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের দাবি, মধ্যরাতে পুলিশের হামলায় কয়েকজন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে হাতুড়ি দিয়ে পেটানো এবং এক নারী শিক্ষার্থীর চুল ও হিজাব ধরে টানাটানির অভিযোগও করেছেন তারা।
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শ্রী নারায়ণ চক্রবর্তী (অপু) লিউকেমিয়ায় আক্রান্ত।
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) সিএসটিই বিভাগের ৭ম ব্যাচের মেধাবী শিক্ষার্থী শ্রী নারায়ণ চক্রবর্তী (অপু) লিউকেমিয়ায় (রক্তের ক্যানসার) আক্রান্ত। অর্থাভাবে তার উন্নত চিকিৎসা ও জীবন রক্ষা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
ডিপার্টমেন্টে দ্বিতীয় স্থান অর্জনকারী সিএসটিই বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী অপু শুধু মেধাবীই নয়, ছিলেন অত্যন্ত বিনয়ী, নম্র ও ভদ্র। স্বপ্ন ছিল নিজের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হবে। সেই স্বপ্ন পূরণ না হলেও বর্তমানে একটি রাষ্ট্রায়ত্ত সরকারি ব্যাংকে প্রিন্সিপাল অফিসার হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। বিয়ে করেছেন, পৃথিবীর আলো দেখা তার ফুটফুটে ২০ মাসের একটি সন্তানও রয়েছে। প্রথমে সাধারণ অসুস্থতা ভেবে চিকিৎসা শুরু হয়েছিল। কিন্তু একের পর এক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানা গেল, শ্রী নারায়ণ চক্রবর্তী আক্রান্ত হয়েছেন লিউকেমিয়ায় (রক্তের ক্যানসার)।
চিকিৎসকদের মতে বর্তমান শারীরিক অবস্থা ও রোগের পর্যায় অনুযায়ী চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ হয়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু এই চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। দীর্ঘ চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন বিপুল অর্থ, যা একা একটি মধ্যবিত্ত পরিবারের পক্ষে বহন করা অত্যন্ত কঠিন।
একটি দরিদ্র ও সাধারণ পরিবারের পক্ষে এত বিপুল পরিমাণ চিকিৎসা খরচ বহন করা সম্পূর্ণ অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
যেভাবে সহযোগিতা পাঠাবেন:
অপুর সহপাঠীরা চান অপু আবার সুস্থ হয়ে তার ছোট্ট সন্তানের কাছে ফিরে যাক। তার পরিবারে যেন আবার হাসি ফিরে আসে। সামর্থ্য অনুযায়ী যে কেউ আর্থিক সহায়তা পাঠাতে পারেন নিচের মাধ্যমগুলোতে:
সহায়তার মাধ্যম (অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন)
বিকাশ / নগদ / রকেট:
01815721463 (Shetu, CSTE 7th)
01673571953 (Polash, CSTE 7th)
01670633325 (Mashpy, CSTE 5th)
🏦 BRAC Bank
Name: ABDUL AHAD
A/C no: 1501102918894001
Branch: Gulshan Branch
🏦 Dutch-Bangla Bank
Name: Md Akhlasur Rahman
A/C no: 1101030213136
Branch: Dhanmondi Branch
🌍 প্রবাসীদের জন্য: GoFundMe
QR কোড স্ক্যান করে বিদেশ থেকে ডোনেট করুন
https://gofund.me/53823c7e4
অপুর পরিবার (সরাসরি পরিবারের কাছে)
বিকাশ:
01632233308 (অপু)
01713612811 (বাবা)
01862-585139
01814078813
অপুর পরিবারের ব্যাংক হিসাব
🏦 Pubali Bank
A/C name: Proma Chakraborty
A/C no: 2592101083900
Routing: 175152441
Sheikh Mujib Road Branch, Chittagong
🏦 Bangladesh Development Bank
A/C name: Sree Narayan Chakraborty
A/C no: 0650100014927
Routing: 047271571
Principal Branch, Dhaka South
🏦 Sonali Bank
A/C name: Anita Chakraborty
A/C no: 0814401023066
Mirsharai Branch, Chittagong
📞 যোগাযোগ:
অপুর বাবা - 01713-612811
বন্ধু - 01670-456735
আপনার সামান্য সহযোগিতাই হতে পারে একটি জীবন বাঁচানোর লড়াইয়ে বড় অবলম্বন।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে অতিরিক্ত ৯০ মিনিট সময় নেয় সংগীত বিভাগ। এতে সময়সূচিতে পরিবর্তনের ফলে বড় ধরনের প্রভাব পড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যান্ডগুলোর পরিবেশনায়। পর্যাপ্ত সময় না পাওয়ার অভিযোগে অফসাইড, কিম্ভুত,স্বরূপ, কোমল গান্ধার ব্যান্ড প্রশাসনের আয়োজনে ভবিষ্যতে আর কোনো অনুষ্ঠানে অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।তবে সংগীত বিভাগের চেয়ারম্যান ড. অনিমা রায় বলছেন, বৃষ্টি, সাউন্ড সিস্টেম প্রস্তুতে বিলম্ব, মাইক্রোফোনের স্বল্পতা ও আমন্ত্রিত নৃত্যদলের দেরিতে পৌঁছানোর কারণে তাদের পরিবেশনা পিছিয়ে যায়।
গত ২ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে। অনুষ্ঠানটির প্রাথমিক সূচি অনুযায়ী, বিকেল ৩টা ২০ মিনিটে সংগীত বিভাগের মঞ্চ ছাড়ার কথা থাকলেও তারা অতিরিক্ত ৯০ মিনিট পর বিকেল ৪টা ৫০ মিনিটে মঞ্চ ছাড়ে এবং নাট্যকলা বিভাগ নির্দিষ্ট সময়ের চেয়ে ৬ মিনিট দেরীতে মঞ্চ ত্যাগ করে বলে জানান জকসুর সাংস্কৃতিক সম্পাদক তাকরিম আহমেদ। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এতে পরবর্তী পরিবেশনাগুলোর সময়সূচিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়ে।
অফসাইড ব্যান্ডের ভোকালিস্ট মাহমুদ হাসান আরিফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় অভিযোগ করেন, জকসুর সাংস্কৃতিক সম্পাদক ও ব্যান্ড মিউজিক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতির ব্যক্তিগত আক্রোশের কারণে অন্য ব্যান্ডগুলোর তুলনায় তাদের কম সময় দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় তারা সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের অধীনে আর কোনো অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন না বলেও জানান।
তবে ব্যক্তিগত আক্রোশের অভিযোগ অস্বীকার করে তাকরিম আহমেদ বলেন, তিনি জকসুর সাংস্কৃতিক সম্পাদক ও অনুষ্ঠানের পরিচালক হিসেবে প্রশাসনের নির্দেশনা অনুসারেই দায়িত্ব পালন করেছেন।
তাকরিমের ভাষ্য অনুযায়ী, ব্যান্ডগুলোর পরিবেশনা বিকেল ৪টা ৪০ মিনিট থেকে শুরু হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তা শুরু হয় সন্ধ্যা ৬টা ৩৩ মিনিটে। পরে নগরবাউল জেমসের পরিবেশনার জন্য দ্রুত মঞ্চ খালি করার প্রশাসনিক নির্দেশনা আসে। ফলে প্রতিটি ব্যান্ডকে ১৫ মিনিট করে সময় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে হয়। অফসাইড ব্যান্ড সাউন্ড চেক করতেই ১৬ মিনিট সময় নেওয়ায় তাদের পরিবেশনার সময় আরও সংকুচিত হয়ে পড়ে। একপর্যায়ে কিম্ভূত ও স্বরূপ ব্যান্ডও একটি করে গান পরিবেশন করে মঞ্চ ছাড়ে।
এদিকে, নাট্যকলা বিভাগের অতিরিক্ত ছয় মিনিট সময় নেওয়ার দায় স্বীকার করেছেন বিভাগটির চেয়ারম্যান রুবাইয়া জাবীন প্রিয়তা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক মন্তব্যে তিনি এ ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, শিক্ষার্থীরা পরিকল্পনা অনুযায়ী অংশ নিতে না পারায় শিক্ষক হিসেবে তিনিও বিব্রত। ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।
এ বিষয়ে সংগীত বিভাগের চেয়ারম্যান ড. অনিমা রায় বলেন, মঞ্চ প্রস্তুতে বিলম্ব, বৃষ্টির আশঙ্কায় সাউন্ড সিস্টেম ঢেকে রাখা, পর্যাপ্ত মাইক্রোফোনের অভাব এবং আমন্ত্রিত নৃত্যদলের দেরিতে পৌঁছানোর কারণে তাদের পরিবেশনা শুরু করতে বিলম্ব হয়। তিনি বলেন, “কোনো ঘটনাই ইচ্ছাকৃত নয়, পরিস্থিতির কারণে সময়সূচিতে পরিবর্তন এসেছে। জেমসের মতো একজন শিল্পীকে অপেক্ষায় রাখা সমীচীন মনে হয়নি। তাই প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী তার প্রতি সম্মান রেখে আমরা পরিবেশনা সংক্ষিপ্ত করেছি।”
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর সঙ্গে বিভাগের দূরত্ব তৈরি হোক, তা তারা চান না। ভবিষ্যতে আরও সুন্দর আয়োজনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
৪ বিশ্ববিদ্যালয়সহ ১৫ প্রতিষ্ঠানের অংশ গ্রহণে ইবিতে ১৭তম জাতীয় গণিত অলিম্পিয়াড
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) গণিত বিভাগের আয়োজনে বাংলাদেশ গণিত সমিতি এবং AF Mujibur Rahman Foundation এর তত্ত্বাবধানে খুলনা অঞ্চলের স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে "১৭তম জাতীয় স্নাতক গণিত অলিম্পিয়াড ২০২৬" অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকাল সাড়ে নয়টায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ফুটবল মাঠে খুলনা অঞ্চলের ৪ টি বিশ্ববিদ্যালয় ও ১১ টি কলেজের শিক্ষার্থীদের নিয়ে এই গণিত অলিম্পিয়াড অনুষ্ঠিত হয়।
উক্ত অলিম্পিয়াডে অংশ নেয় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭ টি বিভাগের শিক্ষার্থীসহ খুলনা অঞ্চলের বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা।
উক্ত অলিম্পিয়াডের আহবায়ক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আসাদুজ্জামানের নেতৃত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. এমতাজ হোসেন এবং ট্রেজারার অধ্যাপক ড. ইদ্রিস আলী। আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে ছিলেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক এবং জাতীয় গণিত অলিম্পিয়াড কমিটির সদস্য অধ্যাপক ড. মো. মনিরুল আলম সরকার।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেন, ডিজিটালাইজেশন ও এআই-এর যুগে আজকের এই সেশনে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আপনাদের উপস্থিতি সত্যিই চমৎকার ও গুরুত্বপূর্ণ। গণিত কেবল একটি একাডেমিক বিষয় বা ক্যালকুলাস নয়; এটি বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও যৌক্তিক যুক্তির মূল ভিত্তি। একটি জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গড়তে গণিতের প্রতি ভালোবাসা তৈরি করা জরুরি।
উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেন বলেন, ১৯৯৪ সালে কায়কোবাদ স্যারের হাত দিয়ে গণিত অলিম্পিয়াডের যে যাত্রা শুরু হয়েছিল, সেটা আজকে আমাদের দেশের সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে অনেকটাই জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। গণিতকে উপস্থাপন করা হতো পিচ্ছিল বাঁশের উপরে বানরকে উঠানো আর নামানোর মতো, এটাকে সহজভাবেই উপস্থাপন করা যেত। সেই জায়গা থেকে গণিতকে আমাদের শিক্ষার্থীদের মাঝে সহজ বোধগম্য করে তোলার জন্যই গণিত অলিম্পিয়াডের আয়োজন করা হয়েছে।
নোবিপ্রবিতে অ্যালামনাই ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ক্যারিয়ার বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি) অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন ও আইকিউএসির যৌথ উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ক্যারিয়ার বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ শুক্রবার (৬ নভেম্বর ২০২৬) নোবিপ্রবি বীরশ্রেষ্ঠ শহিদ মো. রুহুল আমিন অডিটোরিয়ামে ‘এনএসটিইউ অ্যালামনাই-স্টুডেন্ট কানেক্ট: সাকসেস স্টোরিস, ক্যারিয়ার গাইডেন্স এন্ড নেটওয়ার্কিং’ শীর্ষক এ সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী।
সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বলেন, আমরা আনন্দিত যে নোবিপ্রবির বেশ কিছু কৃতি এলামনাস আজকে আমাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। অত্যন্ত আশাব্যাঞ্জক বিষয় হলো আমাদের প্রাক্তন কৃতি শিক্ষার্থীবৃন্দ দেশ বিদেশের বিভিন্ন জায়গায় সুনামের সঙ্গে কাজ করছেন। অতীতে সীমিত সম্পদ এবং সুযোগ-সুবিধা নিয়ে আমাদের এলামনাসরা যদি এভাবে এগিয়ে যেতে পারেন তবে বর্তমান শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আমরা আরও বেশি কিছু আশা করতে পারি। এ ধরনের আয়োজন পুরাতনদের সঙ্গে নতুনদের একটি মেলবন্ধন গড়ে তুলবে বলে আমার বিশ্বাস।
উপাচার্য আরও বলেন, বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে নানামুখী উন্নয়ন কর্মকাণ্ড চলমান রয়েছে। এখানে শিক্ষা ও গবেষণার উন্নয়নে যা যা করা প্রয়োজন, আমরা তা করবো। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার উন্নয়নে কাজ করে চলেছেন। সরকারের সহযাত্রী হিসেবে শিক্ষার মানোন্নয়নে আমাদেরও কাজ করতে হবে। এ সময় নোবিপ্রবির আসন্ন ৩য় সমাবর্তনে অ্যালামনাইবৃন্দের স্বত:স্ফূর্ত অংশগ্রহণ, মেধাবৃত্তি চালু ও বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ক্যারিকুলাম ডেভেলপমেন্টের ক্ষেত্রে কৃতি অ্যালামনাইবৃন্দের সহযোগিতা কামনা করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী।
নোবিপ্রবি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক ড. মো. সহিদ সারওয়ারের সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দীন ও নোবিপ্রবি ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সেলের (আইকিউএসি) পরিচালক অধ্যাপক ড. আসাদুন নবী। সেমিনারে কি-নোট স্পিকার হিসেবে ছিলেন নোবিপ্রবির অ্যালামনাই ও বাংলাদেশ পুলিশ হেড কোয়াটার্সের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বি এম শাহরিয়ার আবদুল্লাহ বিন ফারিদ, ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সির ফার্মেসী বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. সৈয়দ মাসুদুর রহমান ও মানিকগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও নোবিপ্রবি অ্যালামনাই কামরুল হাসান রিমেল।
এছাড়াও সেমিনারে নোবিপ্রবির কৃতি অ্যালামনাইবৃন্দ শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার গাইডেন্স বিষয়ক সেশনে বক্তব্য রাখেন। পরে সেমিনারে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের সনদ ও আমন্ত্রিত অতিথিদের শুভেচ্ছা স্মারক প্রদান করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী।
উল্লেখ্য, শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার পরিকল্পনা, উচ্চশিক্ষার সুযোগ, পেশাগত দক্ষতা অর্জন এবং কর্মজীবনের প্রস্তুতি সম্পর্কে বাস্তবভিত্তিক দিকনির্দেশনা প্রদানের লক্ষ্যে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়। সেমিনারে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারী, সাংবাদিক ও অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সংগৃহীত ছবি।
রাজধানীর গভর্নমেন্ট কলেজ অব অ্যাপ্লাইড হিউম্যান সায়েন্সের (সাবেক হোম ইকোনমিকস কলেজ) অধ্যক্ষ অধ্যাপক মেহেরুন্নেছার পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকে অধ্যক্ষকে কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রাখার পর রাত সাড়ে ১১টার দিকে তাকে উদ্ধার করে নিয়ে যায় পুলিশ। এ সময় শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জের অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। এতে দুই শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
অধ্যক্ষকে উদ্ধারের পর কলেজের সামনের সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন ছাত্রীরা। রাত ১২টার পরও শতাধিক শিক্ষার্থীকে সড়কে অবস্থান করতে দেখা যায়। এ সময় তারা অধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, অধ্যক্ষকে উদ্ধার করতে গিয়ে পুলিশ তাদের ওপর লাঠিচার্জ করে। এতে দুই শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। তারা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এছাড়া পুলিশের ধড়পাকড়ের সময় ভিডিও ধারণ করতে গেলে এক শিক্ষার্থীর মুঠোফোন নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
রাত সোয়া ১২টার দিকে সংবাদ সম্মেলন করে চার দফা দাবি জানান আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। দাবিগুলো হলো—শুক্রবার ক্যাম্পাসে কোনো সরকারি পরীক্ষা নেওয়া যাবে না; ক্যাম্পাসের ভেতরে শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জ করা পুলিশ সদস্যদের শোকজ করতে হবে; অধ্যক্ষের পদত্যাগের লিখিত ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত ক্যাম্পাসের সব কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখতে হবে এবং হামলাকে বৈধতা দেওয়া শিক্ষক-কর্মচারীদের অবাঞ্ছিত ঘোষণা করতে হবে।
পুলিশের লালবাগ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোস্তাক সরকার গণমাধ্যমকে বলেন, অধ্যক্ষ বর্তমানে নিরাপদে আছেন। কলেজের সামনে বেশ কিছু শিক্ষার্থী অবস্থান নিয়েছে। তাদেরকে কলেজ ক্যাম্পাসে চলে যেতে বলা হয়েছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে অধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন কলেজটির শিক্ষার্থীরা। একপর্যায়ে তারা অধ্যক্ষকে তার কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রাখেন।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ কলেজের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তাবাসসুম অভিযোগ করেন, কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই হলের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের দুই শিক্ষার্থীর আবাসিক আসন বাতিল করেন প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মেহেরুন্নেছা। পরে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি শিক্ষার্থীদের সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা দেননি।
তাবাসসুমের অভিযোগ, ওই দুই শিক্ষার্থীর কাছে ১২ হাজার ৬০০ টাকা দাবি করেন প্রাধ্যক্ষ। টাকার পরিমাণ কমানোর অনুরোধ জানিয়ে আসন বাতিল হওয়া এক শিক্ষার্থী তার পা পর্যন্ত ধরেন। এরপরও তিনি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন।
তাবাসসুম আরও বলেন, হলে প্রবেশে কিছুটা দেরি হলেও শিক্ষার্থীদের জরিমানা করা হয়। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে নানা অভিযোগ ও হয়রানির প্রতিবাদে তারা আন্দোলনে নেমেছেন। অধ্যক্ষ পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।