বিএনপির উদ্যোগে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ০৭ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৭:২২ পিএম

পঞ্চগড়ে বিএনপির উদ্যোগে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত হয়েছে। শনিবার  বিকেলে সরকারি অডিটোরিয়াম চত্বর থেকে এ উপলক্ষ্যে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে শের-ই-বাংলা পার্ক চত্বরে শেষ হয়।

পরে মুক্ত মঞ্চে আলোচনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পানি সম্পদ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ফরহাদ হোসেন আজাদ।

এসময় জেলা পরিষদ প্রশাসক ও জেলা বিএনপির যুগ্ন আহাবায়ক এম এ মজিদ, জেলা দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর ও জেলা বিএনপির যুগ্ন আহ্বায়ক মির্জা নাজমুল ইসলাম কাজল, আদম সুফী উপস্থিত ছিলেন।

জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাহিরুল ইসলাম কাচ্চুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভায় পাঁচ উপজেলা থেকে আগত বিএনপি ও বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতা কর্মী ও জেলা বিএনপি ও বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতা কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।



সর্বশেষ সব খবর

ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসনের আয়োজনে আলোচনা সভা। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ০৭ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৭:১৬ পিএম

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) মির্জা ফয়সল আমীন বলেছেন, বাংলাদেশকে নিয়ে আবারও ষড়যন্ত্র হচ্ছে। সরকার যখন একটি স্থিতিশীল গণতান্ত্রিক পরিবেশে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে, তখন একটি মহল ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে দেশকে পেছনের দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। এ ষড়যন্ত্র যেন সফল না হয়, সে জন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।


শনিবার (৭ নভেম্বর) জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসনের আয়োজনে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।


মির্জা ফয়সল আমীন বলেন, গণতান্ত্রিক পরিবেশ থেকে যেন দেশ ছিটকে না পড়ে এবং গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা যেন বাধাগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।




তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের এই দিনটিকে একটি গোষ্ঠী কখনো মেনে নিতে পারেনি। ১৭ বছরের নিপীড়নের পর নতুন বাংলাদেশের যে অভ্যুদয় ঘটেছে, সেই বাংলাদেশ বিপ্লব ও সংহতি দিবসের চেতনাকে ধারণ করেই এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের ওপর বারবার ষড়যন্ত্র ও আঘাত এসেছে।


১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, সেদিন সিপাহী-জনতা রুখে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করেছিল। গণতন্ত্রের পথ থেকে সরে যাওয়া দেশকে আবার গণতন্ত্রের পথে ফিরিয়ে আনার দায়িত্ব বারবার পালন করেছে যে দল, সেই দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ছিলেন ৭ নভেম্বরের অন্যতম নায়ক।


শহরের মির্জা রুহুল আমিন মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক। এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খোদাদাত হোসেনসহ জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।


আলোচনা সভা শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

সর্বশেষ সব খবর

তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির র‍্যালি

  • প্রকাশ : শনিবার ০৭ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৫:১৮ পিএম

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে রাজধানীর নয়াপল্টন থেকে র‍্যালি শুরু করেছে ক্ষমতাসীন বিএনপি। আজ শনিবার বিকেল সোয়া ৩টায় দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে র‍্যালিটি শুরু হয়।


এর আগে র‍্যালিতে অংশ নিতে সকাল থেকে রাজধানীর বিভিন্ন থানা, ওয়ার্ড এবং আশপাশের জেলা ও উপজেলা থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে নয়াপল্টনে জড়ো হন বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। তাদের হাতে ছিল জাতীয় ও দলীয় পতাকা, ব্যানার, ফেস্টুন এবং দলের শীর্ষ নেতাদের ছবি সংবলিত প্ল্যাকার্ড। এ সময় তারা বিভিন্ন স্লোগান দেন।


র‍্যালি শুরুর আগে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য দেন তারেক রহমান। এ সময় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবসহ স্থায়ী কমিটির সদস্য ও জ্যেষ্ঠ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।


র‍্যালিটি প্রধান বিচারপতির বাসভবন, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে দিয়ে বাংলামোটর ও ফার্মগেট হয়ে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে গিয়ে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।


র‍্যালি সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে দলটির পক্ষ থেকে বিশেষ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সড়কের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে দায়িত্ব পালন করছেন বিএনপির স্বেচ্ছাসেবকেরা। পাশাপাশি যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা ও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।


ঢাকা ছাড়াও আজ শনিবার দেশের বিভিন্ন জেলা ও মহানগরে র‍্যালি করছে বিএনপি। পরদিন ৮ নভেম্বর থানা ও উপজেলা পর্যায়ে র‍্যালি অনুষ্ঠিত হবে।

সর্বশেষ সব খবর

ইশরাক হোসেন

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:১০ পিএম

রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া দেশে মাদক কারবার পরিচালনা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন।


তিনি বলেন, মাদক চোরাচালান, পরিবহন ও স্থানীয় পর্যায়ে বিক্রির সঙ্গে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। এমনকি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু সদস্যও মাদক কারবারে জড়িয়ে পড়ছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।শুক্রবার (৬ নভেম্বর) রাজধানীর তোপখানা রোডে সিরডাপ মিলনায়তনে ‌‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ: চ্যালেঞ্জ ও করণীয়’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘মাদককে না বলি, মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ি’ স্লোগানে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি এ সেমিনারের আয়োজন করে। এতে সহযোগিতা করে স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ ডিবেটিং সোসাইটি ও ইডেন মহিলা কলেজ ডিবেটিং ক্লাব।ইশরাক হোসেন বলেন, মাদক কারবারে জড়িত রাজনীতিবিদদের রাজনীতি করার অধিকার নেই। জনগণ রাজনীতিবিদদের রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দেন। সেই দায়িত্বে থেকে কেউ মাদক কারবারে যুক্ত হলে তা অত্যন্ত নিন্দনীয়। মাদক একটি সমাজ ও জাতিকে ধ্বংস করে দেওয়ার মতো অপরাধ।তিনি বলেন, ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে প্রকাশিত একটি জাতীয় গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, দেশে আনুমানিক ৮২ লাখ অবৈধ মাদক ব্যবহারকারী রয়েছেন, যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ৫ শতাংশ। তাদের উল্লেখযোগ্য একটি অংশ ২৫ বছর বয়সের আগেই মাদক গ্রহণে জড়িয়ে পড়ছেন। তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।


মাদক কারবারের রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা প্রসঙ্গে বিএনপির এ সংসদ সদস্য বলেন, সীমান্ত দিয়ে মাদক দেশে প্রবেশের পর পরিবহন ও স্থানীয় পর্যায়ে বিতরণের জন্য বিভিন্ন চক্র কাজ করে। এসব চক্রের সঙ্গে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। ক্ষমতাসীন দলের রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে অনেক ক্ষেত্রে মাদক কারবার পরিচালিত হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু সদস্য ও কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে।


নিজের নির্বাচনী এলাকার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ইশরাক হোসেন বলেন, রাজধানীর গেন্ডারিয়ার ঘুন্টিঘর এলাকায় একসময় মাদকের সাম্রাজ্য গড়ে উঠেছিল। রাতের বেলায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দেওয়াল টপকে সেখানে তরুণ-তরুণীরা মাদক সেবন করতে প্রবেশ করত। মাদক বিক্রেতারাও সেখানে গিয়ে শিক্ষার্থীদের কাছে মাদক বিক্রি করত। এমন দৃশ্যের ফুটেজ দেখে মাদকের বিরুদ্ধে মাঠপর্যায়ে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেই।তিনি আরও বলেন, ঢাকা-৬ আসনের ৪৫ ও ৪৬ নম্বর ওয়ার্ডের জুরাইন রেলগেট থেকে গেন্ডারিয়ার ঘুন্টিঘর পর্যন্ত এলাকায় মাদকবিরোধী তৎপরতা চালানো হয়েছে। এ কাজে স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তা এবং ঢাকা-৪ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী তানভীর আহমেদ রবিনের সঙ্গে সমন্বয় করা হয়েছে। ওই এলাকায় নিরাপদ পরিবেশ তৈরিতে রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।


মাদকের সরবরাহব্যবস্থা ভেঙে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়ে সংসদ সদস্য জানান, তার অনুসন্ধানে কয়েকটি নামিদামি পরিবহন প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টতার তথ্য উঠে এসেছে। এসব প্রতিষ্ঠানের গাড়িতে বিপুল পরিমাণ মাদক পরিবহন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া ঢাকার অভিজাত এলাকায় মেথামফেটামিন তৈরির ল্যাব এবং কয়েকটি ওষুধ কোম্পানির সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়ার কথাও জানান তিনি। এসব অভিযোগ তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।ইশরাক হোসেন বলেন, শুধু সভা-সেমিনার ও আলোচনা করে মাদক নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। মাদকের চাহিদা কমানোর পাশাপাশি সরবরাহব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে অভিযান চালাতে হবে। মাদক উৎপাদন, পরিবহন ও বিপণনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। মাদক শতভাগ নির্মূল করা সম্ভব না হলেও নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি।মাদকাসক্তদের পুনর্বাসনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তিনি বলেন, সামর্থ্যবান পরিবারগুলো মাদকাসক্ত সদস্যদের পুনর্বাসনকেন্দ্রে পাঠাতে পারলেও ছিন্নমূল ও ঠিকানাহীন মাদকাসক্তদের জন্য কার্যকর পুনর্বাসনব্যবস্থা নেই। আমার নির্বাচনী এলাকায় মাদকাসক্তদের সংশ্লিষ্টতায় ছিনতাই, চুরি ও ডাকাতির মতো অপরাধ ঘটছে। নারীদের ব্যাগ ছিনতাই, শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন চুরি এবং বাসাবাড়ি থেকে বৈদ্যুতিক মিটার, লাইট ও সিসিটিভি ক্যামেরা খুলে নেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।


সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ। তিনি বলেন, মাদকের কারণে পারিবারিক কলহ, চুরি-ডাকাতি, ছিনতাই, ধর্ষণ, চাঁদাবাজি, কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা, অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার ও ব্ল্যাকমেইলিংয়ের মতো সামাজিক অপরাধ বাড়ছে। দেশে মাদকের সহজলভ্যতা এর বিস্তারের অন্যতম কারণ।তিনি বলেন, ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদক এখন শহর থেকে গ্রামগঞ্জে ছড়িয়ে পড়েছে। এমনকি অনলাইনে অর্ডার দিলে ঘরে মাদক পৌঁছে দেওয়ার ঘটনাও ঘটছে। মাদক কারবারিরা ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে রাজনৈতিক পরিচয় পরিবর্তন করে। ফলে কোনো মাদক কারবারি যেন রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে সুবিধা নিতে না পারে, সে বিষয়ে সরকারকে সতর্ক থাকতে হবে।


হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ আরও বলেন, মাদকবিরোধী অভিযানে মাদকসেবী, বাহক ও ছোট কারবারিরা গ্রেফতার হলেও মূল হোতারা প্রায়ই ধরা-ছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়। মাদক পরিবহনে কখনো দোকান, ভ্রাম্যমাণ বিক্রয়কেন্দ্র, যাত্রীবাহী যানবাহনের গোপন চেম্বার, এমনকি পাকস্থলী ও মোবাইল ফোনের ব্যাটারির চেম্বারও ব্যবহার করা হচ্ছে। মাদক নিয়ন্ত্রণে রাজনৈতিক সদিচ্ছার পাশাপাশি সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা জরুরি।


সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. হাসান মারুফ, মনোচিকিৎসাবিদ্যার অধ্যাপক ডা. এম এ মোহিত কামাল, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. তাজুল ইসলাম চৌধুরী, স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ ডিবেটিং সোসাইটির সভাপতি মো. মুন্না হুসাইন এবং ইডেন মহিলা কলেজ বিতর্ক দলের দলনেতা মাসনুন নাবিলা আলম। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সাবেক জাতীয় বিতার্কিক মো. কাউসার আলম।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ১২:২৫ পিএম

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে দুই দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। আগামী ৭ ও ৮ নভেম্বর এসব কর্মসূচি পালন করবে সংগঠনটি।


বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ছাত্রদলের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কর্মসূচির কথা জানানো হয়। কর্মসূচি সফল করতে সংগঠনের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির।


ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, ৭ নভেম্বর (শনিবার) দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়, জেলা, মহানগর ও কলেজে দিবসটি উপলক্ষে পোস্টার সাঁটানো হবে। একই দিন বেলা ১১টায় মহান স্বাধীনতার ঘোষক, সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান (বীর উত্তম) এবং বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ করবেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।


এছাড়া দুপুর ১২টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ছাত্রদলের উদ্যোগে আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। বিকেল ৩টায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত বর্ণাঢ্য র‍্যালিতে অংশ নেবে ছাত্রদলের ঢাকা মহানগরের সব ইউনিট।দুই দিনের কর্মসূচির শেষ দিন ৮ নভেম্বর (রোববার) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি অডিটরিয়ামে আলোচনা সভার আয়োজন করবে ছাত্রদল। একই দিন দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ, মহানগর ও জেলা পর্যায়েও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।

সর্বশেষ সব খবর

মানসুরা আক্তার

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ১১:০২ এএম

চিত্রনায়িকা পরীমনির বিরুদ্ধে সাংবাদিক রবিউলকে আক্রমণের অভিযোগ ওঠার পর বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা তৈরি হয়েছে। এ ঘটনায় সাংবাদিকের পক্ষে অবস্থান জানিয়ে নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মানসুরা আলম। 


তিনি মনে করেন, অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কাউকে মিডিয়া ট্রায়ালের মাধ্যমে হেয় করা বা তার চরিত্র হনন করা উচিত নয়। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকালে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এ কথা বলেন মানসুরা আলম।


পোস্টে তিনি লেখেন, সাংবাদিক ভদ্রলোককে আমি দীর্ঘদিন ধরে চিনি। দীর্ঘদিনের পরিচয়ে তাকে দেখেছি অত্যন্ত ভদ্র ও সেনসিটিভ একজন মানুষ হিসেবে। সুযোগ পেয়ে কারো গায়ে হাত দিয়ে দিলাম, এইরকম মানসিকতা উনি কখনো পোষণ করেন বলে মনে হয়নি। ভিডিও বাইট নিতে গিয়ে উনি কতটা সতর্ক থাকতেন, সেটাও দেখেছি। একজন মেয়ে হয়ে এতটুকু অন্তত বুঝি যে কে কীভাবে দেখছে, ভাবছে।


ইচ্ছা করলেই এই প্রসঙ্গ এড়িয়ে যেতে পারতাম। কিন্তু শক্তিশালী নায়িকার কথা ভেবে যেন কারো ওপর মিডিয়া ট্রায়াল করে জুলুম না হয়, চরিত্র হনন না হয়, সেই জন্যই এই পোস্ট। ধন্যবাদ।


পোস্টের শেষে তিনি উল্লেখ করেন, সাংবাদিক রবিউলের একটি হাত নেই, জন্ম থেকেই।

সর্বশেষ সব খবর

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর বিক্ষোভ মিছিল। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৫ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:৫৯ পিএম

রাজধানীর উত্তর বাড্ডায় গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে হাঁড়ি-পাতিল নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। 

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেলে ঢাকা মহানগরী উত্তর জামায়াতের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন। কর্মসূচিতে নারীরাও হাঁড়ি-পাতিল ও এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের ছবি সংবলিত ফেস্টুন নিয়ে অংশগ্রহণ করেন। উত্তর বাড্ডা ব্রিজের নিচে আয়োজিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য, ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়রপ্রার্থী মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। পরে তার নেতৃত্বে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়।

সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, ব্যক্তিগত কোনো দাবি-দাওয়া প্রতিষ্ঠা কিংবা রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে আমরা এ কর্মসূচি পালন করছি না। কোনো রাজনৈতিক দলকে গালিগালাজ বা বিতর্কিত করাও আমাদের লক্ষ্য নয়। বরং জনগণের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে আমরা রাজপথে নেমেছি।

তিনি বলেন, বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা ও অস্বস্তি বিরাজ করছে। মানুষের আয় এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির মধ্যে কোনো সামঞ্জস্য নেই। দফায় দফায় জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের দাম বাড়লেও মানুষের আয় সেই অনুপাতে বাড়ছে না। ফলে সাধারণ মানুষকে প্রতিনিয়ত বাড়তি ব্যয়ের চাপ সামলাতে হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অবিলম্বে সিন্ডিকেট ভেঙে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ন্যায্যমূল্যে সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানান জামায়াতের এ নেতা।

তিনি বলেন, জনগণকে অস্তিত্বসংকট ও অনিরাপত্তার মধ্যে রেখে উন্নয়নের কথা বলে কোনো লাভ নেই। কৃষক, শ্রমিক ও মা-বোনদের মুখে হাসি ফোটাতে হলে মানুষের আয় ও সামর্থ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পণ্যের দাম নির্ধারণ করতে হবে। সরকারের কার্যক্রমের সমালোচনা করে মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, দেশ পরিচালনা একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। বিভিন্ন কর্মসূচি ও কার্ড বিতরণের মাধ্যমে জনগণকে সন্তুষ্ট রাখা সম্ভব নয়। জনগণের ক্ষোভ বাড়তে থাকলে এবং সরকারের প্রতি আস্থা কমে গেলে ক্ষমতায় টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে।

সমাবেশে পোশাকশ্রমিকদের চলমান আন্দোলনের বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি। শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধির দাবিকে ন্যায্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে শ্রমিকদের জীবনযাত্রায় যে চাপ তৈরি হয়েছে, তা বিবেচনায় নেয়া প্রয়োজন। সরকার পরিস্থিতি যথাযথভাবে উপলব্ধি করলে শ্রমিকদের ওপর লাঠিচার্জের মতো ঘটনা ঘটত না এবং একজন শ্রমিককে জীবন দিতে হতো না বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি অবিলম্বে মেনে নেয়ার পাশাপাশি তাদের হয়রানি ও চাকরিচ্যুতি বন্ধ এবং নির্ধারিত সময়ে মাসিক বেতন পরিশোধের দাবি জানান।

তবে শ্রমিকদের ন্যায্য আন্দোলনের সঙ্গে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের কোনো সম্পর্ক নেই বলেও উল্লেখ করেন মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। তিনি বলেন, শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধির দাবি যৌক্তিক হলেও গাড়ি ভাঙচুর কিংবা কারখানায় আগুন দেয়ার মতো কর্মকাণ্ড সমর্থনযোগ্য নয়। কোনো তৃতীয় শক্তি যেন শ্রমিকদের ব্যবহার করে তাদের ন্যায্য দাবিকে জনসমর্থন থেকে বিচ্ছিন্ন করতে না পারে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।

তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী শ্রমিকদের পাশে রয়েছে। তবে শ্রমিকদের প্রতি সমর্থন থাকার অর্থ এই নয় যে ভাঙচুর কিংবা অগ্নিসংযোগের মতো কর্মকাণ্ডকেও সমর্থন করা হবে। শ্রমিকদের আইন নিজের হাতে তুলে না নেয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি চলমান আন্দোলনে ভাঙচুর ও নাশকতার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। একই সঙ্গে কোনো ফ্যাসিবাদী শক্তির সঙ্গে আপস না করার কথাও বলেন তিনি।

গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন না করে সরকার বিভাজনের সূচনা করেছে বলেও অভিযোগ করেন মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে সরকারের উচিত ছিল সবাইকে সঙ্গে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা। কিন্তু সে পথে না গিয়ে বিভাজন তৈরি করা হচ্ছে, যার পরিণতি সরকারকেই ভোগ করতে হবে।

সরকারের প্রতি জনকল্যাণমূলক কাজে মনোযোগ দেয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শ্রমিক ও মালিকপক্ষের সঙ্গে অবিলম্বে আলোচনায় বসে তাদের ন্যায্য দাবি পূরণ করতে হবে। কৃত্রিমভাবে উন্নয়নের কথা প্রচার না করে মানুষের বাস্তব জীবনমানের উন্নয়নে গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন। জনগণের জীবনযাত্রার মান না বাড়লে উন্নয়নের দাবি অর্থবহ হবে না।

বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা সম্পর্কে সতর্ক করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ সবার। এই দেশ নিয়ে কাউকে ছিনিমিনি খেলতে দেয়া হবে না।

সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি আতিকুর রহমান, জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমান, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারি ইয়াসিন আরাফাত এবং কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও মহানগরীর প্রচার-মিডিয়া সম্পাদক আতাউর রহমান সরকার।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য জামাল উদ্দিন, মহানগরী কর্মপরিষদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার নোমান আহমেদি, মাওলানা কুতুবউদ্দিন, ফজলে আহমেদ ও মিজানুর রহমান খানসহ মহানগরীর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

সমাবেশ শেষে উত্তর বাড্ডা ব্রিজের নিচ থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। মিছিলটি এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে বাড্ডা ইউলুপের সামনে গিয়ে শেষ হয়।

সর্বশেষ সব খবর