রাশমিকা মান্দানা ও বিজয় দেবরাকোন্ডা
বহুদিন ধরে চলা জল্পনা-গুঞ্জনের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে নিজেরাই বিয়ের খবর নিশ্চিত করলেন দক্ষিণি সিনেমার আলোচিত জুটি রাশমিকা মান্দানা ও বিজয় দেবরাকোন্ডা।
সম্পর্ক নিয়ে এত দিন প্রকাশ্যে নীরব থাকলেও গতকাল রোববার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যৌথ বার্তায় তাঁরা জানান, জীবনের নতুন অধ্যায়ে পা রাখছেন। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর তাঁদের এই ঘোষণা ভক্তদের কৌতূহলকে দিল আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি।
‘বিরোশ’ নামেই বিয়ের ঘোষণা
ভক্তদের দেওয়া জনপ্রিয় নাম ‘বিরোশ’—দুজনের নাম মিলিয়ে তৈরি এই সম্বোধনকেই বিয়ের আনুষ্ঠানিক পরিচয় হিসেবে বেছে নিয়েছেন তারকা জুটি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁরা লেখেন, ‘আমরা কিছু পরিকল্পনা করার আগেই তোমরা আমাদের সঙ্গে ছিলে। অনেক ভালোবাসা দিয়ে আমাদের নাম দিয়েছিলে—বিরোশ।’
জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এ মুহূর্তে ভক্তদের সেই নামকেই ধারণ করে তাঁরা বিয়ের ঘোষণা দেন। ভক্তদের উদ্দেশে কৃতজ্ঞতাও জানান, ‘তোমরা আমাদেরই অংশ। অনেক ভালোবাসা ও আলিঙ্গন।’
তারকাদের নাম জুড়ে এমন সম্বোধনের চল নতুন নয়। সেই ধারাবাহিকতায় এবার যুক্ত হলো ‘বিরোশ’।
রাজস্থানে গোপন আয়োজন
ঘনিষ্ঠ সূত্র বলছে, ২৬ ফেব্রুয়ারি রাজস্থানের একটি প্রাসাদে অনুষ্ঠিত হবে মূল বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা। ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হবে বিয়ের বিভিন্ন আচার। দুই পরিবারের নিজস্ব রীতিনীতি মেনে আলাদা আয়োজনও হয়েছে—একটি রাশমিকার পরিবারের উদ্যোগে, অন্যটি বিজয়ের পরিবারের পক্ষ থেকে। এবারের আয়োজনের বিশেষ দিক—কড়া গোপনীয়তা। বিয়ের ভেন্যুতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সংস্থাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। অতিথির তালিকা সীমিত। অনুষ্ঠানে মুঠোফোন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। এমনকি যাঁরা ছবি বা ভিডিও ধারণ করবেন, তাঁদেরও ‘নন-ডিসক্লোজার অ্যাগ্রিমেন্ট’ বা গোপনীয়তা চুক্তিতে সই করতে হয়েছে। অর্থাৎ ‘নো ফোন, নো লিক’ নীতিতেই হচ্ছে এই বহুল আলোচিত আয়োজন।
৪ মার্চ হায়দরাবাদে সংবর্ধনা?
বিয়ের অনুষ্ঠান থাকবে একান্ত ব্যক্তিগত পরিসরে। তবে ৪ মার্চ হায়দরাবাদে ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও চলচ্চিত্র অঙ্গনের সহকর্মীদের জন্য একটি বড় সংবর্ধনার আয়োজন করা হতে পারে বলে শোনা যাচ্ছে। যদিও এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
পর্দার রসায়ন থেকে বাস্তবের সম্পর্ক
২০১৭ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘গীতা গোবিন্দাম’ ছবিতে প্রথমবারের মতো একসঙ্গে কাজ করেন রাশমিকা মান্দানা ও বিজয় দেবরাকোন্ডা। রোমান্টিক এই ছবিতে তাঁদের স্বতঃস্ফূর্ত অভিনয় আর পর্দার সহজাত রসায়ন মুহূর্তেই দর্শকের মন কাড়ে। বক্স অফিসে সাফল্যের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাঁদের জুটি নিয়ে শুরু হয় আলোচনা।
এরপর ‘ডিয়ার কমরেড’-এ আবারও জুটি বাঁধেন তাঁরা। ভিন্ন স্বাদের, আবেগঘন এই ছবিতে তাঁদের সম্পর্কের গভীরতা ও সংবেদনশীল অভিনয় দর্শক-সমালোচক উভয়ের প্রশংসা পায়। দুই ছবির পর থেকেই পর্দার রসায়ন বাস্তবেও কি রূপ নিচ্ছে—এমন প্রশ্ন ঘুরতে থাকে ভক্তমহলে।
একসঙ্গে বিদেশ ভ্রমণ, পারিবারিক অনুষ্ঠানে উপস্থিতি কিংবা একই সময়ে একই জায়গায় ছুটি কাটানোর ছবি—সব মিলিয়ে জল্পনা ক্রমেই ঘনীভূত হয়। তবু ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে বরাবরই সংযত ছিলেন দুজনেই। সাক্ষাৎকারে প্রশ্ন এলে কৌশলে এড়িয়ে গেছেন, কখনোই সরাসরি স্বীকার বা অস্বীকার করেননি।
সম্প্রতি বাগ্দানের গুঞ্জনও ছড়িয়ে পড়ে বিনোদন অঙ্গনে। যদিও সে সময়ও তাঁরা নীরব ছিলেন। অবশেষে নিজেদের মুখেই বিয়ের ঘোষণা আসায় বহুদিনের সেই অনিশ্চয়তার অবসান ঘটল। পর্দায় শুরু হওয়া একটি সফল জুটির গল্প এবার বাস্তব জীবনেও পেল আনুষ্ঠানিক পরিণতি।
নতুন অধ্যায়ের অপেক্ষা
তারকাদের জাঁকজমকপূর্ণ ‘ডেস্টিনেশন ওয়েডিং’-এর যুগে রাশমিকা মান্দানা ও বিজয় দেবরাকোন্ডার এই নিয়ন্ত্রিত, সংযত আয়োজন আলাদা নজর কাড়ছে। আলোঝলমলে প্রচারের বদলে তাঁরা বেছে নিয়েছেন ব্যক্তিগত পরিসর ও নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া পথ। ভক্তদের মতে, ২৬ ফেব্রুয়ারি তাই শুধু একটি বিয়ের দিন নয়—দক্ষিণি সিনেমার জনপ্রিয় জুটির বাস্তব জীবনের নতুন সূচনার দিন। এখন তাঁদের অপেক্ষা, কবে তাঁদের পক্ষ থেকে প্রকাশ পাবে বিয়ের প্রথম আনুষ্ঠানিক ছবি।
মডেল ও অভিনেত্রী রিধিকা রিধি
রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে মডেল ও অভিনেত্রী রিধিকা রিধির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
আজ সকাল ছয়টার দিকে সিলিং ফ্যানে ঝুলন্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়। পরে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ভাটারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম সমকালকে খবরটি নিশ্চিত করেছেন।
মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা কুর্মিটোলা হাসপাতালে গিয়ে মরদেহ পাই। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি আত্মহত্যা করেছেন।’
রিধিকা রিধি মডেলিংয়ের মাধ্যমে শোবিজে পরিচিতি পান। পরবর্তী সময়ে অভিনয়েও নিয়মিত কাজ করেন তিনি। বেশ কয়েকটি নাটকে অভিনয় করে দর্শকদের নজরে আসেন এই অভিনেত্রী।
মডেলিংয়ের পাশাপাশি বেশ কয়েকটি নাটকে অভিনয় করেছেন রিধিকা রিধি। তার অভিনীত নাটকের মধ্যে ‘এখানে মানুষ বিক্রি হয়’, ‘পিনিক ম্যান ৪’ ‘বহুরূপী’, ‘ডাবল হানিমুন’, ‘সুন্দরী’, ‘চাষার বউ ডাক্তার’ ও ‘লেডি বাটপার’ উল্লেখযোগ্য।
সাদিয়া আয়মান
সময়ের ব্যস্ত টিভি অভিনেত্রী সাদিয়া আয়মানকে নিয়ে বিভিন্ন মহলে ছড়িয়ে পড়েছে নানা গুঞ্জন। এবার সেই গুঞ্জন, ব্যক্তিগত জীবন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেছেন এই অভিনেত্রী। তিনি বলেন, ‘গুঞ্জন তো গুঞ্জনই, গুঞ্জন নিয়ে বলার কিছু নেই। থাকে না, কিছু কথা না বললেও হয়।
যখন একটা মানুষ তার কথা বলে ফেলে, আমি যদি আমার সাইড অফ স্টোরি বলি, তখন কিন্তু গল্পটা আসলে অন্যরকম হবে। তো ওইটা হয়তোবা যে মানুষটা বলে সে চিন্তাও করে না। আমি চাই না আসলে কাদা ছোড়াছুড়ি হোক। আমি চাই না একজন একটি ইন্টারভিউতে এক কথা বলছে, আবার আমি আরেক কথা বলব... এরকম নোংরামি করতে চাই না। আমার মনে হয় সত্য কখনো চাপা থাকে না, সত্য একসময় সামনে আসবেই।’
সাদিয়া আয়মান বলেন, ‘আমি আগেও বলেছি, আমার প্রেমের খুব ইচ্ছা নেই। আমি সব সময় আমার সেটেলমেন্ট করাতেই আমি বিশ্বাসী। আমার কাছে যখন মনে হবে ঠিকঠাক মতো সময়, সুযোগ... আল্লাহ তো সব লিখে রেখেছে কপালে। আমরা অনেক কিছু চাইলেও সেটা হয় না। আল্লাহ সবকিছু আসলে প্ল্যান করে রেখেছেন। আমাদের কোনো প্ল্যান থাকলেও সেটা আসলে পরক্ষণেই চেঞ্জ হয়ে যেতে পারে। তো আমার মনে হয় যখন সঠিক সময় হবে, যা হবে সব।’
বর্তমানে ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে আছেন উল্লেখ করে সাদিয়া আয়মান জানান, অহেতুক বিতর্ক থেকে দূরে থেকে নিজের কাজ, পরিবার ও মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষাতেই নজর দিচ্ছেন তিনি। তার ভাষ্য, ‘আমার মনে হয় এখন সময় না। আমি এখন অনেক ছোট, কাজ করে যাই। যখন অনেক বড় হব, সিনিয়র হয়ে যাব, তখন যখন আমার গল্পগুলো বলব, তখন সেগুলো আরো ভ্যালু অ্যাড করবে। আসলে এত এনার্জি নষ্ট করার কোনো মানে হয় না। শুটিংয়ের কাজ, ফ্যামিলি, আমার বিড়ালের যত্ন নেওয়া—আমাকে নিজেকে নিয়েই চিন্তা করতে হয়। আমার মেন্টাল হেলথ আমি খুবই প্রটেক্ট করি। যেগুলো আমাকে মেন্টাল হেলথে ইফেক্ট করতে পারে, সেগুলোকে আমি পাত্তাই দিই না।’
‘টক্সিক’ সিনেমার একটি গানে বলিউডের কিয়ারা আদভানির সাহসী দৃশ্য নিয়ে তোলপাড় উঠেছিল। কটাক্ষ, আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় কিছুটি থিতিয়ে আসার পর স্ত্রীর পাশে দাঁড়িয়েছেন সিদ্ধার্থ মালহোত্রা। অভিনেতার কথায় এটি কিয়ারার ‘সেরা কাজগুলোর একটি’।
এনডিটিভি জানিয়েছেন প্যান-ইন্ডিয়া সিনেমা ‘টক্সিক: আ ফেয়ারিটেল ফর গ্রোন-আপস’ এর টিজার সামনে এসেছে।
কিয়ারাকে প্রশংসায় ভাসিয়ে সিদ্ধার্থ ইনস্টাগ্রামে লিখেছেন, “তোমার পরিশ্রম, নিষ্ঠা এবং আবেগ বড়পর্দায় স্পষ্ট ধরা পড়বে। এটা তোমার সেরা কাজগুলোর একটি হতে চলেছে। গীতু মোহনদাস, যশ, তুমি এবং পুরো টিম যে জাদু তৈরি করেছ, তা দেখার জন্য আর অপেক্ষা করতে পারছি না। ‘টক্সিক’ টিমকে শুভেচ্ছা। ২৬ অগাস্টের অপেক্ষায় আছি।”
জুলাইয়ের প্রথম ভাগে প্রকাশ পায় সিনেমার প্রথম গান ‘তাবাহি’; এর পর থেকে কটূক্তির বিরাম নেই। কারণ ভারতের দক্ষিণী ইন্ডাস্ট্রির অভিনেতা যশের সঙ্গে ‘সাহসী দৃশ্যে’ পাওয়া যায় কিয়ারাকে।
উষ্ণ দৃশ্যে অভিনেতা-অভিনেত্রী দুজনেই কাজ করলেও সমালোচনার বড় অংশই গিয়ে পড়ে কিয়ারার ওপর, যেখানে একই দৃশ্যে প্রশংসিত হন যশ।
‘তবাহী’ গানের দৃশ্য প্রকাশের পরে এমন খবরও ছড়িয়েছিল, কিয়ারার উপর নাকি সিদ্ধার্থ ‘অসন্তুষ্ট’, আর তাই তিনি নীরব।
সোশাল মিডিয়া ছাড়াও বেঙ্গালুরুতে ‘টক্সিক’ সিনেমার ট্রেইলার প্রকাশ অনুষ্ঠানে যশ কিয়ারার সমর্থনে এগিয়ে আসেন। চরিত্রের প্রতি ‘নিষ্ঠা ফুটে ওঠায়’ স্ত্রীর প্রশংসা করেন সিদ্ধার্থ। কটূকথায় কান না দিতেও স্ত্রীকে পরামর্শ দেশ সিদ্ধার্থ।
যশ বলেন, “একজন অভিনেতা হিসেবে অনেক সময় নানা ধরনের সমালোচনার মুখে পড়তে হয়। কিন্তু সেগুলো নিয়ে ভাবার প্রয়োজন নেই। নিজের বিশ্বাস অনুযায়ী কাজ করে যেতে হবে। মানুষ শেষ পর্যন্ত সেই কাজেরই প্রশংসা করবে। হয়ত আমরা সময়ের থেকে একটু এগিয়ে আছি।”
শুরুতে চুপচাপ থাকলেও কিছু দিন আগে কিয়ারা জানিয়েছেন, ‘টক্সিকে’ তার অভিনয় করার কারণ।
কিয়ারা নারী চরিত্র নির্দিষ্ট ছকে বাঁধতে নারাজ; তার মতে, নারী চরিত্রগুলো জটিল, বাস্তবসম্মত এবং শক্তিশালী হওয়া উচিত।
কিয়ারা বলেন, “‘টক্সিকে’ আমার চরিত্রটিও তেমন। যখন আমি চরিত্রটির বর্ণনা শুনি, তখন এর পরিপূর্ণ রূপ দেখে আমি মুগ্ধ হয়েছিলাম। একজন অভিনয় শিল্পী যা চান, ‘টক্সিক’ সেই সমস্ত সুযোগ দিয়েছে এবং সাহসী কিছু করার জন্য যথেষ্ট আত্মবিশ্বাস পেয়েছি।
“আমি ভেবেছিলাম, ক্যারিয়ারে আমি এমন একটি পর্যায়ে পৌঁছেছি যেখানে আমি এই ধরনের একটি চরিত্রে অভিনয় করার জন্য নিজেকে যোগ্য মনে করি।”
‘টক্সিক’ সিনেমার চিত্রনাট্য লিখেছেন যশ এবং গীতু মোহনদাস দুজনে মিলে। পরিচালনা করেছেন গীতু মোহনদাস। সিনেমাটি একসঙ্গে ইংরেজি এবং কন্নড় ভাষায় শুট করা হয়েছে। পরে হিন্দি, তেলুগু, তামিল, মলয়ালমসহ একাধিক ভাষায় মুক্তি পাবে।
চলতি মাসের ২৬ তারিখে প্রেক্ষাগৃহে আসবে সিনেমাটি।
তানজিন তিশা
প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে দায়ের করা এক মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছেন অভিনেত্রী তানজিন তিশা। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালত আজ বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) তাকে জামিন দেন।
এর আগে গত ১২ জুলাই তানজিন তিশাকে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী তিনি আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন।
মামলার সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ৫ নভেম্বর ‘অ্যাপোনিয়ার ফ্যাশন’ প্রতিষ্ঠানের এক্সিকিউটিভ মো. আমিনুল ইসলাম ঢাকার আদালতে তানজিন তিশার বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন। মামলার অভিযোগে বলা হয়, ‘অ্যাপোনিয়ার ফ্যাশন’ প্রতিষ্ঠান থেকে ২৮ হাজার ৮০০ টাকা মূল্যের একটি শাড়ি নিয়েছিলেন তানজিন তিশা। ওই শাড়িটির প্রচারণা করবেন এবং এর মূল্য পরিশোধ করবেন বলে তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
তবে পরবর্তী সময়ে শাড়িটির মূল্য পরিশোধ না করে তানজিন তিশা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন বলে মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগ আনা হয়। মামলা দায়েরের পর বিষয়টি তদন্তের জন্য ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশকে (ডিবি) নির্দেশ দেন আদালত। পরে ডিবির দেয়া তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেয়া হয়।
ডিবির তদন্ত প্রতিবেদন আমলে নিয়ে আদালত তানজিন তিশার বিরুদ্ধে সমন জারি করেন। একই সঙ্গে তাকে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়।
ছবি : সংগৃহীত
দেড় বছর ধরে যুক্তরাজ্যে চিকিৎসাধীন থাকার পর ১০ দিনের জন্য দেশে ফিরেছিলেন চিত্রনায়ক ও ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ (নিসচা)-এর চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন। পরিবার-পরিজন, আত্মীয়স্বজন, দীর্ঘদিনের সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সঙ্গে সময় কাটিয়ে আবারও লন্ডনে ফিরেছেন তিনি।
আজ বুধবার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে জামাতার সঙ্গে লন্ডনের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন এই অভিনেতা। প্রথম আলোকে খবরটি নিশ্চিত করেছেন তাঁর ছেলে মিরাজুল মঈন জয়। ৩ আগস্ট চিকিৎসার এক পর্যায়ে লন্ডন থেকে ঢাকায় ফেরেন ইলিয়াস কাঞ্চন। চিকিৎসার কারণে দীর্ঘদিন দেশের বাইরে থাকার পর দেশে ফিরে এই ১০ দিনে পরিবারের পাশাপাশি সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সঙ্গে সময় কাটান তিনি। অংশ নেন নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের একটি অনুষ্ঠানে। কাকরাইলে নিসচার কার্যালয়েও যান। বাসায় দীর্ঘদিনের সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা তাঁকে দেখতে এলে তাঁদের সঙ্গে আড্ডায়ও মেতে ওঠেন।
লন্ডনে ফেরার আগে গতকাল মঙ্গলবার সকালে কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার আশুতিয়াপাড়ায় নিজের গ্রামের বাড়িতে যান ইলিয়াস কাঞ্চন। সেখানে গ্রামের মানুষের সঙ্গে দেখা করেন এবং পূর্বপুরুষদের কবর জিয়ারত করেন। বেলা দুইটার পর ঢাকায় ফেরেন তিনি।
আজ সকালে তাঁর ফ্লাইট ছিল, তবে নির্ধারিত সময়ের দুই ঘণ্টার বেশি সময় পর বিমানটি ঢাকা ছাড়ে। ইলিয়াস কাঞ্চনের ছেলে মিরাজুল মঈন জয় বলেন, ‘এই কয়েকটা দিন আব্বার দারুণ সময় কেটেছে। তাঁর সহকর্মীরা এসেছেন। মন খুলে তাঁদের সঙ্গে আড্ডা দিয়েছেন। এই ব্যাপারগুলো আব্বুকে বেশ আনন্দ দিয়েছে। তিনি খুব খুশি হয়েছেন।’
ইলিয়াস কাঞ্চনের বর্তমান চিকিৎসা প্রসঙ্গে জয় জানান, কেমোথেরাপির ধাপ শেষ হয়েছে। এবার তাঁকে ইমিউনোথেরাপি দেওয়া হবে। তিনি বলেন, ‘সবার কাছে আমার আব্বুর জন্য দোয়া চাই।’
ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত হয়ে গত বছরের এপ্রিল থেকে লন্ডনে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ইলিয়াস কাঞ্চন। সেখানে হাসপাতাল ও মেয়ে ইমা ইসলামের বাসায় থেকেই তাঁর চিকিৎসা চলছে।
গত বছরের আগস্টে লন্ডনের একটি হাসপাতালে তাঁর মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করা হয়। চিকিৎসকেরা টিউমারের বড় একটি অংশ অপসারণ করলেও ঝুঁকির কারণে পুরো টিউমার অপসারণ করা সম্ভব হয়নি। পরে চিকিৎসকেরা জানান, সেটি ব্রেন ক্যানসার।
অস্ত্রোপচারের পর শুরু হয় ইলিয়াস কাঞ্চনের দীর্ঘ চিকিৎসা। প্রথম ধাপে টানা তিন মাস কেমোথেরাপি নেওয়ার পাশাপাশি চলে ওরাল থেরাপি।
পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, সপ্তাহে ৫ দিন করে ১২ সপ্তাহের চিকিৎসায় ৬০টির বেশি কেমোথেরাপি নিতে হয়েছে তাঁকে। এরপর প্রথম ধাপের তিন মাসের ওরাল থেরাপি শেষ করে দ্বিতীয় ধাপেও আরও তিন মাসের ওরাল থেরাপি নেন তিনি। তিন ধাপে সব মিলিয়ে প্রায় শতাধিক কেমোথেরাপি নিয়েছেন এই অভিনেতা।
দীর্ঘ চিকিৎসার পরও ইলিয়াস কাঞ্চনের শারীরিক অবস্থার আশানুরূপ উন্নতি হয়নি। এদিকে দেড় বছরের বেশি সময় দেশের বাইরে থাকতে থাকতে দেশে ফেরার জন্য তাঁর মনও টানছিল। তৃতীয় ধাপের থেরাপি শেষ হওয়ার পর কিছুদিনের জন্য দেশে ফেরার ইচ্ছার কথা পরিবারকে জানান তিনি। তাঁর সেই ইচ্ছাতেই এবার তাঁকে দেশে আনা হয়।
ইলিয়াস কাঞ্চনের ছেলে মিরাজুল মঈন জানিয়েছেন, চিকিৎসকেরা বলেছেন, অস্ত্রোপচারের পর ক্যানসার যে স্থানে ছিল, এখনো সেখানেই রয়েছে। তবে শরীরের অন্য কোথাও তা ছড়িয়ে পড়েনি। চিকিৎসকেরা এটিকে ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখছেন। এবার লন্ডনে ফিরে ইমিউনোথেরাপির পরবর্তী ধাপ শুরু হবে তাঁর।
খান আসিফুর রহমান আগুন। ছবিঃ সংগৃহীত
‘নেটদুনিয়ায় সবার জন্য সব কিছু খোলা থাকায় দেশে ভয়ংকর পরিস্থিতি নেমে এসেছে। নীল ছবি বেশি দেখার তালিকায় পৃথিবীর ২০৬টি দেশের মধ্যে পঞ্চম স্থানে রয়েছে আমার দেশ’। দেশের সামাজিক অবক্ষয় নিয়ে কথা বলতে গিয়ে এ কথা বলেছেন জনপ্রিয় সংগীত শিল্পী খান আসিফুর রহমান আগুন।
তিনি বলেন, ‘মাসে ৭৫ হাজার কোটি টাকার মদ, দেড় হাজার কোটি টাকার সিগারেটে ব্যয় করে এ দেশের মানুষ। এরপরও অনেকে বড় মুখ করে বলেন - আমার দেশ গরিব। এদেশে এমন লোকও আছে যারা ব্র্যান্ড ছাড়া পোশাক কিনেন না। ব্র্যান্ডের পোশাক কেনার পর আবার ঢাকঢোল পিটিয়ে সে কথা জানান সবাইকে। আমার এসব আচরণ একদমই অপছন্দ। আমি মনে করি, প্রয়োজনের অতিরিক্ত কোনকিছুই ভালো না।’
আগুন আরও বলেন, কিছু মানুষের জন্য সমাজে আরও অনেক অসঙ্গতি দেখা যায়। এক স্মার্টফোনের মাধ্যমে বিশ্বের সবকিছু আজ হাতের মুঠোয়। এটা ভালো দিক। কিন্তু একজন রুচিশীল, শিক্ষিত ওই স্মার্টফোন দিয়ে যা দেখতে বা জানতে চাইবে একজন রুচিহীন বা অশিক্ষিত কেউ কিন্তু তা দেখতে বা জানতে চাইবে না। তারা অশৈল্পিক জিনিসের প্রতিই বেশি ঝুঁকবে। তাই সবার কাছে সব টেকনোলজি খুলে রাখা উচিত নয় বলে আমি মনে করি।
অনেকটা আফসোস করে আগুন জানান, চলচ্চিত্রে এখন ১৮ প্লাস ক্যাটাগরির সিনেমা মানেও অসঙ্গতি। দেশে শিশুদের ‘আদর্শ লিপি’ বই আর পড়ার চল নেই। তাহলে আদর্শ মানুষ কীভাবে তৈরি হবে?
মিডিয়াতেও উদ্ধত মানুষের অভাব নেই বলে মনে করেন আগুন। তিনি বলেন, এক, দুইটা কাজ হিট হলেই সে ভাব নিয়ে চলতে শুরু করে। মোবাইলে ভারতের শাহরুখ খানের সিনেমা দেখে আর প্রেক্ষাগৃহে তার সিনেমা রিলিজ আটকায়। মুক্ত বাজার অর্থনীতিতে সিনেমা আটকাতে চাওয়ার কারণই হলো দেশের নির্মাতা ও অভিনয়শিল্পীরা যে কিছু পারে না, সে গোমর ফাঁস হওয়ার ভয়। এ দোষ তাদের দিয়েও লাভ নেই। সর্বক্ষেত্রে অসুস্থ প্রতিযোগিতায় তাদের নামার একটাই কারণ আমি মনে করি। আর তাহলো মুক্ত আকাশ দেখার সৌভাগ্য কখনও হয়নি এদের; আর কখনো হবেও না।
প্রখ্যাত সঙ্গীতজ্ঞ ও চলচ্চিত্রকার খান আতাউর রহমান ও সংগীতশিল্পী নীলুফার ইয়াসমীন দম্পতির একমাত্র ছেলে তিনি। কণ্ঠশিল্পী হওয়ার পাশাপাশি তিনি একজন ভালো অভিনেতাও। নিজের পরিবার, ক্যারিয়ার ও অর্থ সম্পত্তি নিয়ে কখনও তাকে অহংকার করতে দেখা যায়নি।