দোলনচাঁপা হলে অগ্নিকাণ্ডের পরের চিত্র
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দোলনচাঁপা হলে গ্যাসলাইনের লিকেজ থেকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে দর্শন বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সুরভী আক্তার আহত হয়েছেন। শনিবার (৭ নভেম্বর) সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে। পরে তাঁকে উদ্ধার করে ত্রিশাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের দোলনচাঁপা হলের হাউস টিউটর ও মার্কেটিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. সুমনা আক্তার সুমি।
অধ্যাপক ড. সুমনা আক্তার সুমি জানান, দোলনচাঁপা হলের তৃতীয় তলার রান্নাঘরের গ্যাসলাইনের পাইপে লিকেজ থাকায় গ্যাস নির্গত হচ্ছিল। এ সময় এক শিক্ষার্থী রান্না করতে গেলে হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত হয়। আগুনের ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে ওই শিক্ষার্থী মেঝেতে পড়ে যান।
তিনি বলেন, “তাঁর কান্নাকাটি দেখে প্রথমে আমরা আশঙ্কা করেছিলাম, হয়তো তাঁর হাত ভেঙে গেছে। তবে সৌভাগ্যবশত তাঁর হাত ভাঙেনি এবং তিনি গুরুতর আহতও হননি।”
তিনি আরও জানান, ঘটনার পরপরই তাঁরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন এবং দ্রুত গ্যাসলাইনের লিকেজ বন্ধের ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।
এদিকে, আহত শিক্ষার্থী বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাঁর হাতের নড়াচড়া সীমিত রেখে বিশ্রামে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসক। এ জন্য তাঁকে একটি বেল্ট দেওয়া হয়েছে। তবে বর্তমানে তাঁর শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায়নি।
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস-২০২৬ উদযাপন শুরু
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে দুই দিনব্যাপী জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস-২০২৬ উদযাপন শুরু হয়েছে।
দিবসটি উপলক্ষে শনিবার (৭ নভেম্বর) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রশাসনিক ভবনের সামনে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে জাতীয় পতাকা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ইমদাদুল হুদা। বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলন করেন বিভিন্ন অনুষদের ডিনরা।
পতাকা উত্তোলন শেষে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, জাতীয় জীবনে দিবসটির গুরুত্ব এবং জাতীয় ঐক্য ও সংহতির তাৎপর্য তুলে ধরা হয়।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ইমদাদুল হুদা বলেন, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের তাৎপর্য বুঝতে হলে এর ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট জানা প্রয়োজন। ১৯৭১ সালে দেশের মানুষ যে আশা-আকাঙ্ক্ষা নিয়ে স্বাধীনতা অর্জন করেছিল, পরবর্তী সময়ে প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির মধ্যে ব্যবধান তৈরি হওয়ায় জনমনে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান নিহত হওয়ার পর দেশে রাজনৈতিক ও সামরিক অস্থিরতা দেখা দেয়। সেনাবাহিনীর শৃঙ্খলা ও চেইন অব কমান্ড ভেঙে পড়ে।
তিনি আরও বলেন, ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর এক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে তৎকালীন সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানকে গৃহবন্দী করা হয়। এমন পরিস্থিতিতে দেশের প্রশাসনিক অবস্থা সম্পর্কে সাধারণ মানুষ অন্ধকারে ছিল। পরবর্তী সময়ে ৭ নভেম্বর সিপাহী-জনতার ঐক্যবদ্ধ বিপ্লব ও পাল্টা অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে জিয়াউর রহমান মুক্ত হন। সেদিন আন্দোলনরত সিপাহী-জনতা তাঁকে মুক্ত করে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, সেনাবাহিনী ও জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে চাইলে দেশের গতিপথ পরিবর্তন করতে সক্ষম। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের সিপাহী-জনতার বিপ্লব এবং ২০২৪ সালের গণআন্দোলনেও ঐক্যবদ্ধ জনগণের শক্তির প্রতিফলন ঘটেছে। জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের তাৎপর্য তখনই সার্থক হবে, যখন সবাই ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় দেশকে সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে কাজ করবেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দিবসটি উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর মো. তানজিল হোসেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো. রাজু আহমেদ, আইন অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. আহমেদ শাকিল হাসমী, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার খন্দকার নাজমুল হাসান, ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাশুরেন্স সেলের পরিচালক প্রফেসর ড. এ এইচ এম কামাল, বিদ্রোহী হলের প্রভোস্ট প্রফেসর ড. মো. সাইফুল ইসলাম, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. মো. হাবিব-উল-মাওলা (মাওলা-প্রিন্স), অর্থনীতি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. বখতিয়ার উদ্দিন, প্রক্টর ড. মো. মাহবুবুর রহমানসহ বিভিন্ন বিভাগের ও দপ্তরের প্রধান, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীরা।
এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব ও সদস্য-সচিব মামুন সরকার বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক প্রফেসর ড. মো. আশরাফুল আলম।
উল্লেখ্য, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আগামী ১২ নভেম্বর ২০২৬, বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ে বৃহৎ পরিসরে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় লোগো
রাজধানীর গভর্নমেন্ট কলেজ অব অ্যাপ্লাইড হিউম্যান সায়েন্সের শিক্ষার্থীদের সংবাদ সম্মেলন
রাজধানীর গভর্নমেন্ট কলেজ অব অ্যাপ্লাইড হিউম্যান সায়েন্সের অধ্যক্ষ ড. মেহেরুন নেছাকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছেন শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে মধ্যরাতে পুলিশের হামলার অভিযোগ তদন্ত করে জড়িতদের বিচারের দাবিতে ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছেন তারা।শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটে কলেজের মূল ফটকের সামনে সংবাদ সম্মেলন করে এ ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা। এর আগে কলেজের সামনের সড়কের দুই পাশে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন তারা। এ সময় নীলক্ষেত মোড় থেকে আজিমপুর বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা দুই দফা দাবি তুলে ধরেন। প্রথম দাবিতে বলা হয়, মধ্যরাতে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলার ঘটনায় আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে। পাশাপাশি হামলায় জড়িত পুলিশ সদস্য ও কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক বিভাগীয় ও আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।
দ্বিতীয় দাবিতে কলেজের সব শিক্ষার্থীর পক্ষ থেকে অধ্যক্ষ ড. মেহেরুন নেছাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়। তার পদত্যাগের বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) থেকে আনুষ্ঠানিক সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়া পর্যন্ত কলেজের সব প্রশাসনিক কার্যক্রম, ক্লাস ও পরীক্ষা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখার ঘোষণা দেন তারা।শিক্ষার্থীরা জানান, দাবি পূরণে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো আশ্বাস না পাওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। দাবি আদায় না হলে পরবর্তী সময়ে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তারা।
এর আগে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ এনে বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তার পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন কলেজটির শিক্ষার্থীরা। একপর্যায়ে তারা অধ্যক্ষকে তার কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রাখেন। প্রায় ১৩ ঘণ্টা পর রাত সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশ তাকে সেখান থেকে উদ্ধার করে। এ সময় পুলিশি অভিযানে শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জের অভিযোগ ওঠে।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের দাবি, মধ্যরাতে পুলিশের হামলায় কয়েকজন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে হাতুড়ি দিয়ে পেটানো এবং এক নারী শিক্ষার্থীর চুল ও হিজাব ধরে টানাটানির অভিযোগও করেছেন তারা।
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শ্রী নারায়ণ চক্রবর্তী (অপু) লিউকেমিয়ায় আক্রান্ত।
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) সিএসটিই বিভাগের ৭ম ব্যাচের মেধাবী শিক্ষার্থী শ্রী নারায়ণ চক্রবর্তী (অপু) লিউকেমিয়ায় (রক্তের ক্যানসার) আক্রান্ত। অর্থাভাবে তার উন্নত চিকিৎসা ও জীবন রক্ষা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
ডিপার্টমেন্টে দ্বিতীয় স্থান অর্জনকারী সিএসটিই বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী অপু শুধু মেধাবীই নয়, ছিলেন অত্যন্ত বিনয়ী, নম্র ও ভদ্র। স্বপ্ন ছিল নিজের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হবে। সেই স্বপ্ন পূরণ না হলেও বর্তমানে একটি রাষ্ট্রায়ত্ত সরকারি ব্যাংকে প্রিন্সিপাল অফিসার হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। বিয়ে করেছেন, পৃথিবীর আলো দেখা তার ফুটফুটে ২০ মাসের একটি সন্তানও রয়েছে। প্রথমে সাধারণ অসুস্থতা ভেবে চিকিৎসা শুরু হয়েছিল। কিন্তু একের পর এক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানা গেল, শ্রী নারায়ণ চক্রবর্তী আক্রান্ত হয়েছেন লিউকেমিয়ায় (রক্তের ক্যানসার)।
চিকিৎসকদের মতে বর্তমান শারীরিক অবস্থা ও রোগের পর্যায় অনুযায়ী চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ হয়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু এই চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। দীর্ঘ চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন বিপুল অর্থ, যা একা একটি মধ্যবিত্ত পরিবারের পক্ষে বহন করা অত্যন্ত কঠিন।
একটি দরিদ্র ও সাধারণ পরিবারের পক্ষে এত বিপুল পরিমাণ চিকিৎসা খরচ বহন করা সম্পূর্ণ অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
যেভাবে সহযোগিতা পাঠাবেন:
অপুর সহপাঠীরা চান অপু আবার সুস্থ হয়ে তার ছোট্ট সন্তানের কাছে ফিরে যাক। তার পরিবারে যেন আবার হাসি ফিরে আসে। সামর্থ্য অনুযায়ী যে কেউ আর্থিক সহায়তা পাঠাতে পারেন নিচের মাধ্যমগুলোতে:
সহায়তার মাধ্যম (অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন)
বিকাশ / নগদ / রকেট:
01815721463 (Shetu, CSTE 7th)
01673571953 (Polash, CSTE 7th)
01670633325 (Mashpy, CSTE 5th)
🏦 BRAC Bank
Name: ABDUL AHAD
A/C no: 1501102918894001
Branch: Gulshan Branch
🏦 Dutch-Bangla Bank
Name: Md Akhlasur Rahman
A/C no: 1101030213136
Branch: Dhanmondi Branch
🌍 প্রবাসীদের জন্য: GoFundMe
QR কোড স্ক্যান করে বিদেশ থেকে ডোনেট করুন
https://gofund.me/53823c7e4
অপুর পরিবার (সরাসরি পরিবারের কাছে)
বিকাশ:
01632233308 (অপু)
01713612811 (বাবা)
01862-585139
01814078813
অপুর পরিবারের ব্যাংক হিসাব
🏦 Pubali Bank
A/C name: Proma Chakraborty
A/C no: 2592101083900
Routing: 175152441
Sheikh Mujib Road Branch, Chittagong
🏦 Bangladesh Development Bank
A/C name: Sree Narayan Chakraborty
A/C no: 0650100014927
Routing: 047271571
Principal Branch, Dhaka South
🏦 Sonali Bank
A/C name: Anita Chakraborty
A/C no: 0814401023066
Mirsharai Branch, Chittagong
📞 যোগাযোগ:
অপুর বাবা - 01713-612811
বন্ধু - 01670-456735
আপনার সামান্য সহযোগিতাই হতে পারে একটি জীবন বাঁচানোর লড়াইয়ে বড় অবলম্বন।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে অতিরিক্ত ৯০ মিনিট সময় নেয় সংগীত বিভাগ। এতে সময়সূচিতে পরিবর্তনের ফলে বড় ধরনের প্রভাব পড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যান্ডগুলোর পরিবেশনায়। পর্যাপ্ত সময় না পাওয়ার অভিযোগে অফসাইড, কিম্ভুত,স্বরূপ, কোমল গান্ধার ব্যান্ড প্রশাসনের আয়োজনে ভবিষ্যতে আর কোনো অনুষ্ঠানে অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।তবে সংগীত বিভাগের চেয়ারম্যান ড. অনিমা রায় বলছেন, বৃষ্টি, সাউন্ড সিস্টেম প্রস্তুতে বিলম্ব, মাইক্রোফোনের স্বল্পতা ও আমন্ত্রিত নৃত্যদলের দেরিতে পৌঁছানোর কারণে তাদের পরিবেশনা পিছিয়ে যায়।
গত ২ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে। অনুষ্ঠানটির প্রাথমিক সূচি অনুযায়ী, বিকেল ৩টা ২০ মিনিটে সংগীত বিভাগের মঞ্চ ছাড়ার কথা থাকলেও তারা অতিরিক্ত ৯০ মিনিট পর বিকেল ৪টা ৫০ মিনিটে মঞ্চ ছাড়ে এবং নাট্যকলা বিভাগ নির্দিষ্ট সময়ের চেয়ে ৬ মিনিট দেরীতে মঞ্চ ত্যাগ করে বলে জানান জকসুর সাংস্কৃতিক সম্পাদক তাকরিম আহমেদ। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এতে পরবর্তী পরিবেশনাগুলোর সময়সূচিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়ে।
অফসাইড ব্যান্ডের ভোকালিস্ট মাহমুদ হাসান আরিফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় অভিযোগ করেন, জকসুর সাংস্কৃতিক সম্পাদক ও ব্যান্ড মিউজিক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতির ব্যক্তিগত আক্রোশের কারণে অন্য ব্যান্ডগুলোর তুলনায় তাদের কম সময় দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় তারা সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের অধীনে আর কোনো অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন না বলেও জানান।
তবে ব্যক্তিগত আক্রোশের অভিযোগ অস্বীকার করে তাকরিম আহমেদ বলেন, তিনি জকসুর সাংস্কৃতিক সম্পাদক ও অনুষ্ঠানের পরিচালক হিসেবে প্রশাসনের নির্দেশনা অনুসারেই দায়িত্ব পালন করেছেন।
তাকরিমের ভাষ্য অনুযায়ী, ব্যান্ডগুলোর পরিবেশনা বিকেল ৪টা ৪০ মিনিট থেকে শুরু হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তা শুরু হয় সন্ধ্যা ৬টা ৩৩ মিনিটে। পরে নগরবাউল জেমসের পরিবেশনার জন্য দ্রুত মঞ্চ খালি করার প্রশাসনিক নির্দেশনা আসে। ফলে প্রতিটি ব্যান্ডকে ১৫ মিনিট করে সময় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে হয়। অফসাইড ব্যান্ড সাউন্ড চেক করতেই ১৬ মিনিট সময় নেওয়ায় তাদের পরিবেশনার সময় আরও সংকুচিত হয়ে পড়ে। একপর্যায়ে কিম্ভূত ও স্বরূপ ব্যান্ডও একটি করে গান পরিবেশন করে মঞ্চ ছাড়ে।
এদিকে, নাট্যকলা বিভাগের অতিরিক্ত ছয় মিনিট সময় নেওয়ার দায় স্বীকার করেছেন বিভাগটির চেয়ারম্যান রুবাইয়া জাবীন প্রিয়তা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক মন্তব্যে তিনি এ ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, শিক্ষার্থীরা পরিকল্পনা অনুযায়ী অংশ নিতে না পারায় শিক্ষক হিসেবে তিনিও বিব্রত। ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।
এ বিষয়ে সংগীত বিভাগের চেয়ারম্যান ড. অনিমা রায় বলেন, মঞ্চ প্রস্তুতে বিলম্ব, বৃষ্টির আশঙ্কায় সাউন্ড সিস্টেম ঢেকে রাখা, পর্যাপ্ত মাইক্রোফোনের অভাব এবং আমন্ত্রিত নৃত্যদলের দেরিতে পৌঁছানোর কারণে তাদের পরিবেশনা শুরু করতে বিলম্ব হয়। তিনি বলেন, “কোনো ঘটনাই ইচ্ছাকৃত নয়, পরিস্থিতির কারণে সময়সূচিতে পরিবর্তন এসেছে। জেমসের মতো একজন শিল্পীকে অপেক্ষায় রাখা সমীচীন মনে হয়নি। তাই প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী তার প্রতি সম্মান রেখে আমরা পরিবেশনা সংক্ষিপ্ত করেছি।”
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর সঙ্গে বিভাগের দূরত্ব তৈরি হোক, তা তারা চান না। ভবিষ্যতে আরও সুন্দর আয়োজনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
৪ বিশ্ববিদ্যালয়সহ ১৫ প্রতিষ্ঠানের অংশ গ্রহণে ইবিতে ১৭তম জাতীয় গণিত অলিম্পিয়াড
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) গণিত বিভাগের আয়োজনে বাংলাদেশ গণিত সমিতি এবং AF Mujibur Rahman Foundation এর তত্ত্বাবধানে খুলনা অঞ্চলের স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে "১৭তম জাতীয় স্নাতক গণিত অলিম্পিয়াড ২০২৬" অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকাল সাড়ে নয়টায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ফুটবল মাঠে খুলনা অঞ্চলের ৪ টি বিশ্ববিদ্যালয় ও ১১ টি কলেজের শিক্ষার্থীদের নিয়ে এই গণিত অলিম্পিয়াড অনুষ্ঠিত হয়।
উক্ত অলিম্পিয়াডে অংশ নেয় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭ টি বিভাগের শিক্ষার্থীসহ খুলনা অঞ্চলের বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা।
উক্ত অলিম্পিয়াডের আহবায়ক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আসাদুজ্জামানের নেতৃত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. এমতাজ হোসেন এবং ট্রেজারার অধ্যাপক ড. ইদ্রিস আলী। আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে ছিলেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক এবং জাতীয় গণিত অলিম্পিয়াড কমিটির সদস্য অধ্যাপক ড. মো. মনিরুল আলম সরকার।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেন, ডিজিটালাইজেশন ও এআই-এর যুগে আজকের এই সেশনে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আপনাদের উপস্থিতি সত্যিই চমৎকার ও গুরুত্বপূর্ণ। গণিত কেবল একটি একাডেমিক বিষয় বা ক্যালকুলাস নয়; এটি বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও যৌক্তিক যুক্তির মূল ভিত্তি। একটি জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গড়তে গণিতের প্রতি ভালোবাসা তৈরি করা জরুরি।
উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেন বলেন, ১৯৯৪ সালে কায়কোবাদ স্যারের হাত দিয়ে গণিত অলিম্পিয়াডের যে যাত্রা শুরু হয়েছিল, সেটা আজকে আমাদের দেশের সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে অনেকটাই জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। গণিতকে উপস্থাপন করা হতো পিচ্ছিল বাঁশের উপরে বানরকে উঠানো আর নামানোর মতো, এটাকে সহজভাবেই উপস্থাপন করা যেত। সেই জায়গা থেকে গণিতকে আমাদের শিক্ষার্থীদের মাঝে সহজ বোধগম্য করে তোলার জন্যই গণিত অলিম্পিয়াডের আয়োজন করা হয়েছে।