বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তাসনিম সিরাজ মাহবুব
নেকাব পরা এক ছাত্রীকে ‘মৌলবাদী’, ‘জঙ্গি’ ও ‘বোমা মারতে পারে’- এমন মন্তব্য করার অভিযোগ উঠেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তাসনিম সিরাজ মাহবুবের বিরুদ্ধে। শিক্ষার্থীদের লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ওই শিক্ষককে সব ধরনের ক্লাস থেকে অব্যাহতি দিয়ে তার কোর্সগুলো অন্য শিক্ষকদের মধ্যে পুনর্বণ্টনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিভাগীয় একাডেমিক কমিটি।
গতকাল বুধবার (৭ অক্টোবর) ইংরেজি বিভাগের ১৫তম ব্যাচের (২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষ) একটি ক্লাসে ঘটনাটি ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা।
পরে কয়েকজন শিক্ষার্থী লিখিতভাবে বিভাগীয় চেয়ারম্যানের কাছে অভিযোগ দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে জরুরি একাডেমিক কমিটির সভা ডেকে ওই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে ইংরেজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. তাজিন আজিজ চৌধুরী বলেন, শিক্ষার্থীদের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে জরুরি একাডেমিক কমিটির সভা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ ও সাম্প্রতিক ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সভায় একটি রেজুলেশন নেওয়া হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের কোর্সগুলো পুনর্বণ্টন করে অন্য শিক্ষকদের দেওয়া হয়েছে।
অধ্যাপক তাজিন আজিজ চৌধুরী আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী এ ধরনের বিষয়ে উপাচার্য, একাডেমিক কাউন্সিল ও সিন্ডিকেট প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে। বিভাগ থেকে ঘটনাটি তাদের অবহিত করা হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হবে।
শিক্ষার্থীর অভিযোগ
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মল্লিকার ভাষ্য, ঘটনার দিন তাসনিম সিরাজ মাহবুবের একটি কোর্সের ক্লাস চলছিল। ক্লাসের শুরুতে তিনি শিক্ষকের ডেস্কের বাম পাশে বসেছিলেন। এ সময় শিক্ষকের সঙ্গে দুইবার চোখাচোখি হওয়ার পর শিক্ষক তাঁকে ওই জায়গায় বসে থাকলে অস্বস্তি ও অনিরাপদ বোধ করছেন বলে জানান এবং অন্য শিক্ষার্থীদের ভিড়ের মধ্যে গিয়ে বসতে বলেন।
মল্লিকা বলেন, “শিক্ষক আমাকে একপর্যায়ে বলেন, ‘তুমি এখানে বসে থাকলে আমার আনকমফোর্টেবল ফিল হচ্ছে, আমার আনসেফ ফিল হইতেছে। আমি চাচ্ছি যে তুমি ক্রাউডের মধ্যে গিয়ে বসো।’ এরপর তিনি ক্লাস থেকে বের হয়ে যান।’’
মল্লিকার অভিযোগ, নেকাব ও হিজাব নিয়ে এর আগেও ওই শিক্ষকের সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি হয়েছে। শিক্ষক তার পোশাক নিয়ে প্রশ্ন করেছেন এবং কেন এভাবে পোশাক পরেছেন, তা জানতে চেয়েছেন। এ সময় শিক্ষক নিজের হজ করার বিষয় উল্লেখ করে সেখানে মুখ খোলা রাখা যায় বলেও মন্তব্য করেছেন বলে দাবি করেন তিনি।
এর আগের একটি ক্লাসে শিক্ষক তাকে মুখ ঢেকে এভাবে চললে নেকাব খুলে দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছিলেন বলে অভিযোগ করেন মল্লিকা।
তিনি বলেন, শিক্ষক তাকে বলেছেন, তিনি জানেন না ওই শিক্ষার্থী কে। তখন তিনি অফিস আওয়ারে দেখা করে নিজের পরিচয় নিশ্চিত করার এবং পরিচয়পত্র দেখানোর প্রস্তাব দেন।
তবে এরপরও প্রতিদিন তাকে শনাক্ত করার বিষয়টি নিয়ে শিক্ষক আপত্তি জানিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন মল্লিকা। তার দাবি, বুধবারের ঘটনাটি বিচ্ছিন্ন নয়; বরং নিকাব ও পোশাক নিয়ে শিক্ষকের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
‘জঙ্গি’ ও ‘বোমা মারতে পারে’ মন্তব্যের অভিযোগ
ইংরেজি বিভাগের ১৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থী রাইসা মণি সুমিও ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ক্লাসে ইসলামবিরোধী বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ করেন।
তার দাবি, ঘটনার দিন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পোশাক নিয়ে শিক্ষককে তিনি বলেন, ওই শিক্ষার্থী একটি নির্দিষ্ট মাযহাব অনুসরণ করেন বলেই এভাবে পর্দা করেন।
সুমির অভিযোগ, এ সময় শিক্ষক কোনো মাযহাব না মানার বিষয়ে মন্তব্য করেন এবং ইসলাম পালনের ক্ষেত্রে হজ, নামাজ, রোজা ও যাকাতের প্রসঙ্গ তোলেন। পরে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে সমর্থন করার কারণে তার প্রতিও শিক্ষক ক্ষুব্ধ হন বলে দাবি করেন সুমি।
সুমির ভাষ্য, একপর্যায়ে শিক্ষক ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে ‘জঙ্গি’ এবং তিনি ‘বোমা মারতে পারেন’- এমন মন্তব্য করেন। তিনি আরও বলেন, আফগানিস্তান ও ফিলিস্তিনের মানুষের পোশাকের ভিন্নতার উদাহরণ দিয়ে পর্দার ক্ষেত্রে বৈচিত্র্যের কথা বললেও শিক্ষক তাকে কথা বলার সুযোগ দেননি।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ওই ক্লাসে পোশাকের সীমা নিয়েও শিক্ষক মন্তব্য করেন। এ সময় কয়েকজন শিক্ষার্থী ক্লাস থেকে বের হয়ে যান বলে দাবি করেন সুমি।
অভিযুক্ত শিক্ষক শিক্ষার্থীদের হুমকি দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। সুমির দাবি, শিক্ষক নিজেকে রাজনৈতিকভাবে ক্ষমতাবান হিসেবে উল্লেখ করে কেউ তার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না- এমন কথাও বলেছেন। একই সঙ্গে ক্লাসের বড় একটি অংশে শিক্ষক নিজের পরিবারের বিষয়ে কথা বলেছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বক্তব্য
ঘটনার দিন বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী বলেন, বিভাগের পক্ষ থেকে তাকে মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং পরদিন জরুরি একাডেমিক কমিটির সভায় বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধান্ত হবে।
এরপর শিক্ষার্থীদের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে আজ বৃহস্পতিবার বিভাগের জরুরি একাডেমিক কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের কোর্সগুলো পুনর্বণ্টনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে শিক্ষার্থীদের অভিযোগগুলোর বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক তাসনিম সিরাজ মাহবুবের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং পরবর্তী প্রশাসনিক ব্যবস্থা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) ‘মেশিন ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড ইমার্জিং টেকনোলজিস (এমআইইটি) ২০২৬’ শীর্ষক ৩য় আন্তর্জাতিক কনফারেন্সের উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) নোবিপ্রবি বীরশ্রেষ্ঠ শহিদ মোহাম্মদ রুহুল আমিন অডিটোরিয়ামে দুই দিনব্যাপী আয়োজিত আন্তর্জাতিক এ কনফারেন্সে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) কারণে আমাদের সামনে যেমন বিশাল সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে, তেমনি নতুন নতুন চ্যালেঞ্জও সৃষ্টি হচ্ছে। তাই শুধু প্রচলিত শিল্পের ওপর নির্ভর না করে আমাদের প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনভিত্তিক অর্থনীতির দিকে এগিয়ে যেতে হবে। সেমিকন্ডাক্টরসহ উচ্চপ্রযুক্তির বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশে কাজ করার বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। জাতীয় ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬-এ এক হাজারের বেশি উদ্ভাবন এসেছে। এসব উদ্ভাবনকে গবেষণা ও উন্নয়নের মাধ্যমে বাস্তবমুখী পণ্যে রূপান্তর এবং বাজারজাত করার লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি।
তিনি আরও বলেন, আমাদের স্থানীয় সমস্যাগুলোকে চিহ্নিত করে প্রযুক্তির মাধ্যমে সেগুলোর সমাধান বের করতে হবে। এক্ষেত্রে ফান্ডিং অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, তবে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো উদ্যোগের অভাব। আমরা সমন্বিতভাবে কাজ করতে পারলে বেসরকারি খাত ও আন্তর্জাতিক উৎস থেকে প্রয়োজনীয় অর্থ পাওয়া সম্ভব। এ সময় ইনোভেশন ফেয়ারে উপস্থাপিত গবেষণাপত্র ও উদ্ভাবনগুলোর সারসংক্ষেপ করে কীভাবে সেগুলো বাজারে নিয়ে আসা যায়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় কাজ করছে বলে জনান তিনি।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বলেন, আমরা এমন এক সময়ে বসবাস করছি, যখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মেশিন লার্নিং, সাইবার নিরাপত্তা ও রোবোটিকসসহ উদীয়মান প্রযুক্তি মানুষের জীবন ও সমাজব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন আনছে। তাই গবেষণাকে শুধু গবেষণাগারে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তব জীবনের সমস্যা সমাধান এবং মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজে লাগাতে হবে। বিশেষ করে বাংলাদেশের মতো দেশের জন্য প্রযুক্তিগত অগ্রগতি হতে হবে অন্তর্ভুক্তিমূলক, টেকসই ও সবার জন্য সহজলভ্য। এ ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে ভবিষ্যৎ গবেষক, উদ্ভাবক ও প্রযুক্তিবিদ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।
উপাচার্য আরও বলেন, এবারের সম্মেলনে প্রায় ৫০টি প্রতিষ্ঠানের গবেষকরা অংশগ্রহণ করছেন এবং গৃহীত গবেষণাপত্রের ২৪ শতাংশে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে, যা সম্মেলনের আন্তর্জাতিক পরিসর ও গবেষণা সহযোগিতার সম্ভাবনাকে আরও সুদৃঢ় করেছে। বক্তব্যে গবেষকদের জন্য এ সম্মেলনটিকে একটি চমৎকার প্ল্যাটফর্ম উল্লেখ করে দেশকে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের পথে এগিয়ে নিতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দীন এবং প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আশরাফুল আলম। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মাঝে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, ইনস্টিটিউটের পরিচালক, বিভাগের চেয়ারম্যান ও কনফারেন্সের অর্গানাইজিং চেয়ার মো. ইফতেখারুল আলম ইফাতসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, গবেষক, আমন্ত্রিত অতিথি ও সাংবাদিকবৃন্দ।
কনফারেন্সে কী-নোট স্পিকার ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাসের বিগ ডেটা অ্যানালাইসিস এন্ড ম্যানেজমেন্ট ল্যাবের পরিচালক অধ্যাপক ড. লতিফুর খান, যুক্তরাষ্ট্রের পারডু ইউনিভার্সিটির এলমোর স্কুল অব ইলেকট্রিক্যাল এন্ড কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং এর অধ্যাপক মুহাম্মদ এম. হুসেইন, যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস টেক ইউনিভার্সিটির নিউট্রিশনাল সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক শেখ মো. শরিফুল ইসলাম এবং যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টন ইউনিভার্সিটির ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের মূরস প্রফেসর ঝুহান। এতে ইনভাইটেড স্পিকার হিসেবে ছিলেন আহসান উল্ল্যাহ ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স এন্ড টেকনোলজির কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শামিম আখত্রা এবং যুক্তরাষ্ট্রের আরগন ন্যাশনাল ল্যাবরেটরির ম্যাথমেটিক্স এন্ড কম্পিউটার সায়েন্স ডিভিশনের পোস্ট ডক্টরাল অ্যাপয়েন্টি ড. আহমেদুর রহমান শোভন।
উল্লেখ্য, এবার কনফারেন্সে মোট ৩৩৫ টি পেপারের মধ্যে ৫৪ টি পেপার চূড়ান্তভাবে মনোনীত হয়েছে। মেশিন লার্নিং, ডেটা সায়েন্স, ইন্টারনেট অফ থিংস, ক্লাউড কম্পিউটিং, সেন্সিং এবং নিরাপত্তার মতো প্রযুক্তির প্রয়োগের মাধ্যমে গবেষক, শিক্ষাবিদ, শিল্পখাতের পেশাজীবী এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞদের মধ্যে মতবিনিময় ও তাদের অত্যাধুনিক গবেষণালব্ধ ফলাফল তুলে ধরার সুযোগ করে দেওয়াই এই সম্মেলনের লক্ষ্য। সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রের গবেষকদের তাদের মৌলিক, অভিনব এবং অপ্রকাশিত গবেষণাপত্র এই সম্মেলনে জমা দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কনফারেন্সে বাংলাদেশ ছাড়াও ইতালী, আমেরিকা, জাপান, অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশ, বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয় এবং প্রতিষ্ঠানের দুই শতাধিক গবেষক তাদের গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। কনফারেন্সের সহযোগী হিসেবে রয়েছে সেন্টার ফর ন্যাচারাল সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং রিসার্চ (CNSER), ক্রিয়েটিভ ইনস্টিটিউটস অব ক্যারিয়ার্স, টেকনোলজি এন্ড রিসার্চ (CICTR) এবং স্প্রিংগার।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদের অধীনে নতুন দু’টি বিভাগ চালুর অনুমতি দিয়েছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)। বিভাগ দুটি হলো— ‘তুলনামূলক তাফসীর’ ও ‘সিরাত আল-নাবাবিয়া’।
ইউজিসির ইন্সপেকশন ও মনিটরিং শাখা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বরাবর পাঠানো এক চিঠিতে এ অনুমতি দেওয়া হয়। বিষয়টি আজ (৭ অক্টোবর) প্রকাশিত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা স্বাগত জানিয়েছেন।
চিঠিতে বলা হয়, কমিশন কর্তৃক গঠিত কমিটির সুপারিশের আলোকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাথমিক অবকাঠামো ও সার্বিক সুযোগ-সুবিধা, বিধিবদ্ধ বিধান, একাডেমিক কাউন্সিল ও সিন্ডিকেটের অনুমোদন এবং স্নাতকদের ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়ে বিভাগ দুটি খোলার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
ইউজিসির শর্ত অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে বিভাগ দুটিতে শিক্ষার্থী ভর্তি করা যাবে। প্রতিটি বিভাগে স্নাতক পর্যায়ে প্রতি শিক্ষাবর্ষে সর্বোচ্চ ৪০ জন করে শিক্ষার্থী ভর্তি করা যাবে। তবে আপাতত বিভাগ দুটির শিক্ষাকার্যক্রম পরিচালনার জন্য কোনো শিক্ষক, কর্মকর্তা বা কর্মচারীর পদ ছাড় করা হয়নি। শিক্ষাকার্যক্রম শুরু হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের চাহিদা বিবেচনায় পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে পদ ছাড়ের ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, এই দুই বিভাগ চালুর মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় তার লক্ষ্য-উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে এক ধাপ এগিয়ে গেল। আগামী ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে এই দুই বিভাগে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল লক্ষ্য উদ্দেশ্য ঠিক রেখেই একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
এর আগে গত বছরের ২৬ মে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৩০তম একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় বিভাগ দুটি চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ৩১ মে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় সিদ্ধান্তটি চূড়ান্ত হয়। তখন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষ থেকেই বিভাগ দুটির কার্যক্রম শুরুর কথা জানানো হয়েছিল। তবে ইউজিসির অনুমোদনের প্রেক্ষিতে এখন ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে বিভাগ দুটিতে শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ তৈরি হলো।
শিক্ষার্থীরা বর্তমান প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেছেন, দীর্ঘদিন পর ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল লক্ষ্য উদ্দেশ্য পূরণের পথে দেখে ভালো লাগলো। আগামীতে একাডেমিক কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হোক সেটাই আমাদের চাওয়া।
এদিকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের খতিব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে দুটি নতুন বিভাগ, দুটি নতুন সম্ভাবনা উন্মুক্ত হয়েছে। তুলনামূলক তাফসির ও আস-সীরাহ আন-নববিইয়া নামে দুটি নতুন বিভাগ খোলা হয়েছে। একটি বিশ্ববিদ্যালয় যখন নতুন বিভাগ খোলে, তখন শুধু কিছু নতুন আসন তৈরি হয় এমন না, বরং এর মাধ্যমে একটি নতুন জ্ঞানচর্চার দরজা খুলে যায়? সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে এটি বাংলাদেশের ইসলামী উচ্চশিক্ষার গতিপথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে। এই ঐতিহাসিক উদ্যোগের জন্য বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন—ইউজিসি (UGC), ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য, প্রশাসন, একাডেমিক কাউন্সিল, সিন্ডিকেট, সংশ্লিষ্ট অনুষদ ও শিক্ষকবৃন্দকে এবং যাদের চিন্তা ও প্রচেষ্টায় এটা সম্ভব হয়েছে তাদের সকলকে জানাই আন্তরিক অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা।
‘তাফসির’ থেকে ‘তুলনামূলক তাফসির’
কুরআনের তাফসির মুসলিম জ্ঞান-ঐতিহ্যের অন্যতম সমৃদ্ধ শাখা। কিন্তু তাফসিরের ইতিহাস শুধু একটি বই বা একজন মুফাসসিরের ব্যাখ্যার ইতিহাস নয়। তাবারি, ইবন কাসির, কুরতুবি, রাযি, ইবন আশুরসহ বিভিন্ন যুগের মুফাসসিরগণ তাঁদের নিজস্ব জ্ঞানভুবন, পদ্ধতি ও সময়ের বাস্তবতার আলোকে কুরআনকে ব্যাখ্যা করেছেন। তুলনামূলক তাফসির সেই বৈচিত্র্যকে গবেষণার বিষয় করে।
নোবিপ্রবিতে বৃহত্তর বরিশাল স্টুডেন্ট'স ফোরাম-র নেতৃত্বে সাজিদ-মেহেদী
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) বৃহত্তর বরিশাল স্টুডেন্ট'স ফোরাম-র ২০২৬-২৭ কার্যনির্বাহী কমিটি গঠিত হয়েছে। নতুন কমিটিতে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. সাজিদ তালুকদার এবং সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন পরিবেশ বিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের একই শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. মেহেদী হাসান।
নবগঠিত কমিটিতে সহ-সভাপতি হিসেবে রয়েছেন এসিসিই বিভাগের মো. হাসান আলী ও সিএসটিই বিভাগের তাসীন ইসলাম ঋজু। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সিয়াম মাহমুদ ও সমাজকর্ম বিভাগের প্রীতম কীর্ত্তনিয়া এবং কৃষি বিভাগের সৈকত বড়াল। এছাড়াও সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন টিএইচএম বিভাগের মো. কাওসার মাহমুদ এবং সহ সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন শিক্ষা বিভাগের মুঈন উদ্দিন।
ফোরামের দপ্তর সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন এসিসিই বিভাগের অর্নব দাস ও উপ দপ্তর সম্পাদক হয়েছেন ফলিত গণিত বিভাগের সাইদুল ইসলাম সিয়াম। এছাড়া অর্থ বিষয়ক সম্পাদক হয়েছেন মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের মো. মারুফ হোসেন। উপ-অর্থ বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন পরিসংখ্যান বিভাগের মো. জাবের। প্রচার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন সমাজকর্ম বিভাগের নাহিয়ান চৌধুরী। উপ-প্রচার সম্পাদক হয়েছেন বাংলা বিভাগের হামিম।
আইন সম্পাদক হয়েছেন আইন বিভাগের মো. তানভীর রেসাদ। ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক হয়েছেন বিজিই বিভাগের ইবাদুর রহমান। ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সম্পাদক হয়েছেন একই বিভাগের আফরিন জান্নাত মুনিহা।
ছাত্র কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন এমবিজি বিভাগের মো. তানভীর হোসেন এবং উপ-ছাত্র কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন সিএসটিই বিভাগের কার্তিক চন্দ্র পাল। ছাত্রী কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক হয়েছেন পরিসংখ্যান বিভাগের ফেরদৌসি বিনতে হাফিজ এবং উপ-ছাত্রী কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক হয়েছেন সিএসটিই বিভাগের সাইমা আক্তার। ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন পরিসংখ্যান বিভাগের মো. শাকিল রহমান এবং উপক্রীড়া বিষয় সম্পাদক হয়েছেন ইএসডিএম বিভাগের দেবাঞ্জন সমদ্দার।
এছাড়া আপ্যায়ন বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন শিক্ষা বিভাগের উম্মে হাবিবা। উপ-আপ্যায়ন বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন বিজিই বিভাগের মিজানুর রহমান। তথ্য ও যোগাযোগ বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন আইআইটি বিভাগের আঁখি আজাদ। উপ-তথ্য ও যোগাযোগ বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন একই বিভাগের মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম আবির। শিক্ষা ও পাঠচক্র বিষয়ক সম্পাদক হয়েছেন ফার্মেসী বিভাগের জিমহা আক্তার। সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক হয়েছেন একই বিভাগের মেহেরুন্নেসা মীম। পরিবেশ ও সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সুরাইয়া তাবাসসুম সেতু। ত্রাণ ও দুর্যোগ বিষয়ক সম্পাদক হয়েছেন ইএসডিএম বিভাগের কামরুল ইসলাম মিথুন। প্রচার ও মিডিয়া বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন আইসিই বিভাগের মো. নাজমুল হোসেন। গবেষণা ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ফলিত গণিত বিভাগের স্বাক্ষর মুখার্জী।
নতুন কমিটি নিয়ে সভাপতি মো. সাজিদ তালুকদার বলেন, বৃহত্তর বরিশাল স্টুডেন্ট’স ফোরামের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়ে আমি অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। আমাদের এই সংগঠন হবে পারস্পরিক সহযোগিতা, ভ্রাতৃত্ব ও ঐক্যের একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম।
সকলের মতামত ও সহযোগিতা নিয়ে ফোরামকে আরও সুন্দর, সক্রিয় ও ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে নিতে চাই। চলুন, আমরা একসাথে স্বপ্ন দেখি, একসাথে এগিয়ে যাই-আমাদের ঐক্যই হোক আমাদের শক্তি, আর আমাদের সম্মিলিত উদ্যোগেই গড়ে উঠুক বৃহত্তর বরিশালের একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ।
সাধারণ সম্পাদক মো. মেহেদী হাসান বলেন, বৃহত্তর বরিশাল স্টুডেন্টস ফোরামের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আমাকে যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তার জন্য আমি ফোরামের শ্রদ্ধেয় শিক্ষক, বড় ভাই-বোনসহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ। তারা আমার ওপর যে আস্থা ও বিশ্বাস রেখেছেন, আমি সেই বিশ্বাসের যথাযথ মূল্য দেওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। ভবিষ্যতে বৃহত্তর বরিশালের সব শিক্ষক, শিক্ষার্থী,কর্মকর্তাসহ সকলকে সঙ্গে নিয়ে পারস্পরিক সহযোগিতা, ভ্রাতৃত্ব ও ঐক্য বজায় রেখে কাজ করতে চাই। ফোরামের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও শিক্ষার্থীবান্ধব করার পাশাপাশি বৃহত্তর বরিশালের শিক্ষার্থীদের কল্যাণে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করাই হবে আমার মূল লক্ষ্য।
নতুন কমিটি বিষয়ে ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক ইবাদুর রহমান বলেন, অনেক দিনের স্থবিরতার পর নতুন কমিটি আসায় স্বাভাবিকভাবেই সবার প্রত্যাশা অনেক বেশি। নতুন নেতৃত্ব সেই প্রত্যাশা পূরণে পরিষদের সকলকে সঙ্গে নিয়ে একটি প্রাণবন্ত, কার্যকর ও পারস্পরিক সহযোগিতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করবে—এটাই আমাদের কাম্য।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে( বাকৃবি) নিপীড়নবিরোধী দিবস ও শহীদ আবরার ফাহাদ এর সপ্তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে বাকৃবি শাখা ছাত্রশিবিরের আয়োজনে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রতি বছরের ন্যায় এবারও শহীদ আবরার ফাহাদের স্মরণ ও ক্যাম্পাসে যেকোনো ধরনের রাজনৈতিক ও শারীরিক নির্যাতন (র্যাগিং ও নিপীড়ন) বন্ধের প্রতীক হিসেবে তাদের এ আয়োজন।
বুধবার( ৭ অক্টোবর) বাদ আছর বাকৃবির সেন্ট্রাল মসজিদে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রায় শতাধিক মুসল্লি অংশগ্রহণ করেন। পরবর্তীতে মসজিদ সংলগ্ন প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করেন শাখা ছাত্রশিবির।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মঈন সহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্য, সাথী, কর্মী ও সমর্থকরা।
বাকৃবি ছাত্রশিবিরের সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মঈন বলেন, শহীদ আবরার ফাহাদ সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে কথা বলতে গিয়ে নির্মমভাবে শাহাদাতবরণ করেছেন। তাঁর আত্মত্যাগ আমাদের জন্য অন্যায় ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস জোগায়। শিক্ষাঙ্গনে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা জরুরি। আমরা চাই, কোনো শিক্ষার্থী যেন মতের ভিন্নতার কারণে নিপীড়ন বা হয়রানির শিকার না হন। শহীদ আবরারের আত্মত্যাগ থেকে শিক্ষা নিয়ে অন্যায় ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে সবাইকে সোচ্চার হতে হবে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের মেধাবী ছাত্র শহীদ আবরার ফাহাদ। ২০১৯ সালের ৭ অক্টোবর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করেছিল। গতবছর শহীদ আবরার ফাহাদের ৬ষ্ঠ শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষ্যে জাতীয় ‘নিপীড়নবিরোধী দিবস’ ঘোষণা ও তা যথাযথভাবে পালনের আহ্বান জানায় বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।
সদরঘাটে ‘প্রিন্স আওলাদ’ লঞ্চে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কর্মীদের বাগ্বিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনার পর ছাত্রদলের কিছু কর্মী মীমাংসার নামে ৪০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি এবং পরে ২০ হাজার টাকা নেন। এ ঘটনায় ছাত্রদল কর্মীদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর সাংবাদিকদেরই প্রশ্নবিদ্ধ করে ফেসবুকে পোস্ট করেছেন জবি শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল।
তার পোস্টে ঘটনার সূত্রপাত হিসেবে বেশি ভাড়ার টাকা নিয়ে বিরোধের কথা বলা হলেও, জানা যায় ওই দিন ‘প্রিন্স আওলাদ’ লঞ্চে কোনো যাত্রী ছিল না; লঞ্চটি সদরঘাটে এমনিতেই রাখা ছিল।
গতকাল মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাতে এক ফেসবুক পোস্টে হিমেল এসব কথা বলেন।
এর আগে, লঞ্চে মাদক সেবনের সন্দেহে দুই জবি শিক্ষার্থীকে প্রবেশে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে প্রথমে তাদের সঙ্গে লঞ্চকর্মীদের কথা-কাটাকাটি হয়। পরে আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী ঘটনাস্থলে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে বলে জানা যায়।
ঘটনায় জবি শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সামসুল আরেফিনের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত সৈকত, কাব্য, ইমন, আসিফ, আলিমুল ও পবন এবং জিয়াউদ্দিন বাসিতের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত শের আলীর উপস্থিতি ছিল।
পরে বিষয়টি মীমাংসার নামে লঞ্চ মালিক সমিতির কাছে ৪০ হাজার টাকা দাবি করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। পরে ২০ হাজার টাকায় বিষয়টি মীমাংসা করা হয়।
তবে ফেসবুক পোস্টে হিমেল দাবি করেন, ঘটনাটি মূলত বেশি ভাড়ার দাম নিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে লঞ্চকর্মীদের তর্ক থেকে শুরু হয়। তার দাবি, পরে মালিকপক্ষের লোকজন শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করলে আহত এক শিক্ষার্থী তার সহপাঠী ও সিনিয়রদের সহযোগিতা চান। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের ফটকে থাকা বন্ধুবান্ধব ও সিনিয়ররা তাকে উদ্ধার করতে ঘটনাস্থলে যান এবং মালিকপক্ষ ও টার্মিনাল প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিচারের দাবি জানান।
হিমেল আরও দাবি করেন, মালিকপক্ষ পরে বারবার ক্ষমা চেয়ে ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেয়। আহতদের চিকিৎসা খরচ ও মোবাইলের ক্ষয়ক্ষতির বিষয় বিবেচনায় মালিকপক্ষ মানবিক দিক থেকে কোনো নগদ অর্থ দিয়েছে কি না, সে বিষয়ে তিনি অবগত নন বলেও পোস্টে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে সেখানে কী ধরনের সমঝোতা হয়েছে, কত টাকা বা কীভাবে বিষয়টি নিষ্পত্তি হয়েছে-এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত অবগত নন বলে দাবি করেন।
তবে ঘটনার পর লঞ্চ মালিকপক্ষের সঙ্গে মীমাংসা বৈঠকে ৪০ হাজার টাকা দাবি এবং পরে ২০ হাজার টাকায় বিষয়টি নিষ্পত্তির তথ্য সংশ্লিষ্ট সূত্রে পাওয়া গেছে। লঞ্চে কর্মরত এক ব্যক্তি পরিচয় গোপন রাখার শর্তে জানান, বৈঠকে ৪০ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছিল এবং পরে ২০ হাজার টাকায় বিষয়টি মীমাংসা হয়। তবে অর্থ কার হাতে বা কীভাবে দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তিনি জানাননি।
এদিকে, হিমেলের পোস্টে ঘটনাটি ভাড়ার টাকা নিয়ে শুরু হওয়ার দাবি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই দিন ‘প্রিন্স আওলাদ’ লঞ্চে কোনো যাত্রী ছিল না; সেটি সদরঘাটে এমনিতেই রাখা ছিল। ফলে লঞ্চে যাত্রী না থাকলে ভাড়া নিয়ে বিরোধের বিষয়টি কীভাবে ঘটল, তা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পরই ছাত্রদল আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল তার ফেসবুক পোস্টে সাংবাদিকতার বস্তুনিষ্ঠতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি কোনো ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তথ্য না জেনে কিংবা সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য যাচাই না করে সেটিকে সরাসরি ‘চাঁদাবাজি’ হিসেবে প্রচার করা কতটা বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা- সে প্রশ্ন তোলেন।
উল্লেখ্য, ঘটনার দিন মীমাংসার সময় তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে বাংলাদেশ বুলেটিনের জবি প্রতিনিধি আকাশ আহমেদ রুপম ও পাবলিক নিউজের জবি প্রতিনিধি এটিএম হাসনাত হাবিবের সঙ্গে উপস্থিত ছাত্রদলকর্মীদের বাগ্বিতণ্ডা ও ধাক্কাধাক্কির অভিযোগ ওঠে। একপর্যায়ে তাদের ঘটনাস্থল থেকে বের করে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ১৬ শিক্ষার্থী প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক-২০১৯, ২০২০ ও ২০২১-এর জন্য চূড়ান্তভাবে মনোনীত হয়েছেন। এর মধ্যে ২০১৯ সালের জন্য ছয়জন, ২০২০ সালের জন্য পাঁচজন এবং ২০২১ সালের জন্য পাঁচজন শিক্ষার্থী রয়েছেন।
গত সোমবার (৫ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক-২০১৯-এর জন্য জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মনোনীত ছয় শিক্ষার্থী হলেন হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য ব্যবস্থা বিভাগের মো. সাগর ইসলাম, পরিসংখ্যান বিভাগের মো. ইসমাইল হোসাইন হৃদয়, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সুরাইয়া বিনতে রফিক, অর্থনীতি বিভাগের মিতু রানী রায়, আইন বিভাগের মাহমুদা আমির ইভা এবং মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের শারমিন আক্তার। তারা সবাই ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।
২০২০ সালের জন্য মনোনীত পাঁচজন হলেন শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইআর) অনুরাধা পাল, মার্কেটিং বিভাগের মো. নয়ন হোসাইন, গণিত বিভাগের তাসলিমা আক্তার, লোকপ্রশাসন বিভাগের মাহাবুবুল আলম এবং উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের মো. আনিক মিয়া। তারা ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।
এ ছাড়া ২০২১ সালের জন্য মনোনীত হয়েছেন ইংরেজি বিভাগের রুনা আক্তার, পরিসংখ্যান বিভাগের রেহানা আক্তার তামিম, নৃবিজ্ঞান বিভাগের লায়লা নিগার তানভী, আইন বিভাগের হামিদা সুলতানা এবং ফার্মেসি বিভাগের মৌসুমি আক্তার মিতু। তারা ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।
প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের মেধাবী শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফলের স্বীকৃতি এবং উচ্চশিক্ষায় উৎসাহিত করতে ইউজিসি প্রবর্তিত একটি মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার। ২০০৫ সালে এ পদক চালু করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় ও অন্যান্য উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে বিভিন্ন অনুষদ বা বিভাগে সর্বোচ্চ ফলাফল অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের এ পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা হয়।
ইউজিসির বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এবার প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক-২০১৯, ২০২০ ও ২০২১-এর জন্য দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মোট ৪৬৯ জন শিক্ষার্থী চূড়ান্তভাবে মনোনীত হয়েছেন।