নবম জাতীয় পে-স্কেল চূড়ান্ত পর্যায়ে

  • প্রকাশ : রবিবার ১৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৭:০৫ পিএম

সরকারি চাকরিজীবীদের নবম জাতীয় পে-স্কেল চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। যে কোনো মুহূর্তে তা ঘোষণা হতে পারে। এ কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার। আজ রোববার সচিবালয়ে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি। 


তিনি বলেন, পে-স্কেল বিবেচনাধীন আছে। সরকারের কমিটমেন্ট আছে, এটা আমরা বাস্তবায়ন করবো। এটি চূড়ান্ত পর্যায়ে আছে। যে কোনো মুহূর্তে পে-স্কেল ঘোষণা হতে পারে।


জানা গেছে, নতুন বেতন কাঠামোয় সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ বাড়ানোর সুপারিশ করেছে সচিব কমিটি। তবে সব গ্রেডে সমান হারে বেতন বাড়বে না, কিছুটা কমবেশি হতে পারে। এ ছাড়া দুই ধাপে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকরের সুপারিশ এসেছে। এর মধ্যে প্রথম বছর শুধু মূল বেতন, পরের বছর বাড়ি ভাড়াসহ বিভিন্ন ভাতা দেওয়া হতে পারে। গতকাল বুধবার জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫ সুপারিশ প্রণয়ন কমিটির বৈঠক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। 


বৈঠক শেষে কমিটির এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, সুপারিশ প্রণয়ন কমিটির শেষ বৈঠকে বেতন বাড়ানোর চূড়ান্ত প্রতিবেদনে সব সদস্যই সই করেছেন। নতুন বেতন কাঠামোয় ১ম থেকে ২০তম গ্রেডের সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ বাড়ানোর ব্যাপারে সবাই একমত হয়েছেন। তবে আগামী দুই বছরে এই বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে। তবে মন্ত্রিসভা চাইলে এটা পরিবর্তন করতে পারবে। এখন অর্থ বিভাগ প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি নিয়ে আগামী সপ্তাহের মধ্যে মন্ত্রিসভার বৈঠকে এটি উপস্থাপন করবে। 


জানা যায়, সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সর্বশেষ জাতীয় বেতন স্কেল ঘোষণা হয়েছিল ২০১৫ সালে। এর পর থেকে প্রতিবছর তাদের মূল বেতনের নির্ধারিত ৫ শতাংশ হারে বাড়লেও নতুন পে স্কেলের আর আসেনি। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বেতনের বিষয়টি আরও পর্যালোচনার জন্য একটি কমিটি করা হয়। এর মধ্যে পে কমিশনের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বেতন বৃদ্ধির হিসাব নিয়ে নানা আলোচনা সামনে আসে।


বেতন কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনায় ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটি দীর্ঘ চার মাস পর্যালোচনা শেষে চূড়ান্ত সুপারিশ প্রতিবেদন তৈরি করে। পরে জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশন ২০২৫-এর প্রতিবেদন পর্যালোচনা ও সুপারিশ প্রণয়নে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে সাত সদস্যের কমিটি গঠন করেছে সরকার।


নাম প্রকাশ না করা শর্তে সচিব কমিটির এক সদস্য বলেন, সচিব কমিটির মূল দায়িত্ব ছিল জাতীয় বেতন কমিশন ২০২৫, বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশন ২০২৫ এবং সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিটি ২০২৫-এর দাখিল করা প্রতিবেদনগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য সুপারিশ করা। আমরা জুডিশিয়াল সার্ভিসসহ সবার বিষয়ে সুপারিশ করেছি। 


সাবেক অর্থ সচিব মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী বলেন, সর্বশেষ ২০১৫ সালের পে স্কেল দুই ধাপে বাস্তবায়ন করা হয়েছিল। প্রথম বছরে বেতন, পরের বছর দেওয়া হয় ভাতা। সার্বিক বিবেচনায় পে স্কেল দুই ধাপে বাস্তবায়নই বাস্তবসম্মত। সচিব কমিটি দুই ধরনের প্রস্তাবই মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করতে পারে। এর পর মন্ত্রিসভা যা ভালো মনে করবে, সেভাবে সিদ্ধান্ত নেবে। 


২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ও ভাতা বাবদ প্রায় ৮৯ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পেনশন, গ্র্যাচুইটিসহ যা এক লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা। বাজেটের ‘জনপ্রশাসন-নিট’ খাতে চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের চেয়ে ৫৪ হাজার ৫৭২ কোটি টাকা বেশি বরাদ্দ রাখা হয়েছে।




সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের ‘১৮০ দিন পূর্তি’ উপলক্ষে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী

  • প্রকাশ : সোমবার ১৭ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৩:০৪ পিএম

দীর্ঘদিনের প্রচলিত ব্যক্তি বন্দনার রাজনীতি থেকে বর্তমান সরকার পুরোপুরি বেরিয়ে এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র সালেহ শিবলী। 


তিনি বলেন, অতীতে আমরা দেখেছি, অনুষ্ঠানে কেউ এলে তাকে নিয়ে বন্দনা করতে করতে ১০-১৫ মিনিট সময় ব্যয় করা হতো। কিন্তু বর্তমান সরকার এই স্তূতির রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এসে একটি নতুন ধারার সূচনা করেছে। প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ের শাপলা হলে সোমবার প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং আয়োজিত জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের ‘১৮০ দিন পূর্তি’ উপলক্ষে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।


প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব বলেন, সারাবিশ্বেই নতুন সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর প্রথম ১০০ দিনকে ‌‘হানিমুন পিরিয়ড’ বলা হয়। কিন্তু কোনো একটি সরকারি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে তার প্রাথমিক ফলাফল পেতে অন্তত ছয় মাস সময় লাগে। বর্তমান সরকার যেহেতু জনগণের সরকার, তাই জনগণের কাছে দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে এবং জনগণের জানার অধিকার নিশ্চিত করতেই আমরা ১৮০ দিনের মাথায় কাজের হিসাব তুলে ধরেছি।


সরকারের বড় সাফল্যের কথা উল্লেখ করে সালেহ শিবলী বলেন, আমাদের সরকারের একটি বড় সাফল্য হলো নির্বাচনী ইশতেহারের ৩১ দফার প্রতিটি ধরে ধরে বাস্তবায়ন করা। অতীতে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি এভাবে ধরে ধরে বাস্তবায়নের কোনো নজির আমরা দেখিনি।


রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তনের একটি উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, মানুষের দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষা ছিল রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন আসবে। বর্তমান সরকার সেই পরিবর্তন নিয়ে এসেছে। সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর হাম ও রুবেলার টিকা নিয়ে যে একটি অসহনীয় অবস্থা তৈরি হয়েছিল, তার দায় এই সরকারের ছিল না। তারপরও প্রধানমন্ত্রী পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে সন্তান ও স্বজনহারা শোকাহত পরিবারগুলোর কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। কারণ, সরকার রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকলে নাগরিকদের প্রতি তার দায়দায়িত্ব থাকে। রাজনীতিতে এই জবাবদিহিতা ও দায়বদ্ধতার সংস্কৃতি একটি বড় সফলতা।


‘কল্যাণমূলক রাষ্ট্র’ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যের কথা জানিয়ে প্রেস সচিব বলেন, সম্প্রতি কিশোরগঞ্জ সফরে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন—আমরা বাংলাদেশটিকে একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাই। কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের ধারণা হলো, রাষ্ট্রের প্রতি জনগণের যেমন দায়বদ্ধতা থাকবে, তেমনি জনগণের প্রতিও রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতা থাকবে। রাষ্ট্র তার সামর্থ্য অনুযায়ী সব শ্রেণি-পেশার মানুষের পাশে থাকবে, আবার নাগরিকরাও রাষ্ট্রের প্রতি তাদের দায়িত্ব পালন করবে। এমন একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাতেই প্রধানমন্ত্রী এবং তার পুরো দল কাজ করে যাচ্ছে।


মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান, রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ডা. জাহিদ উর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন প্রমুখ উপস্থিত আছেন।


চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম

  • প্রকাশ : সোমবার ১৭ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১:৪৫ পিএম

ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঠিক কোন স্ট্যাটাসে (মর্যাদায়) বা কী হিসেবে সেখানে আছেন, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য বাংলাদেশের কাছে নেই বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। 


তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত স্পষ্টভাবে জানে না, শেখ হাসিনা ভারতে কোন স্ট্যাটাসে আছেন। ফলে ভারতীয় আদালতের অনুমতি সংক্রান্ত বিষয়টি কী অর্থে বলা হয়েছে, সেটিও পরিষ্কার নয়।’ আজ সোমবার সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।


ভারতের একটি সংবাদমাধ্যমে ‘শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে নিতে আদালতের অনুমতির প্রয়োজন হতে পারে’ -এমন খবর প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘সংবাদমাধ্যমটি বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করেনি, শেখ হাসিনা ভারতে রাজনৈতিক আশ্রয়ে আছেন কিনা বা ঠিক কী স্ট্যাটাসে সেখানে অবস্থান করছেন।’


চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘পলাতক শেখ হাসিনা একজন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ সরকার ভারতের কাছে ইতোমধ্যে প্রত্যর্পণের আবেদন করেছে। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।’


এ সময় সাংবাদিকরা অতীতে ভারতের মেঘালয়ে সালাহউদ্দিন আহমেদের অবস্থান এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার সঙ্গে শেখ হাসিনার বিষয়টির কোনো সম্পর্ক আছে কিনা জানতে চাইলে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘দুটি বিষয়ের মধ্যে কোনো সম্পর্ক নেই।’


তিনি জানান, সালাহউদ্দিন আহমেদকে ২০১৫ সালে বাংলাদেশ থেকে অপহরণ করে ভারতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। পরে ভারতের শিলংয়ে তাকে পাওয়া যায়। তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলায় তিনি খালাস পান।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ১৭ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১২:৩৮ পিএম

এক নিম্নচাপের প্রভাব কাটতে না কাটতেই বঙ্গোপসাগরে নতুন করে নিম্নচাপ সৃষ্টি হয়েছে। এটি বর্তমানে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ও পশ্চিমবঙ্গ উপকূলের কাছাকাছি উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে মৌসুমি নিম্নচাপ আকারে অবস্থান করছে। এর প্রভাবে দেশের চার বিভাগে আগামী ৪৮ ঘণ্টায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।


এদিকে নিম্নচাপের প্রভাবে সমুদ্রবন্দর ও উপকূলীয় এলাকায় ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচলের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।


আজ সোমবার সকালে আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও এর কাছাকাছি উপকূলীয় এলাকায় থাকা সুস্পষ্ট লঘুচাপটি ঘনীভূত হয়ে মৌসুমি নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। এটি বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ও পশ্চিমবঙ্গ উপকূল এবং এর কাছাকাছি উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে।


এর আগে তিন দিন আগে সৃষ্ট নিম্নচাপটি স্থল নিম্নচাপ হিসেবে ভারতের ঝাড়খন্ডের দিকে সরে যায়। ওই নিম্নচাপের প্রভাবে বিশেষ করে দেশের উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টি হয়। রাজধানীতেও গতকাল রোববার বিকেল থেকে বিচ্ছিন্নভাবে বৃষ্টি শুরু হয়। আজ সকালে ঢাকার আকাশ ছিল মেঘলা, কোথাও কোথাও ঝিরিঝিরি বৃষ্টিও হয়েছে। পরে অবশ্য রোদের দেখা মেলে।


নতুন নিম্নচাপের প্রভাবে আজ সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টায় খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।


আবহাওয়া অধিদপ্তরের সংজ্ঞা অনুযায়ী, ২৪ ঘণ্টায় ৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার বৃষ্টিকে ভারী এবং ৮৮ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিকে অতি ভারী বৃষ্টি বলা হয়।


বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির কারণে এসব এলাকার কোথাও কোথাও সাময়িক জলাবদ্ধতা তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি এলাকার কোথাও কোথাও ভূমিধসের আশঙ্কাও রয়েছে।


আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক বলেন, চার বিভাগের পাশাপাশি দেশের অন্যান্য এলাকাতেও বিচ্ছিন্নভাবে বৃষ্টি হতে পারে। রাজধানীতেও বিচ্ছিন্ন বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।


ভূমিকম্প

  • প্রকাশ : সোমবার ১৭ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১১:৪৫ এএম

ঢাকা ও এর আশপাশে মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। সোমবার ভোর ৫টা ৩২ মিনিট ৩০ সেকেন্ডে এ ভূকম্পন হয়। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৩।


আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্রের সহকারী আবহাওয়াবিদ ফারজানা সুলতানা জানান, মৃদু এ ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল নরসিংদীর শিবপুরে, যা ঢাকা ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র থেকে ৪৭ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে।


গত ২১ নভেম্বরে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে প্রাণঘাতী ভূমিকম্পের কবলে পড়েছিল বাংলাদেশ, সেটির উৎপত্তিস্থল ছিল নরসিংদীর মাধবদী। ৫ দশমিক ৭ মাত্রার সেই ভূকম্পনে তিন জেলায় ১০ জনের মৃত্যু হয়, আহত হয় ছয় শতাধিক মানুষ। ঢাকার বহু ভবনে ফাটল, কোথাও কোথাও হেলে পড়ার ঘটনা ঘটে।


পরদিন সকালে ৩ দশমিক ৩ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প হয়, সেটির উৎপত্তিস্থল ছিল নরসিংদীর পলাশ। তার রেশ না কাটতেই সেদিন সন্ধ্যায় সেকেন্ডের ব্যবধানে দুটি ভূমিকম্প হয়, যার একটি উৎপত্তিস্থল ছিল সেই নরসিংদীতেই।


এরপর ২৭ নভেম্বর ৪ মাত্রার ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল নরসিংদীর ঘোড়াশাল। এরপর ৪ ডিসেম্বর হালকা মাত্রার ভূমিকম্প হয়, রিখটার স্কেলে যার মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ১। এটির উৎপত্তিস্থল নরসিংদীরই শিবপুরে।


এর বাইরেও সম্প্রতি একাধিক ভূমিকম্প হয়েছে, যার উৎপত্তিস্থল ঢাকা ও আশপাশ। বারবার ভূমিকম্পের পর এখনই করণীয় ঠিক করতে তাগিদ দিয়ে আসছেন বিশেষজ্ঞরা।


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের সাবেক অধ্যাপক সৈয়দ হুমায়ুন আখতার সম্প্রতি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, সিলেট থেকে টেকনাফ (প্লেটে) পর্যন্ত ভূমিকম্পের শক্তি জমা হয়ে আছে।


“সেজন্য গত কয়েক বছর ধরে নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী ও সিলেট অঞ্চলে ছোটোখাটো ভূমিকম্প পাচ্ছি।”


এ ভূতত্ত্ববিদ বলেন, ভূমিকম্পের দুটো উৎসের মধ্যে একটি হলো ডাউকি ফল্ট (শেরপুর, ময়মনসিংহ, সিলেট ও জৈন্তাপুর)। আরেকটা সিলেট থেকে টেকনাফ পর্যন্ত (সিলেট, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা, নোয়াখালী, ফেনী, চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম)। এখানে ভূমিকম্পের শক্তি জমা হচ্ছে।


ভূমিকম্পের প্রভাব মোকাবেলায় তার বক্তব্য হলো, “আর্থ সামাজিক বাস্তবতায় অপরিকল্পিত ঢাকা মহানগরীকে পাল্টানো যাবে না; সেক্ষেত্রে মানুষকে সচেতন করাই অন্যতম উপায়।”

বিষয় : ভূমিকম্প


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ১৭ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৯:৩৩ এএম

ঢাকাসহ দেশের ১৩ জেলায় দুপুরের মধ্যে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর।


তাই এসব এলাকার নদী বন্দরগুলোকে ১ নম্বর নৌ হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। সোমবার (১৭ আগস্ট) দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত আবহাওয়া অধিদপ্তরের দেওয়া সতর্কবার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।


আবহাওয়াবিদ মো. ওমর ফারুক (উপ-পরিচালকের পক্ষে) স্বাক্ষরিত এই বিজ্ঞপ্তিটি জারি করা হয়।


এতে বলা হয়েছে, রাজশাহী, পাবনা, ঢাকা, ফরিদপুর, যশোর, কুষ্টিয়া, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজার অঞ্চলগুলোর ওপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।


এছাড়াও এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।


সাবেক রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন

  • প্রকাশ : রবিবার ১৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১১:১৭ পিএম

শারীরিক তীব্র যন্ত্রণার কাছে থমকে গেছে চেনা জীবনের ছন্দ। বিগত দুদিন ধরে স্বাভাবিকভাবে হাঁটতেই পারছেন না সাবেক রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন। ডান পায়ের পুরোনো রোগটি হঠাৎ নতুন করে তীব্র আকার ধারণ করায় এখন ব্যথার সাথে এক নিরন্তর লড়াই চলছে তার। চিকিৎসকের নির্দেশে টানা তিন সপ্তাহ চিকিৎসাকেন্দ্রিক এই কঠিন পথ পার করতে হবে তাকে। 


শারীরিক কষ্টের মাঝে কাটানো প্রতিটি মুহূর্ত এখন শুধু আরোগ্য আর সুস্থতার প্রতীক্ষায়। সাবেক রাষ্ট্রপতির এক স্বজন কালবেলাকে তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন।


আজ রোববার (১৬ আগস্ট) রাতে সাবেক রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিনের এক স্বজন কালবেলাকে বলেন, ‘তিনি দুদিন ধরে খুবই অসুস্থ। ডান পায়ের পুরোনো সমস্যা বেড়েছে। ইতোমধ্যে ইনজেকশন নিয়েছেন।’


ওই স্বজন আরও বলেন, ‘চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী টানা ৩ সপ্তাহ তাকে এই ইনজেকশন নিতে হবে। এখন স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে পারছেন না।’


অসুস্থতাকে পদত্যাগের কারণ হিসেবে দেখিয়েই বঙ্গভবন ছেড়েছিলেন মোঃ সাহাবুদ্দিন। পদত্যাগের পর সংবিধান অনুযায়ী ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।


গত ২৪ জুলাই বিকেলে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে স্বাক্ষরযুক্ত পদত্যাগপত্র পাঠান মোঃ সাহাবুদ্দিন। পদত্যাগপত্র হাতে পাওয়ার পর সংসদ ভবনের শপথকক্ষে সংবাদ সম্মেলন করে বিষয়টি জানান স্পিকার। 


একই সঙ্গে সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের কথাও ঘোষণা করেন। ফলে মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রায় পৌনে দুই বছর আগেই রাষ্ট্রপতির পদ ছাড়লেন মোঃ সাহাবুদ্দিন।


রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগের একদিন পর বঙ্গভবন ছাড়েন মোঃ সাহাবুদ্দিন। পরে রাজধানীর গুলশানের ১২৩ নম্বর সড়কে নিজ বাসায় ওঠেন তিনি। বর্তমানে সেখানে অবস্থান করে চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলছেন।