সিনেমায় রণবীর সিং

  • প্রকাশ : শনিবার ৩০ মে, ২০২৬, সময় : ১২:৪০ এএম

বলিউডে বড় আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছেন অভিনেতা রণবীর সিং। হিন্দি চলচ্চিত্রশিল্পের উল্লেখযোগ্য সংগঠন ফেডারেশন অব ওয়েস্টার্ন ইন্ডিয়া সিনে এমপ্লয়িজ (এফডব্লিউআইসিই) তাঁর বিরুদ্ধে ‘নন-কো-অপারেশন ডিরেকটিভ’ বা অসহযোগিতা নির্দেশ জারি করেছে। অর্থাৎ বিভিন্ন ইউনিয়নের সদস্যদের রণবীরের সঙ্গে কাজ না করার আহ্বান জানানো হয়েছে। এ ঘটনার সূচনা হয় ‘ডন ৩’ সিনেমাকে কেন্দ্র করে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে তা বলিউডে ক্ষমতা, চুক্তি, তারকাখ্যাতি এবং শ্রমিকসংগঠনের প্রভাবের জটিল দ্বন্দ্বে রূপ নিয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, বলিউডে একজন সুপারস্টার কতটা স্বাধীন? আবার শিল্পের শ্রমিকসংগঠনগুলো কোথায় তাদের ক্ষমতা শেষ করবে?


বিতর্কের শুরু যেখানে

সবকিছু শুরু হয় ফারহান আখতার পরিচালিত ও প্রযোজিত ‘ডন ৩’ সিনেমা দিয়ে। শাহরুখ খানের পর নতুন ‘ডন’ হিসেবে রণবীর সিংয়ের নাম ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই সিনেমাটি নিয়ে প্রচুর আগ্রহ ছিল। কিন্তু হঠাৎই খবর আসে, রণবীর এ প্রকল্প থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। নির্মাতাদের থেকে অনুরূপ তথ্য আসে, তাঁর এ সিদ্ধান্তে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। শুটিংয়ের পরিকল্পনা, সেট নির্মাণ, আন্তর্জাতিক সূচি—সবকিছুই নতুন করে সাজাতে হচ্ছে। এরপরই বিষয়টি এফডব্লিউআইসিইয়ের কাছে পৌঁছে যায়। সংগঠনটির সভাপতি অশোক পণ্ডিত দাবি করেন, নির্মাতাদের অভিযোগের পর তাঁরা রণবীরের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করেছিলেন। কিন্তু রণবীর প্রথমে নীরব ছিলেন। পরে তাঁর পক্ষ থেকে ই-মেইলে জানানো হয়, এটি একটি চুক্তিভিত্তিক বিরোধ, তাই এফডব্লিউআইসিইয়ের এখতিয়ারে পড়ে না। এ জবাবে ক্ষুব্ধ হয় সংগঠনটি।


কতটা শক্তিশালী এফডব্লিউআইসিই 

বলিউডের বাইরের দর্শকদের কাছে এটি খুব পরিচিত না হলেও এফডব্লিউআইসিই ভারতীয় চলচ্চিত্রশিল্পে অত্যন্ত শক্তিশালী। মেকআপ আর্টিস্ট, লাইটম্যান, স্পটবয়, ক্যামেরা ইউনিট, জুনিয়র আর্টিস্ট, টেকনিশিয়ান—চলচ্চিত্রের প্রায় সব ধরনের কর্মীদের ৩৮টি ইউনিয়ন দিয়ে গঠিত এই ফেডারেশন। অর্থাৎ একটি সিনেমা বানাতে যে বিশাল কর্মী বাহিনী লাগে, তাদের বড় অংশই এফডব্লিউআইসিইয়ের আওতায়। ফলে তারা যদি কোনো শিল্পীর বিরুদ্ধে অসহযোগিতার নির্দেশ দেয়, তাহলে সেই শিল্পীর জন্য নতুন সিনেমার কাজ করা কঠিন হয়ে যায়।


‘নিষেধাজ্ঞা’ না ‘চাপ প্রয়োগ’?

এফডব্লিউআইসিই আনুষ্ঠানিকভাবে রণবীরের বিরুদ্ধে ‘নন-কো-অপারেশন ডিরেক্টিভ’ জারি করার পর মাধ্যমে খবর ছড়িয়ে পড়ে, রণবীর সিং ‘নিষিদ্ধ’ হয়েছেন। তবে আইনি দিক থেকে বিষয়টি এতটা সরল নয়। ভারতের আইন অনুযায়ী, এফডব্লিউআইসিই কোনো আদালত নয়। তারা কাউকে আইনগতভাবে নিষিদ্ধ করতে পারে না; বরং ট্রেড ইউনিয়নের চাপ প্রয়োগের মতো। সংগঠনটি তাদের সদস্যদের নির্দেশ দিতে পারে, কিন্তু কোনো অভিনেতাকে অভিনয় থেকে আইনিভাবে আটকাতে পারে না। এ কারণেই রণবীরের পক্ষ থেকেও দাবি করা হয়েছে, চুক্তিভঙ্গ বা আর্থিক ক্ষতির অভিযোগ আদালত বা সালিসি ব্যবস্থার বিষয়—এফডব্লিউআইসিইয়ের নয়। তবু বাস্তবতা হলো, বলিউডে শ্রমিকসংগঠনগুলোর প্রভাব বিশাল। তাই আইনি ক্ষমতা সীমিত হলেও শিল্পে তাদের সামাজিক ও পেশাগত চাপ কার্যকর হয়ে ওঠে। রণবীরের নীরবতা ও পরে প্রতিক্রিয়া পুরো বিতর্কে দীর্ঘ সময় নীরব ছিলেন রণবীর সিং। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি তিনি।


শেষ পর্যন্ত রণবীর সিংয়ের মুখপাত্র একটি বিবৃতি দেন। সেখানে বলা হয়, ‘রণবীর সিং চলচ্চিত্র অঙ্গন এবং “ডন” ফ্র্যাঞ্চাইজির সঙ্গে জড়িত প্রত্যেকের প্রতি গভীর শ্রদ্ধাশীল। সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে নীরব থেকেছেন। কারণ, তিনি বিশ্বাস করেন, পেশাগত আলোচনা ও ব্যক্তিগত সম্পর্ক মর্যাদা, পরিপক্বতা ও পারস্পরিক সম্মানের সঙ্গে সামলানো উচিত।’ বিবৃতিতে আরও বলা হয়, নানা গুঞ্জন ও জল্পনা তৈরি হলেও রণবীর কখনোই প্রকাশ্যে পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেওয়াকে প্রয়োজন মনে করেননি। তাঁর মনোযোগ এখন শুধু কাজ এবং ভবিষ্যৎ প্রতিশ্রুতিগুলোর দিকে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল শেষের বার্তা—‘তিনি সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি শ্রদ্ধা ও শুভকামনা রাখেন এবং “ডন” ফ্র্যাঞ্চাইজির ভবিষ্যৎ সাফল্য কামনা করেন। এমন পরিস্থিতিতে সংযম ও সৌজন্য বজায় রাখা সব সময়ই তাঁর সচেতন সিদ্ধান্ত ছিল।’ এ বক্তব্য অনেকের কাছে ‘সমঝোতার ইঙ্গিত’ হিসেবেও দেখা হয়েছে।


বলিউডে নতুন বিতর্ক: তারকা বনাম সংগঠন

এ ঘটনা নতুন করে একটি পুরোনো প্রশ্ন সামনে এনেছে—বলিউডে প্রকৃত ক্ষমতা কার হাতে? একদিকে তারকারা কোটি কোটি রুপির প্রকল্পের কেন্দ্রবিন্দু; অন্যদিকে চলচ্চিত্র নির্মাণ পুরোপুরি নির্ভর করে বিশাল কর্মী বাহিনীর ওপর। তাই একজন সুপারস্টারও বাস্তবে একা নন। বলিউড বিশ্লেষকদের মতে, এফডব্লিউআইসিইয়ের এ পদক্ষেপ শুধু রণবীরকে ঘিরে নয়; বরং এটি পুরো শিল্পের জন্য একটি বার্তা—বড় তারকারাও সংগঠনকে এড়িয়ে যেতে পারবেন না। আবার অনেকে বলছেন, এটি তারকাদের ওপর অযৌক্তিক চাপ তৈরি করতে পারে। কারণ, যেকোনো চুক্তিগত বিরোধকে যদি শ্রমিকসংগঠন ‘নৈতিক ইস্যু’ হিসেবে তুলে ধরে, তাহলে তা শিল্পের স্বাধীনতার জন্যও প্রশ্ন তৈরি করে।


বড় অনিশ্চয়তায় ‘ডন ৩’

সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তা এখন ‘ডন ৩’–কে ঘিরে। নির্মাতা ফারহান আখতার এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন অভিনেতার নাম ঘোষণা করেননি। তবে বলিউডে গুঞ্জন চলছে, নতুন করে কাস্টিংয়ের প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। প্রশ্ন উঠেছে, এত বড় বিতর্কের পর ছবিটির শুটিং ও মুক্তির সময়সূচি কতটা প্রভাবিত হবে। কারণ, বড় বাজেটের আন্তর্জাতিক লোকেশনভিত্তিক সিনেমায় সময় নষ্ট মানেই বিপুল আর্থিক ক্ষতি। এ বিতর্কের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়তে পারে রণবীরের আসন্ন সিনেমায়। পোস্ট-অ্যাপোক্যালিপটিক ঘরানার নতুন সিনেমায় দেখা যাবে অভিনেতাকে। জয় মেহতা পরিচালিত সিনেমাটি প্রযোজনা করেছেন হংসল মেহতা। আগামী আগস্টে সিনেমাটির শুটিং শুরু হওয়ার কথা। কিন্তু যদি এফডব্লিউআইসিইয়ের নির্দেশ কার্যকর থাকে, তাহলে ইউনিট গঠন, টেকনিশিয়ান নিয়োগ কিংবা শুটিং ব্যবস্থাপনায় জটিলতা তৈরি হতে পারে। যদিও বলিউডে এর আগেও এমন অসহযোগিতা নির্দেশ দেখা গেছে এবং বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই শেষ পর্যন্ত আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হয়েছে।


নতুন বিতর্ক

রণবীরকে ঘিরে বিতর্ক যখন তুঙ্গে, তখনই ‘ধুরন্ধর’ সিনেমার প্রোডাকশন ডিজাইনার সাইনি এস জোহরের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগে এফআইআর দায়ের হয়। এক নারী অভিযোগ করেছেন, চণ্ডীগড়ের একটি হোটেলে তাঁকে ডেকে নিয়ে মদে নেশাজাতীয় কিছু মিশিয়ে যৌন হয়রানি করা হয়েছে। পুলিশ ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে। এ ঘটনায় সরাসরি রণবীরের বিরুদ্ধে অভিযোগ না থাকলেও তাঁর নতুন সিনেমাকে ঘিরে নেতিবাচক আলোচনার পরিমাণ আরও বেড়েছে।


ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে রণবীর

রণবীর সিংয়ের ক্যারিয়ার সব সময়ই উত্থান-পতনে ভরা। ‘ব্যান্ড বাজা ভারত’ দিয়ে অভিষেকের পর তিনি দ্রুত বলিউডের অন্যতম আলোচিত অভিনেতা হয়ে ওঠেন। ‘বাজিরাও মাস্তানি’, ‘পদ্মাবৎ’, ‘গলি বয়’–এর মতো সিনেমা রণবীরকে সমকালীন বলিউডের অন্যতম বড় তারকায় পরিণত করে। কিন্তু গত কয়েক বছরে রণবীর সিংয়ের কিছু সিনেমা প্রত্যাশামতো ব্যবসা করতে পারেনি। ফলে ‘ডন ৩’ ছিল তাঁর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যাবর্তনের সুযোগ। এ প্রকল্পকে ঘিরেই এখন সবচেয়ে বড় বিতর্ক।


শেষ পর্যন্ত কী হতে পারে

বলিউডের অভিজ্ঞরা বলছেন, এই বিরোধ দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা কম। কারণ, একদিকে রণবীর সিংয়ের মতো তারকাকে পুরোপুরি উপেক্ষা করা সহজ নয়, অন্যদিকে বড় বাজেটের সিনেমাগুলোও দীর্ঘ অনিশ্চয়তা সহ্য করতে পারে না। সম্ভাবনা বেশি—দুই পক্ষ আলোচনায় বসবে। হয়তো আইনি সমঝোতা হবে, নয়তো প্রকাশ্যে না এলেও মধ্যস্থতার মাধ্যমে সমাধান বের হবে।


বিরোধ মেটাতে মাঠে সালমান খান

এদিকে ‘ডন ৩’ বিতর্কে এবার মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় নেমেছেন সালমান খান। পরিচালক ফারহান আখতার ও অভিনেতা রণবীর সিংয়ের মধ্যে চলমান বিরোধ মেটাতে দুজনকে একসঙ্গে বসার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, সম্প্রতি সালমান আলাদাভাবে ফারহান আখতার ও রণবীর সিংয়ের সঙ্গে কথা বলেছেন। পরে নিজের উপস্থিতিতে দুজনের মধ্যে একটি বৈঠকের প্রস্তাব দেন। উভয় পক্ষই এতে সম্মতি জানিয়েছে বলে জানা গেছে।


‘ডন ৩’ সিনেমা থেকে রণবীর সিংয়ের সরে দাঁড়ানোকে কেন্দ্র করে এই বিরোধের সূত্রপাত। শুটিং শুরুর প্রস্তুতির শেষ পর্যায়ে এসে রণবীরের সরে যাওয়ায় প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ও নির্মাতারা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলে অভিযোগ ওঠে। সূত্রের দাবি, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে ফারহান আখতারের জন্য ভবিষ্যতে আরেকটি সিনেমায় কাজ করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন রণবীর। সেই প্রস্তাব ফারহান আখতার ও তার প্রযোজনা অংশীদার রিতেশ সিধওয়ানি গ্রহণ করেননি।


এ অবস্থায় সালমান খান নাকি ফারহানকে পরামর্শ দিয়েছেন, ‘ডন ৩’-এর পরিবর্তে অন্য কোনো সিনেমায় রণবীরকে নিয়ে কাজ করার বিষয়টি বিবেচনা করতে। বলিউডে ফারহান আখতার ও তার পরিবারের সঙ্গে সালমানের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। একই সঙ্গে রণবীর সিংয়ের সঙ্গেও তার সুসম্পর্ক আছে। সে কারণেই দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি। তবে সম্ভাব্য বৈঠকের ফল কী হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।





সর্বশেষ সব খবর

মডেল ও অভিনেত্রী রিধিকা রিধি

  • প্রকাশ : শনিবার ১৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৯:৫৫ পিএম

রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে মডেল ও অভিনেত্রী রিধিকা রিধির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। 


আজ সকাল ছয়টার দিকে সিলিং ফ্যানে ঝুলন্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়। পরে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ভাটারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম সমকালকে খবরটি নিশ্চিত করেছেন।


মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা কুর্মিটোলা হাসপাতালে গিয়ে মরদেহ পাই। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি আত্মহত্যা করেছেন।’


রিধিকা রিধি মডেলিংয়ের মাধ্যমে শোবিজে পরিচিতি পান। পরবর্তী সময়ে অভিনয়েও নিয়মিত কাজ করেন তিনি। বেশ কয়েকটি নাটকে অভিনয় করে দর্শকদের নজরে আসেন এই অভিনেত্রী।


মডেলিংয়ের পাশাপাশি বেশ কয়েকটি নাটকে অভিনয় করেছেন রিধিকা রিধি। তার অভিনীত নাটকের মধ্যে ‘এখানে মানুষ বিক্রি হয়’, ‘পিনিক ম্যান ৪’ ‘বহুরূপী’, ‘ডাবল হানিমুন’, ‘সুন্দরী’, ‘চাষার বউ ডাক্তার’ ও ‘লেডি বাটপার’ উল্লেখযোগ্য।

সর্বশেষ সব খবর
  • প্রকাশ : শনিবার ১৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৪:৪৪ পিএম
  • আপডেট : শনিবার ১৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৪:৪৪ এএম

এ সম্পর্কিত আরও খবর


সাদিয়া আয়মান

  • প্রকাশ : শনিবার ১৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৪:৪৪ পিএম

সময়ের ব্যস্ত টিভি অভিনেত্রী  সাদিয়া আয়মানকে নিয়ে বিভিন্ন মহলে ছড়িয়ে পড়েছে নানা গুঞ্জন। এবার সেই গুঞ্জন, ব্যক্তিগত জীবন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেছেন এই অভিনেত্রী। তিনি বলেন, ‘গুঞ্জন তো গুঞ্জনই, গুঞ্জন নিয়ে বলার কিছু নেই। থাকে না, কিছু কথা না বললেও হয়। 


যখন একটা মানুষ তার কথা বলে ফেলে, আমি যদি আমার সাইড অফ স্টোরি বলি, তখন কিন্তু গল্পটা আসলে অন্যরকম হবে। তো ওইটা হয়তোবা যে মানুষটা বলে সে চিন্তাও করে না। আমি চাই না আসলে কাদা ছোড়াছুড়ি হোক। আমি চাই না একজন একটি ইন্টারভিউতে এক কথা বলছে, আবার আমি আরেক কথা বলব... এরকম নোংরামি করতে চাই না। আমার মনে হয় সত্য কখনো চাপা থাকে না, সত্য একসময় সামনে আসবেই।’


সাদিয়া আয়মান বলেন, ‘আমি আগেও বলেছি, আমার প্রেমের খুব ইচ্ছা নেই। আমি সব সময় আমার সেটেলমেন্ট করাতেই আমি বিশ্বাসী। আমার কাছে যখন মনে হবে ঠিকঠাক মতো সময়, সুযোগ... আল্লাহ তো সব লিখে রেখেছে কপালে। আমরা অনেক কিছু চাইলেও সেটা হয় না। আল্লাহ সবকিছু আসলে প্ল্যান করে রেখেছেন। আমাদের কোনো প্ল্যান থাকলেও সেটা আসলে পরক্ষণেই চেঞ্জ হয়ে যেতে পারে। তো আমার মনে হয় যখন সঠিক সময় হবে, যা হবে সব।’ 


 বর্তমানে ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে আছেন উল্লেখ করে সাদিয়া আয়মান জানান, অহেতুক বিতর্ক থেকে দূরে থেকে নিজের কাজ, পরিবার ও মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষাতেই নজর দিচ্ছেন তিনি। তার ভাষ্য, ‘আমার মনে হয় এখন সময় না। আমি এখন অনেক ছোট, কাজ করে যাই। যখন অনেক বড় হব, সিনিয়র হয়ে যাব, তখন যখন আমার গল্পগুলো বলব, তখন সেগুলো আরো ভ্যালু অ্যাড করবে। আসলে এত এনার্জি নষ্ট করার কোনো মানে হয় না। শুটিংয়ের কাজ, ফ্যামিলি, আমার বিড়ালের যত্ন নেওয়া—আমাকে নিজেকে নিয়েই চিন্তা করতে হয়। আমার মেন্টাল হেলথ আমি খুবই প্রটেক্ট করি। যেগুলো আমাকে মেন্টাল হেলথে ইফেক্ট করতে পারে, সেগুলোকে আমি পাত্তাই দিই না।’

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শনিবার ১৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ২:৫২ পিএম

‘টক্সিক’ সিনেমার একটি গানে বলিউডের কিয়ারা আদভানির সাহসী দৃশ্য নিয়ে তোলপাড় উঠেছিল। কটাক্ষ, আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় কিছুটি থিতিয়ে আসার পর স্ত্রীর পাশে দাঁড়িয়েছেন সিদ্ধার্থ মালহোত্রা। অভিনেতার কথায় এটি কিয়ারার ‘সেরা কাজগুলোর একটি’।


এনডিটিভি জানিয়েছেন প্যান-ইন্ডিয়া সিনেমা ‘টক্সিক: আ ফেয়ারিটেল ফর গ্রোন-আপস’ এর টিজার সামনে এসেছে।


কিয়ারাকে প্রশংসায় ভাসিয়ে সিদ্ধার্থ ইনস্টাগ্রামে লিখেছেন, “তোমার পরিশ্রম, নিষ্ঠা এবং আবেগ বড়পর্দায় স্পষ্ট ধরা পড়বে। এটা তোমার সেরা কাজগুলোর একটি হতে চলেছে। গীতু মোহনদাস, যশ, তুমি এবং পুরো টিম যে জাদু তৈরি করেছ, তা দেখার জন্য আর অপেক্ষা করতে পারছি না। ‘টক্সিক’ টিমকে শুভেচ্ছা। ২৬ অগাস্টের অপেক্ষায় আছি।”


জুলাইয়ের প্রথম ভাগে প্রকাশ পায় সিনেমার প্রথম গান ‘তাবাহি’; এর পর থেকে কটূক্তির বিরাম নেই। কারণ ভারতের দক্ষিণী ইন্ডাস্ট্রির অভিনেতা যশের সঙ্গে ‘সাহসী দৃশ্যে’ পাওয়া যায় কিয়ারাকে।


উষ্ণ দৃশ্যে অভিনেতা-অভিনেত্রী দুজনেই কাজ করলেও সমালোচনার বড় অংশই গিয়ে পড়ে কিয়ারার ওপর, যেখানে একই দৃশ্যে প্রশংসিত হন যশ।


‘তবাহী’ গানের দৃশ্য প্রকাশের পরে এমন খবরও ছড়িয়েছিল, কিয়ারার উপর নাকি সিদ্ধার্থ ‘অসন্তুষ্ট’, আর তাই তিনি নীরব।


সোশাল মিডিয়া ছাড়াও বেঙ্গালুরুতে ‘টক্সিক’ সিনেমার ট্রেইলার প্রকাশ অনুষ্ঠানে যশ কিয়ারার সমর্থনে এগিয়ে আসেন। চরিত্রের প্রতি ‘নিষ্ঠা ফুটে ওঠায়’ স্ত্রীর প্রশংসা করেন সিদ্ধার্থ। কটূকথায় কান না দিতেও স্ত্রীকে পরামর্শ দেশ সিদ্ধার্থ।


যশ বলেন, “একজন অভিনেতা হিসেবে অনেক সময় নানা ধরনের সমালোচনার মুখে পড়তে হয়। কিন্তু সেগুলো নিয়ে ভাবার প্রয়োজন নেই। নিজের বিশ্বাস অনুযায়ী কাজ করে যেতে হবে। মানুষ শেষ পর্যন্ত সেই কাজেরই প্রশংসা করবে। হয়ত আমরা সময়ের থেকে একটু এগিয়ে আছি।”


শুরুতে চুপচাপ থাকলেও কিছু দিন আগে কিয়ারা জানিয়েছেন, ‘টক্সিকে’ তার অভিনয় করার কারণ।


কিয়ারা নারী চরিত্র নির্দিষ্ট ছকে বাঁধতে নারাজ; তার মতে, নারী চরিত্রগুলো জটিল, বাস্তবসম্মত এবং শক্তিশালী হওয়া উচিত।


কিয়ারা বলেন, “‘টক্সিকে’ আমার চরিত্রটিও তেমন। যখন আমি চরিত্রটির বর্ণনা শুনি, তখন এর পরিপূর্ণ রূপ দেখে আমি মুগ্ধ হয়েছিলাম। একজন অভিনয় শিল্পী যা চান, ‘টক্সিক’ সেই সমস্ত সুযোগ দিয়েছে এবং সাহসী কিছু করার জন্য যথেষ্ট আত্মবিশ্বাস পেয়েছি।


“আমি ভেবেছিলাম, ক্যারিয়ারে আমি এমন একটি পর্যায়ে পৌঁছেছি যেখানে আমি এই ধরনের একটি চরিত্রে অভিনয় করার জন্য নিজেকে যোগ্য মনে করি।”


‘টক্সিক’ সিনেমার চিত্রনাট্য লিখেছেন যশ এবং গীতু মোহনদাস দুজনে মিলে। পরিচালনা করেছেন গীতু মোহনদাস। সিনেমাটি একসঙ্গে ইংরেজি এবং কন্নড় ভাষায় শুট করা হয়েছে। পরে হিন্দি, তেলুগু, তামিল, মলয়ালমসহ একাধিক ভাষায় মুক্তি পাবে।


চলতি মাসের ২৬ তারিখে প্রেক্ষাগৃহে আসবে সিনেমাটি।

সর্বশেষ সব খবর

তানজিন তিশা

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১৩ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৪:০৩ পিএম

প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে দায়ের করা এক মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছেন অভিনেত্রী তানজিন তিশা। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালত আজ বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) তাকে জামিন দেন। 


এর আগে গত ১২ জুলাই তানজিন তিশাকে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী তিনি আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন।


মামলার সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ৫ নভেম্বর ‘অ্যাপোনিয়ার ফ্যাশন’ প্রতিষ্ঠানের এক্সিকিউটিভ মো. আমিনুল ইসলাম ঢাকার আদালতে তানজিন তিশার বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন। মামলার অভিযোগে বলা হয়, ‘অ্যাপোনিয়ার ফ্যাশন’ প্রতিষ্ঠান থেকে ২৮ হাজার ৮০০ টাকা মূল্যের একটি শাড়ি নিয়েছিলেন তানজিন তিশা। ওই শাড়িটির প্রচারণা করবেন এবং এর মূল্য পরিশোধ করবেন বলে তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।


তবে পরবর্তী সময়ে শাড়িটির মূল্য পরিশোধ না করে তানজিন তিশা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন বলে মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগ আনা হয়। মামলা দায়েরের পর বিষয়টি তদন্তের জন্য ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশকে (ডিবি) নির্দেশ দেন আদালত। পরে ডিবির দেয়া তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেয়া হয়। 


ডিবির তদন্ত প্রতিবেদন আমলে নিয়ে আদালত তানজিন তিশার বিরুদ্ধে সমন জারি করেন। একই সঙ্গে তাকে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বুধবার ১২ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৯:২৭ পিএম

দেড় বছর ধরে যুক্তরাজ্যে চিকিৎসাধীন থাকার পর ১০ দিনের জন্য দেশে ফিরেছিলেন চিত্রনায়ক ও ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ (নিসচা)-এর চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন। পরিবার-পরিজন, আত্মীয়স্বজন, দীর্ঘদিনের সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সঙ্গে সময় কাটিয়ে আবারও লন্ডনে ফিরেছেন তিনি। 


আজ বুধবার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে জামাতার সঙ্গে লন্ডনের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন এই অভিনেতা। প্রথম আলোকে খবরটি নিশ্চিত করেছেন তাঁর ছেলে মিরাজুল মঈন জয়। ৩ আগস্ট চিকিৎসার এক পর্যায়ে লন্ডন থেকে ঢাকায় ফেরেন ইলিয়াস কাঞ্চন। চিকিৎসার কারণে দীর্ঘদিন দেশের বাইরে থাকার পর দেশে ফিরে এই ১০ দিনে পরিবারের পাশাপাশি সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সঙ্গে সময় কাটান তিনি। অংশ নেন নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের একটি অনুষ্ঠানে। কাকরাইলে নিসচার কার্যালয়েও যান। বাসায় দীর্ঘদিনের সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা তাঁকে দেখতে এলে তাঁদের সঙ্গে আড্ডায়ও মেতে ওঠেন।


লন্ডনে ফেরার আগে গতকাল মঙ্গলবার সকালে কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার আশুতিয়াপাড়ায় নিজের গ্রামের বাড়িতে যান ইলিয়াস কাঞ্চন। সেখানে গ্রামের মানুষের সঙ্গে দেখা করেন এবং পূর্বপুরুষদের কবর জিয়ারত করেন। বেলা দুইটার পর ঢাকায় ফেরেন তিনি।


আজ সকালে তাঁর ফ্লাইট ছিল, তবে নির্ধারিত সময়ের দুই ঘণ্টার বেশি সময় পর বিমানটি ঢাকা ছাড়ে। ইলিয়াস কাঞ্চনের ছেলে মিরাজুল মঈন জয় বলেন, ‘এই কয়েকটা দিন আব্বার দারুণ সময় কেটেছে। তাঁর সহকর্মীরা এসেছেন। মন খুলে তাঁদের সঙ্গে আড্ডা দিয়েছেন। এই ব্যাপারগুলো আব্বুকে বেশ আনন্দ দিয়েছে। তিনি খুব খুশি হয়েছেন।’


ইলিয়াস কাঞ্চনের বর্তমান চিকিৎসা প্রসঙ্গে জয় জানান, কেমোথেরাপির ধাপ শেষ হয়েছে। এবার তাঁকে ইমিউনোথেরাপি দেওয়া হবে। তিনি বলেন, ‘সবার কাছে আমার আব্বুর জন্য দোয়া চাই।’


ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত হয়ে গত বছরের এপ্রিল থেকে লন্ডনে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ইলিয়াস কাঞ্চন। সেখানে হাসপাতাল ও মেয়ে ইমা ইসলামের বাসায় থেকেই তাঁর চিকিৎসা চলছে। 


গত বছরের আগস্টে লন্ডনের একটি হাসপাতালে তাঁর মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করা হয়। চিকিৎসকেরা টিউমারের বড় একটি অংশ অপসারণ করলেও ঝুঁকির কারণে পুরো টিউমার অপসারণ করা সম্ভব হয়নি। পরে চিকিৎসকেরা জানান, সেটি ব্রেন ক্যানসার।


অস্ত্রোপচারের পর শুরু হয় ইলিয়াস কাঞ্চনের দীর্ঘ চিকিৎসা। প্রথম ধাপে টানা তিন মাস কেমোথেরাপি নেওয়ার পাশাপাশি চলে ওরাল থেরাপি। 


পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, সপ্তাহে ৫ দিন করে ১২ সপ্তাহের চিকিৎসায় ৬০টির বেশি কেমোথেরাপি নিতে হয়েছে তাঁকে। এরপর প্রথম ধাপের তিন মাসের ওরাল থেরাপি শেষ করে দ্বিতীয় ধাপেও আরও তিন মাসের ওরাল থেরাপি নেন তিনি। তিন ধাপে সব মিলিয়ে প্রায় শতাধিক কেমোথেরাপি নিয়েছেন এই অভিনেতা।


দীর্ঘ চিকিৎসার পরও ইলিয়াস কাঞ্চনের শারীরিক অবস্থার আশানুরূপ উন্নতি হয়নি। এদিকে দেড় বছরের বেশি সময় দেশের বাইরে থাকতে থাকতে দেশে ফেরার জন্য তাঁর মনও টানছিল। তৃতীয় ধাপের থেরাপি শেষ হওয়ার পর কিছুদিনের জন্য দেশে ফেরার ইচ্ছার কথা পরিবারকে জানান তিনি। তাঁর সেই ইচ্ছাতেই এবার তাঁকে দেশে আনা হয়।


ইলিয়াস কাঞ্চনের ছেলে মিরাজুল মঈন জানিয়েছেন, চিকিৎসকেরা বলেছেন, অস্ত্রোপচারের পর ক্যানসার যে স্থানে ছিল, এখনো সেখানেই রয়েছে। তবে শরীরের অন্য কোথাও তা ছড়িয়ে পড়েনি। চিকিৎসকেরা এটিকে ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখছেন। এবার লন্ডনে ফিরে ইমিউনোথেরাপির পরবর্তী ধাপ শুরু হবে তাঁর।

সর্বশেষ সব খবর
  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ৩০ জানুয়ারি, ২০২৪, সময় : ১২:০০ এএম
  • আপডেট : বুধবার ১২ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৮:৫৯ এএম


খান আসিফুর রহমান আগুন। ছবিঃ সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ৩০ জানুয়ারী, ২০২৪, সময় : ১২:০০ এএম

‘নেটদুনিয়ায় সবার জন্য সব কিছু খোলা থাকায় দেশে ভয়ংকর পরিস্থিতি নেমে এসেছে। নীল ছবি বেশি দেখার তালিকায় পৃথিবীর ২০৬টি দেশের মধ্যে পঞ্চম স্থানে রয়েছে আমার দেশ’। দেশের সামাজিক অবক্ষয় নিয়ে কথা বলতে গিয়ে এ কথা  বলেছেন জনপ্রিয় সংগীত শিল্পী খান আসিফুর রহমান আগুন।


তিনি বলেন, ‘মাসে ৭৫ হাজার কোটি টাকার মদ, দেড় হাজার কোটি টাকার সিগারেটে ব্যয় করে এ দেশের মানুষ। এরপরও অনেকে বড় মুখ করে বলেন - আমার দেশ গরিব। এদেশে এমন লোকও আছে যারা ব্র্যান্ড ছাড়া পোশাক কিনেন না। ব্র্যান্ডের পোশাক কেনার পর আবার ঢাকঢোল পিটিয়ে সে কথা জানান সবাইকে। আমার এসব আচরণ একদমই অপছন্দ। আমি মনে করি, প্রয়োজনের অতিরিক্ত কোনকিছুই ভালো না।’


আগুন আরও বলেন, কিছু মানুষের জন্য সমাজে আরও অনেক অসঙ্গতি দেখা যায়। এক স্মার্টফোনের মাধ্যমে বিশ্বের সবকিছু আজ হাতের মুঠোয়। এটা ভালো দিক। কিন্তু একজন রুচিশীল, শিক্ষিত ওই স্মার্টফোন দিয়ে যা দেখতে বা জানতে চাইবে একজন রুচিহীন বা অশিক্ষিত কেউ কিন্তু তা দেখতে বা জানতে চাইবে না। তারা অশৈল্পিক জিনিসের প্রতিই বেশি ঝুঁকবে। তাই সবার কাছে সব টেকনোলজি খুলে রাখা উচিত নয় বলে আমি মনে করি।


অনেকটা আফসোস করে আগুন জানান, চলচ্চিত্রে এখন ১৮ প্লাস ক্যাটাগরির সিনেমা মানেও অসঙ্গতি। দেশে শিশুদের ‘আদর্শ লিপি’ বই আর পড়ার চল নেই। তাহলে আদর্শ মানুষ কীভাবে তৈরি হবে?


মিডিয়াতেও উদ্ধত মানুষের অভাব নেই বলে মনে করেন আগুন। তিনি বলেন, এক, দুইটা কাজ হিট হলেই সে ভাব নিয়ে চলতে শুরু করে। মোবাইলে ভারতের শাহরুখ খানের সিনেমা দেখে আর প্রেক্ষাগৃহে তার সিনেমা রিলিজ আটকায়। মুক্ত বাজার অর্থনীতিতে সিনেমা আটকাতে চাওয়ার কারণই হলো দেশের নির্মাতা ও অভিনয়শিল্পীরা যে কিছু পারে না, সে গোমর ফাঁস হওয়ার ভয়। এ দোষ তাদের দিয়েও লাভ নেই। সর্বক্ষেত্রে অসুস্থ প্রতিযোগিতায় তাদের নামার একটাই কারণ আমি মনে করি। আর তাহলো মুক্ত আকাশ দেখার সৌভাগ্য কখনও হয়নি এদের; আর কখনো হবেও না।


প্রখ্যাত সঙ্গীতজ্ঞ ও চলচ্চিত্রকার খান আতাউর রহমান ও সংগীতশিল্পী নীলুফার ইয়াসমীন দম্পতির একমাত্র ছেলে তিনি। কণ্ঠশিল্পী হওয়ার পাশাপাশি তিনি একজন ভালো অভিনেতাও। নিজের পরিবার, ক্যারিয়ার ও অর্থ সম্পত্তি নিয়ে কখনও তাকে অহংকার করতে দেখা যায়নি।

সর্বশেষ সব খবর