ভিন ডিজেল। ছবি: সংগৃহীত
হলিউড তারকা ভিন ডিজেলের মৃত্যু নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভুয়া খবর ঘিরে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ‘ফাস্ট অ্যান্ড ফিউরিয়াস’ সিরিজের জনপ্রিয় চরিত্র ডমিনিক টোরেটোখ্যাত এই অভিনেতাকে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত বলে দাবি করা হলেও পরে সেটি সম্পূর্ণ গুজব বলে প্রমাণিত হয়েছে।
সম্প্রতি এক্স (সাবেক টুইটার)-এর একটি অ্যাকাউন্ট থেকে দাবি করা হয়, অতিরিক্ত গতির কারণে বিলাসবহুল একটি গাড়ির দুর্ঘটনায় মারা গেছেন ভিন ডিজেল। পোস্টটিতে আরও বলা হয়, একই ধরনের দুর্ঘটনায় তার বন্ধু ও সহ-অভিনেতা পল ওয়াকার-ও প্রাণ হারিয়েছিলেন।
পোস্টটির সঙ্গে একটি দুর্ঘটনাকবলিত গাড়ির ভিডিওও যুক্ত করা হয়। সেখানে একটি দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া গাড়ি দেখা গেলেও কোথাও ভিন ডিজেল বা অন্য কোনো ব্যক্তির উপস্থিতি দেখা যায়নি। তবুও পোস্টটি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
তবে বিষয়টি সামনে আসার পরই নেটিজেনরা এর সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। কারণ আন্তর্জাতিক কোনো গণমাধ্যমে এমন খবর প্রকাশিত হয়নি। একই সঙ্গে ভিন ডিজেলের পরিবার বা তার প্রতিনিধিদের পক্ষ থেকেও কোনো ধরনের বিবৃতি দেওয়া হয়নি।
বরং গুজব ছড়ানোর মধ্যেই অভিনেতা তার অফিসিয়াল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে ২০২৬ সালের কান ফেস্টিভ্যাালের রেড কার্পেট থেকে নিজের ছবি শেয়ার করেন। এতে স্পষ্ট হয়ে যায় যে তিনি সুস্থ ও জীবিত আছেন।
মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর অভিযোগে ওই এক্স অ্যাকাউন্টের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন অনেক ব্যবহারকারী। একজন মন্তব্য করেন, ‘এটি সম্পূর্ণ ভুয়া খবর। শুধু ভিউ আর প্রচারের জন্য এমন গুজব ছড়ানো হচ্ছে।’
আরেকজন লেখেন, ‘ভিন ডিজেল ভালোভাবেই বেঁচে আছেন। মিথ্যা খবর ছড়ানো বন্ধ করুন।’
কেউ কেউ আরও কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে ভুয়া তথ্য প্রচারের জন্য ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানান। এদিকে এক্সের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক টুল ‘গ্রোক’-ও বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানায়। তাদের তথ্য অনুযায়ী, ভিন ডিজেল জীবিত আছেন এবং সম্প্রতি কান চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নিয়েছেন। পাশাপাশি পল ওয়াকার ২০১৩ সালে পৃথক একটি সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান। ফলে ভাইরাল হওয়া পোস্টটির সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল নেই।
উল্লেখ্য, ভিন ডিজেলকে নিয়ে এ ধরনের গুজব এই প্রথম নয়। অতীতেও একাধিকবার তার মৃত্যুর ভুয়া খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো হয়েছে। ২০২৫ সালেও বিভিন্ন পোস্টে তাকে মৃত দাবি করে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করা হয়েছিল।
বর্তমানে ভিন ডিজেল তার জনপ্রিয় ‘ফাস্ট অ্যান্ড ফিউরিয়াস’ ফ্র্যাঞ্চাইজির শেষ কিস্তি নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন। চলতি বছরের শুরুতে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ছবিটির নাম ঘোষণা করেন ‘ফাস্ট ফরএভার’। ২০২৮ সালের ১৭ মার্চ সিনেমাটি বিশ্বব্যাপী মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে।
সাদিয়া আয়মান
সময়ের ব্যস্ত টিভি অভিনেত্রী সাদিয়া আয়মানকে নিয়ে বিভিন্ন মহলে ছড়িয়ে পড়েছে নানা গুঞ্জন। এবার সেই গুঞ্জন, ব্যক্তিগত জীবন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেছেন এই অভিনেত্রী। তিনি বলেন, ‘গুঞ্জন তো গুঞ্জনই, গুঞ্জন নিয়ে বলার কিছু নেই। থাকে না, কিছু কথা না বললেও হয়।
যখন একটা মানুষ তার কথা বলে ফেলে, আমি যদি আমার সাইড অফ স্টোরি বলি, তখন কিন্তু গল্পটা আসলে অন্যরকম হবে। তো ওইটা হয়তোবা যে মানুষটা বলে সে চিন্তাও করে না। আমি চাই না আসলে কাদা ছোড়াছুড়ি হোক। আমি চাই না একজন একটি ইন্টারভিউতে এক কথা বলছে, আবার আমি আরেক কথা বলব... এরকম নোংরামি করতে চাই না। আমার মনে হয় সত্য কখনো চাপা থাকে না, সত্য একসময় সামনে আসবেই।’
সাদিয়া আয়মান বলেন, ‘আমি আগেও বলেছি, আমার প্রেমের খুব ইচ্ছা নেই। আমি সব সময় আমার সেটেলমেন্ট করাতেই আমি বিশ্বাসী। আমার কাছে যখন মনে হবে ঠিকঠাক মতো সময়, সুযোগ... আল্লাহ তো সব লিখে রেখেছে কপালে। আমরা অনেক কিছু চাইলেও সেটা হয় না। আল্লাহ সবকিছু আসলে প্ল্যান করে রেখেছেন। আমাদের কোনো প্ল্যান থাকলেও সেটা আসলে পরক্ষণেই চেঞ্জ হয়ে যেতে পারে। তো আমার মনে হয় যখন সঠিক সময় হবে, যা হবে সব।’
বর্তমানে ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে আছেন উল্লেখ করে সাদিয়া আয়মান জানান, অহেতুক বিতর্ক থেকে দূরে থেকে নিজের কাজ, পরিবার ও মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষাতেই নজর দিচ্ছেন তিনি। তার ভাষ্য, ‘আমার মনে হয় এখন সময় না। আমি এখন অনেক ছোট, কাজ করে যাই। যখন অনেক বড় হব, সিনিয়র হয়ে যাব, তখন যখন আমার গল্পগুলো বলব, তখন সেগুলো আরো ভ্যালু অ্যাড করবে। আসলে এত এনার্জি নষ্ট করার কোনো মানে হয় না। শুটিংয়ের কাজ, ফ্যামিলি, আমার বিড়ালের যত্ন নেওয়া—আমাকে নিজেকে নিয়েই চিন্তা করতে হয়। আমার মেন্টাল হেলথ আমি খুবই প্রটেক্ট করি। যেগুলো আমাকে মেন্টাল হেলথে ইফেক্ট করতে পারে, সেগুলোকে আমি পাত্তাই দিই না।’
‘টক্সিক’ সিনেমার একটি গানে বলিউডের কিয়ারা আদভানির সাহসী দৃশ্য নিয়ে তোলপাড় উঠেছিল। কটাক্ষ, আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় কিছুটি থিতিয়ে আসার পর স্ত্রীর পাশে দাঁড়িয়েছেন সিদ্ধার্থ মালহোত্রা। অভিনেতার কথায় এটি কিয়ারার ‘সেরা কাজগুলোর একটি’।
এনডিটিভি জানিয়েছেন প্যান-ইন্ডিয়া সিনেমা ‘টক্সিক: আ ফেয়ারিটেল ফর গ্রোন-আপস’ এর টিজার সামনে এসেছে।
কিয়ারাকে প্রশংসায় ভাসিয়ে সিদ্ধার্থ ইনস্টাগ্রামে লিখেছেন, “তোমার পরিশ্রম, নিষ্ঠা এবং আবেগ বড়পর্দায় স্পষ্ট ধরা পড়বে। এটা তোমার সেরা কাজগুলোর একটি হতে চলেছে। গীতু মোহনদাস, যশ, তুমি এবং পুরো টিম যে জাদু তৈরি করেছ, তা দেখার জন্য আর অপেক্ষা করতে পারছি না। ‘টক্সিক’ টিমকে শুভেচ্ছা। ২৬ অগাস্টের অপেক্ষায় আছি।”
জুলাইয়ের প্রথম ভাগে প্রকাশ পায় সিনেমার প্রথম গান ‘তাবাহি’; এর পর থেকে কটূক্তির বিরাম নেই। কারণ ভারতের দক্ষিণী ইন্ডাস্ট্রির অভিনেতা যশের সঙ্গে ‘সাহসী দৃশ্যে’ পাওয়া যায় কিয়ারাকে।
উষ্ণ দৃশ্যে অভিনেতা-অভিনেত্রী দুজনেই কাজ করলেও সমালোচনার বড় অংশই গিয়ে পড়ে কিয়ারার ওপর, যেখানে একই দৃশ্যে প্রশংসিত হন যশ।
‘তবাহী’ গানের দৃশ্য প্রকাশের পরে এমন খবরও ছড়িয়েছিল, কিয়ারার উপর নাকি সিদ্ধার্থ ‘অসন্তুষ্ট’, আর তাই তিনি নীরব।
সোশাল মিডিয়া ছাড়াও বেঙ্গালুরুতে ‘টক্সিক’ সিনেমার ট্রেইলার প্রকাশ অনুষ্ঠানে যশ কিয়ারার সমর্থনে এগিয়ে আসেন। চরিত্রের প্রতি ‘নিষ্ঠা ফুটে ওঠায়’ স্ত্রীর প্রশংসা করেন সিদ্ধার্থ। কটূকথায় কান না দিতেও স্ত্রীকে পরামর্শ দেশ সিদ্ধার্থ।
যশ বলেন, “একজন অভিনেতা হিসেবে অনেক সময় নানা ধরনের সমালোচনার মুখে পড়তে হয়। কিন্তু সেগুলো নিয়ে ভাবার প্রয়োজন নেই। নিজের বিশ্বাস অনুযায়ী কাজ করে যেতে হবে। মানুষ শেষ পর্যন্ত সেই কাজেরই প্রশংসা করবে। হয়ত আমরা সময়ের থেকে একটু এগিয়ে আছি।”
শুরুতে চুপচাপ থাকলেও কিছু দিন আগে কিয়ারা জানিয়েছেন, ‘টক্সিকে’ তার অভিনয় করার কারণ।
কিয়ারা নারী চরিত্র নির্দিষ্ট ছকে বাঁধতে নারাজ; তার মতে, নারী চরিত্রগুলো জটিল, বাস্তবসম্মত এবং শক্তিশালী হওয়া উচিত।
কিয়ারা বলেন, “‘টক্সিকে’ আমার চরিত্রটিও তেমন। যখন আমি চরিত্রটির বর্ণনা শুনি, তখন এর পরিপূর্ণ রূপ দেখে আমি মুগ্ধ হয়েছিলাম। একজন অভিনয় শিল্পী যা চান, ‘টক্সিক’ সেই সমস্ত সুযোগ দিয়েছে এবং সাহসী কিছু করার জন্য যথেষ্ট আত্মবিশ্বাস পেয়েছি।
“আমি ভেবেছিলাম, ক্যারিয়ারে আমি এমন একটি পর্যায়ে পৌঁছেছি যেখানে আমি এই ধরনের একটি চরিত্রে অভিনয় করার জন্য নিজেকে যোগ্য মনে করি।”
‘টক্সিক’ সিনেমার চিত্রনাট্য লিখেছেন যশ এবং গীতু মোহনদাস দুজনে মিলে। পরিচালনা করেছেন গীতু মোহনদাস। সিনেমাটি একসঙ্গে ইংরেজি এবং কন্নড় ভাষায় শুট করা হয়েছে। পরে হিন্দি, তেলুগু, তামিল, মলয়ালমসহ একাধিক ভাষায় মুক্তি পাবে।
চলতি মাসের ২৬ তারিখে প্রেক্ষাগৃহে আসবে সিনেমাটি।
তানজিন তিশা
প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে দায়ের করা এক মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছেন অভিনেত্রী তানজিন তিশা। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালত আজ বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) তাকে জামিন দেন।
এর আগে গত ১২ জুলাই তানজিন তিশাকে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী তিনি আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন।
মামলার সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ৫ নভেম্বর ‘অ্যাপোনিয়ার ফ্যাশন’ প্রতিষ্ঠানের এক্সিকিউটিভ মো. আমিনুল ইসলাম ঢাকার আদালতে তানজিন তিশার বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন। মামলার অভিযোগে বলা হয়, ‘অ্যাপোনিয়ার ফ্যাশন’ প্রতিষ্ঠান থেকে ২৮ হাজার ৮০০ টাকা মূল্যের একটি শাড়ি নিয়েছিলেন তানজিন তিশা। ওই শাড়িটির প্রচারণা করবেন এবং এর মূল্য পরিশোধ করবেন বলে তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
তবে পরবর্তী সময়ে শাড়িটির মূল্য পরিশোধ না করে তানজিন তিশা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন বলে মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগ আনা হয়। মামলা দায়েরের পর বিষয়টি তদন্তের জন্য ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশকে (ডিবি) নির্দেশ দেন আদালত। পরে ডিবির দেয়া তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেয়া হয়।
ডিবির তদন্ত প্রতিবেদন আমলে নিয়ে আদালত তানজিন তিশার বিরুদ্ধে সমন জারি করেন। একই সঙ্গে তাকে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়।
ছবি : সংগৃহীত
দেড় বছর ধরে যুক্তরাজ্যে চিকিৎসাধীন থাকার পর ১০ দিনের জন্য দেশে ফিরেছিলেন চিত্রনায়ক ও ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ (নিসচা)-এর চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন। পরিবার-পরিজন, আত্মীয়স্বজন, দীর্ঘদিনের সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সঙ্গে সময় কাটিয়ে আবারও লন্ডনে ফিরেছেন তিনি।
আজ বুধবার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে জামাতার সঙ্গে লন্ডনের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন এই অভিনেতা। প্রথম আলোকে খবরটি নিশ্চিত করেছেন তাঁর ছেলে মিরাজুল মঈন জয়। ৩ আগস্ট চিকিৎসার এক পর্যায়ে লন্ডন থেকে ঢাকায় ফেরেন ইলিয়াস কাঞ্চন। চিকিৎসার কারণে দীর্ঘদিন দেশের বাইরে থাকার পর দেশে ফিরে এই ১০ দিনে পরিবারের পাশাপাশি সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সঙ্গে সময় কাটান তিনি। অংশ নেন নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের একটি অনুষ্ঠানে। কাকরাইলে নিসচার কার্যালয়েও যান। বাসায় দীর্ঘদিনের সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা তাঁকে দেখতে এলে তাঁদের সঙ্গে আড্ডায়ও মেতে ওঠেন।
লন্ডনে ফেরার আগে গতকাল মঙ্গলবার সকালে কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার আশুতিয়াপাড়ায় নিজের গ্রামের বাড়িতে যান ইলিয়াস কাঞ্চন। সেখানে গ্রামের মানুষের সঙ্গে দেখা করেন এবং পূর্বপুরুষদের কবর জিয়ারত করেন। বেলা দুইটার পর ঢাকায় ফেরেন তিনি।
আজ সকালে তাঁর ফ্লাইট ছিল, তবে নির্ধারিত সময়ের দুই ঘণ্টার বেশি সময় পর বিমানটি ঢাকা ছাড়ে। ইলিয়াস কাঞ্চনের ছেলে মিরাজুল মঈন জয় বলেন, ‘এই কয়েকটা দিন আব্বার দারুণ সময় কেটেছে। তাঁর সহকর্মীরা এসেছেন। মন খুলে তাঁদের সঙ্গে আড্ডা দিয়েছেন। এই ব্যাপারগুলো আব্বুকে বেশ আনন্দ দিয়েছে। তিনি খুব খুশি হয়েছেন।’
ইলিয়াস কাঞ্চনের বর্তমান চিকিৎসা প্রসঙ্গে জয় জানান, কেমোথেরাপির ধাপ শেষ হয়েছে। এবার তাঁকে ইমিউনোথেরাপি দেওয়া হবে। তিনি বলেন, ‘সবার কাছে আমার আব্বুর জন্য দোয়া চাই।’
ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত হয়ে গত বছরের এপ্রিল থেকে লন্ডনে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ইলিয়াস কাঞ্চন। সেখানে হাসপাতাল ও মেয়ে ইমা ইসলামের বাসায় থেকেই তাঁর চিকিৎসা চলছে।
গত বছরের আগস্টে লন্ডনের একটি হাসপাতালে তাঁর মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করা হয়। চিকিৎসকেরা টিউমারের বড় একটি অংশ অপসারণ করলেও ঝুঁকির কারণে পুরো টিউমার অপসারণ করা সম্ভব হয়নি। পরে চিকিৎসকেরা জানান, সেটি ব্রেন ক্যানসার।
অস্ত্রোপচারের পর শুরু হয় ইলিয়াস কাঞ্চনের দীর্ঘ চিকিৎসা। প্রথম ধাপে টানা তিন মাস কেমোথেরাপি নেওয়ার পাশাপাশি চলে ওরাল থেরাপি।
পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, সপ্তাহে ৫ দিন করে ১২ সপ্তাহের চিকিৎসায় ৬০টির বেশি কেমোথেরাপি নিতে হয়েছে তাঁকে। এরপর প্রথম ধাপের তিন মাসের ওরাল থেরাপি শেষ করে দ্বিতীয় ধাপেও আরও তিন মাসের ওরাল থেরাপি নেন তিনি। তিন ধাপে সব মিলিয়ে প্রায় শতাধিক কেমোথেরাপি নিয়েছেন এই অভিনেতা।
দীর্ঘ চিকিৎসার পরও ইলিয়াস কাঞ্চনের শারীরিক অবস্থার আশানুরূপ উন্নতি হয়নি। এদিকে দেড় বছরের বেশি সময় দেশের বাইরে থাকতে থাকতে দেশে ফেরার জন্য তাঁর মনও টানছিল। তৃতীয় ধাপের থেরাপি শেষ হওয়ার পর কিছুদিনের জন্য দেশে ফেরার ইচ্ছার কথা পরিবারকে জানান তিনি। তাঁর সেই ইচ্ছাতেই এবার তাঁকে দেশে আনা হয়।
ইলিয়াস কাঞ্চনের ছেলে মিরাজুল মঈন জানিয়েছেন, চিকিৎসকেরা বলেছেন, অস্ত্রোপচারের পর ক্যানসার যে স্থানে ছিল, এখনো সেখানেই রয়েছে। তবে শরীরের অন্য কোথাও তা ছড়িয়ে পড়েনি। চিকিৎসকেরা এটিকে ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখছেন। এবার লন্ডনে ফিরে ইমিউনোথেরাপির পরবর্তী ধাপ শুরু হবে তাঁর।
খান আসিফুর রহমান আগুন। ছবিঃ সংগৃহীত
‘নেটদুনিয়ায় সবার জন্য সব কিছু খোলা থাকায় দেশে ভয়ংকর পরিস্থিতি নেমে এসেছে। নীল ছবি বেশি দেখার তালিকায় পৃথিবীর ২০৬টি দেশের মধ্যে পঞ্চম স্থানে রয়েছে আমার দেশ’। দেশের সামাজিক অবক্ষয় নিয়ে কথা বলতে গিয়ে এ কথা বলেছেন জনপ্রিয় সংগীত শিল্পী খান আসিফুর রহমান আগুন।
তিনি বলেন, ‘মাসে ৭৫ হাজার কোটি টাকার মদ, দেড় হাজার কোটি টাকার সিগারেটে ব্যয় করে এ দেশের মানুষ। এরপরও অনেকে বড় মুখ করে বলেন - আমার দেশ গরিব। এদেশে এমন লোকও আছে যারা ব্র্যান্ড ছাড়া পোশাক কিনেন না। ব্র্যান্ডের পোশাক কেনার পর আবার ঢাকঢোল পিটিয়ে সে কথা জানান সবাইকে। আমার এসব আচরণ একদমই অপছন্দ। আমি মনে করি, প্রয়োজনের অতিরিক্ত কোনকিছুই ভালো না।’
আগুন আরও বলেন, কিছু মানুষের জন্য সমাজে আরও অনেক অসঙ্গতি দেখা যায়। এক স্মার্টফোনের মাধ্যমে বিশ্বের সবকিছু আজ হাতের মুঠোয়। এটা ভালো দিক। কিন্তু একজন রুচিশীল, শিক্ষিত ওই স্মার্টফোন দিয়ে যা দেখতে বা জানতে চাইবে একজন রুচিহীন বা অশিক্ষিত কেউ কিন্তু তা দেখতে বা জানতে চাইবে না। তারা অশৈল্পিক জিনিসের প্রতিই বেশি ঝুঁকবে। তাই সবার কাছে সব টেকনোলজি খুলে রাখা উচিত নয় বলে আমি মনে করি।
অনেকটা আফসোস করে আগুন জানান, চলচ্চিত্রে এখন ১৮ প্লাস ক্যাটাগরির সিনেমা মানেও অসঙ্গতি। দেশে শিশুদের ‘আদর্শ লিপি’ বই আর পড়ার চল নেই। তাহলে আদর্শ মানুষ কীভাবে তৈরি হবে?
মিডিয়াতেও উদ্ধত মানুষের অভাব নেই বলে মনে করেন আগুন। তিনি বলেন, এক, দুইটা কাজ হিট হলেই সে ভাব নিয়ে চলতে শুরু করে। মোবাইলে ভারতের শাহরুখ খানের সিনেমা দেখে আর প্রেক্ষাগৃহে তার সিনেমা রিলিজ আটকায়। মুক্ত বাজার অর্থনীতিতে সিনেমা আটকাতে চাওয়ার কারণই হলো দেশের নির্মাতা ও অভিনয়শিল্পীরা যে কিছু পারে না, সে গোমর ফাঁস হওয়ার ভয়। এ দোষ তাদের দিয়েও লাভ নেই। সর্বক্ষেত্রে অসুস্থ প্রতিযোগিতায় তাদের নামার একটাই কারণ আমি মনে করি। আর তাহলো মুক্ত আকাশ দেখার সৌভাগ্য কখনও হয়নি এদের; আর কখনো হবেও না।
প্রখ্যাত সঙ্গীতজ্ঞ ও চলচ্চিত্রকার খান আতাউর রহমান ও সংগীতশিল্পী নীলুফার ইয়াসমীন দম্পতির একমাত্র ছেলে তিনি। কণ্ঠশিল্পী হওয়ার পাশাপাশি তিনি একজন ভালো অভিনেতাও। নিজের পরিবার, ক্যারিয়ার ও অর্থ সম্পত্তি নিয়ে কখনও তাকে অহংকার করতে দেখা যায়নি।
সঙ্গীত শিল্পী খান আসিফুর রহমান আগুন।
কিংবদন্তি সংগীতজ্ঞ ও চলচ্চিত্রকার খান আতাউর রহমানের পুত্র তিনি। খান আসিফুর রহমান। তবে শ্রোতাদের কাছে পরিচিত আগুন নামে। গত শতকের নব্বইয়ের দশকে বিপুল জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন। সালমান শাহ অভিনীত বহু গানে তার কণ্ঠ ছড়িয়ে গিয়েছিল দেশের আনাচে-কানাচে।
তবে গত এক-দেড় দশকে গানে নিয়মিত নন আগুন। ২০২১ সালে ‘শত্রু’ সিনেমায় পাওয়া গিয়েছিল তার গান। দীর্ঘ পাঁচ বছর পর আবার সিনেমার গানে ফিরলেন এই শিল্পী।
সম্প্রতি মোস্তাফিজুর রহমান বাবুর ‘স্বপ্নের নায়িকা’ সিনেমার টাইটেল গানে কণ্ঠ দিয়েছেন আগুন। গানটির কথা লিখেছেন নিশাত তাসনিম ও সরয়ার হোসেন। সুর ও সংগীত করেছেন আনোয়ার শিকদার টিটন। গানটিতে আগুনের সঙ্গে দ্বৈত গেয়েছেন তানজিনা রুমা।
টিটন জানান, আগুন দেশের চলচ্চিত্রের সোনালি দিনের গায়ক। গানটি করার সময়ই তার কথা মাথায় রেখেছিলেন তিনি। পরে সুর-সংগীত সাজানোর পর শিল্পীকে পাঠান, তিনিও পছন্দ করেন। আনন্দ নিয়েই সেরেছেন রেকর্ডিং।
উল্লেখ্য, সালমান শাহ ও মৌসুমীর প্রথম সিনেমা ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’-এর গান দিয়ে অভিষেক হয় আগুনের। প্রথম সিনেমার গানেই বাজিমাৎ। এরপর আগুন গেয়েছেন ‘দোলা’, ‘তুমি আমার’, ‘অন্তরে অন্তরে’, ‘বিক্ষোভ’, ‘দেনমোহর’, ‘আশা ভালোবাসা’, ‘মায়ের অধিকার’, ‘জীবন সংসার’, ‘স্বপ্নের পৃথিবী’, ‘সত্যের মৃত্যু নেই’, ‘এই ঘর এই সংসার’, ‘চাওয়া থেকে পাওয়া’, ‘বিচার হবে’, ‘প্রেম পিয়াসী’, ‘আম্মাজান’, ‘ম্যাডাম ফুলি’, ‘দুই দুয়ারী’, ‘হাছন রাজা’, ‘১ টাকার বউ’, ‘আমার আছে জল’সহ অনেক সিনেমায়।